বীমা কোম্পানিতে চাকরি ও হালাল জীবিকা অর্জনের বিধান
প্রশ্নঃ ১৭০০৪৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি গত দু'বছর অনেক জায়গায় চেষ্টা করেছি কিন্তু কোন কাজ পাইনি।ইদানিং একটি হেলথ ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে কাজের অফার এসেছে কোম্পানিতে পুরোপুরি বীমা সংলগ্ন কাজ হয়ে থাকে আমি দু'বছর কোন কাজ পাইনি এমন অবস্থায় কি এই কোম্পানিতে কাজ করা আমার জন্য জায়েজ হবে আমি যদি কোথাও কাজ না পাই এই কোম্পানিতে কাজকরতে পারব
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ওয়েস্ট বেঙ্গল ৭০০১১৮
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
যদি কোনো ইন্স্যুরেন্স/বীমা কোম্পানির কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে শরিয়তবিরোধী বীমার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে চাকরির দায়িত্বও সরাসরি সেই বীমা কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়, তাহলে সেখানে চাকরি করা জায়েয হবে না। এমনকি দীর্ঘদিন চাকরি না পাওয়া বা আর্থিক প্রয়োজন থাকলেও হারাম পেশা গ্রহণ করা বৈধ হয়ে যাবে না।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ
“হে মুমিনগণ! আমি তোমাদের যে পবিত্র রিজিক দিয়েছি, তা থেকে আহার করো।” -সূরা আল-বাকারা: ১৭২
তাই হালাল চাকরির চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে এবং প্রয়োজন হলে অপেক্ষা করতে হবে। শুধু চাকরিই করতে হবে- এমন কোনো কথা নেই। হালাল ব্যবসা, নিজের দক্ষতা অনুযায়ী কোনো সেবা বা পেশা, কিংবা অন্য যেকোনো বৈধ কাজের মাধ্যমে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করা যায়। কখনও কোনো কাজ সামাজিকভাবে ছোট মনে হলেও তাতে কোনো অসুবিধা নেই; মূল বিষয় হলো উপার্জনটি হালাল হওয়া। হযরত যুবায়র ইবনুল আউওয়াম রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-
لَأَنْ يَأْخُذَ أَحَدُكُمْ حَبْلَهُ، فَيَأْتِيَ بِحُزْمَةِ الحَطَبِ عَلَى ظَهْرِهِ، فَيَبِيعَهَا، فَيَكُفَّ اللَّهُ بِهَا وَجْهَهُ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَسْأَلَ النَّاسَ أَعْطَوْهُ أَوْ مَنَعُوهُ
তোমাদের কেউ নিজ রশি নিয়ে, তার পিঠে করে কাঠের বোঝা বয়ে এনে তা বাজারে বিক্রি করবে আর এভাবে আল্লাহ তা'আলা তা দ্বারা তার চেহারাকে (অন্যের মুখাপেক্ষী হওয়ার বেইজ্জতি থেকে) রক্ষা করবেন, এটা মানুষের কাছে চাওয়ার চেয়ে উত্তম, যারা তাকে দিতেও পারে কিংবা নাও দিতে পারে। -সহিহ বুখারি: ১৪৭১
হারাম উপার্জন থেকে অবশ্যই বেঁচে থাকতে হবে। কারণ হারাম উপার্জন মানুষের ইবাদত কবুলের ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। রাসুলুল্লাহ ﷺ এমন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে বলেছেন-
যেখানে হারাম খাদ্য-পানীয় ও হারাম উপার্জনের কারণে দোয়া কবুল না হওয়ার কথা এসেছে।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ:
«أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا، وَإِنَّ اللَّهَ أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ بِهِ الْمُرْسَلِينَ، فَقَالَ: ﴿يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ﴾، وَقَالَ: ﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ﴾. ثُمَّ ذَكَرَ الرَّجُلَ يُطِيلُ السَّفَرَ، أَشْعَثَ أَغْبَرَ، يَمُدُّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ: يَا رَبِّ، يَا رَبِّ، وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ، وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ، وَمَلْبَسُهُ حَرَامٌ، وَغُذِّيَ بِالْحَرَامِ، فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لِذَلِكَ؟»
“হে মানুষ! নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না। আর আল্লাহ মুমিনদের সেই নির্দেশই দিয়েছেন, যে নির্দেশ তিনি রাসুলদের দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘হে রাসুলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু থেকে আহার করো এবং সৎকর্ম করো।’ এবং বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ! আমি তোমাদের যে পবিত্র রিজিক দিয়েছি, তা থেকে আহার করো।’ এরপর তিনি এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, যে দীর্ঘ সফর করেছে, যার চুল এলোমেলো ও শরীর ধূলিমলিন; সে আকাশের দিকে হাত তুলে বলে, ‘হে আমার রব! হে আমার রব!’ অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম এবং সে হারাম দ্বারা প্রতিপালিত হয়েছে। তাহলে কীভাবে তার দোয়া কবুল হবে?” -সহিহ মুসলিম, হাদীস নং ১০১৫।
অতএব, জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করতে হবে, তবে তা অবশ্যই হালাল পন্থায় হতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন¬-
وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ
“যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন এবং তাকে এমন স্থান থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করে না।” -সূরা আত-তালাক: ২-৩
সুতরাং হারাম চাকরির পরিবর্তে হালাল জীবিকার সন্ধান করা, আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল রাখা এবং পাশাপাশি নামাজ, ইস্তিগফার, দোয়া ও অন্যান্য নেক আমল অব্যাহত রাখা উচিত। ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ তাআলা হালাল পথে উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করবেন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুহাম্মাদ আশরাফুল আলম
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১