সোশ্যাল মিডিয়ায় হারাম ভিডিওতে লাইক-কমেন্ট এবং গান-মুভিকে ‘প্রিয়’ বলার বিধান
প্রশ্নঃ ১৬৭৬৪৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, সোশ্যাল মিডিয়ায় শরীয়তবিরোধী কনটেন্ট (বেপর্দা নারী-পুরুষ,মিউজিক) প্রচারিত হয়। কোনো মুসলিম এরকম হারাম ভিডিও দেখে মুগ্ধ হয়ে তাতে লাইক, কমেন্টে প্রশংসা প্রকাশ করে, শরয়ী দৃষ্টিতে তার হুকুম কী? এটি কি গুনাহের অন্তর্ভুক্ত হবে? এবং অনেকে বলে এই মুভি/গান আমার প্রিয়। এমন বলার হুকুম কি? হাওয়ালা দিবেন।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রশ্নে দুটি বিষয় বর্ণিত হয়েছে:
১. হারাম কনটেন্টে লাইক-কমেন্টের মাধ্যমে প্রশংসা করা।
২. কোনো গান বা মুভিকে (যা সাধারণত হারাম যুক্ত থাকে) নিজের প্রিয় বলে প্রকাশ করা।
দুটি বিষয় পৃথকভাবে আলোচনা করা যেতে পারে।
প্রথম বিষয়টির মূল কথা হলো, কোনো হারাম বা নিষিদ্ধ কাজে নিজের সন্তুষ্টি প্রকাশ করা এবং এমন কোনো কাজ করা, যার মাধ্যমে ওই নিষিদ্ধ বিষয়টির সমর্থন এবং প্রচার-প্রসারে সহযোগিতা হয়।
কারণ কোনো একটি হারাম কনটেন্টে লাইক বা শেয়ার করার মাধ্যমে শুধুমাত্র ওই বিষয়টির প্রতি নিজের সন্তুষ্টিই প্রকাশ পায় না, বরং কনটেন্টটি আরও বেশি প্রচার-প্রসার পায়। পাশাপাশি কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে উৎসাহ জোগানোসহ তার আর্থিকভাবে উপকৃত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সুতরাং এর মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে হারাম ও অশ্লীল বিষয় এবং তার প্রচার-প্রসারে সরাসরি সহযোগিতার বিষয়টি প্রতীয়মান। আর এ বিষয়টি কুরআন ও হাদিসের স্পষ্ট অকাট্য দলিলের মাধ্যমে হারাম বা নিষিদ্ধ প্রমাণিত। সুতরাং তা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
দ্বিতীয়ত, কোনো হারাম বিষয়কে নিজের পছন্দনীয় বা প্রিয় বলে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে ব্যক্তির অবস্থা নিম্নরূপ হতে পারে:
ক. অন্তরে টান আছে, কিন্তু বিষয়টিকে হারাম জানে ও অনুতপ্ত হয়: এটি নফসের দুর্বলতা। খাঁটি দিলে তাওবা করলে আল্লাহ মাফ করবেন।
খ. হালাল বা ভালো মনে করে বলা: যেমন "গান তো হারামই না" বা "এতে দোষের কী আছে", অথচ সে জানে ইসলামে এটি নিষিদ্ধ। এতে ঈমানের মারাত্মক ঝুঁকি আছে। অকাট্য হারামকে হালাল মনে করলে বা হালকা মনে করলে ব্যক্তি ঈমানহারা হতে পারে।
আয়াতঃ
اِنَّ الَّذِیۡنَ یُحِبُّوۡنَ اَنۡ تَشِیۡعَ الۡفَاحِشَۃُ فِی الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ۙ فِی الدُّنۡیَا وَالۡاٰخِرَۃِ ؕ وَاللّٰہُ یَعۡلَمُ وَاَنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ
অর্থঃ স্মরণ রেখ, যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার হোক এটা কামনা করে, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে আছে যন্ত্রণাময় শাস্তি এবং আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না। সূরাঃ আন নূর - আয়াত নংঃ 19
আয়াতঃ
وَتَعَاوَنُوۡا عَلَی الۡبِرِّ وَالتَّقۡوٰی ۪ وَلَا تَعَاوَنُوۡا عَلَی الۡاِثۡمِ وَالۡعُدۡوَانِ ۪ وَاتَّقُوا اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ شَدِیۡدُ الۡعِقَابِ
অর্থঃ তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অন্যকে সহযোগিতা করবে। গুনাহ ও জুলুমের কাজে একে অন্যের সহযোগিতা করবে না। আল্লাহকে ভয় করে চলো। নিশ্চয়ই আল্লাহর শাস্তি অতি কঠিন। সূরাঃ আল মায়িদাহ - আয়াত নংঃ 2
আয়াতঃ
وَمِنَ النَّاسِ مَنۡ یَّشۡتَرِیۡ لَہۡوَ الۡحَدِیۡثِ لِیُضِلَّ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ بِغَیۡرِ عِلۡمٍ ٭ۖ وَّیَتَّخِذَہَا ہُزُوًا ؕ اُولٰٓئِکَ لَہُمۡ عَذَابٌ مُّہِیۡنٌ
অর্থঃ কতক মানুষ এমন, যারা অজ্ঞতাবশত আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বিচ্যুত করার জন্য খরিদ করে এমন সব কথা, যা আল্লাহ সম্পর্কে উদাসীন করে দেয় এবং তারা আল্লাহর পথ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। তাদের জন্য আছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি। সূরাঃ লুকমান - আয়াত নংঃ 6
আয়াতঃ
وَلاَ تَقُولُواْ لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَـذَا حَلاَلٌ وَهَـذَا حَرَامٌ لِّتَفْتَرُواْ عَلَى اللّهِ الْكَذِبَ إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللّهِ الْكَذِبَ لاَ يُفْلِحُونَ
তোমাদের জিহ্বা যেসব মিথ্যা আরোপ করে, তার ওপর ভিত্তি করে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তোমরা বোলো না, এটি হালাল এবং ওটি হারাম। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা আরোপ করে, তারা সফলকাম হবে না। সূরা আন-নাহল: ১১৬
আয়াতঃ
قُلْ أَرَأَيْتُم مَّا أَنزَلَ اللّهُ لَكُم مِّن رِّزْقٍ فَجَعَلْتُم مِّنْهُ حَرَامًا وَحَلاَلاً قُلْ آللّهُ أَذِنَ لَكُمْ أَمْ عَلَى اللّهِ تَفْتَرُونَ
আপনি বলুন, আল্লাহ তোমাদের জন্য যে রিযিক অবতীর্ণ করেছেন, তারপর তোমরা তার মধ্য থেকে কিছু হারাম ও কিছু হালাল সাব্যস্ত করেছ, সে সম্পর্কে তোমরা ভেবে দেখেছ কি? আপনি বলুন, আল্লাহ কি তোমাদেরকে এর অনুমতি দিয়েছেন, নাকি তোমরা আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করছ? সূরা ইউনুস: ৫৯
আয়াতঃ
قَدْ خَسِرَ الَّذِينَ قَتَلُواْ أَوْلاَدَهُمْ سَفَهًا بِغَيْرِ عِلْمٍ وَحَرَّمُواْ مَا رَزَقَهُمُ اللّهُ افْتِرَاء عَلَى اللّهِ قَدْ ضَلُّواْ وَمَا كَانُواْ مُهْتَدِينَ
নিশ্চয়ই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যারা অজ্ঞতাবশত নির্বুদ্ধিতার কারণে নিজেদের সন্তানদের হত্যা করেছে এবং আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে আল্লাহ তাদের যে রিযিক দিয়েছিলেন, তা হারাম করে নিয়েছে। নিশ্চিতভাবেই তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং তারা হেদায়াতপ্রাপ্ত ছিল না। সূরা আল-আনআম: ১৪০
আয়াতঃ
وَلاَ يُحَرِّمُوْنَ مَا حَرَّمَ اللهُ وَرَسُولُهُ وَلاَ يَدِيْنُوْنَ دِيْنَ الْحَقِّ
আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন, তারা তাকে হারাম গণ্য করে না এবং সত্য দ্বীনকে নিজেদের দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করে না। সূরা আত-তাওবাহ: ২৯
রাসূল সা. হাদিসে বলেন,
وَقَالَ هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ: حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، حَدَّثَنَا عَطِيَّةُ بْنُ قَيْسٍ الكِلاَبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ غَنْمٍ الأَشْعَرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو عَامِرٍ أَوْ أَبُو مَالِكٍ الْأَشْعَرِيُّ، وَاللَّهِ مَا كَذَبَنِي: سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ، يَسْتَحِلُّونَ الحِرَ وَالحَرِيرَ، وَالخَمْرَ وَالمَعَازِفَ، وَلَيَنْزِلَنَّ أَقْوَامٌ إِلَى جَنْبِ عَلَمٍ، يَرُوحُ عَلَيْهِمْ بِسَارِحَةٍ لَهُمْ، يَأْتِيهِمْ - يَعْنِي الفَقِيرَ - لِحَاجَةٍ فَيَقُولُونَ: ارْجِعْ إِلَيْنَا غَدًا، فَيُبَيِّتُهُمُ اللَّهُ، وَيَضَعُ العَلَمَ، وَيَمْسَخُ آخَرِينَ قِرَدَةً وَخَنَازِيرَ إِلَى يَوْمِ القِيَامَةِ "
৫১৮৯। হিশাম ইবনে ‘আম্মার (রাহঃ) ......... ‘আব্দুর রহমান ইবনে গানাম আশ‘আরী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার নিকট আবু ‘আমের কিংবা আবু মালেক আশ‘আরী বর্ণনা করেছেন। আল্লাহর কসম! তিনি আমার কাছে মিথ্যে কথা বলেননি। তিনি নবী করীম (ﷺ) -কে বলতে শুনেছেন: আমার উম্মতের মাঝে অবশ্যই এমন কতগুলো দলের সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশমী কাপড়, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল জ্ঞান করবে। অনুরূপভাবে এমন অনেক দল হবে, যারা পর্বতের কিনারায় বসবাস করবে, বিকাল বেলায় যখন তারা পশুপাল নিয়ে ফিরবে তখন তাদের কাছে কোন অভাব নিয়ে ফকীর আসলে তারা উত্তর দেবে আগামী দিন সকালে তুমি আমাদের নিকট এসো। এদিকে রাতের অন্ধকারেই আল্লাহ তাদের ধ্বংস করে দিবেন। পর্বতটি ধসিয়ে দিবেন, আর অবশিষ্ট লোকদের তিনি কিয়ামত দিবস পর্যন্ত বানর ও শুকর বানিয়ে রাখবেন।
সহীহ বুখারী, হাদীস নংঃ ৫১৮৯, আন্তর্জাতিক নং: ৫৫৯০
«المبسوط» للسرخسي (4/ 96):
«(قال) ولا ينبغي للحلال أن يعين المحرم على قتل الصيد لأن فعل المحرم معصية، والإعانة على المعصية معصية فقد سمى رسول الله صلى الله عليه وسلم المعين شريكا،»
কোনো হারাম বিষয়কে হালাল মনে করার বিধান সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানার জন্য সংযুক্ত মাসআলাটি দেখুন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা ৷
রেফারেন্স উত্তর :
প্রশ্নঃ ২৫৬৭০. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, হালাল কে হারাম মনে করলি মন থাকবে কিনা দলিল প্রমাণসহ
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
হালাল হারাম নির্ধারণের একমাত্র অধিকার মহান আল্লাহ তায়ালার। যে এতে হস্তক্ষেপ করলো সে আল্লাহ তায়ালার ক্ষমতার মধ্যে হস্তক্ষেপ করলো এবং সে আল্লাহ তায়ালার ওপর মিথ্যারোপ করলো। এ কারণে এজতীয় লোকদের কুফরীর ব্যাপারে উম্মতের ওলামায়ে কেরাম ঐক্যমত পোষণ করেছেন।
قد أجمع علماء الإسلام على كفر من استحل ما حرمه الله أو حرم ما أحله الله مما هو معلوم من الدين بالضرورة، ومن تأمل كلام العلماء في جميع المذاهب الأربعة في باب حكم المرتد اتضح له ما ذكرنا.
(مجموع الفتاوى للشويعر 2/ 330)
يحرم على المسلم التحليل والتحريم دون استناد للشرع لما فيه من الافتراء على الله تعالى، فقد قال الله تعالى: وَلاَ تَقُولُواْ لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَذَا حَلاَلٌ وَهَذَا حَرَامٌ لِّتَفْتَرُواْ عَلَى اللّهِ الْكَذِبَ إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللّهِ الْكَذِبَ لاَ يُفْلِحُونَ.{النحل:116}. ولأن القول على الله بغير علم جاء في القرآن الكريم مقرونا بأكبر الكبائر وأعظم الذنوب، قال الله تعالى: قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْأِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَاناً وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لا تَعْلَمُونَ.{الأعراف:33}.
ومن المعلوم قطعاً أن التشريع المطلق -تحريماً وتحليلاً وتشريعاً- إنما هو حق خالص لله تعالى.
قال الله تعالى: قُلْ أَرَأَيْتُمْ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ لَكُمْ مِنْ رِزْقٍ فَجَعَلْتُمْ مِنْهُ حَرَاماً وَحَلالاً قُلْ آللَّهُ أَذِنَ لَكُمْ أَمْ عَلَى اللَّهِ تَفْتَرُونَ. {يونس:59}. وقال تعالى: أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّه. {الشورى:21}. وقال الله تعالى: وَلا يُشْرِكُ فِي حُكْمِهِ أَحَداً {الكهف:26}.
وقال سبحانه: إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ. {يوسف:40}. وقال سبحانه: أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْماً لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ. {المائدة:50}
وقال الله تعالى: إِنِ الْحُكْمُ إِلاَّ لِلّهِ يَقُصُّ الْحَقَّ وَهُوَ خَيْرُ الْفَاصِلِينَ. {الأنعام:57}، وقال: وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ مِن شَيْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللَّهِ. {الشورى:10}. وقال تعالى: فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً. {النساء:59}.
والآيات في هذا المعنى كثيرة جداً.
* কেয়ামতের অন্যতম আলামত হলো, “হালালকে হারাম মনে করা হবে”
রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন,
” لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ، يَسْتَحِلُّونَ الحِرَ وَالحَرِيرَ، وَالخَمْرَ وَالمَعَازِفَ،
আমার উম্মতের মাঝে কতিপয় লোক এমন সৃষ্টি হবে, যারা যিনা, সিল্ক বা রেশম পরিধান করা এবং মদপানকে হারাম হবার পরও হালাল মনে করতে তাকবে। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৫৯০]
عَنْ أَبِي مَالِكٍ الأَشْعَرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ “ لَيَشْرَبَنَّ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي الْخَمْرَ يُسَمُّونَهَا بِغَيْرِ اسْمِهَا يُعْزَفُ عَلَى رُءُوسِهِمْ بِالْمَعَازِفِ وَالْمُغَنِّيَاتِ يَخْسِفُ اللَّهُ بِهِمُ الأَرْضَ وَيَجْعَلُ مِنْهُمُ الْقِرَدَةَ وَالْخَنَازِيرَ
আবূ মালেক আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের কতক লোক মদের ভিন্নতর নামকরণ করে তা পান করবে। (তাদের পাপসক্ত অবস্থায়) তাদের সামনে বাদ্যবাজনা চলবে এবং গায়িকা নারীরা গীত পরিবেশন করবে। আল্লাহ তা‘আলা এদেরকে মাটির নিচে ধ্বসিয়ে দিবেন এবং তাদের কতককে বানর ও শূকরে রূপান্তরিত করবেন। [সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৪০২০]
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:لَيَسْتَحِلَّنَّ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي الْخَمْرَ بِاسْمٍ يُسَمُّونَهَا إِيَّاهُ
হযরত উবাদা বিন সামতে রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আমার উম্মতের মাঝে একদল লোক মদকে ভ্ন্নি নাম দিয়ে তাকে হালাল মনে করবে। [মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২২৭০৯]
رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «يُوشِكُ أَنْ تَسْتَحِلَّ أُمَّتِي فُرُوجَ النِّسَاءِ وَالْحَرِيرِ
হযরত আলী রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, অচিরেই আমার উম্মতের মাঝে কিছু লোক মহিলাদের লজ্জাস্থান তথা যিনাকে এবং সিল্ক তথা রেশমকে হালাল মনে করতে থাকবে। [মুসনাদুশ শামিয়্যীন লিততাবারানী, হাদীস নং-৮৫৮]
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَيَبِيتَنَّ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي عَلَى أَشَرٍ وَبَطَرٍ وَلَعِبٍ وَلَهْوٍ، فَيُصْبِحُوا قِرَدَةً وَخَنَازِيرَ بِاسْتِحْلَالِهِمُ الْمَحَارِمَ، وَاتِّخَاذِهِمُ الْقَيْنَاتِ، وَشُرْبِهِمُ الْخَمْرَ، وَأَكْلِهِمُ الرِّبَا، وَلُبْسِهِمُ الْحَرِيرَ “
হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন। কসম ঐ সত্তার, যার হাতে আমার প্রাণ। অচিরেই এমন সময় আসবে যে, আমার উম্মতের মাঝে কিছু লোক অহংকর ও অহমিকার সাথে রাত্রিযাপন করবে। খেলাধুলার সাথে রাত কাটাবে। তাদের সকাল বেলা বানর ও শুকরের আকৃতিতে পাল্টে দেয়া হবে। এটা এ কারণে হবে যে, তারা হারাম কাজকে হালাল মনে করতে থাকবে। গায়িকা নর্তকী রাখতে শুরু করবে। মদ পান করবে। সূদ খাবে এবং রেশমী পোশাক পরিধান করবে। [মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২২৭৯০]
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
শিক্ষক, জামিয়া ইসলামিয়া ইবরাহিমিয়া দারুল উলুম মেরাজনগর, কদমতলী, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন