মুসাফির ইমাম যদি কসর না করে পূর্ণ নামাজ পড়ায় তাহলে সকলের নামাজের বিধান
প্রশ্নঃ ১৬৩৬৭৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, কটা পাঞ্জেগানা মসজিদে মুসাফির অবস্থায় ইমাম ছিলাম এবং হানাফি মাজহাবে ইমামের কসর করতে হয় এটা জানতাম। কিন্তু মুসল্লীগণ ভুল বুঝতে পারে ভেবে ৪ রাকাত নামাজগুলো কসর না করে ৪ রাকাতই পড়িয়েছি। এখন আমার ও মুসল্লিদের নামাজের ব্যাপারে হুকুম কী?
৭ আগস্ট, ২০২৬
দেলদুয়ার
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
কোনো মুসাফির ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কিংবা ভুলবশত দুই রাকাতের জায়গায় চার রাকাত পড়ে নেন এবং দ্বিতীয় রাকাতে (প্রথম) বৈঠক করেন, তবে তার ফরজ আদায় হয়ে যাবে এবং শেষ দুই রাকাত নফল হয়ে যাবে। অবশ্য যদি তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটি করেন, তাহলে নামাজ মাকরুহে তাহরিমি হবে এবং তিনি গুনাহগার হবেন। আর যদি ভুলবশত এমনটি হয়ে থাকে, তবে (নামাজের শেষে) সাহু সেজদা (سجدۂ سہو) করা ওয়াজিব হবে।
যেমনটি (مراقی الفلاح) গ্রন্থে রয়েছে:
”اذا اتم الرباعیۃ والحال انہ قعد القعود الاول قدر التشھد صحت صلاتہ لوجود الفرض فی محلہ وھو الجلوس علی الرکعتین وتصیر الاخریان نافلۃ لہ مع الکراھۃ لتاخیر الواجب وھو السلام عن محلہ ان کان عامدا فان کان ساھیا یسجد للسھو
“অর্থ: "যখন মুসাফির চার রাকাত পূর্ণ করে নিলেন এই অবস্থায় যে, তিনি প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদ পরিমাণ বসেছিলেন, তখন তার নামাজ সহিহ (শুদ্ধ) হয়ে যাবে। কারণ ফরজ—অর্থাৎ দুই রাকাতের পর বসা—তার নিজস্ব স্থানে পাওয়া গেছে। আর শেষ দুই রাকাত তার জন্য নফল হয়ে যাবে। (তবে) যদি তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটি করে থাকেন, তাহলে ওয়াজিব অর্থাৎ সালামকে তার নির্দিষ্ট স্থান থেকে বিলম্ব করার কারণে নামাজ মাকরুহ হবে। আর যদি ভুলবশত হয়ে থাকে, তবে তিনি সাহু সেজদা করবেন।
মারাকিল ফালাহ, পৃষ্ঠা ২২২, মাকতাবাতুল মদিনা, করাচি)
মুসাফির ইমাম ইচ্ছাকৃতভাবে কিংবা ভুলবশত চার রাকাতই পড়িয়ে থাকুন না কেন—উভয় অবস্থাতেই শেষ দুই রাকাতে যেসকল মুকিম (স্থায়ী বাসিন্দা) মুক্তাদি তাঁর ইকতিদা (অনুসরণ) করেছে, তাদের নামাজ বাতেল (নষ্ট) হয়ে যাবে। কেননা, নফল নামাজ আদায়কারীর পেছনে ফরজ নামাজ আদায়কারীর নামাজ হয় না।
আল্লামা ইবনে আবিদিন শামী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলেন:
”لو اقتدى مقيمون بمسافر وأتم بهم بلا نية إقامة وتابعوه فسدت صلاتهم لكونه متنفلا في الأخريين
“অর্থ: "যদি মুকিম মুক্তাদিগণ কোনো মুসাফিরের ইকতিদা করে, আর মুসাফির ইমাম ইকামতের নিয়ত ছাড়াই তাদের পূর্ণ নামাজ পড়িয়ে দেন এবং মুক্তাদিরাও তাঁর অনুসরণ করে, তবে তাদের নামাজ ফাসেদ (নষ্ট) হয়ে যাবে। কারণ, মুসাফির ইমাম শেষ দুই রাকাতে নফল আদায়কারী।
"(রদ্দুল মুহতার, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৯৫, মুদ্রিত: কোয়েটা, পাকিস্তান)
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার নামাজ আদায় হয়ে গেলেও মুকিম মুসল্লিদের নামাজ নষ্ট হয়ে গেছে। সেই নামাজগুলো পুণরায় পড়তে হবে।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১