ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত, হারাম, মাকরূহ এবং মোবাহ কাকে বলে
প্রশ্নঃ ১২৫৪১১. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, ফরজ,সুন্নত,নফল এগুলার মানে কি।
১০ নভেম্বর, ২০২৫
Rajfulbaria ১৩৪৭
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
১. ফরজ: ফরজ বলা হয় সেই আমলকে যা অকাট্য প্রমাণ (যেমন: কুরআনের পরিষ্কার আয়াত বা মুতাওয়াতির হাদিস) দ্বারা প্রমাণিত। ফরজ অস্বীকারকারী কাফির হয়ে যায়।
২. ওয়াজিব: ওয়াজিব সেই হুকুম যেটি ** অনুমাননির্ভর বা ظنی دلیل দ্বারা প্রমাণিত। ফরজ অস্বীকারকারী যেমন কাফির হয়, ওয়াজিব অস্বীকার করলে তাকে কাফির বলা হয় না; তবে ওয়াজিব ছেড়ে দিলে মানুষ ফাসিক হয়ে যায়।
৩. সুন্নাহ: সুন্নাহ এর শাব্দিক অর্থ: বিশেষ পথ, নিয়ম, রীতি, আচরণ ইত্যাদি।
* সুন্নাহ এর পরিভাষাগত অর্থ: মুহাদ্দিসদের মতে, নবী করীম ﷺ–এর সাথে সম্পর্কযুক্ত প্রত্যেকটি কথা, কাজ, অনুমোদন এবং صفت — (হোক তা জন্মগত বা পরবর্তীতে অর্জিত) যা কিছু রাসুল সা. এর দিকে নেসবাত করা হয়। চাই তা رسالت পাওয়ার আগে হোক বা পরে, সবই সমান।
* ফকীহদের মতে: যে আমল নবী করীম ﷺ ইবাদতের উদ্দেশ্যে নিয়মিতভাবে করতেন, তবে কখনও কখনও তা ছেড়েও দিতেন—এটাই “সুন্নাহ”।
* সুন্নাহ দুই প্রকার: ক. সুন্নতে মুআক্কাদা। খ. সুন্নতে গায়র মুআক্কাদা।
* ক. সুন্নতে মুআক্কাদা: যে সুন্নাত নামাজ যা রাসুলুল্লাহ ﷺ নিয়মিত পতেন এবং কোনো শক্ত কারণ ছাড়া কখনও তা ছাড়েননি।
* খ. সুন্নতে গায়র মুআক্কাদা: যে সুন্নাত নামাজ যা রাসুলুল্লাহ ﷺ কখনো করেছেন এবং কখনো কোনো কারণ ছাড়াই ছেড়েও দিয়েছেন।
৪. মুস্তাহাব: মুস্তাহাব হলো সেই আমল যা রাসুলুল্লাহ ﷺ বা সাহাবায়ে কিরাম থেকে প্রমাণিত, কিন্তু তা নিয়মিত করতেন না—কখনো করেছেন, কখনো ছেড়েছেন।
৫. হারাম: হারাম সেই কাজ কে বলা হয়, শরীয়ত যা থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে এবং যা অকাট্য প্রমাণ ( قطعی دلیل ) দ্বারা প্রমাণিত।
৬. মাকরূহ: বলতে অপছন্দনীয় কাজকে বোঝায়। ফকীহরা এর দুই প্রকার উল্লেখ করেছেন, ক. মাকরূহ তাহরীমি। খ. মাকরূহ তানযিহি।
* ক. মাকরূহে তাহরীমি: যে কাজ হারামের খুব নিকটবর্তী; অর্থাৎ শরীয়তের দৃষ্টিতে অত্যন্ত অপছন্দনীয় এমন কাজ, যা হারামের মতোই কঠোরভাবে বর্জনযোগ্য। এ ধরনের কাজ করলে মানুষ তিরস্কারের (আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের রাগ ও অসন্তুষ্টির) যোগ্য হয়ে যায়।
* খ. মাকরূহ তানযিহি: যা অপছন্দনীয় হলেও হারামের কাছাকাছি নয়; বরং হালালের কাছাকাছি।
৭. মোবাহ: মোবাহ (مباح) — যে কাজ করা বা না করা উভয়ই সমান; করলে সওয়াব নেই, না করলে গোনাহও নেই।
"(ومستحبه) ويسمى مندوبًا وأدبًا وفضيلة، وهو ما فعله النبي صلى الله عليه وسلم مرةً وتركه أخرى، وما أحبه السلف."
(فتاوی شامی, جلد۱، ص: ۱۲۳، ط: سعید )
"والمكروه في هذا الباب نوعان أحدهما ما كره تحريما وهو المحمل عند إطلاقهم الكراهة كما ذكره في فتح القدير من كتاب الزكاة وذكر أنه في رتبة الواجب لا يثبت إلا بما يثبت به الواجب يعني بالنهي الظني الثبوت وأن الواجب يثبت بالأمر الظني الثبوت ثانيهما المكروه تنزيها ومرجعه إلى ما تركه أولى وكثيرا ما يطلقونه كما ذكره العلامة الحلبي في مسألة مسح العرق فحينئذ إذا ذكروا مكروها فلا بد من النظر في دليله فإن كان نهيا ظنيا يحكم بكراهة التحريم إلا لصارف للنهي عن التحريم إلى الندب فإن لم يكن الدليل نهيا بل كان مفيدا للترك الغير الجازم فهي تنزيهية".
(البحرالرائق, جلد ۴، ص:۱۰۶، سعید)
"أن الفرض ما ثبت بدليل قطعي لا شبهة فيه، قال فخر الإسلام في أصوله: الحكم إما أن يكون ثابتاً بدليل مقطوع به أو لا، والأول هو الفرض، والثاني إما أن يستحق تاركه العقاب أو لا، والأول هو الواجب إلخ ثم قال : وأما الفرض فحكمه اللزوم علماً بالعقل وتصديقاً بالقلب، وهو الإسلام، وعملاً بالبدن، وهو من أركان الشرائع، ويكفر جاحده، ويفسق تاركه بلا عذر، وأما حكم الوجوب فلزومه عملاً بمنزلة الفرض لا علماً على اليقين؛ لما في دليله من الشبهة حتى لايكفر جاحده، ويفسق تاركه، وهكذا في غير ما كتاب من كتب الأصول كالمغني والمنتخب والتنقيح والتلويح والتحرير والمنار وغيرها".
(البحرالرائق, جلد۱، ص:۴۹، ط: سعید)
’’ولهذا كانت السنة المؤكدة قريبة من الواجب في لحوق الإثم، كما في البحر ويستوجب تاركها التضليل واللوم، كما في التحرير، أي على سبيل الإصرار بلا عذر.‘‘
(فتاویٰ شامی, جلد۲ ، ص:۱۲، ط: سعید)
"تركه لايوجب إساءةً ولا عتابًا كترك سنة الزوائد، لكن فعله أفضل."
(فتاویٰ شامی, جلد۱، ص:۴۷۷، ط: سعید)
"الحرام: هو ما ثبت بدليل قطعي دلالةً وثبوتاً مع الشدة في المنع وهو في مقابلة الفرض من المأمورات عند الحنفية."
(تلخیص الاصول, جلد۱ ص:۲۸، ط: مرکز المخطوطات والتراث)
دارالافتاء : جامعہ علوم اسلامیہ علامہ محمد یوسف بنوری ٹاؤن, فتویٰ نمبر : 144412100697
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
আব্দুল কাইয়ুম
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১