মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

৬. পবিত্রতা অর্জন - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৫৬২ টি

হাদীস নং: ১৮১
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ ওযূ বিষয়ক পরিচ্ছেদসমূহ

প্রথম পরিচ্ছেদঃ ওযুর ফযীলত ও পূর্ণরূপে ওযু প্রসঙ্গে
(১৮১) জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, জান্নাতের চাবি সালাত। আর সালাতের চাবি পবিত্রতা।
[বাইহাকী, শু'আবুল ঈমান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ইমাম সুয়ূতী হাদীসটিকে হাসান বলে উল্লেখ করেছেন।
আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবানী হাদীসটিকে যয়ীফ বা দুর্বল বলে উল্লেখ করেছেন। যায়ীফুল জামি' ৭৬১ পৃ]
كتاب الطهارة
أبواب الوضوء

الباب الأول فيما جاء في فضله وإسباغه
(181) عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم مفتاح الجنة الصلاة ومفتاح الصلاة الطهور
হাদীস নং: ১৮২
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ প্রথম পরিচ্ছেদঃ ওযুর ফযীলত ও পূর্ণরূপে ওযু প্রসঙ্গে
(১৮২) মুস'আব ইবন সা'দ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আবদুল্লাহ ইবন আমির (ইবন্ কুরাইয (মৃঃ ৭৮ হি) অসুস্থ হলে অনেক মানুষ তাঁকে দেখতে যান। তারা তাঁর প্রশংসা করতে থাকেন। তখন আবদুল্লাহ ইবন উমর (মৃঃ ৮৩ হি) বলেনঃ আমি এ সকল মানুষের চেয়ে বেশি ধোঁকা আপনাকে দিতে পারব না। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ মহামহিম বরকতময় আল্লাহ অবৈধভাবে উপার্জিত সম্পদের দান কবুল করেন না। আর ওযু ছাড়া সালাত কবুল করেন না।
[মুসলিম ও অন্যান্য।]
كتاب الطهارة
الباب الأول فيما جاء في فضله وإسباغه
(182) عن مصعب بن سعد أن ناسا دخلوا على ابن عامر في مرض فجعلوا يثنون عليه فقال ابن عمر أما إني لست بأغشهم لك سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول إن الله تبارك وتعالى لا يقبل صدقة من غلول 1 ولا صلاة بغير طهور
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৩
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ প্রথম পরিচ্ছেদঃ ওযুর ফযীলত ও পূর্ণরূপে ওযু প্রসঙ্গে
(১৮৩) আবু উমামাহ (রা) আমর ইবন আবাসাহ (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে ওযুর বিষয়ে বলুন। তিনি বলেন, যখন তোমাদের কেউ ওযুর পানি কাছে নেয়, এরপর কুলি করে এবং নাকের মধ্যে পানি নিয়ে নাক ঝেড়ে পরিষ্কার করে তখন তার মুখ ও নাকের পাপরাশী পানির সাথে বের হয়ে যায়। এরপর যখন সে মহান আল্লাহর নির্দেশ মত তার মুখমণ্ডল ধৌত করে, তখন তার মুখমণ্ডলের পাপরাশী তার দাড়ির প্রান্ত দিয়ে পানির সাথে বের হয়ে যায়। এরপর যখন সে কনুই পর্যন্ত দুই হাত ধৌত করে তখন তার হাতের পাপরাশী তার নখের প্রান্ত দিয়ে বের হয়ে যায়। এরপর সে যখন তার মাথা মাসেহ করে তখন তার মাথার পাপরাশী চুলের প্রান্ত দিয়ে পানির সাথে বের হয়ে যায়। এরপর সে যখন মহিমাময় মহান আল্লাহর নির্দেশ মত তার দুই পা গোড়ালি (টাখনু) পর্যন্ত যৌত করে, তখন তার পায়ের পাপসমূহ পানির সাথে আঙুলের প্রান্ত দিয়ে বের হয়ে যায়। এরপর যখন সে দাঁড়িয়ে মহামহিম মহাশক্তিমান আল্লাহর প্রশংসা করে এবং তাঁর গুণ বর্ণনা করে, যেরূপ প্রশংসা ও গুণ বর্ণনা তাঁর প্রাপ্য, তারপর দু'রাক'আত সালাত আদায় করে, তখন সে এমনভাবে পাপমুক্ত হয়ে যায়, যেমন সদ্যপ্রসূত নবজাতক শিশু পাপমুক্ত।
আবু উমামাহ বলেন, হে আমর ইবন্ আবাসাহ! আপনি যা বলছেন তা ভাল করে ভেবে দেখুন। আপনি কি এভাবেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন? এ লোকটি তার অবস্থানে থেকেই এত পুরস্কার পাবে। তখন আমর ইবন আবাসাহ বলেন, হে আবু উমামাহ! আমি বৃদ্ধ হয়েছি, আমার অস্থি নরম হয়ে গিয়েছে এবং আমার মৃত্যুও অতি নিকটবর্তী এমতাবস্থায় মহিমাময় মহাপরাক্রান্ত আল্লাহর নামে এবং তাঁর রাসূলের নামে মিথ্যা বলার কোনো প্রয়োজন আমার নেই। যদি আমি এই কথাগুলি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে একবার, দুইবার বা তিনবার শুনতাম তাহলে কথা ছিল। আমি এই কথাগুলো সাত বার বা তার চেয়ে বেশি বার শুনেছি।* (মুসলিম)
*টীকাঃ এই হাদীস ও অনুরূপ হাদীসে ওযু, সালাত ইত্যাদির কারণে যে জমা ও পাপক্ষয়ের কথা বলা হয়েছে, সেগুলি মূলত সগীরাহ গোনাহ বা ছোটখাট পাপের বিষয়ে বলা হয়েছে। অন্যান্য হাদীসে বলা হয়েছে যে, কবীরা বা বৃহৎ পাপগুলি বর্জন করা হলে এ সকল কর্মের কারণে আল্লাহ ছোটখাট পাপ ক্ষমা করে দেন।
كتاب الطهارة
الباب الأول فيما جاء في فضله وإسباغه
(183) عن أبي أمامة 2 عن عمرو بن عبسة رضي الله عنهما قال قلت يا رسول الله أخبرني عن الوضوء، قال ما منكم من أحد يقرب وضوءه ثم يتمضمض ويستنشق وينتثر 3 إلا خرجت خطاياه من فمه وخياشيمه 4
مع الماء حين ينتثر، ثم يغسل وجهه كما أمره الله تعالى إلا خرجت خطايا وجهه من أطراف لحيته مع الماء، ثم يغسل يديه إلى المرفقين إلا خرجت خطايا يديه من أطراف أنامله 1 ثم يمسح رأسه إلا خرجت خطايا رأسه من أطراف شعره مع الماء، ثم يغسل قدميه إلى الكعبين كما أمره الله عز وجل إلا خرجت خطايا قدميه من أطراف أصابعه مع الماء، ثم يقوم فيحمد الله عز وجل ويثني عليه بالذي هو له أهل ثم يركع ركعتين إلا خرج من ذنبه كهيئته يوم ولدته أمه 2 قال أبو أمامة يا عمرو بن عبسة انظر ما تقول، أسمعت هذا من رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ أيعطى الرجل هذا كله في مقامه؟ قال فقال عمرو بن عبسة يا أبا أمامة لقد كبرت سني ورق عظمي واقترب أجلي وما بي من حاجة أن أكذب على الله عز وجل وعلى رسوله صلى الله عليه وسلم لو لم أسمعه من رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا مرة أو مرتين أو ثلاثا، لقد سمعته سبع مرات أو أكثر من ذلك
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৪
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ প্রথম পরিচ্ছেদঃ ওযুর ফযীলত ও পূর্ণরূপে ওযু প্রসঙ্গে
(১৮৪) আবূ উমামাহ (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যদি কোনো ব্যক্তি সালাতের উদ্দেশ্যে ওযুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, অতঃপর সে তার দুই হাতের তালু ধৌত করে তখন পানির প্রথম ফোঁটার সাথে তার দুই হাত থেকে তার পাপ পড়ে যায়। এরপর যখন সে কুলি করে, নাকের মধ্যে পানি প্রবেশ করায় এবং নাক ঝেড়ে পরিষ্কার করে তখন পানির প্রথম ফোঁটার সাথে তার জিহবা ও দুই ঠোঁট থেকে তার পাপ পড়ে যায়। এরপর যখন সে তার মুখমণ্ডল ধৌত করে তখন পানির প্রথম ফোঁটার সাথে তার কান ও চোখের পাপ পড়ে যায়। অতঃপর যখন সে কুনুই পর্যন্ত দু' হাত এবং গোড়ালি পর্যন্ত দুই পা ধৌত করে তখন সে তার সকল গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে যায় এবং তার মা যেদিন তাকে প্রসব করে সে দিনের মত সে নিষ্পাপ হয়ে যায়। এরপর যখন সে সালাতে দণ্ডায়মান হয় তখন আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। আর যদি সে বসে থাকে তাহলে সে পাপমুক্ত হয়ে বসে থাকে।
[তাবারানী। হাইসুমী হাদীসটির সনদ গ্রহণযোগ্য বলে মত প্রকাশ করেছেন।]
كتاب الطهارة
الباب الأول فيما جاء في فضله وإسباغه
(184) عن أبي أمامة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال أيما رجل قام إلى وضوئه يريد الصلاة ثم غسل كفيه نزلت خطيئته من كفيه مع أول قطرة، فإذا مضمض واستنشق واستنثر نزلت خطيئته من لسانه وشفتيه مع أول قطرة، فإذا غسل وجهه نزلت خطيئته من سمعه وبصره مع أول قطرة، فإذا غسل يديه إلى المرفقين ورجليه إلى الكعبين سلمخ من كل ذنب هو له ومن كل خطيئة كهيئته يوم ولدته أمه، قال فإذا قام إلى الصلاة رفع الله بها درجته وإن قعد قعد سالما
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৫
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ প্রথম পরিচ্ছেদঃ ওযুর ফযীলত ও পূর্ণরূপে ওযু প্রসঙ্গে
(১৮৫) আবু উমামাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন কোনো মুসলিম ব্যক্তি ওযু করেন তখন তার কান, তার চোখ, তার দু' হাত ও তার পা থেকে তার পাপরাশী বের হয়ে যায়। এরপর যদি সে বসে থাকে তাহলে ক্ষমাপ্রাপ্ত অবস্থায় বসে থাকে।
(তাবারানী। হাইসুমী হাদীসটির সনদ হাসান বা গ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন।)
كتاب الطهارة
الباب الأول فيما جاء في فضله وإسباغه
(185) وعنه أيضا قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا توضأ الرجل المسلم خرجت ذنوبه من سمعه وبصره ويديه ورجليه فإذا قعد قعد مغفورا له
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৬
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ প্রথম পরিচ্ছেদঃ ওযুর ফযীলত ও পূর্ণরূপে ওযু প্রসঙ্গে
(১৮৬) শাহর ইবন হাওশাব আবূ উমামাহ (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমরা আবু উমামার নিকট গমন করি। তিনি তখন মসজিদের মাঝে বসে চুলের উকুন বের করছিলেন। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন কোনো মুসলিম ওযু করে তখন তার কান, চোখ, দু' হাত ও দু' পায়ের পাপ চলে যায়। শাহর বলেনঃ তিনি যখন আমাদেরকে এ হাদীস বলছিলেন তখন আবু যাবইয়া (একজন তাবেয়ী) আগমন করেন। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তিনি আপনাদেরকে কি হাদীস বলেছেন? আমরা উপরোক্ত হাদীসটির কথা উল্লেখ করি। তখন তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, আমি আমর ইবন্ আবাসাহ (রা)-কে এ হাদীস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বলতে শুনেছি। তিনি অতিরিক্ত আরো বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,যদি কোনো ব্যক্তি ওযু অবস্থায় ঘুমাতে যায়, অতঃপর রাত্রে তার ঘুম ভেঙ্গে যায় এবং সে আল্লাহর যিকির করে এবং আল্লাহর কাছে দুনিয়া বা আখিরাতের কোনো কল্যাণ বা মঙ্গল প্রার্থনা করে তাহলে অবশ্যই মহিমাময় পরাক্রমশালী আল্লাহ তাঁকে তা প্রদান করবেন।
(তাবারানী। হাইসুমী হাদীসটির সনদ হাসান বা গ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন।)
كتاب الطهارة
الباب الأول فيما جاء في فضله وإسباغه
(186) عن شهر بن حوشب عن أبي أمامة قال 1 أتيناه فإذا هو جالس يتفلى في جوف المسجد، فقال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا توضأ المسلم ذهب الإثم
من سمعه وبصره ويديه ورجليه، قال فجاء أبو ظبية وهو يحدثنا فقال ما حدثكم؟ فذكرنا له الذي حدثنا، قال فقال أجل، سمعت عمرو بن عبسة ذكره عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وزاد فيه، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما من رجل يبيت على طهر ثم يتعار من الليل فيذكر ويسأل الله عز وجل خيرا من خير الدنيا والآخرة إلا آتاه الله عز وجل إياه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৭
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ প্রথম পরিচ্ছেদঃ ওযুর ফযীলত ও পূর্ণরূপে ওযু প্রসঙ্গে
(১৮৭) আবদুল্লাহ আস-সুনাবিহী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন কোনো বান্দা ওযু করেন, তখন তিনি কুলি করলে পাপ-অন্যায় তার মুখ থেকে বের হয়ে যায়। অতঃপর যখন তিনি নাক পরিষ্কার করেন তখন পাপ-অন্যায় তার নাক থেকে বের হয়ে যায়। অতঃপর যখন তিনি তার মুখমণ্ডল ধৌত করেন তখন পাপ-অন্যায় তার মুখ থেকে বের হয়ে যায়, এমনকি তার দুই চোখের পাপড়ির নিচ থেকেও বের হয়ে যায়। অতঃপর যখন তিনি হাত ধোন তখন তার পাপ-অন্যায় দু' হাত থেকে বের হয়ে যায়, এমনকি তার দু' হাতের নখগুলোর নিচ থেকেও বের হয়ে যায়। অতঃপর যখন তার মাথা মাসেহ করেন (অন্য বর্ণনায় মাথা ও কান মাসেহ করেন) তখন পাপ-অন্যায় তার মাথা থেকে বের হয়ে যায়, এমনকি তার দু' পায়ের নখের নিচ থেকেও বের হয়ে যায়। এরপর তার মসজিদে গমন করা এবং সালাত আদায় করা তার জন্য অতিরিক্ত ইবাদত বলে গণ্য হয়।
(অন্য বর্ণনায় আছে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কেউ কুলি করলে ও নাক পরিষ্কার করলে তার পাপ-অন্যায় তার মুখ ও নাক থেকে বের হয়ে যায়। আর কেউ তার মুখমণ্ডল ধৌত করলে তার পাপ-অন্যায় তার দুই চোখের পাপড়ি দিয়ে বের হয়ে যায়। আর কেউ তার দুই হাত ধৌত করলে তার নখ দিয়ে বা নখের নিচ দিয়ে তার পাপ-অন্যায় বের হয়ে যায়। আর কেউ মাথা ও দুই কান মাসাহ করলে তার পাপ-অন্যায় তার মাথা দিয়ে বা তার কানের চুল দিয়ে বের হয়ে যায়। আর কেউ তার দুই পা ধৌত করলে তার পাপ-অন্যায় তার নখ দিয়ে বা নখের নিচ দিয়ে বের হয়ে যায়। এরপর মসজিদের দিকে তার পদক্ষেপগুলো নফল বা অতিরিক্ত কর্মে পরিণত হয়।
(তৃতীয় বর্ণনায় আছে) যে ব্যক্তি কুলি করবে এবং নাক পরিষ্কার করবে তার পাপ ও গুনাহ্ তার নাক দিয়ে বের হয়ে যায়।
(মালিক, নাসাঈ, হাকিম। হাকিম হাদীসটিকে সহীহ্ বলে উল্লেখ করেছেন।)
كتاب الطهارة
الباب الأول فيما جاء في فضله وإسباغه
(187) عن عبد الله الصنابحي 1 أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال إذا توضأ العبد فمضمض خرجت الخطايا من فيه، فإذا استنثر خرجت الخطايا من أنفه
فإذا غسل وجهه خرجت الخطايا من وجهه حتى تخرج من تحت أشفار عينيه 1 فإذا غسل يديه خرجت خطاياه من يديه حتى تخرج من تحت أظفار يديه، فإذا مسح رأسه (وفي رواية وأذنيه) خرجت الخطايا من رأسه حتى تخرج من تحت أظفار رجليه، ثم كان مشيه إلى المسجد وصلاته نافلة له (وعنه من طريق آخر) حدثنا عبد الله حدثني أبي ثنا أبو سعيد مولى بني هاشم ثنا محمد بن مطرف أبو غسان ثنا زيد بن أسلم عن عطاء بن يسار عن أبي عبد الله الصنابحي 2 أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال من مضمض واستنشق خرجت خطاياه من فيه وأنفه، ومن غسل وجهه خرجت خطاياه من أشفار عينيه، ومن غسل يديه خرجت خطاياه من أظفاره أو من تحت أظفاره، ومن مسح رأسه وأذنيه خرجت خطاياه من رأسه أو شعر أذنيه، ومن غسل رجليه خرجت خطاياه من أظفاره أو من تحت أظفاره، ثم كانت خطاه إلى المسجد نافلة (ومن طريق ثالث) حدثنا عبد الله حدثني أبي ثنا حسين بن محمد ثنا محمد بن مطرف عن زيد بن أسلم عن عطاء بن يسار عن أبي عبد الله الصنابحي عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من تمضمض واستنثر خرجت خطاياه من أنفه فذكر معناه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৮
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ প্রথম পরিচ্ছেদঃ ওযুর ফযীলত ও পূর্ণরূপে ওযু প্রসঙ্গে
(১৮৮) উসমান ইবন্ আফফান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সুন্দররূপে ওযু করবে তার পাপ-অন্যায়গুলো তার দেহ থেকে বেরিয়ে যাবে, এমনকি তার নখগুলোর নিচ থেকেও বেরিয়ে যাবে। (মুসলিম)
كتاب الطهارة
الباب الأول فيما جاء في فضله وإسباغه
(188) عن عثمان بن عفان رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من توضأ فأحسن الوضوء خرجت خطاياه من جسده حتى تخرج من تحت أظفاره
হাদীস নং: ১৮৯
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ প্রথম পরিচ্ছেদঃ ওযুর ফযীলত ও পূর্ণরূপে ওযু প্রসঙ্গে
(১৮৯) উকবাহ ইবন্ আমির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আজ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামে এমন কিছু বলব না যা তিনি বলেন নি। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আমার নামে এমন কথা বলবে যা আমি বলি নি, তাকে জাহান্নামের মধ্যে একটি বাড়িতে অবস্থান করতে হবে। আর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, আমার উম্মতের দুই ব্যক্তির একজন রাত্রে কষ্ট করে ঘুম থেকে নিজেকে উঠায় এবং (ঘুমজনিত) কষ্টের মধ্যেই ওযু করতে যায়। এ সময়ে তার ওপর শয়তানের কয়েকটি গিঁট দেওয়া থাকে। যখন সে ওযু করতে বসে তার দুই হাত ধৌত করে তখন একটি খিট খুলে যায়। আর যখন সে তার মুখমণ্ডল ধৌত করে তখন একটি গিট খুলে যায়। আর যখন সে মাথা মাসাহ করে তখন একটি গিট খুলে যায়। আর যখন সে তার দুই পা ধৌত করে তখন একটি গিট খুলে যায়। তখন মহিমাময় পরাক্রান্ত প্রভু পর্দার অন্তরালে যারা আছেন তাঁদেরকে (ফেরেশতাগণকে) বলেনঃ আমার এই বান্দাকে দেখ! সে কিভাবে নিজেকে ক্রমান্বয়ে কষ্ট করে ইবাদতের জন্য প্রস্তুত করছে। এই বান্দা আমার কাছে যা প্রার্থনা করবে তা-ই তাকে দেওয়া হবে।
[তাবারানী। হাইসুমী বলেন, হাদীসটির দুইটি সনদের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য।]
كتاب الطهارة
الباب الأول فيما جاء في فضله وإسباغه
(189) عن عقبة بن عامر رضي الله عنه قال لا أقول اليوم على رسول الله صلى الله عليه وسلم ما لم يقل، سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من قال 1 علي ما لم أقل فليتبوأ بيتا من جهنم وسمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول رجلان من أمتي يقوم أحدهما من الليل فيعالج نفسه إلى الطهور وعليه عقد 2 فيتوضأ، فإذا وضأ يديه انحلت عقدة وإذا وضأ وجهه انحلت عقدة، وإذا مسح رأسه
انحلت عقدة وإذا وضأ رجليه انحلت عقدة فيقول الرب عز وجل للذين وراء الحجاب 1 انظروا إلى عبدي هذا يعالج نفسه، ما سألني عبدي هذا فهو له 2
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯০
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ প্রথম পরিচ্ছেদঃ ওযুর ফযীলত ও পূর্ণরূপে ওযু প্রসঙ্গে
(১৯০) উসমান ইবন্ আফফান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি একদিন পানি চেয়ে নিয়ে ওযু করেন। তিনি কুলি করেন, নাক পরিষ্কার করেন অতঃপর তাঁর মুখমণ্ডল ধৌত করেন তিনবার করে, দুই হাত ধৌত করেন তিনবার তিনবার করে, তারপর মাথা এবং দুই পায়ের উপরিভাগ মাসেহ করেন। অতঃপর তিনি হেসে উঠেন। এরপর তিনি তাঁর সঙ্গীগণকে বলেন, আমি কি জন্য হাসলাম তা তোমরা আমাকে জিজ্ঞাসা করবে না? তাঁরা বলেন, হে আমীরুল মু'মিনীন! কি জন্য আপনি হাসলেন? তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখছিলাম তিনি এ স্থানের কাছেই পানি চেয়ে নিয়েছিলেন এবং আমি যেমন ওযু করলাম সেইরূপ ওযু করেছিলেন। এরপর তিনি হাসছিলেন এবং বলেছিলেনঃ আমি কি জন্য হাসলাম তা জানতে চাও না? সমবেত সাহাবীগণ বলেছিলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কেন হাসলেন? তিনি বলেন, যখন বান্দা ওযুর পানি চেয়ে নেয় এবং তার মুখমণ্ডল ধৌত করে তখন আল্লাহ তার মুখের দ্বারা অর্জিত সকল পাপ ক্ষমা করে দেন। এরপর যখন সে তার দু' হাত ধৌত করে তখনও অনুরূপভাবে, এবং যখন মাথা মাসাহ করে তখনও অনুরূপভাবে এবং যখন তার পা দুইটি সে পবিত্র করে তখনও অনুরূপভাবে (তাকে ক্ষমা করা হয়।)
আবু ইয়ালা, বাযযার। হাইসামী ও মুনযিরী হাদীসটির সনদ সহীহ্ বলে উল্লেখ করেছেন।
كتاب الطهارة
الباب الأول فيما جاء في فضله وإسباغه
(190) عن حمران بن أبان عن عثمان بن عفان رضي الله عنه أنه دعا بماء فتوضأ ومضمض واستنشق ثم غسل وجهه ثلاثا وذراعيه ثلاثا ومسح برأسه وظهر قدميه ثم ضحك فقال لأصحابه ألا تسألوني عما أضحكني؟ فقالوا مم ضحكت يا أمير المؤمنين؟ قال رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم دعا بماء قريبا من هذه البقعة فتوضأ كما توضأت ثم ضحك، فقال ألا تسألوني ما أضحكني، فقالوا ما أضحكك يا رسول الله؟ فقال إن العبد إذا دعا بوضوء فغسل وجهه حط الله عنه كل خطيئة أصابها بوجهه، فإذا غسل ذراعيه كان كذلك، وإن مسح برأسه كان كذلك، وإذا طهر قدميه كان كذلك
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯১
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ প্রথম পরিচ্ছেদঃ ওযুর ফযীলত ও পূর্ণরূপে ওযু প্রসঙ্গে
(১৯১) আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন কোনো মুসলিম বা মু'মিন ওযু করে, তখন সে তার মুখমণ্ডল ধৌত করলো সে যত পাপের দিকে তার চোখ দিয়ে দৃষ্টিপাত করেছে সকল পাপ পানির সাথে বা পানির শেষ ফোঁটার সাথে তার মুখ থেকে বের হয়ে যায়। অথবা তিনি অনুরূপ কথা বলেন। অতঃপর যখন সে তার দু'হাত ধৌত করে তখন হাত দিয়ে যত পাপ করেছে সব পাপ তার দুই হাত থেকে পানির সাথে বা পানির শেষ ফোঁটার সাথে বের হয়ে যায়। এভাবে সে গুনাহসমূহ থেকে পবিত্র হয়ে বের হয়।
(মুসলিম ও অন্যান্য)
كتاب الطهارة
الباب الأول فيما جاء في فضله وإسباغه
(191) عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال إذا توضأ العبد المسلم أو المؤمن فغسل وجهه خرجت من وجهه كل خطيئة نظر
إليها بعينه مع الماء أو مع آخر قطرة الماء أو نحو هذا، فإذا غسل يديه خرجت من يده كل خطيئة بطش بها مع الماء أو مع آخر قطرة الماء حتى يخرج نقيا من الذنوب
হাদীস নং: ১৯২
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ (২) পরিচ্ছেদঃ ওযু করা, সেই ওযুতে মসজিদে গমন ও সালাত আদায় করার ফযীলত বা মর্যাদা প্রসঙ্গে
(১৯২) আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যদি কেউ পরিপূর্ণরূপে ও সুন্দর করে ওযু করে অতঃপর মসজিদে গমন করে, তার মসজিদে সালাত আদায় ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যই থাকে না, আল্লাহ তার জন্য আনন্দিত হন যেরূপ আনন্দিত হন প্রবাসী বাড়িতে ফিরলে তার পরিজনেরা।
[ইবন্ খুযাইমাহ]
كتاب الطهارة
(2) باب في فضل الوضوء والمشي إلى المساجد والصلاة بهذا الوضوء
(192) عن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يتوضأ أحد فيحسن وضوءه ويسبغه ثم يأتي المسجد لا يريد إلا الصلاة فيه إلا تبشبش 1 الله به كما يتبشبش أهل الغائب بطلعته
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৩
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ (২) পরিচ্ছেদঃ ওযু করা, সেই ওযুতে মসজিদে গমন ও সালাত আদায় করার ফযীলত বা মর্যাদা প্রসঙ্গে
(১৯৩) আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যা দ্বারা আল্লাহ পাপরাশী ক্ষমা করেন এবং পুণ্য বৃদ্ধি করেন তা কি তোমাদেরকে জানিয়ে দেব না? সাহাবীগণ বলেন: হে আল্লাহর রাসূল! অবশ্যই জানাবেন। তিনি বলেন, কষ্ট সত্তেও পূর্ণরূপে ওযু করা, মসজিদের দিকে বেশি বেশি পদক্ষেপ নেয়া এবং এক সালাতের পরে অন্য সালাতের জন্য অপেক্ষা করা।
[ইবন্ হিব্বান, আবু ইয়ালা। সনদে দুর্বলতা আছে।]
كتاب الطهارة
(2) باب في فضل الوضوء والمشي إلى المساجد والصلاة بهذا الوضوء
(193) عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ألا أدلكم على ما يكفر الله به الخطايا ويزيد به في الحسنات، قالوا بلى يا رسول الله قال
إسباغ الوضوء على المكاره وكثرة الخطا إلى المساجد وانتظار الصلاة بعد الصلاة
হাদীস নং: ১৯৪
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ (২) পরিচ্ছেদঃ ওযু করা, সেই ওযুতে মসজিদে গমন ও সালাত আদায় করার ফযীলত বা মর্যাদা প্রসঙ্গে
(১৯৪) আবূ হুরায়রা (রা) ও নবী (সা) থেকে অনুরূপ অর্থে আরেকটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। এই হাদীসের শেষে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আর এটিই হল জিহাদের প্রহরা।
(মুসলিম ও অন্যান্য।)
كتاب الطهارة
(2) باب في فضل الوضوء والمشي إلى المساجد والصلاة بهذا الوضوء
(194) عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله وزاد فذلك الرباط 1
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৫
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ (২) পরিচ্ছেদঃ ওযু করা, সেই ওযুতে মসজিদে গমন ও সালাত আদায় করার ফযীলত বা মর্যাদা প্রসঙ্গে
(১৯৫) উকবাহ ইবন আমির আল-জুহানী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যখন কোনো মানুষ ওযু করে মসজিদে আগমন করে তখন মহা সম্মানিত আল্লাহ তাঁর প্রতি পদক্ষেপের জন্য দশটি পুণ্য লিখেন। এরপর যখন সে সালাত আদায় করার পর মসজিদের মধ্যে বসে থাকে তখন সে একজন নফল সালাতে রত রোযাদারের সমমর্যাদা লাভ করে। যতক্ষণ না সে মসজিদ থেকে ফিরে আসে ততক্ষণ সে এই মর্যাদা ও পুণ্যের মধ্যে থাকে।
(আবূ ইয়ালা, তাবারানী, ইবনু খুযাইমাহ, ইবন্ হিব্বান। সনদে দুর্বলতা আছে।)
كتاب الطهارة
(2) باب في فضل الوضوء والمشي إلى المساجد والصلاة بهذا الوضوء
(195) عن عقبة بن عامر رضي الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول إذا توضأ الرجل فأتى المسجد كتب الله عز وجل له بكل خطوة يخطوها عشر حسنات فإذا صلى في المسجد ثم قعد فيه كان كالصائم القانت 2 حتى يرجع
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৬
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ (২) পরিচ্ছেদঃ ওযু করা, সেই ওযুতে মসজিদে গমন ও সালাত আদায় করার ফযীলত বা মর্যাদা প্রসঙ্গে
(১৯৬) কা'ব ইবন উজরাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কেউ যখন সুন্দররূপে ওযু করে অতঃপর সালাতের উদ্দেশ্যে বের হয় তখন যেন সে তার দুই হাত একত্র করে আঙুলগুলি পরস্পরের মধ্যে প্রবেশ না করায়; কারণ সে (গমনরত অবস্থায়ও) সালাতের মধ্যেই থাকে।
[আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ, ইবন হিব্বান। মুনযিরী বলেন, আহমদ ও আবু দাউদের সনদ নির্ভরযোগ্য।]
كتاب الطهارة
(2) باب في فضل الوضوء والمشي إلى المساجد والصلاة بهذا الوضوء
(196) عن كعب بن عجرة رضي الله عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم
يقول إذا توضأ أحدكم فأحسن وضوءه ثم خرج عامدا إلى الصلاة فلا يشبك 1 بين يديه فإنه في الصلاة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৭
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ (২) পরিচ্ছেদঃ ওযু করা, সেই ওযুতে মসজিদে গমন ও সালাত আদায় করার ফযীলত বা মর্যাদা প্রসঙ্গে
(১৯৭) উসমান ইবন্ আফফান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যদি কেউ পরিপূর্ণরূপে ওযু করে অতঃপর সে ফরয সালাত আদায় করতে গমন করে এবং তা আদায় করে তাহলে তার পাপ ক্ষমা করা হয়।
(মুসলিম ও অন্যান্য।)
كتاب الطهارة
(2) باب في فضل الوضوء والمشي إلى المساجد والصلاة بهذا الوضوء
(197) عن عثمان بن عفان رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من توضأ فأسبغ الوضوء ثم مشى إلى صلاة مكتوبة فصلاها غفر له ذنبه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৮
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ (২) পরিচ্ছেদঃ ওযু করা, সেই ওযুতে মসজিদে গমন ও সালাত আদায় করার ফযীলত বা মর্যাদা প্রসঙ্গে
(১৯৮) তাঁর (উসমান ইবন আফফান (রা) থেকে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি তিনি এই মজলিসে বসে ওযু করছিলেন এবং সুন্দররূপে তা সম্পাদন করেছিলেন। এরপর বলছিলেন, যে ব্যক্তি আমার ওযুর মত ওযু করবে, এরপর মসজিদে গমন করবে সেখানে দুই রাক'আত সালাত আদায় করবে তার পূর্ববর্তী পাপসমূহ ক্ষমা করা হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেনঃ তবে, তোমরা ধোঁকায় পড়ো না। [অর্থাৎ ক্ষমার কথা শুনে ইচ্ছাকৃতভাবে পাপে লিপ্ত হবে না। শয়তান যেন তোমাদেরকে ক্ষমার প্রলোভন দেখিয়ে পাপে লিপ্ত না করে। মু'মিন সর্বদা পাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করবে। তা সত্ত্বেও ছোটখাট সাধারণ পাপ-অন্যায় হয়ে যাবে, যেগুলো এ সকল কর্মের মাধ্যমে আল্লাহ ক্ষমা করবেন।
[বাযযার। হাইসুমী হাদীসটির সনদ সহীহ বলে উল্লেখ করেছেন।]
كتاب الطهارة
(2) باب في فضل الوضوء والمشي إلى المساجد والصلاة بهذا الوضوء
(198) وعنه أيضا قال رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في هذا المجلس توضأ فأحسن الوضوء ثم قال من توضأ مثل وضوئي هذا ثم أتى المسجد فركع
فيه ركعتين غفر له ما تقدم من ذنبه وقال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تغتروا 1
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৯
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ (৩) পরিচ্ছেদ: ওযু ও ওযুর পরে সালাত আদায়ের ফযীলত প্রসঙ্গে
(১৯৯) উসমান ইবন আফফান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন বান্দা ওযু করে অতঃপর সালাতে প্রবেশ করে এবং তার সালাতকে পূর্ণরূপে আদায় করে তখন সে সালাত থেকে এমনভাবে পাপমুক্ত হয়ে বের হয় যেমন সে তার মায়ের পেট থেকে বের হয়েছিল।
(শুধুমাত্র আহমদ। সনদের একজন বর্ণনাকারী কিছুটা দুর্বল।)
كتاب الطهارة
(3) باب ما جاء في فضل الوضوء والصلاة عقبه
(199) عن عثمان بن عفان رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن العبد إذا توضأ فأتم وضوءه ثم دخل في صلاته فأتم صلاته خرج من صلاته كما خرج من بطن أمه من الذنوب
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২০০
পবিত্রতা অর্জন
পরিচ্ছেদঃ (৩) পরিচ্ছেদ: ওযু ও ওযুর পরে সালাত আদায়ের ফযীলত প্রসঙ্গে
(২০০) তাঁর (উসমান ইবন আফফান (রা)) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি ওযু করবে এবং সুন্দররূপে তা সম্পাদন করবে, অতঃপর সে সালাতে প্রবেশ করবে এবং সালাত আদায় করবে, তার সেই সালাত থেকে পরবর্তী সালাত আদায় করা পর্যন্ত গুনাহ ক্ষমা করা হবে।
(মুসলিম)
كتاب الطهارة
(3) باب ما جاء في فضل الوضوء والصلاة عقبه
(200) وعنه أيضا قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول من توضأ فأحسن الوضوء ثم دخل فصلى غفر له ما بينه بين الصلاة الأخرى حتى يصليها
tahqiq

তাহকীক: