সেলুনে চুল কাটা এবং ঘাড় ও কলির পশম ছাঁটার শরয়ী বিধান
প্রশ্নঃ ১৬৩১৫৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, সেলুনে চুল কাটার হুকুম কি? ঘাড় কলি চাছা যাবে কি না? অনেক মুফতি সাহেব বলেন সেলুনে চুল কাটা হারাম
২৯ জুলাই, ২০২৬
JHCC+F৬
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সেলুনে গিয়ে চুল কাটা মূলত জায়েয। তবে চুল কাটার পদ্ধতি অবশ্যই শরীয়তসম্মত হতে হবে।
যেমন মাথার কিছু অংশের চুল কেটে কিছু অংশ রেখে দেওয়া জায়েজ নেই। এভাবে চুল কাটতে হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে।
হাদীসে এসেছে:
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ المُثَنَّى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ: «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنِ القَزَعِ»
অর্থ: হযরত ইবনে উমর (রাযি.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) 'ক্বাযা' করতে (অর্থাৎ মাথার কিছু অংশের চুল মুড়ে ফেলা ও কিছু অংশে চুল রেখে দেয়া) নিষেধ করেছেন।
— [সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৫৯২১]
(হাদীসের লিংক: https://muslimbangla.com/hadith/5497)
অনুরূপভাবে কাফের, ফাসিক বা নাস্তিকদের অনুকরণ করে তাদের মতো চুল কাটাও জায়েজ নেই। হাদীসে এর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
হাদীসে এসেছে:
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ ثَابِتٍ، حَدَّثَنَا حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي مُنِيبٍ الْجُرَشِيِّ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ"
অর্থ: উসমান ইবনে আবি শাইবা (রাহ.) .... ইবনে উমর (রাযি.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি কোনো কওমের (সম্প্রদায়ের) অনুসরণ-অনুকরণ করবে, সে তাদের দলভুক্ত হবে।
— [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ৪০৩১]
(হাদীসের লিংক: https://muslimbangla.com/hadith/18336)
মাথার চুল কাটার সময় সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতার খাতিরে কানের পাশের কলি ও ঘাড়ের পশম ছাঁটতে কোনো সমস্যা নেই। তবে খেয়াল রাখতে হবে, কলি বা কানের পাশের চুল এত বেশি পরিমাণ কাটা যাবে না যা হাদীসে নিষিদ্ধ 'ক্বাযা'-এর আওতায় পড়ে যায় (অর্থাৎ মাথার কিছু অংশ কাটা ও কিছু অংশ রেখে দেওয়ার শামিল হয়ে নিষিদ্ধের আওতাভুক্ত হয়)।
তবে কোনো কোনো ফুকাহায়ে কেরাম শুধুমাত্র ঘাড়ের পশম আলাদাভাবে কাটাকে মাকরূহে তানযীহী তথা অনুত্তম বলেছেন। তবে মাথার চুল কাটার সময় সৌন্দর্যের তাগিদে মাথার সাথে ঘাড়ের পশম কাটতে কোনো সমস্যা নেই। আর অনেক ফুকাহায়ে কেরামের মতে শুধু ঘাড়ের পশম কাটাতেও কোনো বাধা নেই।
এই বিষয়ে ফিকহী কিতাবসমূহের দলীল ও ইবারতসমূহ নিচে উল্লেখ করা হলো:
حَدثنِي مُحَمَّد قَالَ: أَخْبرنِي مخلد قَالَ: أَخْبرنِي ابْن جريج قَالَ: أَخْبرنِي عبيد الله بن حَفْص أَن عمر بن نَافِع أخبرهُ عَن نَافِع مولى عبد الله أَنه سمع ابْن عمر رَضِي لله عَنْهُمَا يَقُول: سَمِعت رَسُول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم َينْهَى عَن القزع۔ قَالَ عبيد الله: قلت: وَمَا القزع؟ فَأَشَارَ لنا عبيد الله، قَالَ: إِذا حلق الصَّبِي وَترك هَهُنَا شَعْرَة وَهَهُنَا وَهَهُنَا فَأَشَارَ لنا عبيد الله إِلَى ناصيته وجانبي رَأسه، قيل لِعبيد الله: فالجارية والغلام؟ قَالَ: لَا أَدْرِي، هَكَذَا قَالَ الصَّبِي، قَالَ عبيد الله: وعاودته فَقَالَ: أما الْقِصَّة والقفا للغلام فَلَا بَأْس بهما، وَلَكِن القزع أَن يتْرك بناصيته شعر وَلَيْسَ فِي رَأسه غَيره، وَكَذَلِك شقّ رَأسه هَذَا وَهَذَا) ۔۔۔ قَالَ الْكرْمَانِي: وَلَا شكّ أَنه ظَاهر فِي الْغُلَام، وَيحْتَمل أَن يُقَال: انه فعيل يَسْتَوِي فِيهِ المذكرة والمؤنث أَو هُوَ للذات الَّذِي لَهُ الصِّبَا، قَوْله: وعاودته أَي عمر بن نَافِع فَقَالَ: أما الْقِصَّة أَي أما حلق الْقِصَّة وَشعر الْقَفَا للغلام خَاصَّة فَلَا بَأْس بهما، وَلَكِن القزع غير ذَلِك وَبَينه بقوله: أَن يتْرك بناصيته شعر إِلَى آخِره والقصة بِضَم الْقَاف وَتَشْديد الصَّاد الْمُهْملَة وَقَالَ ابْن التِّين: هِيَ بِفَتْح الْقَاف وَقيل: الضَّم هُوَ الصَّوَاب وَالْمرَاد بِهِ هُنَا شعر الصدغين وَالْمرَاد بالقفا شعر الْقَفَا وَهُوَ مَقْصُور يكْتب بِالْألف وَرُبمَا مد فَإِن قلت: مَا الْحِكْمَة فِي النَّهْي عَن القزع؟ قلت: تَشْوِيه الْخلقَة، وَقيل: زِيّ الْيَهُود وَقيل: زِيّ أهل الشَّرّ والدعارة وَقَالَ النَّوَوِيّ فِي شرح مُسلم: أجمع الْعلمَاء على كَرَاهَة القزع إِذا كَانَ فِي مَوَاضِع مُتَفَرِّقَة إِلَّا أَن يكون لمداواة وَنَحْوهَا وَهِي كَرَاهَة تَنْزِيه، وَقَالَ الْغَزالِيّ فِي الْاحْيَاء: لَا بَأْس بحلق جَمِيع الرَّأْس لمن أَرَادَ التَّنْظِيف وَلَا بَأْس بِتَرْكِهِ لمن أَرَادَ أَن يدهن ويترجل وَادّعى ابْن عبد الْبر الْإِجْمَاع على إِبَاحَة حلق الْجَمِيع وَهُوَ رِوَايَة عَن أَحْمد وروى عَنهُ أَنه مَكْرُوه؛ لما روى عَنهُ أَنه من وصف الْخَوَارِج۔
[عمدة القاري شرح صحيح البخاري: ২২/ ৫৭]
عن عمر بن الخطاب قال: «نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن حلق القفا إلا للحجامة» . رواه الطبراني في الصغير والأوسط، وفيه سعيد بن بشير، وثقه شعبة وغيره، وضعفه ابن معين وغيره، وبقية رجاله رجال الصحيح.
[مجمع الزوائد ومنبع الفوائد: ۵/ ۱۶۹]
يكره القزع وهو أن يحلق البعض ويترك البعض قطعا مقدار ثلاثة أصابع كذا في الغرائب. وعن أبي حنيفة - رحمه الله تعالى - يكره أن يحلق قفاه إلا عند الحجامة كذا في الينابيع.
[الفتاوى الهندية: ۵/ ۳۵۷]
قَالَ أَبُو عُمَرَ: قَدْ كَانَ مَالِكٌ رَحِمَهُ اللَّهُ يَكْرَهُ حَلْقَ الْقَفَا وَمَا أَدْرِي إِنْ كَانَ كَرِهَهُ مَعَ حَلْقِ الرَّأْسِ أَوْ مُفْرَدًا وَهَذَا لَيْسَ مِنْ شَرَائِعِ الْأَحْكَامِ وَلَا مِنَ الْحَلَالِ وَالْحَرَامِ وَالْقَوْلُ فِي حَلْقِ الرَّأْسِ يُغْنِي عَنِ الْقَوْلِ فِي حَلْقِ الْقَفَا وَالْقَوْلُ فِي ذَلِكَ وَاحِدٌ عِنْدَ الْعُلَمَاءِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ وَقَدْ يَجُوزُ أَنْ تَكُونَ كَرَاهِيَةُ مَالِكٍ لِحَلْقِ الْقَفَا هُوَ أَنْ يُرْفَعَ فِي حَلْقِهِ حَتَّى يُحْلَقَ بَعْضُ مُؤَخَّرِ الرَّأْسِ عَلَى مَا تَصْنَعُهُ الرُّومُ وَهَذَا تَشَبُّهٌ لِأَنَّا قَدْ رُوِّينَا عَنْ مَالِكٍ أَنَّهُ قَالَ أَوَّلُ مَنْ حَلَقَ قَفَاهُ عِنْدَنَا دُرَاقِسُ النَّصْرَانِيُّ قال أبو عمر قد حلق الناس رؤوسهم وَتَقَصَّصُوا وَعَرَفُوا كَيْفَ ذَلِكَ قَرْنًا بَعْدَ قَرْنٍ مِنْ غَيْرِ نَكِيرٍ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ۔
[التمهيد لما في الموطأ من المعاني والأسانيد: ۶/ ۷۹]
فَهَلْ يُحْلَقُ مَوْضِعُ الْمَحَاجِمِ مِنْ الْقَفَا وَوَسَطِ الرَّأْسِ فَقَالَ: إنِّي لَأَكْرَهَهُ وَمَا أَرَاهُ حَرَامًا وَمَا يَمْنَعُهُ أَنْ يَجْعَلَ الْخِطْمِيُّ وَيَحْتَجِمَ وَفِي كِتَابِ الْحَجِّ قَالَ الْقَاضِي أَبُو الْوَلِيدِ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - وَعِنْدِي أَنَّ هَذِهِ الْكَرَاهِيَةَ إنَّمَا تَنْصَرِفُ إلَى حَلْقِ الْقَفَا وَكَانَ مَالِكٌ - رَحِمَهُ اللَّهُ - يَكْرَهُهُ؛ لِأَنَّهُ لَمْ يَكُنْ مِنْ زِيِّ النَّاسِ وَكَانَ مَالِكٌ يَعْتَمِدُ فِي الزِّيِّ وَالْهَيْئَةِ عَلَى مَا أَدْرَكَ عُلَمَاءَ أَهْلِ الْمَدِينَةِ؛ لِأَنَّهُمْ أَخَذُوا ذَلِكَ عَنْ سَلَفِهِمْ مِنْ الصَّحَابَةِ الَّذِينَ كَانُوا يَقْتَدُونَ بِالنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفِي الْبَلَدِ الَّذِي كَانَ فِيهِ وَفِيهِ تُوُفِّيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمْ يَدْخُلْ عَلَيْهِمْ دَاخِلَةٌ فِي الزِّيِّ وَاللِّبَاسِ فَهُمْ الَّذِينَ كَانُوا فِي الْبِلَادِ الَّذِينَ افْتَتَحُوهَا فَرُبَّمَا تَعَلَّقُوا بِبَعْضِ زِيِّهِمْ وَرُبَّمَا أَخَرَجَ إلَى ذَلِكَ اخْتِلَافُ هَوَاءٍ فِي الْبِلَادِ، وَاَللَّهُ أَعْلَمُ وَأَحْكَمُ.
[المنتقى شرح الموطإ: ۷/ ۲۹۸]
گردن دوسرا عضو ہے ، سر کی حد سے نیچے کے بال گردن کے منڈوانے درست ہیں، بعض سر کے بال لینے اور بعض چھوڑنے مکروہ ہیں تحریماً۔
گردن کے بال منڈانے اگرچہ سر کے نہ منڈوائے درست ہیں، البتہ بہتر نہیں ہے۔
[فتاوی رشیدیہ، ص: ۵۷۷]
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী আবু সাঈদ
উস্তাজ, ইদারাতুত্ তাখাসসুস ফিল উলূমিল ইসলামিয়া, আজিমপুর
উস্তাজ, ইদারাতুত্ তাখাসসুস ফিল উলূমিল ইসলামিয়া, আজিমপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১