হাদীস অনুসন্ধানের ফলাফল
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩২৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যে মহিলাকে বিয়ে করার ইচ্ছা জাগে, তাকে একবার দেখে নেওয়া গুনাহ নয় বরং উত্তম
৩২৪. হযরত মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা যখন কোন লোকের অন্তরে কোন মহিলাকে বিয়ে করার প্রস্তাব প্রেরণের বাসনা ঢেলে দেন তখন তার জন্য তাকে একবার দেখা গুনাহ নয়। (আহমাদ, ইবনে মাজাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مَسْلَمَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا أَلْقَى اللَّهُ فِي قَلْبِ امْرِئٍ خِطْبَةَ امْرَأَةٍ فَلاَ بَأْسَ أَنْ يَنْظُرَ إِلَيْهَا. (رواه احمد وابن ماجه)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩২৫
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মৃতের গোসল ও কাফন
আল্লাহর যে বান্দা মৃত্যুবরণ করে দুনিয়া থেকে আখিরাতের পথে পাড়ি জমায়—ইসলামী শরীআত তাকে সম্মানজনকভাবে বিদায় জানানোর একটি বিশেষ পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে পবিত্র, ইবাদাতসমৃদ্ধ, সমবেদনা-পরিপূর্ণ সম্মানজনক একটি পদ্ধতি। প্রথমত মৃতকে এমনভাবে গোসল দিতে হবে যেমন জীবিত অপবিত্র মানুষ ভালভাবে গোসল করে পবিত্রতা অর্জন করে থাকে। এ গোসলে পবিত্রতা অর্জন ছাড়াও গোসলের বিশেষ নিয়ম-কানুনের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। গোসলের সময় পানিতে এমন বস্তু মিশানো উচিত জীবদ্দশায় মানুষ যা ব্যবহার করে, তাছাড়া কর্পূর জাতীয় সুগন্ধি পানিতে মিশানো যেতে পারে। এতে মৃতের শরীর পবিত্র হওয়ার পাশাপাশি সুগন্ধিময় হয়ে উঠবে। তারপর অত্যন্ত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাপড় দিয়ে কাপন পরাতে হবে। কিন্তু কোন অবস্থায় অপচয় করা যাবে না। এরপর জামা'আতের সাথে তার জানাযার সালাতের ব্যবস্থা করতে হবে এবং তার জন্য দু'আ ও মাগফিরাত কামনা করতে হবে। এরপর শেষ বিদায় জানানোর উদ্দেশ্যে গোরস্থান যাওয়া উচিত। এরপর অত্যন্ত সম্মানের সাথে তাকে কবরে রেখে আল্লাহর রহমতের হাতে ন্যস্ত করে আসতে হবে। এ পর্যায়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বাণী ও হিদায়াত সমৃদ্ধ নিম্নোক্ত হাদীসসমূহ পাঠ করা যেতে পারে।
আল্লাহর যে বান্দা মৃত্যুবরণ করে দুনিয়া থেকে আখিরাতের পথে পাড়ি জমায়—ইসলামী শরীআত তাকে সম্মানজনকভাবে বিদায় জানানোর একটি বিশেষ পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে পবিত্র, ইবাদাতসমৃদ্ধ, সমবেদনা-পরিপূর্ণ সম্মানজনক একটি পদ্ধতি। প্রথমত মৃতকে এমনভাবে গোসল দিতে হবে যেমন জীবিত অপবিত্র মানুষ ভালভাবে গোসল করে পবিত্রতা অর্জন করে থাকে। এ গোসলে পবিত্রতা অর্জন ছাড়াও গোসলের বিশেষ নিয়ম-কানুনের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। গোসলের সময় পানিতে এমন বস্তু মিশানো উচিত জীবদ্দশায় মানুষ যা ব্যবহার করে, তাছাড়া কর্পূর জাতীয় সুগন্ধি পানিতে মিশানো যেতে পারে। এতে মৃতের শরীর পবিত্র হওয়ার পাশাপাশি সুগন্ধিময় হয়ে উঠবে। তারপর অত্যন্ত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাপড় দিয়ে কাপন পরাতে হবে। কিন্তু কোন অবস্থায় অপচয় করা যাবে না। এরপর জামা'আতের সাথে তার জানাযার সালাতের ব্যবস্থা করতে হবে এবং তার জন্য দু'আ ও মাগফিরাত কামনা করতে হবে। এরপর শেষ বিদায় জানানোর উদ্দেশ্যে গোরস্থান যাওয়া উচিত। এরপর অত্যন্ত সম্মানের সাথে তাকে কবরে রেখে আল্লাহর রহমতের হাতে ন্যস্ত করে আসতে হবে। এ পর্যায়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বাণী ও হিদায়াত সমৃদ্ধ নিম্নোক্ত হাদীসসমূহ পাঠ করা যেতে পারে।
৩২৫. হযরত উম্মু আতিয়্যা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমরা রাসূল তনয়াকে গোসল দানকালে রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের নিকট এলেন। তিনি বললেন: তাকে তিনবার অথবা পাঁচবার কিংবা প্রয়োজন মনে করলে আরো অধিক বার বরই কচিপাতা দিয়ে পানি গরম করে গোসল দাও। সবশেষে কর্পূর মিশিয়ে দেবে। তোমাদের গোসল দেওয়া শেষ হলে আমাকে জানাবে। আমরা গোসল কার্য শেষ করে তাঁকে জানালাম। তিনি তাঁর তহবন্দ দিয়ে বললেন: এটা তাঁর শরীরের সাথে লাগিয়ে পরিয়ে দাও। অন্য বর্ণনায় আছে, তোমরা তাকে তিনবার, পাঁচবার কিংবা সাতবার-বেজোড় গোসল দাও এবং তোমরা ডানদিক থেকে এবং উযূর অঙ্গসমূহ থেকে ধোয়া শুরু করো। (বুখারী ও মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، قَالَتْ : دَخَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ نَغْسِلُ ابْنَتَهُ ، فَقَالَ : « اغْسِلْنَهَا ثَلاَثًا ، أَوْ خَمْسًا ، أَوْ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ ، إِنْ رَأَيْتُنَّ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ ، وَاجْعَلْنَ فِي الآخِرَةِ كَافُورًا ، أَوْ شَيْئًا مِنْ كَافُورٍ فَإِذَا فَرَغْتُنَّ ، فَآذِنَّنِي » قَالَتْ : فَلَمَّا فَرَغْنَا آذَنَّاهُ ، فَأَلْقَى إِلَيْنَا حِقْوَهُ ، فَقَالَ : « أَشْعِرْنَهَا إِيَّاهُ » وَفىْ رِوَايَةٍ اغْسِلْنَهَا وِتْرًا ثَلَاثًا ، أَوْ خَمْسًا أَوْ سَبْعًا وَابْدَأْنَ بِمَيَامِنِهَا ، وَمَوَاضِعِ الوُضُوءِ مِنْهَا. (رواه البخارى ومسلم)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩২৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যে মহিলাকে বিয়ে করার ইচ্ছা জাগে, তাকে একবার দেখে নেওয়া গুনাহ নয় বরং উত্তম
৩২৫. হযরত মুগীরা ইবনে শু'বা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক মহিলার জন্য বিয়ের প্রস্তাব দিলাম (অথবা প্রস্তাব দেওয়ার ইচ্ছা করলাম) তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বললেন, তুমি কি তাকে দেখেছ? আমি বললাম, জি-না। তিনি বললেন, তাহলে তাকে এক নজর দেখে নাও। এটা তোমাদের উভয়ের মধ্যে ভালবাসা বিষয়ে অধিক সহায়ক হবে। (আহমদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ الْمُغِيرَةِ بْنَ شُعْبَةَ قَالَ خَطَبْتُ امْرَأَةً فَقَالَ لَيْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَلْ نَظَرْتَ إِلَيْهَا؟ قُلْتُ لاَ. قَالَ: فَانْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّهُ أَحْرَى أَنْ يُؤْدَمَ بَيْنَكُمَا. (رواه احمد والترمذى والنسائى وابن ماجه)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩২৬
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কাফনে কয়টি কাপড় হবে এবং তা কিরূপ হওয়া বাঞ্ছনীয়?
৩২৬. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ কে তিনটি সাদা সাহুলী সূতি কাপড় দিয়ে কাফন দেওয়া হয়েছিল। তবে কাপড়সমূহের মধ্যে কামিস ও পাগড়ী ছিল না। (বুখারী ও মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا : « أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُفِّنَ فِي ثَلاَثَةِ أَثْوَابٍ يَمَانِيَةٍ بِيضٍ ، سَحُولِيَّةٍ لَيْسَ فِيهِنَّ قَمِيصٌ وَلاَ عِمَامَةٌ » (رواه البخارى ومسلم)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩২৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ প্রস্তাবের ওপর প্রস্তাব না দেয়া
৩২৬. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, কোন পুরুষ যেন তার ভাই এর প্রস্তাবের ওপর প্রস্তাব না দেয়, যতক্ষণ না সে বিয়ে করে নেয় অথবা প্রস্তাব ছেড়ে দেয় (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ يَخْطُبُ الرَّجُلُ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ، حَتَّى يَنْكِحَ، أَوْ يَتْرُكَ. (رواه البخارى ومسلم)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩২৭
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কাফনে কয়টি কাপড় হবে এবং তা কিরূপ হওয়া বাঞ্ছনীয়?
৩২৭. হযরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন তার ভাইকে (কোন মুসলমানকে) কাফন পরায় সে যেন তাকে উত্তমরূপে কাফন পরায়। (মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ جَابِرٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « إِذَا كَفَّنَ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ فَلْيُحْسِنْ كَفَنَهُ » (رواه مسلم)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩২৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিয়ের ব্যাপারে কনের সম্মতি ও ওলীর স্থান।
৩২৭. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, স্বামী দর্শনকারী নারীর স্বীয় সত্তা সম্বন্ধে তার ওলী থেকে অধিক অধিকার রয়েছে এবং কুমারী মেয়ের পিতা তার সত্তা সম্বন্ধে তার সম্মতি গ্রহণ করবে। আর তার মৌনতা হচ্ছে তার সম্মতি। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الثَّيِّبُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا وَالْبِكْرُ يَسْتَأْذِنُهَا أَبُوهَا فِي نَفْسِهَا وَإِذْنُهَا صُمَاتُهَا. (رواه مسلم)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩২৮
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কাফনে কয়টি কাপড় হবে এবং তা কিরূপ হওয়া বাঞ্ছনীয়?
৩২৮. হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: তোমরা সাদা কাপড় পরিধান করবে, কেননা কাপড়সমূহের মধ্যে সাদা কাপড় উত্তম এবং সাদা কাপড় দ্বারাই তোমাদের মৃতদের কাফন দিবে। (আবূ দাউদ, তিরমিযী ও ইবনে মাজা)
کتاب الصلوٰۃ
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : البَسُوا مِنْ ثِيَابِكُمُ البَيَاضَ ، فَإِنَّهَا مِنْ خَيْرِ ثِيَابِكُمْ ، وَكَفِّنُوا فِيهَا مَوْتَاكُمْ. (رواه ابوداؤد والترمذى وابن ماجه)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩২৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিয়ের ব্যাপারে কনের সম্মতি ও ওলীর স্থান।
৩২৮. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, স্বামী দর্শনকারী নারীকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে করা হবে না। আর কুমারী মেয়েকে তার সম্মতি ছাড়া বিয়ে করা যাবে না। জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তার সম্মতি কিরূপ? তিনি বললেন, (জিজ্ঞাসা অন্তে) তার নিশ্চুপ হয়ে যাওয়া তার সম্মতি বুঝা যাবে। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ولاَ تُنْكَحُ الْاَيَّمُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ. وَلاَ تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ، قَالَوْا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ إِذْنُهَا قَالَ: أَنْ تَسْكُتَ. (رواه البخارى ومسلم)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩২৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিয়ের ব্যাপারে কনের সম্মতি ও ওলীর স্থান।
৩২৯. হযরত আবূ মূসা আশ'আরী (রা) রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণনা করেন যে, ওলী ছাড়া বিয়ে হয় না। (আহমদ, তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, দারিমী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَن أَبِي مُوسَى عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ نِكَاحَ إِلاَّ بِوَلِيٍّ. (رواه احمد والترمذى وابو داؤد وابن ماجه والدارمى)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩২৯
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কাফনে কয়টি কাপড় হবে এবং তা কিরূপ হওয়া বাঞ্ছনীয়?
৩২৯. হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: তোমরা বেশী দামী কাপড় কাফনরূপে ব্যবহার করো না, কেননা তা অচিরেই নষ্ট হযে যাবে। (আবু দাউদ)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ عَلِىٍّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَا تَغَالَوْا فِي الْكَفَنِ ، فَإِنَّهُ يُسْلَبُهُ سَرِيعًا. (رواه ابوداؤد)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৩০
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জানাযার (লাশের) পেছনে পেছনে যাওয়া এবং জানাযার সালাত আদায়ের সাওয়াব
৩৩০. হযরত আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় কোন মুসলমানের লাশের অনুসরণ করে এবং জানাযা ও দাফনে অংশগ্রহণ করে সে দুই 'কীরাত' সাওয়াব নিয়ে প্রত্যাবর্তন করে। (বুখারী ও মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « مَنِ اتَّبَعَ جَنَازَةَ مُسْلِمٍ ، إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا ، وَكَانَ مَعَهُ حَتَّى يُصَلَّى عَلَيْهَا وَيَفْرُغَ مِنْ دَفْنِهَا ، فَإِنَّهُ يَرْجِعُ مِنَ الأَجْرِ بِقِيرَاطَيْنِ ، كُلُّ قِيرَاطٍ مِثْلُ أُحُدٍ ، وَمَنْ صَلَّى عَلَيْهَا ثُمَّ رَجَعَ قَبْلَ أَنْ تُدْفَنَ ، فَإِنَّهُ يَرْجِعُ بِقِيرَاطٍ » (رواه البخارى ومسلم)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৩০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিয়ে গোপনে না হয়ে প্রকাশ্যে হওয়া আবশ্যক
৩৩০. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ঘোষণার মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন কর এবং তা মসজিদে অনুষ্ঠিত কর। আর তাতে দফ্ বাজাও। (তিরমিযী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَعْلِنُوا هَذَا النِّكَاحَ وَاجْعَلُوهُ فِي الْمَسَاجِدِ وَاضْرِبُوا عَلَيْهِ بِالدُّفُوفِ. (رواه الترمذى)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৩১
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জানাযার পেছনে দ্রুত চলা এবং তাড়াতাড়ি করার নির্দেশ
৩৩১. হযরত আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: মৃতকে তাড়াতাড়ি দাফন করে দাও। যদি সে সৎকর্মশীল হয়, তবে তাকে কল্যাণের দিকে অগ্রসর করে দিলে। পক্ষান্তরে যদি অন্য কিছু হয়, তবে মন্দকে তোমার কাঁধ থেকে সরিয়ে দিলে। (বুখারী ও মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « أَسْرِعُوا بِالْجِنَازَةِ ، فَإِنْ تَكُ صَالِحَةً فَخَيْرٌ تُقَدِّمُونَهَا ، وَإِنْ يَكُ سِوَى ذَلِكَ ، فَشَرٌّ تَضَعُونَهُ عَنْ رِقَابِكُمْ » (رواه البخارى ومسلم)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৩১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিয়ের জন্য সাক্ষী প্রয়োজন
৩৩১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে মহিলা নিজের বিয়ে সাক্ষী ছাড়া করল, সে ব্যভিচারিণী। (তিরমিযী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: الْبَغَايَا الَّتِي يُنْكِحْنَ أَنْفُسَهُنَّ بِغَيْرِ بَيِّنَةٍ. (رواه الترمذى)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৩২
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জানাযার সালাত এবং মৃতের জন্য দু'আ
৩৩২. হযরত আবূ হুরায়ারা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: তোমরা যখন কোন মৃতের জানাযার সালাত আদায় করবে, তখন তার জন্য নিষ্ঠার সাথে দু'আ করবে। (আবূ দাউদ ও ইবনে মাজাহ)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « إِذَا صَلَّيْتُمْ عَلَى الْمَيِّتِ ، فَأَخْلِصُوا لَهُ الدُّعَاءَ » (رواه ابوداؤد وابن ماجه)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৩২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিয়ের খুৎবা
৩৩২. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে (বিয়ে ইত্যাদি) সব গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন-এ খুৎবা শিক্ষা দিয়েছেন:
إنَّ الحمدَ للهِ، نَستعينُه ونَستغفِرُه، ونَعوذُ باللهِ مِن شُرورِ أنفُسِنا، مَن يَهدِه اللهُ فلا مُضِلَّ له، ومَن يُضلِلْ فلا هاديَ له، وأشهَدُ أنْ لا إلهَ إلَّا اللهُ وأشْهَدُ أنَّ محمَّدًا عبْدُه ورَسولُه، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} (آل عمران: 102)، {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} (النساء: 1)، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا} (الأحزاب: 70).
সব প্রশংসা আল্লাহরই জন্য উপযুক্ত। আমরা (নিজেদের সব প্রয়োজন ও সব বাসনায়) তাঁরই সাহায্য প্রার্থনাকারী। আর তাঁরই কাছে (নিজেদের ত্রুটি ও গুনাহ সমূহের) ক্ষমা চাই। স্বীয় আত্মার অনিষ্ট সমূহ থেকে আল্লাহরই আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে কেউ গোমরাহ করতে পারে না। আর যার জন্য আল্লাহ হিদায়াত বঞ্চিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাকে কেউ হিদায়াত করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি-আল্লাহ ছাড়া কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নাই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ ﷺ তাঁর বান্দা ও সত্য রাসূল।
হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞ্চা কর এবং সতর্ক থাক জ্ঞাতি বন্ধন সম্পর্কে। আল্লাহ তোমাদের প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন (তোমাদের সব কাজ দেখেন)। হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় কর এবং তোমরা আত্মসমর্পণকারী না হয়ে কোন অবস্থায়ই মরবেনা। হে মু'মিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। তা হলে তিনি তোমাদের কাজকে ত্রুটিমুক্ত করবেন এবং তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করবেন। যারা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে তারা অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করবে। (আবু দাউদ, আহমদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।
إنَّ الحمدَ للهِ، نَستعينُه ونَستغفِرُه، ونَعوذُ باللهِ مِن شُرورِ أنفُسِنا، مَن يَهدِه اللهُ فلا مُضِلَّ له، ومَن يُضلِلْ فلا هاديَ له، وأشهَدُ أنْ لا إلهَ إلَّا اللهُ وأشْهَدُ أنَّ محمَّدًا عبْدُه ورَسولُه، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} (آل عمران: 102)، {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} (النساء: 1)، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا} (الأحزاب: 70).
সব প্রশংসা আল্লাহরই জন্য উপযুক্ত। আমরা (নিজেদের সব প্রয়োজন ও সব বাসনায়) তাঁরই সাহায্য প্রার্থনাকারী। আর তাঁরই কাছে (নিজেদের ত্রুটি ও গুনাহ সমূহের) ক্ষমা চাই। স্বীয় আত্মার অনিষ্ট সমূহ থেকে আল্লাহরই আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে কেউ গোমরাহ করতে পারে না। আর যার জন্য আল্লাহ হিদায়াত বঞ্চিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাকে কেউ হিদায়াত করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি-আল্লাহ ছাড়া কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নাই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ ﷺ তাঁর বান্দা ও সত্য রাসূল।
হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞ্চা কর এবং সতর্ক থাক জ্ঞাতি বন্ধন সম্পর্কে। আল্লাহ তোমাদের প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন (তোমাদের সব কাজ দেখেন)। হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় কর এবং তোমরা আত্মসমর্পণকারী না হয়ে কোন অবস্থায়ই মরবেনা। হে মু'মিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। তা হলে তিনি তোমাদের কাজকে ত্রুটিমুক্ত করবেন এবং তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করবেন। যারা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে তারা অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করবে। (আবু দাউদ, আহমদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدُ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: عَلَّمَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُطْبَةَ الْحَاجَةِ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ» {يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}، {يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلا سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا}. (فى شرح السنة عن ابن مسعود فى خطبة الحاجة من النكاح وغيره)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৩৩
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জানাযার সালাত এবং মৃতের জন্য দু'আ
৩৩৩. হযরত আওফ ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ জানাযার সালাত আদায় কালে যে দু'আ পাঠ করতেন আমি তা মুখস্থ করে নিয়েছি। তিনি বলেছেন:
«اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ، وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ، وَأكْرِمْ نُزُلَهُ، وَوَسِّعْ مُدْخَلَهُ، وَاغْسِلْهُ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالبَرَدِ، وَنَقِّهِ مِنَ الخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَس، وَأَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِنْ دَارِهِ، وَأَهْلًا خَيرًا مِنْ أَهْلِهِ، وَزَوْجًا خَيْرًا مِنْ زَوْجِهِ، وَأَدْخِلْهُ الجَنَّةَ، وَأَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَمِنْ عَذَابِ النَّارِ»
"হে আল্লাহ্! তাকে ক্ষমা কর, তাকে দয়া কর, তাকে শান্তিতে রাখ, তাকে সম্মানজনকভাবে আপ্যায়ন কর, তার কবরকে প্রশস্ত করে দাও, তাকে ধুয়ে মুছে নাও পানি দ্বারা, বরফ দ্বারা ও শিলা বৃষ্টির পানি দ্বারা। তাকে এমনভাবে পাপমুক্ত করে দাও, যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। তাকে তার (দুনিয়ার) ঘর থেকে উত্তম ঘর দান কর, তার পরিবার থেকে উত্তম পরিবার ও তার স্ত্রী হতে উত্তম স্ত্রী দান কর। তাকে কবরের ও জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা কর।" বর্ণনাকারী বলেন, (নবী কারীম ﷺ এই দু'আ করায়) আমি আকাঙক্ষা করেছিলাম আমি যদি এই মৃত ব্যক্তি হতাম। (মুসলিম)
«اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ، وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ، وَأكْرِمْ نُزُلَهُ، وَوَسِّعْ مُدْخَلَهُ، وَاغْسِلْهُ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالبَرَدِ، وَنَقِّهِ مِنَ الخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَس، وَأَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِنْ دَارِهِ، وَأَهْلًا خَيرًا مِنْ أَهْلِهِ، وَزَوْجًا خَيْرًا مِنْ زَوْجِهِ، وَأَدْخِلْهُ الجَنَّةَ، وَأَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَمِنْ عَذَابِ النَّارِ»
"হে আল্লাহ্! তাকে ক্ষমা কর, তাকে দয়া কর, তাকে শান্তিতে রাখ, তাকে সম্মানজনকভাবে আপ্যায়ন কর, তার কবরকে প্রশস্ত করে দাও, তাকে ধুয়ে মুছে নাও পানি দ্বারা, বরফ দ্বারা ও শিলা বৃষ্টির পানি দ্বারা। তাকে এমনভাবে পাপমুক্ত করে দাও, যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। তাকে তার (দুনিয়ার) ঘর থেকে উত্তম ঘর দান কর, তার পরিবার থেকে উত্তম পরিবার ও তার স্ত্রী হতে উত্তম স্ত্রী দান কর। তাকে কবরের ও জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা কর।" বর্ণনাকারী বলেন, (নবী কারীম ﷺ এই দু'আ করায়) আমি আকাঙক্ষা করেছিলাম আমি যদি এই মৃত ব্যক্তি হতাম। (মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ : صَلَّى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى جَنَازَةٍ ، فَحَفِظْتُ مِنْ دُعَائِهِ وَهُوَ يَقُولُ : « اللهُمَّ ، اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ ، وَأَكْرِمْ نُزُلَهُ ، وَوَسِّعْ مُدْخَلَهُ ، وَاغْسِلْهُ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ ، وَنَقِّهِ مِنَ الْخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الْأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ ، وَأَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِنْ دَارِهِ ، وَأَهْلًا خَيْرًا مِنْ أَهْلِهِ وَزَوْجًا خَيْرًا مِنْ زَوْجِهِ ، وَأَدْخِلْهُ الْجَنَّةَ وَأَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَ مِنْ عَذَابِ النَّارِ قَالَ : « حَتَّى تَمَنَّيْتُ أَنْ أَكُونَ أَنَا ذَلِكَ الْمَيِّتَ » (رواه مسلم)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৩৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মহরের গুরুত্ব ও এর আবশ্যকতা
উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা)-এর সেই বর্ণনা যা সহীহ বুখারীর বরাতে বিয়ের ধারাবাহিকতায় সর্ব প্রথমে উল্লেখ করা হয়েছে, তা থেকে জানা গেল যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নবুওয়াতের পূর্বে জাহিনী যুগে বিয়ের যে সম্মানজনক প্রথা আরববাসীর মধ্যে ছিল, তাতেও মহর নির্ধারণ করা হত। অর্থাৎ বিবাহকারী পুরুষের জন্য প্রয়োজন হত যে, স্ত্রীকে এক নিদিষ্ট পরিমাণ অর্থ আদায় করে নিজের জিম্মায় গ্রহণ করবে। ইসলামে এ প্রথা বহাল রাখা হয়েছে। মহর এ কথার প্রতীক যে, কোন মহিলাকে বিয়েকারী পুরুষ মহিলাটির প্রার্থী ও আকাঙ্খী এবং সে স্বীয় অবস্থা ও ক্ষমতা অনুযায়ী তাকে মহরের উপঢৌকন পেশ করছে, অথবা ইহা পরিশোধের দায়িত্ব নিজের জিম্মায় নিয়ে নিচ্ছে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ মহরের কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করেননি। কেননা, বিয়েকারীদের অবস্থা, তাদের প্রাচুর্য ও সামর্থ্য ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। বস্তুত রাসূলুল্লাহ ﷺ আপন কন্যাগণের মহর পাঁচশ দিরহাম (অথবা এর কাছাকাছি) নির্ধারণ করেন। আর তাঁর অধিকাংশ পবিত্র স্ত্রীগণের মহরও এরূপই ছিল। তবে হুজুর ﷺ-এর কালে এবং তাঁর সাক্ষাতে এ থেকে বহু কম ও বহু বেশিও মহর নির্ধারণ করা হত। হজুর ﷺ-এর কন্যাগণের ও পবিত্র স্ত্রীগণের মহর অনুসরণ আবশ্যক বলে মনে করা হত না।
মহরের ব্যাপারে কুরআন ও হাদীসের নির্দেশাবলী থেকে এটাও জানা যায় যে, এটা নিছক কাল্পনিক ও পদ্ধতিগত ব্যাপার নয় এবং মৌখিক জমাখরচ জাতীয় বিষয়ও নয়। বরং এটা পরিশোধ করা স্বামীর জন্য অপরিহার্য। তবে স্ত্রী স্বয়ং নিতে না চাইলে ভিন্ন কথা।
কুরআন পাকে স্পষ্ট বলা হয়েছে- وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً “তোমরা নারীদেরকে তাদের মহর স্বেচ্ছায় প্রদান কর।” (আল-কুরআন ৪:৪)
এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ যে তাকীদ ও কঠোর বাণী উচ্চারণ করেছেন তা সামনে লিপিবদ্ধ কোন কোন হাদীস থেকে জানা যাবে।
উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা)-এর সেই বর্ণনা যা সহীহ বুখারীর বরাতে বিয়ের ধারাবাহিকতায় সর্ব প্রথমে উল্লেখ করা হয়েছে, তা থেকে জানা গেল যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নবুওয়াতের পূর্বে জাহিনী যুগে বিয়ের যে সম্মানজনক প্রথা আরববাসীর মধ্যে ছিল, তাতেও মহর নির্ধারণ করা হত। অর্থাৎ বিবাহকারী পুরুষের জন্য প্রয়োজন হত যে, স্ত্রীকে এক নিদিষ্ট পরিমাণ অর্থ আদায় করে নিজের জিম্মায় গ্রহণ করবে। ইসলামে এ প্রথা বহাল রাখা হয়েছে। মহর এ কথার প্রতীক যে, কোন মহিলাকে বিয়েকারী পুরুষ মহিলাটির প্রার্থী ও আকাঙ্খী এবং সে স্বীয় অবস্থা ও ক্ষমতা অনুযায়ী তাকে মহরের উপঢৌকন পেশ করছে, অথবা ইহা পরিশোধের দায়িত্ব নিজের জিম্মায় নিয়ে নিচ্ছে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ মহরের কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করেননি। কেননা, বিয়েকারীদের অবস্থা, তাদের প্রাচুর্য ও সামর্থ্য ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। বস্তুত রাসূলুল্লাহ ﷺ আপন কন্যাগণের মহর পাঁচশ দিরহাম (অথবা এর কাছাকাছি) নির্ধারণ করেন। আর তাঁর অধিকাংশ পবিত্র স্ত্রীগণের মহরও এরূপই ছিল। তবে হুজুর ﷺ-এর কালে এবং তাঁর সাক্ষাতে এ থেকে বহু কম ও বহু বেশিও মহর নির্ধারণ করা হত। হজুর ﷺ-এর কন্যাগণের ও পবিত্র স্ত্রীগণের মহর অনুসরণ আবশ্যক বলে মনে করা হত না।
মহরের ব্যাপারে কুরআন ও হাদীসের নির্দেশাবলী থেকে এটাও জানা যায় যে, এটা নিছক কাল্পনিক ও পদ্ধতিগত ব্যাপার নয় এবং মৌখিক জমাখরচ জাতীয় বিষয়ও নয়। বরং এটা পরিশোধ করা স্বামীর জন্য অপরিহার্য। তবে স্ত্রী স্বয়ং নিতে না চাইলে ভিন্ন কথা।
কুরআন পাকে স্পষ্ট বলা হয়েছে- وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً “তোমরা নারীদেরকে তাদের মহর স্বেচ্ছায় প্রদান কর।” (আল-কুরআন ৪:৪)
এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ যে তাকীদ ও কঠোর বাণী উচ্চারণ করেছেন তা সামনে লিপিবদ্ধ কোন কোন হাদীস থেকে জানা যাবে।
৩৩৩. মাইমুন আল কুরদী কর্তৃক স্বীয় পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন নারীকে কম অথবা দেশি মহরে বিয়ে করল আর তার অন্তরে তার (স্ত্রীর) মহরের হক আদায়ের ইচ্ছা নেই, কিয়ামতের দিন সে আল্লাহর সামনে ব্যভিচারীরূপে উপস্থিত হবে। (তাবরানীর আওসত সগীর)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ مَيْمُونٍ الْكُرْدِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّمَا رَجُلٍ تَزَوَّجَ امْرَأَةً عَلَى مَا قَلَّ مِنَ الْمَهْرِ أَوْ كَثُرَ لَيْسَ فِي نَفْسِهِ أَنْ يُؤَدِّيَ إِلَيْهَا حَقَّهَا لَقِيَ اللَّهَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَهُوَ زَانٍ. (رواه الطبرانى فى الاوسط والصغير)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৩৪
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জানাযার সালাত এবং মৃতের জন্য দু'আ
৩৩৪. হযরত আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বণিত। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন জানাযার সালাত আদায় করতেন তখন এই বলে দু'আ করতেন:
«اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا وَصَغِيرِنَا وَكَبِيرِنَا وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا. اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِسْلَامِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الْإِيمَانِ. اللَّهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ وَلَا تَفْتِنَّا بَعْدَهُ»
"হে আল্লাহ্! তুমি আমাদের জীবিত, মৃত, উপস্থিত অনুপস্থিত, ছোট বড়, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে ক্ষমা কর। হে আল্লাহ্! তুমি আমাদের মধ্যে যাকে জীবিত রাখবে তাকে ইসলামের উপর জীবিত রাখ এবং যাকে মৃত্যু দিবে তাকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দিও। হে আল্লাহ্! তুমি আমাদেরকে সাওয়াব থেকে বঞ্চিত করো না এবং (মৃত্যুর পরে) ফিতনা বা পরীক্ষায় ফেলে দিওনা। "(আবূ দাউদ, তিরমিযী ও ইবনে মাজা)"
«اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا وَصَغِيرِنَا وَكَبِيرِنَا وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا. اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِسْلَامِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الْإِيمَانِ. اللَّهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ وَلَا تَفْتِنَّا بَعْدَهُ»
"হে আল্লাহ্! তুমি আমাদের জীবিত, মৃত, উপস্থিত অনুপস্থিত, ছোট বড়, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে ক্ষমা কর। হে আল্লাহ্! তুমি আমাদের মধ্যে যাকে জীবিত রাখবে তাকে ইসলামের উপর জীবিত রাখ এবং যাকে মৃত্যু দিবে তাকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দিও। হে আল্লাহ্! তুমি আমাদেরকে সাওয়াব থেকে বঞ্চিত করো না এবং (মৃত্যুর পরে) ফিতনা বা পরীক্ষায় ফেলে দিওনা। "(আবূ দাউদ, তিরমিযী ও ইবনে মাজা)"
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى جَنَازَةٍ ، قَالَ : « اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا ، وَمَيِّتِنَا ، وَصَغِيرِنَا ، وَكَبِيرِنَا ، وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا ، وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا ، اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِيمَانِ ، وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الْإِسْلَامِ ، اللَّهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ ، وَلَا تَفْتِنَّا بَعْدَهُ » (رواه احمد وابوداؤد والترمذى وابن ماجه)