রমজানের শেষ দশকের গুরুত্বপূর্ণ আমলসমূহ
প্রশ্নঃ ১৪৪৯১১. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, রমজানের শেষ দশকের গুরুত্বপূর্ণ আমল কী জানতে ইচ্ছুক
১২ মার্চ, ২০২৬
Barthal
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
রমজানের শেষ দশকের গুরুত্বপূর্ণ আমলসমূহ
১. ইবাদতে পূর্ণ একাগ্রতা ও রাত জাগরণ
রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশ দিনে ইবাদতের জন্য যতটা পরিশ্রম ও চেষ্টা করতেন, অন্য কোনো সময়ে তা করতেন না। এ সময়ে সারা রাত জেগে ইবাদত, জিকির ও কুরআন তিলাওয়াত করা এবং নিজের পরিবারের সদস্যদেরও ইবাদতের জন্য জাগিয়ে দেওয়া এই দশকের অন্যতম প্রধান আমল।
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي يَعْفُورٍ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: «كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ العَشْرُ شَدَّ مِئْزَرَهُ، وَأَحْيَا لَيْلَهُ، وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ»
আলী ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রমযানের শেষ দশক আসত, তখন নবী (ﷺ) তাঁর লুঙ্গি কষে নিতেন (বেশী বেশী ইবাদতের প্রস্তুতি নিতেন) এবং রাত্রে জেগে থাকতেন ও পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নংঃ ১৮৯৭
২. ইতিকাফ করা
নবীজি (সা.) ইন্তেকাল পর্যন্ত প্রতি বছর শেষ দশ দিন মসজিদে ইতিকাফ করতেন। ইতিকাফ হলো দুনিয়ার সব ব্যস্ততা ছেড়ে নিজেকে আল্লাহর ঘরে আবদ্ধ রাখা। এর মূল উদ্দেশ্য হলো আত্মাকে দুনিয়াবি চিন্তা থেকে মুক্ত করে কেবল আল্লাহর আনুগত্যে নিয়োজিত করা। ইতিকাফের সময় কম আহার ও কম নিদ্রার মাধ্যমে ইবাদতে মনোযোগী হওয়া সুন্নাত।
وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، أَنَّ نَافِعًا، حَدَّثَهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ . قَالَ نَافِعٌ وَقَدْ أَرَانِي عَبْدُ اللَّهِ - رضى الله عنه - الْمَكَانَ الَّذِي كَانَ يَعْتَكِفُ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْمَسْجِدِ .
আবুত-তাহির (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রমযান মাসের শেয দশকে ইতিকাফ করতেন। নাফি (রাহঃ) বলেন, মসজিদের যে স্থানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইতিকাফ করতেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) তা আমাকে দেখিয়েছেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নংঃ ২৬৫২।
৩. সময়ের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করা
শেষ দশকের এক মুহূর্তও নষ্ট করা উচিত নয়। তাই আড্ডা, গল্পগুজব বা অপ্রয়োজনীয় কাজ এড়িয়ে ইবাদত, জিকির এবং আল্লাহর ধ্যানে মশগুল থাকা অত্যন্ত জরুরি।
৪. লাইলাতুল কদর তালাশ করা
শেষ দশকের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো লাইলাতুল কদর বা মহিমান্বিত রজনী, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এটি শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯তম রাতে) হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই এই রাতগুলোতে বিশেষ গুরুত্বের সাথে ইবাদত করা উচিত, যাতে এই মহা মূল্যবান রজনীর বরকত থেকে বঞ্চিত হতে না হয়।
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - أَنَّ رِجَالاً، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أُرُوا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْمَنَامِ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَرَى رُؤْيَاكُمْ قَدْ تَوَاطَأَتْ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ فَمَنْ كَانَ مُتَحَرِّيَهَا فَلْيَتَحَرَّهَا فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ " .
ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এর কতিপয় সাহাবীকে স্বপ্নে দেখান হল যে, (রমযানের) শেষ সাত দিনের মধ্যে কদরের রাত রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি মনে করি যে, শেষের সাতদিন সম্পর্কে তোমাদের সকলের স্বপ্ন পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতএব যে ব্যক্তি তা অন্বেষণ করবে, সে যেন রমযানের শেষ সাতদিনের রাতগুলোতে তা অন্বেষণ করে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নংঃ ২৬৩২।
৫. কদরের রাতের বিশেষ দোয়া পড়া
মা আয়েশা (রা.)-এর এক প্রশ্নের জবাবে নবীজি (সা.) কদরের রাতের জন্য একটি বিশেষ দোয়া শিখিয়েছিলেন। শেষ দশকে, বিশেষ করে বেজোড় রাতগুলোতে এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ:
"اللهم إنك عفو تحب العفو فاعف عني"
(উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি।)
(অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করুন।)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ الضُّبَعِيُّ، عَنْ كَهْمَسِ بْنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ عَلِمْتُ أَىُّ لَيْلَةٍ لَيْلَةُ الْقَدْرِ مَا أَقُولُ فِيهَا قَالَ " قُولِي اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন রাতটি লায়লাতুল ক্বদর, এ কথা যদি আমি জানতে পারি তবে সে রাতে কি দু-আ করব? তিনি বললেন, বলবেঃاللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيহে আল্লাহ! তুমি তো খুবই ক্ষমাশীল, ক্ষমা করাই তুমি ভালবাস। সুতরাং ক্ষমা করে দাও আমাকে। জামে' তিরমিযী, হাদীস নংঃ ৩৫১৩।
রমজানের শুরুতে ইবাদতে যা ঘাটতি হয়েছে, শেষের এই কয়েক দিনে তা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। কারণ, শেষ ভালো যার, সব ভালো তার। যে ব্যক্তি শেষ সময়টুকু সুন্দর করবে, তার আগের ভুলগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হবে। সুতরাং প্রতিটি মুহূর্ত কোনো না কোনো নেক আমলের মধ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করুন। এবং যে কোনো ধরণর গুনাহের কাজ থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করুন। আল্লাহ তাআলা তাওফিক দান করুন। আমীন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী মুহাম্মাদ রাশেদুল ইসলাম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা ৷
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা ৷
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১