মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

৭. নামাযের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১৭২৪ টি

হাদীস নং: ১৬৯০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (দুই) সালাতুল কুসুফে কিরাআত এবং এ কিরাআত গোপনে না সশব্দে পঠিত হবে এ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(১৬৮৬) উরওয়াহ (রা) উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রা) থেকে বর্ণনা করে বলেন, রাসূল (ﷺ)-এর যুগে চন্দ্রগ্রহণ হয়েছিল, তখন রাসূল (ﷺ) তাঁর সালাতের স্থানে দাঁড়ালেন ও (নিয়ত করার উদ্দেশ্যে) তাকবীর বললেন এবং মানুষেরাও তাকবীর বললেন (সালাতে শামিল হলেন)। অতঃপর রাসূল (ﷺ) সশব্দে কিরাআত পাঠ করলেন এবং দীর্ঘ সময় দাঁড়ালেন। এরপর দীর্ঘ রুকু করলেন। পরে সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ বলে রুকু থেকে মাথা উঠালেন। এরপর দাঁড়িয়ে পুনরায় দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করলেন। এরপর দীর্ঘ রুকু করলেন, এরপর রুকু থেকে মাথা উঠালেন। এরপর সিজদাহ করলেন। অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন এবং দ্বিতীয় রাক'আতেও (প্রথম রাক'আতের) অনুরূপ করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, নিশ্চয়ই সূর্য-চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহ হতে দু'টি নিদর্শন মাত্র। কারো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না।
(সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনান আত-তিরমিযী।)
كتاب الصلاة
(2) باب القراءة فى صلاة الكسوف وهل تكون سرًا أو جهرًا
(1690) عن عروة عن عائشة رضى الله عنها أنَّها قالت خسفت الشَّمس على عهد النَّبيِّ (صلى الله عليه وسلم) فأتى النَّبيُّ (صلى الله عليه وسلم) والمصلَّى (1) فكبَّر وكبَّر النَّاس، ثمَّ قرأ فجهر بالقراءة (2) وأطال القيام، ثمَّ ركع فأطال الرُّكوع (3) ثمَّ رفع رأسه فقال سمع الله لمن حمده (4) ثمَّ قام فقرأ فأطال القراءة؛ ثمَّ ركع فأطال الرُّكوع، ثمَّ رفع رأسه ثمَّ سجد ثمَّ قام (1) ففعل فى الثَّانية مثل ذلك، ثمَّ قال إنَّ الشَّمس والقمر آيتان من آيات الله عزَّ وجلَّ لا ينخفسان لموت أحدٍ ولا لحياته الحديث (2)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৯১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (তিন) পরিচ্ছেদঃ চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সালাতকে যিনি দু'রাক'আত বিশিষ্ট অন্যান্য সাধারণ সালাতের ন্যায়ই বর্ণনা করেছেন এ সম্পর্কিত
(১৬৮৭) মাহমুদ ইবনে লাবীদ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে দিবসে রাসূল (ﷺ)-এর পুত্র ইব্রাহীম মৃত্যু বরণ করেছিলেন সে দিবসে সূর্যগ্রহণ লেগেছিল, তখন লোকেরা বলতে লাগল, রাসূলুল্লাহ্-এর (ﷺ) পুত্র ইবরাহীমের মৃত্যুতে সূর্য গ্রহণ হয়েছে। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, চন্দ্র-সূর্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দু'টি নিদর্শন মাত্র। জেনে রাখবে, কারো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। যখন সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্র গ্রহণ লাগবে তখন তোমরা (সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে) মসজিদের দিকে ছুটে যাবে। এরপর রাসূল (ﷺ) মসজিদে গিয়ে সালাতে দাঁড়ালেন। আমাদের ধারণা মতে, তিনি সূরা ইব্রাহীম-এর অংশবিশেষ তিলাওয়াত করে রুকু করলেন। অতঃপর উঠে দাঁড়িয়ে স্থির হলেন। পরে দু'টি সিজদাহ করলেন। এরপর উঠে দাঁড়ালেন এবং (দ্বিতীয় রাক'আতে) তা-ই করলেন, যা তিনি প্রথম রাক'আতে করেছিলেন।
(হাদীস শুধুমাত্র আহমদ বর্ণনা করেছেন। হাইসামী বলেন, বর্ণনাকারীগণ সকলেই সহীহ হাদীসের বর্ণনাকারী।)
كتاب الصلاة
(3) باب من روى أنها ركعتان كالركعات المعتادة
(1691) عن محمود بن لبيدٍ رضى الله عنه قال كسفت الشَّمس يوم مات إبراهيم بن رسول الله (صلى الله عليه وسلم) فقالوا كسفت الشَّمس لموت إبراهيم، فقال رسول الله (صلى الله عليه وسلم) إنَّ الشَّمس والقمر آيتان من آيات الله عزَّ وجلَّ، ألا وإنَّهما لا ينكسفان لموت أحدٍ ولا لحياته، فإذا رأيتموهما كذلك ففزعوا إلى المساجد (1) ثمَّ قام فقرأ فيما نرى بعض الر كتابٌ (2) ثمَّ ركع ثمَّ اعتدل ثمَّ سجد سجدتين ثمَّ قام ففعل مثل ما فعل فى الأولى (3)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৯২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (তিন) পরিচ্ছেদঃ চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সালাতকে যিনি দু'রাক'আত বিশিষ্ট অন্যান্য সাধারণ সালাতের ন্যায়ই বর্ণনা করেছেন এ সম্পর্কিত
(১৬৮৮) আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসূল (ﷺ)-এর যুগে সূর্যগ্রহণ হলো। তখন রাসূল (ﷺ) সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে দাঁড়ালেন। আমরাও তাঁর সাথে দাঁড়ালাম। রাসূল (ﷺ) সালাতে দাঁড়িয়ে এত দীর্ঘ সময় থাকলেন যে, আমরা মনে করলাম তিনি রুকুতে যাবেন না, তবে পরে রুকুতে গেলেন। এত দীর্ঘ রুকু করলেন যে, তিনি যেন মাথা তুলবেনই না। অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন। তখন এত দীর্ঘ সময় দাঁড়ালেন যে, যেন তিনি সিজদাহ করবেন না। এরপর সিজদাহ করলেন। তবে মনে হচ্ছিল তিনি যেন সিজদাহ থেকে আর মাথা উঠাবেন না। তিনি প্রথম সিজদাহ থেকে উঠলেন, কিন্তু মনে হচ্ছিল- তিনি যেন আর দ্বিতীয় সিজদাহ করবেন না। পরে তিনি দ্বিতীয় সিজদাও করলেন, তবে মনে হচ্ছিল তিনি যেন দ্বিতীয় সিজদাহ থেকে মাথা তুলবেন না। সিজদাহ থেকে মাথা উঠালেন। এরপর দ্বিতীয় রাক'আতে হুবহু তা-ই করলেন যা তিনি প্রথম রাক'আতে করেছিলেন। দ্বিতীয় রাক'আতে নিজদাতে গিয়ে তিনি মাটিতে ফুঁক দিলেন এবং নিম্নোক্ত দু'আ বলতে বলতে কাঁদতে লাগলেন-
ربِّ لم تعذِّبهم وأنا فيهم، ربِّ لم تعذِّبنا ونحن نستغفرك
অর্থাৎ, "হে মহান রব! আমার উপস্থিতিতে তুমি কেন তাদেরকে আযাব (শাস্তি) দিবে। হে মহান প্রতিপালক! আমরা তো পাপরাশি থেকে ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করেছি, তবুও তুমি কেন আমাদেরকে আযাব (শাস্তি) দিবে।"
এমন সময় তিনি সিজদাহ হতে মাথা উত্তোলন করলেন, যখন সূর্যের অন্ধকার দূর হয়ে তা আলোকিত হয়েছে। সালাত শেষে তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বললেন, হে জনমণ্ডলী, শোন, নিশ্চয়ই চন্দ্র-সূর্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দু'টি নিদর্শন মাত্র। সুতরাং, চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ লাগলে তোমরা মসজিদসমূহের দিকে ছুটে আসবে। যে মহান সত্তার করায়ত্বে আমার জীবন তার কসম! আমার সামনে জান্নাতকে এমনভাবে উপস্থাপিত করা হয়েছিল যে, আমি ইচ্ছা করলে জান্নাতী গাছসমূহের ডাল-পালা ছুঁতে পারতাম। অনুরূপ জাহান্নামকে আমার সামনে এমনভাবে পেশ করা হয়েছিল যে, তার অগ্নি তোমাদেরকে গ্রাস করবে এ ভয়ে আমি তা নিভিয়ে দিতে চাচ্ছিলাম আমি জাহান্নামে হিমইয়ার গোত্রের কালো, লম্বা এক মহিলাকে একটি বিড়ালের কারণে শাস্তি পেতে দেখেছি, যে মহিলা তার বিড়ালটিকে বেঁধে রাখত, কোন প্রকার খাদ্য-পানীয় দিতো না। এমনকি বিড়ালটি নিজে পোকা মাকড় ধরে খাবে সে জন্যও তাকে ছেড়ে দিত না। (জাহান্নামের মধ্যে বিড়ালটি মহিলাটিকে শাস্তি দিচ্ছে।) বিড়ালটি তাকে হাঁচড়ে কামড়ে দিচ্ছে এবং পিছালেও তাকে হাঁচড়ে কামড় দিচ্ছে।
জাহান্নামে আমি বনী দা'দা' এর ভ্রাতাকে দেখতে পেলাম এবং আমি জাহান্নামে এক লাঠিওয়ালা চোরকে দেখলাম, সে লাঠিতে ভর দেওয়া অবস্থায় রয়েছে। লোকটি তার লাঠি দিয়ে হাজীদের মাল-সম্পদ চুরি করত। হাজীরা জানতে পারলে সে বলত, আমি তো তোমাদের কিছু চুরি করি নি। শুধুমাত্র আমার লাঠির মাথায় বেঁধে চলে এসেছে।
বর্ণনাকারী থেকে অন্য সনদে প্রায় সমার্থে অন্য একখানি হাদীস বর্ণিত আছে, সে হাদীসখানির শেষাংশের ভাষা হচ্ছে- আমার সামনে জাহান্নামকে পেশ করা হলে আমি ফুঁক দিয়ে এভয়ে জাহান্নামকে নিভিয়ে দিতে চেয়েছিলাম যে, জাহান্নামের প্রচণ্ড উত্তাপ তোমাদেরকে গ্রাস করে ফেলবে এবং আমি জাহান্নামে সেই ব্যক্তিকে দেখেছিলাম, যে রাসূল (ﷺ)-এর দু'টি উট চুরি করেছিল।
(সুনান আন-নাসায়ী, সহীহ ইবনে খুযাইমা। হাফিজ ইবনে হাজার হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)
كتاب الصلاة
(3) باب من روى أنها ركعتان كالركعات المعتادة
(1692) عن عبد الله بن عمرو (بن العاص رضي الله عنهما) قال كسفت الشَّمس على عهد رسول الله (صلى الله عليه وسلم) فقام وقمنا معه (4) فأطال القيام حتَّى ظننَّا أنَّه ليس براكعٍ (4) ثمَّ ركع فلم يكد يرفع رأسه، ثمَّ رفع فلم يكد يسجد، ثمَّ سجد فلم يكد يرفع رأسه، ثمَّ جلس فلم يكد يسجد (1) ثمَّ سجد فلم يكد يرفع رأسه، ثم فعل فى الركعة الثَّانية كما فعل فى الأولى وجعل ينفخ فى الأرض ويبكى (2) وهو ساجدٌ فى الركعة الثَّانية، وجعل يقول ربِّ لم تعذِّبهم وأنا فيهم، ربِّ لم تعذِّبنا ونحن نستغفرك (3) فرفع رأسه وقد تجلَّت الشَّمس (4) وقضى صلاته فحمد الله وأثنى عليه (5) ثم قال أيها النَّاس إنَّ الشَّمس والقمر آيتان من آيات الله عزَّ وجلَّ، فإذا كسف أحدهما فافزعوا إلى المساجد، فوالَّذى نفسى بيده لقد عرضت علىَّ الجنَّة حتَّى لو أشاء لتعاطيت بعض أغصانها (1) وعرضت علىَّ النَّار حتَّى إنِّى لأطفئها خشية أن تغشاكم، ورأيت فيها امرأةً من حمير سوداء طوالةً (2) تعذَّب بهرَّةٍ لها تربطها فلم تطعمها ولم تسقها ولا تدعها تأكل من خشاش الأرض (3) كلَّما أقبلت نهشتها، وكلما أدبرت نهشتها (1) ورأيت فيها أخا بنى دعدعٍ (2) ورأيت صاحب المحجن (3) متكئًا فى النَّار على محجنه كان يسرق الحاجَّ بمحجنه، فإذا علموا به قال لست أنا أسرقكم، إنَّما تعلَّق بمحجنى (وعنه من طريقٍ ثانٍ (4) بنحوه وفيه) وعرضت على النَّار فجعلت أنفخ خشية أن يغشاكم حرُّها، ورأيت فيها سارق بدنتى رسول الله صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৯৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (তিন) পরিচ্ছেদঃ চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সালাতকে যিনি দু'রাক'আত বিশিষ্ট অন্যান্য সাধারণ সালাতের ন্যায়ই বর্ণনা করেছেন এ সম্পর্কিত
(১৬৮৯) আন নু'মান ইবনে বশীর (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) সূর্যগ্রহণের সালাত তোমাদের অন্যান্য সাধারণ সালাতের মতোই আদায় করেছেন। তিনি রুকু করেছেন, সিজদাহও করেছেন। বর্ণনাকারী থেকে দ্বিতীয় সনদে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ)-এর যুগে সূর্যগ্রহণ লেগেছিল। তখন রাসূল (ﷺ) রুকু, সিজদাহ পূর্বক সালাত আদায় করেছেন। এ সনদের অন্য এক ব্যক্তি বলেন, রাসুল (স্য) আমাদের অন্যান্য সাধারণ সালাতের মতোই সূর্যগ্রহণের সালাত আদায় করেছিলেন।
(সুনান আল-বাইহাকী, (তাহাভীর শরহে মায়ানী আল-আছার। ইবনে আব্দুল বার হাদীসখানিকে সহীহ বলেছেন।)
كتاب الصلاة
(3) باب من روى أنها ركعتان كالركعات المعتادة
(1693) عن النُّعمان بن بشيرٍ رضى الله عنه أنَّ رسول الله (صلى الله عليه وسلم) صلَّى فى كسوف الشَّمس نحوًا من صلاتكم يركع ويسجد (5) (وعنه من طريقٍ ثانٍ) (1) قال انكسفت الشَّمس على عهد رسول الله صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم فصلَّى وكان رسول الله (صلى الله عليه وسلم) يركع ويسجد قال حجَّاج (2) مثل صلاتنا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৯৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (তিন) পরিচ্ছেদঃ চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সালাতকে যিনি দু'রাক'আত বিশিষ্ট অন্যান্য সাধারণ সালাতের ন্যায়ই বর্ণনা করেছেন এ সম্পর্কিত
(১৬৯০) বসরাবাসী ছা'লাবাহ্ ইবনে 'আববাদ আল-আবদী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদা সামুরাহ ইবনে জুনদুব (রা)-এর বক্তৃতায় উপস্থিত ছিলাম। তিনি তাঁর বক্তৃতায় রাসূল (ﷺ)-এর একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি ও আনসারদের এক বালক রাসূল (ﷺ)-এর যুগে আমাদের দু'টি লক্ষ্যস্থানে তীর ছুঁড়ছিলাম। যখন দশকের নজরে সূর্য দু'বা তিন বর্শা পরিমাণ উর্দ্ধে উঠে গেল তখন তা কালো হয়ে গেল। (অন্ধকার হয়ে) "তান্নুম” গাছের "কালচে" ফলের মত হয়ে গেল। সামুরা (রা) বলেন, তখন আমাদের উভয়ের একজন অপরজনকে বলল, চল আমরা মসজিদে যাই। কেননা এই সূর্য গ্রহণে রাসুল (ﷺ)-এ উম্মতের মধ্যে নতুন কিছু সৃষ্টি করবেন। (রাসূল (ﷺ) এ উপলক্ষে হয় কিছু করবেন বা বলবেন) সামুরা (রা) বলেন, তখন আমরা মসজিদে গেলাম। তখন রাসূল (ﷺ) বেরিয়ে এসেছেন। যখন রাসুল (ﷺ) মানুষদের কাছে বেরোলেন তখনই আমরা তাঁর নিকট পৌছালাম। তিনি তখন সামনে গিয়ে সালাতে দাঁড়ালেন। তিনি আমাদেরকে নিয়ে এমন দীর্ঘ সালাতে দাঁড়ালেন যে, এত দীর্ঘ সালাত ইতিপূর্বে আর কখনো দাঁড়ান নি। তবে আমরা তাঁর কাছ থেকে কোন প্রকার তিলাওয়াত (কিরাআত) শ্রবণ করিনি। এরপর তিনি আমাদেরকে নিয়ে এত দীর্ঘ রুকু করলেন যে, ইতিপূর্বে এত দীর্ঘ রুকু আর কখনো করেন নি। তবে আমরা রুকুতে গিয়ে তাঁর থেকে কোন প্রকার শব্দ শুনি নি। এরপর তিনি দ্বিতীয় রাকাআতে অনুরূপ করলেন। রাসূল (ﷺ) দ্বিতীয় রাক'আতের বৈঠকে থাকতে সূর্য পরিষ্কার হয়ে গেল।
হাদীসের অন্যতম বর্ণনাকারী যুহাইর বলেন, আমার মনে হচ্ছে সামুরা (রা) বললেন যে, এরপর রাসূল (ﷺ) আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সাক্ষ্য পেশ করলেন যে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। অতঃপর বললেন, হে উপস্থিত জনতা, আমি আল্লাহর কসম দিয়ে (আল্লাহর নামে) তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করছি, তোমাদের জানা মতে আমি আমার প্রতিপালক (রব)-এর রিসালাতের দায়িত্ব সম্পাদনে কি তোন প্রকার কমতি, ত্রুটি করেছি। যদি করে থাকি তাহলে তোমরা আমাকে তা বল। আর যদি তোমরা জান যে, আমি আমার প্রতিপালকের রিসালাত-এর প্রচারের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছি, তাহলে তোমরা আমাকে তাও বল। বর্ণনাকারী বলেন- সমবেত জনগোষ্ঠীর মধ্যে থেকে অনেক লোক দাঁড়িয়ে বললেন, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি "আপনি আপনার প্রতিপালক মহান আল্লাহর রিসালাতের দায়িত্ব যথাযথ পালন করেছেন।" আপনার উম্মতকে আপনি নসীহত করেছেন এবং আপনার করার যে দায়িত্ব ছিল তা আপনি পালন করেছেন।" একথা বলে জনতা চুপ করলেন।
অতঃপর রাসূল (ﷺ) বললেন, এমন কতিপয় লোক রয়েছে যারা ধারণা করে যে, চন্দ্র গ্রহণ, সূর্যগ্রহণ এবং তারকারাজির কক্ষপথ হতে বিচ্যুতি ঘটে পৃথিবীর কোন কোন সম্মানিত মানুষের মৃত্যুর কারণে। আসলে এ ব্যাপারে তারা মিথ্যা বলে। এগুলো হচ্ছে আল্লাহর নিদর্শনাবলী থেকে কিছু নিদর্শন মাত্র। যেগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর বান্দাগণকে পরীক্ষা করেন। তিনি দেখেন যে, তাঁর কোন বান্দাহ তওবাহ্ করে। মহান আল্লাহর শপথ! সালাত শুরু করার পরে সে সবকিছু প্রত্যক্ষ করেছি, তোমরা তোমাদের দুনিয়া ও আখিরাতে যেগুলির সম্মুখীন হবে। নিশ্চয়ই ততক্ষণ পর্যন্ত মহাপ্রলয় (কিয়ামত) সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না ৩০ (ত্রিশ) জন মিথ্যাবাদী পৃথিবীতে আগমন করবে। এ ত্রিশজন মিথ্যাবাদীর সর্বশেষ ব্যক্তি হবে কানা দাজ্জাল, যার বামচক্ষু অন্ধ থাকবে। ঠিক যেন আবু তিহইয়ার চোখের মত, আৰু তিহইয়া একজন আনসারী সাহাবী (যার বাম চোখ নষ্ট ছিল), সে সময় তিনি রাসূল (ﷺ) ও আয়েশার বাড়ির সামনে (মসজিদের মধ্যে) বসেছিলেন। দাজ্জাল যখন বের হবে তখন সে নিজেকে আল্লাহ বলে দাবী করবে। (নাউযু বিল্লাহি মিন যালিক) যে তার উপর ঈমান আনবে, তাকে সত্য বলে স্বীকার করবে, তার আনুগত্য করবে তার পূর্ববর্তী নেক আমল (পুন্যের কাজ) তাকে নাজাত দিতে পারবে না। আর যে ব্যক্তি তাকে অস্বীকার করবে, তাকে মিথ্যুক বলবে, তার আমলের দ্বারা সে শাস্তি প্রাপ্ত হবে না। (অন্য বর্ণনায় আছে, অতীতের আমল দ্বারা সে শাস্তি প্রাপ্ত হবে না।) সে হারাম শরীফ ও বাইতুল মুকাদ্দাস ছাড়া সারা পৃথিবীর সর্বত্র প্রকাশ পাবে। সে মু'মিনদেরকে বাইতুল মুকাদ্দাসে বন্দী করবে। এতে মু'মিনগণ চরমভাবে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে। এরপর আল্লাহ তাকে এবং তার বাহিনীকে ধ্বংস (নিশ্চিহ্ন) করবেন। এমনকি প্রাচীরের গোড়া (হাদীসের অন্যতম বর্ণনকারী হাসান আল-আসুইয়ার বলেন-) গাছের গোড়া থেকে এ আওয়ায আসবে অথবা বলবে, "হে মু'মিন" অথবা বলবে "হে মুসলিম" এটা একটা ইহুদী অথবা এটা একটা কাফির: এগিয়ে আস এবং একে হত্যা কর। তিনি বলেন, এটা ততক্ষণ পর্যন্ত হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত না এর পূর্বে তোমরা অনেক কিছু দেখবে, যেগুলি তোমাদের মনে খুব কঠিন ও ভীতিকর মনে হবে এবং তোমরা পরস্পর জিজ্ঞাসা করবে যে, তোমাদের নবী (ﷺ) কি তোমাদের এসব বিষয়ের ব্যাপারে কোন আলোচনা করেছিলেন। পাহাড় পর্বতগুলো তাদের অবস্থান থেকে ঢলে পড়বে। এরপর কিয়ামত (মহাপ্রলয়) অনুষ্ঠিত হবে। বর্ণনাকারী সালাবা বলেন- এরপর আমি সামুরা ইবনে জুনদুব (রা)-এর অন্য একটি খুতবায় উপস্থিত ছিলাম। তিনি সে খুতবাতেও এ হাদীসটি বর্ণনা করলেন। তিনি একটি শব্দও আগ-পিছ করলেন না।
(মুসনাদে আবু ইয়ালা, সুনান আল-বাইহাকী, সহীহ ইবনে খুযাইমা, মু'জামে তাবারানী, সুনান চতুষ্টয়ে হাদীসখানি সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণিত আছে। ইমাম তিরমিযী হাদীসখানিকে হাসান ও সহীহ্ বলেছেন।)
كتاب الصلاة
(3) باب من روى أنها ركعتان كالركعات المعتادة
(1694) عن ثعلبة بن عبادٍ العبديِّ من أهل البصرة قال شهدت يومًا خطبة لسمرة بن جندبٍ (رضى الله عنه) فذكر فى خطبته حديثًا عن رسول الله (صلى الله عليه وسلم) فقال بينا أنا وغلامٌ من الأنصار نرمى فى غرضين لنا على عهد رسول الله (صل الله عليه وسلم) حتَّى إذا كانت الشَّمس قيد (3) رمحين أو ثلاثةٍ فى عين النَّاظرٍ اسودَّت حتَّى آضنت (5) كأنَّها تنومةٌ، قال فقال أحدنا لصاحبه انطلق بنا إلى المسجد فوالله ليحدثنَّ شأن هذه الشَّمس لرسول الله (صلى الله عليه وسلم) فى أمَّته حدثًا (6) قال فدفعنا (7) إلى المسجد فإذا هو بارز (8) قال ووافقنا رسول الله (صلى الله عليه وسلم) حين خرج إلى النَّاس فاستقدم فقام بنا كأطول ما قام بنا فى صلاةٍ قطٌ لا نسمع له صوتًا (1) ثمَّ ركع كأطول ما ركع بنا في صلاةٍ قطٌ لا نسمع له صوتًا، ثمَّ فعل فى الركعة الثَّانية مثل ذلك (2) فوافق تجلِّى الشَّمس جلوسه فى الرَّكعة الثَّانية، قال زهيرٌ (أحد الرواة) حسبته قال فسلَّم فحمد الله وأثنى عليه وشهد أنَّه عبد الله ورسوله، ثمَّ قال أيُّها النَّاس أنشدكم بالله (3) إن كنتم تعلمون أنِّى قصَّرت عن شيءٍ من تبليغ رسالات ربِّى عزَّ وجلَّ لما أخبرتمونى ذاك فبلَّغت رسالات ربِّى كما ينبنى لها أن تبلَّغ، وإن كنتم تعلمون أنِّى بلَّغت رسالات ربِّى لما أخبرتمونى ذاك (4)، قال فقام رجالٌ فقالوا نشهد أنَّك قد بلَّغت رسالات ربِّك ونصحت لأمَّتك وقضيت الَّذى عليك ثمَّ سكتوا، ثمَّ قال أما بعد فإنَّ رجالاً يزعمون أنَّ كسوف هذه الشَّمس وكسوف هذا القمر وزوال هذه النُّجوم عن مطالعها لموت رجالٍ عظماء من أهل الارض وإنَّهم قد كذبوا، ولكنَّها آياتٌ من آيات الله تبارك وتعالى يعتبر (5) بها عباده فينظر من يحدث له منهم توبةً، وأيم الله لقد رأيت منذ قمت أصلِّى ما أنتم لاقون فى أمر دنياكم وآخرتكم (6) وإنَّه والله لا تقوم السَّاعة حتَّى يخرج ثلاثون كذَّابًا، آخرهم الأعور الدَّجَّال ممسوح العين اليسرى كأنَّها عين أبى تحي (1) لشيخٍ حينئذٍ من الأنصار بينه وبين حجرة عائشة رضى الله عنها، وإنَّها متى يخرج أو قال متى ما يخرج فإنَّه سوف يزعم أنَّه الله، فمن آمن به وصدَّقه واتَّبعه لم ينفع صالحٌ من عمله سبق، ومن كفر به وكذَّبه لم يعاقب بشيءٍ من عمله (وفى رواية بشيءٍ من عمله سلف) وإنَّه سيظهر أو قال سوف يظهر على الأرض كلِّها إلاَّ الحرم وبيت المقدس (2) وإنَّه يحصر المؤمنين فى بيت المقدس فيزلزلون زلزالاً شديدًا (3) ثمَّ يهلكه الله تبارك وتعالى وجنوده حتَّى إنَّ جذم (4) الحائط أو قال أصل الحائط، وقال حسن الأشيب (5) وأصل الشَّجرة لينادى أو قال يقول يا مؤمن أو قال يا مسلم هذا يهوديٌّ أو قال هذا كافرٌ تعال فاقتله (6) قال ولن يكون ذلك كذلك حتَّى تروا أمورًا يتفاقم (1) شأنها فى أنفسكم وتساءلون بينكم هل كان نبيكم ذكر لكم منها ذكرًا، وحتَّى تزول جبالٌ على مراتبها ثمَّ على أثر ذلك القبض (2) قال ثمَّ شهدت خطبةً لسمرة ذكر فيها هذا الحديث، فما قدَّم كلمةً ولا أخَّرها عن موضعها
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৯৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (তিন) পরিচ্ছেদঃ চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সালাতকে যিনি দু'রাক'আত বিশিষ্ট অন্যান্য সাধারণ সালাতের ন্যায়ই বর্ণনা করেছেন এ সম্পর্কিত
(১৬৯১) আবু বাকরাহ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (ﷺ)-এর যুগে সূর্যগ্রহণ লেগেছিল। তিনি তাঁর পরনের কাপড় টানতে টানতে তাড়াহুড়া করে মসজিদে গমন করলেন। লোকজনও (সাহাবীগণ) মসজিদে একত্রিত হলেন। অতঃপর রাসুল (ﷺ) দু'রাক'আত সালাত আদায় করলেন। এ সময় সূর্যগ্রহণ কেটে গেল। এরপর রাসূল (ﷺ) আমাদের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে বললেন, নিশ্চয়ই চন্দ্র-সূর্য হচ্ছে আল্লাহর নিদর্শনসমূহ হতে দু'টি নিদর্শন মাত্র। এ চন্দ্র গ্রহণ ও সূর্যগ্রহণের মাধ্যমে মহান আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদেরকে ভয় প্রদর্শন করেন, চন্দ্র বা সূর্য গ্রহণ কারো মৃত্যুর কারণে হয় না। বর্ণনাকারী বলেন, (ঐদিন) রাসূল (ﷺ)-এর পুত্র ইব্রাহীম মৃত্যুবরণ করেন। রাসুল (ﷺ) বলেন, তোমরা যখনই চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ লাগতে দেখবে তখনই সালাত আদায় করবে এবং আল্লাহর কাছে দু'আ করতে থাকবে, যতক্ষন পর্যন্ত তা দূরীভূত না হবে।
(সহীহুল বুখারি, সুনান আন-নাসায়ী, ও অন্যান্য গ্রন্থাদি।)
ব্যাখ্যাঃ এ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত হয় যতক্ষণ চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ থাকবে ততক্ষণই সালাতে রত থাকা উচিত। একান্ত কোন কারণে সালাত শেষ করে ফেললেও চন্দ্র বা সূর্যের অন্ধকার দূরীভূত না হওয়া পর্যন্ত দু'আ-দরূদ পড়ে সময়টি অতিবাহিত করা উচিত।
كتاب الصلاة
(3) باب من روى أنها ركعتان كالركعات المعتادة
(1695) عن أبى بكرة رضى الله عنه قال كسفت الشَّمس على عهد رسول الله (صلى الله عليه وسلم) فقام يجرُّ ثوبه مستعجلاً (3) حتَّى أتى المسجد وثاب النَّاس فصلَّى ركعتين (1) فجلِّي عنها ثمَّ أقبل علينا فقال إنَّ الشَّمس والقمر آيتان من آيات الله تبارك وتعالى يخوِّف بهما عباده ولا ينكسفان لموت أحدٍ، قال وكان ابنه إبراهيم عليه السَّلام مات، فإذا رأيتم منهما شيئًا فصلُّوا وادعوا حتَّى ينكشف منهما ما بكم (2)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৯৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (তিন) পরিচ্ছেদঃ চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সালাতকে যিনি দু'রাক'আত বিশিষ্ট অন্যান্য সাধারণ সালাতের ন্যায়ই বর্ণনা করেছেন এ সম্পর্কিত
(১৬৯২) কাবীছাহ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা সূর্যগ্রহণ লাগলে রাসূল (ﷺ) তাঁর হুজরাহ্ থেকে বের হয়ে মসজিদে এসে দু'রাক'আত সালাত সুদীর্ঘ কিরাআত পাঠের মাধ্যমে আদায় করলেন। এ দু'রাক'আত সালাত আদায় করতে করতেই সূর্যটি পরিস্কার হয়ে গেল। এরপর রাসূল (ﷺ) বললেন, নিশ্চয়ই চন্দ্র-সূর্য হচ্ছে আল্লাহর নিদর্শনসমূহ হতে দু'টি নিদর্শন মাত্র। এ চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের মাধ্যমে মহান আল্লাহ্ তাঁর বান্দাহদেরকে ভীতি প্রদর্শন করে থাকেন। তোমরা যখন চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ লাগতে দেখবে তখন তোমরা সর্বশেষে যে ফরয সালাত আদায় করেছ, তদ্রূপ সালাত আদায় করবে।
(সুনানে আবু দাউদ, সুনান আন নাসায়ী, মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীসটি সহীহ।)
كتاب الصلاة
(3) باب من روى أنها ركعتان كالركعات المعتادة
(1696) عن قبيصة (3) رضى الله عنه قال انكسفت الشَّمس فخرج رسول الله صلَّى الله عليه وسلَّم فصلَّى ركعتين فأطال فيهما القراءة، فانجلت، فقال إنَّ الشَّمس والقمر آيتان من آيات الله تبارك وتعالى يخوِّف بهما عباده؛ فإذا رأيتم ذلك فصلُّوا كأحدث صلاةٍ صليتموها من المكتوبة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৯৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (চার) পরিচ্ছদঃ যে ব্যক্তি চন্দ্র বা সূর্য গ্রহণের সালাত দু'রাক'আত দু'রাক'আত করে চন্দ্র বা সূর্য পরিষ্কার হওয়া সালাত পর্যন্ত আদায় করতে থাকেন
(১৬৯৩) নু'মান ইবনে বশীর (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ)-এর যুগে সূর্যগ্রহণ লাগলে তিনি দু'রাক'আত সালাত আদায় করে জানতে চাইলেন (সূর্যগ্রহণ কেটেছে কিনা) পুনরায় দু'রাক'আত সালাত আদায় করে জানতে চাইলেন। সূর্যগ্রহণ কেটে যাওয়া পর্যন্ত এভাবে করলেন।
বর্ণনাকারী বলেন- রাসূল (ﷺ) বলেছেন, জাহেলী যুগের লোকেরা বলত বা ধারণা করত, নিশ্চয়ই পৃথিবীর সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের কারো মৃত্যুর কারণেই এ চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ লেগে থাকে। কিন্তু তাদের এ ধারণা সঠিক নয়। বরং চন্দ্র ও সূর্য মহান আল্লাহর দু'টি সৃষ্টি মাত্র। (রাবী বলেন) আল্লাহ যখন তাঁর সৃষ্টির জন্য উদ্ভাসিত হন তখন সে সৃষ্টি এতে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে উঠে।)
(সুনানে আবূ দাউদ, সুনান আন-নাসায়ী, সুনানে ইবনে মাজাহ, মুস্তাদরাকে হাকিম। হাকিম ও যাহাবী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)
كتاب الصلاة
فصل منه فيمن صلاها ركعتين ركعتين حتى اتجلت
(1697) عن النُّعمان بن بشيرٍ رضى الله عنه قال كسفت الشَّمس على عهد رسول الله صلَّى الله تعالى عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم قال وكان يصلِّى ركعتين ثمَّ يسأل، ثمَّ يصلِّى ركعتين (1) ثمِّ يسأل، حتَّى انجلت الشَّمس، قال فقال إنَّ ناسًا من أهل الجاهليَّة يقولون أو يزعمون أنَّ الشَّمس والقمر إذا انكسف واحدٌ منهما فإنَّما ينكسف لموت عظيمٍ من عظماء أهل الأرض وإنَّ ذاك ليس كذلك، ولكنَّهما خلقان من خلق الله، فإّذا تجلَّى (2) الله عزَّ وجلَّ لشيء من خلقه خشع له
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৯৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (পাঁচ) যিনি বলেন চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সালাত দু'রাক'আত এবং প্রতি রাক'আতে দু'টি করে রুকু রয়েছে এ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(১৬৯৪) তিনি বলেন, আমি আয়েশা সিদ্দিকা (রা)-কে বলতে শুনেছি, এক ইহুদী নারী এসে আমার কাছে কিছু যাচ্ঞা করল এবং বলল, মহান আল্লাহ্ তোমাকে কবরের আজাব থেকে নাজাত দান করুন। (মহিলা চলে যাবার পর) রাসুল (ﷺ) আমার আছে আগমন করলে আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ), আমাদেরকে কি কবরে শাস্তি পেতে হবে? রাসুল (ﷺ) বললেন, আমি মহান আল্লাহর কাছে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাই। এরপর রাসুল (ﷺ) বাহনে আরোহণ করে বেরিয়ে গেলেন। এমন সময় সূর্যগ্রহণ শুরু হল। আমি তখন বাহিরে আসলাম এবং মহিলাদের সাথে (মসজিদ সংলগ্ন) ঘরগুলোর মাঝে অবস্থান করলাম। অতঃপর রাসুল (ﷺ) তাঁর বাহন থেকে ফিরে আসলেন। এসে তিনি তাঁর সালাতের স্থানে গিয়ে (সালাতে) দাঁড়ালেন এবং উপস্থিত লোকজন তাঁর পিছনে সালাতে দাঁড়ালেন। তিনি তাঁর সাধ্যমতে সুদীর্ঘ কিয়াম করলেন, অতঃপর রুকুতে গিয়েও তিনি লম্বা রুকু করলেন। রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে (সিজদাতে না দিয়ে) পুনরায় সুদীর্ঘ কিয়াম করে রুকুতে গেলেন এবং দীর্ঘতর রুকু করলেন। এ রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে সোজা হলেন এবং পুনরায় দীর্ঘ কিয়াম করে সিজদায় গেলেন এবং সুদীর্ঘ সিজদাহ করলেন। এরপর সিজদাহ থেকে উঠে তিনি দ্বিতীয় রাক'আতে পূর্বের তুলনায় কম সময় কিয়াম করলেন। এরপর পূর্বের তুলনায় কম সময় ধরে রুকু করলেন। আবার রুকু থেকে দাঁড়িয়ে পূর্ব রাকাআতের তুলনায় কম সময় কিয়াম করে পুনরায় রুকুতে গিয়ে পূর্ব রাক'আতের তুলনায় কম সময় রুকুতে রত ছিলেন। এরপর সিজদাতে গিয়েও প্রথম রাক'আতের তুলনায় কম সময় সিজদায় রত ছিলেন। তাঁর এ সালাতে সর্বমোট চারটি রুকু ও চারটি সিজদাহ ছিল। ইত্যবসরে সূর্যের আলো ফিরে আসলো। এরপর তিনি বললেন, তোমাদেরকে কবরে দাজ্জালের পরীক্ষার মত কঠিনতর পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে।
আয়েশা (রা) বলেন, একথা বলার পর আমি তাঁকে কবরের আযাব থেকে মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতে শুনেছি।
(সহীহ বুখারী, সহীহ্ মুসলিম, মুয়াত্তা মালিক, সুনান আন-নাসায়ী ও অন্যান্য হাদীসের সংকলন।)
كتاب الصلاة
(5) باب من روى أنها ركعتان فى كل ركعة ركوعان وكونها فى المسجد جماعة وبيان مراتب الأركان طولا وقصرا
(1698) عن عمرة قالت سمعت عائشة رضى الله عنهما قالت جاءتني يهودية تسألنى (1) فقالت أعاذك الله من عذاب القبر، فلمَّا جاء النَّبيُّ (صلى الله عليه وسلم) قلت يا رسول الله أنعذَّب فى القبور؟ قال عائذٌ بالله (1) فركب مركبًا فخسفت الشَّمس فخرجت فكنت بين الحجر (2) مع النِّسوة فجاء النَّبيُّ (صلى الله عليه وسلم) من مركبه (3) فأتى مصلاَّه فصلَّى النَّاس وراءه فقام فأطال القيام (4) ثمَّ ركع فأطال الرُّكوع (5) ثمَّ رفع رأسه فأطال القيام (6) ثمَّ ركع فأطال الرُّكوع ثمَّ رفع رأسه فأطال القيام ثمَّ سجد فأطال السُّجود (1) ثمَّ قام أيسر من قيامه الأوَّل، ثمَّ ركع أيسر من ركوعه الأوَّل، ثمَّ قام أيسر من قيامه الأوَّل، ثمَّ ثمَّ ركع أيسر من ركوعه الأوَّل، ثمَّ سجد أيسر من سجوده الأوَّل، فكانت أربع ركعاتٍ وأربع سجداتٍ (2) فتجلَّت الشَّمس، فقال إنَّكم تفتنون فى القبور كفتنة الدَّجَّال؛ قالت فسمعته بعد ذلك يستعيذ بالله من عذاب القبر (3)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৯৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (পাঁচ) যিনি বলেন চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সালাত দু'রাক'আত এবং প্রতি রাক'আতে দু'টি করে রুকু রয়েছে এ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(১৬৯৫) ইবনে শিহাব আয যুহরী (বা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে উরওয়াহ ইবনুয যুবাইর এ মর্মে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, নবী পত্নী (উম্মুল মু'মিনীন) আয়েশা (রা) বলেন, রাসূল (ﷺ)-এর জীবদ্দশায় সূর্যগ্রহণ লেগেছিল। তখন তিনি মসজিদে গিয়ে সালাতে দাঁড়ালেন এবং তাকবীরে তাহরীমা বললেন। উপস্থিত লোকজনও তার পিছনে সারিবদ্ধ হয়ে তাকবীরে তাহরীমা বললেন, (সালাত শুরু করলেন) (রাসুল (ﷺ) দাঁড়িয়ে সুদীর্ঘ কিরাত পাঠ করলেন। অতঃপর তিনি তাকবীর বলে রুকুতে গিয়ে সুদীর্য রুকু করলেন। এরপর তিনি "সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলে রুকু থেকে দাঁড়িয়ে সিজদায় না গিয়ে পুনরায় দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করলেন। তবে এ কিরামাত ছিল পূর্বের তুলনায় কম লম্বা। এরপর তাকবীর বলে রুকুতে গেলেন এবং দীর্ঘ রুকু করলেন। তবে এই রুকু পূর্বের রুকুর তুলনায় হ্রস্বতর ছিল। এরপর "সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ" "রাববানা লাকাল হামদ' বললেন। (রুকু থেকে দাঁড়ালেন অতঃপর সিজদা করলেন। অতঃপর দ্বিতীয় রাক'আতে অনুরূপ করলেন। চারটি রুকু ও চারটি সিজদা পূর্ণ করলেন। রাসূল (ﷺ) তাঁর সালাত শেষ না করতেই সূর্যের অন্ধকার কেটে গেল। এরপর তিনি (খুতবার উদ্দেশ্যে) দন্ডায়মান হয়ে মহান আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা ও গুণগান করে বললেন, নিশ্চয়ই চন্দ্র-সূর্য হচ্ছে আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে থেকে দু'টি নিদর্শন মাত্র। এ সব চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ কোন বাক্তির জন্ম বা মৃত্যুর কারণে সংঘটিত হয় না। যখনই তোমরা এভাবে চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ লাগতে দেখবে তখনই সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে একত্রিত হবে।"
আব্দুল্লাহ ইবনে 'আব্বাসের ভ্রাতা কাসীর ইবনে আওয়াস ইবনে মুত্তালিব এ মর্মে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর ভ্রাতা 'আব্দুল্লাহ রাসূল (ﷺ)-এর সূর্যগ্রহণের সালাত আদায়ের পদ্ধতি সেরূপ বর্ণনা করেছেন, যেরূপ বর্ণনা করেছেন উরওয়াহ্ ইবনুয যুবাইর (রা) (তাঁর খালা) আয়েশা (রা) হতে। ইবনে শিহাব আয-যুহরী (রা) বলেন, আমি উরওয়াহ্ ইবনুয যুবাইর (রা)-কে বললাম, আপনার ভ্রাতা 'আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা) তো মদীনায় সূর্যগ্রহণের সালাত ফজরের সালাতের ন্যায় দু'রাক'আত আদায় করেছেন। উরওয়াহ ইবনুয যুবাইর (রা) বলেন, হ্যাঁ। তবে তিনি এক্ষেত্রে রাসূল (ﷺ)-এর সুন্নাত অনুসরণ করতে পারেন নি।
(সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিম, সুনান আন-নাসায়ী, সুনান আল-বাইহাকী, সুনান চতুষ্টয় ও অন্যান্য গ্রন্থাবলী।)
كتاب الصلاة
(5) باب من روى أنها ركعتان فى كل ركعة ركوعان وكونها فى المسجد جماعة وبيان مراتب الأركان طولا وقصرا
(1699) عن الزُّهريِّ قال أخبرني عروة بن الزُّبير أنَّ عائشة رضى الله عنها زوج النَّبيِّ (صلى الله عليه وسلم) قالت كسفت الشَّمس فى حياة رسول الله (صلى الله عليه وسلم) فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى المسجد فقام فكبَّر وصفَّ النَّاس وراءه فكبَّر واقترأ قراءةً طويلةً، ثمَّ كبَّر فركع ركوعًا طويلًا، ثمَّ قال سمع الله لمن حمده فقام ولم يسجد، فاقترأ قراءةً طويلةً هي أدنى من القراءة الأولى، ثمَّ كبَّر وركع ركوعًا طويلًا هو أدنى من الرُّكوع الأوَّل، ثمَّ قال سمع الله لمن حمده ربَّنا لك الحمد، ثمَّ سجد ثمَّ فعل في الرَّكعة الأخرى مثل ذلك، فاستكمل أربع ركعاتٍ وأربع سجداتٍ وانجلت الشَّمس قبل أن ينصرف ثمَّ قام فأثنى على الله عزَّ وجلَّ بما هو أهله، ثمَّ قال إنَّما هما آيتان من آيات الله عزَّ وجلَّ لا ينخسفان لموت أحدٍ ولا لحينه، فإذا أيتموهما فافزعوا للصَّلاة، وكان كثير بن عبَّاس يحدِّث أنَّ عبد الله بن عباسٍ كان يحدّث عن صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم كسفت الشَّمس مثل ما حدَّث عروة عن عائشة زوج النَّبيِّ صلَّى الله عليه وسلَّم، فقلت لعروة فإنَّ أخاك يوم كسفت الشَّمس بالمدينة لم يزد على ركعتين مثل صلاة الصُّبح، فقال أجل إنَّه أخطأ السُّنَّة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭০০
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (পাঁচ) যিনি বলেন চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সালাত দু'রাক'আত এবং প্রতি রাক'আতে দু'টি করে রুকু রয়েছে এ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(১৬৯৬) আসমা বিনতে আবূ বকর (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) সূর্যগ্রহণের সালাত আদায় করেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কিয়াম করলেন (দাঁড়িয়ে কুরআন পড়লেন)। এরপর রুকুতে গিয়েও দীর্ঘ সময় (রুকুতে) অবস্থান করলেন। এরপর রুকু থেকে দাঁড়িয়ে (সিজদাতে না গিয়ে) দীর্ঘ কিয়াম করলেন। অতঃপর রুকুতে গিয়ে সুদীর্ঘ রুকু করলেন। রুকু থেকে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় দাঁড়ালেন। এরপর সিজদাতে গিয়েও দীর্ঘ সিজদাহ করলেন। এরপর উঠে (দ্বিতীয়) সিজদাহ করলেন এবং দীর্ঘ সময় সিজদাহরত থাকলেন। এরপর (দ্বিতীয় রাক'আতে) দাঁড়িয়ে দীর্ঘ কিয়াম করলেন। এরপর রুকুতে গেলেন এবং রুকুতে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলেন। এরপর রুকু থেকে দাঁড়িয়ে আবার দীর্ঘ কিয়াম করলেন। অতঃপর রুকুতে গিয়ে দীর্ঘ করু করলেন। রুকু থেকে দাঁড়ালেন এরপর সিজদা করলেন এবং সিজদা দীর্ঘায়িত করলেন। অতঃপর উঠলেন। এরপর (দ্বিতীয়) সিজদাহ করলেন এবং দীর্ঘ সময় সিজদাহ রত অবস্থায় থাকলেন। অতঃপর তিনি সালাত শেষ করে বললেন, জান্নাত আমার নিকটবর্তী হয়েছিল, আমি সাহস করলে (ইচ্ছা করলে) তোমাদের জন্য জান্নাতের ফলের গুচ্ছ থেকে ফল নিয়ে আসতে পারতাম। অনুরূপ জাহান্নামও আমার নিকটবর্তী হলো। এমনকি আমি বললাম, "হে মহান প্রতিপালক। আমি তো এদের মধ্যে রয়েছি।আপনি এদেরকে আযাব দিবেন কিভাবে। 'আমি দেখলাম একজন মহিলাকে একটি বিড়াল নখর দ্বারা আঁচড় দিচ্ছে। আমি বললাম, এই মহিলার বিষয়টি কি? আমাকে বলা হল, এ মহিলা এ বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল যাতে বিড়ালটি মারা গিয়েছিল। একে কোন প্রকার খাদ্য দেয় নি, এমনকি বাহিরে গিয়ে কিছু খাবে এ জন্য সে বিড়ালটিকে ছেড়েও দেয় নি।
বর্ণনাকারীণী আসমা বিনতে আবু বকর (রা) হতে অন্য সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ)-এর যুগে একবার সূর্যগ্রহণ লাগলে তিনি সালাতে দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করলেন, অতঃপর রুকুতে গিয়েও দীর্ঘ রুকু করলেন। এরপর রুকু থেকে দাঁড়িয়ে (সিজদাতে না গিয়ে) দীর্ঘ কিয়াম করে দ্বিতীয়বার রুকুতে গিয়েও দীর্ঘ রুকু করলেন। এরপর রুকু থেকে উঠেও দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন। এরপর তিনি দু'টি সিজদাহ করলেন। অতঃপর দ্বিতীয় রাক'আতে অনুরূপ করলেন।
(সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনান আন-নাসায়ী, সুনানে ইবনে মাজাহ।)
كتاب الصلاة
(5) باب من روى أنها ركعتان فى كل ركعة ركوعان وكونها فى المسجد جماعة وبيان مراتب الأركان طولا وقصرا
(1700) عن أسماء بنت أبي بكرٍ رضي الله عنهما قالت صلَّى رسول الله صلى الله عليه وسلم في الكسوف قالت فأطال القيام، ثمَّ ركع فأطال الرُّكوع، ثمَّ قام فأطال القيام، ثمَّ ركع فأطال الرُّكوع، ثمَّ رفع فأطال القيام، ثمَ سجد فأطال السُّجود، ثمَّ رفع ثمَّ سجد فأطال السُّجود، ثمَّ قام فأطال القيام، ثمَّ ركع فأطال الرُّكوع، ثمَّ رفع فأطال القيام، ثمَّ ركع فأطال الرُّكوع، ثمَّ رفع ثمَّ سجد فأطال السُّجود، ثمَّ رفع ثمَّ سجد فأطال السُّجود، ثمَّ انصرف فقال دنت منِّي الجنَّة حتَّى لو اجترأت لجتئكم بقطافٍ من قطافها، ودنت منِّي النَّار حتَّى قلت يا ربِّ وأنا معهم وإذا امرأة تخدشها هرَّةٌ، قلت ما شأن هذه؟ قيل لي حبستها حتَّى ماتت لا هي أطعمتها ولا هي أرسلتها تأكل من خشاش الأرض (وعنها من طريقٍ ثانٍ) قالت انكسفت الشَّمس على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فقام فصلَّى فأطال القيام، ثمَّ ركع فأطال الرُّكوع، ثمَّ رفع فأطال القيام، ثمَّ ركع فأطال الرُّكوع، ثمَّ رفع فأطال القيام، ثمَّ سجد سجدتين، ثمَّ فعل في الثَّانية مثل ذلك (الحديث بنحو ما تقدم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭০১
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (পাঁচ) যিনি বলেন চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সালাত দু'রাক'আত এবং প্রতি রাক'আতে দু'টি করে রুকু রয়েছে এ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(১৬৯৭) 'আব্দুল্লাহ্ ইবনে 'আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা সূর্যগ্রহণ লাগলে রাসূল (ﷺ) এবং তাঁর সাহাবীগণ সালাতে দাঁড়িয়ে সুদীর্ঘ সূরা তিলাওয়াত পূর্বক রুকু করলেন। এরপর রুকু থেকে দাঁড়িয়ে (সিজদাহতে না গিয়ে) কিরাআত পাঠ করলেন এবং (একই রাক'আতে দ্বিতীয়বার) রুকু করে অতঃপর যথারীতি দু'টি সিজদাহ করলেন। অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন এবং কুরআন পাঠ করলেন, রুকু করলেন অতঃপর তিনি দু'রাক'আতে চারটি রুকু ও চারটি সিজদাহ করলেন।
(সুনান আন্-নাসায়ী। এ হাদীসখানির সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
(5) باب من روى أنها ركعتان فى كل ركعة ركوعان وكونها فى المسجد جماعة وبيان مراتب الأركان طولا وقصرا
(1701) عن ابن عبَّاس رضي الله عنهما قال كسفت الشَّمس فقام رسول الله صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم وأصحابه فقرأ سورةً طويلةً ثمَّ ركع، ثمَّ رفع رأسه فقرأ ثمَّ ركع وسجد سجدتين، ثمَّ قام فقرأ وركع، ثمَّ سجد سجدتين، أربع ركعاتٍ وأربع سجداتٍ في ركعتين
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭০২
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (পাঁচ) যিনি বলেন চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সালাত দু'রাক'আত এবং প্রতি রাক'আতে দু'টি করে রুকু রয়েছে এ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(১৬৯৮) আব্দুল্লাহ ইবনে 'আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূল (ﷺ)-এর যুগে চন্দ্র গ্রহণ লাগলে, রাসুল (ﷺ) এবং তাঁর সাহাবীগণ সালাত আদায় করলেন। এ সালাতে তিনি দীর্ঘ কিয়াম করলেন, সূরা আল-বাক্বারার দৈর্ঘ্যের মত দীর্ঘ রুকু করলেন অতঃপর রুকু থেকে উঠে পুনরায় কিয়াম করলেন। তবে এ কিয়াম ছিল পূর্ববর্তী কিয়াম অপেক্ষা কম দীর্ঘ। এরপর (প্রথম রাকা'আতে দ্বিতীয়বার) দীর্ঘ রুকু করলেন, তবে এ প্রথম রুকু অপেক্ষা কম দীর্ঘ করলেন। এরপর সিজদাহ করলেন। অতঃপর দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করলেন, তবে এ কিয়াম প্রথম রুকু অপেক্ষা কম দীর্ঘ ছিল।
ইমাম আহমদ বলেন, আমি হাদীসটি আমার শাইখ আব্দুর রহমান-এর নিকট নিম্নরূপ পাঠ করেছি: রাসূল (ﷺ) সিজদা হতে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় রাকা'আতের কিয়াম করলেন, তবে দ্বিতীয় রাক'আতের কিয়ামের দীর্ঘতা ছিল প্রথম রাকা'আতের তুলনায় কম। কিয়ামের পর তিনি রুকু আদায় করলেন। তবে তাঁর এ রুকু'র দীর্ঘতা প্রথম রুকু'র দীর্ঘতা হতে কম ছিল। এরপর রুকু থেকে দাঁড়িয়ে তিনি আবার কিয়াম করলেন, তাঁর এ কিয়ামের দীর্ঘতা প্রথম কিয়ামের দীর্ঘতা অপেক্ষা কম ছিল। এরপর তিনি পুনরায় (একই রা'কআতে দ্বিতীয়বার) রুকু করলেন, তবে এ রুকু'র দীর্ঘতা পূর্বেকার রুকু অপেক্ষা কম ছিল। অতঃপর সিজদাহ করলেন। অতঃপর সালাত শেষ করলেন।
ইমাম আহমদ বলেন, এরপর পূর্বের রেওয়ায়েত নিম্নরূপ: অতঃপর রাসূল (ﷺ) সালাত শেষ করলেন।
ইত্যবসরে সূর্যের আঁধার দূরীভূত হল। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, নিশ্চয়ই চন্দ্র এবং সূর্য হচ্ছে আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দু'টি নিদর্শন মাত্র। এ চন্দ্র ব্য সূর্য গ্রহণ কোন ব্যক্তি বিশেষের জন্ম বা মৃত্যুর কারণে সংঘটিত হয় না। আর তোমরা যখন চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ লাগতে দেখবে, তখন আল্লাহকে স্মরণ করবে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ), আমরা দেখতে পেলাম, আপনি আপনার স্থানে থেকেই কিছু একটা হাত দিয়ে ধরলেন। অতঃপর আমরা দেখলাম আপনি পিছিয়ে আসছেন। রাসূল (ﷺ) বললেন, আমি জান্নাত দেখলাম এবং জান্নাতের ফলের থোকা হাত দিয়ে ধরেছিলাম। আমি যদি সে ফল নিয়ে আসতাম তাহলে তোমরা যতদিন পৃথিবী টিকে থাকত ততদিন সে ফল খেতে পারতে এবং আমি জাহান্নাম দেখলাম, (জাহান্নামের মত) এত বিভৎস দৃশ্য ইতিপূর্বে কখনো আমি দেখি নি। এবং আমি দেখলাম অধিকাংশ জাহান্নামীই মহিলা। তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ), এর কারণ কি? রাসূল (ﷺ) বললেন, তাদের অকৃতজ্ঞতা। তাঁরা বললেন, তারা কি আল্লাহর প্রতি অকৃতজ্ঞ? রাসূল (ﷺ) বললেন, তারা তাদের স্বামীদের বা সাথীদের প্রতি অকৃতজ্ঞ এবং তারা উপকার, সদ্ব্যবহার করতে অস্বীকার করে।
তোমরা যদি যুগ যুগ ধরে তাদের কল্যাণ-উপকার কর অবশেষে তোমার পক্ষ থেকে একটি মাত্র অপছন্দনীয় কাজ দেখে, তাহলে সে তোমাকে বলবে তোমার কাছ থেকে জীবনে কখনো ভাল কিছু পাই নি।
(সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম, মুয়াত্তা মালিক, সুনান চতুষ্টয়।)
كتاب الصلاة
(5) باب من روى أنها ركعتان فى كل ركعة ركوعان وكونها فى المسجد جماعة وبيان مراتب الأركان طولا وقصرا
(1702) حدّثنا عبد الله حدَّثني أبي حدَّثنا إسحاق يعني ابن عيسى قال أنا مالكٌ عن زيدٍ يعني ابن أسلم عن عطاء بن بسار عن ابن عبَّاسٍ (رضي الله عنهما) قال خسفت الشَّمس فصلَّى رسول الله صلَّى الله عليه وآله وسلَّم والنَّاس معه فقام قيامًا طويلًا قال نحوًا من سورة البقرة ثمَّ ركع ركوعًا طويلًا ثمَّ رفع فقام قيامًا طويلًا وهو دون القيام الأوَّل ثمَّ ركع ركوعًا طويلًا وهو دون الرُّكوع الأوَّل، ثمَّ سجد ثمَّ قام فقام قيامًا طويلًا وهو دون الرُّكوع الأوَّل قال أبي وفيما قرأت على عبد الرَّحمن قال ثمَّ قام قيامًا طويلًا دون القيام الأول، ثمَّ ركع ركوعًا طويلًا وهو دون الرُّكوع الأوَّل ثمَّ رفع فقام قيامًا طويلًا وهو دون القيام الأوَّل، ثمَّ ركع ركوعًا طويلًا وهو دون الرُّكوع الأوَّل، ثمَّ سجد ثمَّ انصرف ثمَّ رجع إلى حديث إسحاق ثمَّ انصرف وقد تجلت الشَّمس فقال إنَّ الشَّمس والقمر آيتان من آيات الله لا يخسفان لموت أحدٍ ولا لحياته فإذا رأيتم ذلك فاذكروا الله؛ قالوا يا رسول الله رأيناك تناولت شيئًا في مقامك ثمَّ رأيناك تكعكعت فقال إنِّي رأيت الجنَّة تناولت منها عنقودًا ولو أخذته لأكلتم منه ما بقيت الدُّنيا ورأيت النَّار فلم أر كاليوم منظرًا قطُّ ورأيت أكثر أهلها النِّساء قالوا لم يا رسول الله؟ قال بكفرهنّ، قيل أيكفرن بالله؟ قال يكفرن العشير ويكفرن الإحسان، لو أحسنت إلى إحداهنَّ الدَّهر ثمَّ رأت منك شيئًا قالت ما رأيت منك خيرًا قطُّ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭০৩
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (পাঁচ) যিনি বলেন চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সালাত দু'রাক'আত এবং প্রতি রাক'আতে দু'টি করে রুকু রয়েছে এ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(১৬৯৯) আবু শুরাইহ আলু-খুযায়ী (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'উসমান (রা)-এর যুগে সূর্যগ্রহণ লেগেছিল। এ সময় আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) মদীনায় অবস্থান করছিলেন। বর্ণনাকারী খুযায়ী (রা) বলেন, উসমান (রা) গৃহ থেকে বের হলেন এবং লোকজন নিয়ে প্রতি রাক'আতে দু'টি রুকু এবং দু'টি সিজদাহ সহকারে দু'রাক'আত সূর্যগ্রহণের সালাত আদায় করলেন। সালাত আদায় শেষে 'উসমান (রা) স্বগৃহে প্রবিষ্ট হলেন। আর আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাস'উদ (রা) আয়েশা (রা)-এর হুজরার (কক্ষ) কাছাকাছি বসলেন। আমরাও তাঁর কাছে উপবিষ্ট হলাম, অতঃপর তিনি বললেন, রাসুল (ﷺ) আমাদেরকে সূর্য কিংবা চন্দ্রগ্রহণ লাগলে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিতেন। অতএব, তোমরা যদি চন্দ্র কিংবা সূর্যগ্রহণ লাগতে দেখ, তাহলে তোমরা জলদি করে সালাত আদায়ে বেরিয়ে পড়বে। কেননা, তোমরা যার ভয় পাচ্ছ সেই কিয়ামত যদি সংঘটিত হয়, তাহলে (তোমাদের ইবাদতের অবস্থায় কিয়ামত হলো) তোমাদের অসতর্কতা বা গাফলতির মধ্যে কিয়ামত হলো না। আর যদি কিয়ামত সংঘটিত না হয় তাহলে তোমরা (তোমাদের সালাতের মাধ্যমে) কল্যাণ প্রাপ্ত হলে এবং তা অর্জন করলে।
(সুনানে বাইহাকী। হাইসামী বলেন, ইমাম আহমাদ, আবু ইয়ালা, ইমাম তবারানী, বাযযার প্রমুখ সংকলন করেছেন। হাদীসটির বর্ণনাকারীগণ সকলেই নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الصلاة
(5) باب من روى أنها ركعتان فى كل ركعة ركوعان وكونها فى المسجد جماعة وبيان مراتب الأركان طولا وقصرا
(1703) عن أبي شريح الخزاعيِّ قال كسفت الشَّمس في عهد عثمان ابن عفَّان رضي الله عنه وبالمدينة عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال فخرج عثمان فصلَّى بالنَّاس تلك الصَّلاة ركعتين وسجدتين في كلِّ ركعةٍ، قال ثمَّ انصرف عثمان فدخل داره وجلس عبد الله بن مسعودٍ إلى حجرة عائشة رضي الله عنها وجلسنا إليه، فقال إنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يأمرنا بالصَّلاة عند كسوف الشَّمس والقمر، فإذا رأيتموه قد أصابهما فافزعوا إلى الصَّلاة فإنِّها كانت الَّتي تحذرون كانت وأنتم على غير غفلةٍ، وإن لم تكن كنتم قد أصبتم خيرًا واكتسبتموه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭০৪
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (পাঁচ) যিনি বলেন চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সালাত দু'রাক'আত এবং প্রতি রাক'আতে দু'টি করে রুকু রয়েছে এ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(১৭০০) জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনসারী (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, অত্যন্ত গরমের দিনে রাসূল (ﷺ)-এর যুগে একবার সূর্যগ্রহণ লেগেছিল। তখন রাসুল (ﷺ) তাঁর সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি এ সালাতে দাঁড়িয়ে এত দীর্ঘ কিয়াম করতেছিলেন যে, কেউ কেউ (কিয়ামের দীর্ঘতার কারণে) দাঁড়ানো থেকে মাটিতে পড়ে যাচ্ছিলেন। এরপর রুকু করতে গিয়েও দীর্ঘ রুকু আদায় করলেন। এরপর রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন। পুনরায় রুকুতে গিয়েও দীর্ঘ সময় অবস্থান করলেন। এরপর রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন, এরপর দু'টি সিজদা আদায় করলেন। এভাবে দ্বিতীয় রাক'আতও অনুরূপ করলেন। এরপর তিনি সামনে এগোতে লাগলেন, এরপর তিনি পিছিয়ে আসতে লাগলেন। এ দু'রাকাআত সালাতে চারটি রুকু ও চারটি সিজদা ছিল। অতঃপর রাসুল (ﷺ) বললেন, তোমাদের সাথে ওয়াদাকৃত সব বস্তুকেই আমার সামনে পেশ করা হয়েছিল। এমনকি আমার সামনে জান্নাত পেশ করা হয়েছিল। আর আমি যদি জান্নাতি ফলের কাঁদি/ছাড়া গ্রহণ করতে চাইতাম, তাহলে আমি তা ধরতে পারতাম। অথবা তিনি বলেছেন, (বর্ণনাকারী হিশাম সন্দেহ পোষণ করেছেন) আমি জান্নাতি ফলের ছড়া সংগ্রহ করতে উদ্যত হলে আমার হস্ত তা থেকে সংকুচিত হয়ে আসল। অনুরূপ, জাহান্নামকে আমার সামনে উপস্থাপিত করা হয়েছিল। এ ভয়ে জাহান্নাম থেকে পিছিয়ে আসছিলাম যে, না জানি এ জাহান্নামের অগ্নি তোমাদের গ্রাস করে, আমি জাহান্নামে দীর্ঘদেহিনী কালো বর্ণের এক হিময়ার গোত্রীয় মহিলাকে দেখতে পেলাম, যাকে তার একটি বিড়ালের কারণে আযাব দেওয়া হচ্ছে। এ মহিলাটি বিড়ালটিকে বেঁধে রাখত। অথচ একে খাদ্য ও পানীয় দিত না। তাকে ছেড়েও দেয় নি যে, সে ভূপৃষ্ঠের পোকামাকড় শিকার করে খাবে এবং আমি (চোর) আবু ছুমামা আমর বিন মালিককে জাহান্নামে দেখতে গেলাম, যে তার নাড়ি-ভুঁড়ি জাহান্নামে টেনে নিয়ে বেড়াচ্ছে চন্দ্র ও সূর্য হচ্ছে আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শন থেকে দু'টি নিদর্শন মাত্র। যা তোমাদেরকে প্রত্যক্ষ করানো হয়। অতএব, যখনই চন্দ্রগ্রহণ বা সূর্যগ্রহণ ঘটবে তখন তোমরা সালাত আদায় করবে, তা কেটে যাওয়া পর্যন্ত।
(সহীহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনান আন-নাসায়ী, সুনান আল-বাইহাকী)
كتاب الصلاة
(5) باب من روى أنها ركعتان فى كل ركعة ركوعان وكونها فى المسجد جماعة وبيان مراتب الأركان طولا وقصرا
(1704) عن جابر بن عبد الله الأنصاريٍّ رضي الله عنهما قال خسفت الشَّمس على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم في يومٍ شديد الحرِّ فصلَّى رسول الله صلى الله عليه وسلم بأصحابه فأطال القيام حتَّى جعلوا يخرُّون ثمَّ ركع فأطال الرُّكوع، ثمَّ رفع رأسه فأطال، ثمَّ ركع فأطال، ثمَّ رفع رأسه فأطال ثمَّ سجد سجدتين، ثم قام فصنع مثل ذلك، ثمَّ جعل يتقدَّم ثمَّ جعل يتأخَّر، فكانت أربع ركعاتٍ وأربع سجداتٍ، ثمَّ قال إنَّه عرض عليَّ كلُّ شيءٍ توعدونه فعرضت عليَّ الجنَّة حتَّى لو تناولت منها قطفًا أخذته أو قال تناولت منها قطفًا فقصرت يدي عنه شكَّ هشامٌ (أحد الرواة) وعرضت عليَّ النَّار فجعلت أتأخَّر رهبة أن تغشاكم فرأيت فيها امرأة حميريَّةً سوداء طويلة تعذَّب في هرَّة لها ربطتها فلم تطعمها ولم تسقها، ولم تدعها تأكل من خشاش الأرض، ورأيت أبا ثمامة عمرو بن مالكٍ يجرُّ قصبه في النًّار، وإنَّهما آيتان من آيات الله عزَّ وجلَّ يريكموهما، فإذا خسفت فصلُّوا حتَّى تنجلي
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭০৫
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (ছয়) পরিচ্ছেদ ও সূর্য গ্রহণ বা চন্দ্র গ্রহণের সালাত দু'রাকা'আত এবং প্রতি রাকা'আতে তিন তিনটি করে রুকু দেওয়ার বর্ণনা
(১৭০১) জাবির ইবনে 'আব্দুল্লাহ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ)-এর যুগে (একবার) সূর্যগ্রহণ লেগেছিল। সে দিন ছিল যেদিন রাসূল (ﷺ)-এর পুত্র ইব্রাহীম ইন্তেকাল করেন। লোকজন বলাবলি শুরু করলো যে, নবী-পুত্র ইব্রাহিমের মৃত্যুর কারণেই এ সূর্যগ্রহণ লেগেছে। তখন রাসূল (ﷺ) ৪টি সিজদাহ ও ৬টি রুকু'তে সালাত আদায় করলেন। রাসূল (ﷺ) তাকবীরে তাহরীমা বলে সালাতে দাঁড়ালেন এবং কিরাআত পাঠ করলেন এবং কিরাআত দীর্যায়িত করলেন। এরপর রুকু করলেন, যতক্ষণ দাঁড়িয়ে কিরাআত পড়েছিলেন প্রায় ততক্ষণ। অতঃপর মাথা তুলে (দাঁড়িয়ে) আবার কিরাআত পাঠ করলেন প্রথম কিরাআত থেকে কম। এরপর রুকু করলেন, প্রায় ততক্ষণ যতক্ষণ তিনি কিয়াম করেছিলেন এবং রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে কিয়াম করেছিলেন। কিরাআত পাঠ করলেন। দ্বিতীয়বারের কিরাআত থেকে কম, প্রায় যতক্ষণ দাঁড়িয়েছিলেন ততক্ষণ। এরপর মাথা তুলে সিজদায় গেলেন এবং দু'টি সিজদাহ করলেন। অতঃপর দাঁড়িয়ে সিজদা করার পূর্বে তিন তিনটি রুকু করলেন। প্রত্যেকটি রুকুই পূর্ববর্তী রুকু থেকে কম দীর্ঘ ছিল। আর রুকুগুলো প্রায় কিয়ামের মত দীর্ঘ ছিল। এরপর রাসূল (ﷺ) সালাতে রত থেকেই পিছিয়ে গেলেন তাঁর সাথে সাথে (মুক্তাদিগণের) কাতারগুলিও সমানভাবে পিছিয়ে গেল। এরপর রাসূল (ﷺ) আবার সামনে এগিয়ে এসে পূর্বের স্থানে দাঁড়ালেন এবং তাঁর পিছনের কাতারগুলিও সামনে এগিয়ে এল। এরপর সালাত শেষ করলেন। ইতিমধ্যেই সূর্য উঠে দিয়েছিল। অতঃপর রাসূল (ﷺ) বললেন, নিশ্চয়ই চন্দ্র-সূর্য হচ্ছে আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দু'টি নিদর্শন মাত্র। এ চন্দ্র-সূর্যগ্রহণ কোন ব্যক্তি বিশেষের মৃত্যুর কারণে ঘটে না। তোমরা চন্দ্র কিংবা সূর্যগ্রহণ লাগতে দেখলে তা আলোকিত না হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করতে থাকবে। অতঃপর রাসূল (ﷺ) বললেন, অদ্যকার এ সালাতে আমার এমন কিছু দেখা বাকী নেই যা সম্পর্কে তোমরা প্রতিশ্রুত। এ সালাতে আমার কাছে জাহান্নামকে নিয়ে আসা হলে, তখনই তোমরা আমাকে পিছিয়ে আসতে দেখেছিলে। জাহান্নামের অগ্নিবাতাস আমার গাত্রে স্পর্শ করবে এ ভয়ে আমি পিছিয়ে গিয়েছিলাম। এমনকি আমি বললাম, 'হে আমার প্রতিপালক। আমি তো এদের মধ্যে উপস্থিত।" এবং আমি আরো দেখলাম, লাঠিওয়ালা (চোর) তার নাড়ি-ভুঁড়ি জাহান্নামের মধ্যে টেনে নিয়ে বেড়াচ্ছে। এ লাঠি ওয়ালা হাজীদের মালপত্র লাঠি দিয়ে চুরি করত। কেউ টের পেলে বলত, আমি তো চুরি করি নি, আমার লাঠির মাথা আটকে গেছে। আর টের না পেলে নিয়ে যেত। (মহানবী (ﷺ) আরো বলেন) আমি জাহান্নামে আরো প্রত্যক্ষ করলাম, বিড়ালের মালিক মহিলাকে, যে তার বিড়ালকে বেঁধে রেখেছিল, অথচ এ বিড়ালটিকে পানাহার করাতো না বা বিড়ালটি যে বাইরের কীটপতঙ্গ খেয়ে জীবনধারণ করবে এ জন্য তাকে ছেড়েও দিত না।অবশেষে ক্ষুধার তাড়নায় বিড়ালটি মারা গেল। অনুরূপভাবে আমার সামনে জান্নাতকে আনা হলো তখনই তোমরা দেখেছিলে যে, আমি সামনে এগিয়ে আমার দাঁড়ানোর স্থানে দাঁড়ালাম। আমি আমার হাত বাড়িয়ে নিয়েই তোমরা ইচ্ছে হয়েছিল যে, জান্নাতের কিছু ফল সংগ্রহ করি, যাতে তোমরা তা দেখতে পার। তবে আমার মনে হল, আমি যেন এ কাজটি না করি।
(সহীহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনান আল-বাইহাকী।)
كتاب الصلاة
(6) باب من روى أنها ركعتان في كل ركعة ثلاث ركوعات
(1705) عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما، قال كسفت الشَّمس على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان ذلك اليوم الَّذي مات فيه إبراهيم عليه السَّلام بن رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال النَّاس إنَّما كسفت الشَّمس لموت إبراهيم، فقام النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم فصلَّى بالنَّاس ستَّ ركعاتٍ في أربع سجداتٍ، كبَّر ثمَّ قرأ فأطال القراءة ثمَّ ركع نحوًا ممَّ قام، ثمَّ رفع رأسه فقرأ دون الراءة الأولى، ثمَّ ركع نحوًا ممَّا قام ثمَّ رفع رأسه فقرأ دون القراءة الثَّانية، ثمَّ ركع نحوًا ممَّا قام، ثمَّ رفع رأسه فانحدر للسُّجودن فسجد سجدتين، ثمَّ قام فركع ثلاث ركعاتٍ قبل أن يسجد ليس فيها ركعةٌ إلَّا الَّتي قبلها أطول من الَّتي بعدها، إلَّا أن ركوعه نحوٌ من قيامه ثمَّ تأخَّر في صلاته وتأخَّرت الصُّفوف معه ثمَّ تقدَّم فقام في مقامه وتقدَّمت الصُّفوف فقضى الصَّلاة وقد طلعت الشَّمس، فقال يا أيُّها النَّاس إنَّ الشَّمس والقمر آيتان من آيات الله عزَّ وجلَّ وإنَّهما لا ينكسفان لموت بشرٍ، فإذا رأيتم شيئًا من ذلك فصلُّوا حتَّى تنجلي، إنَّه ليس من شيءٍ توعدونه إلَّا قد رأيته في صلاتي هذه، ولقد جيء بالنَّار فذلك حين رأيتموني تأخَّرت مخافة أن يصيبني من لفحها حتَّى قلت أي ربِّ وأنا فيهم، ورأيت فيها صاحب المحجن يجرُّ قصبه في النَّار، كان يسرق الحاجُّ بمحجنه فإن فطن به قال إنَّما تعلق بمحجني، وإن غفل عنه ذهب به، وحتَّى رأيت فيها صاحبة الهرَّة التَّي ربطتها فلم تطعمها ولم تتركها تأكل من خشاش الأرض حتَّى ماتت جوعًا، وجيء بالجنَّة فذلك حين رأيتموني تقدَّمت حتَّى قمت في مقامي فمددت يدي وأنا أريد أن أتناول من ثمرها لتنظروا إليه، ثمَّ بدالي أن لا أفعل
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭০৬
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ (ছয়) পরিচ্ছেদ ও সূর্য গ্রহণ বা চন্দ্র গ্রহণের সালাত দু'রাকা'আত এবং প্রতি রাকা'আতে তিন তিনটি করে রুকু দেওয়ার বর্ণনা
(১৭০২) উন্মুল মু'মিনীন 'আয়েশা সিদ্দিকা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) আল্লাহর নিদর্শনাবলীর সালাতে প্রতি রাক'আতে তিন তিনটি রুকু করে এরপর সিজদায় যেতেন। অতঃপর দ্বিতীয় রাক'আতেও তিন তিনটি রুকু আদায় করে পরে সিজদায় যেতেন।
(সহীহ মুসলিম, সুনান আন-নাসায়ী।)
كتاب الصلاة
(6) باب من روى أنها ركعتان في كل ركعة ثلاث ركوعات
(1706) عن عائشة رضي الله عنها أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقوم في صلاة الآيات فيركع ثلاث ركعاتٍ ثمَّ يسجد، ثمَّ يركع ثلاث ركعاتٍ ثمَّ يسجد،
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭০৭
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ এ পরিচ্ছেদে তাঁর বর্ণনা রয়েছে, মিনি সূর্য গ্রহণের সালাতের প্রথম রাক'আতে তিন-তিনটি রুকু আদায় করেছিলেন এবং সূর্য আলোকিত হয়ে যাওয়ায় দ্বিতীয় রাক'আতটিতে একটি রুকু করেই সালাত সমাপ্ত করেছিলেন।
(১৭০৩) (খত) 'আমির (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, দ্বিপ্রহরে পূর্বে সূর্যগ্রহণ সংঘটিত হলে, সূর্যের অন্ধকারাচ্ছন্নতা প্রকট রূপ ধারণ করল। তখন আল-মুগীরাহ্ ইবনে শু'বা (রা) লোকজন নিয়ে ইমামতি করে সালাত আদায় করলেন। শতাধিক আয়াত বিশিষ্ট সূরা পাঠ পরিমাণ সময় তিনি দাঁড়ালেন। এরপর রুকুতে গিয়েও অনুরূপ সময় থাকলেন। এরপর রুকু থেকে মাথা তুলে পুনরায় রুকু করেন, পূর্বের মত মাথা তুললেন এবং পূর্বের মত দাঁড়ালেন অতঃপর দ্বিতীয়বার (অর্থাৎ তৃতীয়বার) রুকু করলেন। ইত্যবসরে সূর্য আলোকিত হয়ে যায়। তখন তিনি সিজদা করলেন। অতঃপর দ্বিতীয় রাক'আতে দাঁড়িয়ে একটি সূরাহ পাঠ করা পরিমাণ দাঁড়ালেন। এরপর রুকু ও সিজদা করলেন এবং সালাত শেষ করলেন।
অতঃপর মিম্বরে আরোহন করে বললেন যে দিন নবী পুত্র ইব্রাহীম মৃত্যুবরণ করলেন, সে দিন সূর্যগ্রহণ লেগেছিল। এরপর রাসূল (ﷺ) দাঁড়িয়ে (খুতবাতে) বললেন, নিশ্চয়ই চন্দ্র এবং সূর্যগ্রহণ কারো মৃত্যুর কারণে ঘটে না বরং এ দু'টি হচ্ছে মহান আল্লাহর নিদর্শনসমূহ হতে দু'টি নিদর্শন মাত্র। আর যখনই সূর্য বা চন্দ্র গ্রহণের যে কোন একটি সংঘটিত হবে যখন তোমরা দ্রুত সালাতে রত হয়ে যাবে। এরপর তিনি নেমে এলেন। তখন তিনি বললেন, রাসুল (ﷺ) সালাতে রত ছিলেন এবং এ অবস্থায় তাঁর সামনে ফুঁক দিতে থাকলেন। আর তাঁর হস্তকে প্রসারিত করলেন, মনে হয় যেন তিনি কিছু গ্রহণ করছিলেন। তিনি সালাত সমাপ্ত করে বললেন, জাহান্নামকে এমনিভাবে আমার নিকটবর্তী করা হলো যে, আমি আমার মুখমণ্ডল থেকে অগ্নির উত্তাপ প্রশমিত করার জন্য ফুঁক দিচ্ছিলাম। আমি তথায় লাঠিওয়ালাকে দেখলাম এবং তাকেও দেখলাম, যে ব্যক্তি দেবতাদের জন্য পশু মানতের রেওয়াজ চালু করেছিল। আরো দেখলাম হিমইয়ার গোত্রের মহিলাকে, যে বিড়াল বেঁধে মেরে ফেলেছিল।
(সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমসহ অন্যান্য হাদীস সংকলকগণ 'আমির (রা)-এর বর্ণিত ঘটনা ছাড়া বাকি অংশটুকু বর্ণনা করেছেন। আর এ ঘটনাসহ একমাত্র ইমাম আহমদই বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
(فصل منه) فيمن صلاها ركعتين بثلاث ركوعات في الأولى فانجلت فصلى الثانية بركوع واحد
(1707) خط حدَّثنا عبد الله وقال وجدت في كتاب أبي بخطِّ يده حدَّثني عبد المتعال بن عبد الوهَّاب ثنا يحيى بن سعيدٍ الأمويُّ ثنا المجالد عن عامرٍ قال كسفت الشَّمس ضحوة حتَّى اشتدَّت ظلمتها فقام المغيرة بن شعبة فصلَّى بالنَّاس فقام قدر ما يقرأ سورةً من المثاني ثمَّ كع مثل ذلك، ثمَّ رفع رأسه، ثمَّ ركع مثل ذلك، ثمَّ رفع رأسه فقام مثل ذلك، ثمَّ رفع الثَّانية مثل ذلك، ثمَّ إن الشَّمس تجلَّت فسجد، ثمَّ قام قدر ما يقرأ سورةً، ثمَّ ركع وسجد، ثمَّ انصرف فصعد المنبر فقال إنَّ الشَّمس كسفت يوم توفيَّ إبراهيم ابن رسول الله صلى الله عليه وسلم فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال إنَّ الشَّمس والقمر لا ينكسفان لموت أحدٍ، وإنَّما هما آيتان ومن آيات الله عزَّ وجلَّ، فإذا انكسف واحد منهما فافزعوا إلى الصَّلاة؛ ثمَّ نزل فحدَّث أنَّ رسول الله صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم كان في الصَّلاة فجعل ينفخ بين يديه، ثمَّ إنَّه مدَّ يده كأنَّه يتناول شيئًا، فلمَّا انصرف قال إنَّ النَّار أدنيت منِّي حتّي نفخت حرَّها عن وجهي، فرأيت فيها صاحب المحجن والَّذي بحَّر البحيرة وصاحبة حمير صاحبة الهرَّة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭০৮
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কুসুফের সালাত ২ রাক'আত প্রতি রাক'আত ৪ রুকু বিষয়ক বর্ণনা।

(সাত) সূর্যগ্রহণের সালাত দুই রাক'আত, প্রতি রাক'আতে চার চারটি রুকু রয়েছে। যারা এমনটি বর্ণনা করেছেন তাদের প্রাসঙ্গিক পরিচ্ছেদ
(১৭০৪) হানাশ নামক জনৈক ব্যক্তি হতে বর্ণিত, তিনি আমীরুল মু'মিনীন আলী (রা) থেকে বর্ণনা করে বলেন, একদা সূর্যগ্রহণ লাগলে আলী (রা) লোকজনকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি (প্রথম রাক'আতে) সূরা ইয়াসিন বা অনুরূপ দৈর্ঘের একটি সূরা পাঠ করলেন। এরপর ঐ সূর্য পাঠের সমপরিমাণ দীর্ঘ সময় ধরে রুকু' করলেন। অতঃপর সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ্ বললেন। এরপর একই সূরা পরিমাণ দীর্ঘ সময় কিয়াম করলেন, এ সময় তিনি দু'আ করছিলেন ও তাকবীর বলছিলেন। এরপর তিনি কিরাআত পরিমাণ একটি রুকু করলেন। এরপর বললেন, সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ। এরপর সূরা পাঠ পরিমাণ সময় দাঁড়ালেন। এরপর রুকু করলেন অনুরূপ সময়। এভাবে চারবার রুকু করলেন। অতঃপর বললেন, সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ। অতঃপর সিজদা করলেন। এরপর দ্বিতীয় রাক'আতে দাঁড়িয়ে হুবহু তা-ই করলেন, যা তিনি প্রথম রাক'আতে করেছিলেন। এরপর সালাত সমাপ্ত করে সূর্য অন্ধকার মুক্ত হওয়া পর্যন্ত দু'আ ও আলোচনা করলেন। এরপর তিনি বললেন, রাসূল (ﷺ) এইরূপ করেছিলেন।
(হাইসামী ও সুনান আল-বাইহাকী। হাইসামী বলেছেন, এ হাদীসের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب الصلاة
(7) باب من روى أنها ركعتان في كل ركعة أربع ركوعات
(1708) عن رجلٍ يدعى حنشًا عن عليّ رضي الله عنه قال كسفت الشَّمس فصلَّى عليٌّ رضي الله عنه للنَّاس فقرأ يس أو نحوها، ثمَّ ركع نحوًا من قدر السُّورة، ثمَّ رفع رأسه فقال سمع الله لمن حمده، ثمَّ قام قدر السُّورة يدعو ويكبِّر، ثمَّ ركع قدر قراءته أيضًا، ثمَّ قال سمع الله لمن حمده، ثمَّ قام أيضًا قدر السُّورة، ثمَّ ركع قدر ذلك أيضًا حتى صلَّى أربع ركعاتٍ ثمَّ قال سمع الله لمن حمده، ثمَّ سجد، ثمَّ قام في الرَّكعة الثَّانية ففعل كفعله في الرَّكعة الأولى ثمَّ جلس يدعو ويرغَّب حتَّى انكشفت الشَّمس، ثمَّ حدَّثهم أنَّ رسول الله صلَّى الله تعالى عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم كذلك فعل
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭০৯
নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কুসুফের সালাত ২ রাক'আত প্রতি রাক'আত ৪ রুকু বিষয়ক বর্ণনা।

(সাত) সূর্যগ্রহণের সালাত দুই রাক'আত, প্রতি রাক'আতে চার চারটি রুকু রয়েছে। যারা এমনটি বর্ণনা করেছেন তাদের প্রাসঙ্গিক পরিচ্ছেদ
(১৭০৫) আব্দুল্লাহ ইবনে 'আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (ﷺ) সূর্যগ্রহণের (দু'রাক'আত) সালাত আদায়ে সর্বমোট আটটি রুকু ও চারটি সিজদা করেছেন।
(সহীহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনান আন-নাসায়ী, সুনান আল-বাইহাকী।)
كتاب الصلاة
(7) باب من روى أنها ركعتان في كل ركعة أربع ركوعات
(1709) عن ابن عبَّاسٍ رضي الله عنهما أنَّ رسول الله صلَّى الله عليه وعلى آله وسلَّم صلَّى عند كسوف الشَّمس ثماني ركعاتٍ وأربع سجداتٍ
tahqiq

তাহকীক: