স্ত্রীর ডিভোর্স লেটারে তালাক গ্রহণের শরঈ বিধান
প্রশ্নঃ ১৭০২৯২. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার এলাকার এক মহিলা বিবাহিত তার সন্তান আছে দুইটি একজনের বয়স ১৩ আর একজনের বয়স ৩ বছর। এমত অবস্থায় ওই মহিলা স্বামীকে রাখিয়া অন্য একজন ছেলের সাথে পালিয়ে যায়। এবং তার এই স্বামীকে ডিভোর্স লেটার পাঠায় এমন সময় ওই মেয়ের পরিবারের লোকজন ওই ছেলের কাছ থেকে মেয়েকে উদ্ধার করে আনে। এবং ওই স্বামীর সঙ্গে তাহার আবার বিবাহ করিয়ে দিতে চায়। ওই মেয়েটি আবার ওই ছেলেটির সঙ্গে পালিয়ে যায় এবং বিয়ে করে তারা। পরবর্তীতে মেয়েটি আবার ফিরে এসেছে এমত অবস্থায় মেয়েটি বলে তারা বিবাহ করলেও তাদের শারীরিকভাবে কোন সম্পর্ক হয়নি। তারপর একজন মাওলানা ফতুয়া দেন যে বিবাহ তার পূর্ব স্বামীর সঙ্গে দেওয়া যাবে তওবা করে। তার নির্দেশনা ফতোয়া অনুযায়ী ওই মহিলাকে তার স্বামীর সাথে আবার নতুন দেন মোহর ধার্য করিয়া বিবাহ করানো হয়। এটার শরীয়া আইন কতটুকু এবং ইসলামী বিধান কি। ২।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
মাসআলাটি নির্ভর করবে ওই মহিলার দেওয়া ডিভোর্স শরীয়তসম্মতভাবে সংঘটিত হয়েছিল কি না তার ওপর। এর জন্য কাবিননামার ১৮ নম্বর ঘরে তাকে তালাক গ্রহণের অধিকার দেওয়া হয়েছিল কি না এবং কত তালাকের অধিকার দেওয়া হয়েছিল, তা দেখে নিশ্চিত হতে হবে। তাকে যত তালাকের অধিকার দেওয়া হয়েছে, সে তত তালাকই নিজের ওপর গ্রহণ করতে পারবে।
যদি কাবিননামায় তাকে তালাক গ্রহণের অধিকার দেওয়া না থাকে, তাহলে শুধু স্ত্রী কর্তৃক ডিভোর্স লেটার পাঠানোর মাধ্যমে তালাক সংঘটিত হবে না। সেক্ষেত্রে পরবর্তী বিবাহও সহীহ হবে না। আর প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যেতে চাইলে নতুন করে বিবাহের প্রয়োজন হবে না; কারণ সে প্রথম স্বামীর বিবাহবন্ধন থেকেই বের হয়নি।
আর যদি তাকে তালাক গ্রহণের অধিকার দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে দেখতে হবে, *তাকে কত তালাক গ্রহণের অধিকার দেওয়া হয়েছে। তাকে যতটি তালাক গ্রহণের অধিকার দেওয়া হয়েছে, সে সেই অধিকার অনুযায়ী তালাক গ্রহণ করতে পারবে। ফলে ডিভোর্স লেটারে সে তার অধিকার অনুযায়ী কয়টি তালাক গ্রহণের কথা উল্লেখ করেছে, তা দেখতে হবে।* তার অধিকার অনুযায়ী ১, ২ বা ৩ তালাকের যতটি উল্লেখ করবে, তত তালাকই পতিত হবে। এরপর প্রথম স্বামীর তালাকের ইদ্দত শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় পুরুষকে বিবাহ করলে সেই বিবাহ সহীহ হবে; কিন্তু ইদ্দত শেষ হওয়ার আগে দ্বিতীয় পুরুষকে বিবাহ করলে তা সহীহ হবে না।
পরবর্তীতে প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যেতে চাইলে, দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার পর তার ইদ্দতও শেষ করতে হবে। এরপর প্রথম স্বামীর পক্ষ থেকে তিন তালাক না হয়ে থাকলে নতুন দেনমোহর নির্ধারণ করে নতুন করে প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহ করা যাবে।
উল্লেখ্য, স্ত্রীকে যতটি তালাক গ্রহণের অধিকার প্রদান করা হয়েছে, সে নিজের ওপর সর্বোচ্চ ততটিই তালাক গ্রহণ করতে পারবে। এর চেয়ে বেশি তালাক গ্রহণের কথা উল্লেখ করলেও অতিরিক্ত তালাকগুলো পতিত হবে না। সেমতে স্ত্রীকে যদি তিন তালাক গ্রহণের অধিকার দেওয়া হয়, তাহলে সে চাইলে এক বা দুই তালাকও নিজের ওপর গ্রহণ করতে পারবে।
الأدلة الشرعية
(مرقاة المفاتيح: کتاب النکاح، باب الطلاق و الخلع،5/ 2143، دار الفکر)
ثم قال: ولو تم أمر ما رواه كان المراد به أن قيام الطلاق بالرجال؛ لأنه لو كان احتمالا للفظ مساويا لتأيد بما رويناه، فكيف وهو المتبادر إلى الفهم من ذلك اللفظ، كما في قولهم: الملك بالرجال، وفي سنن ابن ماجه من طريق ابن لهيعة عن ابن عباس «جاء النبي – صلى الله عليه وسلم – رجل فقال: يا رسول الله سيدي زوجني أمته وهو يريد أن يفرق بيني وبينها، فصعد النبي – صلى الله عليه وسلم – المنبر فقال: يا أيها الناس ما بال أحدكم يزوج عبده من أمته ثم يريد أن يفرق بينهما إنما الطلاق لمن أخذ بالساق» ورواه الدارقطني أيضا من غيرها.”
(فتاوی ہندیہ: كتاب الطلاق، الباب الثاني في إيقاع الطلاق وفيه سبعة فصول الفصل الأول في الطلاق الصريح،ج:1، ص:354، ط:رشيدية)
"(الفصل الأول في الطلاق الصريح) . وهو كأنت طالق ومطلقة وطلقتك وتقع واحدة رجعية وإن نوى الأكثر أو الإبانة أو لم ينو شيئا كذا في الكنز."
(فتاوی شامی, کتاب الطلاق،باب صریح الطلاق،ج:3،ص:248،سعید) :
"ولا يلزم كون الإضافة صريحة في كلامه؛ لما في البحر لو قال: طالق، فقيل له: من عنيت؟ فقال: امرأتي، طلقت امرأته. اهـ."
(مصنف عبد الرزاق : کتاب الطلاق، باب طلاق الحرۃ ،7 /236، المجلس العلمی الھند)
”عن ابن جريج، والثوري، عن يحيى بن سعيد، عن ابن المسيب قال: «الطلاق بالرجال، والعدة بالنساء.”
(رد المحتار : كتاب الطلاق ، باب التفويض- 3\314، المكتبة الشاملة )
[بَابُ تَفْوِيضِ الطَّلَاقِ]
أَيْ تَفْوِيضُهُ لِلزَّوْجَةِ أَوْ غَيْرِهَا صَرِيحًا كَانَ التَّفْوِيضُ أَوْ كِنَايَةً، يُقَالُ: فَوَّضَ لَهُ الْأَمْرَ: أَيْ رَدَّهُ إلَيْهِ حَمَوِيٌّ، فَالْكِنَايَةُ قَوْلُهُ اخْتَارِي أَوْ أَمْرُكِ بِيَدِكِ
(وفيه أيضاً: 3\315، المكتبة الشاملة)
(قَوْلُهُ قَالَ لَهَا اخْتَارِي) أَشَارَ بِعَدَمِ ذِكْرِ قَبُولِهَا إلَى أَنَّهُ تَمْلِيكٌ يَتِمُّ بِالْمُمَلِّكِ وَحْدَهُ فَلَوْ رَجَعَ قَبْلَ انْقِضَاءِ الْمَجْلِسِ لَمْ يَصِحَّ، وَقَيَّدَ بِاقْتِصَارِهِ عَلَى التَّخْيِيرِ الْمُطْلَقِ لِأَنَّهُ لَوْ قَالَ لَهَا اخْتَارِي الطَّلَاقَ فَقَالَتْ اخْتَرْتُ الطَّلَاقَ فَهِيَ وَاحِدَةٌ رَجْعِيَّةٌ لِأَنَّهُ لَمَّا صَرَّحَ بِالطَّلَاقِ كَانَ التَّخْيِيرُ بَيْنَ الْإِتْيَانِ بِالرَّجْعِيِّ وَتَرْكِهِ ط عَنْ الْبَحْرِ
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
নায়েবে মুফতী, ফতোয়া বিভাগ
জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন