যাকাতের টাকা দিয়ে হজ্জ করানোর শরয়ী বিধান
প্রশ্নঃ ১৬৮৫৮০. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, যাকাতের টাকা দিয়ে কি কাউকে হজ্জ করানো যাবে কি না আর গেলে হক দার কারা
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
যাকাত সহীহ হওয়ার একটি প্রধান ও মৌলিক শর্ত হলো তামলীক। অর্থাৎ, যাকাতের সম্পদ বা অর্থ যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে পুরোপুরি মালিক বানিয়ে হস্তান্তর করতে হবে।
সুতরাং, কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা যদি যাকাতের ফান্ড থেকে কাউকে হজ্জে পাঠানোর জন্য সরাসরি খরচ করে (যেমন: যাকাতের টাকা দিয়ে টিকিট কাটা, ভিসা করানো বা এজেন্সিকে টাকা দেওয়া), তবে তার দ্বারা যাকাত আদায় হবে না। কারণ এতে ‘তামলীক’ বা নির্দিষ্ট ব্যক্তির হাতে মালিকানাসহ অর্থ হস্তান্তর সম্পন্ন হয় না; বরং ঐ ব্যক্তি বা সংস্থাই টাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে খরচ করছে।
তবে কোনো যাকাত পাওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তিকে যদি যাকাতের টাকা সরাসরি হস্তান্তরের মাধ্যমে পূর্ণ মালিক বানিয়ে দেওয়া হয়, আর সে ব্যক্তি নগদ অর্থ বুঝে পাওয়ার পর নিজের স্বাধীন ইচ্ছায় সেই টাকা দিয়ে হজ্জে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে যাকাতদাতার যাকাত সম্পূর্ণ সহীহ ও আদায় হয়ে যাবে। কারণ এখানে হস্তান্তরের সময়ই ‘তামলীক’ সম্পন্ন হয়ে গেছে। এরপর সে প্রাপ্ত অর্থ হজ্জে ব্যয় করবে নাকি সংসার চালাবে? তা সম্পূর্ণ তার নিজস্ব এখতিয়ার।
সারকথা:
যাকাতের অর্থ উপযুক্ত ব্যক্তির হাতে সরাসরি না দিয়ে তাকে হজ্জে পাঠানোর ব্যবস্থা করলে যাকাত আদায় হবে না। কিন্তু তাকে টাকার পূর্ণ মালিক বানিয়ে দেওয়ার পর সে নিজ ইচ্ছায় সেই টাকা দিয়ে হজ্জে গেলে যাকাতদাতার যাকাত আদায় হয়ে যাবে।
তথ্যসূত্র ও ফিকহী এবারত:
وَيُشْتَرَطُ أَنْ يَكُونَ الصَّرْفُ (تَمْلِيكًا) لَا إبَاحَةً كَمَا مَرَّ
(الدر المختار مع رد المحتار، ٢/٣٤٤)
(قَوْلُهُ: تَمْلِيكًا) فَلَا يَكْفِي فِيهَا الْإِطْعَامُ إلَّا بِطَرِيقِ التَّمْلِيكِ وَلَوْ أَطْعَمَهُ عِنْدَهُ نَاوِيًا الزَّكَاةَ لَا تَكْفِي
(رد المحتار، ٢/٣٤٤)
فخرج بالتمليك الإباحة حتى لو أطعم يتيماً ناوياً الزكاة لا تجزئه إلا إذا دفع إليه المطعوم كما لو كساه بشرط أن يكون مراهقاً يعقل القبض
(النهر الفائق شرح كنز الدقائق، ١/٤١٢)
وَكَذَلِكِ إذَا اشْتَرَى بِالزَّكَاةِ طَعَامًا فَأَطْعَمَ الْفُقَرَاءَ غَدَاءً وَعَشَاءً وَلَمْ يَدْفَعْ عَيْنَ الطَّعَامِ إلَيْهِمْ لَا يَجُوزُ لِعَدَمِ التَّمْلِيكِ. وَكَذَا لَوْ قَضَى دَيْنَ مَيِّتٍ فَقِيرٍ بِنِيَّةِ الزَّكَاةِ؛ لِأَنَّهُ لَمْ يُوجَدْ التَّمْلِيكُ مِنْ الْفَقِيرِ لِعَدَمِ قَبْضِهِ
(بدائع الصنائع في ترتيب الشرائع، ٢/٣٩)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
উস্তাজ, ইদারাতুত্ তাখাসসুস ফিল উলূমিল ইসলামিয়া, আজিমপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন