কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

كتاب السنن للإمام أبي داود

২. নামাযের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১১৬৫ টি

হাদীস নং: ৮১১
আন্তর্জাতিক নং: ৮১১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৩৮. মাগরিবের নামাযে কিরা’আত পাঠের পরিমাণ।
৮১১. আল-কানবী .... জুবাইর ইবনে মুতইম (রাযিঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে মাগরিবের নামযে সূরা তুর তিলাওয়াত করতে শুনেছি।
كتاب الصلاة
باب قَدْرِ الْقِرَاءَةِ فِي الْمَغْرِبِ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ بِالطُّورِ فِي الْمَغْرِبِ .
হাদীস নং: ৮১২
আন্তর্জাতিক নং: ৮১২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৩৮. মাগরিবের নামাযে কিরা’আত পাঠের পরিমাণ।
৮১২. আল-হাসান ইবনে আলী .... মারওয়ান ইবনুল-হাকাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়দ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) আমাকে জিজ্ঞাসা করেন তুমি মাগরিবের নামাযে “কিসারে মুফাসসাল”* পাঠ কর কেন? অথচ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে মাগরিবের নামাযে দুইটি দীর্ঘ সূরা পড়তে শুনেছি। তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, এই দীর্ঘ সূরা দুইটি কি কি? তিনি বলেন, সূরা আ’রাফ ও সূরা আন’আম। অতঃপর আমি (ইবনে জুরাইজ) এ ব্যাপারে ইবনে আবু মুলায়কাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি নিজের পক্ষ থেকে বলেন, দীর্ঘ সূরা দুইটি হলঃ সূরা আল-মায়েদাহ্ ও সূরা আল-আ’রাফ।

* কিসারে মুফাস্‌সাল হলঃ পবিত্র কুরআনের ২৬তম পারার সূরা হুজুরাত হতে ৩০ নং পারার শেষ সূরা আন-নাস পর্যন্ত ছোট ছোট সূরাগুলি। এই সকল সূরাতে একটিকে অপরটি হতে পৃথক করার জন্য ঘন ঘন বিসমিল্লাহ ব্যবহৃত হয়েছে বলে একে কিসারে মুফাস্সাল বলা হয়।
كتاب الصلاة
باب قَدْرِ الْقِرَاءَةِ فِي الْمَغْرِبِ
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ، قَالَ قَالَ لِي زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ مَا لَكَ تَقْرَأُ فِي الْمَغْرِبِ بِقِصَارِ الْمُفَصَّلِ وَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي الْمَغْرِبِ بِطُولَى الطُّولَيَيْنِ قَالَ قُلْتُ مَا طُولَى الطُّولَيَيْنِ قَالَ الأَعْرَافُ وَالأُخْرَى الأَنْعَامُ . قَالَ وَسَأَلْتُ أَنَا ابْنَ أَبِي مُلَيْكَةَ فَقَالَ لِي مِنْ قِبَلِ نَفْسِهِ الْمَائِدَةُ وَالأَعْرَافُ .
হাদীস নং: ৮১৩
আন্তর্জাতিক নং: ৮১৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৩৯. মাগরিবের নামাযে কিরাআত সংক্ষিপ্ত করা সম্পর্কে।
৮১৩. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... হিশাম ইবনে উরওয়া হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা মাগরিবের নামাযে তোমাদের মত সূরা আল-আদিয়াত এবং এর সম পরিমাণের দীর্ঘ সূরা পাঠ করতেন।
كتاب الصلاة
باب مَنْ رَأَى التَّخْفِيفَ فِيهَا
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، أَنَّ أَبَاهُ، كَانَ يَقْرَأُ فِي صَلاَةِ الْمَغْرِبِ بِنَحْوِ مَا تَقْرَءُونَ ( وَالْعَادِيَاتِ ) وَنَحْوِهَا مِنَ السُّوَرِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ ذَاكَ مَنْسُوخٌ وَهَذَا أَصَحُّ .
হাদীস নং: ৮১৪
আন্তর্জাতিক নং: ৮১৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৩৯. মাগরিবের নামাযে কিরাআত সংক্ষিপ্ত করা সম্পর্কে।
৮১৪. আহমদ ইবনে সাঈদ আস-সারখাসী ..... আমর ইবনে শুআয়ব থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে ফরয নামাযের ইমামতির সময়- মুফাসসালের ছোট-বড় সব সূরাই পাঠ করতে শুনেছি (সূরা হুজুরাত হতে কুরআনের সর্বশেষ সূরা পর্যন্ত- সূরা গুলিকে মুফাসসাল বলা হয়)।
كتاب الصلاة
باب مَنْ رَأَى التَّخْفِيفَ فِيهَا
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ السَّرْخَسِيُّ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْحَاقَ، يُحَدِّثُ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّهُ قَالَ مَا مِنَ الْمُفَصَّلِ سُورَةٌ صَغِيرَةٌ وَلاَ كَبِيرَةٌ إِلاَّ وَقَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَؤُمُّ النَّاسَ بِهَا فِي الصَّلاَةِ الْمَكْتُوبَةِ .
হাদীস নং: ৮১৫
আন্তর্জাতিক নং: ৮১৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৩৯. মাগরিবের নামাযে কিরাআত সংক্ষিপ্ত করা সম্পর্কে।
৮১৫. উবাইদুল্লাহ ইবনে মুআয ..... আবু উছমান আন-নাহদী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিনি ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এর পিছনে মাগরিবের নামায আদায় করেন। তিনি সূরা ইখলাস পাঠ করেন।
كتاب الصلاة
باب مَنْ رَأَى التَّخْفِيفَ فِيهَا
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا قُرَّةُ، عَنِ النَّزَّالِ بْنِ عَمَّارٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، أَنَّهُ صَلَّى خَلْفَ ابْنِ مَسْعُودٍ الْمَغْرِبَ فَقَرَأَ بِـ ( قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ) .
হাদীস নং: ৮১৬
আন্তর্জাতিক নং: ৮১৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৪০. যে ব্যক্তি একই সূরা উভয় রাকআতে পাঠ করে।
৮১৬. আহমদ ইবনে সালেহ ..... মুআয ইবনে আবব্দুল্লাহ আল-জুহানী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জুহায়না গোত্রের এক ব্যক্তি তাকে জানান যে, তিনি নবী (ﷺ)কে ফজরের নামাযের উভয় রাকআতে সূরা (إِذَا زُلْزِلَتِ الأَرْضُ) পড়তে শুনেছেন। তিনি আরো বলেন, আমি জানি না রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভুল বশত এরূপ করেছিলেন না ইচ্ছাকৃতভাবে তা পড়েছিলেন।
كتاب الصلاة
باب الرَّجُلِ يُعِيدُ سُورَةً وَاحِدَةً فِي الرَّكْعَتَيْنِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، عَنِ ابْنِ أَبِي هِلاَلٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْجُهَنِيِّ، أَنَّ رَجُلاً، مِنْ جُهَيْنَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي الصُّبْحِ ( إِذَا زُلْزِلَتِ الأَرْضُ ) فِي الرَّكْعَتَيْنِ كِلْتَيْهِمَا فَلاَ أَدْرِي أَنَسِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمْ قَرَأَ ذَلِكَ عَمْدًا .
হাদীস নং: ৮১৭
আন্তর্জাতিক নং: ৮১৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৪১. ফজরের নামাযের কিরা’আত সম্পর্কে।
৮১৭. ইবরাহীম ইবনে মুসা .... আমর ইবনে হুরায়েছ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন শুনতে পাচ্ছি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ফজরের নামাযে সূরা (তাকবীর) পাঠ করার শব্দ।
كتاب الصلاة
باب الْقِرَاءَةِ فِي الْفَجْرِ
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا عِيسَى، - يَعْنِي ابْنَ يُونُسَ - عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ أَصْبَغَ، مَوْلَى عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ، قَالَ كَأَنِّي أَسْمَعُ صَوْتَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي صَلاَةِ الْغَدَاةِ ( فَلاَ أُقْسِمُ بِالْخُنَّسِ * الْجَوَارِ الْكُنَّسِ ) .
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৮১৮
আন্তর্জাতিক নং: ৮১৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৪২. কোন ব্যক্তি নামাযে (সূরা ফাতিহা অথবা) কিরাত পাঠ ত্যাগ করলে।
৮১৮. আবুল ওয়ালীদ ..... আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, আমরা যেন নামাযের মধ্যে সূরা ফাতিহা এবং তার সাথে আল-কুরআনের সহজপাঠ্য কোন আয়াত পাঠ করি।
كتاب الصلاة
باب مَنْ تَرَكَ الْقِرَاءَةَ فِي صَلاَتِهِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ أُمِرْنَا أَنْ نَقْرَأَ، بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَمَا تَيَسَّرَ .
হাদীস নং: ৮১৯
আন্তর্জাতিক নং: ৮১৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৪২. কোন ব্যক্তি নামাযে (সূরা ফাতিহা অথবা) কিরাত পাঠ ত্যাগ করলে।
৮১৯. ইবরাহীম ইবনে মুসা .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে নির্দেশ দেনঃ তুমি মদীনার রাস্তায় বের হয়ে ঘোষণা দাও যে, কুরআন পাঠ ব্যতীত নামাযই শুদ্ধ হয় না; অন্তত সূরা ফাতিহা এবং তার সাথে সংক্ষিপ্ত কোন সূরা বা আায়াত অবশ্যই মিলাতে হবে।
كتاب الصلاة
باب مَنْ تَرَكَ الْقِرَاءَةَ فِي صَلاَتِهِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا عِيسَى، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مَيْمُونٍ الْبَصْرِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو عُثْمَانَ النَّهْدِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اخْرُجْ فَنَادِ فِي الْمَدِينَةِ أَنَّهُ لاَ صَلاَةَ إِلاَّ بِقُرْآنٍ وَلَوْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَمَا زَادَ " .
হাদীস নং: ৮২০
আন্তর্জাতিক নং: ৮২০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৪২. কোন ব্যক্তি নামাযে (সূরা ফাতিহা অথবা) কিরাত পাঠ ত্যাগ করলে।
৮২০. ইবনে বাশশার .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে নির্দেশ দেন যে, আমি যেন ঘোষণা করে দেই যে, সূরা ফাতিহা এবং তার সাথে আল-কুরআনের কিছু অংশ (সূরা বা আয়াত) না মিলালে কিছুতেই নামায বিশুদ্ধ হবে না।
كتاب الصلاة
باب مَنْ تَرَكَ الْقِرَاءَةَ فِي صَلاَتِهِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ
حَدَّثَنَا ابْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ أُنَادِيَ أَنَّهُ لاَ صَلاَةَ إِلاَّ بِقِرَاءَةِ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَمَا زَادَ .
হাদীস নং: ৮২১
আন্তর্জাতিক নং: ৮২১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৪২. কোন ব্যক্তি নামাযে (সূরা ফাতিহা অথবা) কিরাত পাঠ ত্যাগ করলে।
৮২১. আল-কানবী ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করে না তার নামায ক্রটিপূর্ণ, তার নামায ক্রটিপুর্ণ, তার নামায ক্রটিপূর্ণ, অসম্পূর্ণ। রাবী বলেন, পরবর্তীকালে আমি আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করি যে, আমি যখন ইমামের পিছনে থাকি, তখন সূরা ফাতিহা পাঠ করব কি? তিনি আমার বাহু চাপ দিয়ে বলেন, হে ফারসী! তখন তুমি তোমার মনে মনে তা পাঠ করবে। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি মহান আল্লাহ বলেন, আমি নামাযকে (অর্থাৎ সূরা ফাতিহাকে) আমার ও আমার বান্দার মধ্যে বিভক্ত করেছি। এর অর্ধেক আমার জন্য এবং বাকী অর্ধেক আমার বান্দার জন্য এবং আমার বান্দা আমার নিকট যা কামনা করে, তাই তাকে দেয়া হয়।

রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা সূরা ফাতিহা পাঠ কর। আল্লাহ্ তাআলা বলেন, যখন আমার বান্দা বলেঃ আলহামদু লিল্লাহি রবিল আলামিন, তখন আল্লাহ্ বলেনঃ আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে। অতঃপর বান্দা যখন বলেঃ আর-রহমানির রাহীম, তখন আল্লাহ্ বলেনঃ আমার বান্দা আমার গুণগান করেছে। বান্দা যখন বলেঃ মালিকি ইয়াওমিদ্দীন, তখন আল্লাহ্ বলেনঃ আমার বান্দা আমার সম্মান প্রদর্শন করেছে। অতঃপর যখন বান্দা বলেঃ ইয়াকা’নাবুদু ওয়া ইয়াকা’নাস্তাইন, তখন আল্লাহ্ বলেন, এটা আমার ও আমার বান্দার মধ্যে সীমিত এবং আমার বান্দা যা প্রার্থনা করল, তাই তাকে দেয়া হয়। অতঃপর বান্দা যখনই “ইহদিনাস সিরাতাল মুসতাকীম, সীরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহিম, গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লীন” বলে তখন আল্লাহ্ বলেন, এ সমস্তই আমার বান্দার জন্য এবং আমার বান্দা যা কিছু প্রার্থনা করেছে- তাও প্রাপ্ত হবে।
كتاب الصلاة
باب مَنْ تَرَكَ الْقِرَاءَةَ فِي صَلاَتِهِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا السَّائِبِ، مَوْلَى هِشَامِ بْنِ زُهْرَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ صَلَّى صَلاَةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَهِيَ خِدَاجٌ فَهِيَ خِدَاجٌ فَهِيَ خِدَاجٌ غَيْرُ تَمَامٍ " . قَالَ فَقُلْتُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ إِنِّي أَكُونُ أَحْيَانًا وَرَاءَ الإِمَامِ . قَالَ فَغَمَزَ ذِرَاعِي وَقَالَ اقْرَأْ بِهَا يَا فَارِسِيُّ فِي نَفْسِكَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " قَالَ اللَّهُ تَعَالَى قَسَمْتُ الصَّلاَةَ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي نِصْفَيْنِ فَنِصْفُهَا لِي وَنِصْفُهَا لِعَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ " . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اقْرَءُوا يَقُولُ الْعَبْدُ ( الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ) يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ حَمِدَنِي عَبْدِي يَقُولُ الْعَبْدُ ( الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ) يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَثْنَى عَلَىَّ عَبْدِي يَقُولُ الْعَبْدُ ( مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ ) يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مَجَّدَنِي عَبْدِي يَقُولُ الْعَبْدُ ( إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ) يَقُولُ اللَّهُ وَهَذِهِ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ يَقُولُ الْعَبْدُ ( اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ * صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ ) يَقُولُ اللَّهُ فَهَؤُلاَءِ لِعَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ " .
হাদীস নং: ৮২২
আন্তর্জাতিক নং: ৮২২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৪২. কোন ব্যক্তি নামাযে (সূরা ফাতিহা অথবা) কিরাত পাঠ ত্যাগ করলে।
৮২২. কুতায়বা ইবনে সাঈদ ..... উবাদা ইবনুস-সামিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। এই হাদীসের সনদ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পর্যন্ত পৌছেছে। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা এবং তার সাথে অতিরিক্ত কিছু পাঠ না করবে, তার নামায পূর্ণাঙ্গ হবে না।

রাবী বলেন, এই নির্দেশ কেবলমাত্র একাকী নামায পাঠকারীর বেলায় প্রযোজ্য।
كتاب الصلاة
باب مَنْ تَرَكَ الْقِرَاءَةَ فِي صَلاَتِهِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَابْنُ السَّرْحِ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَصَاعِدًا " . قَالَ سُفْيَانُ لِمَنْ يُصَلِّي وَحْدَهُ .
হাদীস নং: ৮২৩
আন্তর্জাতিক নং: ৮২৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৪২. কোন ব্যক্তি নামাযে (সূরা ফাতিহা অথবা) কিরাত পাঠ ত্যাগ করলে।
৮২৩. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ .... উবাদা ইবনুস সামিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে ফজরের নামাযের জামাআতে শরীক ছিলাম। নামাযে কুরআন পাঠের সময় তার পাঠ তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। নামায শেষে তিনি বলেন, সম্ভবতঃ তোমরা ইমামের পিছনে কিরাআত পাঠ করেছ। আমরা বলি, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তখন তিনি বলেন, তোমরা সূরা ফাতিহা ব্যতীত অন্য কিছু পাঠ করবে না। কেননা যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পড়বে না, তার নামায হবে না।
كتاب الصلاة
باب مَنْ تَرَكَ الْقِرَاءَةَ فِي صَلاَتِهِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ كُنَّا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي صَلاَةِ الْفَجْرِ فَقَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَثَقُلَتْ عَلَيْهِ الْقِرَاءَةُ فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ " لَعَلَّكُمْ تَقْرَءُونَ خَلْفَ إِمَامِكُمْ " . قُلْنَا نَعَمْ هَذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " لاَ تَفْعَلُوا إِلاَّ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَإِنَّهُ لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِهَا " .
হাদীস নং: ৮২৪
আন্তর্জাতিক নং: ৮২৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৪২. কোন ব্যক্তি নামাযে (সূরা ফাতিহা অথবা) কিরাত পাঠ ত্যাগ করলে।
৮২৪. আর-রবী ইবনে সুলাইমান ..... নাফে ইবনে মাহমুদ হতে বর্ণিত। নাফে বলেন, একদা উবাদা ইবনুস সামিত (রাযিঃ) বিলম্বে ফজরের নামাযের জামাআতে উপস্থিত হন। এমতাবস্থায় মুয়াযযিন আবু নুআয়েম (রাহঃ) তাকবীর বলে লোকদের নামায আরম্ভ করেন। তখন আমি এবং উবাদা ইবনুস সামিত (রাযিঃ) উপস্থিত হয়ে আবু নুআয়েমের পিছনে ইক্তিদা করি। এই সময় আবু নুআয়েম উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ করছিলেন এবং উবাদা (রাযিঃ) সূরা ফাতিহা পাঠ করেন। নামাযান্তে আমি উবাদা (রাযিঃ)-কে বলিঃ ইমাম আবু নুআয়েম যখন উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ করছিলেন, তখন আমি আপনাকেও সূরা ফাতিহা পড়তে শুনি, এর হেতু কি? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, আমি পাঠ করেছি।

একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কোন এক ওয়াক্তের নামাযে আমাদের ইমামতি করেন, যার মধ্যে উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ করতে হয়। রাবী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কিরাআত পাঠের সময় আটকে যান। অতঃপর নামাযান্তে সমবেত মুসল্লীদের লক্ষ্য করে বলেনঃ আমি যখন উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ করছিলাম। তখন তোমরাও কি কিরাআত পাঠ করেছ? জবাবে আমাদের কেউ বলেন, হ্যাঁ আমরাও কিরাআত পাঠ করেছি। তখন তিনি বলেন, এইরূপ আর কখনও করবে না। তিনি আরো বলেন, কিরাআত পাঠের সময় যখন আমি আটকে যাই তখন আমি এইরূপ চিন্তা করি যে, আমার কুরআন পাঠে কিসে বা কে বাধার সৃষ্টি করছে? অতএব আমি নামাযের মধ্যে উচ্চস্বরে যখন কিরা’আত পাঠ করি, তখন তোমরা সূরা ফাতিহা ব্যতীত অন্য কিছু পাঠ করবে না।
كتاب الصلاة
باب مَنْ تَرَكَ الْقِرَاءَةَ فِي صَلاَتِهِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ
حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنِي زَيْدُ بْنُ وَاقِدٍ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ نَافِعِ بْنِ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ نَافِعٌ أَبْطَأَ عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ عَنْ صَلاَةِ الصُّبْحِ، فَأَقَامَ أَبُو نُعَيْمٍ الْمُؤَذِّنُ الصَّلاَةَ فَصَلَّى أَبُو نُعَيْمٍ بِالنَّاسِ وَأَقْبَلَ عُبَادَةُ وَأَنَا مَعَهُ، حَتَّى صَفَفْنَا خَلْفَ أَبِي نُعَيْمٍ وَأَبُو نُعَيْمٍ يَجْهَرُ بِالْقِرَاءَةِ فَجَعَلَ عُبَادَةُ يَقْرَأُ بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَلَمَّا انْصَرَفَ قُلْتُ لِعُبَادَةَ سَمِعْتُكَ تَقْرَأُ بِأُمِّ الْقُرْآنِ وَأَبُو نُعَيْمٍ يَجْهَرُ قَالَ أَجَلْ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْضَ الصَّلَوَاتِ الَّتِي يَجْهَرُ فِيهَا بِالْقِرَاءَةِ قَالَ فَالْتَبَسَتْ عَلَيْهِ الْقِرَاءَةُ فَلَمَّا انْصَرَفَ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ وَقَالَ " هَلْ تَقْرَءُونَ إِذَا جَهَرْتُ بِالْقِرَاءَةِ " . فَقَالَ بَعْضُنَا إِنَّا نَصْنَعُ ذَلِكَ . قَالَ " فَلاَ وَأَنَا أَقُولُ مَا لِي يُنَازَعُنِي الْقُرْآنُ فَلاَ تَقْرَءُوا بِشَىْءٍ مِنَ الْقُرْآنِ إِذَا جَهَرْتُ إِلاَّ بِأُمِّ الْقُرْآنِ " .
হাদীস নং: ৮২৫
আন্তর্জাতিক নং: ৮২৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৪২. কোন ব্যক্তি নামাযে (সূরা ফাতিহা অথবা) কিরাত পাঠ ত্যাগ করলে।
৮২৫. আলী ইবনে সাহল আর-রামলী ......... ইবনে জাবের, সাঈদ ইবনে আব্দুল আযীয এবং আব্দুল্লাহ্ ইবনুল আলা হতে বর্ণিত। তারা মাকহূল হতে, তিনি উবাদা (রাযিঃ) হতে আর-রবী ইবনে সুলাইমানের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেন, মাকহূল মাগরিব, এশা ও ফজরের নামাযে (ইমামের পিছনে নীরবে প্রত্যেক রাকআতেই সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন।

মাকহূল (রাহঃ) বলেনঃ ইমাম যে নামাযের মধ্যে উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ করেন এবং থামেন তখন নিঃশব্দে সূরা ফাতিহা পাঠ কর। অপরপক্ষে ইমাম যদি কিরাআত পাঠ করেন, এমতাবস্থায় তুমি হয় ইমামের আগে, পরে বা সাথে সূরা ফাতিহা পাঠ কর এবং তা পাঠ করা কখনও ত্যাগ কর না।
كتاب الصلاة
باب مَنْ تَرَكَ الْقِرَاءَةَ فِي صَلاَتِهِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ سَهْلٍ الرَّمْلِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنِ ابْنِ جَابِرٍ، وَسَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْعَلاَءِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ عُبَادَةَ، نَحْوَ حَدِيثِ الرَّبِيعِ بْنِ سُلَيْمَانَ قَالُوا فَكَانَ مَكْحُولٌ يَقْرَأُ فِي الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ وَالصُّبْحِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ سِرًّا . قَالَ مَكْحُولٌ اقْرَأْ بِهَا فِيمَا جَهَرَ بِهِ الإِمَامُ إِذَا قَرَأَ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَسَكَتَ سِرًّا فَإِنْ لَمْ يَسْكُتِ اقْرَأْ بِهَا قَبْلَهُ وَمَعَهُ وَبَعْدَهُ لاَ تَتْرُكْهَا عَلَى حَالٍ .
tahqiq

তাহকীক:

explanationহাদীসের ব্যাখ্যা
rabi
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ৮২৬
আন্তর্জাতিক নং: ৮২৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৪৩. যে নামাযের মধ্যে চুপে চুপে কিরা’আত তাতে সূরা ফাতিহা পাঠ সম্পর্কে।
৮২৬. আল-কানবী ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠের মাধ্যমে নামায আদায়ের পর জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমাদের কেউ এখন আমার সাথে (নামাযের মধ্যে) কিরাআত পাঠ করেছে কি? জবাবে এক ব্যক্তি বলেন হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ এজন্যই আমার কুরআন পাঠের সময় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

রাবী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে এরূপ শোনার পর সাহাবায়ে কিরাম উচ্চস্বরে কিরাআত পঠিত নামাযে তাঁর পিছনে কিরাআত পাঠ করা হতে বিরত থাকেন।
كتاب الصلاة
باب مَنْ رَأَى الْقِرَاءَةَ إِذَا لَمْ يَجْهَرْ
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ أُكَيْمَةَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم انْصَرَفَ مِنْ صَلاَةٍ جَهَرَ فِيهَا بِالْقِرَاءَةِ فَقَالَ " هَلْ قَرَأَ مَعِي أَحَدٌ مِنْكُمْ آنِفًا " . فَقَالَ رَجُلٌ نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " إِنِّي أَقُولُ مَا لِي أُنَازَعُ الْقُرْآنَ " . قَالَ فَانْتَهَى النَّاسُ عَنِ الْقِرَاءَةِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيمَا جَهَرَ فِيهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِالْقِرَاءَةِ مِنَ الصَّلَوَاتِ حِينَ سَمِعُوا ذَلِكَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى حَدِيثَ ابْنِ أُكَيْمَةَ هَذَا مَعْمَرٌ وَيُونُسُ وَأُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَلَى مَعْنَى مَالِكٍ .
হাদীস নং: ৮২৭
আন্তর্জাতিক নং: ৮২৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৪৩. যে নামাযের মধ্যে চুপে চুপে কিরা’আত তাতে সূরা ফাতিহা পাঠ সম্পর্কে।
৮২৭. মুসাদ্দাদ ..... সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিয়ে নামায আদায় করেন। সম্ভবতঃ তা ফজরের নামায হবে। অতঃপর হাদীসটি পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং কুরআন পাঠে কিসে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে’ এই পর্যন্ত বর্ণনা করেন।
كتاب الصلاة
باب مَنْ رَأَى الْقِرَاءَةَ إِذَا لَمْ يَجْهَرْ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَأَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الزُّهْرِيُّ، وَابْنُ السَّرْحِ، قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، سَمِعْتُ ابْنَ أُكَيْمَةَ، يُحَدِّثُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةً نَظُنُّ أَنَّهَا الصُّبْحُ بِمَعْنَاهُ إِلَى قَوْلِهِ " مَا لِي أُنَازَعُ الْقُرْآنَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ مُسَدَّدٌ فِي حَدِيثِهِ قَالَ مَعْمَرٌ فَانْتَهَى النَّاسُ عَنِ الْقِرَاءَةِ فِيمَا جَهَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ ابْنُ السَّرْحِ فِي حَدِيثِهِ قَالَ مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَانْتَهَى النَّاسُ . وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الزُّهْرِيُّ مِنْ بَيْنِهِمْ قَالَ سُفْيَانُ وَتَكَلَّمَ الزُّهْرِيُّ بِكَلِمَةٍ لَمْ أَسْمَعْهَا فَقَالَ مَعْمَرٌ إِنَّهُ قَالَ فَانْتَهَى النَّاسُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَاقَ عَنِ الزُّهْرِيِّ وَانْتَهَى حَدِيثُهُ إِلَى قَوْلِهِ " مَا لِي أُنَازَعُ الْقُرْآنَ " . وَرَوَاهُ الأَوْزَاعِيُّ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ فِيهِ قَالَ الزُّهْرِيُّ فَاتَّعَظَ الْمُسْلِمُونَ بِذَلِكَ فَلَمْ يَكُونُوا يَقْرَءُونَ مَعَهُ فِيمَا يَجْهَرُ بِهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ قَالَ قَوْلُهُ فَانْتَهَى النَّاسُ . مِنْ كَلاَمِ الزُّهْرِيِّ .
হাদীস নং: ৮২৮
আন্তর্জাতিক নং: ৮২৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৪৪. যে নামাযে কিরা’আত উচ্চস্বরে পঠিত হয় না, তাতে মুক্তাদিদের কিরা’আত পাঠ সম্পর্কে।
৮২৮. আবুল ওয়ালীদ ও মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর .... ইমরান ইবনে হুসাইয়েন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (ﷺ) যোহরের নামায পড়াচ্ছিলেন। এক ব্যক্তি এসে তাঁর পিছনে ইক্তিদা করে সূরা “সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ'লা” পাঠ করে। নামায শেষে নবী (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেন, তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি সূরা পাঠ করেছে? জবাবে তারা বলেন, এক ব্যক্তি। তখন তিনি বলেন, আমি বুঝতে পেরেছি তোমাদের মধ্যে কোন লোক নামাযের মধ্যে আমাকে অহেতুক জটিলতা ও দুশ্চিন্তায় ফেলে।
كتاب الصلاة
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ الْعَبْدِيُّ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، - الْمَعْنَى - عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الظُّهْرَ فَجَاءَ رَجُلٌ فَقَرَأَ خَلْفَهُ ( سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى ) فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ " أَيُّكُمْ قَرَأَ " . قَالُوا رَجُلٌ . قَالَ " قَدْ عَرَفْتُ أَنَّ بَعْضَكُمْ خَالَجَنِيهَا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ أَبُو الْوَلِيدِ فِي حَدِيثِهِ قَالَ شُعْبَةُ فَقُلْتُ لِقَتَادَةَ أَلَيْسَ قَوْلُ سَعِيدٍ أَنْصِتْ لِلْقُرْآنِ قَالَ ذَاكَ إِذَا جَهَرَ بِهِ . وَقَالَ ابْنُ كَثِيرٍ فِي حَدِيثِهِ قَالَ قُلْتُ لِقَتَادَةَ كَأَنَّهُ كَرِهَهُ . قَالَ لَوْ كَرِهَهُ نَهَى عَنْهُ .
হাদীস নং: ৮২৯
আন্তর্জাতিক নং: ৮২৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৪৪. যে নামাযে কিরা’আত উচ্চস্বরে পঠিত হয় না, তাতে মুক্তাদিদের কিরা’আত পাঠ সম্পর্কে।
৮২৯. ইবনুল মুছান্না ..... ইমরান ইবনে হুসায়েন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী (ﷺ) তাদের সাথে জামাআতে নামায আদায়ের পর বলেন, তোমাদের কে সূরা “সাব্বিহিসমা রাব্বিকা আ'লা” পাঠ করেছে? জবাবে এক ব্যক্তি বলেন, আমি। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ আমি বুঝতে পেরেছি যে, তোমাদের কেউ নামাযের মধ্যে আমাকে কুরআন পাঠে জটিলতায় ফেলেছে।
كتاب الصلاة
حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى بِهِمُ الظُّهْرَ فَلَمَّا انْفَتَلَ قَالَ " أَيُّكُمْ قَرَأَ بِـ ( سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى ) " . فَقَالَ رَجُلٌ أَنَا . فَقَالَ " عَلِمْتُ أَنَّ بَعْضَكُمْ خَالَجَنِيهَا " .
হাদীস নং: ৮৩০
আন্তর্জাতিক নং: ৮৩০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৪৫. নিরক্ষর ও অনারব* লোকদের কিরা’আতের পরিমাণ।
৮৩০. ওয়াহব ইবনে বাকিয়্যা ..... জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা যখন আমরা কিরাআত পাঠে মগ্ন ছিলাম, তখন হঠাৎ সেখানে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আগমন করেন এবং এ সময় আমাদের মধ্যে আরব বেদুইন ও অনারব লোকেরা ছিল। তিনি বলেনঃ তোমরা পাঠ কর, সকলেই উত্তম। কেননা অদুর ভবিষ্যতে এমন সম্প্রদায় নির্গত হবে, যারা কুরআনকে তীরের মত ঠিক করবে (অর্থাৎ তাজবীদ নিয়ে অত্যন্ত বাড়াবাড়ি করবে), তা দ্রুত গতিতে পাঠ করবে, ধীরস্থিরভাবে পড়বে না।**

* সাধারণতঃ সমস্ত লোকদের আজমী বলা হয়, যারা আরব এলাকার বাইরে বসবাস করে এবং আরবী যাদের মাতৃভাষা নয়। আজমী শব্দের আভিধানিক অর্থ হল- মুক্ত। আরবরা অহংকার হেতু অনারব (আরব জগতের বাইরের) লোকদের আজমী বলত। - (অনুবাদক)

** অর্থাৎ নবী করীম (ﷺ) আখেরী যামানার এক শ্রেণীর কুরআন পাঠকদের সম্পর্কে এরূপ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, যারা হিদায়াতের পরিবর্তে স্বীয় যশ, মান ও খ্যাতির জন্য কুরআন পাঠ করবে। এতে তাদের উদ্দেশ্য হবে দুনিয়ার ফায়দা হাসিল করা, আখিরাতের কল্যণ লাভের জন্য তারা সচেষ্ট হবে না।
كتاب الصلاة
باب مَا يُجْزِئُ الأُمِّيَّ وَالأَعْجَمِيَّ مِنَ الْقِرَاءَةِ
حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، عَنْ حُمَيْدٍ الأَعْرَجِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ نَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَفِينَا الأَعْرَابِيُّ وَالأَعْجَمِيُّ فَقَالَ " اقْرَءُوا فَكُلٌّ حَسَنٌ وَسَيَجِيءُ أَقْوَامٌ يُقِيمُونَهُ كَمَا يُقَامُ الْقِدْحُ يَتَعَجَّلُونَهُ وَلاَ يَتَأَجَّلُونَهُ " .