বালেগ পুরুষ প্রাপ্ত বয়ষ্কা নারীদের থেকে দ্বীনি জ্ঞান শিক্ষার বিধান
প্রশ্নঃ ১৬৯৯৮৫. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, মাসায়েল সেকশনে আমি এমন প্রশ্ন পেয়েছি, কিন্তু আমার প্রশ্নটি কিছুটা ভিন্ন।ইসলামে হযরত আয়েশা, হযরত উম্মে দারদার মতো বিশিষ্ট নারীরা পুরুষদেরও দ্বীনি ইলম শিক্ষা দিতেন। বর্তমান যুগে শরীয়তের পর্দা ঠিক রেখে যদি কোনো নারী সমাজিক মাধ্যমে দ্বীনের ইলম প্রচার করতে চান,তবে এটি জায়েজ?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম (রাযি.) থেকে বহু ধরনের আমল বর্ণিত রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—কোন আমলটি সর্বসাধারণের জন্য গ্রহণযোগ্য, কোনটি সাধারণের জন্য আমলযোগ্য নয়, কোনটি 'মামুল বিহি' যার ওপর ধারাবাহিক আমল রয়েছে এবং কোনটি 'গাইরে মামুল বিহি' যার ওপর ধারাবাহিক আমল নেই?
এসব সূক্ষ্ম বিষয় নির্ধারণের দায়িত্ব ফুকাহায়ে কেরামের। তারা কোরআন ও সুন্নাহর সমস্ত দলিল-প্রমাণের আলোকে গবেষণা করে উম্মাহর জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত প্রদান করে থাকেন। তাই শরিয়তের জটিল বিষয়ে ফুকাহায়ে কেরামের সিদ্ধান্ত সানন্দে ও অম্লান বদনে মেনে নেওয়ার মধ্যেই ঈমান ও আমলের নিরাপত্তা নিহিত।
আম্মাজান হযরত আয়েশা (রাযি.) পর্দার আড়াল থেকে পুরুষ সাহাবি ও তাবেঈদের হাদিসের তালিম দিতেন—এই ঘটনাকে ভিত্তি করে বর্তমান যুগে নারীদের পুরুষদের দ্বীনি শিক্ষা দেওয়া সাধারণ নিয়ম বানানো সঠিক নয়। কারণ হলো, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পারিবারিক ও অত্যন্ত ব্যক্তিগত জীবনের বহু সুন্নাহ ও মাসআলা কেবল আম্মাজান হযরত আয়েশা (রাযি.)-এর মাধ্যমেই জানা সম্ভব ছিল। ফলে দ্বীনের স্বার্থেই পুরুষ সাহাবিগণ তাঁর কাছ থেকে তা শিখতে মুখাপেক্ষী ছিলেন।
সাহাবিদের জামাত ছিল পবিত্রতম ও ফিতনামুক্ত। এরপরও কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী ("তোমরা পরপুরুষের সাথে নম্র ভঙ্গিতে কথা বলো না, যাতে যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে সে প্রলুব্ধ হয়" — সূরা আহযাব: ৩২) সাহাবি নারীগণ সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে প্রয়োজনে কন্ঠস্বর নিচু ও কিছুটা গম্ভীর রেখে কথা বলতেন।
বর্তমানে আম্মাজান আয়েশা (রাযি.)-এর সেই বিশেষ আমলকে সাধারণ দলিল হিসেবে গ্রহণ করে নারীদের ব্যাপকভাবে পর্দার আড়াল থেকে পুরুষদের তালিম দেওয়া সঙ্গত নয়। বর্তমান যুগে সাহাবিদের যুগের মতো রুহানি পরিবেশ ও চরম তাকওয়ার অভাব রয়েছে। ফলে পর্দার আড়াল থেকে হলেও নারীদের পুরুষদের তালিম দেওয়ার রেওয়াজ চালু করলে নানা ধরনের ফিতনা ছড়িয়ে পড়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে।
আম্মাজান হযরত আয়েশা (রাযি.)-এর মতো একক বা অনন্য কোনো জ্ঞান এখন এমন নেই যা কেবল কোনো নারীর কাছেই আছে এবং পুরুষদের কাছে তা মিলবে না। দ্বীনি ও দুনিয়াবি সমস্ত প্রয়োজনীয় এলেম অর্জনের জন্য দক্ষ ও পরহেযগার পুরুষ শিক্ষক পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যমান।
এসব সার্বিক দিক বিবেচনা করে বর্তমান যামানায় পুরুষদের জন্য পুরুষ শিক্ষকের কাছ থেকে এলেম হাসিল করার সুযোগ ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কোনো বালেগ পুরুষের জন্য নারীর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা সঠিক হবে না। একান্ত বিশেষ প্রয়োজনে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে পর্দার কঠোর শর্ত মেনে নারী শিক্ষক শিক্ষা দিতে পারলেও, ব্যাপকভাবে নারীদের মাধ্যমে পুরুষদের তালিম দেওয়া ঠিক নয়।
حجة الله البالغة: ۲ / ۳۳۳، ذكر العورات، قدیمی
قال الشيخ ولي الله المحدث الدهلوي: "اعلم أنه لما كان الرجال يہیجهم النظر إلى النساء على عشقهن والتوجه بهن، ويفعل بالنساء مثل ذلك، وكان كثيراً ما يكون ذلك سبباً لأن يتقضى قضاء الشهوة منهم على غير السنة الراشدة كاتباع من هي في عصمة غيره، أو بلا نکاح، أو غير اعتبار كفائة، والذي شوهد من هذا الباب يعني عما سطر في الدفاتر، اقتضت الحكمة أن يسد هذا الباب".
فتاوى محمودیہ جلد سوم کتاب العلم
معلمین کے ساتھ معلمات کا تقرر اور سیانے بچے بچیوں کی مخلوط تعلیم
سوال [۱۰۵۸]: ایک اسلامیہ اسکول جس کا سارا انتظام مسلمانوں کے ہاتھ میں ہے، اس میں معلموں کے ساتھ معلمات کا تقرر درست ہے یا نہیں؟ اسی طرح دس سال یا زائد عمر کے بچے بچیوں کی کیجائی تعلیم کا کیا مسئلہ ہے؟
الجواب حامداً ومصلیاً:
اسلامیہ اسکول میں مردوں کے ساتھ عورتوں کو معلمہ کی حیثیت سے مقرر کرنا شرعاً درست نہیں، اسی طرح سیانی لڑکیوں کو لڑکوں کے اسکول میں داخل کرنا جائز نہیں، دس سال کی لڑکی (حسبِ سوالِ سائل) کو ہرگز ایسے اسکول میں داخل نہ کیا جائے اس میں سخت فتنہ ہے۔ (۱)۔ فقط واللہ سبحانہ تعالیٰ اعلم۔
حررہ العبد محمود غفرلہ دارالعلوم دیوبند، ۱۵ / ۸ / ۹۳ھ
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া গাজীপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন