ইসলামি শাসন ব্যবস্থায় অর্থনীতির রূপরেখা
প্রশ্নঃ ১৩৪৬৫৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, হুজুর,, ইসলামি শাসন ব্যবস্থায় অর্থনীতির রূপরেখা কি, অর্থাৎ পুরো অর্থ বেবস্থা কিভাবে চলে, ???
২৮ জানুয়ারী, ২০২৬
ঢাকা ১২১৭
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ইসলামি শাসন ব্যবস্থার অর্থনীতির মূলনীতি কুরআন ও হাদীসেই সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছে—আল্লাহ তাআলা বলেন: ﴿وَآتُوهُم مِّن مَّالِ اللَّهِ الَّذِي آتَاكُمْ﴾ অর্থাৎ “আল্লাহ তোমাদের যে সম্পদ দিয়েছেন, তা থেকেই তাদের দাও” (সূরা নূর: ৩৩), যা প্রমাণ করে সম্পদের প্রকৃত মালিক আল্লাহ, মানুষ কেবল আমানতদার; আবার তিনি বলেন: ﴿كَيْ لَا يَكُونَ دُولَةً بَيْنَ الْأَغْنِيَاءِ مِنكُمْ﴾অর্থাৎ “যাতে ধনসম্পদ তোমাদের ধনীদের মাঝেই আবর্তিত না হয়” (সূরা হাশর: ৭), যা সম্পদের ন্যায়সঙ্গত বণ্টনের মূলনীতি স্থির করে; উপার্জনের ক্ষেত্রে আল্লাহ ঘোষণা করেন: ﴿أَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا﴾“আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন” (সূরা বাকারা: ২৭৫), ফলে সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বাতিল হয়; রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন: «أَعْطُوا الْأَجِيرَ أَجْرَهُ قَبْلَ أَنْ يَجِفَّ عَرَقُهُ»—“শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি দিয়ে দাও” (ইবনে মাজাহ), যা শ্রমনীতি নির্ধারণ করে; আর যাকাতভিত্তিক কল্যাণরাষ্ট্র সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:﴿إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ…﴾“যাকাত নির্ধারিত গরিব ও অসহায়দের জন্য…” (সূরা তাওবা: ৬০);
ইসলামি শাসন ব্যবস্থায় অর্থনীতি একটি সমন্বিত ও কল্যাণভিত্তিক ব্যবস্থা, যার রূপরেখা সংক্ষেপে এভাবে বোঝানো যায়—(১) সম্পদের প্রকৃত মালিক আল্লাহ, মানুষ কেবল আমানতদার; (২) ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকৃত হলেও তা শরিয়াহর সীমার মধ্যে, রাষ্ট্রীয় ও সামষ্টিক মালিকানাও বিদ্যমান; (৩) হালাল উৎপাদন, ব্যবসা ও উপার্জন উৎসাহিত এবং সুদ, জুয়া, ঘুষ, প্রতারণা ও হারাম পেশা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ; (৪) বাজারব্যবস্থা মূলত মুক্ত হলেও নৈতিকতা ও ইনসাফ রক্ষায় রাষ্ট্রীয় তদারকি (হিসবা) কার্যকর থাকে; (৫) অর্থায়ন চলে সুদমুক্ত লাভ–লোকসানভিত্তিক পদ্ধতিতে; (৬) রাষ্ট্রের রাজস্বের প্রধান উৎস যাকাত, উশর, খারাজ, জিযিয়া ইত্যাদি, যা কেন্দ্রীয়ভাবে বাইতুল মালে জমা হয়; (৭) বাইতুল মাল থেকে গরিব–অসহায়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও সামগ্রিক জনকল্যাণে ব্যয় করা হয়; (৮) শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার ও সময়মতো মজুরি নিশ্চিত করা হয়; এবং (৯) সম্পদের পুনর্বণ্টনের মাধ্যমে ধনসম্পদ যেন কেবল ধনীদের মাঝেই আবর্তিত না হয় তা নিশ্চিত করা হয়—এইভাবে ইসলামি অর্থনীতি দুনিয়ার ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আখিরাতের জবাবদিহিতাকে সামনে রেখে পুরো অর্থব্যবস্থা পরিচালনা করে।
শেষ কথা হচ্ছে, ইসলামি অর্থনীতি হলো একটি সুদমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী ব্যবস্থা, যা ব্যক্তিগত উদ্যোগ, রাষ্ট্রীয় তদারকি ও সামাজিক নিরাপত্তাকে একত্র করে দুনিয়ায় ইনসাফ ও আখিরাতের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
শাহাদাত হুসাইন ফরায়েজী
মুফতী, ফাতাওয়া বিভাগ, মুসলিম বাংলা
লেখক ও গবেষক, হাদীস বিভাগ, মুসলিম বাংলা
খতীব, রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদ, ফেনী
মুফতী, ফাতাওয়া বিভাগ, মুসলিম বাংলা
লেখক ও গবেষক, হাদীস বিভাগ, মুসলিম বাংলা
খতীব, রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদ, ফেনী
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১