শরীর থেকে পূঁজ নির্গত হলে নামাজ আদায়ের পদ্ধতি
প্রশ্নঃ ১৩৪৬৭৫. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার শরীরের ফুসকুড়ি থেকে অবিরত পানি বের হয় এমনকি নামাজের মধ্যে ও কাপড় ভিজে যায়। এখন আমার নামাজ কি হবে? কি করনীয়?
২৮ জানুয়ারী, ২০২৬
ঢাকা ১১০০
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
শরীয়তের বিধান মনে যে ব্যক্তির অনবরত বায়ু নির্গত হয়, শরীরের কোনো স্থান থেকে অনবরত রক্ত, পূঁজ-পানি ঝরে বা প্রশ্রাব ঝরে, কিংবা এ জাতীয় কোন রোগে আক্রান্ত যার কারণে তিনি এতটুকু সময় পাক থাকতে পারেন না যাতে তিনি সেই সময়ের ফরজ নামাযটুকুও আদায় করতে পারেন; শরীয়তের পরিভাষায় এজাতীয় ব্যক্তিকে মাজুর বলে। এই রকম মাজুর ব্যক্তির হুকুম হল, নামাজের ওয়াক্ত হয়ে গেলে তিনি অজু করে নিবেন এবং এই অজু দিয়ে উক্ত ওয়াক্তের মধ্যে ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নতসহ যাবতীয় নফল নামাজ আদায় করতে পারবে। এমনিভাবে কুরআন তেলওয়াতসহ অন্যান্য ইবাদতও করতে পারবেন। নামাজের ওয়াক্ত শেষ হয়ার সাথে সাথে তার অজুও শেষ হয়ে যাবে। পরবর্তী ওয়াক্তের জন্য পুনরায় অজু করতে হবে।
কেননা, আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, لًَا یُکَلِّفُ اللّٰہُ نَفۡسًا اِلَّا وُسۡعَهَا আল্লাহ কারও উপর তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব অর্পণ করেন না। সুরা বাকারা: ২৮৬
সহিহ বুখারী শরীফে হজরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন
, جَاءَتْ فَاطِمَةُ ابْنَةُ أَبِي حُبَيْشٍ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي امْرَأَةٌ أُسْتَحَاضُ فَلاَ أَطْهُرُ، أَفَأَدَعُ الصَّلاَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ، إِنَّمَا ذَلِكِ عِرْقٌ، وَلَيْسَ بِحَيْضٍ، فَإِذَا أَقْبَلَتْ حَيْضَتُكِ فَدَعِي الصَّلاَةَ، وَإِذَا أَدْبَرَتْ فَاغْسِلِي عَنْكِ الدَّمَ ثُمَّ صَلِّي ". قَالَ وَقَالَ أَبِي " ثُمَّ تَوَضَّئِي لِكُلِّ صَلاَةٍ، حَتَّى يَجِيءَ ذَلِكَ الْوَقْتُ ".
ফাতিমা বিনতে আবু হুবায়শ রা. নবী সা. এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার এত বেশী রক্তস্রাব হয় যে, আর পবিত্র হই না। এমতাবস্থায় আমি কি নামায ছেড়ে দেব? রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, এ তো ধমনি থেকে নির্গত রক্ত। এটা হায়েজ নয়। তাই যখন তোমার হায়েজ আসবে তখন নামাজ ছেড়ে দিও। আর যখন তা বন্ধ হবে তখন রক্ত ধুয়ে ফেলবে। তারপর নামাজয আদায় করবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমার পিতা বলেছেন, তারপর এভাবে আরেক হায়জ না আসা পর্যন্ত প্রত্যেক নামাযের জন্য উযু করবে। -সহীহ বুখারী হাদীস নং: ২২৮
কিন্তু কারো সমস্যা যদি সেই পর্যায়ের না হয় বরং পেশাবের পর, বা অন্য কোনো সময় পেশাব ঝরে আবার পরে বন্ধ হয়ে যায়, এমনিভাবে কিছুক্ষণ পরপর বায়ূ নির্গত হয়, আবার কিছু সময় বন্ধ থাকে, রক্ত, পূঁজ-পানি কিছু সময় ঝরে আবার কিছু সময় বন্ধ থাকে; এজাতীয় ব্যক্তি মাজুর হিসেবে গণ্য হবে না। বরং তার জন্য করণীয় হলো, তিনি ওই সময়ে অপেক্ষায় থাকবেন যখন তার পেশাব/রক্ত পূঁজ-পানি ঝরা/বাতাস নির্গত হওয়া বন্ধ হবে। বন্ধ হলে নামাজ শুরু করবেন। তারপর যদি নামাজ চলাকালে আবার পেশাব ঝরে/রক্ত বের হয় বা বায়ূ নির্গত হয় তাহলে তিনি পুণরায় অজু করে নামাজ আদায় করবেন।
فى حاشية الطحطاوى على مراقى الفلاح-وتتوضأ المستحاضة ومن به عذر كسلس بول واستطلاق بطن لوقت كل فرض ويصلون به ما شاءوا من الفرائض والنوافل
ويبطل وضوء المعذورين بخروج الوقت فقط متى يثبت العذر
ولا يصير معذورا حتى يستوعبه العذر وقتا كاملا ليس فيه انقطاع بقدر الوضوء والصلاة وهذا شرط ثبوته
وشرط دوامه وجوده في كل وقت بعد ذلك ولو مرة
وشرط انقطاعه وخروج صابحه عن كونه معذورا خلو وقت كامل عنه
(حاشية الطحطاوى على مراقى الفلاح ، كتاب الطهارة، باب الحيض والنفاس والاستحاضة-148-151
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার অবস্থার ওপর ভিত্তি করে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদি আপনার ওখান থেকে অনবরত পানি ঝরে তাহলে আপনি মাজুর হিসেবে গণ্য হবেন। আর যদি অনবতর না হয় হয় বর বিরতি দিয়ে দিয়ে হয় তাহলে বিরতির সময় নামাজ আদায় করবেন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১