মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩০৩ টি
হাদীস নং: ১২০
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল-কুরআন সাত রীতিতে নাজিল হয়েছে।
১২০। উম্মে আইয়ুব (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কুরআন সাতটি উচ্চারনরীতিতে নাজিল হয়েছে, তুমি এর যে কোন একটি রীতিতে তিলাওয়াত করলেই তুমি প্রতিদান পাবে।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب نزول القرآن على سبعة أحرف
عن أم أيوب قالت أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال نزل القرآن على سبعة أحرف أيها قرأت أجزاك
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২১
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল-কুরআন সাত রীতিতে নাজিল হয়েছে।
১২১। উবাদা ইব্ন সামিত (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উবাঈ ইবন কা'ব (রা) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল-কুরআন সাতটি উচ্চারণরীতিতে নাজিল হয়েছে।
নাসাঈ, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।
নাসাঈ, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب نزول القرآن على سبعة أحرف
عن عبادة أن أبي بن كعب قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم انزل القرآن على سبعة أحرف
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২২
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল-কুরআন সাত রীতিতে নাজিল হয়েছে।
১২২। আব্দুল্লাহ ইব্ন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জিবরাঈল (আ) আমাকে একটি উচ্চারণরীতি পড়ে শোনাতেন, আমি তা আয়ত্ব করতাম, তারপর আমি আরেকটি (রীতি) দাবী করতাম, তিনি আমাকে আরেকটি রীতিতে পড়ে শোনাতেন, এভাবে সাতটি উচ্চারণরীতিতে গিয়ে থেমে যেতেন।
ইমাম যুহরী (রা) বলেন, এ সকল উচ্চারণরীতি একই বিষয়ে। এতে কোন হালাল হারামের পার্থক্য হয় না।
(বুখারী, মুসলিম, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
ইমাম যুহরী (রা) বলেন, এ সকল উচ্চারণরীতি একই বিষয়ে। এতে কোন হালাল হারামের পার্থক্য হয় না।
(বুখারী, মুসলিম, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب نزول القرآن على سبعة أحرف
عن ابن عباس عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال اقرأني جبريل عليه السلام على حرف فراجعته فلم أزل أستزيده ويزيدني فانتهى إلى سبعة أحرف (2) قال الزهري وانما هذه الأحرف في الأمر الواحد وليس يختلف في حلال ولا حرام
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৩
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল-কুরআন সাত রীতিতে নাজিল হয়েছে।
১২৩। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কুরআন সাতটি উচ্চারণরীতিতে নাজিল হয়েছে। যেমন এক বর্ণনামতে عَلِيمًا حَكِيمًا - غَفُوْرًا رَحِيمًا অন্য বর্ণনামতে, عَلِيمًا حَكِيمًا غَفُوْرًا، رَحِيمًا
(নাসাঈ, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
(নাসাঈ, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب نزول القرآن على سبعة أحرف
عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أنزل القرآن على سبعة أحرف عليما حكيما غفورا رحيما (وفي رواية) عليم حكيم غفور رحيم
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৪
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল-কুরআনের সর্ব শেষ অবতীর্ণ সূরা ও আয়াত।
১২৪। বারা ইব্ন আযিব (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওপর অবতীর্ণ সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ সূরা হচ্ছে সূরা বারাআত, আর সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত হল সূরা নিসার শেষ আয়াত يَسْتَفْتُونَكَ ... بِكُلِّ شَيْ عَلِيْمٍ
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب آخر مانزل من سورة القرآن وآياته
عن البراء قال آخر سورة نزلت على النبي صلى الله عليه وسلم كاملة براءة وآخر آية نزلت خاتمة سورة النساء يستفتونك الخ السورة
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৫
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল-কুরআনের সর্ব শেষ অবতীর্ণ সূরা ও আয়াত।
১২৫। জুবায়র ইবন নুফায়র (র) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রা) এর নিকট প্রবেশ করলে তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি সূরা মায়িদা পড়? তিনি (র) বলেন, আমি বললাম হ্যাঁ, আয়েশা (রা) বলেন, তা হচ্ছে সর্বশেষ অবতীর্ণ সূরা। তাই তোমরা তাতে যা হালাল পাবে তাকে হালাল মনে করবে আর যা হারাম পাবে তাকে হারাম মনে করবে। আর আমি তাঁকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্বভাব-চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তখন তিনি বললেন, কুরআন (হচ্ছে তাঁর চরিত্রের বাস্তব উদাহরণ)।
(তিরমিযী, মুস্তাদরাক, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
(তিরমিযী, মুস্তাদরাক, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب آخر مانزل من سورة القرآن وآياته
عن جبير بن نفير قال دخلت على عائشة فقالت هل تقرأ سورة المائدة؟ قال قلت نعم قالت فإنها آخر سورة نزلت (4) فما وجدتم فيها من حلال فاستحلوه وما وجدتم فيها من حرام فحرموه وسألتها عن خلق رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت القرآن
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৬
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল-কুরআনের সর্ব শেষ অবতীর্ণ সূরা ও আয়াত।
১২৬। সাঈদ ইবন মুসায়য়িব (রা) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, উমার (রা) বলেছেন, আল-কুরআনের সর্বশেষ অবতীর্ণ আয়াত হচ্ছে সুদ সম্পর্কিত আয়াত(১) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যার ব্যাখ্যা দেয়ার পূর্বের পরলোকগমন করেছেন, সুতরাং তোমরা সুদ ও সুদ সংশ্লিষ্ট সকল কিছুই পরিত্যাগ কর।(২)
টিকা: ১. সূরা বাকারা, আয়াত নং ২৭৫-২৭৮
টিকা: ২. ইবন মাজাহ।
টিকা: ১. সূরা বাকারা, আয়াত নং ২৭৫-২৭৮
টিকা: ২. ইবন মাজাহ।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب آخر مانزل من سورة القرآن وآياته
عن سعيد بن المسيب قال قال عمر رضي الله عنه أن آخر ما نزل من القرآن آية الربا (6) وأن رسول الله صلى الله عليه وسلم قبض ولم يفسرها فدعوا الربا والريبة
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৭
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জিবরাঈল (আ) ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মারে-এর পারস্পরিক কুরআন পড়ে শোনানো প্রসঙ্গ
১২৭। আব্দুল্লাহ ইব্ন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) প্রতি রমজানে জিবরাঈল (আ) এর নিকট কুরআন পূর্ণাঙ্গরূপে একবার উপস্থাপন করতেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে রাতে তা উপস্থাপন করতেন সে দিন রাতে তিনি বেগবান বায়ু অপেক্ষাও বেশি দানশীল হতেন। যেদিন তার কাছে যা কিছু চাওয়া হত তাই দান করতেন। আর যে বছর তিনি ইন্তিকাল করলেন সেই বছর রমজান মাসে তিনি তার নিকট দু'বার উপস্থাপন করেছিলেন।(৩)
টিকা: ৩. তিরমিযী।
টিকা: ৩. তিরমিযী।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب معارضة جبريل والنبي صلى الله عليه وسلم للقرآن
عن ابن عباس قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعرض (2) الكتاب على جبريل عليه السلام في كل رمضان (3) فإذا أصبح رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليلة التي يعرض فيها ما يعرض أصبح وهو أجود من الريح المسلة (4) لا يسئل عن شيء إلا اعطاه فلما كان في الشهر الذي هلك (5) بعده عرض عليه عرضتين
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৮
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জিবরাঈল (আ) ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মারে-এর পারস্পরিক কুরআন পড়ে শোনানো প্রসঙ্গ
১২৮। মুজাহিদ (র) সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন কিরাআতটি সর্বশেষ? আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) এর কিরাআত নাকি যায়দ (রা)-এর কিরাআত? মুজাহিদ (র) বলেন, আমরা বললাম, যায়দ (রা) এর কিরাআত। ইবন আব্বাস (রা) বলেন না, মনে রেখো, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিবরাঈল (আ) এর কাছে প্রতি বছর একবার আল কুরআন সম্পূর্ণটা উপস্থাপন করতেন, আর যে বছর তিনি ইন্তেকাল করলেন, সে বছর তিনি দু'বার উপস্থাপন করলেন। আর শেষ কিরাআত ছিল আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা)-এর অনুসৃত কিরাআত। (অপর এক সূত্রে) আবু জাবয়ান (র) সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমরা কোন কিরাআতকে প্রথম কিরাআত মনে করো? উপস্থিত লোকজন বলল, আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) এর কিরাআত। তিনি (রা) বলেন, না, বরং তা শেষ কিরাআত। জিবরাঈল (আ) প্রতি বছর একবার সম্পূর্ণ কুরআন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থাপন করতেন, তিনি যে বছর ইন্তেকাল করলেন, সে বছর দু'বার উপস্থাপন করলেন, আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ তখন তা প্রত্যক্ষ করেছিলেন, তাই তাকে কোন অংশ রহিত করা হয়েছে আর কোন অংশ পরিবর্তন করা হয়েছে ইবন মাসউদ (রা) তা আয়ত্ত করেছিলেন।
(বাযযার, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
(বাযযার, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب معارضة جبريل والنبي صلى الله عليه وسلم للقرآن
عن ابن عباس قال قال (2) أي القراءتين كانت أخيرا؟ أقراءة عبد الله (يعني ابن مسعود) أو قراءة زيد؟ (3) قال قلنا قراءة زيد قال لا ألا إن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يعرض القرآن على جبريل كل عام مرة فلما كان في العام الذي قبض فيه عرضه عليه مرتين وكان آخر القراءة قراءة عبد الله (4) (ومن طريق ثان) (5) عن أبي ظبيان عن ابن عباس قال أي القراءتين تعدون أول؟ قالوا قراءة عبد الله قال لا بل هي الآخرة كان يعرض القرآن على رسول الله صلى الله عليه وسلم في كل عام مرة فلما كان العام الذي قبض فيه عرض عليه مرتين فشهد عبد الله فعم ما نسخ منه وما بدل
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৯
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জিবরাঈল (আ) ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মারে-এর পারস্পরিক কুরআন পড়ে শোনানো প্রসঙ্গ
১২৯। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, জিবরাঈল (আ) প্রতি বছর সম্পূর্ণ কুরআন একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থাপন করতেন। আর যে বছর তিনি ইন্তেকাল করলেন সে বছর তিনি তাঁর নিকট দু'বার উপস্থাপন করলেন।
(বুখারী, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
(বুখারী, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب معارضة جبريل والنبي صلى الله عليه وسلم للقرآن
عن أبي هريرة قال كان يعرض (يعني جبريل) على النبي صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم القرآن في كل سنة مرة فلما كان العام الذي قبض فيه عرض عليه مرتين
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩০
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কুরআনের কিছু অংশ রহিত করণের বৈধতা এবং তার দলীল।
১৩০। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর (রা) বলেছেন, আলী (রা) আমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা ভাল বিচারক, উবাঈ ইবন কা'ব আমাদেরকে কুরআনের সর্বাপেক্ষা ভাল কারী। আর আমরা উবাঈ (রা) এর বহু ভুল ত্রুটি পরিত্যাগ করে থাকি, যদিও উবাঈ (রা) বলেন আমি এ কথা রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট থেকে শুনেছি, (অপর এক বর্ণনামতে, আমি একথা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পবিত্র কণ্ঠ থেকে শুনেছি) তাই আমি তা কোন কারণে ত্যাগ করব না। অথচ মহান আল্লাহ বলেছেন, "আমি কোন আয়াত রহিত করলে কিংবা বিস্মৃত হতে দিলে তা হতে উত্তম কিংবা তার সমতুল্য কোন আয়াত আনায়ন করি।(১) আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) হতে অপর একসূত্রে বর্ণিত আছে,) তিনি বলেন, উমার (রা) রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর মিম্বারে উঠে আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন, তখন তিনি বললেন আলী (রা) আমার মাঝে সর্বাপেক্ষা বড় বিচারক। আর উবাঈ ইবন কা'ব (রা) আমাদের মধ্যে কুরআনের সর্বাপেক্ষা বড় ক্বারী। আমি উবাঈ (রা) এর কোন কোন কথা ছেড়ে দেই উবাই (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে অনেক কিছু শুনেছেন, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট থেকে যা শুনেছি তা পরিত্যাগ করব না, যদিও উবাই (রা) এর তা শোনার পর কুরআনের কিছু কিছু নাজিল হয়েছে। (যা তার কাছে পৌছেনি)।
(বুখারী, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা: ১. সূরা বাকারা, আয়াত ১০৬।
(বুখারী, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা: ১. সূরা বাকারা, আয়াত ১০৬।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب جواز نسخ بعض القرآن والدليل على ذلك
عن ابن عباس قال قال عمر على أقضانا (2) وأبي أقرؤنا (3) وإنا لندع كثيرا من لحن أبي (4) وأبي يقول سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم (وفي رواية أخذت من فم رسول الله صلى الله عليه وسلم فلا ادعه لشيء (5) والله تبارك وتعالى يقول (ما ننسخ من آية أو ننسها نأت بخير منها (6) أو مثلها) (وعنه من طريق ثان) (7) قال خطبنا عمر رضي الله عنه على منبر رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال علي أقضانا وأبي أقرؤنا وإنا لندع من قول أبي شيئا وان أبيا سمع من رسول الله صلى الله عليه وسلم أشياء وأبي يقول لا أدع ما سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد نزل بعد أبي كتاب
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩১
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কুরআনের কিছু অংশ রহিত করণের বৈধতা এবং তার দলীল।
১৩১। উবাঈ ইবন কা'ব (রা) তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে নিয়ে সালাতুল ফজর আদায় করলেন এবং তাতে একটি আয়াত ছেড়ে দিলেন। তখন আমার পিতা আসলেন-আর তিনি সালাতের কিছু অংশ পাননি- অতঃপর আমার পিতা সালাত সমাপ্ত করে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ আয়াত কি রহিত হয়ে গেছে নাকি আপনি ভুলে গেছেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, রহিত হয়নি, আমি ভুলে গেছি।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب جواز نسخ بعض القرآن والدليل على ذلك
عن أبي بن كعب قال صلى بنا النبي صلى الله عليه وسلم الفجر وترك آية فجاء أبي وقد فاته بعض صلاة فلما انصرف (1) قال يا رسول الله نسخت هذه الآية أو أنيستها؟ (2) قال لا بل أنسيتها
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩২
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল-কুরআনে ছিল পরবর্তীতে রহিত করা হয়েছে এমন আয়াতের বিবরণ।
১৩২। যিরর ইবন হুবাইশ (র) হতে বর্ণিত, তিনি উবাঈ ইবন কাব (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি (রা) জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা সূরা আহযাব কত আয়াত তিলাওয়াত কর? তিনি (র) উত্তর দিলেন, সত্তরের চেয়ে কিছু বেশী। উবাঈ (রা) বলেন, আমি সূরাটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে তিলাওয়াত করেছি তা ছিল সূরা বাকারার মত অথবা তার চেয়েও অধিক দীর্ঘ এবং তাতে রজমের আয়াতও ছিল। যিরর ইবন হুবাইশ (র) অপর এর সূত্রে বর্ণিত) তিনি উবাঈ (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, উবাঈ ইব্ন কা'ব (রা) আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কিভাবে সূরা আহযাব তিলাওয়াত কর অথবা এর আয়াত সংখ্যা কত গণনা কর? তিনি (র) বলেন, আমি উত্তর দিলাম তিয়াত্তর আয়াত। যখন তিনি (রা) বলেন, কখনও না। আমি দেখেছি তা সূরা বাকারার সমপরিমাণ আর আমরা তাতে পড়েছিঃ বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা যখন যিনা করে তখন তাদেরকে রজম কর নিশ্চিত রূপে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত, আর আল্লাহ হলেন মহাজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান।
(মুস্তাদরাক, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
(মুস্তাদরাক, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ذكر آيات كانت في القرآن ونسخت
عن زر بن حبيش عن أبي بن كعب رضي الله عنه قال كم تقرءون (5) سورة الأحزاب؟ قال بضعا وسبعين آية قال لقد قرأتها مع رسول الله صلى الله عليه وسلم مثل البقرة أو أكثر منها وان فيها آية الرجم (وعنه من طريق ثان) (6) (ز) عن أبي أيضا قال قال لي ابي بن كعب كأين (7) تقرأ سورة الأحزاب أو كأين (8) تعدها؟ قال قلت له ثلاثا وسبعين آية (9) فقال قط لقد رأيتها وإنها لتعادل سورة البقرة ولقد قرأنها فيها الشيخ والشيخة إذا زنيا فاجموهما البتة نكالا من الله والله عليم حكيم
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৩
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল-কুরআনে ছিল পরবর্তীতে রহিত করা হয়েছে এমন আয়াতের বিবরণ।
১৩৩। কাছীর ইব্ন সালত (র) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাঈদ ইব্ন আ'স ও যায়দ ইব্ন সাবিত (রা) কুরআনের কপি তৈরি করতেন। তাঁরা যখন রজমের আয়াতে পৌছাল তখন যায়দ ইব্ন সাবিত (রা) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা যখন যিনা করে তখন তাদেরকে অবশ্যই রজম কর উমর (রা) বললেন, যখন এ আয়াতটি নাজিল হয় তখন আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গিয়ে তাকে বললাম আমাকে এটা লিখিয়ে দিন। বর্ণনাকারী শো’বা (র) বলেন, মনে হচ্ছিল উমর (রা) এটা অপছন্দ করেছেন। উমর (রা) বললেন, দেখছ না বৃদ্ধ যদি বিবাহ না করে তাকে দোররা মারা হয় এবং যুবক যদি বিয়ে করার পর যিনা করে তবে তাকে রজম করা হয়?
(মুস্তাদরাক অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
(মুস্তাদরাক অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ذكر آيات كانت في القرآن ونسخت
عن كثير بن الصلت قال كان ابن العاص (12) وزيد بن ثابت يكتبان المصاحف فمروا على هذه الآية فقال زيد سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول الشيخ والشيخة إذا زنيا فارجموهما البته (13) فقال عمر لما أنزلت هذه أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت اكتبنيها قال شعبة (14) فكأنه كره ذلك فقال عمر ألا ترى أن الشيخ اذا لم يحصن (1) جلد وان الشاب اذا زنا وقد أحصن
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৪
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল-কুরআনে ছিল পরবর্তীতে রহিত করা হয়েছে এমন আয়াতের বিবরণ।
১৩৪। রাসুল (ﷺ) এর সহধর্মিনী আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রজম ও বড় সন্তানকে দশবার দুধ পান করানো (১) সংক্রান্ত আয়াত নাজিল হল, অতঃপর তা আমার ঘরে খাটের নীচে একটি পৃষ্টায় লেখা অবস্থায় ছিল। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) যখন পীড়িত হয়ে পড়েন, তখন আমরা সে কাগজটির(২) কথা ভুলে গেলাম। তখনই আমাদের একটি গৃহপালিত পশু (ছাগল) সেখানে ঢুকে সেটি খেয়ে ফেলল।
(ইবন মাজাহ, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা: ১. এ সংক্রান্ত তিলাওয়াত ও হুকুম উভয়ই রহিত করা হয়েছে। উক্ত আয়াতে সন্তান বড় হলেও তাকে দশবার দুধ পান করানো বৈধ ছিল।
টিকা: ২. তিলাওয়াত ও হুকুম রহিত হওয়া আয়াত হিফাজত করা হলে তা আল-কুরআনের আয়াতের সাথে মিলে যেতে পারে, তাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা সংরক্ষণের ব্যাপারে আপত্তি করেছিল।
(ইবন মাজাহ, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা: ১. এ সংক্রান্ত তিলাওয়াত ও হুকুম উভয়ই রহিত করা হয়েছে। উক্ত আয়াতে সন্তান বড় হলেও তাকে দশবার দুধ পান করানো বৈধ ছিল।
টিকা: ২. তিলাওয়াত ও হুকুম রহিত হওয়া আয়াত হিফাজত করা হলে তা আল-কুরআনের আয়াতের সাথে মিলে যেতে পারে, তাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা সংরক্ষণের ব্যাপারে আপত্তি করেছিল।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ذكر آيات كانت في القرآن ونسخت
عن عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم (3) قالت لقد أنزلت آية الرجم ورضعات الكبير عشرا (4) فكانت في ورقة تحت سرير في بيتي (5) فلما اشتكى رسول الله صلى الله عليه وسلم تشاغلنا بأمره ودخلت دويبة (6) لنا فأكلتها
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৫
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল-কুরআনে ছিল পরবর্তীতে রহিত করা হয়েছে এমন আয়াতের বিবরণ।
১৩৫। যিরর (র) থেকে বর্ণিত তিনি উবাঈ ইব্ন কা'ব (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেছেন নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন আমি যেন তোমাকে পড়ে শুনাই। তিনি (রা) বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে পড়ে শুনালেন, 'কিতাবধারীদের মধ্যে যারা কুফরী করেছিল তারা এবং মুশরিকরা আপন মতে অবিচলিত ছিল যে পর্যন্ত না তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসল। আল্লাহর নিকট হতে এক রাসুল, যে আবৃত্তি করে পবিত্র গ্রন্থ, যাতে আছে সঠিক বিধান। যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল তারা তো বিভক্ত হল তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর।(১) আল্লাহর নিকট পছন্দনীয় দ্বীন হল দ্বীনে হানীফ, যা নয় মুশরিকী অথবা নয় ইয়াহুদীবাদী অথবা নয় খৃষ্টবাদী আর যে ভাল কাজ করবে সে কখনও কুফরী করবে না।(২) শুবা (র) বলেন, অতঃপর তিনি আরও একটি আয়াত তিলাওয়াত করলেন তারপর পড়লেন, আদম সন্তানের জন্য দুই উপত্যকা পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে সে তৃতীয় উপত্যকা চাইবে, আদম সন্তানের মুখ গহবর মাটি ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা ভরাট করা সম্ভব নয়, বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি আয়াতের বাকী অংশ সমাপ্ত করলেন(৩) যিরর (র) হতে অপর এক সূত্রে বর্ণিত আছে) তিনি উবাঈ ইবন কা'ব (রা) সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন। আমি যেন তোমার সামনে কুরআন পড়ি। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি সূরা বাইয়্যিনার ১ম আয়াত 'কিতাবধারীদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে” তিলাওয়াত করলেন। বর্ণনাকারী আরও বলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তন্মধ্যে তিলাওয়াত করলেন, যদি আদম সন্তান আমার নিকট একটি উপত্যাকা পরিমান সম্পদ প্রার্থনা করে, তাহলে আমি তাকে তা দিব, অতঃপর সে দ্বিতীয়টা চাইবে আমি যদি তাকে দ্বিতীয়টা ও দেই তাহলে সে তৃতীয়টা চাইবে। আদম সন্তানের মুখ গহবর কবরের মাটি ছাড়া অন্য কিছুতে ভরবে না। আর যে ব্যক্তি তাওবাহ করে আল্লাহ তাঁর তাওবাহ কবুল করেন। আল্লাহর নিকট সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন হল দ্বীনে হানীফ যা নয় মুশরিকী অথবা নয় ইহুদীবাদী অথবা নয় খৃষ্টবাদী। আর যে ব্যক্তি ভাল কাজ করবে তার সে ভাল কাজকে নিষ্ফল করে দেওয়া হবে না।
টিকা: ১. আল কুরআন, ৯৮:১-৪
টিকা: ২. এ অংশটুকুর তিলাওয়াত ও হুকুম রহিত করা হয়েছে, তাই তা আল-কুরআনের অংশ নয়।
টিকা: ৩. এ অংশটুকুর তিলাওয়াত ও হুকুম রহিত করা হয়েছে। তাই তা আল-কুরআনের অংশ নয়
টিকা: ১. আল কুরআন, ৯৮:১-৪
টিকা: ২. এ অংশটুকুর তিলাওয়াত ও হুকুম রহিত করা হয়েছে, তাই তা আল-কুরআনের অংশ নয়।
টিকা: ৩. এ অংশটুকুর তিলাওয়াত ও হুকুম রহিত করা হয়েছে। তাই তা আল-কুরআনের অংশ নয়
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ذكر آيات كانت في القرآن ونسخت
عن زر عن أبي بن كعب قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن الله تبارك وتعالى أمرني أن أقرأ عليك (8) قال فقرأ علي لم يكن الذين كفروا من أهل الكتاب (9) والمشركين منفكين (10) حتى تأتيهم البينة (11) رسول من الله يتلو صحفا مطهرة فيها كتب قيمة (12) وما تفرق الذين أوتو الكتاب إلا من بعد ما جاءتهم البينة إن الدين عند الله الحنيفية غير المشركة ولا اليهودية ولا النصرانية ومن يفعل خيرا فلن يكفره (1) قال شعبة (2) ثم قرأ آيات بعدها ثم قرأ لو أن لابن آدم واديين من مال لسأل واديا ثالثا ولا يملأ جوف ابن آدم إلا التراب قال ثم ختمها بما بقي منها (3) (وعنه من طريق ثان) (4) عن أبي بن كعب أيضا قال ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ان الله تبارك وتعالى أمرني أن أقرأ عليك القرآن قال فقرأ لم يكن الذين كفروا من أهل الكتاب قال فقرأ فيها ولو أن ابن آدم سأل واديا من مال فأعطيه لسأل ثانيا فأعطيه لسأل ثالثا ولا يملأ جوف ابن آدم إلا التراب ويتوب الله على من تاب وان ذلك الدين القيم عند الله الحنيفية غير المشركة ولا اليهودية ولا النصرانية ومن يفعل خيرا فلن يكفره
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৬
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল-কুরআনে ছিল পরবর্তীতে রহিত করা হয়েছে এমন আয়াতের বিবরণ।
১৩৬। আবূ ওয়াকিদ আললায়ছী (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট ওহী নাজিল হওয়া অবস্থায় আমরা তাঁর নিকট আসলে তিনি আমাদের তা উল্লেখ করতেন। একদিন তিনি আমাদেরকে বললেন, মহান আল্লাহ বলেছেন, আমি সালাত কায়েম করা ও যাকাত প্রদান করার জন্য মানুষকে সম্পদ দিয়েছি। কোন আদম সন্তানের যদি এক উপত্যকা পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে সে দ্বিতীয়টি চাইবে, আর তার যদি দুই উপত্যাকা পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে সে তৃতীয়টি চাইবে, মূলত আদম সন্তানের মুখ মাটি ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা ভর্তি করা যায় না। আর যে ব্যক্তি তাওবাহ করে আল্লাহ তার তাওবাহ কবুল করেন।
(তাবারানী অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
(তাবারানী অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ذكر آيات كانت في القرآن ونسخت
عن أبي واقد الليثي رضي الله عنه قال كنا نأتي النبي صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم إذا انزل عليه فيحدثنا فقال لنا ذات يوم ان الله عز وجل قال إنا أنزلنا المال لإقام الصلاة وايتاء الزكاة (6) ولو كان لابن آدم واد (7) لأحب أن يكون إليه ثان ولو كان له واديان لأحب أن يكون اليهما ثالث ولا يملأ جوف ابن آدم (8) إلا التراب ثم يتوب الله على من تاب
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৭
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল-কুরআনে ছিল পরবর্তীতে রহিত করা হয়েছে এমন আয়াতের বিবরণ।
১৩৭। যায়দ ইবন আরকাম (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যামানায় পড়েছি, আদম সন্তানের যদি দুই উপত্যকা পরিমাণ স্বর্ণ-রৌপ্য থাকে, তাহলে সে আর এক উপত্যকা পরিমাণ চাইবে। মূলত: মাটি ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা আদম সন্তানের মুখ ভরবে না। আর যে ব্যক্তি তাওবাহ করে আল্লাহ তার তাওবাহ কবুল করেন।
(তাবারানী ও মুসনাদে বাযযার, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
(তাবারানী ও মুসনাদে বাযযার, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ذكر آيات كانت في القرآن ونسخت
عن زيد بن أرقم قال لقد كنا نقرأ على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم لو كان لابن آدم واديان من ذهب وفضة لا ابتغى إليهما آخر ولا يملأ بطن ابن آدم إلا التراب ويتوب الله على من تاب
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৮
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল-কুরআনে ছিল পরবর্তীতে রহিত করা হয়েছে এমন আয়াতের বিবরণ।
১৩৮। ইয়াযীদ ইব্ন আসাম্ম (র) আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি সাহায্য প্রার্থনার জন্য উমর (রা) এর নিকট আসলেন, তখন উমর (রা) একবার তার মাথার দিকে আর একবার তার দু'পায়ের দিকে তাকাচ্ছিলেন, যাতে তার মধ্যে অভাবীর কোন লক্ষণ পাওয়া যায় কি না। অতঃপর উমর (রা) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার সম্পদের পরিমাণ কত? সে বলল, চল্লিশটি উট। আব্দুল্লাহ ইব্ন আব্বাস (রা) বলেন, আমি তখন বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সঠিক বলেছেন, যদি কোন আদম সন্তানের দু উপত্যকা পরিমাণ স্বর্ণ থাকে, তাহলে সে অবশ্যই তৃতীয়টি পরিমাণ চাইবে। আদম সন্তানের মুখ মাটি ছাড়া অন্যভাবে ভরবে না। আর যে ব্যক্তি তাওবাহ করে আল্লাহ তার তাওবাহ কবুল করেন। উমর (রা) তখন বললেন, এটা কি? আমি বললাম, এভাবেই উবাঈ ইব্ন কাব (রা) আমাদেরকে পড়ে শুনিয়েছেন। উমর (রা) বলেন, তাহলে আমার সাথে উবাঈ (রা) এর নিকট চল, অতঃপর তিনি উবাঈ ইবন কা'ব (রা) এর নিকট গিয়ে তাকে বললেন, এ লোক কি বলে? উবাঈ (রা) বললেন, এভাবেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে পাঠ করে শুনিয়েছেন। উমর (রা) বলেন, তবে কি এটা বহাল রাখবে? অতঃপর তিনি সেটা বহাল রাখলেন (অর্থাৎ হাদীস হিসেবে আয়াত হিসেবে নয়, যেহেতু এর পাঠ রহিত হয়ে গেছে)।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ذكر آيات كانت في القرآن ونسخت
عن يزيد بن الاصم عن ابن عباس قال جاء رجل إلى عمر رضي الله عنه يسأله فجعل ينظر إلى رأسه مرة وإلى رجليه أخرى هل يرى عليه من البؤس شيئا ثم قال له عمر كم مالك؟ قال أربعون من الابل قال ابن عباس فقلت صدق الله ورسوله لو كان لابن آدم واديان من ذهب لا ابتغى الثالث ولا يملأ جوف ابن آدم إلا التراب ويتوب الله على من تاب فقال عمر ما هذا؟ فقلت هكذا اقرأنيها أبي (بن كعب) قال فمر بنا إليه قال فجاء إلى أبي فقال ما يقول هذا؟ قال أبي هكذا أقرأنيها رسول الله صلى الله عليه وسلم قال أفأثبتها أفأثبتها
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৯
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আল-কুরআনে ছিল পরবর্তীতে রহিত করা হয়েছে এমন আয়াতের বিবরণ।
১৩৯। আনাস ইবন মালিক (রা) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের (বি'রে মাউনায় নিহতদের) ব্যাপারে যতটা দুঃখ পান অতটা দুঃখ আর কোন নিহতদের ব্যাপারে পাননি। তাদেরকে 'কুররা' (কুরআনের কারীবর্গ) বলা হত। সুফিয়ান (রা) বলেন, তখন নাজিল হয়েছিল ‘আমাদের সম্প্রদায়কে জানিয়ে দাও, আমরা যা পেয়েছি তাতে আমরা সন্তুষ্ট এবং আল্লাহও আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট। সুফয়ান (রা) কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, এটা কখন নাজিল হয়, তিনি বলেন, এটা বি'রে মাউনায় নিহতদের ব্যাপারে নাজিল হয়। আনাস (রা) হতে অপর এক সূত্রে বর্ণিত) তিনি বলেন, আমরা তাদের ব্যাপারে কুরআনের আয়াত পাঠ করেছি "আমাদের সম্প্রদায়কে আমাদের পক্ষ থেকে জানিয়ে দাও, আমরা আমাদের প্রভুর সাক্ষাৎ পেয়েছি তিনি আমাদের প্রতি সন্তুষ্টি এবং আমরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট।" এর কিছু দিন পর আয়াতটি তুলে নেয়া হয়। ইবন জা'ফর (র) বলেন, এরপর তা রহিত করা হয়েছে।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ذكر آيات كانت في القرآن ونسخت
عن أنس بن مالك قال ما وجد رسول الله صلى الله عليه وسلم على سرية ما وجد عليهم كانوا يسمون القراء قال سفيان نزل فيهم (بلغوا قومنا عنا أنا قد رضينا ورضى عنا) قيل لسفيان فيمن نزلت؟ قال في أهل بئر معونة (ومن طريق ثان عن أنس أيضا) قال إنا قرأنا بهم قرآنا (بلغوا عنا قومنا أنا قد لقينا ربنا فرضى عنا وأرضانا) ثم رفع ذلك بعد قال ابن جعفر ثم نسخ
তাহকীক: