পরকিয়া থেকে তাওবাহ
প্রশ্নঃ ১৩১৯৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমরা জানি পরকীয়া করা হারাম,শক্ত গোনাহ! যিনা তো কয়েক প্রকারের। শারীরিকভাবে কিছু করা হয়নি। মুখে কথা হয়েছে, এবং দেখাদেখিও হয়েছে!! এইসব যিনাকারী দুনিয়াবি কি শাস্তি হওয়া উচিত বা দরকার!! তওবা করতে হবে বা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত করতেই হবে এটা জানি; এর ছাড়া দুনিয়ায় কি শাস্তি দিলে কিছুটা বৈধ হবে? জানতে চাই।
এখন আমি খুবই বাজে ভাবে জড়িয়ে গেছি। এর থেকে বের হতে চাই। আমাকে শরীয়াহ অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত জানালে উপকৃত হব! আমি খুবই অনুতপ্ত।
স্বামী জানার পর কিছুটা প্রহার বা পদক্ষেপ নিছে। এখন তার উপর কি কোন কিছু করার বৈধতা আছে? বা সে কি করতে পারে স্ত্রীর এইসব ব্যাপারে? ইসলাম কি বলে?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আপনার জীবনে যা কিছু হয়েছে এর জন্য আল্লাহ তায়ালার দরবারে কায়মনোবাক্যে তাওবা করুন। অতীতের সকল বদঅভ্যাস পরিহার করুন। ভবিষ্যতে এমন গর্হিত কাজের দিকে পা না বাড়ানোর ব্যাপারে দৃঢ় সঙ্কল্পবদ্ধ হোন। নামাজ রোজা তাসবিহ, তাহলিল, যিকির তেলাওয়াত ইত্যাদিতে নিজের সময়কে কাজে লাগাতে চেষ্ট করুন। শতভাগ পর্দা করুন। শরীয়তে সীমার মধ্যে থেকে স্বামীর পূর্ণ আনুগত্য করুন। স্বামী-সংসার-সন্তান নিয়ে একত্রে বসবাস করুন। সাধ্যমতো নিজের সম্পদ থেকে দান সদকা করুন। এক কথায় পূর্ণ দ্বিনের অনুসরণ করুন।
যদি আপনি নিচের শর্তানুযায়ী তাওবা করেন তাহলে আশা করা যায় আল্লাহ তায়ালা আতিতের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
বাইতুল কুরআন মাদারাসা , মোহাম্মাদপুর
রেফারেন্স উত্তর :
প্রশ্নঃ ১১০৫৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, ধরেন একজন সুদ ঘুস খাইতেছে, সুদ ঘুষ দিয়ে বাড়ি গাড়ি, সম্পদ বৃদ্ধি করলো, তারপর শেষে সে বলে না আর সুদ ঘুষ খাবো না, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইব, আল্লাহ তো বলেছেই যতই পাপ করুক না কেনো আল্লাহর কাছে তওবা করে ক্ষমা চাইলে ক্ষমা চেয়ে ঐ কাজ আর না করলে তাকে ক্ষমা করে দিবে, সে ক্ষমা চেয়ে সুদ ঘুষ খাওয়া বন্ধ করে দিলো, কিন্তু তার আগের সুদ ঘুষের টাকায় কেনা বাড়ি গাড়ি ব্যবহার করতে থাকলো, এই ক্ষেত্রে কি তার ক্ষমা কবুল হবে.?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
তাওবা কবুল হওয়ার চারটি শর্ত।
গুনাহ বা অন্যায় কাজ থেকে তাওবা করা আবশ্যক। ওলামায়ে কেরাম তাওবা করাকে ওয়াজিব বলেছেন। গুনাহ যদি আল্লাহ এবং বান্দার মধ্যকার বিষয় হয় এবং তাতে বান্দার হকের কোনো সম্পৃক্ততা না থাকে, তবে তাওবা কবুল হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত পালন করা আবশ্যক।
প্রথম শর্ত : কৃত গোনাহের জন্যে আল্লাহর নিকট অনুতপ্ত হতে হবে।
দ্বিতীয় শর্ত : যেই গুনাহ থেকে তাওবাহ করছে সেই গুনাহ সম্পূর্ণরূপে ছেড়ে দিতে হবে।
তৃতীয় শর্ত : সেই গুনাহের পুণরাবৃত্তি না ঘটানোর ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হতে হবে। এই তিনটি শর্তের মধ্যে যদি একটি শর্তও লঙ্ঘিত হয় তাহলে তাওবা শুদ্ধ হবে না। সেই তাওবার মাধ্যমে গুনাহ মাফের আশাও করা যাবে না।
চতুর্থ শর্ত : গোনাহের কাজটি যদি বান্দার হক সংশ্লিষ্ট হয় তাহলে উপরিউক্ত তিন শর্তের সাথে সাথে হকদার ব্যক্তির হক আদায় করে দিতে হবে অথবা তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে দাবি ছাড়িয়ে নিতে হবে। যেমন, অন্যায়ভাবে যদি অপরের ধনসম্পদ, মালালাম, জমিজমা বা অন্য যেকোনো বস্তু জোর-জবরদস্তিমূলক দখল করে নেয়, তবে তা ফেরত দিতে হবে। কারো প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিলে আপবাদ আরোপকারীকে শরীয়ত নির্ধারিত হদ বা শাস্তি ভোগ করতে হবে। অথবা (অন্যায়ের শিকার) সংশ্লিষ্ট (মজলুম) ব্যক্তি থেকে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। এমনকি কারো অনুপস্থিতিতে গীবত-শেকায়াত করলে সে ব্যাপারেও ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। এই চার শর্ত পালন না করলে গুনাহ থেকে ক্ষমা পাওয়া যাবে না। আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রকৃতপক্ষে তাওবা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
বাইতুল কুরআন মাদারাসা , মোহাম্মাদপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন