পারিবারিক কলহ নিরসনের পরামর্শ
প্রশ্নঃ ১৪৭৫৪৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, প্রথমেই মাফ চেয়ে নিচ্ছি। আমার প্রশ্ন টা বেশ বড়। আমি বিবাহিত। আমি আমার বিবাহিত জীবনে অনেক মানসিক কষ্ট পেয়েছি। এখন এই গুলো আমি কোনো ভাবেই ভুলতে পারি না। সারাদিন যারা আমার সাথে যা করেছে টা মাথায় ঘুরতে থাকে। ওনাদের প্রতি বিদ্বেশ কাজ করে এমন। আমার স্বামীকে ডিভোর্স দেওয়ার কথা চিন্তা মাথায় ঘুরে। তার ব্যবহার যে এখনো ভালো হয়েছে তা না। সে অন্য মেয়েদের সাথে কথা বলেছে। তা ধরা পড়ার পর কোনো অনুসুচনা তার ছিল না। এখন আমার প্রশ্ন হলো আমি যতটা জানি আল্লাহ বিদ্বেষ পোষণ কারি কে পছন্দ করে না। এখন আমি কোনো ভাবেই এই গুলো থেকে বের হতে পারি না। জিকির করেও দেখেছি। কোন সময় এই এসব ভাবে শুরু করি নিজেও বুঝতে পারি না। আমার মনে হয় আল্লাহ যদি এর জন্য আমার অপর নারাজ থাকে। তখন আমি কি করবো। আমার আল্লাহ ছাড়া কেউ নাই। এসব থাকতেও কেউ নাই। আমার এখন কি করা উচিত? এর জন্য কি গুনাগাআর হব? আর আমার আরেকটা প্রশ্ন হচ্ছে আমার স্বামীর সাথে আমার অনেক ঝগড়া হ্য়। আমি আগে প্রথমেই কখনো তুই বা গায়ে হয় তোলার মতো জঘন্য কাজ করতাম না। কিন্তু ও আগে থেকেই এসব শুরু করাতে। আমার পরিবার নিয়ে শুরু থেকেই খারাপ কথা বলতে আমি এখন আর ও সহ্য করতে পারি না। আমি ও এবার আগে তুই বলা নানা কথা বলা সহ গায়ে হাত তোলার মতো জঘন্য কাজ করে ফেলেছি। আর তার কমন ঝগড়া হলে আমি আগে যখন নাও করতাম এই গুলো বলতো আমার উপর গজব পরবে। আমি ধ্বংস হবে নানা কথা বলত। এখন করি এখনো বলে। এতে কি আমার কোনো ক্ষতি হবে? আমার বাচ্চার আছে ২ বছরের, আমি আবার প্রেগন্যান্ট না হয় আমি কিছু ভাবতাম। এই সম্পর্ক শেষ করার কথা। আমি আসলে মানসিক ভাবে এর চেয়ে গুছিয়ে লেখার মতো অবস্থায় নেই। কাইন্ডলি আমার লেখাগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ে উত্তর করবেন।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আল্লাহ তাআলা আপনার যাবতীয় পেরেশানি দূর করে দেহ ও মনে প্রশান্তি নসিব করেন। পারিবারিক শান্তি দান করেন। সুস্থতা নিরাপত্তার সাথে হায়াতে তাইয়্যিবা নসিব করেন।
নিজেকে নেকির কাজে ব্যস্ত রাখুন। সবসময় পাক-পবিত্র তথা ওযু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করুন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যত্নের সাথে আদায় করুন। সম্ভব হলে তাহাজ্জুদ, ইশরাক, আউয়াবীন ইত্যাদি নফল নামাজ আদায় করুন। সবগুলো সম্ভব না হলে দিনের শুরুতে দুই রাকাত দুই রাকাত করে চার রাকাত নামাজ ইশরাকের সময় আদায় করুন এবং আল্লাহর কাছে দুআ করুন যেন, সারাদিন সারারাত আল্লাহ তাআলা সকল কাজ সুন্দরভাবে আনজাম দেওয়ার তৌফিক দান করেন। আল্লাহ আপনার কাজের জিম্মাদার হয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ।
মনে রাখবেন আপনার উপর আপনার স্বামীর ৬টি হক রয়েছে:
১. স্বামীর কোন কথা বা কাজ শরীয়ত পরিপন্থী বা বিবেক বিবর্জিত না হলে অবশ্যই তার আনুগত্য করা।
২. স্বামীর যাবতীয় মালের সাধ্যমতো হেফাজত করা।
৩. স্বামীর অনুপস্থিতিতে নিজের সতীত্বের হেফাজত করা।
৪. সর্বাবস্থায় স্বামীর ঘরে অবস্থান করা। কোন নেক কাজের জন্যও স্বামীর অনুমতি ব্যতীত বাহিরে না যাওয়া।
৫. স্বামীর সন্তানদের প্রতি সর্বোচ্চ খেয়াল রাখা।
৬. স্বামীর অনুমতি ব্যতীত অন্য কাউকে স্বামীর ঘরে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া।
স্বামীকে খুশি রাখার ও শুধু নিজের করে রাখার কার্যকারী টিপসঃ-
১. স্বামীর ঘুম থেকে উঠার আগে নিজে উঠে পরিপাটি হয়ে নেওয়া যাতে স্বামী আপনাকে সকাল বেলাই অপরিপাটি না দেখে। তার সাথে সুগন্ধি ব্যবহার করুন। যাতে সকালে আপনাকে দেখেই আপনার স্বামীর মন ভরে যায়।
২. তার ঘুম যেভাবে ভাঙ্গালে সে পছন্দ করবে, সেভাবে তাকে ঘুম থেকে জেগে তুলুন।
৩. তার প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে তবেই অন্য কাজে যাবেন। এবং সে তার কাজে যাওয়ার সময় কপালে আর বুকে দুইটা......... দিয়ে দিন।
৪. সে কখন বাসায় আসতে পারে তা অনুমান করে পরিপাটি হয়ে থেকে তার অপেক্ষা করুন এবং সে ডাকার সাথে সাথে দরজা খুলে দিন এক মুচকি হাসি দিয়ে। এবং তার সাথে কথা বলার সময় সর্বদা হাসি মুখে কথা বলুন।
৫. তার সামনে কখনো গন্ধ নিয়ে যাবেন না। সবসময় একটা সুঘ্রাণ রাখুন নিজের শরীরে।
৬. পরিপূর্ণ পর্দা করুন।
৭. স্বামীকে তাহাজ্জুদ এবং ফজরের নামাজের জন্য ডেকে দিন। আল্লাহর তরফ হতে স্বামীর হৃদয়ে আপনার প্রতি অফুরন্ত ভালোবাসা জন্ম নিবে।
৮. স্বামীর মনে কখনো আঘাত দিয়ে কথা বলবেন না।
৯. কখনো স্বামীকে নিজের উপর রাগ হতে দিবেন না বরং স্বামী যে ইশারায় চালাতে চায় সে ইশারায় চলুন( নাফরমানীর কাজ ব্যতিত)।
১০. স্বামী কোন কাজ করতে আদেশ করলে সাথে সাথে হাসি ও খুশির সহিত কাজ করে দিন।
১১. স্বামীর কাছে থাকাকালীন তার অনুমতি ব্যতিত কোন নফল ইবাদাত করবেন না। স্বামীর খেদমত অন্যান্য নফল ইবাদাত থেকেও উওম।
১২. পৃথিবীর কোন মানুষের গিবত না করা।
১৩. স্বামীর হুকুম ছাড়া স্বামীর মাল থেকে কাউকে দান বা হাওলাত না করা। এটা জায়েজ নেই।
১৪. স্বামীর কোন দোষের কথা পৃথিবীর কোন মানুষকে না বলা। বরং স্বামীর মাথা যখন একদম ঠান্ডা থাকবে তখন স্বামীকে হাসিমুখে বিনয়ের সহিত তার ভুল ধরিয়ে ও সুধরে দেওয়ার চেষ্টা করা।
১৫. স্বামীর কোন কাজ নিজের মতের বিরুদ্ধে হলেও তর্ক না করা।
১৬. স্বামী যা আনুক তা ১ টাকার হলেও এমন একটা ভাব করুন যেন এটা আপনার কাছে ভিষণ পছন্দ হয়েছে। এতে পুরুষেরা স্বস্তি পায়।
১৭. স্বামীর বাড়িতে যতই কষ্ট থাকুক, স্বামীর সাথে সমাধামের চেষ্টা করুন। তবে হাই হতাশা করে স্বামীকে কষ্ট দিবেন না।
১৮). স্বামীর মেজাজ বুঝে ব্যবহার। তার মুখে হাসি থাকলে আপনিও হাসুন। আর তার মন কোন কারণে খারাপ থাকলে আপনিও তার মন খারাপের ভাগিদার হোন, মন খারাপের সময় হেসে এটা প্রকাশ করবেন না যে তার মন খারাপে আপনার কিছু যায় আসে না। আর মেজাজ খারাপ থাকলে একদম চুপ থাকবেন।
১৯. স্বামী আপনাকে যে টাকা দিবে তা ১০০% তাকে হিসাব দিয়ে দিন।আপনার ওপর একটা অন্যরকম বিশ্বাস সৃষ্টি হবে ইনশাআল্লাহ।
২০. শশুড়-শাশুড়ি বেঁচে থাকলে তাদের সেবা করুন। এবং শশুর বাড়ীর সকলকে ভালোবাসুন।
২১. স্বামীকে মনের ভুলেও কাজ করতে নির্দেশ দিবেন না। বরং তাকে ঠিক কাচের পুতুলের মতো রাখার চেষ্টা করুন।
২২. ঘরের কাজ কারো জন্য ফেলে রাখবেন না।
২৩. স্বামী বাবা-মা এর কাছে টাকা দিলে তা নিয়ে মন খারাপ করবেন না। তাদের ছেলের টাকা তারা নিবে না তো কে নিবে?
২৪. স্বামী কোন সফর থেকে ফিরলে তাকে খেদমত করুন, প্রশ্ন করুন পরে।
আল্লাহ তাআলা আমল করার তৌফিক দান করুন..
আমীন!
গর্ভাবস্থায় আপনার বিশেষ কিছু করণীয় আমল আছে। দেখুন আমাদের মুসলিম বাংলাতে-
https://muslimbangla.com/masail/20683
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিআ মুহাম্মাদিয়া আরাবিয়া
খতীব, নবোদয় সি ব্লক জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুর
ইমাম, বায়তুল ওয়াহহাব জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন