রাগের মাথায় তালাক দিলেও তালাক কার্যকর হয়ে যায়
প্রশ্নঃ ১৬১০৫১. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, জনাব আমি সন্ধ্যাবেলায় বাড়িতে গিয়ে দেখি বাড়িতে গন্ডগোল চলতেছে তখন আমি রাগের মাথায় না বুঝে স্ত্রীকে বলি যে তুই তালাক তালাক তালাক উল্লেখ্য এই লোকটির রাগ হয়ে গেলে তার সেন্স ঠিক থাকে না এবং এবং নিজের ভালো মন্দ বোঝে না এবং অন্যদের তুলনায় তার বুঝ শক্তি একটু কম
১৩ জুলাই, ২০২৬
৩৩Q৪+Q৪P
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রশ্নোক্ত সূরতে স্বামীর উচ্চারিত “তুই তালাক, তালাক, তালাক” কথার দ্বারা স্ত্রীর ওপর তিন তালাক পতিত হয়ে যাবে। ফলে স্ত্রী স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যাবে। এখন রুজুর মাধ্যমে একত্রে থাকা বৈধ হবে না।
তবে যদি তারা পুনরায় একসঙ্গে সংসার করতে চায়, তাহলে বর্তমান অবস্থায় আবার বিবাহ করা বৈধ হবে না।
অবশ্য যদি উক্ত স্ত্রী অন্যত্র বৈধভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়, অতঃপর দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের পর যদি তিনি স্বেচ্ছায় তালাক দেন—তাহলে ইদ্দত পালন শেষে প্রথম স্বামীর সাথে পুনরায় নিকাহ করা বৈধ হবে।
উল্লেখ্য, শুধু “রাগের মাথায় ছিলাম” বা “ভালো-মন্দ বুঝিনি” বললেই তালাক অকার্যকর হয়ে যায় না। কারণ রাগের সময় প্রায় প্রত্যেক মানুষেরই স্বাভাবিক সংযম কমে যায়। যেমন, রাগের বশে কেউ কাউকে মারধর করে, গালমন্দ করে, ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করে বা কারও ক্ষতি করে। পরে যদি সে বলে, “আমি রাগের কারণে বুঝিনি”, তাহলে এ কথা বলে দায়সারা হয়ে যায় না। অনুরূপ তালাকের ক্ষেত্রেও একই হুকুম।
হাদীস শরীফে এসেছে,
ثَلاثٌ جِدُّهُنَّ جِدٌّ وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ : النِّكَاحُ ، وَالطَّلاقُ ، وَالرَّجْعَةُ
তিনটি বিষয় এমন রয়েছে যা গোস্বায় হোক বা হাসি ঠাট্টায় হোক সর্বাবস্থায় কার্যকরী হয়ে থাকে। বিবাহ, তালাক ও রজয়াত। (আবু দাউদ ২১৯৪ তিরমিযি ১১৮৪)
("القرآن الكريم"في سورة البقرة رقم الآية 229-230)
اَلطَّلَاقُ مَرَّتٰنِ فَاِمۡسَاکٌۢ بِمَعۡرُوۡفٍ اَوۡ تَسۡرِیۡحٌۢ بِاِحۡسَانٍ
فَاِنۡ طَلَّقَہَا فَلَا تَحِلُّ لَہٗ مِنۡۢ بَعۡدُ حَتّٰی تَنۡکِحَ زَوۡجًا غَیۡرَہٗ ؕ
("صحيح البخاري" رقم الحديث 5261 في باب باب مَنْ أَجَازَ طَلاَقَ الثَّلاَثِ)
عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَجُلًا طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلاَثًا، فَتَزَوَّجَتْ فَطَلَّقَ، فَسُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَتَحِلُّ لِلْأَوَّلِ؟ قَالَ: «لاَ، حَتَّى يَذُوقَ عُسَيْلَتَهَا كَمَا ذَاقَ الأَوَّلُ»
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী তাওহীদুল ইসলাম
নায়েবে মুফতী, ফতোয়া বিভাগ
জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর
নায়েবে মুফতী, ফতোয়া বিভাগ
জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
সাম্প্রতিক প্রশ্নোত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১