তারাবীতে সেজদার আয়াত না পড়ে সিজদা আদায় করার বিধান
প্রশ্নঃ ১৪০৯১৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, তারাবির নামাজে সুরা হামীম আসসিজদার ৩৭ আয়াত তিলাওয়াত করে সিজদা দিয়ে ফেলি,পরে ৩৮ নং আয়াত পড়ে আরসিজদ না দিয়ে রাকাত শেষ করি।এখন কি তেলাওয়াতে সিজদা আদায় হয়েছে কিনা?না হলে করণীয় কি?
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
হাটহাজারী
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রথমত, সূরা হা-মীম আস-সিজদা (সূরা ফুসসিলাত)-এর সিজদার আয়াত হলো ৩৮ নম্বর আয়াত; ৩৭ নম্বর আয়াতে সিজদা নেই। সুতরাং ৩৭ নম্বর আয়াত পড়ে যে সিজদা দেওয়া হয়েছে, তা সিজদায়ে তিলাওয়াত হিসেবে গণ্য হবে না; এটি অগ্রিম ও অশুদ্ধ স্থানে আদায় হয়েছে।
ফিকহি মূলনীতি হলো—
যদি নামাজের মধ্যে আয়াতে সিজদা তিলাওয়াত করা হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে সিজদা না করা হয়, তাহলে দুইটি অবস্থা হয়:
(১) তিন আয়াতের মধ্যে রুকূ করলে:
আয়াতে সিজদার পর তিন আয়াত পড়ার আগেই রুকূতে চলে গেলে, অথবা সর্বোচ্চ তিন আয়াত পড়ে রুকূ করলে—সেই রাকাতের নামাজের সিজদার মধ্যেই সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায় হয়ে যায়। পরে আলাদা করে কাযা করার প্রয়োজন নেই।
(২) তিন আয়াতের বেশি পড়ে ফেললে:
যদি সিজদার আয়াতের পর তিন আয়াতের বেশি তিলাওয়াত করে ফেলা হয়, তাহলে যতক্ষণ নামাজ চলমান থাকে, ততক্ষণ মনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায় করা জরুরি। এমনকি সালাম ফিরিয়ে ফেললেও যদি নামাজবিরোধী কোনো কাজ না করে থাকেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সিজদা করে নেওয়া উচিত।
তবে নামাজ শেষ হওয়ার পর যদি নামাজবিরোধী কোনো কাজ করে ফেলেন, তাহলে আর তার কাযা নেই। কারণ নামাজে ওয়াজিব হওয়া সিজদার কাযা একই নামাজের মধ্যেই আদায় করা যায়; নামাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেলে তার সময় অবশিষ্ট থাকে না।
প্রশ্নোক্ত ঘটনার ক্ষেত্রে, যেহেতু ৩৮ নম্বর আয়াত তিলাওয়াতের পর সিজদা দেওয়া হয়নি এবং রাকাত শেষ করে ফেলা হয়েছে, তাই সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায় হয়নি। এখন এর কাযা করার সুযোগও অবশিষ্ট নেই।
অতএব, সংশ্লিষ্ট হাফেজ সাহেবের উচিত আল্লাহ তাআলার নিকট তাওবা ও ইস্তিগফার করা এবং ভবিষ্যতে সিজদার আয়াত নির্ধারণে অধিক সতর্ক থাকা।
শরঈ দলীল:
الدر المختار مع رد المحتار:
''و يأثم بتأخيرها و يقضيها مادام في حرمة الصلاة، ولو بعد السلام''.
و في الرد: ''(ويأثم بتأخيرها ...الخ)؛ لأنها وجبت بما هو من أفعال الصلاة، وهو القراءة و صارت من أجزائها، فوجب أدائها مضيقاً''. (شامي، كتاب الصلوة، باب سجود التلاوة، ٢/ ١١٠، ط:سعيد)۔فقط وال
الفتاویٰ التاتارخانیة: (رقم: 3024، 468/2، ط: زکریا)
وفی القدوری: کل سجدۃ وجبت علیہ فی الصلاۃ بتلاوۃ ثم خرج قبل أن یسجد سقطت عنہ۔
”وفي الولوالجية المصلي إذا تلا آية السجدة ونسي أن يسجد لها ثم ذكرها وسجدها وجب عليه سجود السهو ؛ لأنه تارك للوصل وهو واجب وقيل : لا سهو عليه والأول أصح ، كذا في التتارخانية۔“ (الفتاوی الھندیۃ، کتاب الصلاۃ، ج 01، ص 126، مطبوعہ پشاور)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
শাহাদাত হুসাইন ফরায়েজী
মুফতী, ফাতাওয়া বিভাগ, মুসলিম বাংলা
লেখক ও গবেষক, হাদীস বিভাগ, মুসলিম বাংলা
খতীব, রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদ, ফেনী
মুফতী, ফাতাওয়া বিভাগ, মুসলিম বাংলা
লেখক ও গবেষক, হাদীস বিভাগ, মুসলিম বাংলা
খতীব, রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদ, ফেনী
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১