চাঁদা আদায়ের হুকুম
প্রশ্নঃ ১৫৯৭৮১. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমরা একটা ইসলামি দল গঠন করেছি এবং নিয়ম করেছি যে প্রত্যেক সদস্যকে প্রতি মাসে 100 করে টাকা দিতে হবে। এতে একজন এসকাল করে বলেন এভাবে প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রতি মাসে 100 টাকা নেয়া জায়েজ নেই কারণ দান হয় স্বেচ্ছায় জোর করে নয় । এর সমাধান কি ? জানালে উপকৃত হব।
৩ জুলাই, ২০২৬
কুড়িগ্রাম
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
দলের জন্য চাঁদা নেওয়া কেবল তখনই জায়েজ বা বৈধ হবে যদি তা দাতার পূর্ণ সন্তুষ্টি ও স্বেচ্ছায় দেওয়া অনুদান বা দলীয় সদস্য ফি হয়ে থাকে।
পক্ষান্তরে, কোনো প্রকার ভয়ভীতি, জোর-জুলুম বা সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে চাঁদা আদায় করা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম ও কবিরা গুনাহ।
আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:
«يَآ أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا لَا تَأْكُلُوْا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلاَّ أَنْ تَكُوْنَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِّنْكُمْ»
‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের মধ্যে পরস্পরের ধনসম্পদ অন্যায়রূপে গ্রাস করো না। তবে যদি তা পরস্পরের সম্মতিক্রমে ব্যবসায়ের ভিত্তিতে হয়ে থাকে তা হলে তাতে কোন অসুবিধে নেই’’। (নিসা’ : ২৯)
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা খুৎবা দিতে গিয়ে বলেন:
وَإِنَّ اللهَ أَوْحَى إِلَيَّ أَنْ تَوَاضَعُوْا حَتَّى لَا يَفْخَرَ أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ، وَلَا يَبْغِيَ أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ.
‘‘আল্লাহ্ তা‘আলা এ মর্মে আমার নিকট ওহী পাঠিয়েছেন যে, তোমরা নম্র ও বিনয়ী হও; যাতে করে একের অন্যের উপর গর্ব করার পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় এবং একের অন্যের উপর অত্যাচার বা আক্রমণাত্মক আচরণ করার সুযোগ না আসে’’। (মুসলিম ২৮৬৫)
আর দীনের ফায়দা হয় এমন কাজে জনসাধারণকে দান অনুদানের উপর উদ্বুদ্ধ করে বা দাওয়াত করে তাদের কাছ থেকে চাঁদা কালেকশন করা যেতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্য বজায় রাখতে হবে, মানুষের বিরক্তির কারণ না হয় সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জামানায় সবচেয়ে সংকটময় যুদ্ধ ছিল তাবুকের যুদ্ধ। সেই গজওয়ার পূর্বে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গণ চাঁদা তুলেছেন।
وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَنْ يَحْفِرْ بِئْرَ رُومَةَ فَلَهُ الْجَنَّةُ ". فَحَفَرَهَا عُثْمَانُ، وَقَالَ : " مَنْ جَهَّزَ جَيْشَ الْعُسْرَةِ فَلَهُ الْجَنَّةُ ". فَجَهَّزَهُ عُثْمَانُ.
—সহীহ বুখারী, সাহাবায়ে কেরামের ফজিলত অধ্যায়ে হযরত ওসমান বিন আফফানের উপ অধ্যায়
كِتَابٌ : فَضَائِلُ أَصْحَابِ النَّبِيِّ | بَابٌ : مَنَاقِبُ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ.
আরেকবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের উদ্দেশ্যে বিশেষ নসিহত করার পর নারীদেরকে সদাকাহ করতে যেভাবে উৎসাহ দিয়েছেন হাদীস শরীফে তার বিস্তর ঘটনা এসেছে।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحِ بْنِ الْمُهَاجِرِ الْمِصْرِيُّ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ وَأَكْثِرْنَ الاِسْتِغْفَارَ فَإِنِّي رَأَيْتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ " . فَقَالَتِ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ جَزْلَةٌ وَمَا لَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ . قَالَ " تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ وَمَا رَأَيْتُ مِنْ نَاقِصَاتِ عَقْلٍ وَدِينٍ أَغْلَبَ لِذِي لُبٍّ مِنْكُنَّ " . قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا نُقْصَانُ الْعَقْلِ وَالدِّينِ قَالَ " أَمَّا نُقْصَانُ الْعَقْلِ فَشَهَادَةُ امْرَأَتَيْنِ تَعْدِلُ شَهَادَةَ رَجُلٍ فَهَذَا نُقْصَانُ الْعَقْلِ وَتَمْكُثُ اللَّيَالِيَ مَا تُصَلِّي وَتُفْطِرُ فِي رَمَضَانَ فَهَذَا نُقْصَانُ الدِّينِ " .
وَحَدَّثَنِيهِ أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ بَكْرِ بْنِ مُضَرَ، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ .
১৪৫। মুহাম্মাদ ইবনে রুম্হ ইবনে মুহাজির আল মিসরি (রাহঃ) ... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ হে রমণীগণ! তোমরা দান-খয়রাত করতে থাক এবং বেশি করে ইস্তিগফার কর। কেননা আমি দেখেছি যে, জাহান্নামের অধিবাসীদের অধিকাংশই নারী। জনৈকা বুদ্ধিমতী মহিলা প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসুল! জাহান্নামে আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণ কি? বললেন, তোমরা বেশি বেশি অভিসম্পাত করে থাকো এবং স্বামীর প্রতি (অকৃতজ্ঞতা) প্রকাশ করে থাকো। আর দ্বীন ও জ্ঞান-বুদ্ধিতে ক্রটিপূর্ণ কোন সম্প্রদায়, জ্ঞানীদের উপর তোমাদের চেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী আর কাউকে আমি দেখিনি।
প্রশ্নকারিনী জিজ্ঞাসা করল, হে আল্লাহর রাসুল! জ্ঞান-বুদ্ধি ও দ্বীনে আমাদের কমতি কিসে? তিনি বললেনঃ তোমাদের জ্ঞান-বুদ্ধির ক্রটি হলো দু-জন স্ত্রীলোকের সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান; এটাই তোমাদের বুদ্ধির ক্রটির প্রমাণ। স্ত্রীলোক (প্রতিমাসে) কয়েকদিন নামায থেকে বিরত থাকে আর রমযান মাসে রোযা ভঙ্গ করে; (ঋতুবতী হওয়ার কারণে) এটাই দ্বীনের কমতি।
আবু তাহির ... ইবনে হাদ-এর সূত্রে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
—সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৪৫ (আন্তর্জাতিক নং ৭৯)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
শফিকুল ইসলাম হাটহাজারী
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১