আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে চাঁদ দেখায় শরয়ি বিধান
প্রশ্নঃ ১৬৪৯৭৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, রমজানের চাঁদ দেখার জন্য আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করার হুকুম কি?
১৬ আগস্ট, ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
শরীয়ত আরবি মাসের শুরু ও শেষ নির্ধারণের বিষয়টি অত্যন্ত সহজ-সরল রেখেছে এবং অপ্রয়োজনীয় জটিলতা থেকে মুক্ত রেখেছে। যাতে প্রত্যেক যুগ ও প্রত্যেক স্থানের মানুষ সহজেই আরবি মাসের শুরু ও শেষ জানতে পারে এবং রোযা, ঈদ, হজ ইত্যাদির বিধান যথাযথভাবে পালন করতে পারে।
এই সহজতার কারণে শরীয়ত আরবি মাসের শুরু ও শেষ নির্ধারণের বিষয়টি মানুষের চোখে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল করেছে। অর্থাৎ, লোকেরা মাসের ২৯ তারিখে আকাশের দিকে তাকিয়ে নতুন চাঁদ দেখার চেষ্টা করবে। যদি চাঁদ দেখা যায়, তাহলে সাক্ষ্যের শরয়ি শর্তগুলো বিবেচনা করে সেই সাক্ষ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী মাসের শুরু সাব্যস্ত হবে।
আর যদি চাঁদ দেখা না যায়, তা মেঘের কারণে হোক কিংবা অন্য কোনো কারণে, তাহলে উক্ত মাস ৩০ দিনে পূর্ণ করা হবে।
বর্তমানে চাঁদ দেখার জন্য বিভিন্ন ধরনের আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। যেমন, দূরবীন (Binoculars), টেলিস্কোপ (Telescope), অপটিক্যাল টেলিস্কোপ, ডিজিটাল টেলিস্কোপ এবং ক্যামেরাযুক্ত টেলিস্কোপ ইত্যাদি। এসব যন্ত্র মূলত মানুষের দৃষ্টিশক্তিকে তীক্ষ্ণ করে এবং দূরের বস্তুকে অধিক স্পষ্টভাবে দেখতে সাহায্য করে।
শরীয়ত মুসলমানদের ওপর দূরবীন, টেলিস্কোপ ইত্যাদি ব্যবহার করে চাঁদ দেখা আবশ্যক করেনি। তবে কেউ যদি অতিরিক্ত চেষ্টা করে টেলিস্কোপ, দূরবীন বা এ ধরনের দৃষ্টিসহায়ক যন্ত্রের মাধ্যমে চাঁদ দেখেন, তাহলে তার চাঁদ দেখার বিষয়টি শরীয়তসম্মতভাবে গ্রহণযোগ্য হবে। কারণ এসব যন্ত্র মানুষের চোখের পরিবর্তে স্বাধীনভাবে চাঁদ দেখছে না; বরং মানুষের চোখকে অধিক তীক্ষ্ণ ও শক্তিশালী করে, ফলে এর মাধ্যমে দেখা মূলত মানুষের চোখ দিয়েই দেখা।
সুতরাং, যখন শরয়ি হুকুমের ভিত্তি মানুষের চোখে চাঁদ দেখা পাওয়া গেল, তখন এমন যন্ত্রের মাধ্যমে চাঁদ দেখা, যা মানুষের দৃষ্টিকে তীক্ষ্ণ করে, তার ওপর ভিত্তি করে নতুন মাসের শুরু হওয়ার বিধানও সাব্যস্ত হবে।
অতএব, দূরবীন, টেলিস্কোপ ও অনুরূপ দৃষ্টিসহায়ক আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে চাঁদ দেখা শরীয়তসম্মতভাবে গ্রহণযোগ্য। তবে শুধু জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব, কোনো সফটওয়্যারের তথ্য বা চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাব্যতা জানা তা বাস্তবে চাঁদ দেখার সমতুল্য নয়।
(بدائع: کتاب النکاح، فصل فی بیان المحرمات ج نمبر س ص نمبر ۲۲۴، مكتبة ومطبعة مصطفلى البابي الحلبي)
"النظر من وراء الزجاج إلى الفرج محرم، بخلاف النظر في المرآة. ولو كانت في الماء فنظر فيه فرأى فرجما فيه ثبتت الحرمة، ولو كانت على الشط فنظر في الماء فرأى فرجها لا يحرم ، كان العلة والله أعلم أن المرئي في المرآة مثاله لا هو، وبهذا علموا الحنث فيما إذا حلف لا ينظر إلى وجه فلان فنظره في المرآة أو الماء، وعلى هذا فالتحريم به من وراء الزجاج بناء على نفوذ البصر منه فيرى نفس المرئي، بخلاف المرآة والماء. وهذا ينفي كون الإبصار من المرآة ومن الماء بواسطة انعكاس الأشعة وإلا لرآء بعينه بل بانطباع مثل الصورة فيها، بخلاف المرئي في الماء لأن البصر ينفذ فيه إذا كان صافيا فيرى نفس ما فيه، وإن كان لا يراه على الوجه الذي هو عليه، ولهذا كان له خيار إذا اشترى سمكة رآها في ماء بحيث تؤخذ منه بلا حيلة وتحقيق سبب اختلاف المرئي فيه في فن آخر."
(امداد الفتاوی جدید ، جلد 4، ص 191)
"سوال: اس سال ایک شخص نے 29 تاریخ کو دور بین کے ذریعہ عید الفطر کا چاند دیکھا ہے تو کیا یہ رویت معتبر ہو گی یا نہیں؟
جواب : دوربین کے ذریعہ محض آنکھ کی روشنی میں اضافہ ہوتا ہے اور دیکھنا آنکھ ہی کے ذریعہ ہوتا ہے، لہذا اس کا حکم چشمہ کے مانند ہو گا اور اس پر رویت جس پر احکام کے جواب کا مدار ہے، صادق آتی ہے، لہذا یقینی طور پر یہ رویت صحیح، معتبر اور احکام کی بنیاد ہو گی، تاہم اگر دلائل فن سے یہ امر ثابت ہو جائے کہ اس دور بین کی خاصیت یہ ہے کہ چاند افق کے نیچے ہونے کے باوجود اس (دوربین) کے ذریعہ نظر آجاتا ہے، حتی کہ سورج افق میں طلوع نہ ہونے کے باوجود اس میں نظر آجاتا ہے تو ایسی صورت میں دور بین کے ذریعہ رویت معتبر اور صحیح نہ ہو گی لیکن ایسا ہے نہیں، اس لیے دور بین سے چاند دیکھنا چشمہ کے ذریعہ چاند دیکھنے کے مانند ہے۔"
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
আব্দুল কাইয়ুম
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১