মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
৭. নামাযের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ১৭২৪ টি
হাদীস নং: ১৭০৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (আট) এ পরিচ্ছেদে তাঁদের প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে যারা সূর্যগ্রহণের সালাতে প্রতি রাক'আতে পাঁচটি করে রুকু রয়েছে বলে বর্ণনা করেন
(১৭০৬) 'য' উবাই ইবনে কা'ব (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসূল (ﷺ)-এর যুগে সূর্যগ্রহণ লাগলে তিনি তাঁদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। এ সালাতে তিনি কুরআনুল কারীমের দীর্ঘতর সূরাগুলো হতে যে কোন একটি সূরা পাঠ করলেন। এরপর তিনি প্রথম রাক'আতে পাঁচটি রুকু ও দু'টি সিজদাহ করলেন। দ্বিতীয় রাকআতে দাঁড়িয়েও প্রথম রাক'আতের অনুরূপ কুরআনের একটি দীর্ঘ সূরা পাঠ করলেন। এরপর পাঁচটি রুকু ও দু'টি সিজদা করলেন। এরপর সালাতের অবস্থায় বসে তিনি দু'আ করতে থাকলেন, যতক্ষন না সূর্য আধার মুক্ত হলো।
(সুনানে আবু দাউদ, মুস্তাদরাকে হাকেম, সুনান আল-বাইহাকী।)
(সুনানে আবু দাউদ, মুস্তাদরাকে হাকেম, সুনান আল-বাইহাকী।)
كتاب الصلاة
(8) باب من روى أنها ركعتان في كل ركعة خمسة ركوعات
(1709) ز عن أبيِّ بن كعبٍ رضي الله عنه قال انكسفت الشَّمس على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وإنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم صلَّى بهم فقرأ بسورةٍ من الطُّول ثمَّ ركع خمس ركعاتٍ وسجد سجدتين ثمَّ قام الثَّانية فقرأ بسورة من الطُّول ثمَّ ركع خمس ركعاتٍ وسجد سجدتين ثمَّ جلس كما هو مستقبل القبلة يدعوا حتَّى انجلى كسوفها
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭১০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (নয়) সালাতুল কুসূফ সুদীর্ঘ হবে, এতে মহিলারা উপস্থিত হবে এবং মসজিদে এই সালাতের জামাত হবে।
(১৭০৭) আমীরুল মু'মিনীন আবূ বকর (রা)-এর কন্যা আসমা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সূর্য গ্রহণের দিনে রাসূল (ﷺ) সন্ত্রস্ত হয়ে তাড়াহুড়ো করে (তাঁর কোনো স্ত্রীর) পরিধানের জন্য কামিস হাতে নেন। তখন তাকে তাঁর চাদরটি দেওয়া হয়। অতঃপর রাসূল (ﷺ) লোকজনকে নিয়ে সালাত শুরু করে সুদীর্ঘ কিয়াম করলেন। তিনি দাঁড়াচ্ছিলেন ও রুকু করছিলেন। রাসূল (ﷺ) রুকু করার পর যদি কেউ জামাতে শরীক হতেন, সে রাসূল (ﷺ)-এর কিয়ামের দীর্ঘতার কারণে ধারণাই করতে পারতেন না যে, তিনি আদৌ কোন রুকু করেছেন। আসমা (রা) বললেন, (দীর্ঘ সময় দাড়ানোয় আমি এত ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম যে, আমি আমার থেকে বয়স্কা মহিলার দিকে তাকাচ্ছিলাম এবং আমার থেকে আরেক দিকে তাকাচ্ছিলাম। এরাও দাঁড়িয়ে ছিলেন। কাজেই আমার জন্য ধৈর্য ধরে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার দায়িত্ব ছিল তাদের থেকে অধিক।
(সহীহ মুসলিম, সুনান আল-বাইহাকী প্রভৃতি।)
(সহীহ মুসলিম, সুনান আল-বাইহাকী প্রভৃতি।)
كتاب الصلاة
(9) باب ما جاء في طول صلاة الكسوف وحضور النساء جماعتها بالمسج
(1710) عن أسماء بنت أبي بكر رضي الله عنهما؛ قالت فزع يوم كسفت الشَّمس رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأخذ درعًا حتَّى أدرك بردائه، فقام بالنَّاس قيامًا طويلًا، يقوم ثمَّ يركع، فلو جاء إنسانٌ بعد ما ركع النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم لم يعلم أنَّه ركع ما حدَّث نفسه أنَّه ركع من طول القيام، قالت فجعلت أنظر إلى المرأة الَّتي هي أكبر منِّي، وإلى المرأة الَّتي هي أسقم منِّي قائمةً وأنا أحقُّ أن أصبر على طول القيام منها
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭১১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (দশ) সূর্যগ্রহণের সালাতের পরে খুতবা
(১৭০৮) আবু বকর (রা)-এর কন্যা আসমা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ)-এর যুগে সূর্যগ্রহণ লেগেছিল। তখন আমি আমার বোন আয়েশা (রা)-এর গৃহে গমন করে বললাম, মানুষরা সবাই সালাত আদায় করছে কেন? তখন তিনি তাঁর মাথা উপরের দিকে উঠিয়ে আকাশের প্রতি ইঙ্গিত করলেন। (বর্ণনাকারীণী বলেন) আমি বললাম, এটা কি কোন নিদর্শন। উত্তরে আয়েশা (রা) ইঙ্গিত করলেন, হ্যাঁ। অতঃপর রাসূল (ﷺ) সালাতে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন। এত দীর্ঘ সময় ধরে সালাতে দাঁড়িয়ে থাকায় অবশেষে আমি প্রায় বেঁহুশ হয়ে যাচ্ছিলাম। তাই আমি আমার কাছের একটি মশক থেকে পানি তুলে আমার মাথায় তা দিলাম। এমতাবস্থায় রাসূল (ﷺ) সালাত সমাপ্ত করলেন। ইতিমধ্যে সূর্য আলোকিত হয়ে গেল। অতঃপর রাসূল (ﷺ) খুৎবা দিতে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বললেন- আমি ইতিপূর্বে যা কিছু দেখি নি, তা সবকিছুই আমার এই স্থানে আমি দেখতে পেলাম, এমনকি জান্নাত এবং জাহান্নামকেও দেখলাম। আমার কাছে এ মর্মে ওহী পাঠানো হয়েছে যে, তোমাদেরকে অচিরেই তোমাদের কবরসমূহে এমনিভাবে পরীক্ষা করা হবে। যেমনি কানা দাজ্জালের মাধ্যমে তোমাদেরকে (জীবদ্দশায় পৃথিবীতে) পরীক্ষা করা হবে। কবরে তোমাদের কাউকে নিয়ে আসা হলে মুনকার-নাকীর কর্তৃক তাঁকে বলা হবে, এ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার কি জানা আছে? কবরবাসী মু'মিন অথবা দৃঢ় বিশ্বাসী হলে সে বলবে, এ ব্যক্তি হচ্ছেন-মুহাম্মদ (ﷺ)। তিনি আল্লাহর রাসূল, তিনি আমাদের কাছে সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণ (কুরআন-সুন্নাহ) এবং হেদায়েতের বাণী নিয়ে এসেছিলেন। আর আমরা তাঁর আহবানে সাড়া দিয়েছি এবং তাঁর অনুসরণ করেছি। (এভাবে প্রশ্নোত্তর) তিনবার হবে। ফেরেশতা তখন বলবে, আমরা জানতাম তুমি তাঁর উপর ঈমান রাখতে। অতএব, সুখ-শান্তিতে নিদ্রা যাও। পক্ষান্তরে মুনাফিক (কপটচারী) অথবা সন্দেহ পোষণকারী বলবে, এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। আমি লোকদেরকে কিছু একটা বলতে শুনেছিলাম এবং আমি তাই বলেছিলাম।
(সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম, মুয়াত্তা ইমাম মালিক এবং অন্যান্য গ্রন্থ।)
(সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম, মুয়াত্তা ইমাম মালিক এবং অন্যান্য গ্রন্থ।)
كتاب الصلاة
(10) باب في الخطبة بعد صلاة كسوف الشمس
(1711) عن هشامٍ عن فاطمة عن أسماء (بنت أبي بكر رضي الله عنهما، قالت خسفت الشَّمس على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فدخلت على عائشة فقلت ما شأن النَّاس يصلُّون؟ فأشارت برأسها إلى السَّماء فقلت آية قالت نعم، فأطال رسول الله صلى الله عليه وسلم القيام جدًا حتَّى تجلَّاني الغشى، فأخذت قربةً إلى جنبي، فجعلت أصبُّ على رأسي الماء، فانصرف رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد تجلَّت الشَّمس، فخطب رسول الله صلى الله عليه وسلم فحمد الله وأثنى عليه ثمَّ قال أمَّا بعد ما من شيءٍ لم أكن رأيته إلّا قد رأيته في مقامي هذا حتَّى الجنَّة والنَّار إنه قد أوحي إلىَّ أنَّكم تفتنون في القبور قريبًا أو مثل فتنة المسيح الدَّجال "لا أدري أيَّ ذلك، قالت أسماء" يؤتى أحدكم فيقال له ما علمك بهذا الرّجل فأمَّا المؤمن أو الموقن لا أدري أيَّ ذلك، قالت أسماء فيقول هو محمد، هو رسول الله صلى الله عليه وسلم جائنا بالبيِّنات والهدى فأجبنا واتَّبعنا ثلاث مرَّاتٍ فيقال له قد كنَّا نعلم إن كنت لتؤمن به فنم صالحًا وأمَّا المنافق أو المرتاب لا أدري أيَّ ذلك قالت أسماء فيقول ما أدري، سمعت النَّاس يقولون شيئًا فقلت
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭১২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (দশ) সূর্যগ্রহণের সালাতের পরে খুতবা
(১৭০৯) সামুরাহ ইবনে জুনদুব (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সূর্য গ্রহণ লাগলে রাসূল (ﷺ) খুৎবা প্রদান করলেন, তিনি (আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পর খুৎবার প্রকৃত বর্ণনা উপস্থাপনার পূর্বে) "আম্মাবাদ" শব্দটি বলতেন।
(সুনান আন-নাসায়ী, সুনান আল-বাইহাকী। হাদীসটির সনদ উত্তম।)
(সুনান আন-নাসায়ী, সুনান আল-বাইহাকী। হাদীসটির সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
(10) باب في الخطبة بعد صلاة كسوف الشمس
(1712) عن سمرة (بن جندبٍ) رضي الله عنه أنَّ النَّبيَّ صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم خطب حين انكسفت الشَّمس فقال أمَّا بعد
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭১৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ এ পরিচ্ছেদটিতে সে ব্যক্তি সম্পর্কীত আলোচনা রয়েছে, যে ব্যক্তি মানুষকে ওয়াজ-নসীহত করতেন এবং তাদেরকে দান-সাদকাহ্, যিকর, দু'আ এবং তাকবীর বলার ক্ষেত্রে উৎসাহ প্রদান করতেন
(১৭১০) আসমা বিনতে আবু বকর সিদ্দিক (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (ﷺ)-এর যুগে একবার সূর্যগ্রহণ লেগেছিল। এতে আমি মানুষের শোরগোল শুনতে পেলাম। এরা বলাবলি করতে লাগল এটা নিদর্শন এরপর তিনি পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন এবং এতে আরো আছে, বর্ণনাকারীণী (আসমা (রা)) বলেন আছি সকলের সাথে একত্রে (জামা'আতে) সালাতে শরীক হলাম। রাসুল (ﷺ) ইতিমধ্যেই প্রথম রাকআতের সিজদা শেষ করেছেন। তখন তিনি (দ্বিতীয় রাকা'আতে) এত দীর্ঘতর কিয়াম করলেন যে, আমি দেখলাম, কোনো কোনো মুসল্লী (মুখ ও মাথায়) পানি ছিটিয়ে দিচ্ছে। এরপর তিনি দীর্ঘ রুকু' করে সিজদাতে না গিয়ে পুনরায় কিয়াম করলেন। তবে এ কিয়াম পূর্ববর্তী কিয়ামের তুলনায় কম দীর্ঘ ছিল। এরপর তিনি পুনরায় রুকু করলেন, এ রুকুটিও পূর্ববর্তী রুকু অপেক্ষা কম দীর্ঘ ছিল। অতঃপর সিজদা করলেন। অতঃপর সালাম ফেরালেন। ইতিমধ্যেই সূর্য আলোকিত হয়ে গিয়েছিল। রাসুল (ﷺ) খুৎবা দানের উদ্দেশ্যে মিম্বরে আরোহন করে বললেন, হে সমবেত জনমণ্ডলী, নিশ্চয়ই চন্দ্র ও সূর্য মহান আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দু'টি নিদর্শন মাত্র। আর চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ কারো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে ঘটে না। অতএব, তোমরা যখনই চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ লাগতে দেখবে তখনই দ্রুত সালাত, দান-সাদকাহ্ ও যিকির-আযকারে মনোনিবেশ করবে।
হে উপস্থিত জনতা, আমি ইতিপূর্বে যা দেখেছিলাম না তার সবকিছুই আমি আমার এই স্থানে দাঁড়িয়ে প্রত্যক্ষ করেছি। আমাকে দেখানো হলো তোমাদেরকে তোমাদের কবরে (প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়ার মাধ্যমে) পরীক্ষা করা হবে। তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তুমি কী বলতে। এবং তুমি কার ইবাদত বন্দেগী করতে? যদি সে বলে আমি জানি না, মানুষকে যা বলতে শুনেছি আমিও তাই বলেছি এবং মানুষকে যা করতে দেখেছি আমিও তা-ই করছিলাম। তখন তাকে বলা হবে হ্যাঁ। তুমি সন্দেহের মধ্যে থেকেই জীবন কাটিয়েছ এবং সন্দেহের মধ্যে তোমার মরণ ঘটেছে। এই হলো জাহান্নামের মধ্যে তোমার স্থান। আর যদি কবরস্থ ব্যক্তি বলে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি নিশ্চয়ই মুহাম্মদ (ﷺ) আল্লাহর প্রেরিত রাসূল। তবে তাঁকে বলা হবে তুমি সুদৃঢ় বিশ্বাসের উপর জীবন-যাপন করেছ এবং এর উপরই মৃত্যুবরণ করেছ। এই হলো জান্নাতে তোমার স্থান। আমি দেখলাম ৫০ অথবা ৭০ হাজার (বহুসংখাক) লোক জান্নাতে প্রবেশ করছে, যাদের চেহারা পূর্ণিমার চন্দ্রের ন্যায় উজ্জ্বল। একথা শ্রবণপূর্বক জনৈক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, হে রাসুল (ﷺ), আপনি আমার জন্য দু'আ করুন, যাতে মহান আল্লাহ আমাকে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রাসুল (ﷺ) বললেন, হে আল্লাহ! তুমি একে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত কর। এরপর রাসূল (ﷺ) বললেন, হে সমবেত শ্রোতামগুলী, আমার মিম্বার থেকে অবতরণের পূর্ব পর্যন্ত তোমরা আমাকে যে বিষয়েই জিজ্ঞাসা করবে আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে জানাব। তখন জনৈক সাহাবী দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ), আমার পিতা কে? রাসূল (ﷺ) বললেন, তোমার পিতা অমুক, যার প্রতি তিনি সম্পর্কিত হতেন। (অর্থাৎ তাঁর পিতা হিসাবে যিনি পরিচিত ছিলেন তাঁর নামই বললেন)।
(ইমাম আহমদ ছাড়া এ হাদীসখানা এত দীর্ঘায়িত আর কেউ বর্ণনা করেন নি। তবে ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম ও অন্যানা সংকলকগণ তাঁদের গ্রন্থে সংক্ষিপ্তভাবে সংকলন করেছেন।)
হে উপস্থিত জনতা, আমি ইতিপূর্বে যা দেখেছিলাম না তার সবকিছুই আমি আমার এই স্থানে দাঁড়িয়ে প্রত্যক্ষ করেছি। আমাকে দেখানো হলো তোমাদেরকে তোমাদের কবরে (প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়ার মাধ্যমে) পরীক্ষা করা হবে। তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তুমি কী বলতে। এবং তুমি কার ইবাদত বন্দেগী করতে? যদি সে বলে আমি জানি না, মানুষকে যা বলতে শুনেছি আমিও তাই বলেছি এবং মানুষকে যা করতে দেখেছি আমিও তা-ই করছিলাম। তখন তাকে বলা হবে হ্যাঁ। তুমি সন্দেহের মধ্যে থেকেই জীবন কাটিয়েছ এবং সন্দেহের মধ্যে তোমার মরণ ঘটেছে। এই হলো জাহান্নামের মধ্যে তোমার স্থান। আর যদি কবরস্থ ব্যক্তি বলে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি নিশ্চয়ই মুহাম্মদ (ﷺ) আল্লাহর প্রেরিত রাসূল। তবে তাঁকে বলা হবে তুমি সুদৃঢ় বিশ্বাসের উপর জীবন-যাপন করেছ এবং এর উপরই মৃত্যুবরণ করেছ। এই হলো জান্নাতে তোমার স্থান। আমি দেখলাম ৫০ অথবা ৭০ হাজার (বহুসংখাক) লোক জান্নাতে প্রবেশ করছে, যাদের চেহারা পূর্ণিমার চন্দ্রের ন্যায় উজ্জ্বল। একথা শ্রবণপূর্বক জনৈক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, হে রাসুল (ﷺ), আপনি আমার জন্য দু'আ করুন, যাতে মহান আল্লাহ আমাকে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রাসুল (ﷺ) বললেন, হে আল্লাহ! তুমি একে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত কর। এরপর রাসূল (ﷺ) বললেন, হে সমবেত শ্রোতামগুলী, আমার মিম্বার থেকে অবতরণের পূর্ব পর্যন্ত তোমরা আমাকে যে বিষয়েই জিজ্ঞাসা করবে আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে জানাব। তখন জনৈক সাহাবী দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ), আমার পিতা কে? রাসূল (ﷺ) বললেন, তোমার পিতা অমুক, যার প্রতি তিনি সম্পর্কিত হতেন। (অর্থাৎ তাঁর পিতা হিসাবে যিনি পরিচিত ছিলেন তাঁর নামই বললেন)।
(ইমাম আহমদ ছাড়া এ হাদীসখানা এত দীর্ঘায়িত আর কেউ বর্ণনা করেন নি। তবে ইমাম বুখারী, ইমাম মুসলিম ও অন্যানা সংকলকগণ তাঁদের গ্রন্থে সংক্ষিপ্তভাবে সংকলন করেছেন।)
كتاب الصلاة
فصل منه في وعظ الناس وحثهم على الصدقة والذكر والدعاء والتكبير
(1713) عن أسماء بنت أبي بكر رضي الله عنهما، قالت خسفت الشَّمس على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فسمعت رجَّة النَّاس وهو يقولون آيةً (فذكرت نحو الحديث المتقدِّم وفيه) فصلَّيت معهم، وقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم فرغ من سجدته الأولى قالت فقام رسول الله صلَّى الله عليه وعلى آله وسلَّم قيامًا طويلًا حتَّى رأيت بعض من يصلِّي ينتضح بالماء، ثمَّ ركع فركع ركوعًا طويلًا، ثمَّ قام ولم يسجد قيامًا طويلًا، وهو دون القيام الأوَّل ثمَّ ركع ركوعًا طويلًا وهو دون ركوعه الأوَّل، ثمَّ سجد، ثمَّ سلَّم وقد تجلَّت الشَّمس، ثمَّ رقى المنبر فقال أيُّها النَّاس، إنَّ الشَّمس والقمر آيتان من آيات الله لا يخسفان لموت أحدٍ ولا لحياته فإذا رأيتم ذلك فافزعوا إلى الصَّلاة وإلى الصَّدقة وإلى ذكر الله، أيُّها النَّاس إنَّه لم يبق شئٌ لم أكن رأيته إلَّا رأيته في مقامي هذا، وقد رأيتكم تفتنون في قبوركم، يسأل أحدكم ما كنت تقول وما كنت تعبد؟ فإن قال لا أدري، رأيت النَّاس يقولون شيئًا فقلته ويصنعون شيئًا فصنعته، قيل له أجل، على الشَّكِّ عشت وعليه متَّ هذا مقعدك من النَّار، وإن قال أشهد أن لا إله إلَّا الله وأنَّ محمَّدًا رسول الله قيل على اليقين عشت وعليه متَّ، هذا مقعدك من الجنَّة، وقد رأيت خمسين أو سبعين ألفًا يدخلون الجنَّة في مثل صورة القمر ليلة البدر فقام إليه رجلٌ فقل ادع الله أن يجعلني منهم، فقال اللَّهمَّ اجعله منهم، أيها النَّاس إنَّكم لن تسألوني عن شيءٍ حتَّ أنزل إلا أخبرتكم به فقام رجلٌ فقال من أبي قال أبوك فلانٌ الَّذي كان ينسب إليه
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭১৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ এ পরিচ্ছেদটিতে সে ব্যক্তি সম্পর্কীত আলোচনা রয়েছে, যে ব্যক্তি মানুষকে ওয়াজ-নসীহত করতেন এবং তাদেরকে দান-সাদকাহ্, যিকর, দু'আ এবং তাকবীর বলার ক্ষেত্রে উৎসাহ প্রদান করতেন
(১৭১১) আবু বকর সিদ্দিক (রা)-এর কন্যা আসমা (রা) থেকে আরো বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) আমাদেরকে সূর্য গ্রহণের সালাতে দাসদের মুক্ত করানোর ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁর থেকে অন্য সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন, সূর্যগ্রহণের সালাতে আমরা দাস-দাসীদের মুক্তকরণে আদিষ্ট হয়েছিলাম।
(সহীহুল বুখারী, সুনানে আবু দাউদ, মুস্তাদরাকে হাকেম, সুনান আল-বাইহাকী।)
(সহীহুল বুখারী, সুনানে আবু দাউদ, মুস্তাদরাকে হাকেম, সুনান আল-বাইহাকী।)
كتاب الصلاة
فصل منه في وعظ الناس وحثهم على الصدقة والذكر والدعاء والتكبير
(1714) وعنها أيضًا قالت وقد أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم بالعتاقة في صلاة كسوف الشَّمس (وعنها من طريقٍ ثانٍ قالت) إن كنَّا لنؤمر بالعتاقة في صلاة الخسوف
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭১৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ এ পরিচ্ছেদটিতে সে ব্যক্তি সম্পর্কীত আলোচনা রয়েছে, যে ব্যক্তি মানুষকে ওয়াজ-নসীহত করতেন এবং তাদেরকে দান-সাদকাহ্, যিকর, দু'আ এবং তাকবীর বলার ক্ষেত্রে উৎসাহ প্রদান করতেন
(১৭১২) উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সূর্যগ্রহণের সালাতে (সালাতুল কুসূফ) রাসূল (ﷺ)-এর দীর্ঘ কিয়াম দু'রাক'আত সালাতে প্রতি রাক'আতে দু'টি করে রুকু ইত্যাদি বর্ণনা করেন, যেমনটি তাঁর বর্ণিত পূর্ববর্তী হাদীসসমূহে উল্লেখ রয়েছে। তিনি আরো বলেন, রাসূল (ﷺ) যখন সালাত শেষ করলেন তখন সূর্য আলোকোজ্জ্বল হয়ে গিয়েছিল। এরপর তিনি খুৎবা দিতে দাঁড়িয়ে প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন। অতঃপর বললেন, নিশ্চয়ই চন্দ্র ও সূর্য মহান আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্গত। চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ ব্যক্তি বিশেষের জন্ম বা মৃত্যুর কারণে ঘটে না। যখনই তোমরা চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ লাগতে দেখবে তখন তাকবীর বলবে এবং আল্লাহর কাছে দু'আ করবে। সালাত আদায় ও দান-সাদকাহ করবে। অতঃপর বললেন, হে মুহাম্মদের উম্মত, কেউই মহান আল্লাহর চেয়ে অন্যায়ের প্রতি অধিকতর ক্রোধ বিরক্তিসম্পন্ন নয়, যে তার দাস বা তার দাসী ব্যভিচার করবে। হে মুহাম্মদের উম্মত, আমরা যা জ্ঞাত রয়েছি তোমরা যদি তা জ্ঞাত হতে, তাহলে অবশ্যই তোমরা বেশী কাঁদতে আর কমই হাসতে। হে শ্রোতামণ্ডলী! আমি কি (ওহীর বাণী) পৌছিয়েছি।
(সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম, মুয়াত্তা মালিক, সুনান আন-নাসায়ী।)
(সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম, মুয়াত্তা মালিক, সুনান আন-নাসায়ী।)
كتاب الصلاة
فصل منه في وعظ الناس وحثهم على الصدقة والذكر والدعاء والتكبير
(1715) عن عائشة رضي الله عنها "تصف صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم في الكسوف بطول القيام؛ وأنَّه صلَّاها ركعتين في كلِّ ركعةٍ ركوعان كما تقدَّم في أحاديثها السَّابقة وفيه قالت "فانصرف رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد تجلَّت الشَّمس فخطب النَّاس فحمد الله عزَّ وجلَّ وأثنى عليه ثمَّ قال إنَّ الشَّمس والقمر من آيات الله، وإنَّهما لا يخسفان لموت أحدٍ ولالحياته، فإذا رأيتموهما فكبِّروا وادعوا الله عزَّ وجلَّ صلُّوا وتصدَّقوا، يا أمَّة محمَّدٍ ما من أحدٍ أغير من الله عزَّ وجلَّ أن يزني عبده أو تزني أمته، يا أمَّة محمَّدٍ والله لو تعلمون ما أعلم لبكيتم كثيرًا ولضحكتم قليلًا، ألا هل بلَّغت؟
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭১৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সালাতুল ইস্তেস্কা বিষয়ক পরিচ্ছেদসমূহ
(এক) অনাবৃষ্টির কারণ বর্ণনা সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(এক) অনাবৃষ্টির কারণ বর্ণনা সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(১৭১৩) আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, হে মানবমণ্ডলী! তোমাদের মহান রব আল্লাহ বলেন, যদি আমার বান্দাহগণ আমার আনুগত্য করত (আদেশ-নিষেধ মেনে চলত) তাহলে রাতের বেলা বৃষ্টির দ্বারা তাদের পানির ব্যবস্থা করতাম আর দিবাভাগে তাদের জন্য সূর্য উদিত করতাম এবং আমি তাদেরকে কোন প্রকার বজ্রপাতের শব্দ শোনাতাম না। রাসুল (ﷺ) আরো বলেন, মহান আল্লাহর ব্যাপারে সুধারণা রাখা উত্তম ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আরো বলেন, তোমরা তোমাদের ঈমানকে নবায়ন কর। তাঁরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। আমরা কিভাবে আমাদের ঈমানের নরায়ন করবো? তিনি বলেন, তোমরা বেশী বেশী "লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ”, পাঠ কর। (এতে তোমাদের ঈমান নবায়িত হবে।)
(মুস্তাদরাকে হাকেম, ইমাম হাইসামী'র মাজমাউয যাওয়াইদ।)
(মুস্তাদরাকে হাকেম, ইমাম হাইসামী'র মাজমাউয যাওয়াইদ।)
كتاب الصلاة
أبواب صلاة الاستسقاء
(1) باب سبب منع المطر عن الناس
(1) باب سبب منع المطر عن الناس
(1716) عن أبي هريرة رضي الله عنه أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قال قال ربُّكم عزَّ وجلَّ لو أنَّ عبادي أطاعوني لأسقيتهم المطر باللَّيل وأطلعت عليهم الشَّمس بالنَّهار، ولما أسمعتهم صوت الرَّعد وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم إنَّ حسن الظنِّ بالله من حسن عبادة الله، وقال رسول الله صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم جدِّدوا إيمانكم، قيل يا رسول الله وكيف نجدِّد إيماننا؟ قال أكثروا من قول لا إله إلَّا الله
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭১৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (দুই) সালাতুল ইস্তেস্কার বর্ণনা, এ উদ্দেশ্যে খুতবাদান এবং এ সালাতে স্বশব্দে কিরাআত পাঠের প্রাসঙ্গিক পরিচ্ছেদ
(১৭১৪) আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর নবী (ﷺ) ইস্তিষ্কার সালাতের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আমাদের সাথে নিয়ে আযান ও ইকামত ব্যতিরেকে দু'রাক'আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন। আল্লাহর সমীপে দু'আ করলেন, কেবলার দিকে মুখ ফিরিয়ে হাতদ্বয় উপরের দিকে উত্তোলন করলেন এবং চাদরের ডান দিক বাম দিকে নিয়ে আর বাম দিক ডান দিকে নিয়ে উল্টিয়ে পরিধান করলেন।
كتاب الصلاة
(2) باب صفة صلاة الاستسقاء والخطبة لها والجهر بالقراءة فيها
(1717) عن أبي هريرة رضي الله عنخ، قال خرج بنيُّ الله صلى الله عليه وسلم يومًا يستسقي وصلَّى بنا ركعتين بلا أذان ولا إقامة ثمًّ خطبنا ودعا الله وحوَّل وجهه نحو القبلة رافعًا يده، ثمَّ قلب رداءه فجعل الأيمن على الأيسر والأيسر على الأيمن
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭১৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (দুই) সালাতুল ইস্তেস্কার বর্ণনা, এ উদ্দেশ্যে খুতবাদান এবং এ সালাতে স্বশব্দে কিরাআত পাঠের প্রাসঙ্গিক পরিচ্ছেদ
(১৭১৫) আব্বাদ ইবনে তামীম (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে যাঈদ আল মাযিনী (রা)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসূল (ﷺ) সালাতুল ইস্তেস্কা আদায়ের উদ্দেশ্যে ময়দানে (ঈদগাহে) উপস্থিত হলেন, পানির জন্য প্রার্থনা করলেন, কিবলামুখী হওয়ার সময় তিনি তাঁর চাদরকে উল্টিয়ে পরিধান করলেন।
হাদীসখানির অন্যতম বর্ণনাকারী ইসহাক বলেন, রাসুল (ﷺ) খুৎবার পূর্বেই সালাত আদায় করলেন। অতঃপর কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর কাছে (বৃষ্টি বা পানির জন্য) দু'আ করলেন।
হাদীসখানির অন্যতম বর্ণনাকারী ইসহাক বলেন, রাসুল (ﷺ) খুৎবার পূর্বেই সালাত আদায় করলেন। অতঃপর কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর কাছে (বৃষ্টি বা পানির জন্য) দু'আ করলেন।
كتاب الصلاة
(2) باب صفة صلاة الاستسقاء والخطبة لها والجهر بالقراءة فيها
(1718) عن عبَّاد بن تميم قال سمعت عبد الله بن زيدٍ المازنيَّ يقول خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى المصلَّى واستسقى وحوَّل رداءه حين استقبل قال إسحق في حديثه وبدأ بالصَّلاة قبل الخطبة ثمَّ استقبل القبلة فدعا
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭১৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (দুই) সালাতুল ইস্তেস্কার বর্ণনা, এ উদ্দেশ্যে খুতবাদান এবং এ সালাতে স্বশব্দে কিরাআত পাঠের প্রাসঙ্গিক পরিচ্ছেদ
(১৭১৬) 'আব্বাদ ইবনে তামীম (রা) তাঁর চাচা আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ (রা) থেকে বর্ণনা করে বলেন, আমার উপস্থিতিতে রাসূল (ﷺ) পানি প্রার্থনার (সালাতুল ইস্তেস্কা) উদ্দেশ্যে ময়দানে গমন করলেন, তিনি তখন সমবেত মানুষদের দিকে পিঠ দিয়ে দাঁড়ালেন এবং কেবলামুখী হয়ে তাঁর চাদরকে উল্টিয়ে পরিধান করে আল্লাহর কাছে দু'আ করতে শুরু করলেন এবং সশব্দ কিরাআতে দু'রাক'আত সালাত আদায় করলেন। একই বর্ণনাকারী থেকে দ্বিতীয় সনদে বর্ণিত, তিনি তাঁর চাচা আব্দুল্লাহ্ ইবনে যায়দ (রা) থেকে বর্ণনা করে বলেন, আল্লাহর রাসুল (ﷺ) ইস্তেস্কার সালাতের জন্য মাঠে উপস্থিত হলেন এবং কেবলামুখী হওয়ার সময় তাঁর চাদরকে উল্টিয়ে পরিধান করলেন।
(সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনান আন-নাসায়ী, সুনান আল-বাইহাকী।)
(সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনান আন-নাসায়ী, সুনান আল-বাইহাকী।)
كتاب الصلاة
(2) باب صفة صلاة الاستسقاء والخطبة لها والجهر بالقراءة فيها
(1719) وعنه أيضًا عن عمِّه قال شهدت رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج يستسقي فولَّى ظهره النَّاس واستقبل القبلة وحوَّل رداءه وجعل يدعوا وصلَّى ركعتين وجهر بالقراءة (وعنه من طريق ثان) عن عمِّه قال خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى المصلَّى فاستسقى وحوَّل رداءه حين استقبل القبلة
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭২০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (দুই) সালাতুল ইস্তেস্কার বর্ণনা, এ উদ্দেশ্যে খুতবাদান এবং এ সালাতে স্বশব্দে কিরাআত পাঠের প্রাসঙ্গিক পরিচ্ছেদ
(১৭১৭) 'আব্দুল্লাহ ইবনে 'আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) ভীত সন্ত্রস্ত্র, বিনয়ী, অগোছালো বস্ত্র পরিহিত অবস্থায় ধীরস্থীরভাবে বের হলেন। তথায় তিনি লোকজনকে নিয়ে ঈদের সালাতের ন্যায় দু'রাক'আত সালাত আদায় করলেন। তবে তোমাদের এই খুৎবার মত (লম্বা চওড়া) খুৎবা প্রদান করতেন না।
(মুস্তাদরাকে হাকেম, সুনানে দারাকুতনী, সুনান আল-বাইহাকী, সুনান চতুষ্টয়। তিরমিযী প্রমুখ মুহাদ্দিস হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)
(মুস্তাদরাকে হাকেম, সুনানে দারাকুতনী, সুনান আল-বাইহাকী, সুনান চতুষ্টয়। তিরমিযী প্রমুখ মুহাদ্দিস হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)
كتاب الصلاة
(2) باب صفة صلاة الاستسقاء والخطبة لها والجهر بالقراءة فيها
(1720) عن ابن عبَّاس رضي الله عنهما أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج متخشِّعًا متضرِّعًا متواضعًا متبذِّلًا مترسِّلًا فصلَّى بالنَّاس ركعتين كما يضلِّي في العيد لم يخطب كخطبتكم هذه
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭২১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (তিন) জুমু'আর সালাতে দু'আর মাধ্যমে ইস্তেস্কা (বৃষ্টি চাওয়া) এবং সালাত ছাড়া শুধু দু'আর মাধ্যমে ইস্তেস্কা করা
(১৭১৮) হুমাইদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) হাত তুলে দু'আ করতেন কি-না এ ব্যাপারে আনাস ইবেন মালিক (রা)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন, কোন এক জুমু'আর দিনে (রাসূল (ﷺ) যখন খুৎবা দিচ্ছিলেন, তখন তাঁকে বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেল, যমীন শুকিয়ে গেল আর পোষা প্রাণীগুলো ও প্রাণী সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেল। বর্ণনাকারী বলেন, এতদ শ্রবণে রাসূল (ﷺ) তাঁর হস্তদ্বয় এভাবে উঠালেন যে, আমি তার বগলদ্বয়ের শুভ্রতা প্রত্যক্ষ করলাম। এভাবে হস্তদ্বয় উঠানো অবস্থায় তিনি বৃষ্টির জন্য দু'আ করলেন। তখন আমরা আকাশে এক টুকরো মেঘও দেখি নি। অথচ আমরা সালাত সমাপ্ত করতে না করতেই প্রবল ধারার বৃষ্টি বর্ষণ শুরু হল। এমনকি মসজিদের নিকটবর্তী গৃহবাসী একজন যুবকেরও বৃষ্টিপাতের প্রবলতার কারণে গৃহে পৌঁছতে কষ্ট হয়েছিল।
বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর পরবর্তী জুমু'আ আসলে লোকজন বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। প্রবল বর্ষণের কারণে ঘর বাড়ি ভেসে যাচ্ছে এবং মুসাফিররা বাড়ি ফিরতে পারছে না। একথা শ্রবণান্তে রাসূল (ﷺ) আদম সন্তানের দ্রুত বিরক্তিতে মুচকি হাসলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ, আমাদের আশেপাশে (পাহাড়ে মরুভূমিতে) এই বৃষ্টি দান করুন, আমাদের উপরে নয়। তখনই মদীনার এলাকা হতে বৃষ্টিপাত দুরীভূত হয়ে গেল।
অন্য সনদে সাবিত (র) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস ইবনে মালিক (রা) তাঁকে বলেছেন, আমি জুমু'আ দিবসে রাসূল (ﷺ)-এর মিম্বরের কাছে উপবিষ্ট ছিলাম আর তখন রাসূল (ﷺ) খুৎবা দিচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় মসজিদে সমবেত লোকদের থেকে কেউ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ), দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। এরপর পূর্ববর্তী বর্ণনার ন্যায় বর্ণনা করেন। অন্যসূত্রে সাহাবী কাতাদা (রা) আনাস ইবনে মালিক (রা) হতে বর্ণনা করে বলেন, রাসূল (ﷺ) যখন মদীনার মসজিদে জুমু'আর দিবসে খুৎবা দিচ্ছিলেন তখন জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ﷺ)-কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ), দীর্ঘদিন ধরে খরা লেগে আছে এবং যমীন শুকিয়ে গাছপালা মরে যাচ্ছে। লোকজন (অনাবৃষ্টিজনিত) দুর্ভিক্ষে পতিত হচ্ছে। এজন্য আপনি আপনার রবের (মহান আল্লাহর) কাছে বৃষ্টিপাতের জন্য দু'আ করুন। এরপর রাসূল (ﷺ) আকাশের দিকে তাকালেন, অথচ আমরা তখন আকাশে তেমন কোন মেঘের আনাগোনা দেখলাম না। রাসূল (ﷺ) বৃষ্টি বর্ষণের জন্য দু'আ করলেন, ফলে মেঘের পরিমাণ বৃদ্ধি পেল। মেঘে মেঘে গোটা আকাশ ভরে গেল। এরপর মেঘ হতে প্রবল বর্ষণ শুরু হলো যে, মদীনার পানি প্রবাহের নালাগুলোতে পানি উপচে পড়ল। এমনকি মদীনার রাস্তাগুলো নদীতে পরিণত হলো এ প্রবল বৃষ্টি বর্ষণ পরবর্তী জুমু'আ পর্যন্ত অনবরত বর্ষিত হতে লাগল।
অতঃপর পূর্ববর্তী ব্যক্তি অথবা অন্য কেউ রাসূল (ﷺ)-এর দ্বিতীয় জুমু'আতে খুৎবা প্রদানের সময় দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আল্লাহর কাছে দু'আ করুন যাতে আমাদের থেকে বৃষ্টিপাত বন্ধ করেন এতদ- শ্রবণে আল্লাহর নবী হাসলেন এবং আল্লাহর কাছে দু'আ করে বললেন, "হে আল্লাহ। আমাদের আশেপাশে, তবে আমাদের উপরে নয়। তখন মেঘমালা খণ্ড বিখণ্ড হয়ে মদীনা শহরের ডানে বামে স্থানান্তরিত হয়ে গেল এবং মদীনার আশে পাশে বৃষ্টি বর্ষণ হতে থাকল, কিন্তু মদীনায় বৃষ্টিপাত বন্ধ হয়ে গেল।
চতুর্থ সনদে ইসহাক ইবনে 'আব্দুল্লাহ ইবনে আবু তালহা আল-আনসারী (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস ইবনে মালিক (রা) আমাকে বলেছেন, রাসূল (ﷺ)-এর যুগে একবার লোকজন দুর্ভিক্ষগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূল (ﷺ) জুমু'আ দিবসে খুৎবা দিচ্ছিলেন। এমন সময় এক বেদুঈন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! অনাবৃষ্টিতে ধন-সম্পদ বরবাদ হয়ে যাচ্ছে এবং পরিবার-পরিজন ক্ষুধায় কষ্ট পাচ্ছে। অতএব, আপনি আল্লাহর কাছে বৃষ্টি বর্ষণের ব্যাপারে দু'আ করুন। তখন রাসূল (ﷺ) তাঁর হস্তদ্বয় উত্তোলন করলেন। তখন এক ফোঁটা মেঘও দেখলাম না। অথচ তাঁর দু'আর কারণে পাহাড় সম বড় বড় মেঘ খণ্ডে গোটা আকাশ ভরে গেল। এমনকি তিনি মিম্বর থেকে নামতে না নামতেই বৃষ্টির পানি তাঁর দাড়ির উপর পড়তে লাগল।
(সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনান আন-নাসায়ী, সুনান আল বাইহাকী।)
বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর পরবর্তী জুমু'আ আসলে লোকজন বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। প্রবল বর্ষণের কারণে ঘর বাড়ি ভেসে যাচ্ছে এবং মুসাফিররা বাড়ি ফিরতে পারছে না। একথা শ্রবণান্তে রাসূল (ﷺ) আদম সন্তানের দ্রুত বিরক্তিতে মুচকি হাসলেন এবং বললেন, হে আল্লাহ, আমাদের আশেপাশে (পাহাড়ে মরুভূমিতে) এই বৃষ্টি দান করুন, আমাদের উপরে নয়। তখনই মদীনার এলাকা হতে বৃষ্টিপাত দুরীভূত হয়ে গেল।
অন্য সনদে সাবিত (র) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস ইবনে মালিক (রা) তাঁকে বলেছেন, আমি জুমু'আ দিবসে রাসূল (ﷺ)-এর মিম্বরের কাছে উপবিষ্ট ছিলাম আর তখন রাসূল (ﷺ) খুৎবা দিচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় মসজিদে সমবেত লোকদের থেকে কেউ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ), দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। এরপর পূর্ববর্তী বর্ণনার ন্যায় বর্ণনা করেন। অন্যসূত্রে সাহাবী কাতাদা (রা) আনাস ইবনে মালিক (রা) হতে বর্ণনা করে বলেন, রাসূল (ﷺ) যখন মদীনার মসজিদে জুমু'আর দিবসে খুৎবা দিচ্ছিলেন তখন জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ﷺ)-কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ), দীর্ঘদিন ধরে খরা লেগে আছে এবং যমীন শুকিয়ে গাছপালা মরে যাচ্ছে। লোকজন (অনাবৃষ্টিজনিত) দুর্ভিক্ষে পতিত হচ্ছে। এজন্য আপনি আপনার রবের (মহান আল্লাহর) কাছে বৃষ্টিপাতের জন্য দু'আ করুন। এরপর রাসূল (ﷺ) আকাশের দিকে তাকালেন, অথচ আমরা তখন আকাশে তেমন কোন মেঘের আনাগোনা দেখলাম না। রাসূল (ﷺ) বৃষ্টি বর্ষণের জন্য দু'আ করলেন, ফলে মেঘের পরিমাণ বৃদ্ধি পেল। মেঘে মেঘে গোটা আকাশ ভরে গেল। এরপর মেঘ হতে প্রবল বর্ষণ শুরু হলো যে, মদীনার পানি প্রবাহের নালাগুলোতে পানি উপচে পড়ল। এমনকি মদীনার রাস্তাগুলো নদীতে পরিণত হলো এ প্রবল বৃষ্টি বর্ষণ পরবর্তী জুমু'আ পর্যন্ত অনবরত বর্ষিত হতে লাগল।
অতঃপর পূর্ববর্তী ব্যক্তি অথবা অন্য কেউ রাসূল (ﷺ)-এর দ্বিতীয় জুমু'আতে খুৎবা প্রদানের সময় দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আল্লাহর কাছে দু'আ করুন যাতে আমাদের থেকে বৃষ্টিপাত বন্ধ করেন এতদ- শ্রবণে আল্লাহর নবী হাসলেন এবং আল্লাহর কাছে দু'আ করে বললেন, "হে আল্লাহ। আমাদের আশেপাশে, তবে আমাদের উপরে নয়। তখন মেঘমালা খণ্ড বিখণ্ড হয়ে মদীনা শহরের ডানে বামে স্থানান্তরিত হয়ে গেল এবং মদীনার আশে পাশে বৃষ্টি বর্ষণ হতে থাকল, কিন্তু মদীনায় বৃষ্টিপাত বন্ধ হয়ে গেল।
চতুর্থ সনদে ইসহাক ইবনে 'আব্দুল্লাহ ইবনে আবু তালহা আল-আনসারী (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস ইবনে মালিক (রা) আমাকে বলেছেন, রাসূল (ﷺ)-এর যুগে একবার লোকজন দুর্ভিক্ষগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূল (ﷺ) জুমু'আ দিবসে খুৎবা দিচ্ছিলেন। এমন সময় এক বেদুঈন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! অনাবৃষ্টিতে ধন-সম্পদ বরবাদ হয়ে যাচ্ছে এবং পরিবার-পরিজন ক্ষুধায় কষ্ট পাচ্ছে। অতএব, আপনি আল্লাহর কাছে বৃষ্টি বর্ষণের ব্যাপারে দু'আ করুন। তখন রাসূল (ﷺ) তাঁর হস্তদ্বয় উত্তোলন করলেন। তখন এক ফোঁটা মেঘও দেখলাম না। অথচ তাঁর দু'আর কারণে পাহাড় সম বড় বড় মেঘ খণ্ডে গোটা আকাশ ভরে গেল। এমনকি তিনি মিম্বর থেকে নামতে না নামতেই বৃষ্টির পানি তাঁর দাড়ির উপর পড়তে লাগল।
(সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনান আন-নাসায়ী, সুনান আল বাইহাকী।)
كتاب الصلاة
(3) باب الاستسقاء بالدعاء في خطبة الجمعة ومن استسقا بغير صلاة
(1721) عن حميدٍ قال سئل "أنس بن مالكٍ رضي الله عنه" هل كان النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم يرفع يديه فقال قيل له يوم جمعةٍ يا رسول الله قحط المطر، وأجدبت الأرض، وهلك المال قال فرفع يديه حتَّى رأيت بياض إبطيه فاستسقى، ولقد رفع يديه وما نرى في الَّماء سحابةً، فما قضينا الصَّلاة حتَّى إنَّ قريب الدَّار الشَّابَّ يهمُّه الرَّجوع إلى أهله قال فلمَّا كانت الجمعة التَّي تليها، قالوا يا رسول الله، تهدَّمت البيوت، واحتبست الرُّكبان فتبسَّم رسول الله صلى الله عليه وسلم من سرعة ملالة ابن آدم، وقال اللَّهمَّ حوالينا ولا علينا فتكشَّطت (وفي لفظ فتكشَّفت) عن المدينة (ومن طريقٍ ثانٍ) عن ثابتٍ قال قال أنسٌ إنِّي لقاعدٌ عند المنبر يوم الجمعة ورسول الله صلى الله عليه وسلم يخطب إذ قال بعض أهل المسجد، يا رسول الله حبس المطر فذكر نحوه (ومن طريقٍ ثالثٍ) عن قتادة عن أنس بن مالكٍ أنَّ رجلًا نادى رسول الله صلى الله عليه وسلم في يوم الجمعة وهو يخطب النَّاس بالمدينة فقال يا رسول الله قحط المطر وأمحلت الأرض وقحط النَّاس فاستسق لنا ربَّك فنظر النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم إلى السَّماء وما نرى كثير سحابٍ فاستسقى ففشا السَّحاب بعضه إلى بعض، ثمَّ مطروا حتَّى سالت مثاعب المدينة، واضطردت طرقها أنهارًا فما زالت كذلك إلى يوم الجمعة المقبلة ما تقلع، ثمَّ قام ذلك الرَّجل أو غيره، ونبيُّ الله صلى الله عليه وسلم يخطب، فقال يا نبيَّ الله ادع لنا الله أن يحبسها عنَّا، فضحك نبي الله صلى الله عليه وسلم ثمَّ قال، اللَّهمَّ حوالينا ولا علينا، فدعا ربَّه فجعل السَّحاب يتصدَّع عن المدينة يمينًا وشمالًا يمطر ما حولها ولا يمطر فيها شيئًا (ومن طريقٍ رابعٍ) عن اسحق بن عبد الله بن أبي طلحة الأنصاريَّ قال حدَّثني أنس بن مالكٍ قال أصاب النَّاس سنةٌ على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فبينا رسول الله صلى الله عليه وسلم يخطب يوم الجمعة قام أعرابيٌّ فقال يا رسول الله، هلك المال، وجاع العيال فادع الله أن يسقينا، فرفع رسول الله صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم يديه وما ترى في السَّماء قزعةٌ فثار سحابٌ أمثال الجبال ثمَّ لم يزل عن منبره حتَّى رأينا المطر يتحادر على لحيته فذكر الحديث
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭২২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (তিন) জুমু'আর সালাতে দু'আর মাধ্যমে ইস্তেস্কা (বৃষ্টি চাওয়া) এবং সালাত ছাড়া শুধু দু'আর মাধ্যমে ইস্তেস্কা করা
(১৭১৯) গুরাহবিল ইবনুস সিমত বলেন, আমি কা'ব ইবনে মুররা (রা)-কে বললাম, আপনি আমাকে রাসুল (ﷺ) থেকে শ্রুত কোন হাদীস বর্ণনা করুন এবং সতর্কতার সাথে বলুন যেন কম বেশি না হয়। তিনি বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি তাঁর কাছে জনৈক ব্যক্তি এসে বললেন- হে আল্লাহর রাসুল (ﷺ), আপনি "মুদার" গোত্রের জন্য আল্লাহর কাছে বৃষ্টি প্রার্থনা করুন, রাসুল (ﷺ) বললেন, তোমার সাহস তো কম না "মুদার" গোত্রের জন্য দু'আ চাচ্ছ? (মুদার গোত্র মুসলিমদের কষ্ট প্রদান ও বিরোধিতায় কাফিরদের নেতৃত্ব দিত) দু'আ প্রার্থনাকারী ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসুল (ﷺ), আপনি মুদারীদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন, আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আপনি দু'আ করেছেন, সে দু'আও আল্লাহ কবুল করেছেন। (ফলে তারা খরাজনিত দুর্ভিক্ষে নিপতিত, সংকটাপন্ন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে।) তখন তিনি তাঁর হস্তময় উত্তোলন করে আল্লাহর কাছে এ বলে দু'আ করলেন-
اللَّهمَّ اسْقِنَا غَيْثًا مُغِيْثًا مَرِِيْعًا مَرِيْئًا طَبْقًا غَدْقُا عَاجِلًا غَيْرَ رَائِثٍ، نَافِعًا غَيْرَ ضارٍّ
অর্থাৎ, "হে আল্লাহ! তুমি আমাদের প্রবল বৃষ্টি দান কর, যে বৃষ্টির দ্বারা প্রকৃতি সবুজে ভরে যাবে, পশু-প্রাণীরা পানি পান করে মোটা তাজা হবে। যে বৃষ্টিপাতের ফোঁটা বড় হবে এবং প্রচুর পরিমাণে হবে। যা দেরীতে নয় বরং অতিসত্বর হবে। যা অকল্যাণকর নয় বরং তা কল্যাণকর হবে।
বর্ণনাকারী বলেন, তাঁদের এ দু'আর ফল তারা পেলেন কয়েকদিন পরেই তাঁরা এসে আবার অতিবৃষ্টির সমস্যার কথা জানালো এবং বলল, বৃষ্টির প্রাবল্যতার কারণে বাড়ি-ঘর বরবাদ হয়ে যাচ্ছে। রাবী বলেন, তখন তিনি তদীয় হস্তদ্বয় উত্তোলন করলেন এবং বললেন, অর্থাৎ "হে আল্লাহা আমাদের আশে পাশে, তবে আমাদের উপরে নয়'। তখন মেঘ মালা টুকরো টুকরো হয়ে ডানে বামে চলে যেতে লাগলো।
(সুনানে ইবনে মাজাহ, সুনান আল-বাইহাকী. হাকিম। তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)
اللَّهمَّ اسْقِنَا غَيْثًا مُغِيْثًا مَرِِيْعًا مَرِيْئًا طَبْقًا غَدْقُا عَاجِلًا غَيْرَ رَائِثٍ، نَافِعًا غَيْرَ ضارٍّ
অর্থাৎ, "হে আল্লাহ! তুমি আমাদের প্রবল বৃষ্টি দান কর, যে বৃষ্টির দ্বারা প্রকৃতি সবুজে ভরে যাবে, পশু-প্রাণীরা পানি পান করে মোটা তাজা হবে। যে বৃষ্টিপাতের ফোঁটা বড় হবে এবং প্রচুর পরিমাণে হবে। যা দেরীতে নয় বরং অতিসত্বর হবে। যা অকল্যাণকর নয় বরং তা কল্যাণকর হবে।
বর্ণনাকারী বলেন, তাঁদের এ দু'আর ফল তারা পেলেন কয়েকদিন পরেই তাঁরা এসে আবার অতিবৃষ্টির সমস্যার কথা জানালো এবং বলল, বৃষ্টির প্রাবল্যতার কারণে বাড়ি-ঘর বরবাদ হয়ে যাচ্ছে। রাবী বলেন, তখন তিনি তদীয় হস্তদ্বয় উত্তোলন করলেন এবং বললেন, অর্থাৎ "হে আল্লাহা আমাদের আশে পাশে, তবে আমাদের উপরে নয়'। তখন মেঘ মালা টুকরো টুকরো হয়ে ডানে বামে চলে যেতে লাগলো।
(সুনানে ইবনে মাজাহ, সুনান আল-বাইহাকী. হাকিম। তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)
كتاب الصلاة
(3) باب الاستسقاء بالدعاء في خطبة الجمعة ومن استسقا بغير صلاة
(1722) عن شرحبيل بن السِّمط أنَّه قال لكعب بن مرَّة (رضي الله عنه) يا كعب بن مرَّة، حدَّثنا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم واحذر قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول وجاءه رجلٌ فقال استسق الله لمضر، قال فقال إنَّك لجريءٌ، ألمضر؟ قال يا رسول الله استنصرت الله عزَّ وجلَّ فنصرك ودعوت الله عزَّ وجلَّ فأجابك قال فرفع رسول الله صلَّى اللع عليه وعلى آله وسلَّم يديه يقول اللَّهمَّ اسقنا غيثًا مغيثًا مريعًا مريئًا طبقًا غدقُا عاجلًا غير رائث، نافعًا غير ضارّ، قال فأجيبوا، قال فما لبثوا أن أتوه فشكوا إليه كثرة المطر؛ فقالوا قد تهدَّمت البيوت، قال فرفع يديه وقال اللَّهمَّ حوالينا ولا علينا قال فجعل السَّحاب يتقطَّع يمينًا وشمالًا
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭২৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (চার) পরিচ্ছেদ: দু'আর সময় ইমাম-মুক্তাদী সকলের পরিধেয় চাদর উল্টিয়ে পরিধান করা এবং এরূপ কখন করতে হবে।
(১৭২০) 'আব্বাদ ইবনে তামীম তাঁর চাচা আব্দুল্লাহ ইবনে যাঈদ (রা) হতে বর্ণনা করে বলেন, রাসূল (ﷺ) (ইস্তেস্কার সালাতের উদ্দেশ্যে) গৃহ হতে মাঠে বের হলেন এবং কেবলামুখী হলেন এবং তাঁর পরিধেয় চাদরখানি উল্টিয়ে পরিধান করে দু'রাক'আত সালাত আদায় করলেন।
সুফিয়ান (রহ) বলেন, চাদর উল্টিয়ে পরিধান করার অর্থ হচ্ছে, চাদরের ডান দিককে বামে ও বামদিককে ডানে দেওয়া।
দ্বিতীয় সনদে আব্দুল্লাহ ইবনে যাঈদ আল্-মাযিনী (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) যখন আমাদের জন্য ইস্তিষ্কা (আল্লাহর কাছে বৃষ্টি প্রার্থনা) করলেন, তখন তিনি দীর্ঘ সময় দু'আ করলেন এবং বেশী প্রার্থনা করলেন। এরপর তিনি কেবলার দিকে ফিরে তাঁর গায়ের চাদরটি এমনিভাবে উল্টিয়ে পরিধান করলেন যে, তার ভিতরের দিক বাহির করে দিলেন। অনুরূপভাবে উপস্থিত লোকজনও তাঁদের স্ব-স্ব পরিধেয় চাদর রাসূল (ﷺ)-এর মত একইভাবে উল্টিয়ে পরিধান করলেন।
(সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনান আন-নাসায়ী, সুনান আল-বাইহাকী। মুসল্লিদের চাদর উল্টানোর এই বাক্যটি শুধুমাত্র আহমদের বর্ণনায় আছে।)
সুফিয়ান (রহ) বলেন, চাদর উল্টিয়ে পরিধান করার অর্থ হচ্ছে, চাদরের ডান দিককে বামে ও বামদিককে ডানে দেওয়া।
দ্বিতীয় সনদে আব্দুল্লাহ ইবনে যাঈদ আল্-মাযিনী (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) যখন আমাদের জন্য ইস্তিষ্কা (আল্লাহর কাছে বৃষ্টি প্রার্থনা) করলেন, তখন তিনি দীর্ঘ সময় দু'আ করলেন এবং বেশী প্রার্থনা করলেন। এরপর তিনি কেবলার দিকে ফিরে তাঁর গায়ের চাদরটি এমনিভাবে উল্টিয়ে পরিধান করলেন যে, তার ভিতরের দিক বাহির করে দিলেন। অনুরূপভাবে উপস্থিত লোকজনও তাঁদের স্ব-স্ব পরিধেয় চাদর রাসূল (ﷺ)-এর মত একইভাবে উল্টিয়ে পরিধান করলেন।
(সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনান আন-নাসায়ী, সুনান আল-বাইহাকী। মুসল্লিদের চাদর উল্টানোর এই বাক্যটি শুধুমাত্র আহমদের বর্ণনায় আছে।)
كتاب الصلاة
(4) باب تحويل الإمام والناس أروبتهم في الدعاء وصفه ووقته
(1723) حدّثنا عبد الله حدَّثني أبي ثنا سفيان عن أبي بكر بن محمَّد بن عمرو بن حزمٍ سمع عبَّاد بن تميمٍ عن عمِّه أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج إلى المصلَّى واستقبل القبلة وقلب رداءه وصلَّى ركعتين، قال سفيان قلب الرِّداء جعل اليمين الشِّمال، والشَّمال اليمين (ومن طريقٍ ثانٍ) عن عبد الله بن زيدٍ، قال قد رأيت رسول الله صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم حين استسقى لنا أطال الدُّعاء وأكثر المسألة قال ثمَّ تحوَّل إلى القبلة، وحوَّل رداءه فقلبه ظهرًا لبطن وتحوَّل النَّاس معه
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭২৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (চার) পরিচ্ছেদ: দু'আর সময় ইমাম-মুক্তাদী সকলের পরিধেয় চাদর উল্টিয়ে পরিধান করা এবং এরূপ কখন করতে হবে।
(১৭২১) আব্দুল্লাহ্ ইবনে যায়েদ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) যখন সালাতুল ইস্তেস্কা আদায় করছিলেন তখন তাঁর শরীরে চতুষ্কোণ কালো পশমী ও পাড়ে নক্সী আঁকা একটি চাদর ছিল। তিনি এ চাদর খানিকে নিচের অংশ উপরে এবং উপরের অংশ নিচে বদলিয়ে পরিধান করতে চাইলেন, কিন্তু চাদরটি তাঁর জন্য বেশী ভারী হয়ে যাওয়ায় তিনি ডানের অংশ বামদিকে এবং বামদিকের অংশ ডান দিকে বদলিয়ে পরিধান করলেন।
(সুনানে আবু দাউদ, মুসনাদে ইমাম শাফেয়ী, সুনান আল্-বাইহাকী। হাদীসটির সনদ উত্তম।)
(সুনানে আবু দাউদ, মুসনাদে ইমাম শাফেয়ী, সুনান আল্-বাইহাকী। হাদীসটির সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
(4) باب تحويل الإمام والناس أروبتهم في الدعاء وصفه ووقته
(1724) عن عبد الله بن زيدٍ رضي الله عنه أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم استسقى وعليه خميصةٌ له سوداء فأراد أن يأخذ بأسفلها فيجعله أعلاها فثقلت عليه فقلبها عليه، الأيمن على الأيسر والأيسر على الأيمن
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭২৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (পাঁচ) পরিচ্ছেদ: ইস্তিষ্কার দু'আর সময় হাত উত্তোলন করা এবং কতিপয় মাসনূন দু'আ
(১৭২২) আনাস ইবনে মালিক (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) যখন ইস্তিষ্কার দু'আ করছিলেন তখন তিনি তাঁর হস্তদ্বয়ের পিঠ দ্বারা আকাশের দিকে ইশারা করছিলেন।
(সহীহ মুসলিম, সুনান আল্-বাইহাকী।)
(সহীহ মুসলিম, সুনান আল্-বাইহাকী।)
كتاب الصلاة
(5) باب رفع اليدين عند الدعاء في الاستسقاء وذكر أدعية مأثورة
(1725) عن أنس بن مالك رضي الله عنه أنَّ رسول الله صلَّى الله عليه وعلى آله وسلَّم استسقى فأشار بظهر كفَّيه إلى السَّماء
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭২৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (পাঁচ) পরিচ্ছেদ: ইস্তিষ্কার দু'আর সময় হাত উত্তোলন করা এবং কতিপয় মাসনূন দু'আ
(১৭২৩) আনাস ইবনে মালিক (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) ইস্তিষ্কার দু'আ ব্যতিরেকে অন্য কোন দু'আতে তাঁর হস্তদ্বয় উত্তোলন করতেন না। তিনি ইস্তিষ্কাতে তাঁর হস্তদ্বয়কে এত পরিমাণ উপরে উঠাতেন যে, এতে তাঁর বগলদ্বয়ের শুভ্রতা পর্যন্ত পরিলক্ষিত হত।
(সহীহল বুখারী ও সহীহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনান আন-নাসায়ী, সুনানে দারে কুতনী, মুস্তাদরাকে হাকিম, সুনান আল্-বাইহাকী।)
(সহীহল বুখারী ও সহীহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনান আন-নাসায়ী, সুনানে দারে কুতনী, মুস্তাদরাকে হাকিম, সুনান আল্-বাইহাকী।)
كتاب الصلاة
(5) باب رفع اليدين عند الدعاء في الاستسقاء وذكر أدعية مأثورة
(1726) وعنه أيضًا قال لم يكن رسول الله صلَّى الله عليه وسلم يرفع يديه في شيءٍ من دعاءه (وفي لفظٍ من الدُّعاء) إلَّا في الاستسقاء فإنَّه كان يرفع يديه حتى يرى بياض إبطيه.
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭২৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (পাঁচ) পরিচ্ছেদ: ইস্তিষ্কার দু'আর সময় হাত উত্তোলন করা এবং কতিপয় মাসনূন দু'আ
(১৭২৪) আবুল লাহম-এর আযাদকৃত দাস উমায়ের (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল (ﷺ)-কে মদীনার আয যাওরা-এর নিকটবর্তী স্থান আহজারুজ্জাইতে দাঁড়িয়ে ইস্তিষ্কার দু'আ করতে দেখেছেন। এ সময় তিনি তাঁর হস্তদ্বয় উঠিয়ে ছিলেন। উত্তোলিত হস্তদ্বয় তাঁর মাথার উপরে উঠাচ্ছিলেন না। তিনি তাঁর তালুদ্বয়ের পেট তাঁর মুখের দিকে নিয়ে দু'আ করছিলেন।
(সুনানে আবু দাউদ, সুনান আন-নাসায়ী, সুনান আত্-তিরমিযী।)
(সুনানে আবু দাউদ, সুনান আন-নাসায়ী, সুনান আত্-তিরমিযী।)
كتاب الصلاة
(5) باب رفع اليدين عند الدعاء في الاستسقاء وذكر أدعية مأثورة
(1727) عن عميرٍ مولى أبي اللحم أنه رأى رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم يستسقي عند أحجار الزيت قريبًا من الزوراء قائمًا يدعو يستسقى رافعًا كفيه لا يجاوز بهما رأسه مقبل بباطن كفيه إلى وجهه
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৭২৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (ছয়) বরকতময় পুণ্যবানদের দ্বারা বৃষ্টির দু'আ করানো পরিচ্ছেদ
(১৭২৫) সালিম (রা) তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রা) হতে বর্ণনা করে বলেন, রাসূল (ﷺ) মিম্বারের উপরে বৃষ্টির জন্য দু'আ চাচ্ছিলেন। তিনি মিম্বার থেকে নামার আগেই সব নালার পানি উপচে পড়তে লাগল। এই সময় চেহারা মোবারকের দিকে তাকিয়ে আমার কবির নিম্নোক্ত পঙক্তি মনে পড়ল।
অর্থাৎ, শুভ্র তিনি, যাঁর চেহারার মর্যাদায় বৃষ্টি চাওয়া হয়, যিনি ইয়াতিমদের আশ্রয় স্থল এবং বিধবাদের রক্ষক।
(সহীহুল বুখারীতে হাদীসখানি মুয়াল্লাক হিসেবে বর্ণিত আছে। তবে সুনানে ইবনে মাজাহ্ ও ইমাম আহমদের এ বর্ণনার অনুরূপ ধারাবাহিক সনদে বর্ণিত আছে।)
অর্থাৎ, শুভ্র তিনি, যাঁর চেহারার মর্যাদায় বৃষ্টি চাওয়া হয়, যিনি ইয়াতিমদের আশ্রয় স্থল এবং বিধবাদের রক্ষক।
(সহীহুল বুখারীতে হাদীসখানি মুয়াল্লাক হিসেবে বর্ণিত আছে। তবে সুনানে ইবনে মাজাহ্ ও ইমাম আহমদের এ বর্ণনার অনুরূপ ধারাবাহিক সনদে বর্ণিত আছে।)
كتاب الصلاة
(6) باب الاستسقاء بالصالحين ومن ترجى بركتهم
(1728) عن سالمٍ عن أبيه عبد الله بن عمر (رضي الله عنهما) قال ربَّما ذكرت قول الشَّاعر وأنا أنظر إلى وجه رسول الله صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم، على المنبر يستسقي فما ينزل حتَّى يجيش كلُّ ميزابٍ، وأذكر قول الشَّاعر (وأبيض يستسقي الغمام بوجهه ثمال اليتامى عصمةً للأرامل) وهو قول أبي طالبٍ
তাহকীক: