মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

৬. পবিত্রতা অর্জন - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৫৬২ টি

হাদীস নং: ১২১
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদঃ মল-মূত্র ত্যাগের সময় কিবলার দিকে মুখ করা বা কিবলাকে পিছনে রাখার নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে
(১২১) আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি তো তোমাদের পিতার ন্যায়। তোমাদের কেউ যখন নির্জন স্থানে (মল-মূত্রত্যাগের স্থানে) গমন করবে, তখন সে কিবলার দিকে মুখ করবে না এবং কিবলাকে পিছনেও রাখবে না। (আবু হুরায়রা বলেন) আর তিনি আমাদেরকে গোবর-ঘুটে ও শুকনো পঁচা হাড় শৌচকর্মের ব্যবহার করতে নিষেধ করতেন। আর কেউ তার ডান হাত শৌচকর্মে ব্যবহার করবে না।
[শাফিয়ী, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবন হিব্বান। ইমাম মুসলিম হাদীসটি সংক্ষিপ্তভাবে সংকলিত করেছেন।]
كتاب الطهارة
(5) باب النهى عن استقبال القبلة او استدبارها وقت الحاجة
(121) عن ابى هريرة رضى الله عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم قال انما انا لكم مثل الوالد، اذا أتيتم الغائط فلا تستقبلوا القبلة ولا تستدبروها، ونهى عن الروث (2) والرومة ولا يستطيب (3) الرجل بيمينه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২২
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদঃ মল-মূত্র ত্যাগের সময় কিবলার দিকে মুখ করা বা কিবলাকে পিছনে রাখার নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে
(১২২) সালমান ফারিসী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কতিপয় মুশরিক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি উপহাস করে বলে, আমরা দেখছি যে, তোমাদের সাথী তোমাদেরকে পায়খানা করতেও শেখায়। সালমান বলেনঃ আমি উত্তরে বললামঃ হ্যাঁ, তা তো বটেই। তিনি আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেনঃ এ সময়ে কিবলাহর দিকে মুখ না দিতে (অন্য বর্ণনায়ঃ এবং কিবলার দিকে পিছন না দিতে)। আর শৌচকর্মে আমাদের ডান হাত ব্যবহার না করতে আর ঢিলা ব্যবহারে তিনটি পাথরের কম ব্যবহার না করতে এবং সেগুলোর মধ্যে গোবর-ঘুটে বা হাড় ব্যবহার না করতে। (মুসলিম ও অন্যান্য)
كتاب الطهارة
(5) باب النهى عن استقبال القبلة او استدبارها وقت الحاجة
(122) عن عبدالرحمن بن يزيد عن سلمان الفارسى رضى الله عنه قال قال بعض المشركين وهم يستهزئون به لأرى صاحبكم يعلمكم حتى الخراءة (4) قال سلمان اجل، أمرنا ان لا نستقبل القبلة (وفي رواية
ولا نستدبرها) ولا نستنجى بأيماننا ولا نكتفى بدون ثلاثة أحجار ليس فيها رجيع (1) ولا عظم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৩
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ (৬) পরিচ্ছেদ: গৃহের মধ্যে কিবলাহকে সামনে বা পিছনে রেখে মলমূত্র ত্যাগ জায়িয হওয়া প্রসঙ্গে
(১২৩) জাবির ইবন্ আবদুল্লাহ আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে কিবলাহর দিকে মুখ করে বা পিছনে ফিরে মূত্রত্যাগ করতে নিষেধ করেছিলেন। এরপর তাঁর ইন্তেকালের এক বৎসর পূর্বে তাঁকে কিবলাহর দিকে মুখ করে পেশাব করতে দেখলাম।
[আবু দাউদ, ইবন মাজাহ, তিরমিযী, ইবন হিব্বান, হাকিম ও অন্যান্য। ইমাম তিরমিযী ও অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে হাসান বা গ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন।]
كتاب الطهارة
(6) باب فى جواز ذلك فى البنيان
(123) عن جابر بن عبدالله رضى الله عنهما قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد نهانا عن ان نستدبر القبلة او ان نستقبلها بفروجنا إذا أهرقنا الماء (2)
قال ثم رأيته قبل موته ينام مستقبل القبلة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৪
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ (৬) পরিচ্ছেদ: গৃহের মধ্যে কিবলাহকে সামনে বা পিছনে রেখে মলমূত্র ত্যাগ জায়িয হওয়া প্রসঙ্গে
(১২৪) আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আমি (আমার বোন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী) হাফসা (রা)-এর বাড়ির উপরে উঠি। তখন দেখি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সিরিয়ার দিকে মুখ করে কিবলাহর দিকে পিছন ফিরে তাঁর প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারছেন। (দ্বিতীয় এক বর্ণনায় তিনি বলেন,) আমি একদিন আমাদের বাড়ির উপরে উঠেছিলাম। তখন দেখলাম যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু'টি ইটের ওপর বাইতুল মাকদিস-এর দিকে মুখ করে বসে আছেন।
[বুখারী, মুসলিম, ও অন্যান্য।]
كتاب الطهارة
(6) باب فى جواز ذلك فى البنيان
(124) عن ابن عمرو رضى الله عنهما قال رقيت (1) يوما فوق بيت حفصة فرأيت (2) رسول الله صلى الله عليه وسلم على حاجته مستقبل الشام مستدبر القبلة (وعنه من طريق ثان بلفظ) (3) لقد ظهرت (4) ذات يوم على ظهر بيتنا فرأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم قاعدا على لبنتين (5) مستقبلا بيت المقدس.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৫
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ (৬) পরিচ্ছেদ: গৃহের মধ্যে কিবলাহকে সামনে বা পিছনে রেখে মলমূত্র ত্যাগ জায়িয হওয়া প্রসঙ্গে
(১২৫) তাঁর (আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) থেকে) আরও বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দুইটি ইটের উপরে কিবলাহর দিকে মুখ করে প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে দেখেছি।
[বাইহাকী, ইবন মাজাহ। হাদীসটির সনদ কিছুটা দুর্বল।]
كتاب الطهارة
(6) باب فى جواز ذلك فى البنيان
(125) وعنه ايضا قال رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يتخلى على لبنتين مستقبل القبلة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৬
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ (৬) পরিচ্ছেদ: গৃহের মধ্যে কিবলাহকে সামনে বা পিছনে রেখে মলমূত্র ত্যাগ জায়িয হওয়া প্রসঙ্গে
(১২৬) আবু কাতাদাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কিবলাহ-এর দিকে মুখ করে পেশাব করতে দেখেছেন।
ইবন মাজাহ। হাদীসটির সনদ দুর্বল।
টীকাঃ প্রথম অনুচ্ছেদের হাদীসগুলো থেকে জানা যায় যে, মলমূত্র ত্যাগের সময় কিবলাহর দিকে মুখ করার বা পিছন ফেরা উভয়ই নিষিদ্ধ। অপরদিকে পরবর্তী হাদীসগুলো থেকে বিষয়টি বৈধ বলে জানা যায়। উভয় অর্থের হাদীসগুলোর মধ্যে সমন্বয় প্রদানের ক্ষেত্রে ফকীহগণের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ইমাম মালিক, ইমাম শাফিয়ী ও অন্যান্য অনেক ফকীহ্ বলেন, নিষেধ জ্ঞাপক হাদীসগুলোর অর্থ হলো, ফাঁকা মাঠে, মরুভূমিতে বা খোলা প্রান্তরে মলমূত্র ত্যাগের সময় কিবলামুখি হওয়া বা কিবলাকে পিছনে রাখা নিষিদ্ধ। অপরদিকে অনুমতি জ্ঞাপক হাদীসগুলোর ওপর ভিত্তি করে তাঁরা বলেন যে, গৃহ বা শৌচাগারের মধ্যে মলমূত্র ত্যাগ করার ক্ষেত্রে কিবলামুখী হওয়া বৈধ।
ইমাম আবু হানীফা, ইমাম আহমদ (রা) ও অন্যান্য অনেক ফকীহ নিষেধাজ্ঞাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তাঁদের মতে, প্রান্তরে বা গৃহাভ্যন্তরে সকল ক্ষেত্রেই মলমূত্র ত্যাগের সময় কিবলাহ সামনে রাখা বা পিছনে রাখা নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা জ্ঞাপক হাদীসগুলোর সুস্পষ্ট অর্থ কিবলাহকে সম্মান করা। এক্ষেত্রে প্রান্তর বা ঘরের মধ্যে পার্থক্য নেই। বৈধতা জ্ঞাপক হাদীসগুলোর তাঁরা বিভিন্ন ব্যাখ্যা করেন। তাঁদের মতে, এ সকল হাদীস সবই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কর্ম ভিত্তিক। এ বিষয়ক নিষেধাজ্ঞা যেমন সুষ্পষ্ট, অনুমতি তেমন সুস্পষ্ট নয়। শুধুমাত্র জানা যায় যে, তিনি নিজে কখনো কখনো এ সময়ে কিবলাহকে পিছনে বা সামনে রেখেছেন। তাঁর নিজের কর্ম বিশেষ অনুমতির কারণে হতে পারে। এ জন্য সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার বিপরীতে এগুলোর উপর নির্ভর করার চেয়ে প্রান্তর ও গৃহাভ্যন্তর সকল স্থানে মলমূত্র ত্যাগের সময় কিবলাহকে সামনে বা পেছনে রাখা পরিত্যাগ করাই উত্তম ও সাবধানতামূলক।
كتاب الطهارة
(6) باب فى جواز ذلك فى البنيان
(126) عن أبي قتادة رضى الله عنه انه رأى النبى صلى الله عليه وسلم يبول مستقبلا القبلة، قال ابو عبدالرحمن (1) قال ابى ثنا اسحاق يعنى الطباع مثله قال اخبرنى ابو قتادة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৭
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ (৬) পরিচ্ছেদ: গৃহের মধ্যে কিবলাহকে সামনে বা পিছনে রেখে মলমূত্র ত্যাগ জায়িয হওয়া প্রসঙ্গে
(১২৭) উমর ইবন আবদুল আযীয (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি অমুক সময় থেকে কখনো নিজের গুপ্তাঙ্গকে কিবলাহমুখী করি নি। (কিবলাহর দিকে মুখ করে মলমূত্র ত্যাগ করি নি) তখন ইরাক ইবন মালিক বলেন, আয়িশা (রা) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন জানতে পারলেন যে, মানুষেরা মলমূত্র ত্যাগের সময় কিবলাহমুখী হওয়াকে অপছন্দ করছে (অপর বর্ণনায় আছে) আয়িশা (রা) বলেন, রাসূল (সা) তা হবে বললেন, সত্যিই কি লোকেরা তা অপছন্দ করছে? তখন তিনি তার শৌচাগারকে কিবলাহমুখী করার নির্দেশ প্রদান করেন।
ইবন মাজাহ। আবুল হাসান কাত্তান প্রমুখ মুহাদ্দিস হাদীসটিকে হাসান বা গ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন।
كتاب الطهارة
(6) باب فى جواز ذلك فى البنيان
(127) عن عمرو بن عبدالعزيز انه قال ما استقبلت القبلة بفرجى منذ كذا وكذا، فحدث عراك بن مالك عن عائشة رضى الله عنها ان النبى صلى الله عليه وسلم أمر بخلائه أن يستقبل القبلة لما بلغه ان الناس يكرهون ذلك (2) (وفى رواية) (3) قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم قد فعلوها؟ استقبلوا بمقعدتى (4) القبلة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৮
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ (৭) পরিচ্ছেদঃ ঢিলা ব্যবহার এর নিয়মাবলী এতে কয়েকটি অনুচ্ছেদ আছে

প্রথম অনুচ্ছেদ: ঢিলা ব্যবহারের আদব বা নিয়মাবলী
(১২৮) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি পাথর ব্যবহার করবে সে যেন তা বেজোড় সংখ্যায় ব্যবহার করে। যদি কেউ তা করে তাহলে ভাল, আর না করলেও অসুবিধা নেই। হাদীসটি ইতিপূর্বে উল্লেখিত এই অধ্যায়ের (১০৬ নং) হাদীসের অংশ।
كتاب الطهارة
(7) باب فيما جاء فى الاستجمار وآدابه وفيه

فصول
{الفصل الاول فى آدابه}
(128) عن ابى هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من استجمر (1)
فليوتر، ومن فعل فقد أحسن ومن لا فلا حرج
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২৯
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ (৭) পরিচ্ছেদঃ ঢিলা ব্যবহার এর নিয়মাবলী এতে কয়েকটি অনুচ্ছেদ আছে

প্রথম অনুচ্ছেদ: ঢিলা ব্যবহারের আদব বা নিয়মাবলী
(১২৯) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে আরও বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ওযু করবে সে যেন নাক পরিষ্কার করে এবং যে ব্যক্তি পাথর ব্যবহার করবে সে যেন বেজোড় সংখ্যা ব্যবহার করে।
[মুসলিম]
كتاب الطهارة
(7) باب فيما جاء فى الاستجمار وآدابه وفيه

فصول
{الفصل الاول فى آدابه}
(129) وعنه ايضا أن النبي صلى الله عليه وسلم قال من توضأ فلينثر (1) ومن استجمر فليوتر
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৩০
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ (৭) পরিচ্ছেদঃ ঢিলা ব্যবহার এর নিয়মাবলী এতে কয়েকটি অনুচ্ছেদ আছে

প্রথম অনুচ্ছেদ: ঢিলা ব্যবহারের আদব বা নিয়মাবলী
(১৩০) জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যদি তোমাদের কেউ পাথর ব্যবহার করে তাহলে সে যেন তা বেজোড় সংখ্যায় ব্যবহার করে।
كتاب الطهارة
(7) باب فيما جاء فى الاستجمار وآدابه وفيه

فصول
{الفصل الاول فى آدابه}
(130) عن جابر بن عبد الله رضى الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا استجمر احدكم فليوتر
{الفصل الثانى فى النهى عن الاستجمار بأقل من ثلاثة احجار}
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৩১
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তিনটির কম ঢিলা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা
(১৩১) সালমান ফারিসী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কতিপয় মুশরিক তাঁকে বলে, আমরা দেখছি যে, তোমাদের সাথী তোমাদেরকে শিক্ষা দেন, এমনকি তোমাদেরকে পায়খানা করতেও শেখান। সালমান বলেনঃ হ্যাঁ, তা তো বটেই। তিনি আমাদেরকে নিষেধ করেছেন, কেউ যেন তার ডান হাত শৌচকর্মে ব্যবহার না করে এবং কিবলাহর দিকে মুখ না করে। আর তিনি আমাদেরকে শৌচকর্মে গোবর-ঘুটে বা হাড় ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন এবং তিনি বলেছেন: তোমাদের কেউ যেন ঢিলাতে তিনটি পাথরের কম ব্যবহার না করে।
(মুসলিম ও অন্যান্য। পূর্বের ১২২ নং হাদীস দেখুন।)
كتاب الطهارة
الفصل الثانى فى النهى عن الاستجمار بأقل من ثلاثة احجار
(131) عن عبدالرحمن بن يزيد عن سليمان الفارسى رضى الله قال قال له المشركون إنا نرى صاحبكم يعلمكم حتى يعلمكم الخراءة قال أجل
-[النهي عن الاستجمار بأقل من ثلاثة احجار]-
إنه ينهانا أن يستنجى أحدنا بيمينه أو يستقبل القبلة وينهانا عن الروث والعظام وقال لا يستنجى أحدكم بدون ثلاثة احجار
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৩২
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তিনটির কম ঢিলা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা
(১৩২) জাবির ইবন্ আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যদি তোমাদের কেউ পাথর ব্যবহার করে তাহলে সে যেন তিনটি পাথর ব্যবহার করে।
[হাদীসটি এই শব্দে ইমাম আহমদই সংকলন করেছেন। হাদীসটির সনদ শক্তিশালী।]
كتاب الطهارة
الفصل الثانى فى النهى عن الاستجمار بأقل من ثلاثة احجار
(132) عن جابر بن عبدالله رضى الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا استجمر أحدكم فليستجمر ثلاثاً
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৩৩
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তিনটির কম ঢিলা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা
(১৩৩) খুযাইমাহ ইবন্ সাবিত আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসতিনজার (মলমূত্র ত্যাগের পরে পরিষ্কার হওয়ার) কথা উল্লেখ করেন। তখন তিনি বলেনঃ তিনটি পাথর ব্যবহার করবে, যেগুলির মধ্যে কোনো গোবর-ঘুটে থাকবে না।
(আবু দাউদ, ইবন মাজাহ। সনদ শক্তিশালী।)
كتاب الطهارة
الفصل الثانى فى النهى عن الاستجمار بأقل من ثلاثة احجار
(133) عن خزيمة بن ثابت الانصارى رضى الله عنه ان النبي صلى الله عليه وسلم ذكر الاستطابة (1) (وفى رواية الاستنجاء) فقال ثلاثة احجار ليس فيها رجيع
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৩৪
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তিনটির কম ঢিলা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা
(১৩৪) আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যদি প্রাকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যায় তাহলে যেন সে তিনটি পাথর ব্যবহার করে পরিচ্ছন্নতা অর্জন করে। তিনটি পাথরই তার জন্য যথেষ্ট।
[আবু দাউদ, নাসাঈ। দারুকুতনী বলেছেন, হাদীসটির সনদ সহীহ।]
كتاب الطهارة
الفصل الثانى فى النهى عن الاستجمار بأقل من ثلاثة احجار
(134) عن عائشة رضى الله عنها قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا ذهب احدكم للحاجة فليستطب بثلاثة أحجار فإنها تجزئه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৩৫
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তিনটির কম ঢিলা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা
(১৩৫) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদের পিতার মত, আমি তোমাদেরকে শিক্ষা দান করি। যখন তোমাদের কেউ নির্জন স্থানে (শৌচাগারে) গমন করবে, সে যেন কিবলাহকে সামনে বা পিছনে না রাখে। আর তোমাদের কেউ যেন তিনটি পাথরের কমে পরিচ্ছন্নতা অর্জন না করে।
(শাফিয়ী, নাসাঈ, ইবন্ হিব্বান। ইমাম মুসলিম (র) হাদীসটি সংক্ষিপ্তাকারে সংকলন করেছেন।)
كتاب الطهارة
الفصل الثانى فى النهى عن الاستجمار بأقل من ثلاثة احجار
(135) عن ابى هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إنما
أنا لكم مثل الوالد أعلمكم فإذا أتى احدكم الخلاء فلا تستقبلوها ولا تستدبروها ولا يستنجى احدكم بدون ثلاثة احجار
الفصل الثالث فيما يجوز الاستجمار به وما لا يجوز
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৩৬
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ: কোন্ কোন্ দ্রব্য ঢিলা হিসাবে ব্যবহার করা বৈধ ও কোন্ কোন্ দ্রব্য ব্যবহার করা বৈধ নয়
(১৩৬) আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর প্রাকৃতিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য বের হন। তখন তিনি আমাকে বললেনঃ আমাকে তিনটি পাথর এনে দাও। আমি দুইটি পাথর ও এক টুকরা গোবর এনে দিলাম। তিনি পাথর দুটি নিলেন এবং গোবরের টুকরাটি ফেলে দিলেন এবং বললেন, এটা অপবিত্র ও নোংরা।
তাঁর থেকে দ্বিতীয় বর্ণনায় আছে, তিনি (ইবন মাসউদ (রা)) বলেনঃ তিনি আমাকে বললেন, আমাকে ইসতিন্‌জার জন্য কিছু এনে দাও, তবে কোনো গোবর এবং পুরাতন (শুকনো) হাড় আমার কাছে আনবে না। (প্রথম বর্ণনা বুখারী (র) ও অন্যান্য মুহাদ্দিস সংকলন করেছেন। দ্বিতীয় বর্ণনা ইবন্ খুযাইমাহ সংকলন করেছেন।
كتاب الطهارة
الفصل الثالث فيما يجوز الاستجمار به وما لا يجوز
(136) عن ابن مسعود رضى الله عنه قال خرج النبى صلى الله عليه وسلم لحاجته فقال التمس إلى ثلاثة احجار قال فأتيته بحجرين وروثة (1) قال فأخذ الحجرين والقى الروثة وقال انها ركس (2) (وعنه من طريق ثان) (3) فقال ائتني
بشيء أستنجي به ولا تقربني حائلا 1 ولا رجيعا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৩৭
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ: কোন্ কোন্ দ্রব্য ঢিলা হিসাবে ব্যবহার করা বৈধ ও কোন্ কোন্ দ্রব্য ব্যবহার করা বৈধ নয়
(১৩৭) আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিনদের রাত্রিতে (যে রাত্রে তিনি জিনদের সাথে সমবেত হয়েছিলেন সে রাত্রে) তিনি আমার নিকট আগমন করেন। তখন তাঁর সাথে এক টুকরো পুরাতন হাড়, এক টুকরো গোবর ও এক টুকরো কয়লা ছিল। তিনি বললেন, যখন নির্জন স্থানে (মল-মূত্র ত্যাগে) গমন করবে তখন পরিষ্কার হওয়ার জন্য এগুলির কোনো কিছু ব্যবহার করবে না। (তাবারানী।)
كتاب الطهارة
الفصل الثالث فيما يجوز الاستجمار به وما لا يجوز
(137) وعنه أيضا أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أتاه ليلة الجن ومعه عظم حائل وبعرة 2 وفحمة فقال لا تستنجين بشيء من هذا إذا خرجت إلى الخلاء
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৩৮
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ: কোন্ কোন্ দ্রব্য ঢিলা হিসাবে ব্যবহার করা বৈধ ও কোন্ কোন্ দ্রব্য ব্যবহার করা বৈধ নয়
(১৩৮) জাবির ইবন্ আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গোবর-ঘুটে বা হাড় দিয়ে ইসতিন্‌জা করতে নিষেধ করেছেন।
(মুসলিম ও অন্যান্য)
كتاب الطهارة
الفصل الثالث فيما يجوز الاستجمار به وما لا يجوز
(138) عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى أن يستنجى ببعرة أو بعظم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৩৯
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ: কোন্ কোন্ দ্রব্য ঢিলা হিসাবে ব্যবহার করা বৈধ ও কোন্ কোন্ দ্রব্য ব্যবহার করা বৈধ নয়
(১৩৯) আলকামাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা)-কে প্রশ্ন করলাম, জিনদের রাত্রিতে আপনাদের কেউ কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ছিলেন? তিনি বলেন, আমাদের কেউই তাঁর সাথে ছিল না। তবে আমরা একরাত্রে তাঁকে হারিয়ে ফেলি। তখন আমরা বলতে থাকি, তাঁকে কি গোপনে হত্যা করা হয়েছে? না কি তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে? তাঁর কি হলো? এভাবে (কঠিন দুশ্চিন্তা ও নানাবিধ দুর্ভাবনার মধ্যে) আমরা সবচেয়ে খারাপ ও কষ্টকর একটি রাত্রি কাটালাম। যখন প্রভাত হচ্ছিল, অথবা তিনি বলেন, রাতের শেষ প্রহরে আমরা হঠাৎ তাঁকে হেরা পাহাড়ের দিক থেকে আসতে দেখলাম। তখন আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি! এরপর আমরা কি ভয়ানক দুশ্চিন্তার মধ্যে রাত কাটিয়েছি তা তাঁকে জানালাম। তিনি বলেন, জিনদের পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি আমাকে ডাকে। তখন আমি তাদের নিকট গমন করি এবং তাদেরকে কুরআন পাঠ করে শুনাই। এরপর তিনি আমাকে সাথে নিয়ে বেরিয়ে যান এবং তাদের পরিত্যক্ত চিহ্ন ও তাদের আগুনের চিহ্ন আমাকে দেখালেন। তিনি বলেনঃ শা'বী বলেন, তারা তাঁর কাছে তাদের খাবার সম্বন্ধে প্রশ্ন করেন, ইবন আবু যায়িদা বলেন, আমির বলেছেন, সেই রাতে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে তাদের খাদ্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তারা ছিল উপদ্বীপের জিনদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি তাদেরকে বলেন, জবাইয়ের সময় আল্লাহর নাম যিকির করা হয়েছে এরূপ যে কোনো পশুর হাড় তোমাদের খাদ্য, যত বেশি মাংসই তাতে থাক। আর সকল গোবর বা ঘুটো তোমাদের পশুদের খাদ্য। (তিনি সাহাবীগণকে বলেন) কাজেই তোমরা এগুলো দিয়ে ইসতিনজা করবে না। কারণ এগুলি তোমাদের জিন ভাইদের খাদ্য। [মুসলিম ও অন্যান্য)
كتاب الطهارة
الفصل الثالث فيما يجوز الاستجمار به وما لا يجوز
(139) حدثنا عبد الله حدثني أبي ثنا إسماعيل أنا داود وابن أبي زائدة المعنى قالا ثنا داود عن الشعبي عن علقمة قال قلت لابن مسعود (رضي الله عنه) هل صحب رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة الجن منكم أحد فقال ما صحبه منا أحد ولكنا قد فقدناه ذات ليلة فقلنا اغتيل 3 استطير، ما فعل، قال فبتنا
بشر ليلة بات بها قوم فلما كان في وجه الصبح أو قال في السحر إذا نحن به يجيء من قبل حراء فقلنا يا رسول الله فذكروا الذي كانوا فيه فقال إنه أتاني داعي الجن 1 فأتيتهم فقرأت عليهم، قال فانطلق بنا فأراني آثارهم وآثار نيرانهم قال وقال الشعبي سألوه الزاد، قال ابن أبي زائدة قال عامر فسألوه ليلتئذ الزاد كانوا من جن الجزيرة 2 فقال كل عظم ذكر اسم الله عليه يقع في أيديكم أوفر ما كان عليه لحما، وكل بعرة أو روثة علف لدوابكم، فلا تستنجوا بهما فإنهما زاد إخوانكم من الجن
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৪০
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ (৮) পরিচ্ছেদ: পানি দ্বারা ইসতিনজা করার বিধান এবং ডান হাত দ্বারা শুপ্তাঙ্গ স্পর্শ করা ও ইসতিনজা করা নিষেধ
(১৪০) আবু কাতাদাহ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পানপাত্রের মধ্যে নিঃশ্বাস ফেলতে, ডান হাত দিয়ে যৌনাঙ্গ স্পর্শ করতে এবং ডান হাত দিয়ে ইসতিনজা করতে নিষেধ করেছেন।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
كتاب الطهارة
(8) باب في الاستنجاء بالماءو النهي عن مس الذكر باليمين والاستنجاء بها
(140) عن أبي قتادة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى أن يتنفس في الإناء أو يمس ذكره بيمينه أو يستطيب 1 بيمينه