কুড়িয়ে পাওয়া টাকার বিধান
প্রশ্নঃ ১৪৩০২৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার ভাগিনা রাস্তার মধ্যে ১ হাজার টাকা পেয়েছিলো ওইটা আমি ওদের থেকে নিয়ে নিছি। আর বলছি মসজিদে দান করে দিবো। এইটা কি জায়েজ হবে? মসজিদে মাজলুম কাউকে ওই ১ হাজার টাকা যার টাকা তার সওয়াবে নিয়তে দিলে হবে?
৫ মার্চ, ২০২৬
Baraiyarhat
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
একটি মূলনীতি লক্ষ করুন। তারপর আপনার মূল উত্তরে আসছি।
মূলনীতি: ইসলামের দৃষ্টিতে সাধারণ মানুষের জানমালের সংরক্ষণ সরকারের পাশাপাশি নাগরিকেরও দায়িত্ব। রাস্তাঘাটের যেকোনো প্রতিবন্ধকতা দূর করে পথিককে সহযোগিতা করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, নাগরিক হিসেবে এটি সবার নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। পথে-ঘাটে মানুষকে বাঁধা দেওয়া, কোনো কিছু ফেলে পথিকদের চলার পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করার বিরুদ্ধে হাদিস শরিফে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।
এ নীতির আলোকে ইসলামের বিধান হলো, কারো হারানো অর্থ-সম্পদ পাওয়া গেলে তা যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করে মালিককে খুঁজে বের করতে হবে। সন্ধান পাওয়া গেলে মালিককে যাচাই-বাছাই শেষে তার মাল পৌঁছে দিতে হবে। সন্তোষজনক খোঁজাখুঁজির পর মালিকের সন্ধান না মিললে প্রাপক নিঃস্ব ও দরিদ্র মানুষ হলে নিজেই ভোগ করতে পারবে। অন্যথায় ফকির-মিসকিনদের মধ্যে তা দান করে দিতে হবে। উভয় ক্ষেত্রেই প্রকৃত মালিকের পক্ষে তা দান বলে গণ্য হবে। মালিকই এর সওয়াব পাবে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের কেউ যদি কোনো কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু তুলে নেয়, সে যেন এ বিষয়ে দুজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী রাখে। সে যেন বিষয়টি গোপন না রাখে, পরিবর্তন-পরিবর্ধন না করে। এরপর যদি মালিক এসে যায়, তাহলে সে-ই সেটার অধিকারী। আর যদি মালিক না আসে, তাহলে সেটা আল্লাহর সম্পদ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন।’ (ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৪৮৯৪)
অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো পথহারা প্রাণীকে আশ্রয় দেয়, সে যদি বিষয়টি গোপন রাখে (প্রাণীটির মালিক বনে যায়), তাহলে সে নিজেই ভ্রষ্ট লোক বলে বিবেচিত হবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৭২৫)
কাজেই ওই টাকাগুলোর সিরিয়াল নাম্বার, নোটের অবস্থা সব কিছু চিহ্নিত করে যত্ন করে রাখুন। মালিকের সন্ধান পাওয়ার সম্ভাব্য জায়গাগুলোতে বিজ্ঞপ্তি ও এলান দিয়ে দিন। মসজিদের দরজায়, রাস্তার মোড়ে, মানুষের নজর পড়বে এমন জায়গাতে বিজ্ঞপ্তি দিন। তবে কিছুতেই টাকার সংখ্যা উল্লেখ করবেন না। কেউ এসে টাকার মালিক হওয়ার দাবী করলে তার পরীক্ষা নিন। কত টাকা? নোট কেমন ছিল? ইত্যাদি ইত্যাদি। যদি মালিক পাওয়া যায় তাহলে তো ভালো। মালিককে তার টাকা দিয়ে দিবেন।
তবে মোটামুটি এক দেড় মাস তালাস, ঘোষণা এবং বিজ্ঞপ্তি পরে যখন মনে হবে এই টাকার মালিক আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তখন মালিকের পক্ষ থেকে নিয়ত করে কোনো গরিব-মিসকিনদের সদাকাহ/দান করে দেবেন।
এরপর যদি কোনদিন মালিক এসে টাকা তালাশ করে, তাকে বুঝিয়ে বলবেন যে, তোমার পক্ষ থেকে আমি টাকা সদাকাহ/দান করে দিয়েছি। সে যদি মেনে নেয় আলহামদুলিল্লাহ। আর যদি মেনে না নেয়, তবে আপনার নিজের পক্ষ থেকে সমপরিমাণ টাকা তাকে দিয়ে দেবেন। এক্ষেত্রে পূর্বের সদাকাহ/দান আপনার নিজের পক্ষ থেকে হয়ে যাবে। কুড়িয়ে পাওয়া বস্তুর বিধান এমনটাই।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১