নিয়মিত তিনদিনের কম ব্লিডিং হলে সেটা কি হায়েজ?
প্রশ্নঃ ১৩৫২২৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার ডেলিভারি হয়েছে তিন মাস সতেরো দিন। আমি পিল খাচ্ছি। আমার পিরিয়ড এর ব্লাড আসে একদিন বা দুদিন রক্ত দেখতে পাই এসময় কি নামাজ পড়ে হবে আমি তো কনফিশনে থাকি কি করব তিন দিন কি দেখতে হবে? আর তিন দিনের কম হলে কি গোসল ফরয হবে। দয়া করে জানাবেন ইনশাআল্লাহ
২৯ জানুয়ারী, ২০২৬
খুলনা
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
শরিয়তের দৃষ্টিতে হায়েজের সর্বনিম্ন সময়সীমা তিনদিন এবং সর্বোচ্চ সময়সীমা দশদিন। তবে এই সময়কালে একটানা ব্লিডিং হওয়া জরুরি নয়। বরং যদি প্রথম দুই দিন রক্ত আসে এবং তারপর চার দিন পরে আসে, তাহলে ছয় দিনই ঋতুস্রাব হবে। তবে, যদি সবসময় দুই দিন আসে এবং দশদিনের মধ্যে আর কোনো রক্তই না আসে তাহলে সেই রক্ত ইসতিহাজা হিসেবে গণ্য হবে। এই সময়ের মধ্যে যে নামাজ- রোজা সবই করতে হবে।
হাদীস শরীফে এসেছে
عن ابی امامة الباھلی قال قال رسول اللہ ۖ لایکون الحیض للجاریة والثیب الذی قد ایئست من الحیض اقل من ثلاثة ایام ولا اکثر من عشرة ایام فاذا رأت الدم فوق عشرة ایام فھی مستحاضة فمازاد علی ایام اقرائھا قضت ودم الحیض اسود خائر تعلوہ حمرة ودم المستحاضة اصفر رقیق (دار قطنی ، نمبر ٨٣٤)
অন্যত্রে এসেছে
( ٢)عن واثلة بن الاسقع قال قال رسول اللہ ۖ اقل الحیض ثلاثة ایام و اکثرہ عشرة ایام ۔(دار قطنی، کتاب الحیض ، ج اول ،ص ٢٢٥ ٨٣٦)
যার সারমর্ম হলো হায়েজ (মাসিক) এর সর্বনিম্ন সময় হলো তিন দিন, সর্বোচ্চ সময়সীমা হলো দশ দিন।
’’ أقل الحیض ثلا ثة أیام ولیالیها ومانقص من ذٰلک فهو استحاضة‘‘. (الهداية ۱؍۶۲)
الدر المختار وحاشية ابن عابدين (رد المحتار) (1/ 285):
’’(والناقص) عن أقله (والزائد) على أكثره أو أكثر النفاس أو على العادة وجاوز أكثرهما. (وما تراه) صغيرة دون تسع على المعتمد وآيسة على ظاهر المذهب (حامل) ولو قبل خروج أكثر الولد (استحاضة)‘‘. فقط واللہ اعلم
সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যদি আপনার প্রতিমাসেই দুই দিন ব্লিডিং হওয়ার পর (দশ দিনের মধ্যে) আর ব্লিডিং না হয় তাহলে আপনার ওই দুইদিন ইস্তেহাযাহ (সাধারণ অসুস্থতা) হিসেবে গণ্য হবে। ওই সময় আপনি নামাজ রোযা সবই করবেন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১