কুরআনের দাওয়াত পড়তে গিয়ে কিছু অংশ থেকে যায়, এটার জন্য কি করণীয়
প্রশ্নঃ ১৫৪৪০৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি গায়রে হাফেজ, অনেক সময় কুরআনের দাওয়াত পড়তে গিয়ে কিছু অংশ থেকে যায়, কারণ দাওয়াতে অনেকেই হাফেজ থাকে তারা আগে পড়ে ফেলে আর গায়রে হাফেজদের কিছু অংশ রয়ে যায়, এটার জন্য কি করণীয়..! পরবর্তী পড়ে দিতে হবে.? আর না পড়লে কোন সমস্যা হবে কিনা..?
২২ মে, ২০২৬
Kakara
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রথমত যাদেরকে কুরআন খতমের জন্য কিংবা অন্য কোন দাওয়াত পড়ানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হয় শরীয়তের দৃষ্টিতে তারা হলেন আজীর।
কাজের সময় বজায় রাখা, কাজের মান রক্ষা এবং সততা বজায় রাখা আজীরের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ ওই শ্রমিককে ভালোবাসেন, যে সুন্দরভাবে কাজ সম্পন্ন করে।’ (সহিহুল জামে ১৮৯১)।
সুতরাং দাওয়াত পড়তে গেলে নিজের কাছে যতটুকু তিলাওয়াতের দায়িত্ব থাকবে, ততটুকু পূর্ণ করা জরুরী। এতে গাফলতি করলে খেয়ানত কারী হিসেবেই গণ্য হবে। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিলাওয়াত শেষ করা না যায়, তাহলে অন্যদেরকে দিয়ে হলেও পরিপূর্ণ করতে হবে। অথবা পরবর্তীতে নিজেকেই বাকিটুকু পূর্ণ করে নিতেই হবে।
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন,
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَوۡفُوۡا بِالۡعُقُوۡدِ ۬ؕ اُحِلَّتۡ لَکُمۡ بَہِیۡمَۃُ الۡاَنۡعَامِ اِلَّا مَا یُتۡلٰی عَلَیۡکُمۡ غَیۡرَ مُحِلِّی الصَّیۡدِ وَاَنۡتُمۡ حُرُمٌ ؕ اِنَّ اللّٰہَ یَحۡکُمُ مَا یُرِیۡدُ
(আল মায়িদাহ-১)
হাদিসে আছে,
وَعَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ثَلَاثَةٌ لَهُمْ أَجْرَانِ: رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ آمَنَ بِنَبِيِّهِ وَآمَنَ بِمُحَمَّدٍ وَالْعَبْدُ الْمَمْلُوكُ إِذَا أَدَّى حَقَّ اللَّهِ وَحَقَّ مَوَالِيهِ وَرَجُلٌ كَانَتْ عِنْدَهُ أَمَةٌ يَطَؤُهَا فَأَدَّبَهَا فَأَحْسَنَ تَأْدِيبَهَا وَعَلَّمَهَا فَأَحْسَنَ تَعْلِيمِهَا ثُمَّ أَعْتَقَهَا فَتَزَوَّجَهَا فَلَهُ أَجْرَانِ
১১। হযরত আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন, তিন জনের জন্য দ্বিগুণ প্রাপ্য। এক, যে আহলে কিতাব, নিজ নবীর উপর ঈমান এনেছে এবং মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর উপরও ঈমান এনেছে। দুই, যে অধীনস্ত দাস, আল্লাহর হক ও তার মনিবের হক আদায় করেছে। তিন, যে তার ক্রীতদাসীর সাথে সঙ্গম করেছে, অতঃপর তাকে উত্তমরূপে সদাচার শিখিয়েছে, উত্তম শিক্ষাদান করেছে। তারপর তাকে মুক্ত করে দিয়ে বিবাহ করেছে। অতএব তার প্রাপ্য দ্বিগুণ। (বুখারী-মুসলিম)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
শফিকুল ইসলাম হাটহাজারী
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১