মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

৬. পবিত্রতা অর্জন - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৫৬২ টি

হাদীস নং: ২২১
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ (৫) পরিচ্ছেদ রাসূল (সা)-এর ওযুর বর্ণনা। এতে কয়েকটি অনুচ্ছেদ রয়েছে

প্রথম অনুচ্ছেদ: এতদসংক্রান্ত উসমান ইবন্ আফফান (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহ
(২২১) 'আতা উসমান ইবন আফফান (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি রাসূল (সা)-কে ওযু করতে দেখেছি। তিনি ওযু করতে গিয়ে তাঁর মুখমণ্ডল ধুইলেন তিনবার। হাত ধুইলেন তিনবার এবং মাথা মাসেহ করলেন ও পা দু'টি ভাল করে ধুইলেন।
[যা বর্ণ দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে, এ হাদীসটি ইমাম আহমদের ছেলে আবদুল্লাহ কর্তৃক মুসনাদে সংযোজিত।]
[আল্লামা আবদুর রহমান আল বান্না বলেন, এ হাদীসের সনদ নির্ভরযোগ্য। তবে অন্য কোথাও এ হাদীসটি পাই নি।]
كتاب الطهارة
(5) باب في صفة وضوء النبي صلى الله عليه وآله وسلم وفيه فصول


(الفصل الأول فيما روى في ذلك عن عثمان بن عفان رضي الله عنه)
(221) ز عن عطاء (1) عن عثمان بن عفَّان رضي الله عنه قال رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم توضَّأ فغسل وجهه ثلاثًا ويديه ثلاثًا ومسح برأسه وغسل رجليه غسلًا.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২২
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদঃ এতদসংক্রান্ত আলী (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহ
(২২২) আবদুল্লাহ বলেন, আমাকে আমার পিতা হাদীসটি বলেছেন, তিনি আবদুর রহমান ইবন্ মাহদী থেকে আল যায়েদা ইবন্ কুদামা থেকে, তিনি খালিদ ইবন্ আলকামা থেকে, তিনি তাবেয়ী আবদু খাইর বলেন, আলী (রা) কুফার "রাহাবা" নামক স্থানে ফজরের সালাত আদায়ের পর বসলেন। অতঃপর তাঁর গোলামকে বললেন, আমাকে পবিত্র হবার পানি দাও। তখন গোলাম এক পাত্র পানি ও একটা তস্তরী (বড় গামলা) নিয়ে আসলেন। আবদু খাইর বলেন, আমরা বসে বসে তাঁকে দেখছিলাম। তখন তিনি তাঁর ডান হাতে পাত্রটি নিলেন। অতঃপর তা বাম হাতের ওপর কাত করলেন। তারপর হাত দু'টি কবজী পর্যন্ত ধুইলেন। অতঃপর তাঁর ডান হাত দ্বারা পাত্রটি নিলেন এবং তা থেকে বাম হাতের ওপর পানি ঢাললেন। তারপর তাঁর হাত দু'টি কবজী পর্যন্ত ধুইলেন। এভাবে তিনবার করলেন। আবদু খাইর বলেন, এসব করার সময় তিনি তাঁর হাত পানির পাত্রের মধ্যে ঢুকালেন না তিনবার তা না ধোয়া পর্যন্ত। অতঃপর তাঁর ডান হাত পানির পাত্রে ঢুকালেন না, তিনবার তা না ধোয়া পর্যন্ত। অতঃপর তার ডান হাত পানির পাত্রে ঢুকালেন, তারপর (পানি নিয়ে) কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন এবং বাম হাত দ্বারা নাক পরিষ্কার করলেন। এ রকম তিনবার করলেন।
(অপর এক বর্ণনায় আছে, অতঃপর তিনবার কুলি করলেন ও তিনবার নাকে পানি দিলেন একই হাতের পানি দ্বারা) অতঃপর তাঁর ডান হাত পাত্রে ঢুকালেন (তা থেকে পানি নিয়ে) তিনবার মুখমণ্ডল দুইলেন। তারপর ডান হাত ধুইলেন কনুই পর্যন্ত তিনবার। তারপর বাম হাত ধুইলেন কনুই পর্যন্ত তিনবার। অতঃপর ডান হাত পানিতে ঢুকালেন পরিপূর্ণভাবে। তাঁরপর সে হাত পানি সমেত তুললেন তারপর তাঁর বাম হাত দ্বারা তা মুছলেন। তারপর তাঁর উভয় হাত দ্বারা একবার মাথা মাসাহ করলেন। অপর এক বর্ণনায় আছে, তিনি তাঁর মাথার সামনের দিক থেকে আরম্ভ করে শেষের দিকে গেলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জানি না তা সামনের দিকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসছিলেন কিনা? তারপর তাঁর ডান হাত দ্বারা তিনবার পানি ঢাললেন তাঁর ডান পায়ের উপর। তারপর তা বাম হাত দ্বারা ধুইলেন। অতঃপর ডান হাত দ্বারা বাম পায়ের উপর পানি ঢাললেন এবং তা তাঁর বাম হাত দ্বারা ধুইলেন তিনবার। অতঃপর ডান হাত আবার পানিতে ঢুকালেন এবং অঞ্জলীভরে পানি নিয়ে তা পান করলেন। (অপর এক বর্ণনায় তিনি তাঁর ওযূর পানির উচ্ছিষ্টটুকু পান করলেন।) তারপর বললেন, এই হলো আল্লাহর নবী (সা)-এর পবিত্র নিয়ম। যদি কেউ আল্লাহর নবী (সা)-এর পবিত্রতার নিয়ম দেখতে চায় তাহলে এই তাঁর পবিত্রতা অর্জনের নিয়ম।
(আবূ দাউদ, নাসাঈ, দারু কুতনী, দারিমী কর্তৃক বর্ণিত। এ হাদীসের সনদ নির্ভরযোগ্য। হাফিজ ইবনু হাজার হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।)
كتاب الطهارة
الفصل الثاني فيما روى في ذلك عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه
(222) حدثنا عبد الله حدَّثني أبي ثنا عبد الرَّحمن (بن مهدي) ثنا زائدة ابن قدامة عن خالد بن علقمة ثنا عبد خيرٍ قال جلس عليُّ رضي الله عنه بعدما صلَّى الفجر في الرَّحبة (2) ثمَّ قال لغلامه ائتني بطهور فأتاه الغلام بإناءٍ فيه ماء وطستٍ (3) قال عبد خير ونحن جلوسٌ ننظر إليه فأخذ بيمينه الإنا فأكفأه على يده اليسيرى ثمَّ غسل كفيه ثمَّ أخذ بيده اليمنى الإناء فأفرغ على يده اليسرى ثمَّ غسل كفَّيه، فعله ثلاث مرارٍ، قال عبد خير كل ذلك لا يدخل يده في الإناء حتَّى يغسلها ثلاث مرَّاتٍ ثم أدخل يده اليمنى في الإناء فمضمض
واستنشق ونثر بيده اليسرى فعل ذلك ثلاث مرَّاتٍ (وفي رواية فتمضمض ثلاثًا واستنشق ثلاثًا من كفٍ واحدٍ) ثمَّ أدخل يده اليمنى في الإناء فغسل وجهه ثلاث مرَّات ثمَّ غسل يده اليمنى ثلاث مرَّاتٍ إلى المرفق ثمَّ غسل يده اليسرى ثلاث مرَّاتٍ إلى المرفق ثمَّ أدخل يده اليمنى في الإناء حتَّى غمرها الماء ثمَّ رفعها بما حملت من الماء ثمَّ مسحها بيده اليسرى ثمَّ مسح رأسه بيديه كلتيهما مرَّة (وفي روايةٍ فبدأ بمقدَّم رأسه إلى مؤخره، قال الرَّاوي ولا أدري أرد يده أم لا) ثمَّ صبَّ بيده اليمنى ثلاث مرَّات على قدمه اليمنى ثم غسلها بيده اليسرى ثمَّ صبَّ بيده اليمنى على قدمه اليسرى ثمَّ غسلها بيده اليسرى ثلاث مرَّات ثمَّ أدخل يده اليمنى فغرف بكفِّه فشرب (وفي روايةٍ وشرب فضل وضوئه) ثمَّ قال هذا طهور نبيِّ الله صلى الله عليه وسلم فمن أحبَّ أن ينظر إلى طهور نبي الله صلى الله عليه وسلم فهذا طهوره.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৩
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদঃ এতদসংক্রান্ত আলী (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহ
(২২৩) আবদুল মালিক ইবন্ সিলয়া থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদু খাইর আমাদের ফজরের সালাতে ইমামতী করতেন। তিনি বলেন, একদিন আমি আলী (রা)-এর পিছনে ফজরের সালাত পড়লাম। সালাম ফিরাবার পর তিনি দাঁড়ালেন। আমরাও তাঁর সাথে দাঁড়ালাম। তিনি হাঁটতে হাঁটতে "রাহবা" নামক স্থান পর্যন্ত এসে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে বসলেন। অতঃপর মাথা উঠালেন ও বললেন, হে কুম্বর! আমার জন্য পানির পাত্র ও তস্তরী নিয়ে আস। অতঃপর তাঁকে বললেন, পানি ঢাল, সে পানি ঢালল। তখন তিনি তার হাত কবজী পর্যন্ত ধুইলেন তিনবার। (এভাবে পূর্বের হাদীসের মত বাকি কথাগুলো সংক্ষিপ্তকারে বললেন এবং শেষে বললেন) এই হল রাসূল (সা)-এর ওযু।
আবদু খাইর থেকেই অপর এক বর্ণনায় আছে। আমাদেরকে আলী (রা) রাসূল (সা)-এর ওযুর নিয়ম পদ্ধতি শিখিয়েছেন। তাতে আছে, গোলাম তাঁর দু'হাতের ওপর পানি ঢাললেন। তিনি এতদুভয়কে ভাল করে পরিষ্কার করলেন। এভাবে তিনি তাঁর ওযুর বর্ণনা দিয়ে বলেন, অতঃপর পাত্রে নিজের হাত ঢুকালেন এবং তার তলা পর্যন্ত নিজের হাত দ্বারা স্পর্শ করলেন। তারপর হাত বের করলেন, তারপর ঐ হাত দ্বারা অপর হাত মুছলেন। অতঃপর দু'হাত দ্বারা নিজের মাথা মাসাহ করলেন একবার। তারপর গোড়ালীর উপর গিরা বা টাখনু পর্যন্ত তিনবার করে দু'পা ধুইলেন। অতঃপর এক অঞ্জলী পানি নিয়ে পান করলেন। তারপর বললেন, এভাবেই রাসূল (সা) ওযু করতেন।
[এ হাদীসের উভয় বর্ণনা পূর্বের হাদীসের মতই সহীহ। তবে প্রথম বর্ণনাটি আবদুল্লাহর সংযোজিত।]
كتاب الطهارة
الفصل الثاني فيما روى في ذلك عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه
(223) ز عن عبد الملك بن سلعٍ قال كان خبر خير يؤمُّنا في الفجر
فقال صليَّت يرما الفجر خلف عليٍ رضي الله عنه فلمَّا سلَّم قام وقمنا معه فجاء يمشي حتَّى انتهى إلى الرَّحبة فجلس وسند ظهره إلى الحائط ثمَّ رفع رأسه فقال يا قنبر أئتني بالرَّكوة (1) والطَّست ثم قال له صب فصبَّ عليه فغسل كفَّه ثلاثًا (فذكر نحو الحديث السَّابق مختصرا وفي آخره) فقال هذا وضوء رسول الله صلى الله عليه وسلم (ومن طريق ثان (2) عن عبد خير أيضًا) قال علَّمنا عليٌّ رضي الله عنه وضوء رسول الله صلى الله عليه وسلم وسب الغلام على يديه حتى أنفاهما "ووصف وضوءه" إلى أن قال "ثمَّ أدخل يده في الرَّكوة فغمز أسفلها بيده ثمَّ أخرجها فمسح بها الأخرى ثمَّ مسح بكفَّيه رأسه مرَّةً ثمَّ غسل رجليه إلى الكعبين ثلاثًا ثلاثًا ثمَّ اغترف حفنةً من ماءٍ بكفِّه فشربه ثم قال هكذا كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتوضَّأ.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৪
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদঃ এতদসংক্রান্ত আলী (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহ
(২২৪) ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আলী (রা) আমার বাড়িতে প্রবেশ করলেন। তখন তিনি ওযুর পানি চাইলেন। তখন তার জন্য একটা ছোট্ট পাত্রে পানি আনা হল। যাতে এক মুদ্দ বা তার কাছাকাছি পরিমাণ পানি ধরে। পাত্রটি তাঁর সামনে রাখা হল। ইতিমধ্যে তিনি পেশাব সেরে নিয়েছেন। তারপর বললেন, হে ইবন্ আব্বাস! আমি কি তোমাকে রাসূল (সা)-এর ওযু করে দেখাব? আমি বললাম, হ্যাঁ অবশ্যই। আমার মা বাবা আপনার জন্য কুরবান হোক। তিনি বলেন, তখন তাঁর সামনে পাত্রটি রাখা হল তখন তিনি (প্রথমে) তাঁর হাত দু'টি ধুইলেন। তারপর কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন। এবং নাক পরিষ্কার করলেন। তারপর দু'হাতে পানি নিয়ে এতদুভয় দ্বারা তাঁর মুখমণ্ডল ঘষলেন। আর দু' হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল তাঁর কানের সামনের দিকে বুলালেন। তিনি বলেন, অতঃপর এরূপ তিনবার পুনরাবৃত্তি করলেন। তারপর ডান হাতে এক অঞ্জলী পানি নিলেন এবং তা তাঁর মাথার সামনের অংশে ঢেলে দিলেন এবং তা মুখমণ্ডলের উপর দিয়ে বয়ে যেতে দিলেন। তারপর কনুই পর্যন্ত ডান হাত তিনবার ধুইলেন। অতঃপর বাম হাতও অনুরূপ ধুইলেন। অতঃপর মাথা ও উভয় কান পিছনের দিকে মাসেহ করলেন। অতঃপর দু'হাতে অঞ্জলীভরে পানি নিলেন এবং তা দ্বারা ঘষে ঘষে উভয় পা ধুইলেন। তখন উভয় পায়ে সেন্ডেল ছিল। অতঃপর হাত দ্বারা পালটালেন। অতঃপর দ্বিতীয় পাও অনুরূপ ধুইলেন। তিনি বলেন, আমি বললাম, সেন্ডেল সমেত? তিনি বললেন হ্যাঁ, সেন্ডেল সমেত। আমি বললাম, সেন্ডেল সমেত? তিনি বললেন, সেন্ডেল সমেত। আমি বললাম, সেন্ডেল সমেত। তিনি বললেন, সেন্ডেল সমেত।
[আবু দাউদ, ইবনে হিব্বান ও বাযযার কর্তৃক বর্ণিত। তিরমিযী বলেন, আমি এ হাদীস সম্বন্ধে ইমাম বুখারীকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি হাদীসটি দুর্বল বলে মন্তব্য করলেন।]
كتاب الطهارة
الفصل الثاني فيما روى في ذلك عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه
(224) عن ابن عباسٍ رضي الله عنهما قال دخل عليٌّ رضي الله تعالى عنه على بيتي فدعا بوضوءٍ فجئنا بعقبٍ (3) يأخذ المدَّ أو قريبه حتى وضع بين يديه وقد بال فقال يا بن عبَّاس ألا أتوضَّأ لك وضوء رسول الله صلى الله عليه وسلم قلت بلى فداك أبي وأمسى قال فوضع له إناءٌ فغسل يديه ثمَّ مضمض واستنشق وستنثر ثمَّ
أخذ بيديه فصكَّ بهما وجهه وألقم إبهاميه- ما أقبل من أذنيه قال ثم عاد في مثل ذلك ثلاثًا ثمَّ أخذ كفَّا من ماءٍ بيده اليمنى فأفرغها على ناصيته ثمَّ أرسلها تسيل على وجهه ثمَّ غسل يده اليمنى إلى المرفق ثلاثًا ثمَّ يده الأخرى مثل ذلك ثمَّ مسح برأسه وأذنيه من ظهورهما ثمَّ أخذ بكفَّيه من الماء فصكَّ بهما على قدميه وفهما النَّعل ثم قلبها (1) بها ثمَّ على الرَّجل الأخرى مثل ذلك، قال فقلت وفي النَّعلين (2) قال وفي النَّعلين، قلت وفي النَّعلين؟ قال وفي النعلين قلت وفي النَّعلين قال وفي النَّعلين.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৫
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদঃ এতদসংক্রান্ত আলী (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহ
(২২৫) আবু মাতার (রা) থেকে বর্ণিত, একবার আমরা আমীরুল মু'মিনীন আলী (রা)-এর সাথে বসাছিলাম "রাহাবা" নামক বৈঠকখানার দরজার সামনে। তখন এক লোক এসে বললেন, আমাকে রাসূল (সা)-এর ওযু কিরূপ ছিল দেখান। তখন সূর্য মধ্য গগণে। তখন তিনি কুম্বরকে ডাকলেন এবং বললেন, আমাকে এক বদনা পানি দাও। তখন তিনি তাঁর হাত দু'টি কবজী পর্যন্ত এবং মুখমণ্ডল তিনবার করে ধুইলেন আর তিনি তিনবার কুলি করলেন এবং তখন তিনি হাতের কোন আঙ্গুলী মুখে প্রবেশ করান এবং তিনবার নাকে পানি দিলেন। তারপর হাত দু'টি (কনুই পর্যন্ত) তিনবার ধুইলেন। অতঃপর একবার মাথা মাসেহ করলেন এবং বললেন, মাথার বের (সামনের) অংশটা মুখ মণ্ডল, আর বাইরের (পিছনের) অংশটা মাথার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। তারপর পা দু'টি টাখনুর গিরা পর্যন্ত ধুইলেন তিনবার। তাঁর দাড়ি তাঁর বক্ষ পর্যন্ত ঝুলেছিল। অতঃপর ওযু সমাপ্ত করে এক আঁজলা পানি পান করলেন। তারপর বললেন, রাসূল (সা)-এর ওযু সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাকারী কোথায়। রাসূল (সা)-এর ওযূ এরূপই ছিল।
[আবদুর রহমান আল বান্না বলেন, এ হাদীসটি আমি মুসনাদে আহমদ ছাড়া অন্য কোথাও দেখি নি। এর সনদ নির্ভরযোগ্য।]
كتاب الطهارة
الفصل الثاني فيما روى في ذلك عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه
(225) عن أبي مطرٍ قال بينا نحن جلوسٌ مع أمير المؤمنين عليٍّ رضي الله عنه في المسجد على باب الرَّحبة جاء رجلٌ فقال أرني وضوء رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو عند الزَّوال فدعا قنبرًا فقال ائتني بكوزٍ من ماءٍ فغسل كفَّيه ووجهه ثلاثًا وتمضمض ثلاثًا فأدخل بعض أصابعه في فيه واستنشق ثلاثًا وغسل
ذراعيه ثلاثًا ومسح رأسه واحدةً فقال داخلها (1) من الوجه وخارجها من الرأس، ورجليه إلى الكعبين ثلاثًا ولحيته تهطل على صدره ثم حساسوةً (2) بعد الوضوء فقال أين السَّائل عن وضوء رسول الله صلى الله عليه وسلم كذا كان وضوء نبي الله صلى الله عليه وسلم.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৬
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদঃ এতদসংক্রান্ত আলী (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহ
(২২৬) নাযযাল ইবন সাবরা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী (রা)-এর কাছে এক বদনা পানি আনা হল। তখন তিনি 'রাহাবা' নামক বৈঠকখানায় ছিলেন। তখন তিনি এক আঁজলা পানি নিলেন তারপর কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন এবং মুখমণ্ডল, দু'হাত ও মাথা মাসেহ করলেন। অতঃপর দাঁড়িয়ে পানি পান করলেন। তারপর বললেন, যাদের হাদছ হয় নি (অর্থাৎ ওযূ আছে) এটা তাদের ওযু। আমি রাসূল (সা)-কে এরূপ করতে দেখেছি।
[বুখারী, নাসাঈ, তিরমিযী]
كتاب الطهارة
الفصل الثاني فيما روى في ذلك عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه
(226) عن النَّزَّال بن سبرة قال أتى عليٌّ رضي الله عنه بكوزٍ من ماءٍ وهو في الرَّحبة فأخذ كفًّا من ماء فمضمض واستنشق ومسح وجهه وذراعيه ورأسه ثمَّ شرب وهو قائمٌ ثم قال هذا وضوء من لم يحدث (1) هكذا رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فعل
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৭
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদঃ এতদসংক্রান্ত আলী (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহ
(২২৭) রিবঈ ইবন্ হিরাশ থেকে বর্ণিত। আলী ইবন আবু তালিব (রা) একবার "রাহাবা" নামক স্থানে খোতবা দিলেন। তিনি প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা করলেন, তারপর নবী (সা)-এর ওপর দরূদ পাঠ করলেন, অতঃপর আল্লাহ যা চাইলেন তা বললেন। অতঃপর এক বদনা পানি চাইলেন। তারপর তা দ্বারা কুলি করলেন ও মাসেহ করলেন তারপর বদনার বাকি পানি পান করলেন।
(অপর এক বর্ণনায় আছে, পবিত্র হবার পর বাকি পানি পান করলেন) দাঁড়ানো অবস্থায়। এরপর বললেন, আমি শুনেছি যে, তোমাদের মধ্যে কোন কোন লোক নাকি দাঁড়িয়ে পানি পান করাকে মাকরূহ মনে করে। এই হলো যার হাদছ করে নি তাদের ওযু। আমি রাসূল (সা)-কে এরূপ করতে দেখেছি।
[বুখারী, নাসাঈ ও তিরমিযী কর্তৃক বর্ণিত।]
كتاب الطهارة
الفصل الثاني فيما روى في ذلك عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه
(227) ز عن ربعيِّ بن حراشٍ أنَّ عليَّ بن أبي طالبٍ رضي الله عنه قام خطيبًا في الرَّحبة فحمد الله وأثنى عليه ثمَّ قال ما شاء الله أن يقُّول ثم دعا بكوزٍ من ماءٍ فتمضمض منه وتمسَّح وشرب فضل كوزه (وفي روايةٍ طهوره) وهو قائمٌ ثم قال بلغني أنَّ الرجل منكم يكره أن يشرب وهو قائمٌ وهذا وضوء من لم يحدث ورأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فعل هكذا.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৮
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদঃ এতদসংক্রান্ত আলী (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহ
(২২৮) আবদু খাইর থেকে, তিনি আলী (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি এক বদনা পানি চাইলেন। অতঃপর বললেন, যারা দাঁড়িয়ে পানি পান করাই মাকরূহ মনে করে তারা কোথায়? তিনি বলেন, অতঃপর তিনি বদনাটি নিয়ে দাঁড়িয়ে পান করলেন। অতঃপর হালকা ওযু করলেন এবং তার দু'জুতার ওপর মাসেহ করলেন। তারপর বললেন, পবিত্র ব্যক্তিদের জন্য হাদছ না করা পর্যন্ত (ওযু নষ্ট না হওয়া পর্যন্ত) এটাই ছিল রাসূল (সা)-এর ওযুর নমুনা।
[বুখারী ও আবু দাউদ কর্তৃক সংকলিত।]
كتاب الطهارة
الفصل الثاني فيما روى في ذلك عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه
(228) عن عبد خيرٍ عن عليٍّ رضي الله عنه أنَّه دعا بكوزٍ من ماءٍ ثم قال أين هؤلاء الَّذين يزعمون أنهم يكرهون الشُّرب قائمًا قال فأخذه فشرب وهو قائمٌ ثمَّ توضَّأ وضوءاً خفيفا ومسح على نعليه ثمَّ قال هكذا وضوء رسول الله صلى الله عليه وسلم للطَّاهر ما لم يحدث.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৯
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আলী ও উসমান (রা) ব্যতীত অন্যান্য সাহাবীদের থেকে বর্ণিত এতদসংক্রান্ত হাদীসসমূহ
(২২৯) আবদুর রহমান ইবন আবু কুরাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (সা)-এর সাথে হজ্জে গিয়েছিলাম। তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা)-কে একবার দেখলাম প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হয়েছেন। তখন আমি পানির পাত্র বা পেয়ালা নিয়ে তাঁর অনুসরণ করলাম। রাসূল (সা)-এর অভ্যাস ছিল যখন তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজন মেটাবার ইচ্ছা করতেন তখন দূরে চলে যেতেন। তখন আমি তাঁর অপেক্ষায় রাস্তায় বসে থাকলাম। রাসূল (সা) যখন ফিরে আসলেন তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ওযু করবেন কি? তিনি বলেন, তখন রাসূল (সা) আমার দিকে এগিয়ে আসলেন। তারপর নিজের হাতের ওপর পানি ঢাললেন এবং তা ধুইলেন। অতঃপর তাঁর হাতের কবজী পর্যন্ত পানির পাত্রে ঢুকালেন অতঃপর তা দ্বারা পানি নিয়ে অপর এক হাতের উপর ঢাললেন। তারপর নিজের মাথা মাসেহ করলেন। অতঃপর এক হাতে পানি নিলেন তারপর মাথা মাসেহ করলেন। অতঃপর নিজ হাতে পানি নিয়ে তা পায়ের উপর ঢাললেন। তারপর হাত দ্বারা পা মাসেহ করলেন। তারপর এসে আমাদের নিয়ে জোহরের সালাত আদায় করলেন।
[হাইসুমী বলেন, এ হাদীসটি আহমদ বর্ণনা করেছেন, নাসাঈ ও ইবন মাজাহ-এর আংশিক বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।]
كتاب الطهارة
الفصل الثالث فيما روى في ذلك عن غير علي وعثمان من الصحابة رضوان الله عليهم أجمعين
(229) عن عبد الرَّحمن بن أبي قرادٍ رضي الله عنه قال خرجت مع النَّبيِّ
صلى الله عليه وسلم حاجًّا فرأيته خرج من الخلاء فاتَّبعته بالأداوة أو القدح وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أراد حاجةً أبعد فجلست له بالطَّريق حتى انصرف رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت له يا رسول الله الوضوء قال فأقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم إليَّ فصبَّ على يده فغسلها ثمَّ أدخل يده بكفِّها فصبَّ على يدٍ واحدةٍ ثمَّ مسح على رأسه ثم قبض الماء على يد واحدة ثم مسح على رأسه ثمَّ قبض الماء قبضًا بيده فضرب به على ظهر قدمه فمسح بيده على قدمه ثم جاء فصلَّى لنا الظُّهر.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৩০
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আলী ও উসমান (রা) ব্যতীত অন্যান্য সাহাবীদের থেকে বর্ণিত এতদসংক্রান্ত হাদীসসমূহ
(২৩০) আবদুল্লাহ হাদীস বর্ণনা করে বলেন, আমার পিতা সুফিয়ান ইবন 'উআইনা বলেন, আমাকে আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন্ আকীল ইবন আবু তালিব বলেছেন, আমাকে আলী ইবন (যায়নুল আবেদীন) রুবাইয়া বিনতে মু'আওয়ায ইবন্ আফরা-এর কাছে পাঠালেন। আমি তাঁকে রাসূল (সা)-এর ওযু সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি সোয়া এক মুদ্দ পানি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি পাত্র বের করলেন। সুফিয়ান বলেন, তিনি সম্ভবত হাশেমী মুদ্দ বুঝাচ্ছিলেন। তিনি (রুবাইয়া) বলেন, আমি রাসূলের জন্য এটাতে পানি নিয়ে আসতাম। তখন তিনি তাঁর হাতে তিনবার পানি ঢালতেন। একবার হাদীসের রাবী সুফিয়ান বলেন। তিনি পাত্রে হাত ডুবাবার পূর্বে হাত দু'টি ধুইতেন। এবং মুখমণ্ডল ধুইতেন তিনবার, কুলি করতেন তিনবার, নাকে পানি দিতেন তিনবার, ডান হাত ধুইতেন তিনবার। রাবী সুফিয়ান একবার বা দুইবার বলেন এবং বাম হাত ধুইতেন তিনবার এবং নিজের মাথা মাসেহ করতেন। তিনি সামনে থেকে পিছনের দিকে আর পিছন থেকে সামনের দিকে মাসেহ করতেন। অতঃপর পা দুটি দুইলেন তিনবার করে, আমার কাছে তোমার চাচাত ভাই, ইবন আব্বাস এসে জিজ্ঞাসা করেন, আমি তাঁকে এ হাদীস শুনালে তিমি আমাকে বলেন, আমি আল্লাহর কিতাবে দু'বার মাসেহ ও দু'বার ধোয়ার কথা ছাড়া অন্যকিছু দেখতে পাই না।
(অপর এক বর্ণনায় আছে) আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন আকীল থেকে আরো বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, আমাকে রুবাইয়া বিনতে মুয়াওয়েয ইবন 'আফরা (রা) বলেছেন যে, রাসূল (সা) আমাদের কাছে ঘন ঘন আসতেন। তিনি একবার আসলেন, তখন আমরা তাঁর জন্য এক বড় পানির পাত্র রাখলাম। তখন তিনি ওযু করলেন। প্রথমে হাত দু'টি কবজি সমেত ধুইলেন তিনবার। অতঃপর কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন একবার করে। তারপর মুখমণ্ডল ধুইলেন তিনবার এবং হাত দু'টি ধুইলেন তিনবার। আর হাত ধোয়ার পর হাতের অবশিষ্ট পানি দ্বারা দু'বার মাথা মাসেহ করলেন। তা আরম্ভ করলেন মাথার পিছন দিক থেকে। অতঃপর তাঁর হাত মাথার সামনের দিকে নিয়ে আসলেন। অতঃপর পা দু'টি ধুইলেন তিনবার করে। আর কান দু'টি মাসেহ করলেন, এতদুভয়ের সামনের দিকে ও পিছনের দিকে।
[আবু দাউদ, ইবন মাজাহ, বাইহাকী ও তিরমিযী কর্তৃক বর্ণিত, তিনি হাদীসটি হাসান বলে মন্তব্য করেন।]
كتاب الطهارة
الفصل الثالث فيما روى في ذلك عن غير علي وعثمان من الصحابة رضوان الله عليهم أجمعين
(230) حدَّثنا عبد الله حدَّثني أبي ثنا سفيان بن عيينة قال حدَّثني عبد الله بن محمَّد بن عقيل بن أبي طالبٍ قال أرسلني علي بن حسينٍ إلى الرُّبيع بنت معوِّذ بن عفراء رضي الله عنها فسألتها عن وضوء رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخرجت له يعني إناء يكون مدًّا أو نحو مد وربعٍ، قال سفيان كأنَّه يذهب إلى الهاشميِّ، قالت كنت أخرج له الماء في هذا فيصبُّ على يديه ثلاثًا وقال مرَّةً يغسل يديه قبل أن يدخلهما ويغسل وجهه ثلاثًا ويمضمض ثلاثًا ويستنشق ثلاثًا ويغسل يده اليمنى ثلاثًا واليسرى ثلاثًا ويمسح برأسه، وقال مرَّةً أو مرَّتين مقبلًا ومدبرًا ثمَّ يغسل رجليه ثلاثًا، قد جائني ابن عمَّ لك فسألني وهو ابن عبَّاسٍ فأخبرته فقال لي ما أجد في كتاب الله إلاَّ مسحتين وغسلتين (1)

(ومن طريقٍ آخر) (1) عن عبد الله بن محمَّد بن عقيلٍ أيضًا قال حدَّثتني الرُّبيَّع بنت معوَّذ بن عفراء (رضي الله عنها) قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يأتينا فيكثر فأتانا فوضعنا له الميضأة فتوضَّأ (2) فغسل كفَّيه ثلاثًا ومضمض واستنشق مَّرةً مَّرةً وغسل وجهه ثلاثًا وذراعيه ثلاثًا ومسح رأسه بما بقى من وضوئه في يديه مرَّتين بدأ بمؤخَّره (3) ثمَّ ردَّ يده إلى ناصيته وغسل رجليه ثلاثًا ومسح أذنيه مقدَّمهما ومؤخِّرهما.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৩১
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আলী ও উসমান (রা) ব্যতীত অন্যান্য সাহাবীদের থেকে বর্ণিত এতদসংক্রান্ত হাদীসসমূহ
(২৩১) আমর ইবন্ ইয়াহ্ইয়া থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে তিনি সাহাবী যাইদ ইবন্ আসিম (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তাঁকে বলা হল, আপনি আমাদেরকে রাসূল (সা)-এর ওযূর মত ওযু করে দেখান। তিনি বলেন, তখন তিনি এক পাত্র পানি চাইলেন। তা থেকে তাঁর দু' হাতের উপর তিনবার পানি ঢাললেন এবং হাত দু'টি ধুইলেন। অতঃপর তাঁর হাত ঢুকালেন এবং তা বের করে নিয়ে আসলেন। তারপর কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিলেন একই আঁজলা থেকে। এভাবে তিনবার করলেন। তারপর পাত্র থেকে হাত বের করে মুখমণ্ডল ধুইলেন। অতঃপর আবার পাত্রে হাত ঢুকিয়ে তা বের করলেন। অতঃপর কনুই পর্যন্ত দু' হাত ধুইলেন দু'বার দু'বার করে। অতঃপর আবার হাত ঢুকিয়ে তা বের করে নিয়ে আসলেন তারপর নিজের মাথা মাসেহ করলেন। সামনে থেকে পিছনের দিকে এবং পিছনের দিক হতে সামনের দিকে হাত নিয়ে আসলেন। অতঃপর পা দু'টি ধুইলেন টাখনু বা গোড়ালির উপর গাট (গুলফ) পর্যন্ত। তারপর বললেন, রাসুল (সা)-এর ওযু এরূপ ছিল। (তাঁর থেকে অপর এক সম্বন্ধে তাঁর বাবার সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।) তাঁর দাদা আবদুল্লাহ ইবন যাইদ ইবন আসিম (রা)-কে বললেন, আপনি আমাকে রাসুল (সা) কিভাবে ওযু করতেন তা দেখাতে পারবেন? আবদুল্লাহ ইবন যাইদ বললেন, হ্যাঁ, পারব। তখন তিনি পানি চাইলেন। তারপর দু'বার হাত ধুইলেন। অতঃপর তিনবার কুলি করলেন ও নাক পরিষ্কার করলেন। তারপর মুখ ধুইলেন তিনবার। অতঃপর তার দু'হাত ধুইলেন দু'বার। অতঃপর তাঁর দু' হাত দিয়ে মাথা মাসেহ করলেন। তাতে হাত সামনে থেকে পিছনের দিকে এবং পিছন থেকে সামনের দিকে নিয়ে আসলেন। মাথার সামনের দিক থেকে আরম্ভ করে ঘাড়ের দিকে নিয়ে গেলেন। অতঃপর উভয় হাত সামনের দিকে যেখান থেকে আরম্ভ করে ছিলেন সেখানেই নিয়ে আসলেন। অতঃপর তার পা দু'টি দুইলেন। (অপর এক বর্ণনায় আছে তিনি তাঁর মাথা মাসেহ করলেন দু'বার আর দু'পা ধুইলেন দু'বার।
(বুখারী, মুসলিম, মালিক ও চার সুনানে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب الطهارة
الفصل الثالث فيما روى في ذلك عن غير علي وعثمان من الصحابة رضوان الله عليهم أجمعين
(231) عن عمرو بن يحيى عن أبيه عن عبد الله بن زيد بن عاصمٍ رضي الله عنه وكانت له صحبهٌ فقيل له توضَّأ لنا وضوء رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فدعا بإناءٍ فأكفأ منه على يديه ثلاثا فغسلهما ثمَّ أدخل يده وأستخرجها فمضمض وأستنشق من كفّ واحدةٍ ففعل ذلك ثلاثا وأستخرجها ثمَّ غسل وجهه ثمَّ أدخل يده فاستخرجها فغسل يديه إلى المرفقين مرَّتين مرَّتين ثمَّ أدخل يده فاستخرجها فمسح برأسه فأقبل بيده وأدبر ثمَّ غسل رجليه إلى الكعبين
ثمَّ قال هكذا كان وضوء رسول الله صلى الله عليه وسلم (وعنه من طريقٍ آخر عن أبيه) (1) أنَّ جدَّه قال لعبد الله بن زيد بن عاصمٍ رضي الله عنه هل تستطيع أن تريني كيف كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتوضِّأ؟ قال عبد الله بن زيدٍ نعم، فدعا بوضوءٍ فغسل يده مرَّتين ثمَّ تمضمض وأستنثر ثلاثًا ثمَّ غسل وجهه ثلاثًا ثمَّ غسل يديه مرَّتين ثمَّ مسح رأسه بيديه فأقبل بهما وأدبر، بدأ بقدَّم رأسه ثمَّ ذهب بهما إلى قفاه ثمَّ ردَّهما حتَّى رجع إلى المكان الَّذي بدأ منه ثمَّ غسل رجليه (وفي روايةٍ أنَّه مسح برأسه مرَّتَّين وغسل رجليه مرَّتين).
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৩২
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আলী ও উসমান (রা) ব্যতীত অন্যান্য সাহাবীদের থেকে বর্ণিত এতদসংক্রান্ত হাদীসসমূহ
(২৩২) ইয়াযীদ ইবন্ বারা ইবন্ আযিব থেকে, তিনি ওমানের আমীর ছিলেন। তিনি বলেন, আমার পিতা (একবার) বলেছিলেন, তোমরা একত্রিত হও। আমি তোমাদেরকে রাসূল (সা) কিভাবে ওযু করতেন এবং কিভাবে সালাত পড়তেন দেখাব। আমি জানি না আর কতদিন আমি তোমাদের সাহচর্য পাব। তিনি বলেন, তখন তাঁর সন্তান ও পরিবারের লোকজনদের একত্রিত করলেন। তখন তিনি ওযুর পানি চাইলেন। অতঃপর কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন এবং তিনবার মুখ ধুইলেন। ডান হাত ধুইলেন তিনবার আর এ হাত অর্থাৎ বাম হাত ধুইলেন তিনবার। অতঃপর মাথা ও কান এবং কানের বাইরে ভিতরের মাসেহ করলেন। এবং এ পা অর্থাৎ ডান পা ধুইলেন তিনবার। আর এ পা অর্থাৎ বাম পা ধুইলেন তিনবার। তিনি বলেন, এভাবেই। আমি কার্পণ্য করি নি তোমাদেরকে রাসূল (সা) কিভাবে ওযু করতেন তা দেখাতে। অতঃপর তিনি বাড়ির অভ্যন্তরে প্রবেশ করে সালাত আদায় করলেন। কত (রাকা'আত) পড়লেন জানি না। অতঃপর বাড়ি হতে বের হলেন এবং সালাতের আয়োজন করতে আদেশ করলেন। তারপর একামত বলা হলো তখন আমাদের নিয়ে জোহরের সালাত পড়লেন। আমার মনে হয় আমি তাঁর থেকে সূরা "ইয়াসীনের" কয়েক আয়াত শুনেছিলাম। অতঃপর আসরের সালাত পড়লেন। তারপর আমাদের নিয়ে মাগরিবের সালাত পড়লেন। তারপর আমাদের নিয়ে ইশার সালাত পড়লেন এবং বললেন, আমি তোমাদেরকে রাসূল (সা) কিভাবে ওযু করতেন আর কিভাবে সালাত পড়তেন তা দেখাতে কার্পণ্য করি নি।
[আবদুর রহমান আল বান্না বলেন, আমি এ হাদীসটি অন্য কোথাও দেখি নি। হাইসুমী বলেন, হাদীসটি ইমাম আহমদ বর্ণনা করেছেন, এর রাবীগণ নির্ভরযোগ্য।]
كتاب الطهارة
الفصل الثالث فيما روى في ذلك عن غير علي وعثمان من الصحابة رضوان الله عليهم أجمعين
(232) حدّثنا عبد الله حدَّثني أبي ثنا إسماعيل (يعنى أبن إبراهيم) حدّثنا سعيدٌ الحريريُّ عن أبي عائذٍ سيفٍ السَّعديِّ وأثنى عليه خيرا عن يزيد بن البراء بن عازبٍ وكان أميرا بعمانٍ وكان كخير الأمراء قال أبي أجتمعوا فلاريكم كيف كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتوضَّأ وكيف كان يصلَّى فإنَّي لا أدري ما قدر صحبتي إيَّاكم قال فجمع بنيه وأهله ودعا بوضوءٍ فمضمض وأستنشق وغسل وجهه ثلاثًا وغسل اليد اليمنى ثلاثًا وغسل يده هذه ثلاثًا يعنى اليسرى ثمَّ مسح رأسه وأذنيه ظاهر هما وباطنهما وغسل هذه الرِّجل يعنى اليمنى ثلاثًا وغسل هذه الرِّجل ثلاثًا يعنى اليسرى، قال هكذا ما ألوت (2)
أن أريكم كيف كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتوضَّأ ثمَّ دخل بيته فصلَّى صلاةً لا ندري ما هي ثمَّ خرج فأمر بالصَّلاة فأقيمت فصلَّى بنا الظُّهر فأحسب أنِّي سمعت منه آيات من يس ثمَّ صلَّى العصر ثمَّ صلِّى بنا المغرب ثمَّ صلَّى بنا العشاء وقال ما ألوت أن أريكم كيف كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتوضَّأ وكيف كان يصلَّي.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৩৩
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আলী ও উসমান (রা) ব্যতীত অন্যান্য সাহাবীদের থেকে বর্ণিত এতদসংক্রান্ত হাদীসসমূহ
(২৩৩) মুগীরা ইবন্ শো'বা (রা) থেকে বর্ণিত। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল আবূ বকর (রা) ছাড়া এ উম্মাতের আর কেউ কি রাসূল (সা)-এর ইমামতী করেছেন? তিনি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ। আমরা একবার অমুক অমুক সফরে ছিলাম। (অপর বর্ণনা মতে তাবুক যুদ্ধের সফরে) যখন সেহেরীর সময় হল তখন তাঁর বাহনের গলায় আঘাত করে চলতে আরম্ভ করলেন। তখন আমিও তাঁর অনুসরণ করলাম। তিনি কিছুক্ষণ আমাদের সামনে থেকে আড়াল হয়ে গেলেন। তারপর আসলেন এবং বললেন, তোমাদের প্রাকৃতিক প্রয়োজন আছে কি? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার কোন প্রয়োজন নেই। তিনি বললেন, পানি আছে কি? আমি বললাম, আছে। তখন আমি তাঁর হাতে পানি ঢেলে দিলাম। তখন তিনি তাঁর দু'হাত ধুইলেন। তারপর তাঁর হাত থেকে আস্তিনের কাপড় সরাতে চাইলেন। তখন তাঁর গায়ে ছিল একটা শামী জুব্বা। জুব্বাটি সংকীর্ণ ছিল। ফলে হাত দু'টি ভিতরে নিয়ে গিয়ে জুব্বার নিচ থেকে বের করলেন। তারপর মুখমণ্ডল ধুইলেন আর হাত দু'টি ধুইলেন এবং মাথার প্রথমাংশ (নাহিয়া) ও পাগড়ীর উপর এবং মোজা দু'টির ওপর মাসেহ করলেন। অতঃপর আমরা অপরাপর লোকদের সাথে মিলিত হলাম। তখন নামাযের একামত বলা হয়েছে আর আবদুর রহমান ইবন 'আউফ তাঁদের ইমামতী করছেন। ইতিমধ্যেই তিনি এক রাকা'আত নামায পড়ে ফেলেছেন। আমি তাঁকে (রাসূলের আগমন সম্বন্ধে) অবগত করতে যাচ্ছিলাম। তখন তিনি আমাকে নিষেধ করলেন। তখন আমরা যে নামাযটুকু পেলাম তা আদায় করলাম।
(অপর এক বর্ণনায় আছে, আমরা যে রাকা'আতটুকু পেলাম তা আদায় করলাম।) এর পূর্বে সালাত ছুটে গিয়েছিল তা কাজা করলাম। (অপর বর্ণনায় আছে, যে রাকাতটি আমাদের আগে ছুটে গেছে তা কাজা করলাম।
[মুসলিম ও তিরমিযী কর্তৃক বর্ণিত, তিরমিযী হাদীসটি সহীহ্ বলে মন্তব্য করেছেন।]
كتاب الطهارة
الفصل الثالث فيما روى في ذلك عن غير علي وعثمان من الصحابة رضوان الله عليهم أجمعين
(233) عن المغيرة بن شعبة رضي الله عنه وقد سئل هل أمَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم رجلٌ من هذه الأمَّة غير أبي بكر رضي الله عنه فقال نعم كنَّا في سفر كذ وكذا (وفي روايةٍ في غزوة تبوك) فلمَّا كان من السَّحر ضرب عنق راحلته وانطلق فتبعته فتغيَّب عنِّى ساعةً ثمَّ جاء فقال حاجتك، فقلت ليس لي حاجةٌ يا رسول الله، قال هل من ماءٍ؟ قلت نعم، فصببت عليه فغسل يديه ثمَّ غسل وجهه ثم ذهب يحسر عن ذراعيه وكانت عليه جبَّةٌ شاميَّة فضاقت فأدخل يديه فأخرجهما من تحت الجبَّة فغسل وجهه وغسل ذراعيه ومسح بناصيته ومسح على العمامة وعلى الخفَّين ثمَّ لحقنا النَّاس وقد أقيمت الصَّلاة وعبد الرحمن ابن عوفٍ يؤمُّهم وقد صلى ركعة فذهبت لأوذنه فنهاني فصلَّينا الَّتي أدركنا (وفي روايةٍ الرَّكعة الَّتي أدركنا) وقضينا الَّتي سبقنا بها (وفي روايةٍ وقضينا الرَّكعة الَّتي سبقنا)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৩৪
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ (৬) অধ্যায়ঃ ওযুর সময় নিয়ত করা ও বিসমিল্লাহ বলা প্রসঙ্গে
(২৩৪) উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (সা)-কে বলতে শুনেছি, আমলের ফলাফল মিয়াত বা উদ্দেশ্যের উপর নির্ভরশীল। প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়্যত করে। যার হিজরত আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলের দিকে হবে তার হিজরত সে দিকেই হবে যেদিকে সে হিজরত করেছে। আর যার হিজরত দুনিয়া পাওয়ার জন্য অথবা কোন নারীকে বিয়ে করার জন্য হবে তার হিজরত যে উদ্দেশ্যে করেছে সে উদ্দেশ্যের জন্যই হবে।
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ, দারু কুতনী, ইবনে হিব্বান ইত্যাদি।)
كتاب الطهارة
(6) باب في النية والتسمية عند الوضوء
(234) عن عمر رضي الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يقول إنما الأعمال بالنِّيَّة (1) ولكلِّ امرئٌّ
ما نوى (1) فمن كانت هجرته إلى الله ورسوله (2) فهجرته إلى ما هاجر إليه، ومن كانت هجرته لدنيا (3) يصيبها أو امرأةٍ ينكحها (4) فهجرته
إلى ما هاجر إليه.
হাদীস নং: ২৩৫
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ (৬) অধ্যায়ঃ ওযুর সময় নিয়ত করা ও বিসমিল্লাহ বলা প্রসঙ্গে
(২৩৫) আবূ হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, যার ওযু নেই তার নামায হয় না। আর যে ওযুতে আল্লাহর নাম নেয় না তার ওযু হয় না।
(আবু দাউদ, ইবন মাজাহ, দারু কুতনী, বাইহাকী, হাকিম ও তিরমিযী কর্তৃক ইলাল গ্রন্থে বর্ণিত। হাদীসটি সহীহ কিনা সে ব্যাপারে নানান কথা রয়েছে।)
كتاب الطهارة
(6) باب في النية والتسمية عند الوضوء
(235) عن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا صلاة
لمن لا وضوء له ولا وضوء لمن لم يذكر اسم الله عليه.
হাদীস নং: ২৩৬
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ (৬) অধ্যায়ঃ ওযুর সময় নিয়ত করা ও বিসমিল্লাহ বলা প্রসঙ্গে
(২৩৬) আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, যে আল্লাহর নাম উল্লেখ করে না তার ওযু হয় না।
(ইবন মাজাহ, বাযযার, দারু কতনী, বাইহাকী ও হাফেজ কর্তৃক বর্ণিত। হাদীসটির সকল সনদই দুর্বলতাযুক্ত।)
كتاب الطهارة
(6) باب في النية والتسمية عند الوضوء
(236) عن أبي سعيد الخدريِّ رضي الله عنه قال قال رسول الله عليه وآله وسلم لا وضوء لمن لم يذكر اسم الله عليه.
হাদীস নং: ২৩৭
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ (৬) অধ্যায়ঃ ওযুর সময় নিয়ত করা ও বিসমিল্লাহ বলা প্রসঙ্গে
(২৩৭) সাঈদ ইবন যাইদ (রা) বলেন, আমি রাসূল (সা)-কে বলতে শুনেছি, যার ওযু নেই তার নামায হবে না। আর যে বিসমিল্লাহ বলে না তার ওযু হবে না। আর যে আমাকে বিশ্বাস করে না সে আল্লাহকে বিশ্বাস করে না। (যে আমার প্রতি ঈমান আনে না সে আল্লাহর প্রতিও ঈমান আনে না।) আর যে আনসারী (সাহাবীদের) ভালবাসে না সে আমার প্রতি ঈমান আনে না।
[তিরমিযী, বাযযার ইবন মাজাহ, দারু কুতনী ও হাশিম কর্তৃক বর্ণিত। আহমদ বলেন, এই অর্থের কোনো সহীহ হাদীস নেই। বুখারী বলেন, এ বিষয়ে এই হাদীসটিই সর্বোত্তম।]
كتاب الطهارة
(6) باب في النية والتسمية عند الوضوء
(237) عن رباح (1) بن عبد الرَّحمن بن حويطبٍ قال حدثتني جدتي (2) أنها سمعت أباها يقول سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول لا صلاة لمن لا وضوء له
ولا وضوء لمن لم يذكر اسم الله عليه ولا يؤمن بالله من لا يؤمن بي ولا يؤمن بي من لا يحبُّ الأنصار.
হাদীস নং: ২৩৮
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ (৭) কুলি করার আগে হাত দু'টি (কব্জি পর্যন্ত) ধোয়া মুস্তাহাব এবং রাতের ঘুম থেকে উঠার পর তা বেশী গুরুত্বপূর্ণ
(২৩৮) আবদু খাইর থেকে বর্ণিত, তিনি আলী (রা)-এর ওযুর বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, অতঃপর তিনি পানির পাত্রটি ডান হাতে নিলেন। তারপর বাম হাতের উপর পানি ঢাললেন। অতঃপর হাত দু'টি কবজি পর্যন্ত ধুইলেন। অতঃপর ডান হাতে পাত্রটি নিলেন এবং বাম হাতের উপর পানি ঢাললেন। তারপর হাত দু'টি দুইলেন কবজি পর্যন্ত। এভাবে তিনবার করলেন। আবদু খাইর বলেন, এভাবে তিনি তাঁর হাত তিনবার না ধোয়া পর্যন্ত পানির পাত্রে ডুবান নি। এ হাদীসের শেষের দিকে আছে, অতঃপর আলী (রা) বলেন, এটাই হল নবী (সা)-এর পবিত্রতার রূপ।
[আবু দাউদ, নাসাঈ, দারু কুতনী, ও দারিমী কর্তৃক বর্ণিত। হাদীসটি সহীহ।]
كتاب الطهارة
(7) باب في استحباب غسل اليدين قبل المضمضة وتأكيده لنوم الليل
(238) عن عبد خير "يصف وضوء عليٍّ رضي الله عنه" قال ثم أخذ بيده اليمنى الإناء فأفرغ على يده اليسرى ثم غسل كفَّيه ثم أخذ بيده اليمنى الإناء فأفرغ على يده اليسرى ثم غسل كفَّيه، فعله ثلاث مرارٍ، قال عبد خيرٍ كلُّ لا يدخل يده في الإناء حتى يغسلها ثلاث مرات "الحديث" (وفي آخره قال يعنى عليًّا) هذا طهور نبيِّ الله صلى الله عليه وسلم.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৩৯
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ (৭) কুলি করার আগে হাত দু'টি (কব্জি পর্যন্ত) ধোয়া মুস্তাহাব এবং রাতের ঘুম থেকে উঠার পর তা বেশী গুরুত্বপূর্ণ
(২৩৯) ইবন্ আবূ আউস থেকে, তিনি তাঁর দাদা আউস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি রাসূল (সা)-কে ওযু করতে দেখেছি। এবং তিনি তিনবার তাঁর হাত দু'টি ধুয়েছেন। (অপর এক সূত্রে এক বর্ণনায় আছে) অর্থাৎ তিনি তাঁর হাত ধুইলেন তিনবার। তখন আনি শো'বাকে বললাম। তিনি কি তা পাত্রে ঢুকিয়ে ছিলেন না কি বাইরে ধুয়েছিলেন? তিনি উত্তরে বলেন, জানি না।
(নাসাঈ ইত্যাদি কর্তৃক বর্ণিত, হাদীসটির সনদ উত্তম ও নির্ভরযোগ্য। এ ধরনের হাদীস বুখারী মুসলিমেও বর্ণিত আছে।)
كتاب الطهارة
(7) باب في استحباب غسل اليدين قبل المضمضة وتأكيده لنوم الليل
(239) عن ابن أبي أوس عن جدِّه أوسٍ رضي الله عنه (1) قال رأيت
رسول الله صلى الله عليه وسلم توضأ واستو كف ثلاثًا أي غسل كفَّيه (زاد في رواية من طريق آخر) (1) يعنى غسل يديه ثلاثًا فقلت لشعبة أدخلهما في الإناء أو غسلهما خارجًا قال لا أدري.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৪০
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ (৭) কুলি করার আগে হাত দু'টি (কব্জি পর্যন্ত) ধোয়া মুস্তাহাব এবং রাতের ঘুম থেকে উঠার পর তা বেশী গুরুত্বপূর্ণ
(২৪০) আবদুল্লাহ বলেন, আমাকে আমার বাবা বলেছেন, তাঁকে আবু মু'আবিয়া বলেছেন, তাঁকে আ'মাশ আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূল (সা) বলেন, তোমরা কেউ রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত হলে সে যেন তার হাত তিনবার না ধোয়া পর্যন্ত (পানির) পাত্রে না ডুবায়। কারণ সে জানে না রাত্রে তার হাত কোথায় যাপন করেছে। তিনি (আবদুল্লাহ) আরও বলেন, ওকী আবু সালিহ ও আবু রাযীন থেকে তাঁরা আবু হুরায়রা (রা) থেকে, তিনি রাসূল (সা) থেকে বর্ণনা করে বলেন, তিনবার পর্যন্ত।
আবদুল্লাহ আমাদেরকে বলেন, আমার বাবা আমাকে বলেছেন, তাঁকে মু'আবিয়া ইবন্ আমর তাঁকে যায়েদাহ আবু সালিহ থেকে আর তিনি আবু হুরায়রা (রা) থেকে তিনি নবী (সা) থেকে বর্ণনা করেন, নবী (সা) বলেছেন, একবার বা দু'বার না ধোয়া পর্যন্ত (হাত ঢুকাবে না।)।
আবদুল্লাহ বলেন, আমার বাবা আমাকে বলেছেন যে, আমাকে সুফিয়ান জুহরী থেকে আর তিনি আবু সালামা থেকে আর তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তোমরা কেউ ঘুম থেকে জাগ্রত হলে স্বীয় পাত্রে হাত ঢুকাবে না তিনবার হাত না ধোয়া পর্যন্ত। কারণ সে জানে না তার হাত কোথায় রাত যাপন করেছে।
[বুখারী, মুসলিম, ইমাম শাফেয়ী ও চার সুনান গ্রন্থে বর্ণিত, তবে ইমাম বুখারী কয়বার ধুইতে হবে সে সংখ্যা উল্লেখ করেন নি।]
كتاب الطهارة
(7) باب في استحباب غسل اليدين قبل المضمضة وتأكيده لنوم الليل
(240) حدثنا عبد الله حدثني أبى ثنا أبو معاوية ثنا الأعمش عن أبى صالح عن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا استيقظ أحدكم من الليل (2) فلا يدخل يده في الإناء حتى يغسلها ثلاث مرات فإنه لا يدري أين باتت يده، قال وقال وكبعٌ عن أبى صالح وأبى رزين عن أبي هريرة يرفعه ثلاثًا (حدثنا) عبد الله حدثني أبى ثنا معاوية بن عمر وثنا زائدة عن أبى صالحٍ عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال حتى يغسلها مرة أو مرتين (3)
حدثنا عبد الله حدثني أبى ثنا سفيان عن الزهريِّ عن أبي سلمة عن أبي هريرة روايةً، إذا استيقظ أحدكم من نومه فلا يغمس يده (1) في إنائه حتى يغسلها ثلاثًا فإنه لا يدري أين باتت يده.
tahqiq

তাহকীক: