অনলাইনে অগ্রিম মূল্য নিয়ে পন্য বিক্রি ও সরবরাহ করার পদ্ধতি
প্রশ্নঃ ১৬৯১০৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি একটা ভালো শার্ট দেখলাম এবং আমার ওয়েবসাইটে ওই শার্টটা ১০ ডলারে বিক্রি করলাম, কিন্তু শার্টটার দাম ২ ডলার। আমার কাস্টমার আমার কাছ থেকে শার্টটা কিনে আমাকে ১০ ডলার পুরো পেমেন্ট করল। তারপর আমি কাস্টমারের দেওয়া ওই ১০ ডলার দিয়ে শার্টটা ২ ডলার দিয়ে কিনে নিলাম। এটা হারাম, কারণ আমাদের নবী
বলেছেন, "আপনি যা নিজের মালিকানায় নেই, তা বিক্রি করবেন না।"
এখন বাই আল-সালাম নামে একটা রুলিং আছে। বাই আল-সালামে আমাদের নবী মুহাম্মাদ
ফার্মারদের ডেটস এবং হুইট আগে থেকেই বিক্রি করার পারমিশন দিয়েছিলেন, যদিও তখন তারা ওই জিনিসটা নিজের কাছে রাখত না। কিন্তু এর কিছু কন্ডিশন আছে। যেমন, ১০০% টাকা আগেই ফুল পেমেন্ট করতে হবে, প্রোডাক্টের সব ডিটেইলস ক্লিয়ারলি বলে দিতে হবে, এবং কবে প্রোডাক্ট ডেলিভার করা হবে সেটাও ক্লিয়ারলি বলে দিতে হবে।
আমি জানি না এই রেফারেন্সগুলো ১০০% অ্যাকিউরেট কিনা, তাই জাস্ট মেক শিওর হওয়ার জন্য আপনি চাইলে চেক করে দেখতে পারেন। আমি রেফারেন্সগুলো পাঠাচ্ছি যাতে আমরা দুজনেই সেম পেজে থাকি।
হানাফি বুকসে বাই আল-সালাম নিয়ে ডিসকাশন আছে:
আল-হিদায়াহ- ভলিউম ৩, কিতাব আল-সালাম
বাদায়েউস সানায়ে- ভলিউম ৫, কিতাব আল-সালাম
হাদিসের রেফারেন্স:
সহিহ আল-বুখারি - হাদিস ২২৩৯, বুক ৩৫, কিতাব আল-সালাম
সহিহ মুসলিম - হাদিস ১৬০৪, বুক ২২, কিতাব আল-মুসাকাত
তাই আমার প্রশ্ন হলো, আমি যদি আমার বিজনেসে বাই আল-সালামের সব কন্ডিশন ফলো করি, তাহলে কি এটা পারমিসিবল হবে?
ধরি, আমি আমার ওয়েবসাইটে একটা শার্ট ১০ ডলারে সেল করলাম। কাস্টমার আমাকে পুরো ১০ ডলার আগেই দিয়ে দিল - হাফ আজকে, হাফ কালকে না; কোনো ইনস্টলমেন্টও না, পুরো ১০ ডলার একবারে আগেই দিয়ে দিল। আমি প্রোডাক্টের সব ডিটেইলস অ্যাকিউরেটলি লিস্ট করব এবং ক্লিয়ারলি বলে দিব যে প্রোডাক্টটা কবে ডেলিভার হবে।
যদি আমি যে সাপ্লায়ারের কাছ থেকে প্রোডাক্টটা নিতে চাচ্ছি তার কাছে প্রোডাক্টটা না থাকে, তাহলে আমি অন্য সাপ্লায়ারের কাছ থেকে প্রোডাক্টটা কিনে কাস্টমারকে পাঠাব, এমনকি যদি আমার বেশি প্রাইস দিয়ে কিনতে হয়।
এইভাবে আমার বিজনেস করলে কি এটা পারমিসিবল হবে?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আপনার বর্ণিত ব্যবসাটি শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েয হতে পারে। তবে তা বাইয়ে সালামের শর্ত পূরণ করে পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
সাধারণ নিয়ম হলো, কোনো পণ্য নিজের মালিকানায় ও কবজায় আসার আগে তা বিক্রি করা জায়েয নয়। তবে বাইয়ে সালাম এর ব্যতিক্রম। বাইয়ে সালামের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে পণ্যের মূল্য অগ্রিম গ্রহণ করা এবং পরবর্তী সময়ে পণ্য সরবরাহ করার চুক্তি করা যায়।
বাইয়ে সালামের গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো হলো:
- পণ্যের মূল্য সম্পূর্ণ অগ্রিম পরিশোধ করতে হবে। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সময়ই ক্রেতাকে পুরো মূল্য পরিশোধ করতে হবে; মূল্য পরিশোধের কোনো অংশ বাকি রাখা যাবে না।
- পণ্যের বিবরণ সুস্পষ্ট হতে হবে। শার্টের ধরন, কাপড়ের মান, রং, মাপ, সাইজ, ডিজাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে পণ্য নিয়ে পরবর্তীতে বিরোধের আশঙ্কাই না থাকে।
- ডেলিভারির সময় ও স্থান সুনির্ধারিত ভাবে নির্দিষ্ট করতে হবে। পণ্য কবে ক্রেতার কাছে পৌঁছানো হবে, কোথায় পৌঁছানো, তা চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
- পণ্যটি চুক্তিতে উল্লেখিত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সমমানের শার্ট সরবরাহ করা সম্ভব হতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট, স্বতন্ত্র শার্টকেই চুক্তির বিষয়বস্তু বানালে বাইয়ে সালামের বিধান প্রযোজ্য হওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।
- নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহের সক্ষমতা থাকতে হবে। চুক্তির সময় থেকে ডেলিভারির নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বাজারে পণ্যটি পাওয়া যাওয়ার বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা থাকতে হবে।
- পণ্যের মূল্য ও সরবরাহের স্থান স্পষ্ট থাকতে হবে। প্রয়োজনে পণ্য কোথায় সরবরাহ করা হবে, সেটিও নির্ধারণ করতে হবে।
- সাপ্লায়ারের কাছ থেকে পণ্য ক্রয় করে প্রথমে তা নিজে কবজায় অর্থাৎ হস্তগত করতে হবে। এরপর কাস্টমারের কাছে পণ্যটি ডেলিভারি দিতে হবে। পণ্য নিজের কবজায় নেওয়ার আগে সাপ্লায়ারের মাধ্যমে সরাসরি কাস্টমারের কাছে ডেলিভারি করালে তা জায়েয হবে না।
সুতরাং, আপনি যদি ওয়েবসাইটে একটি শার্ট ১০ ডলারে বিক্রি করেন, কাস্টমারের কাছ থেকে চুক্তির সময় সম্পূর্ণ ১০ ডলার গ্রহণ করেন এবং উপরোক্ত শর্তগুলো পূরণ করে নির্ধারিত সময়ে শার্ট সরবরাহের চুক্তি করেন, তাহলে তা বাইয়ে সালাম হিসেবে জায়েয হবে। এক্ষেত্রে শার্টটি প্রথম সাপ্লায়ারের কাছে না থাকলে অন্য সাপ্লায়ারের কাছ থেকে কিনে সরবরাহ করাও সম্ভব, যদি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: বাইয়ে সালামের শর্ত পূরণ হলে পণ্যটি আগে নিজের কবজায় নেওয়া সাধারণভাবে শর্ত নয়। কিন্তু বাইয়ে সালামের শর্ত পূরণ না হলে সাধারণ বিক্রয়ের নিয়ম প্রযোজ্য হবে। সে ক্ষেত্রে পণ্য নিজের মালিকানায় ও কবজায় নেওয়ার আগে তা বিক্রি করা যাবে না। তাই আপনার ওয়েবসাইটের বিক্রয়চুক্তির ধরন ও শার্টের প্রকৃতি যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
الأدلة الشرعية
سنن الترمذي: باب ما جاء في النهي عن بيعن في بيعة (٥٦٩):
عن أبي هريرة قال: نهي رسول الله صلى الله عليه وسلم عن بيعتين في بيعة.
صحيح البخاري، كتاب السلم (٦٣٣):
عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قدم النبي صلى الله عليه وسلم المدينة وهم يُسْلِفون بالنخل السَّنَتَيْن والثَّلاثَ، فقال: (مَنْ أَسْلَفَ في شَيْءٍ ففي كَيْلٍ معلومٍ، إلى أَجَلٍ معلومٍ).
الهداية في شرح بداية المبتدي، باب السلم (٤/ ٥٧٥):
قال: "ولا يصح السلم عند أبي حنيفة رحمه الله إلا بسبع شرائط: جنس معلوم" كقولنا حنطة أو شعير "ونوع معلوم" كقولنا سفية أو بخشية "وصفة معلومة" كقولنا جيد أو رديء، "ومقدار معلوم" كقولنا كذا كيلا بمكيال معروف وكذا وزناً "وأجل معلوم" والأصل فيه ما روينا والفقه فيه ما بينا "ومعرفة مقدار رأس المال إذا كان يتعلق العقد على مقداره" كالمكتيل والموزون والمعدود "وتسمية المكان الذي يوفيه فيه إذا كان له حمل ومؤنة".
البناية شرح الهداية، باب السلم (١١/ ٢٧):
وفي " الذخيرة " عن الكرخي: أنه ينظر إلى مقدار المسلم فيه وإلى عرف الناس في التأجيل فيه فإن كان قدر ما أجل أحد، يؤجل مثله في العرف والعادة تجوز السلم (والأول أصح) ش: أي تقدير أجل شهر هو الأصح. وقال الصدر الشهيد في طريقته المطولة: والصحيح ما رواه الكرخي أنه مقدار ما يمكن فيه تحصيل المسلم فيه.
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
নায়েবে মুফতী, ফতোয়া বিভাগ
জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন