মসজিদের চাঁদা আদায়ে কুরবানীর গোশতকে ঢাল বানানোর অপকৌশল!!
প্রশ্নঃ ১৪৯৯১২. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আসসালামুআলাইকুম। আমাদের মসজিদের মুসল্লীরা মসজিদের চাঁদা ঠিকমতো দিতে চায়না তাই মসজিদ কমিটির লোক যারা কোরবানি দেয় তাদেরকে কুরবানীর একটি অংশ মসজিদে দেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করে অতঃপর যারা চাঁদা দেয় তাদেরকে কুরবানির মাংস দেওয়া হয় এরপর যদি কিছু বেঁচে থাকে তাহলে বাকিদের দেওয়া হয়। এমনটি করা কি ঠিক হবে?
১৯ মে, ২০২৬
গাজীপুর
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
মসজিদ আল্লাহ তায়ালার ঘর। সমাজের মুসলিমদের জন্য আবশ্যক হলো, যেভাবে তারা নিজেদের ব্যক্তিগত কাজগুলো একনিষ্ঠতার সাথে করেন তেমনিভাবে মসজিদের উন্নয়ন, সংরক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজগুলোও তারা স্বতঃস্ফূর্ততার সাথে করবেন। মসজিদের চাঁদা আদায় করার জন্য কুরবানীর গোশতকে মাধ্যম বানানো কয়েকটি কারণে সঙ্গত নয়।
১. কুরবানীর বণ্টন নীতি ব্যাহত হওয়া: কুরবানীর গোশত বণ্টনের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য গরীব, মিসকিন ও আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে তা বিলিয়ে দেওয়া। কিন্তু এখানে বণ্টন ব্যবস্থাটিকে মসজিদের চাঁদা আদায় বা না আদায়ের সাথে সম্পৃক্ত করে ফেলা হচ্ছে (যারা চাঁদা দেয় তাদের আগে দেওয়া, না দিলে পরে বা বেঁচে থাকলে দেওয়া)। এর ফলে যারা অভাবী অথচ মসজিদের চাঁদা দিতে পারছেন না, তারা তাদের প্রাপ্য হক থেকে বঞ্চিত বা বৈষম্যের শিকার হতে পারেন।
২. মানসিক চাপ ও লৌকিকতার আশঙ্কা: যখন বলা হয় "যারা চাঁদা দেবে, তাদের আগে গোশত দেওয়া হবে", তখন মানুষের মনে একধরণের সামাজিক চাপ তৈরি হয়। অনেকে আল্লাহর সন্তুষ্টির চেয়ে লোকলজ্জার ভয়ে বা গোশত পাওয়ার উদ্দেশ্যে মসজিদের চাঁদা দিতে পারেন, যা দানের সওয়াবকে নষ্ট করে দেয়।
৩. ইবাদতকে লেনদেনের রূপ দেওয়া: এই প্রক্রিয়ায় পরোক্ষভাবে হলেও গোশত পাওয়া বা না পাওয়াটা চাঁদা দেওয়ার একটি বিনিময় হিসেবে প্রকাশ পায়। ফিকাহর পরিভাষায়, ইবাদতের অংশকে কোনো দুনিয়াবী লেনদেন বা শর্তের সাথে যুক্ত করা মাকরূহে তাহরীমী (গুনাহর কাজ)।
"أَلَا لَا تَظْلِمُوا، أَلَا لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ إِلَّا بِطِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ."
https://muslimbangla.com/hadith/1628259
في البحر الرائق: جـــ 8/326 (دار الكتب العلمية، بيروت): "وَيَهَبُ مِنْهَا مَا شَاءَ لِلْغَنِيِّ وَالْفَقِيرِ وَالْمُسْلِمِ وَالذِّمِّيِّ... وَلَا يَجُوزُ بَيْعُ لَحْمِهَا وَلَا جِلْدِهَا بِشَيْءٍ يُسْتَهْلَكُ... لِأَنَّهُ فِي مَعْنَى الْبَيْعِ."
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১