মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩০৩ টি

হাদীস নং: ৮০
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অধ্যায়: কুরআনের অংশ বিভাগ ওযীফা নির্ধারণ, তা লিপিবদ্ধকরণ সংকলন এবং গ্রন্থাকারে লিখন প্রসঙ্গ।

পরিচ্ছেদ। আল কুরআনের অংশ বিভাগ ও ওযীফা নির্ধারণ।
৮০। উসমান ইবন 'আব্দুল্লাহ ইবন আওস ছাকাফী (র) থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর দাদা আওস ইব্‌ন হুযায়ফা (রা) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ছাকীফ গোত্রের বনু মালিকের যে প্রতিনিধি দল ইসলাম গ্রহণ করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আগমন করেছিলেন আমি ছিলাম তাদের অন্যতম। আমরা রাসুল (ﷺ) প্রদত্ত একটি তাঁবুতে অবস্থান নিলাম। ফলে আমরা ছিলাম রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাড়ী ও মসজিদে নববীর মাঝখানে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাতুল ইশা আদায়ের পর আমাদের মাঝে আসতেন, আমরা ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সাথে কথাবার্তা বলতেন, কুরায়শ ও মক্কাবাসীদের ব্যাপারে অভিযোগ করতেন। তিনি বলতেন, (আমাদের মক্কা ও মদীনার জীবন) সমান নয়। আমরা মক্কাতে ছিলাম অবহেলিত ও দুর্বল, অতঃপর আমরা যখন মদীনায় নির্বাসিত হলাম, তখন যুদ্ধের চাকা কখনও আমাদের অনুকুলে এবং কখনও আমাদের প্রতিকুলে ঘুরতে থাকল। একদা সালাতুল ইশার পর দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাছে না আসাতে আমরা অপেক্ষা করছিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসলেন, তখন আমরা তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন কাজ আপনাকে আমাদের মাঝে আসতে দেরী করিয়েছে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, কুরআনের এক অংশ পাঠ করা আমার জরুরী ছিল, তাই তা সমাপ্ত করেই বের হওয়া সমীচীন মনে করলাম। বর্ণনাকারী বলেন, সকালবেলা আমরা রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীদেরকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনারা কিভাবে কুরআন তিলাওয়াতের জন্য অংশ বিভাগ করেন? তাঁরা বলেন আমরা তিনটি সুরা(১) পাঁচটি সূরা(২) সাতটি সূরা(৩) নয়টি সূরা(৪) এগারটি সুরা(৫) তেরটি সূরা(৬) মুফাসসালের অংশ(৭) অর্থাৎ সূরা ক্বাফ হতে শেষ পর্যন্ত এভাবে অংশ বিন্যাস করতাম।
(আবু দাউদ, ইবন মাজাহ ও আবু দাউদ তায়ালিমী অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা: ১. সূরা বাকারার শুরু থেকে সুরা নিসার শেষ পর্যন্ত।
২. সূরা মায়িদার শুরু থেকে সূরা তাওবার শেষ পর্যন্ত।
৩.সূরা ইউনুল এর শুরু থেকে সুরা নাহল এর শেষ পর্যন্ত।
৪. সূরা বনী ইসরাঈল এর শুরু থেকে সূরা ফুরকানের শেষ পর্যন্ত।
৫. সূরা আ'রাফ শুরু থেকে সূরা ইয়াসিন এর শেষ পর্যন্ত।
৬. সূরা সাফফাত এর শুরু থেকে সূরা হুজুরাত এর শেষ পর্যন্ত
৭. কুরআনের শেষ সপ্তমাংশ। এ সূরাগুলো আকারে ছোট হওয়ায় এগুলোকে পরিচ্ছেদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ মনে
করা হয়েছে।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
أبواب ما جاء في تحزيب القرآن وأورده وتأليفه وجمعه وكتابته في المصاحف

باب تحزيب القرآن وأورده
عن عثمان بن عبد الله بن أوس الثقفي عن جده أوس بن حذيفة قال كنت في الوافد الذين أتوا النبي صلى الله عليه وسلم اسلموا من ثقيف من بني مالك أنزلنا في قبة له فكان يختلف الينا بين بيوته وبين المسجد فإذا صلى العشاء الآخرة انصرف إلينا ولا نبرح حتى يحدثنا ويشتكي قريشا ويشتكي أهل مكة ثم يقول لا سواء (1) كنا بمكة مستذلين مستضعفين فلما أخرجنا إلى المدينة كانت سجال (2) الحرب علينا ولنا فمكث عنا ليلة لم يأتنا حتى طال ذلك علينا بعد العشاء قال قلنا ما أمكثك عنا يارسول الله؟ قال طرأ علي حزبي (3) من القرآن فأردت أن لا أخرج حتى أقضيه قال فسألنا أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم حين أصبحنا قال قلنا كيف تحزبون القرآن؟ قالوا نحزبه ثلاث سور (4) وخمس سور وسبع سور وتسع سور وإحدى عشرة سورة وثلاثة عشرة سورة وحزب المفصل (5) من قاف حتى يختم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৮১
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ। ওযীফার কোন অংশ পড়তে ভুলে গেলে তা পড়ার সময়।
৮১। আব্দুর রহমান ইবন 'আব্দ (র) উমার ইবন খাত্তাব (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন, (ইমাম আহমদ (র) এর পুত্র) 'আব্দুল্লাহ (র) বলেন, আমার পিতা উক্ত সনদে হাদীসখানা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি তার অযীফার কোন অংশ ছেড়ে দিবে অথবা(৮) তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি তার অযীফার আংশিক ছেড়ে দিবে সে যেন তা ফজর ও জুহরের সালাতের মাঝে পড়ে নেয়, তাহলে ধরে নেয়া হবে সে তা রাত্রেই আদায় করেছে।
(মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী ও ইবন মাজাহ অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা: ৮. বর্ণনাকারীর সন্দেহ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি প্রথমাংশ বলেছেন নাকি দ্বিতীয়াংশ বলেছেন।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب من فاته شيء من ورده متى يقضيه
عن عبد الرحمن بن عبد عن عمرو بن الخطاب رضي الله عنه قال عبد الله (يعني ابن الامام احمد) وقد بلغ به أبي إلى النبي صلى الله عليه وسلم (7) قال من فاته شيء من ورده أو قال من جزئه (8) فقرأه ما بين صلاة الفجر إلى الظهر فكأنما قرأه من ليلته
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৮২
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে প্রশস্ত হাড় ও পাথরে কুরআন লিখে রাখা সম্পর্কিত।
৮২। খারিজা ইবন যায়দ (র) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যায়দ ইবন সাবিত (রা) বলেছেন, আমি একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট বসা ছিলাম তখন তাঁর নিকট ওহী আসলো। বর্ণনাকারী যায়দ (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন সাকীনা(১) আচ্ছন্ন হলেন এবং সাকীনা(১) আচ্ছন্ন অবস্থায় তাঁর উরু আমার উরুতে পড়ল। যায়দ (রা) বলেন, আল্লাহর কসম রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উরুর চেয়ে অধিক ভারী কোন বস্তু আমি কখনও পাইনি, অতঃপর যখন তাঁর আচ্ছন্ন অবস্থা কেটে গেলো, তিনি বললেন, হে যায়দ তুমি লিখো, তখন আমি একখণ্ড হাড় নিলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি লিখো মুমিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে এবং যারা আল্লাহর পথে স্বীয় জানমাল দ্বারা জিহাদ করে তারা সমান নয়। যারা স্বীয় জানমাল দ্বারা জিহাদ করে আল্লাহ তাদেরকে, যারা ঘরে বসে থাকে তাদের ওপর মর্যাদা দিয়াছেন, আল্লাহ সকলকেই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন। যারা ঘরে বসে থাকে তাদের ওপর যারা জিহাদ করে তাদেরকে আল্লাহ মহা পুরস্কারের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।(২) বর্ণনাকারী বলেন, আমি আয়াতখানা একটি হাড়ে লিখলাম। উম্মে মাকতুম তিনি ছিলেন অন্ধ যখন মুজাহিদদের মর্যাদার কথা শুনলেন তখন দাঁড়ালেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! অন্ধত্ব বা অনুরূপ কোন কারণে যে জিহাদ করতে পারবে না তার কি হবে? যায়দ (রা) বলেন, আল্লাহর কসম। উম্মে মাকতুমের কথা শেষ না হতেই অথবা শেষ হলেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবার সাকীনা-আচ্ছন্ন হয়ে পড়লেন এবং তাঁর উরু আমার উরুর উপর পড়ল। তখন প্রথমবারের মতই আমি তাঁর উরুর ওজন অনুভব করলাম কিছুক্ষণ পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ঘোর কেটে গেলো, তখন তিনি বললেন, তুমি আয়াতখানা পড়, তখন আমি তাঁকে পড়ে শুনালাম, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, মুমিনদের মধ্যে যারা অক্ষম নয় অথচ ঘরে বসে থাকে(৩) যায়দ (রা) বলেন, আমি তখন আয়াতের মধ্যে উক্ত অংশ (যারা অক্ষম নয়) যুক্ত করলাম। আল্লাহর কসম, হাড়ের মধ্যে যে একটি ফাটল ছিল, যেখানে সংযুক্ত করা হয়েছিল আমি যেন সেটা এখনও দেখতে পাচ্ছি।
(আবু দাউদ, সাঈদ ইবন মানসুর, সুনান, আব্দুর-রায়হাক, মুসান্নাফ অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা:
১. সাকীনা বলতে ওহী নাযিল কালীন ঘোর মগ্নতা বোঝানো হয়েছে।
২. আল কুরআন, সূরা নিসা, ৯৫ (আয়াতখানা অসম্পূর্ণ অত্র হাদীসের পরবর্তী অংশে সম্পূর্ণ করা হয়েছে।)
৩. দ্বিতীয়বার ওহী নাজিল হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়াত খানাকে এভাবে পূর্ণ করতে বললেন।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب كتابة القرآن في الأكتاف واللخاف على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم
عن خارجة بن زيد قال قال ريد بن ثابت اني قاعد الى جنب رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم يوما إذ أوحى إليه قال وغشيته السكينة (1) ووقع فخذه على فخذي حين غشيته السكينة قال زيد فلا والله ما وجدت شيئا قط أثقل من فخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم سرى (2) عنه فقال اكتب يا زيد فأخذت كتفا (3) فقال اكتب (لا يستوي القاعدون من المؤمنين والمجاهدون) الآية كلها إلى قوله (أجرا عظيما) فكتبت ذلك في كتف فقام حين سمعها ابن أم مكتوم وكان رجلا أعمى فقام حين سمع فضيلة المجاهدين قال يا رسول الله فكيف بمن لا يستطيع الجهاد ممن هو أعمى وأشباه ذلك؟ قال زيد فوالله ما مضى كلامه أو ما هو إلا أن قضى كلامه غشيت النبي صلى الله عليه وسلم السكينة فوقعت فخذه على فخذي فوجدت من ثقلها كما وجدت في المرة الأولى ثم سرى عنه فقال اقرأ فقرأت عليه (لا يستوي القاعدون من المؤمنين والمجاهدون) فقال النبي صلى الله عليه وسلم (غير أولى الضرر) (4) قال زيد فألحقتها فوالله لكأني أنظر إلى ملحقها عند صدع (5) كان في الكتف
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৮৩
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে প্রশস্ত হাড় ও পাথরে কুরআন লিখে রাখা সম্পর্কিত।
৮৩। ইয়ায়ীদ ইব্‌ন আবূ হাবীব (র) হতে বর্ণিত, আব্দুর রহমান ইবন শামাছা (র) তাকে বলেছেন, যায়দ (রা) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপস্থিতিতে পুরাতন কাপড় থেকে কুরআনের আয়াত সংগ্রহ করছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, শামের জন্য সুসংবাদ। জিজ্ঞাসা করা হল হে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! কেন? তিনি বললেন, রহমতের ফিরিস্তাগণ তথায় তাদের ডানা মেলে আছেন।
(তিরমিযী অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب كتابة القرآن في الأكتاف واللخاف على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم
عن زيد بن أبي حبيب ان عبد الرحمن بن شماسة أخبره أن زيد بن ثابت رضي الله عنه قال بينما نحن عند رسول الله صلى الله عليه وسلم نؤلف القرآن من الرقاع (7) إذ قال طوبى للشام (8) قيل ولم ذلك يا رسول الله؟ قال ان ملائكة الرحمة باسطة أجنحتها عليه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৮৪
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে প্রশস্ত হাড় ও পাথরে কুরআন লিখে রাখা সম্পর্কিত।
৮৪। আনাস ইবন মালিক (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওহী লিখতো, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সূরা বাকারা ও আলে ইমরান পড়লেন, উক্ত ব্যক্তি সূরা বাকারা ও আলে ইমরান লিখলো, সে আমাদের মধ্যে নতুন কিছু লেখার সুযোগ পেলো(১) রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ক্ষমাশীল ও দয়ালু غَفُورًا رَحِيمًا লিখতে বললেন, অথচ সে লিখলো জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান عَلِيمًا حَكِيمًا তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি এভাবে এভাবে লিখবে, তুমি তোমার খুশীমতো লেখো(২) তিনি তাকে জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান عَلِيمًا حَكِيمًا লিখতে বললেন, সে জিজ্ঞাসা করলো, আমি কি শ্রবণকারী ও দর্শনকারী سَمِيعًا بَصِيرًا লিখবো? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তোমার যা খুশী তাই লেখো, অতঃপর ঐ লোকটি ইসলাম থেকে মুরতাদ হয়ে গেলো, মুশরিকদের সাথে মিললো এবং তাদেরকে বললো, আমি মুহাম্মদকে তোমাদের চেয়ে বেশি চিনি, আমি চাইলে যা ইচ্ছা তাই লিখতে পারতাম। কিছুদিন পর ঐ লোকটি মারা গেলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, নিশ্চয়ই জমীন তাকে গ্রহণ করবে না। আনাস (রা) বলেন, আবু তালহা (রা) আমাকে বলেছেন, ঐ লোকটি যে এলাকায় মারা গেছে সেখানে তিনি গিয়ে তাকে উৎক্ষিপ্ত অবস্থায় দেখতে পেলেন। তখন আবু তালহা বললেন, এ লোকটির কি হয়েছে? উপস্থিত জনতা বললো আমরা একে কয়েকবার দাফন করেছি কিন্তু জমীন তাকে গ্রহণ করেনি।
আনাস (রা) হতে অপর এক সূত্রে বর্ণিত আছে। তিনি বলেছেন, আমাদের মাঝে বনু নাজ্জার গোত্রের এক ব্যক্তি ছিলো, যে রাসূল-এর ওহী লিখত, সে সূরা বাকারা ও আলে ইমরান পড়েছিল। অতঃপর সে পলায়ন করে আহলে কিতাবদের সাথে যোগ দিল। বর্ণনাকারী বলেন, তারা তাকে অনেক সম্মান দিল এবং বলল, এ সেই ব্যক্তি যে মুহাম্মদের ওহী লিখত তারা তাকে নিয়ে গর্ববোধ করত। সে তাদের মধ্যে অবস্থান করতে লাগল, অবশেষে আল্লাহ তাদের মধ্যে তাকে অপমানিত করলেন। তারা তার জন্য গর্ত খনন করল এবং তাকে দাফন করল কিন্তু জমীন তাকে উপড়ে ফেলে দিল অতঃপর ফিরে এসে আবার গর্ত খুড়ল এবং তাতে দাফন করলে জমীন তাকে উপড়ে ফেলে দিল। অতঃপর তারা আবার ফিরে এসে গর্ত খুড়ে তাতে দাফন করল, কিন্তু জমীন তাকে আবার উপড়ে ফেলে দিল। তখন তারা তাকে পতিত অবস্থায় ফেলে রাখল।
(মুসনাদে আবু দাউদ তায়ালসী অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
টিকা: ১. লোকটি আল কুরআনের আয়াতকে বিকৃতভাবে লেখার দুঃসাহস দেখালো।
২. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বুঝতে পেরেছিলেন লোকটি মুরতাদ হয়ে যাবে, তাই তার ব্যাপারে আল্লাহই ফায়সালা দিবেন, এ নিয়ে তাঁর কড়াকড়ি করার কিছু নেই।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب كتابة القرآن في الأكتاف واللخاف على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم
عن أنس (يعني ابن مالك) أن رجلا كان يكتب للنبي صلى الله عليه وسلم وقد كان قرأ البقرة وآل عمران وكان الرجل إذا قرأ البقرة وآل عمران جد فينا يعني عظم (2) فكان النبي صلى الله عليه وسلم يملي عليه غفورا رحيما فيكتب عليما حكيما فيقول النبي صلى الله عليه وسلم اكتب كذا وكذا اكتب كيف شئت (3) ويملي عليه عليما حكيما فيقول اكتب سميعا بصيرا؟ فيقول اكتب كيف شئت فارتد الرجل عن الاسلام فلحق بالمشركين وقال أنا أعلمكم بمحمد ان كنت لأكتب ما شئت فمات ذلك الرجل فقال النبي صلى الله عليه وسلم إن الأرض لم تقبله وقال انس فحدثني أبو طلحة أنه أتى الأرض التي مات فيها ذلك الرجل فوجده منبوذا فقال أبو طلحة ما شأن هذا الرجل؟ قالوا قد دفناه مرارا فلم تقبله الارض (وعنه من طريق ثان) (4) قال كان منا رجل من بني النجار قد قرأ البقرة وآل عمران وكان يكتب لرسول الله صلى الله عليه وسلم فانطلق هاربا حتى لحق بأهل الكتاب قال فرفهوه وقالوا هذا كان يكتب لمحمد واعجبوا به فما لبث أن قصم الله عنقه فيهم فحفروا له فواروه فأصبحت الأرض قد نبذته على وجهها ثم عادوا فحفروا له فواروه فأصبحت الأرض قد نبذته على وجهها ثم عادوا فحفروا له فواروه فأصبحت الأرض قد نبذته على وجهها فتركوه مبنوذا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৮৫
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আবু বকর (রা) এর খিলাফতকালে কুরআন লিপিবদ্ধ ও সংকলন।
৮৫। ইবন সাব্বাক (র) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়দ ইবন সাবিত (রা) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, যে ইয়ামামায় বিপুল সংখ্যক (হাফিজ) সাহাবী শাহাদাত বরণ করলে আবু বকর (রা) আমাকে ডেকে পাঠালেন। এসে দেখি উমর (রা) তাঁর নিকট বসা। আবু বকর (রা) বললেন, উমর (রা) আমাকে বলেছেন, ইয়ামামার যুদ্ধে মুসলিম সৈন্যদলের পক্ষে অসংখ্য হাফিজে কুরআন শহীদ হয়েছেন, আমার ভয় হচ্ছে বিভিন্ন যুদ্ধে এরকম হাফিজে কুরআন-এর শাহাদাতের সংখ্যা বাড়তে থাকলে কুরআন এর অনেক কিছুই হারিয়ে যেতে পারে যা সংরক্ষিত হয়নি। তাই আমি আপনাকে কুরআন সংকলনের ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছি। আমি উমর (রা) কে বললাম, আমি এমন কাজ কিভাবে করি, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেননি? তিনি বললেন, আল্লাহর কসম। এটা ভাল কাজ। তিনি আমাকে এ ব্যাপারে ক্রমাগত বলতে থাকলেন। অবশেষে আল্লাহ এ কাজের জন্য আমার মন খুলে দিলেন এবং উমর (রা) যে মত দিচ্ছিলেন আমিও সে মতে উপনীত হলাম। যায়দ (রা) বলেন, আবু বকর (রা) আমাকে একথা বলার সময় উমর (রা) তথায় উপস্থিত ছিলেন কিন্তু তিনি কোন কথা বলছিলেন না। তখন আবু বকর (রা) বললেন, হে যায়দ তুমি একজন বুদ্ধিমান যুবক আমি তোমাকেই দায়িত্ব দেব তুমি তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওহী লিখতে, সুতরাং তুমিই তা সংকলন কর। যায়দ (রা) বলেন, আল্লাহর কসম, তারা যদি আমাকে কোন পাহাড় স্থানান্তর করতে বলতেন তাও এ কুরআন সংকলনের আদেশের তুলনায় অধিক ভারী হতো না, আমি তখন বললাম আপনারা এটা কিভাবে করবেন যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজে করেননি?
(বুখারী, তিরমিযী ও নাসাঈ, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ما جاء في تأليف القرآن وجمعه في خلاف ابي بكر رضي الله عنه
عن ابن السياق قال اخبرني زيد بن ثابت ان ابا بكر رضي الله عنه ارسل اليه مقتل أهل اليمامة (6) فإذا عمر رضي الله عنه عنده فقال أبو بكر أن عمر أتاني فقال ان القتل قد استحر (7) بأهل اليمامة من قراءة القرآن من المسلمين واني اخشى أن يستحر (8) القتل بالقراء في المواطن (9) فيذهب قرآن كثير لا يوعى وإني أرى أن تأمر بجمع القرآن فقلت لعمر وكيف أفعل شيئا لم يفعله رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فقال هو والله خير فلم يزل يراجعني في ذلك حتى شرح الله بذلك صدري ورأيت فيه الذي رآى عمر (1) قال زيد وعمر عنده جالس لا يتكلم فقال أبو بكر انك (2) شاب عاقل لا نتهمك وقد كنت تكتب الوحى لرسول الله صلى الله عليه وسلم فاجمعه قال زيد فوالله لو كلفوني نقل جبل من الجبال ما كان أثقل علي مما أمرني به (3) من جمع القرآن فقلت كيف تفعلون شيئا لم يفعله رسول الله صلى الله عليه وسلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৮৬
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আবু বকর (রা) এর খিলাফতকালে কুরআন লিপিবদ্ধ ও সংকলন।
৮৬। উবাঈ ইব্‌ন কা'ব (রা) হতে বর্ণিত, আবু বকর (রা)-এর খিলাফতকালে সাহাবীগণ কয়েকটি পুস্তিকায় কুরআন সংকলন করছিলেন, তখন লেখকগণ লিখছিলেন আর উবাঈ ইবন কাব তাদের লেখার তত্ত্বাবধান করছিলেন। লেখকগণ যখন লিখতে লিখতে সূরা তাওবার আয়াত (অতঃপর তারা সরে পড়ে, আল্লাহ তাদের হৃদয়কে সত্য বিমুখ করেছেন, কারণ তারা এমন এক সম্প্রদায় যাদের বোধশক্তি নাই। ৯:১২৭) পর্যন্ত পৌছলেন তখন সাহাবীগণ ভাবলেন এটা কুরআনের অবতীর্ণ সর্বশেষ আয়াত। তখন উবাঈ ইব্‌ন কা'ব (রা) তাদেরকে বললেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ আয়াতের পর আরও দু'খানা আয়াত লিখিয়েছেন। আর তা হল অবশ্যই তোমাদের মধ্য হতেই তোমাদের নিকট এর রাসূল (ﷺ) এসেছে। তোমাদেরকে যা বিপন্ন করে তা তার জন্য কষ্টদায়ক। সে তোমাদের মংগলকামী, মুমিনদের প্রতি সে দয়ার্দ্র ও পরম দয়ালু। অতঃপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তুমি বল আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নাই। আমি তাঁরই উপর নির্ভর করি এবং তিনি মহা আরশের অধিপতি। ফিরিয়ে নেয় তবে তুমি বল আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নাই। আমি তাঁরই উপর নির্ভর করি এবং তিনি মহা আরশের অধিপতি। (৯: ১২৮-১২৯) অতঃপর তিনি বলেন, এটাই কুরআনের সর্বশেষ অবতীর্ণ অংশ বর্ণনাকারী বলেন, এভাবে শেষ করা হয়েছে সেই কথা 'তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই'-এর দ্বারা, যেমন শুরুও করা হয়েছিল এরই দ্বারা শেষ করা হয়েছে যেমন ইরশাদ হয়েছিল- (আমি তোমার পূর্বে এমন কোন রাসূল প্রেরণ করি নাই তার প্রতি এই ওহী ব্যতীত যে, আমি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই সুতরাং আমারই ইবাদত কর। (২১: ২৫।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ما جاء في تأليف القرآن وجمعه في خلاف ابي بكر رضي الله عنه
عن أبي بن كعب أنهم جمعوا القرآن في مصاحف في خلافة أبي بكر رضي الله عنه فكان رجال يكتبون ويملى عليهم أبي بن كعب فلما انتهوا إلى هذه الآية من سورة براءة (ثم انصرفوا صرف الله قلوبهم بأنهم قوم لا يفقهون) فظنوا أن هذا آخر ما أنزل من القرآن فقال لهم أبي بن كعب إن رسول الله صلى الله عليه وسلم اقرأني بعدها آيتين (لقد جاءكم رسول من أنفسكم عزيز عليه ما عنتم حريص عليكم بالمؤمنين رؤف رحيم إلي وهو رب العرش العظيم) ثم قال هذا آخر ما أنزل من القرآن قال فختم بما فتح به بالله الذي لا إله إلا هو وهو قول الله تبارك وعالى (وما أرسلنا من قبلك من رسول إلا يوحى إليه (1) أنه لا إله إلا أنا فاعبدون)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৮৭
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: উসমান (রা) এর খিলাফতকালে গ্রন্থ আকারে কুরআন সংকলন বিভিন্ন প্রদেশে তা বিতরণ মানুষদেরকে এ গ্রন্থ ব্যতীত অন্য কিছু অনুসরণ করতে বারণ করা এবং এর বিপরীত পর্যন্ত সংকলন ও প্রাচীন পুস্তিকাসমূহ পুড়ে ফেলা প্রসঙ্গ।
৮৭। (আহমদ (র) বলেন) আব্দুর রাজ্জাক (র) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মা'মার (র) যুহরী (র) সূত্রে, তিনি খারিজা ইবন যায়দ অথবা অন্যকারো সূত্রে করেছেন, তিনি বলেন যায়দ ইব্‌ন সাবিত (রা) বলেছেন, (উসমান (রা) এর খিলাফতকালে) আমি যখন বিভিন্ন সাহীফায় কুরআন লিপিবদ্ধ করছিলাম, তখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট থেকে শুনেছি এমন একটি আয়াত হারিয়ে ফেলেছিলাম, অতঃপর তা খুজইমা আনছারী (রা) এর নিকট পেয়ে গেলাম (আয়াতখানা হল, মু'মিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সাথে তাদের কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে, তাদের কেউ কেউ শাহাদাত বরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছে। তারা তাদের অঙ্গীকারে কোন পরিবর্তন করে নাই (৩৩: ২৩)।
বর্ণনাকারী যায়দ ইব্‌ন সাবিত (রা) বলেন, খুযাইমা (রা)-কে দুই সাক্ষ্যওয়ালা বলে ডাকা হতো, কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সাক্ষ্যকে দুজনের সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করার অনুমতি দিয়েছিলেন। ইমাম যুহরী (র) বলেন, খুযাইমা (রা) আলী (রা) এর সঙ্গী হয়ে সিফফনের যুদ্ধকালে শহীদ হয়েছেন। (অপর এক সূত্রে বর্ণিত আছে) খারিজা (র) হতে বর্ণিত, তিনি যায়দ ইব্‌ন সাবিত (রা)-কে বলতে শুনেছেন, আমি উসমান (রা) এর খিলাফতকালে গ্রন্থাকারে কুরআন লিপিবদ্ধ কালে সূরা আহযাবের একটি আয়াত হারিয়ে ফেললাম, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে পড়তে শুনেছি। (আয়াত খানা হল, মু'মিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সাথে তাদের কৃত অঙ্গীকার পূরণ করেছে, তাদের কেউ কেউ শাহাদাত বরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছে, তারা তাদের অঙ্গীকারে কোন পরিবর্তন করে নাই। (৩৩: ২৩) তখন আমি আয়াতটি অনুসন্ধান করতে লাগলাম, অবশেষে তা খুযাইমা ইবন সাবিত (রা)-এর নিকট পেলাম এবং তা উক্ত সংকলনে উক্ত সূরার অন্তর্ভুক্ত করলাম।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب كتابة عثمان رضي الله عنه للمصاحف في خلافته وتوزيعها في الافطار وحمل الناس على عدم الخروج عنها وحرق ما يخالفها من الصحف والمصاحف القديمة
حدثنا عبد الرزاق أنا معمر عن الزهري عن خارجة بن زيد أو غيره (3) أن زيد بن ثابت رضي الله عنه قال لما كتبت المصاحف (4) فقدت آية كنت اسمعها من رسول الله صلى الله عليه وسلم فوجدتها عند خزيمة الانصار (من المؤمنين رجال صدقوا ما عاهدوا الله عليه إلى تبديلا) (5) قال فكان خزيمة يدعى ذا الشهادتين أجاز رسول الله صلى الله عليه وسلم شهادته رجلين (6) قال الزهري وقتل يوم صفين مع علي رضي الله عنهما (ومن طريق ثان) (7) عن خارجة أنه سمع زيد بن ثابت يقول فقدت آية من سورة الأحزاب حين نسخنا المصاحف قد كنت أسمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرأ بها (رجال صدقوا ما عاهدوا الله عليه) فالتمستها فوجدتها مع خزيمة بن ثابت فألحقتها في سورتها في المصحف
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৮৮
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: উসমান (রা) এর সাহীফার ব্যাপারে আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা)-এর অভিমত।
৮৮। খুমাইর ইবন মালিক (র) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন উসমান (রা)-এর নির্দেশে প্রস্তুতকৃত সহীফাসমূহ বিভিন্ন প্রদেশে বিতরণের ব্যবস্থা করতে বলা হল, তখন আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) বললেন তোমাদের মধ্যে কেউ যদি তার নিকট রক্ষিত সাহীফা গোপন করতে চায়(১) সে যেন তাই করে। কেননা কেউ কোন জিনিস গোপন করলে যে সে তা সহকারে কিয়ামতের দিন হাজির হবে। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি (রা) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পবিত্র কণ্ঠে সত্তরটি সূরা লিখেছি, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুখে যা শুনেছি তা কি ছেড়ে দিব? (অপর এক বর্ণনা মতে) আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পবিত্র কণ্ঠে সত্তরটি সূরা লিখেছি। আর যায়দ ইব্‌ন সাবিত (রা) কুরআনের ব্যাপারে তখন ছিল শিশু।(২)
টিকা:
১. ইবন মাসউদ (রা) এর যুক্তি ছিল আল্লাহ আল কুরআনকে আরবী ভাষায় নাজিল করেছেন, কেবলমাত্র কুরায়শদের ভাষায় নয়, তাই কুরআনের সরল লেখনী পুড়িয়ে ফেলে কুরাইশদের উচ্চারণ অনুসারে কুরআন সংকলন করার ব্যাপারে তিনি প্রথম দিকে বিরোধী ছিলেন। পরে অকাল তিনি এ মত প্রত্যাহার করেছিলেন।
২. যাইদ ইবন সাবিত (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওহী লেখক হলেও তিনি ইবন মাসউদ (রা) এর চেয়ে নবীন ছিলেন।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب رأي ابن مسعود رضي الله عنه في مصاحف عثمان
عن خمير بن مالك قال أمر بالمصاحف أن تغير (2) قال قال ابن مسعود من استطاع منكم أن يغل مصحفة فليغله (3) فإن من غل شيئا جاء به يوم القيامة قال ثم قال قرأت من فم رسول الله صلى الله عليه وسلم سبعين سورة أفأترك ما أخذت من في رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم (وفي رواية) قرأت من في رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم سبعين سورة (4) وان زيد بن ثابت له ذؤابة في الكتاب
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৮৯
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: উসমান (রা) এর সাহীফার ব্যাপারে আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা)-এর অভিমত।
৮৯। আব্দুর রহমান ইবন আবিস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ (ইবন মাসউদ বা) এর সঙ্গীদের মধ্যে হতে জনৈক হামাদানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি তার নাম আমাদের নিকট উল্লেখ করেননি, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) যখন মদীনায় আসতে চাইলেন, তখন তিনি তার সঙ্গীদেরকে একত্রিত করে বললেন, আল্লাহর কসম। আমি আশা করি আজ এমন দিন এসেছে যখন দ্বীন, ফিকহ ও কুরআন শিখার ব্যাপারে মুসলিম নেতৃবৃন্দ যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তোমাদের মধ্য থেকে তাদের তুলনায় উত্তম লোকের উপস্থিতি বিদ্যমান। নিঃসন্দেহে কুরআন এমন একটি গ্রন্থ যা কয়েকটি উচ্চারণরীতিতে নাজিল হয়েছে, আল্লাহর কসম। এই উচ্চারণ নিয়ে দুব্যক্তির মধ্যে এমন কঠিন ঝগড়া হত যেমনটা অন্য কিছু নিয়ে কখনও হত না। যখন কোন পাঠক বলত নবী (ﷺ) আমাকে এভাবে পড়িয়েছেন তারপর বিষয়টা তাঁর কাছে উত্থাপন করা হত। তিনি বলতেন, তুমি সঠিক পড়েছ। আবার অন্যজন যখন অন্যরকম পড়ত তখন তিনি বলতেন তোমাদের দু'জনই সঠিক পড়েছ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে পড়িয়েছেন, সত্য কল্যাণের পথ দেখায়, আর কল্যাণ জান্নাতের পথ দেখায়। অপরদিকে মিথ্যা পাপাচারের পথ দেখায় আর পাপাচার জাহান্নামের পথ দেখায়। তাই তোমাদের কেউ যখন তার সঙ্গীকে বলে সে মিথ্যা বলেছে এবং পাপের কাজ করেছে তখন তা দিয়ে উপদেশ গ্রহণ করো। আবার উপদেশ গ্রহণ করো যখন কেউ সত্য কথা বললে সে বলে তুমি সত্য বলেছো এবং ন্যায়ের কাজ করেছো। কুরআন এমন একটি গ্রন্থ যাতে স্ববিরোধিতা নেই। এটা পুরানো হয় না এবং অধিক পুনরালোচনার কারণে বিস্বাদ হয় না। তাই কেউ যদি উচ্চারণ ভঙ্গিতে কুরআন তিলাওয়াত করে তবে সে যেন তার প্রতি অনাগ্রহী হয়ে তা ছেড়ে না দেয়। আবার অন্য কেউ যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর শিখানো অন্যকোন উচ্চারণ ভঙ্গিতে তিলাওয়াত করে তাও যেন সে অনাগ্রহী হয়ে পরিত্যাগ না করে। আর যদি কেউ কোন আয়াতকে অস্বীকার করে সে যেন পূর্ণাঙ্গ কুরআনকেই অস্বীকার করে, সে যেন পূণাঙ্গ কুরআনকেই অস্বীকার করলো। এটা যেন তোমাদের কারও সঙ্গীকে লক্ষ্য করে إِعْجَلْ (শীঘ্র কর) ও حَيَّ هَلا (তাড়াতাড়ি কর) বলার মত (অর্থাৎ উভয় অবস্থায়ই অর্থ একই
আল্লাহর কসম! আল্লাহ মুহাম্মদ এর ওপর কুরআন যেভাবে নাজিল করেছেন সে ব্যাপারে আমার তুলনায় অধিক জ্ঞাত কোন ব্যক্তির তথ্য যদি আমি জানতাম তবে আমি তাকে খুঁজে নিতাম এবং আমার জ্ঞানের সাথে তাঁর জ্ঞানকে মিলিয়ে নিতাম। এমন এক সময় আসবে যখন মানুষেরা সালাতকে মেরে ফেলবে। তারা যথা সময়ে সালাত আদায় করবে কিন্তু তোমরা তোমাদের সালাতকে তাদের সাথে নফল বানিয়ে নিও। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রতি রমজানে কুরআনের নাজিলকৃত অংশের পুরোটাই একবার পূনঃপাঠ করতেন এবং তিনি যে বছর ইন্তেকাল করলেন সে বছর আমি দু'বার তাঁর সামনে কুরআন পূনঃপাঠ করলাম। তিনি আমাকে বললেন আমি সার্বিক পাঠ করেছি। আর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুখ হতে সত্তরটি সূরা লিখেছি।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب رأي ابن مسعود رضي الله عنه في مصاحف عثمان
عن عبد الرحمن بن عابس قال حدثنا رجل من همدان من أصحاب عبد الله (يعني ابن مسعود رضي الله عنه وما سماه لنا قال لما أراد عبد الله أن يأتي المدينة جمع أصحابه فقال والله اني لأرجو أن يكون قد أصبح اليوم فيكم من أفضل ما أصبح في اجناد المسلمين (2) من الدين والفقه والعلم بالقرآن إن هذا القرآن أنزل على حروف (3) والله ان كان الرجلان ليختصمان أشد ما اختصما في شيء قط فإذا قال القارئ هذا أقرأني قال احسنت وإذا قال الآخر قال كلاكما محسن (4) فأقرأ أن الصدق يهدي إلى البر والبر يهدي إلى الجنة والكذب يهدي إلى الفجور والفجور يهدي إلى النار واعتبروا ذاك بقول أحدكم لصاحبه كذب وفجر وبقوله اذا صدقه صدقت وبررت (5) ان هذا القرآن لا يختلف ولا يستشن (6) ولا يتفه لكثرة الرد فمن قرأه على حرف فلا يدعه رغبة عنه ومن قرأه على شيء من تلك الحروف التي علم رسول الله صلى الله عليه وسلم فلا يدعه رغبة عنه فإن من يجحد بآية يجحد به كله فإنما هو كقول أحدكم لصاحبه أعجل (7) وحيي هلا والله لو أعلم رجلا أعلم بما أنزل الله على محمد صلى الله عليه وسلم مني لطلبته حتى أزداد علمه إلى علمي (8) إنه سيكون قوم يميتون الصلاة فصلوا الصلاة لوقتها واجعلوا صلاتكم معهم تطوعا (9) وإن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يعارض بالقرآن في كل رمضان (10) واني عرضت في العام الذي قبض فيه مرتين فأنبأني أني محسن وقد قرأت من في رسول الله صلى الله عليه وسلم سبعين سورة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৯০
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: উসমান (রা) এর সাহীফার ব্যাপারে আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা)-এর অভিমত।
৯০। ফুলফুলা যু'ফী (র) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুরআন জমিভূত করার ঘটনায় যারা বিচলিত হয়ে আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) এর কাছে ছুটে গিয়েছিল আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম আমরা তার কাছে প্রবেশ করলে দলের এক ব্যক্তি তাকে বলল আমরা আপনার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসিনি বরং কুরআন ভস্মিভূত করণের সংবাদে ভীত হয়ে আপনার কাছে এসেছি। তখন ইবন মাসউদ (রা) বললেন, কুরআন এমন এক গ্রন্থ যা তোমাদের নবী মুহাম্মদ (ﷺ) এর প্রতি জান্নাতের সাতটি দরজা থেকে সাতটি উচ্চারণভঙ্গিতে অথবা বিভিন্ন উচ্চারণ ভঙ্গিতে নাজিল হয়েছে আর অন্যান্য পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহ একটি দরজা দিয়ে একটি উচ্চারণ ভঙ্গিতে নাজিল হয়েছে।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب رأي ابن مسعود رضي الله عنه في مصاحف عثمان
عن فلفلة الجعفي قال فزعت فيمن فزع إلى عبد الله في المصاحف فدخلنا عليه فقال رجل من القوم إنا لم نأتك زائرين ولكن جئناك حين راعنا هذا الخبر (2) فقال ان القرآن نزل على نبيكم صلى الله عليه وسلم من سبعة أبواب (3) على سبعة أحرف أو قال حروف (4) وان الكتاب قبله كان ينزل من باب واحد على حرف واحد
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৯১
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অধ্যায়: বিভিন্ন প্রকার কিরাআ'ত এতে মত পার্থক্যের বৈধতা এবং এ নিয়ে ঝগড়া বিবাদ করা নিষেধ হওয়া প্রসঙ্গ

পরিচ্ছেদ: কিরাআত সম্পর্কিত আলোচনা ও এ ব্যাপারে সাহাবীদের মাঝে মত পার্থক্য।
৯১। যির ইবন হুবায়শ (র) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মাসউদ (রা) বলেন, আমরা কুরআনের একটি সূরা নিয়ে বির্তকে লিপ্ত হলাম। আমাদের মধ্যে কেউ বললো পয়ত্রিশ আয়াত, আবার কেউ বললো ছত্রিশ আয়াত। ইবন মাসউদ (রা) বলেন, তখন আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গিয়ে হাজির হলাম, তথায় আলী (রা)-কে দেখতে পেলাম। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে একান্তে আলাপ করছিলেন। আমরা তখন বললাম, আমরা কুরআন পাঠ নিয়ে মত পার্থক্যে লিপ্ত হয়েছি তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চেহারা লাল হয়ে গেলো এবং আলী (রা) বললেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন তোমরা সেভাবে তিলাওয়াত করবে যেভাবে তোমাদেরকে শিখানো হয়েছে।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
أبواب القراءات وجواز اختلافها والنهي عن المراء فيها

باب ما جاء من ذلك عاما واختلاف الصحابة فيه
عن زر بن حبيش قال قال عبد الله بن مسعود تمارينا (7) في سورة من القرآن فقلنا خمس وثلاثون آية ست وثلاثون آية قال فانطلقنا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فوجدنا عليا رضي الله عنه يناجيه فقلنا إنا اختلفنا في القراءة فاحمر وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم (1) فقال علي رضي الله عنه إن رسول الله صلى الله عليه وسلم يأمركم أن تقرءوا كما علمتم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৯২
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কিরাআত সম্পর্কিত আলোচনা ও এ ব্যাপারে সাহাবীদের মাঝে মত পার্থক্য।
৯২। উবাই ইব্‌ন কা'ব (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মসজিদে ছিলাম এমন সময় এক ব্যক্তি এসে এমন পদ্ধতিতে পাঠ করল, যা আমি পছন্দ করিনি, অতঃপর অপর এক ব্যক্তি আসল এবং তার সঙ্গীর চেয়ে ভিন্নভাবে সে পাঠ করল। তখন আমরা সবাই মিলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গেলাম এবং তাঁর দরবারে ঢুকলাম। আমি বললাম ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ ব্যক্তি এমন পদ্ধতিতে কুরআন পাঠ করল যা আমি পছন্দ করিনি, তারপর ঐ ব্যক্তি এসে এমনভাবে পাঠ করলো যা তার সঙ্গীর পাঠ হতে ভিন্ন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে বললেন, তোমরা দু'জন পড়। অতঃপর তারা পড়লে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন তোমরা ঠিক পড়েছো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে এ কথা বললে তা আমার কাছে দুরুহ মনে হলো, যদিও আমি তখন জাহেলী যুগে ছিলাম না। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর যখন আমার চেহারায় বিমর্ষতা লক্ষ্য করলেন, তখন তিনি আমার বুকে হাত মারলেন, তাতে আমি ঘর্মাক্ত হয়ে গেলাম। মনে হচ্ছিল আমি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে আল্লাহর দিকেই তাকিয়ে আছি। তখন তিনি বললেন, হে উবাই! আমার প্রতিপালক আমার নিকট নির্দেশ পাঠালেন যাতে আমি একটি উচ্চারণ ভঙ্গিতে কুরআন তিলাওয়াত করি। তখন আমার উম্মতের জন্য সহজ করার জন্য তাঁর মুখাপেক্ষী হলাম। অতঃপর আমাকে জানানো হলো আমি যেন দুটি উচ্চারণ ভঙ্গিতে কুরআন তিলাওয়াত করি। তখন আমার উম্মতের জন্য সহজতর করার জন্য আবারও তাঁর মুখাপেক্ষী হলাম। অতঃপর আমাকে জানানো হলো আমি যেন সাতটি উচ্চারণ ভঙ্গিতে কুরআন তিলাওয়াত করি এবং বলা হলো প্রতিবার তাঁর মুখাপেক্ষী হওয়ার বিপরীতে আপনাকে একটি করে প্রার্থনার সুযোগ দেয়া হলো (যা কবুল হওয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি বললাম হে আল্লাহ! আমার উম্মতকে ক্ষমা করুন হে আল্লাহ! আমার উম্মতকে ক্ষমা করুন, আর তৃতীয়টি আমি সেই দিনের জন্য অবশিষ্ট রাখলাম যেদিন ইবরাহীম (আ) সহ সকল সৃষ্ট জীব আমার প্রতি অনুরক্ত থাকবে।(১)
(মুসলিম)
টিকা: ১. কিয়ামতের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রাপ্ত শাফায়াতের ক্ষমতাকে বুঝানো হয়েছে।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ما جاء من ذلك عاما واختلاف الصحابة فيه
عن أبي بن كعب قال كنت في المسجد فدخل رجل فقرأ قراءة أنكرتها عليه ثم دخل آخر فقرأ قراءة سوى قراءة صاحبه فقمنا جميعا فدخلنا على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت يا رسول الله إن هذا قرأ قراءة أنكرتها عليه ثم دخل هذا فقرأ قراءة غير قراءة صاحبه فقال لهما النبي صلى الله عليه وسلم اقرآ فقرآ قال أصبتما فلما قال لهما النبي صلى الله عليه وسلم الذي قال كبر على ولا إذ كنت في الجاهلية (4) فلما رأى الذي غشيني ضرب في صدري فقضت عرقا (5) وكأنما أنظر إلى الله تبارك وتعالى فرقا فقال يا أبي ان ربي تبارك وتعالى أرسل إلي (6) أن اقرأ القرآن على حرف (7) فرددت إليه أن هون على أمتي (8) فأرسل إلي أن اقرأه على حرفين فرددت إليه أن هون على أمتي فأرسل إلي أن اقرأه على سبعة أحرف ولك بكل ردة (9) مسألة تسألنيها قال قلت اللهم اغفر لأمتي اللهم اغفر لأمتي وأخرت الثالثة (10) ليوم يرغب إلي فيه الخلق (11) حتى ابراهيم عليه الصلاة والسلام
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৯৩
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কিরাআত সম্পর্কিত আলোচনা ও এ ব্যাপারে সাহাবীদের মাঝে মত পার্থক্য।
৯৩। আমর ইবনুল আসের আযাদকৃত দাস আবু কায়স (রা) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমর ইবন 'আস শুনতে পেলেন এক ব্যক্তি কুরআনের একটি আয়াত তিলাওয়াত করছে। তখন তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাকে আয়াতটি কে শিখিয়েছেন? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। তখন আমর ইব্‌ন আস (রা) বললেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে এ আয়াতটি অন্যভাবে লিখিয়েছেন। অতঃপর তারা দু'জন মিলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গেলেন। তাদের একজন বললেন ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অমুক অমুক আয়াত এই বলে তিনি আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এভাবেই নাজিল হয়েছে। অতঃপর অপর ব্যক্তি বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। তারপর তিনি আয়াতটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে পড়ে শুনালেন এবং বললেন ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়াতটি কি এরূপ নয়? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এভাবেই নাজিল হয়েছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এ কুরআন সাতটি উচ্চারণ ভঙ্গিতে নাজিল হয়েছে। তোমরা তার যেকোন একটি ভঙ্গিতে উচ্চারণ করলেই সঠিক করবে, আর তোমরা এ ব্যাপারে ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হবে না, কেননা এ ব্যাপারে ঝগড়া করা কুফরী অথবা কুফরীর লক্ষণ।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ما جاء من ذلك عاما واختلاف الصحابة فيه
عن أبي قيس مولى عمرو بن العاص قال سمع عمرو بن العاص رجلا يقرأ آية من القرآن فقال من أقرأكها؟ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فقد أقرأنيها رسول الله صلى الله عليه وسلم على غير هذا فذهبا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال أحدهما يا رسول الله آية كذا وكذا ثم قرأها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم هكذا انزلت فقال الآخر يا رسول الله فقرأها على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال أليس هكذا يا رسول الله؟ قال هكذا أنزلت فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن هذا القرآن أنزل على سبعة أحرف (1) فأي ذلك قرأتم فقد أحسنتم ولا تماروا فيه فإن المراء فيه كفر (2) أو آية الكفر
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৯৪
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কিরাআত সম্পর্কিত আলোচনা ও এ ব্যাপারে সাহাবীদের মাঝে মত পার্থক্য।
৯৪। আবূ জুহায়ম (র) হতে বর্ণিত দু'ব্যক্তি কুরআনের একটি আয়াত নিয়ে মত পার্থক্য করছিল তখন তিনি এরূপ বলেছিলেন।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ما جاء من ذلك عاما واختلاف الصحابة فيه
عن أبي جهيم ان رجلين اختلفا في آية من القرآن فذكر نحوه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৯৫
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কিরাআত সম্পর্কিত আলোচনা ও এ ব্যাপারে সাহাবীদের মাঝে মত পার্থক্য।
৯৫। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কুরআন সাতটি উচ্চারণ ভঙ্গিতে নাজিল হয়েছে। কুরআনের উচ্চারণ ভঙ্গি নিয়ে ঝগড়া করা কুফরী-এ কথা তিনি তিনবার বললেন, (অতঃপর বললেন) তোমরা যা জান তা আমল করো আর যা জান না তা তার জ্ঞাত ব্যক্তির জন্য ছেড়ে দাও।
হযরত আবূ হুরায়রা (রা) হতে অপর এক সূত্রে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাবান ক্ষমাশীল ও দয়াবান আল্লাহ আল কুরআনকে সাতটি বর্ণনাভঙ্গিতে অবতীর্ণ করেছেন।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ما جاء من ذلك عاما واختلاف الصحابة فيه
عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال نزل القرآن على سبعة أحرف المراء في القرآن كفر ثلاث مرات (6) فما عرفتم منه فاعملوا وما جهلتم منه فردوه إلى عالمه (7) (وعنه من طريق ثان) (8) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أنزل القرآن على سبعة أحرف عليما حكيما غفورا رحيما
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৯৬
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কিরাআত সম্পর্কিত আলোচনা ও এ ব্যাপারে সাহাবীদের মাঝে মত পার্থক্য।
৯৬। আমর ইবন শুয়ায়ব (রা) তার পিতা সূত্রে তার দাদা হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, আমি ও আমার ভাই এমন একটি সভায় যোগ দিয়েছিলাম, যার বিপরীত এক পাল লাল উটনী ও আমার পছন্দ নয়। আমি ও আমার ভাই এসে দেখলাম রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাড়ীর দরজাসমূহের একটি দরজায় তাঁর বেশ কয়েকজন প্রধান সাহাবী বসে আছেন, আমরা তাদের আলোচনায় ব্যাঘাত ঘটাতে চাইনি, তাই আমরা একটি কক্ষে বসে পড়লাম, তখন সাহাবীগণ কুরআনের একটি আয়াত তিলাওয়াত নিয়ে মত পার্থক্যে লিপ্ত হলেন। এক পর্যায়ে তাদের স্বর উচ্চ হয়ে উঠলো। পরে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) রাগান্বিত অবস্থায় বেরিয়ে আসলেন তার চেহারা লাল হয়ে গিয়েছিলো, তিনি তাদের প্রতি ধুলা নিক্ষেপ করছিলেন এবং বলছিলেন ওহে লোকজন। তোমরা থামো, এভাবেই তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিসমূহ তাদের নবীদের ব্যাপারে মতবিরোধ এবং কিতাবের এক অংশকে অন্য অংশের বিপরীত দাঁড় করানোর কারণে ধ্বংস হয়েছে। কুরআন এজন্য নাযিল হয়নি যে, তার একটি অংশ দ্বারা অপর অংশকে মিথ্যা সাব্যস্ত করা হবে। বরং এক অংশ দ্বারা অপর অংশের সত্যতা সাব্যস্ত করার জন্যই নাজিল হয়েছে। সুতরাং তোমরা এর যা যা বুঝতে পারবে সে অনুযায়ী আমল করবে, আর যা বুঝতে পারবে না তাকে তার জ্ঞাত ব্যক্তির জন্য ছেড়ে দাও।
(বুখারী ও মুসলিম (সংক্ষেপে) অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ما جاء من ذلك عاما واختلاف الصحابة فيه
عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده قال لقد جلست أنا وأخي (2) مجلسا ما أحب أن لي به حمر (3) النعم أقبلت أنا وأخي واذا مشيخة (4) من صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم جلوس عند باب من أبوابه فكرهنا أن تفرق بينهم فجلسنا حجرة (5) إذ ذكروا آية من القرآن فتماروا فيها (6) حتى ارتفعت أصواتهم فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم مغضبا قد احمر وجهه يرميهم بالتراب ويقول مهلا يا قوم بهذا هلكت الامم من قبلكم باختلافهم على أنبيائهم وضربهم الكتب بعضها ببعض إن القرآن لم ينزل يكذب بعضه بعضا بل يصدق بعضه بعضا فما عرفتم منه فاعملوا به وما جهلتم منه فردوه إلى عالمه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৯৭
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কিরাআতের ব্যাপারে বিস্তারিত বিবরণ এবং এ ব্যাপারে সাহাবীদের মতপার্থক্য। সূরা মায়িদার প্রসঙ্গ
৯৭। আনাস ইবন মালিক (রা) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সূরা মায়িদার (৪৫ নম্বর) আয়াত
এখানে وَکَتَبۡنَا عَلَیۡہِمۡ فِیۡہَاۤ اَنَّ النَّفۡسَ بِالنَّفۡسِ ۙ وَالۡعَیۡنَ بِالۡعَیۡنِ
النَّفْسَ কে যবর দিয়ে এবং وَالْعَيْنُ কে পেশ দিয়ে পড়েছেন।
আবু দাউদ, তিরমিযী, মুস্তাদরাক লিল হাকিম অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب ما جاء من القراءة مفصلا واختلاف الصحابة فيه ما جاء في سورة المائدة
عن أنس بن مالك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قرأها (وكتبنا عليهم فيها أن النفس بالنفس والعين بالعين) نصب النفس ورفع العين
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৯৮
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সূরা হুদ প্রসঙ্গ
৯৮। আসমা বিন্‌ত ইয়াযীদ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে সূরা হুদ এর (৪৬নং) আয়াত
اِنَّہٗ عَمِلَ غَيْرَ صَالِحٍ এখানে ع) عَمَلٌ যবর, مِ যের এবং لَ যবর দিয়ে) এবং يْ) غَيْرَ যবর দিয়ে) পড়তে শুনেছি। আমি আরও শুনেছি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সূরা যুমার এর (৫৩ নং)
قُلۡ یٰعِبَادِیَ الَّذِیۡنَ اَسۡرَفُوۡا عَلٰۤی اَنۡفُسِہِمۡ لَا تَقۡنَطُوۡا مِنۡ رَّحۡمَۃِ اللّٰہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ یَغۡفِرُ الذُّنُوۡبَ جَمِیۡعًا ؕ اِنَّہٗ ہُوَ الۡغَفُوۡرُ الرَّحِیۡمُ
এর পরে وَلَا يُبَالِي যোগ করে অতঃপর إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ এভবে পড়েছেন।
হাদীস খানার প্রথমাংশ আবু দাউদ ও তিরমীযী থেকে ও দ্বিতীয়াংশ মুসনাদে আহমদ থেকে বর্ণিত অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
ما جاء في سورة هود
عن أسماء بنت يزيد قالت سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرء (إنه عمل (10) غير صالح) وسمعته يقرأ (يا عبادي الذين اسرفوا على أنفسهم لا تقنطوا من رحمة الله إن الله يغفر الذنوب جميعا ولا يبالي إن هو الغفور الرحيم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৯৯
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুরা মারয়াম প্রসঙ্গ
৯৯। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি প্রথম বছরই সূরা মারয়ামের অধিকাংশ আয়ত্ত করেছিলাম, তবে আমি জানতাম না রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ সূরাটি যুহরের সালাতে তিলাওয়াত করতেন নাকি আসরের সালাতে? আর আমি এটাও জানতাম না তিনি সূরা মারয়ামের (৮ম) আয়াত وَقَدْ بَلَغْتُ مِنَ الكِبَرِ عَتِيًّا
এখানে عُتِيًّا পড়তেন নাকি عُسِيًّا পড়তেন।
হাদীসখানার প্রথমাংশ আবু দাউদ ও দ্বিতীয়াংশ মুস্তাদরাকে হাকীম থেকে বর্ণিত অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
ما جاء في سورة مريم
عن ابن عباس قال حفظت السنة الأولى كلها (2) غير اني لا أدري أكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرأ في الظهر والعصر أم لا؟ (3) ولا أدري كيف كان يقرأ هذا الحرف (وقد بلغت من الكبر عتيا أو عسيا
tahqiq

তাহকীক: