জীবিত অবস্থায় সন্তানদের মাঝে সম্পত্তি বণ্টনের বিধান
প্রশ্নঃ ১২১৬৮৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, কোনো ব্যক্তির জন্য মৃত্যর পূর্বে সম্পত্তি বন্টন উচিত নয়।যদি কেউ বন্টন করে তাহলে কি সকল ওয়ারিশ সমান ভাগ পাবে?যেমন ছেলে যদি ১ শতাংশ পায় মেয়েও কি ১ শতাংশ পাবে?
৯ অক্টোবর, ২০২৫
শ্রীরামপুর
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় ভাই, যদি কেউ জীবিত অবস্থায় ওয়ারাসতের (উত্তরাধিকার) অংশ অনুযায়ী সম্পদ বণ্টন করে দেন, তবে তা জায়েজ। এ বিষয়ে فتاویٰ ہندیہ (ফাতাওয়া হিন্দিয়া) ও অন্যান্য ফিকহ গ্রন্থে স্পষ্ট বক্তব্য উল্লেখ রয়েছে।
* যেহেতু জীবিত অবস্থায় সম্পদ বণ্টন করা আসলে "হিবা" (উপহার) হিসেবে গণ্য হয়, তাই ছেলে ও মেয়েকে সমান সমান দেওয়া উত্তম; তবে ওয়ারাসতের হিসাব অনুযায়ী বণ্টন করা হলেও তা অনুমোদিত।
* প্রত্যেক ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় নিজ সম্পদের পূর্ণ মালিক ও কর্তৃত্ববান। তিনি তার সম্পত্তিতে যে কোনো শরীয়তসম্মত ব্যবহার বা বণ্টন করতে পারেন, কেউ তাকে তার নিজের মালিকানার ব্যাপারে বাধা দিতে পারে না।
* তাছাড়া শরীয়ত অনুযায়ী মাতা-পিতা জীবিত থাকা অবস্থায় সন্তানদের তাদের সম্পত্তিতে কোনো অংশ বা অধিকার থাকে না। অতএব, কোনো সন্তান বা উত্তরাধিকারী তার থেকে সম্পদ দাবি করার অধিকার রাখে না।
* তবে যদি সম্পত্তির মালিক (যেমন পিতা) জীবিত অবস্থায় নিজ ইচ্ছা ও সন্তুষ্টি নিয়ে তার সম্পদ সন্তানদের মাঝে বণ্টন করতে চান, তাহলে তা করা জায়েজ। এবং জীবিত অবস্থায় করা এই বণ্টনকে “হিবা” (উপহার) বলা হয়, এবং শরীয়ত অনুযায়ী সন্তানদের মাঝে "হিবা" করলে সমতা বজায় রাখা জরুরি।
* রাসূলুল্লাহ ﷺ সন্তানদের মাঝে হিবায় প্রদানে সমতা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, যেমন হযরত নু‘মান ইবনে বশীর (রা.) এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে,
أن أباه أتى به إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: إني نحلت ابني هذا غلاماً، فقال: «أكل ولدك نحلت مثله؟» قال: لا قال: «فأرجعه» . وفي رواية ...... قال: «فاتقوا الله واعدلوا بين أولادكم»".
উক্ত হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«فَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْدِلُوا بَيْنَ أَوْلاَدِكُمْ»
“আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের সন্তানদের মাঝে ন্যায়বিচার করো।” (সহীহ বুখারী - ২৫৮৭)
* সম্পত্তি জীবিত অবস্থায় সন্তানদের মাঝে হিবা করার শরীয়তসম্মত পদ্ধতি হলো:
১- প্রথমে মালিক নিজের জন্য যতটা ইচ্ছা রেখে দেবে, যাতে প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারেন।
২- তারপর নিজের স্ত্রীকে যতটা দিতে চান, দিতে পারেন — উত্তম হলো অষ্টমাংশ (১/৮) দেওয়া।
৩- বাকি সম্পদ সকল সন্তানদের মাঝে সমানভাবে বণ্টন করবেন — অর্থাৎ, ছেলেকে যতটা দিবে, মেয়েকেও ততটাই দিবে, কাউকে বঞ্চিত করা বা অযথা কম-বেশি দেওয়া গুনাহ এবং এমন বণ্টন অন্যায় হিসেবে গণ্য হবে।
তবে যদি কোনো যৌক্তিক কারণে, যেমন,
(ক) কারও ধর্মনিষ্ঠা ও ভালো চরিত্রের জন্য, অথবা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হওয়ার কারণে, কিংবা অধিক সেবা-পরিচর্যা করার কারণে, কোনো এক সন্তানকে অন্যদের তুলনায় কিছু বেশি দিতে চান, তাহলে এর অনুমতি রয়েছে।
(খ) আর যদি মালিক তার কিছু সন্তানকে কিছু দিতে চান এবং অন্য সন্তানেরা আন্তরিকভাবে রাজি থাকে, এবং সেখানে কোনো চাপ বা জুলুম না থাকে, এবং মালিকের উদ্দেশ্যও অন্যদের বঞ্চিত করা নয়, বরং ন্যায্য কোনো কারণে কিছু সন্তানকে দিতে চান, তাহলে সেটিও জায়েজ।
(الفتاوى الهنية، كتاب الهبة وفيه اثنا عشر بابا، الباب الأول تفسير الهبة وركنها وشرائطها وأنواعها وحكمها، الباب السادس في الهبة للصغير 4\391)
ولو وهب رجل شيئا لأولاده في الصحة وأراد تفضيل البعض على البعض في ذلك لا رواية لهذا في الأصل عن أصحابنا، وروي عن أبي حنيفة - رحمه الله تعالى - أنه لا بأس به إذا كان التفضيل لزيادة فضل له في الدين، وإن كانا سواء يكره وروى المعلى عن أبي يوسف - رحمه الله تعالى - أنه لا بأس به إذا لم يقصد به الإضرار، وإن قصد به الإضرار سوى بينهم يعطي الابنة مثل ما يعطي للابن وعليه الفتوى هكذا في فتاوى قاضي خان وهو المختار، كذا في الظهيرية.
رجل وهب في صحته كل المال للولد جاز في القضاء ويكون آثما فيما صنع، كذا في فتاوى قاضي خان. وإن كان في ولده فاسق لا ينبغي أن يعطيه أكثر من قوته كي لا يصير معينا له في المعصية، كذا في خزانة المفتين.
ولو كان ولده فاسقا وأراد أن يصرف ماله إلى وجوه الخير ويحرمه عن الميراث هذا خير من تركه، كذا في الخلاصة.
ولو كان الولد مشتغلا بالعلم لا بالكسب فلا بأس بأن يفضله على غيره، كذا في الملتقط.
"مغني المحتاج" (3/ 567)
استثنى العلماء الولد العاق من العدل بين الأبناء في الأعطيات، قال الإمام الشربيني رحمه الله: "يُستثنى العاق والفاسق إذا عُلم أنه يصرفه في المعاصي؛ فلا يكره حرمانه"
"الموطأ" (4/ 1089)
كما عدّوا زيادة الفضل سببًا في التفضيل؛ لما روى الإمام مالك عن عائشةَ زَوجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أن "أَبا بَكرٍ الصِّدِّيقَ كانَ نَحَلَها جَادَّ عِشْرِينَ وَسْقًا مِن مَالِهِ بِالغَابَةِ" .
"تحفة المحتاج" (6/ 308).
قال الإمام ابن حجر رحمه الله: "لو أحرم فاسقًا لئلا يصرفه في معصية، أو عاقًا، أو زاد أو آثر الأحوج، أو المتميز بنحو فضل كما فعله الصديق مع عائشة رضي الله تعالى عنهما [لم يُكره]"
"نهاية المحتاج" (5/ 416)
وأجاز العلماء للأب أيضًا أن يعود في هبته لابنه العاق بعد إنذاره، قال الإمام الرملي رحمه الله: "فإنْ وجد [سببًا للرجوع في الهبة] ككون الولد عاقًّا، أو يصرفه في معصية، أنذره به [أي باسترداد الهبة]، فإن أصر [الولد العاق أو العاصي] لم يُكره [أي استرداد الهبة منه]" ،
فإذا كان استرداد العطية جائزًا، فمن باب أولى حرمانه منها ابتداءً.
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
আব্দুল কাইয়ুম
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১