রুকয়া কি? ও রুকয়ার প্রয়োজনীয়তা, রুকয়া জন্য ব্যক্তি নির্বাচন
প্রশ্নঃ ১৪৬৭১৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, কিভাবে বুঝবো রুকিয়া করতে হবে???
কোন কোন লক্ষণের মাধ্যমে টা বুঝবো??
রুকীয়া করতে হইলে এমন বিশ্বস্ত লোক কিভাবে তা বুঝবো সে সত্য কিনা??
২৮ মার্চ, ২০২৬
বড় আলমপুর
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন!
“رقیہ” (রুকয়া) আরবি ভাষায় ঝাড়ফুঁঙ্ক বা দম দেওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত আল্লাহ তাআলার নাম এবং কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত দোয়া (أدعية مأثورة) দ্বারা করা হয়। রোগীর নিজের ওপর পড়া হতে পারে বা কেউ অন্য ব্যক্তি রোগীর জন্য রুকয়া করতে পারে। এ বিষয়ে শরীয়তে কোনো নিষেধ নেই।
তবে রুকয়া বা তাবিজের মাধ্যমে চিকিৎসা করার জন্য কিছু শর্ত মেনে চলা জরুরি:
১. তাবিজ বা রুকয়ার অর্থ ও ব্যাখ্যা জানা থাকা আবশ্যক।
২. এতে কোনো শির্কী শব্দ ব্যবহার করা যাবে না।
৩. এগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও আত্মমুখী শক্তিশালী মনে করা যাবে না।
৪. যদি অন্য কারো মাধ্যমে চিকিৎসা করানো হয়, সেই ব্যক্তি অবশ্যই অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত হতে হবে, যেন কেউ প্রতারণা না করে।
অতএব, যদি কোনো তাবিজ বা রুকয়া কোরআনের আয়াত, প্রচলিত দোয়া বা সঠিক শব্দ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়, এটি শরীয়তে গ্রহণযোগ্য। কারণ এর প্রকৃত অর্থ হলো একটি বৈধ উপায় বা ব্যবস্থা। কিন্তু যেসব তাবিজে শির্কী শব্দ, অজানা বা অগোছালো মন্ত্র লেখা হয় বা যার স্বয়ংসম্পূর্ণ কার্যকারিতা বিশ্বাস করা হয়, সেগুলোর ব্যবহার শরীয়তে অনুমোদিত নয়।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযি) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি নিজের বুঝমান সন্তানদের আল্লাহর ক্ষমতা ও মহিমার কথাগুলো শেখাতেন, আর যারা বুঝমান নয়, তাদের গলায় সেই কথাগুলো লিখে তাবিজের আকারে পরিয়ে দিতেন।
অতএব, শরীয়তে অনুমোদিত রুকয়া বা তাবিজ হলো সেইগুলো যা কোরআন ও হাদীসে বর্ণিত সঠিক দোয়া বা সঠিক শব্দের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং যার ব্যবহার শির্ক বা অজানা শক্তি বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে না।
রুকয়া করার প্রয়োজনীয়তা:
রুকয়া সাধারণত তখন করতে হয় যখন একজন ব্যক্তি শরীর বা মন সম্পর্কে অস্বাভাবিক সমস্যা অনুভব করে, যা সাধারণ চিকিৎসা বা দৈনন্দিন কারণে বোঝানো যায় না। এর মধ্যে পড়তে পারে হঠাৎ বা ধারাবাহিক অসুস্থতা, অজানা ভয়, দুঃস্বপ্ন, নামাজ বা কোরআন তিলাওয়াতে বাধা, অতিরিক্ত ওয়াসওয়াসা বা হঠাৎ রাগ ও আতঙ্ক। তবে সব সমস্যাই রুকয়া নয়; সাধারণ অসুস্থতা বা মানসিক চাপের জন্য প্রথমে চিকিৎসা বা উপযুক্ত পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশ্বস্ত রুকয়া করার ব্যক্তি নির্বাচন:
রুকয়া করার জন্য বিশ্বস্ত ও জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি নির্বাচন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ইসলামি নিয়ম মেনে জীবনযাপন করবে, নামাজ ও কোরআন তিলাওয়াতে নিয়ত থাকবে, রুকয়া করার অভিজ্ঞতা রাখবে, কোনো নাজায়েজ (কুরআন ও সুন্নাহর বাইরে) তাবিজ বা জাদু ব্যবহার করবে না এবং কমিউনিটিতে পরিচিত ও সত্ভাবে খ্যাত। এছাড়া সে রোগীকে ভয় দেখাবে না, ধৈর্য ও নম্রতার সঙ্গে সাহায্য করবে।
সতর্কতা ও করণীয়:
রুকয়া করার সময় অতিরিক্ত ভয় বা সন্দেহ এড়িয়ে চলা জরুরি। কেউ বলে আপনি শয়তানের প্রভাবে আক্রান্ত, তা সত্য কি না যাচাই করা প্রয়োজন। সবসময় কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে রুকয়া করা উচিত। সমস্যা থাকলে ধৈর্য, নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত এবং বিশ্বস্ত আলেম বা অভিজ্ঞ রুকয়া করার ব্যক্তির সহায়তা নিন, এতে শরীর, মন ও ইমানে শান্তি পাওয়া সম্ভব।
صحیح مسلم :
" عن عوف بن مالك الأشجعي، قال: كنا نرقي في الجاهلية، فقلنا: يا رسول الله! كيف ترى في ذلك؟ فقال: «اعرضوا علي رقاكم، لا بأس بالرقى مالم يكن فيه شرك»".
(4/ 1727، رقم الحدیث: 2200، باب لا باس بالرقی مالم یکن فیه شرک، ط:دار إحیاء التراث العربی)
سنن الترمذی :
"عن أبي سعيد الخدري قال: بعثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم في سرية فنزلنا بقوم، فسألناهم القرى فلم يقرونا، فلدغ سيدهم، فأتونا فقالوا: هل فيكم من يرقي من العقرب؟ قلت: نعم أنا، ولكن لا أرقيه حتى تعطونا غنماً، قالوا: فإنا نعطيكم ثلاثين شاةً، فقبلنا فقرأت عليه: الحمد لله سبع مرات، فبرأ وقبضنا الغنم، قال: فعرض في أنفسنا منها شيء، فقلنا: لا تعجلوا حتى تأتوا رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: فلما قدمنا عليه ذكرت له الذي صنعت، قال: «وما علمت أنها رقية؟ اقبضوا الغنم واضربوا لي معكم بسهم» : هذا حديث حسن صحيح".
( 2/26 باب ما جاء فی أخذ الأجر علی التعویذ، ط: قدیمی)
وفیہ أیضاً:
"عن ابن عباس قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعوذ الحسن والحسين يقول: «أعيذكما بكلمات الله التامة من كل شيطان وهامة، ومن كل عين لامة» ، ويقول: «هكذا كان إبراهيم يعوذ إسحاق وإسماعيل». حدثنا الحسن بن علي الخلال قال: حدثنا يزيد بن هارون، وعبد الرزاق، عن سفيان، عن منصور، نحوه بمعناه،: هذا حديث حسن صحيح".
(2/26 باب ما جاء فی الرقیة من العین، ط: قدیمی)
مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح :
"وأما ما كان من الآيات القرآنية، والأسماء والصفات الربانية، والدعوات المأثورة النبوية، فلا بأس، بل يستحب سواء كان تعويذاً أو رقيةً أو نشرةً، وأما على لغة العبرانية ونحوها، فيمتنع؛ لاحتمال الشرك فيها".
(7 / 2880، رقم الحدیث:4553، الفصل الثانی، کتاب الطب والرقی، ط: دارالفکر بیروت)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
শাহাদাত হুসাইন ফরায়েজী
মুফতী, ফাতাওয়া বিভাগ, মুসলিম বাংলা
লেখক ও গবেষক, হাদীস বিভাগ, মুসলিম বাংলা
খতীব, রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদ, ফেনী
মুফতী, ফাতাওয়া বিভাগ, মুসলিম বাংলা
লেখক ও গবেষক, হাদীস বিভাগ, মুসলিম বাংলা
খতীব, রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদ, ফেনী
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
সাম্প্রতিক প্রশ্নোত্তর
চার রাকাত বিশিষ্ট নফল বা সুন্নতে যায়েদা নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে তাশাহুদ পড়ার পর দরুদ শরীফ, দোয়ায়ে মাসুরা ও তৃতীয় রাকাতে দাঁড়ানোর পর ছানা পড়ার হুকুম
গৃহপালিত পশুতে কুরবানীর নিয়ত করার পর নিয়ত পরিবর্তন করা যাবে
নামাজে কেরাতের স্থানে ভুলে দোয়ায়ে মাসুরা পরে ফেললে করণীয় কি
কাজা রোজা ভেঙ্গে গেলে
টাকা আগে নিয়ে পণ্য পরে দেয়া কতটুকু শরীয়ত সম্মত?
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১