মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩৫৪ টি

হাদীস নং: ২২১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: যুদ্ধে উৎসাহ প্রদান ও তার প্রেক্ষাপট
২২১. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা যখন হিজরত করে মদীনায় আসি, তখন সেখানকার আবহাওয়া আমাদের প্রতিকূল পাই। আমরা জ্বরে আক্রান্ত হই। সে সময়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বদর প্রান্তরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতেন। মুশরিকগণ এগিয়ে আসছে এসব জানার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বদর প্রান্তরের দিকে যাত্রা করলেন। বদর হল একটি কূপের নাম। মুশরিকদের পূর্বে আমরা সেখানে পৌঁছে গেলাম। সেখানে আমরা দুজন লোকের সাক্ষাত পেলাম। একজন কুরায়শ বংশোদ্ভূত অন্যজন উকবা ইব্‌ন আবূ মুঈতের ক্রীতদাস। আমাদের দেখে কুরায়শী লোকটি চুপিসারে পালিয়ে যায়। উকবার দাসটিকে আমরা ধরে ফেলি। আমরা তার কাছে জানতে চাইলাম যে, মুশরিকদের দলে লোকসংখ্যা কত? সে বলল, আল্লাহর কসম তারা সংখ্যায় অধিক। তাদের শক্তি ও যুদ্ধপ্রস্তুতি রয়েছে পূর্ণমাত্রায়। সরাসরি উত্তর না পেয়ে মুসলমানগণ তাকে পিটিয়ে পিটিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট নিয়ে যায়। তিনি তাকে ওদের লোকসংখ্যা কত তা জিজ্ঞেস করলেন। সে বলল, তাদের সংখ্যা অনেক। তাদের শক্তি ও প্রস্তুতি জোরালো। স্পষ্টভাবে ওদের সংখ্যা জানার জন্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যথাসাধ্য চেষ্টা করলেন। সে তা জানাতে অস্বীকার করে। এবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন যে, ওরা খাবারের জন্যে কতটি উট জবাই করে? সে বলল প্রতিদিন দশটি করে উট জবাই করে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হিসেব করে বললেন যে, তাহলে ওদের সংখ্যা এক হাজার। প্রতি শত মানুষের জন্যে একটি করে উট। সে রাতে আমাদের উপর হালকা বৃষ্টিপাত হল। আমরা বৃক্ষতলায় ও ঢালের নীচে আশ্রয় নিলাম। রাতভর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু'আ মুনাজাতে লিপ্ত থাকলেন। তিনি বলছিলেন হে আল্লাহ্! মুসলমানদের এই সেনাদল যদি ধ্বংস হয় তাহলে এই ধরাতে আপনার আর ইবাদত বন্দেগী হবে না। ফজরের নামাযের সময় হবার পর তিনি ডেকে বললেন ওহে আল্লাহর বান্দাগণ, নামাযের জন্য আস। মুসলমানগণ বৃক্ষতলা এবং ঢালের নীচ থেকে বেরিয়ে এল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন এবং যুদ্ধের প্রতি উৎসাহিত করলেন। তিনি বললেন মুশরিক কুরায়শ সৈন্যগণ এই লাল পাহাড়ের নীচে আছে। একপর্যায়ে ওরা এগিয়ে এল। আমরা সারিবদ্ধ হলাম। একজন লোক বা লাল উটে চড়ে লোকজনের মাঝে চক্কর দিচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ওহে আলী! হামযাকে আমার নিকট ডেকে নিয়ে আস। হযরত হামযা মুশরিকদের অধিকতর নিকটাত্মীয় ছিলেন। তাঁকে ডেকে পাঠালেন এটা জানার জন্য যে, উষ্ট্রারোহী লোকটি কে এবং সে কি বলছে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, শত্রুপক্ষের মধ্যে যদি কোন কল্যাণকামী লোক থাকে তাহলে ওই লাল উষ্ট্রারোহীই হবে। হযরত হামযা (রা) এলেন এবং বললেন ওই লোক হল উতবাহ ইব্‌ন্ন রাবীআহ, সে ওদেরকে যুদ্ধে বারণ করছে, নিবৃত্ত করছে। সে ওদেরকে বলছে, হে আমার সম্প্রদায়! আমি বিপরীত পথে নিরাপত্তা প্রাপ্ত লোকজন দেখছি, তোমরা ভালোয় ভালোয় ওদের কাছে পৌছতে পারবে না। হে আমার সম্প্রদায়, তোমাদের জন্যে উত্তম হল আমার পরামর্শে তোমরা পেছনে সরে যাও আর বলতে থাক যে, উতবাহ্ ইবন রাবীআহ কাপুরুষ হয়ে গিয়েছে। মূলতঃ তোমাদের জানা আছে যে, আমি তোমাদের মধ্যে কাপুরুষ নই। আবু জাহল তার বক্তব্য শুনল। সে বলল, আপনি এমন কথা বলে যাচ্ছেন? আপনি ছাড়া অন্য কেউ এমন কথা বললে আমি তাকে দাঁতে কামড়িয়ে শেষ করে দিতাম। আপনার অপ্রস্তুতি আপনার পেটে ভয় ঢুকিয়ে দিযেছে। উতবা বলল ওহে হলুদ নিতম্বের লোক। তুমি আমাকে তিরস্কার করছ? আজ বুঝতে পারবে আমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি দুর্বল ও কাপুরুষ। এরপর উতবাহ, তদীয় ভ্রাতা শায়বা এবং তদীয় পুত্র ওলীদ প্রচণ্ড ক্ষোভ নিয়ে ময়দানে বেরিয়ে এল এবং বলল, আমাদের বিরুদ্ধে কে লড়বে? মুসলমানদের পথে কয়েকজন তরুন আনসারী বেরিয়ে এল ওদের মুকাবিলা করার জন্যে। উতবাহ বলল আমরা তো এদেরকে চাই না আমরা চাচ্ছি আবদুল মুত্তালিব বংশের আমাদের চাচাত ভাইদেরকে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ওহে আলী, হামযা এবং উবায়দা ইবন হারিছ ইব্‌ন আবদুল মুত্তালিব তোমরা প্রস্তুত হও বেরিয়ে পড়। শেষ পর্যন্ত মহান আল্লাহ্ উতবাহ, শায়বা এবং রাবীআহকে হত্যা করলেন। মুসলমানদের পক্ষে উবায়দা (রা) আহত হলেন। আমরা সেদিন ওদের ৭০ জনকে হত্যা করেছি এবং ৭০ জনকে বন্দী করেছি। এরপর জনৈক বেঁটে আনসারী হযরত আব্বাস ইব্‌ন আবদুল মুত্তালিবকে বন্দী অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট নিয়ে এল। হযরত আব্বাস (রা) বললেন ইয়া রাসূলুল্লাহ। এই ব্যক্তি আমাকে বন্দী করেনি। জনৈক লাল যুলফীধারী সুপুরুষ চিত্রাবর্ণের অশ্বে আরোহণ করে আমাকে বন্দী করেছে। আমি এখন তাকে দেখছি না। আনসারী বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমিই তাঁকে বন্দী করেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, থাম-চুপ কর। সম্মানিত ফিরিশতা দিয়ে মহান আল্লাহ্ তোমাকে সাহায্য করেছেন। হযরত আলী (রা) বলেন, আমরা সেদিন আবদুল মুত্তালিব বংশের আব্বাস, আকীল এবং নাওফাল ইবন হারিছ সহ অন্যান্য গোত্রের লোকদেরকে বন্দী করি।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في سياق القصة والتحريض علي القتال
عن علي رضي الله عنه (1) قال لما قدمنا المدينة فاجتويناها (2) وأصابنا بها وعك (3) وكان النبي - صلى الله عليه وسلم - يتخبر (4) عن بدر فلما بلغنا أن المشركين قد أقبلوا سار الرسول - صلى الله عليه وسلم - إلي بدر: وبدر بئر فسبقنا المشركون اليها فوجدنا فيها رجلين منهم، رجلا من قريش، ومولي لعقبة ابن أبي معيط، فاما القرشي فانفلت، وأما مولي عقبة فأخذناه فجعلنا نقول له كم القوم؟ فيقول هم والله كثير عددهم، شديد بأسهم، فجعل المسلمون إذ قال ذلك ضربوه حتي أنتهوا به الي النبي - صلى الله عليه وسلم - فقال له كم القوم؟ فقال هم والله كثير عددهم، شديد بأسهم، فجهد النبي - صلى الله عليه وسلم - أن يخبره كم هم فأبي ثم ان النبي - صلى الله عليه وسلم - سأله كم ينحرون من الجزور؟ (5) فقال عشرا كل يوم، فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - القوم الف كل جزور لمائة و * ثم انه أصابنا من الليل طش (6) من مطر فانطلقنا تحت الشجر والحجف (7) نستظل تحتها من المطر وبات رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يدعو ربه عز وجل ويقول اللهم إن تهلك هذه الفئة لا تعبد، فلما أن طلع الفجر نادي الصلاة عباد الله، فجاء الناس من تحت الشجر والحجف فصلي بنا رسول الله - صلى الله عليه وسلم - وحرض علي القتال، ثم قال إن جمع قريش تحت هذا الضلع (8) الحمراء من الجبل، فلما دنا القوم منا وصاففناهم اذا رجل منهم علي جمل له أحمر يسير في القوم، فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يا علي ناد لي حمزة، وكان أقربهم من المشركين (9) من صاحب الجمل الأحمر؟ وماذا يقول لهم، ثم قال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - إن يكن في القوم أحد يأمر بخير فعسي أن يكون صاحب الجمل الأحمر، فجاء حمزة فقال هو عتبة بن ربيعة وهو ينهي عن القتال ويقول لهم يا قوم اني أري قوما مستميتين لا تصلون اليهم وفيكم خير: يا قوم اعصبوها اليوم برأسي (10) وقولو جبن عتبة بن ربيعة وقد علمتم أني لست باجبنكم، فسمع بذلك أبو جهل فقال أنت تقول هذا والله لو غيرك يقول هذا لأعضضته (1) قد ملأت رئتك جوفك رعبا، فقال عتبة إياي تعير يا مصفر استه (2) ستعلم اليوم آيانا الجبان، قال فبرز عتبة وأخوه شيبة وابنه الوليد حمية فقال من يبارز؟ فخرج فتية من الأنصار ستة، فقال عتبة لا نريد هؤلاء ولكن يبارزنا من بني عمنا من بني عبد المطلب، فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قم يا علي وقم يا حمزة وقم يا عبيدة بن الحارث بن المطلب (3) فقتل الله تعالي عتبة وشيبة ابني ربيعة والوليد بن عتبة وجرح عبيدة فقتلنا منهم سبعين وأسرنا سبعين، فجاء رجل من الأنصار قصير بالعباس بن عبد المطلب أسيراً، فقال العباس يا رسول الله ان هذا والله ما أسرني، لقد أسرني رجل أجلح (4) من أحسن الناس وجها علي فرس أبلق (5) ما أراه في القوم، فقال الأنصاري أنا أسرته يا رسول الله: فقال اسكت فقد أيدك الله تعالي بملك كريم (6) فقال علي رضي الله عنه فأسرنا وأسرنا من بني عبد المطلب العباس وعقيلا ونوفل بن الحرث
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: যুদ্ধে উৎসাহ প্রদান ও তার প্রেক্ষাপট
২২২. হযরত উমার (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন বদর দিবসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাহাবীগণের প্রতি তাকালেন। তিনি দেখলেন তারা তিনশ এর কিছু বেশী। তিনি মুশরিকদের দিকে তাকালেন। দেখলেন যে, তারা এক হাজারের বেশী। এরপর তিনি কিবলামুখী হয়ে দুহাত ঊর্ধ্বে তুললেন। তাঁর শরীরে তখন একটি চাঁদর ও একটি লুঙ্গি ছিল। এরপর তিনি বললেন ওহে আল্লাহ্! আপনার প্রতিশ্রুতি কোথায়? হে আল্লাহ্! আপনার ওয়াদা পূরণ করুন। হে আল্লাহ্ এই মুসলিম জনগোষ্ঠি যদি আজ ধ্বংস হয়, তাহলে দুনিয়াতে আর কখনো আপনার ইবাদত-বন্দেগীকারী হবে না। তিনি এভাবে দুআ ও আহাজারী করেই যাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে তাঁর গায়ের চাঁদর মাটিতে পড়ে গেল। হযরত আবু বকর (রা) এসে তাঁর চাঁদর উঠিয়ে গায়ে পরিয়ে দিলেন এবং পেছন দিক থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, হে আল্লাহ্ নবী! আপনার মালিককে আপনি আরজি দিয়েছেন তা-ই আপনার জন্যে যথেষ্ট। তিনি অবিলম্বে আপনাকে দেয়া তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণ করবেন। তখন মহান আল্লাহ্ নাযিল করলেন-
إِذْ تَسْتَغِيْثُوْنَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ .
তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেছিলে। তিনি তা কবুল করেছিলেন এবং বলেছিলেন আমি তোমাদেরকে সাহায্য করব এক হাজার ফিরিশতা দ্বারা যারা একের পর এক আসবে (সূরা-আনফাল-৯)
এরপর যখন উভয় পক্ষ মুখোমুখি হল এবং যুদ্ধে লিপ্ত হল তখন মহান আল্লাহ্ মুশরিকদের পরাজিত করে দিলেন। ওদের ৭০ জন নিহত এবং ৭০ জন বন্দী হল। এরপর বন্দীদের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত আবূ বকর (রা), উমার (রা) এবং আলী (রা) এর পরামর্শ চাইলেন। আবু বকর (রা) বললেন ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! ওরা তো আমাদের চাচাত ভাই, গোত্র এবং ভাই পর্যায়ে আত্মীয়। আমি মনে করি ওদের থেকে ফিদয়া ও মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেয়া যায়। মুক্তিপণের অর্থ দিয়ে আমরা কাফিরদের বিরুদ্ধে সমরশক্তি বৃদ্ধি করতে পারব। আর আশা করি মহান আল্লাহ্ ওদেরকে হিদায়াত করবেন। তারা আমাদের সহায়ক শক্তি হয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে উমার! আপনার অভিমত কি? আমি বললাম, আবূ বকর (রা) যে অভিমত পেশ করেছেন আমি তেমনটি বলব না। বরং আমি বলব যে, আমার অমুক আত্মীয়কে আমার হাতে দিয়ে দিন আমি তার ঘাড় ভেঙ্গে দিই, আকীলকে আলীর হাতে সোপর্দ করে দিন তিনি তার ঘাড়টাকে ভেঙ্গে দিবেন, হামযা এর (রা) অমুক ভাইকে তাঁর হাতে সঁপে দিন তিনি তার ঘাড় মটকে দিবেন, এতে মহান আল্লাহ্ দেখতে পাবেন যে আমাদের অন্তরে মুশরিকদের প্রতি কোন ভালবাসা নেই। ওরা মূলতঃ কাফিরদের শীর্ষস্থানীয় নেতা ও পরামর্শক। শেষ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত আবু বকর (রা) এর পরামর্শ গ্রহণ করলেন, আমারটি নয়। তিনি মুক্তিপণ নিয়ে ওদেরকে ছেড়ে দিলেন। হযরত উমার (রা) বলেন পরদিন ভোরে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সাক্ষাত করি। তিনি বসা ছিলেন। সেখানে আবু বকর (রা) উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা দুজনে কাঁদছিলেন। আমি বললাম ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। আপনারা দুজন কেন কাঁদছেন তা আমাকে জানান। কান্নার বিষয় হলে আমিও কাঁদব। আর যদি কান্নার বিষয় না হয় তাহলেও আপনাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশে আমি কাঁদার চেষ্টা করব, তিনি বললেন তোমার আত্মীয়দের প্রতি মুক্তিপণ গ্রহণের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে আমাকে খোদায়ী আযাবের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, যে আযাব ওই নিকটবর্তী বৃক্ষটির চেয়েও নিকট এসে গিয়েছে। এমতাবস্থায় মহান আল্লাহ্ নাযিল করলেন-
مَا كَانَ لِنَبِي أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الْأَرْضِ تُرِيدُونَ عَرَضَ الدُّنْيَا وَاللَّهُ يُرِيدُ الْآخِرَةَ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ لَوْلَا كِتَابٌ مِّنَ اللَّهِ سَبَقَ لَمَسَّكُمْ فِيْمَا أَخَذْتُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ .
অর্থ: নবীর পক্ষে সমীচীন নয় বন্দীদেরকে নিজের নিকট রাখা যতক্ষণ না দেশময় প্রচুর রক্তপাত ঘটাবে। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা করে থাক, অথচ আল্লাহ্ চান আখিরাত। আর মহান আল্লাহ্ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়। যদি একটি বিষয় না হত যা পূর্ব হতেই আল্লাহ্ লিখে রেখেছেন, তাহলে তোমরা যা গ্রহণ করেছ সেজন্যে বড় আযাব এসে যেত। (সূরা আনফালঃ ৬৭-৬৮)।
যা গ্রহণ করেছ অর্থ যে মুক্তিপণ গ্রহণ করেছ। এরপর গনীমত বা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হালাল করা হয়েছে। পরবর্তী বছরে উহুদের যুদ্ধে তারা বদর যুদ্ধে মুক্তিপণ নেয়ার দুঃখজনক পরিণতি ভোগ করেছেন। তাঁদের ৭০ জন সেদিন শহীদ হয়েছিলেন এবং সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে একা রেখে পালিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁর দাঁত মুবারক ভেঙ্গে গিয়েছিল এবং শিরস্ত্রাণ মাথার মধ্যে ঢুকে পড়েছিল। তাঁর মুখ বেয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়েছিল। মহান আল্লাহ্ নাযিল করলেন-
أَوَلَمَّا أَصَابَتْكُمْ مُصِيبَةٌ قَدْ أَصَبْتُمْ مِثْلَيْهَا قُلْتُمْ أَنَّى هَذَا قُلْ هُوَ مِنْ عِنْدِ أَنْفُسِكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ .
অর্থ : কী ব্যাপার! যখন তোমাদের উপর একটি মুসিবত এসে পৌঁছল তখন তোমরা বললে এটি কোথায় থেকে এল? অথচ তোমরা তো দ্বিগুণ বিপদ ঘটিয়েছিলে। বলুন, এটি তোমাদের নিজেদের নিকট থেকে, আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। (সূরা আলে ইমরান : ১৬৫)। অর্থাৎ মুক্তিপণ নেয়ার কারণেই এমনটি হয়েছে।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في سياق القصة والتحريض علي القتال
عن عمر رضي الله عنه (7) قال لما كان يوم بدر قال نظر النبي - صلى الله عليه وسلم - إلي أصحابه وهم ثلاثمائة ونيف ونظر إالي المشركين فاذا هم الف وزيادة فاستقبل النبي - صلى الله عليه وسلم - القبلة ثم مد يديه وعليه رداؤه وازاره ثم قال اللهم اين ما وعدتني، اللهم أنجز ما وعدتني، اللهم إن تهلك هذه العصابة من أهل الاسلام فلا تعبد في الأرض ابداً، قال فما زال يستغيث ربه عز وجل ويدعوه حتي سقط رداؤه فأتاه أبو بكر رضي الله عنه فأخذ رداءه فرداه ثم التزمه من ورائه ثم قال يا نبي الله كفاك مناشدتك ربك فانه سينجز لك ما وعدك وانزل الله عز وجل (إذ تستغيثون ربكم فاستجاب لكم أني ممدكم بألف من الملائكة مردفين) فلما كان يومئذ والتقوا فهزم الله عز وجل المشركين فقتل منهم سبعون رجلا وأسر منهم سبعون رجلا، فاستشار رسول الله - صلى الله عليه وسلم - أبا بكر وعليا وعمر رضي الله عنه فقال أبو بكر يا نبي الله هؤلاء بنوا العم والعشيرة والأخوان فإني أري أن تأخذ منهم الفدية فيكون ما أخذنا منهم قوة لنا علي الكفار وعسي الله أن يهديهم فيكونون لنا عضداً: فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - ما تري يا ابن الخطاب؟ قال قلت والله ما أري ما رأي أبو بكر ولكني أري أن تمكنني من فلان قريبا لعمر فأضرب عنقه وتمكن عليا من عقيل فيضرب عنقه وتمكن حمزة من فلان أخيه فيضرب عنقه حتي يعلم الله أنه ليست في قلوبنا هوادة للمشركين: هؤلاء صناديدهم وائمتهم وقادتهم، فهوي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - ما قال أبو بكر ولم يهو ما قلت، فأخذ منهم الفداء، فلما كان من الغد قال عمر رضي الله عنه غدوت الي النبي - صلى الله عليه وسلم - فاذا هو قاعد وأبو بكر رضي الله عنه واذا هما يبكيان: فقلت يا رسول الله أخبرني ماذا يبكيك أنت وصاحبك؟ فان وجدت بكاء بكيت، وان لم أجد بكاء تباكيت لبكائكما، قال فقال النبي - صلى الله عليه وسلم - الذي عرض علي أصحابك من الفداء لقد عرض علي عذابكم أدني من هذه الشجرة لشجرة قريبة: وأنزل الله عز وجل (ماكان لنبي أن يكون له أسري حتي يثحن في الأرض الي قوله) (لولا كتاب من الله سبق لمسكم فيما أخذتم) من الفداء، ثم أحل لهم الغنائم، فلما كان يوم أحد من العام المقبل عوقبوا بما صنعوا يوم بدر من أخذهم الفداء، فقتل منهم سبعون وفر أصحاب النبي - صلى الله عليه وسلم - عن النبي - صلى الله عليه وسلم - وكسرت رباعيته وهشمت البيضة علي رأسه وسال الدم علي وجهه وأنزل الله تعالي (أو لما أصابتكم مصيبة قد أصبتم مثليها) الآية بأخذكم الفداء
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: যুদ্ধে উৎসাহ প্রদান ও তার প্রেক্ষাপট
২২৩. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বদর দিবসে সাহাবীগণের সাথে পরামর্শ করেছিলেন। হযরত আবু বকর (রা) কথা বলতে চাইলেন। তিনি আপাততঃ তাঁকে থামিয়ে দিলেন। হযরত উমার (রা) কথা বলতে চাইলেন। তিনি আপাততঃ তাঁকেও থামিয়ে দিলেন। তখন আনসারগণ বললেন ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! আপনি কি আমাদের অভিমত জানতে চাচ্ছেন? এ প্রেক্ষিতে আনসারী সাহাবী মিকদাদ (রা) বললেন (এক বর্ণনায় সা'দ ইব্‌ন উবাদাহ্ বললেন) ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। সেই মহান সত্তার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম করে বলছি, আপনি যদি আমাদেরকে সমুদ্রে অশ্ব ছুটাতে বলেন আমরা নিশ্চয়ই তা করব। আপনি যদি আমাদেরকে বারক-আল গামাদ পর্যন্ত অশ্ব দৌড়াতে বলেন আমরা তা করব, সিদ্ধান্ত আপনার হাতে। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাহাবীদেরকে সমর অভিযানে বের হয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি এগিয়ে গিয়ে বদর প্রান্তরে তাঁবু ফেললেন। সেখানে কুরায়শদের পানি বহনকারী উটপাল এল। এদের মধ্যে হাজ্জাজ গোত্রের একজন কালো বাচ্চা ছেলে ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ধরে এনে আবু সুফিয়ান ও তার সাথীদের অবস্থান জানতে চাইলেন। সে বলল, আবু সুফিয়ান কোথায় আছেন তা আমার জানা নেই তবে কুরায়শ-নেতা আবু জাহল এবং উমাইয়া ইব্‌ন খাল্‌ল্ফ প্রায় এসে গিয়েছে। সাহাবীগণ সত্য উদঘাটনের জন্যে তাকে প্রহার করলেন এবং আবূ সুফিয়ানের উপস্থিতি জানতে চাইলেন। প্রহারের সময় সে বলতে থাকে যে, হাঁ আবু সুফিয়ান এই যে, প্রায় এসে গিয়েছেন-প্রহার বন্ধ করলে বলে যে, আবু সুফিয়ানের অবস্থান সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই। তবে এইযে কুরায়শী সৈন্যবাহিনী প্রায় এসে পৌঁছেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায আদায় করছিলেন।
নামায শেষে তিনি সাহাবীদেরকে বললেন, সে যখন সত্য কথা বলছে তখন তোমরা তাকে প্রহার করছ আর যখন মিথ্যা কথা বলছে তখন তাকে ছেড়ে দিচ্ছ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাত উঠিয়ে এবং তারপর নীচের দিকে নামিয়ে ইশারা করে বললেন এটি অমুকের আগামীকাল মরে পড়ে থাকার স্থান। এটি অমুকের মরে পড়ে থাকার স্থান ইনশাআল্লাহ্। একপর্যায়ে মুসলিম এবং মুশরিক উভয় দল সম্মুখ সমরে লিপ্ত হল। অবশেষে মহান আল্লাহ্ কুরায়শদেরকে পরাজিত করে ছাড়লেন। আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যার যেখানে মরে পড়ে থাকার কথা হাত দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলেন তা হতে সামান্য দূরেও তারা পড়ে থাকেনি। হুবহু নির্দেশিত স্থানেই তাদের লাশ পড়ে রয়েছিল। যুদ্ধের তিনদিন পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ওদের নিকট গমন করলেন। ইতিমধ্যে ওদের লাশে পচন ধরে দুর্গন্ধময় হয়ে গিয়েছিল। তিনি বললেন, হে আবু জাহল, হে উতবাহ্, হে শায়বাহ, হে উমাইয়া তোমরা তোমাদের প্রভূর দেয়া প্রতিশ্রুতি কি সত্যি পেয়েছ? আমি তো আমাকে দেয়া আমার প্রভূর প্রতিশ্রুতি সত্য পেয়েছি। হযরত উমার (রা) বললেন ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ), আপনি ওদের মৃত্যুর তিনদিন পর ওদেরকে ডাকছেন ওরা তো পঁচে-গলে দুর্গন্ধময় হয়ে গিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন আমি ওদেরকে যা বলছি তা ওদের চেয়ে তুমি বেশি শুনতে পাচ্ছ না। তবে ওরা জবাব দিতে পারছে না। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নির্দেশে ওদেরকে পায়ে টেনে বদর গর্তে ফেলে দেয়া হয়েছিল।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في سياق القصة والتحريض علي القتال
عن أنس بن مالك (1) أن رسول الله - صلى الله عليه وسلم - شاور الناس يوم بدر فتكلم ابو بكر فاعرض عنه، ثم تكلم عمر فأعرض عنه (2) فقالت الأنصار يا رسول الله إيانا تريد؟ فقال المقداد ابن الأسود (وفي رواية سعد بن عبادة) (3) يا رسول الله والذي نفسي بيده لو أمرتنا أن نخيضها البحر (4) لأخضناها ولو أمرتنا أن نضرب أكبادها (5) إلي برك الغماد فعلنا فشأنك يا رسول الله فندب رسول الله - صلى الله عليه وسلم - أصحابه (6) فانطلق حتي نزل بدراً وجاءت روايا قريش (7) وفيهم غلام لبني الحجاج أسود فأخذه رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فسألوه عن أبي سفيان وأصحابه؟ فقال أما أبو سفيان فليس لي به علم ولكن هذه قريش وأبو جهل وأمية بن خلف قد جاءت، فيضربونه فاذا ضربوه قال نعم هذا أبو سفيان، فاذا تركوه فسألوه عن أبي سفيان قال مالي بأبي سفيان من علم ولكن هذه قريش قد جاءت ورسول الله - صلى الله عليه وسلم - يصلي فانصرف (8) فقال إنكم لتضربونه اذا صدقكم وتدعونه إذا كذبكم: وقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - بيده فوضعها فقال هذا مصرع فلان غدا وهذا مصرع فلان غدا إن شاء الله تعالي: فالتقوا فهزمهم الله عز وجل فو الله ما أماط (9) رجل منهم عن موضع كفي النبي - صلى الله عليه وسلم - قال فخرج اليهم النبي - صلى الله عليه وسلم - بعد ثلاثة أيام وقد جيفوا (10) فقال يا أبا جهل يا عتبة يا شيبة يا أمية قد وجدتم ما وعدكم ربكم حقا. فاني قد وجدت ما وعدني ربي حقا. فقال له عمر يا رسول الله تدعوهم بعد ثلاثة أيام وقد جيفو؟ فقال ما أنتم باسمع لما أقول منهم غير أنهم لا يستطيعون جوابا، فامر بهم فجروا بارجلهم فألقوا في قليب بدر (11)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : বদর যুদ্ধকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর গুরুত্বের সাথে গ্রহণ, মহান আল্লাহর নিকট তাঁর ফরিয়াদ সশরীরে তাঁর যুদ্ধক্ষেত্রে অবতরণ, তাঁর বীরত্ব তাঁকে পেয়ে যোদ্ধাদের সাহস বৃদ্ধি এবং মহান আল্লাহর পথে ফিরিশতা দ্বারা তাঁকে সাহায্য করা
২২৪. হযরত ইবন আব্বাস থেকে বর্ণিত, বদর দিবসে একটি তাঁবুতে অবস্থান করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এই বলে মহান আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ জানাচ্ছিলেন যে, হে আল্লাহ্ আমি আপনার প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার পূরণের নিবেদন পেশ করছি। হে আল্লাহ্ আপনি যদি চান যে, আজ থেকে পরবর্তী সময়ে কখনো আর ইবাদত না হোক, তবে আর আপনার ইবাদত বন্দেগী হবে না। এ সময়ে আবূ বকর (রা) তাঁর হাত ধরে ফেললেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার জন্যে যথেষ্ট হয়েছে। আপনি আপনার প্রভূর নিকট পরম আহাজারি করেছেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুদ্ধপোশাকে সজ্জিত অবস্থায় উত্তেজিত ও আবেদায়িত হয়ে বলছিলেন
سَيُهْزَمُ الْجَمْعُ وَيُوَلُّوْنَ الدُّبُرَ
এই দল তো শীঘ্রই পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে। (সূরা কামার: ৪৫)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في اهتمام النبي - صلى الله عليه وسلم - بوقعة بدر واستغاثته بالله عز وجل ونزوله معممة القتال بنفسه وشجاعته واتقاء المحاربين به وتأييد الله له بالملائكة
عن ابن عباس (1) أن رسول الله صلي الله عليه وعلي آله وصحبه وسلم قال وهو في قبة (2) يوم بدر اللهم اني أنشدك عهدك ووعدك، اللهم إن شئت لم تعبد بعد اليوم فأخذ ابو بكر بيده فقال حسبك يا رسول الله لقد الححت علي ربك وهو يثب في الدرع وهو يقول سيهزم الجمع ويولون الدبر (3)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : বদর যুদ্ধকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর গুরুত্বের সাথে গ্রহণ, মহান আল্লাহর নিকট তাঁর ফরিয়াদ সশরীরে তাঁর যুদ্ধক্ষেত্রে অবতরণ, তাঁর বীরত্ব তাঁকে পেয়ে যোদ্ধাদের সাহস বৃদ্ধি এবং মহান আল্লাহর পথে ফিরিশতা দ্বারা তাঁকে সাহায্য করা
২২৫. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেন বদর দিবসে হযরত মিকদাদ ব্যতীত আমাদের মধ্যে অন্য কোন অশ্বারোহী ছিল না। আমরা দেখলাম যে, ওই রাতে আমাদের সকলেই নিদ্রামগ্ন ছিলেন কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছিলেন সজাগ। তিনি একটি বৃক্ষের নীচে নামায আদায় করছিলেন আর কাঁদছিলেন। ভোর পর্যন্ত তিনি তা করেছেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في اهتمام النبي - صلى الله عليه وسلم - بوقعة بدر واستغاثته بالله عز وجل ونزوله معممة القتال بنفسه وشجاعته واتقاء المحاربين به وتأييد الله له بالملائكة
عن علي (1) قال ما كان فينا فارس (2) يوم بدر غير المقداد ولقد رأيتنا وما فينا الانائم الا رسول - صلى الله عليه وسلم - تحت شجرة يصلي ويبكي حتي اصبح
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : বদর যুদ্ধকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর গুরুত্বের সাথে গ্রহণ, মহান আল্লাহর নিকট তাঁর ফরিয়াদ সশরীরে তাঁর যুদ্ধক্ষেত্রে অবতরণ, তাঁর বীরত্ব তাঁকে পেয়ে যোদ্ধাদের সাহস বৃদ্ধি এবং মহান আল্লাহর পথে ফিরিশতা দ্বারা তাঁকে সাহায্য করা
২২৬. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেন, বদর দিবসে যখন যুদ্ধ শুরু হল আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। আমরা দেখেছি যে, তিনি ছিলেন শত্রুর প্রতি কঠোরভাবাপন্ন। শারীরিকভাবেও তিনি মুশরিকদের সর্বাধিক নিকটে অবস্থান করছিলেন। অর্থাৎ সকল মুসলিম মুজাহিদ কাফিরদের যত বেশি কাছাকাছি ছিলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের সকলের চেয়ে তাদের বেশি কাছাকাছি ছিলেন। হযরত আলী (রা) থেকে অপর বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি বলেছেন, বদর দিবসে আমি আমাদেরকে দেখেছি যে, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আশ্রয়ে অবস্থান করছি। আর তিনি আমাদের সবার চেয়ে শত্রুপক্ষের বেশি কাছাকাছি রয়েছেন। আর সেদিন তিনি শত্রুর প্রতি সর্বাধিক কঠোর ভাবাপন্ন ছিলেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في اهتمام النبي - صلى الله عليه وسلم - بوقعة بدر واستغاثته بالله عز وجل ونزوله معممة القتال بنفسه وشجاعته واتقاء المحاربين به وتأييد الله له بالملائكة
وعنه أيضا (4) قال لما حضر البأس (5) يوم بدر التقينا برسول الله - صلى الله عليه وسلم - وكان من أشد الناس (6) ما كان أو لم يكن أحد أقرب الي المشركين منه (وعنه من طريق ثان) (7) لقد قال رأيتنا يوم بدر ونحن نلوذ برسول الله - صلى الله عليه وسلم - وهو أقربنا الي العدو وكان من أشد الناس يومئذ بأسا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : বদর যুদ্ধকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর গুরুত্বের সাথে গ্রহণ, মহান আল্লাহর নিকট তাঁর ফরিয়াদ সশরীরে তাঁর যুদ্ধক্ষেত্রে অবতরণ, তাঁর বীরত্ব তাঁকে পেয়ে যোদ্ধাদের সাহস বৃদ্ধি এবং মহান আল্লাহর পথে ফিরিশতা দ্বারা তাঁকে সাহায্য করা
২২৭. আবূ সালিহ হানাফী (রহ.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন যে, বদর দিবসে হযরত আলী (রা) কে এবং হযরত আবু বকর (রা) কে বলা হয়েছিল যে, আপনাদের একজনের সাথে রয়েছেন জিব্রাঈল (আ) আর অন্যজনের সাথে রয়েছেন মীকাঈল (আ)। সম্মানিত ফিরিশতা ইসরাফীল (আ) ও যুদ্ধে উপস্থিত রয়েছেন। অন্য বর্ণনায় ইসরাফীল ফিরিশতা সারিতে উপস্থিত রয়েছেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في اهتمام النبي - صلى الله عليه وسلم - بوقعة بدر واستغاثته بالله عز وجل ونزوله معممة القتال بنفسه وشجاعته واتقاء المحاربين به وتأييد الله له بالملائكة
عن أبي صالح الحنفي (8) عن علي رضي الله عنه قال قيل لعلي ولابي بكر يوم بدر مع احدكما جبريل ومع الآخر ميكائيل، واسرافيل ملك عظيم يشهد القتال أو قال يشهد الصف
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : বদর যুদ্ধকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর গুরুত্বের সাথে গ্রহণ, মহান আল্লাহর নিকট তাঁর ফরিয়াদ সশরীরে তাঁর যুদ্ধক্ষেত্রে অবতরণ, তাঁর বীরত্ব তাঁকে পেয়ে যোদ্ধাদের সাহস বৃদ্ধি এবং মহান আল্লাহর পথে ফিরিশতা দ্বারা তাঁকে সাহায্য করা
২২৮. আবূ দাউদ মাযিনী থেকে বর্ণিত। তিনি বদর যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন সেদিন তরবারির আঘাত করার জন্যে আমি জনৈক মুশরিক সৈনিককে তাড়া করছিলাম। হঠাৎ দেখি আমার তরবারি তার দেহ স্পর্শ করার পূর্বেই তার মাথা মাটিতে পড়ে গিয়েছে। তাতে আমি বুঝে নিয়েছিলাম যে অন্য কেউ তাকে হত্যা করেছে।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في اهتمام النبي - صلى الله عليه وسلم - بوقعة بدر واستغاثته بالله عز وجل ونزوله معممة القتال بنفسه وشجاعته واتقاء المحاربين به وتأييد الله له بالملائكة
عن أبي داود المازني (9) وكان شهد بدرا قال أني لا تبع رجلا من المشركين لأضربه اذ وقع رأسه قبل أن يصل اليه سيفي فعرفت أنه قد قتله غيري
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: এই উম্মতের ফিরআওন অভিশপ্ত আবু জাহেলের নিহত হওয়া এবং তাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আনন্দিত হওয়া
২২৯. হযরত আবদুর রহমান ইব্‌ন আওফ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বদর দিবসে আমি সারিতে দণ্ডায়মান ছিলাম। হঠাৎ ডানে-বামে তাকিয়ে দেখি আমি দুজন তরুণ আনসারী বালকের মাঝে রয়েছি। আমি কামনা করেছিলাম যে, তাদের মধ্যে অধিকতর শক্তিশালী যে জন সেরকম দুজনের মাঝে আমি থাকি। ইতিমধ্যে ওদের একজন আমাকে টোকা দিয়ে বলল, চাচা! আপনি কি আবু জাহেলকে চিনেন? আমি বললাম, হাঁ চিনি। ভাতিজা! ওকে তোমার কী প্রয়োজন? সে বলল, আমি শুনেছি যে, সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে গালি দিয়েছে, যে মহান সত্ত্বার হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম করে বলছি, আমি যদি তাকে দেখতে পাই তাহলে আমাদের দুজনের মধ্যে যার মৃত্যু আগে হবার তা না হওয়া পর্যন্ত আমি তাকে ছাড়ব না। বর্ণনাকারী বলেন, ইতিমধ্যে দ্বিতীয় তরুণ আমাকে টোকা দিয়ে অনুরূপ কথা বলল। এদের অবস্থা দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম। অবিলম্বে আমি দেখতে পেলাম যে, আবু জাহেল মুশরিক দলের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। আমি বললাম তোমরা কি ওই লোকটিকে দেখতে পাচ্ছ? সে-ই তোমাদের উদ্দীষ্ট ব্যক্তি। একথা শুনে অবিলম্বে তারা এগিয়ে গেল এবং তার মুখোমুখি হয়ে তাকে মরণাঘাত করল। তারা দুজনে তাকে হত্যা করল। এরপর তারা দুজন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গিয়ে তাঁকে এই সংবাদ জানাল। তিনি বললেন, তোমাদের দুজনের কে তাকে হত্যা করেছে? তাদের প্রত্যেকেই বলল যে, আমি হত্যা করেছি। তিনি বললেন, তোমরা কি তোমাদের তরবারি মুছে ফেলেছ? তারা বলল, না, মুছিনি। তিনি উভয়ের তরবারি পরীক্ষা করলেন। দুটোতেই রক্ত দেখে তিনি বললেন তোমাদের দুজনেই তাকে হত্যা করেছ। এরপর তিনি আবূ জাহলের নিকট পাওয়া যুদ্ধ সরঞ্জামাদি মুআয ইবন আমর ইব্‌ন জামূহ-কে দিয়ে দিলেন। এরা দুজন হল মুআয ইব্‌ন আমর ইবন জামূহ এবং মুআয ইব্‌ন আফরা।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في مقتل اللعين أبي جهل فرعون هذه الأمة وفرح النبي - صلى الله عليه وسلم - بذلك
عن عبد الرحمن بن عوف (11) أنه قال أني لواقف يوم بدر في الصف نظرت عن يميني وعن شمالي فاذا أنا بين غلامين من الأنصار حديثة أسنانهما تمنيت لوكنت بين أضلع (1) منهما فغمزني أحدهما فقال يا عم هل تعرف أبا جهل؟ قال قلت نعم وماحاجتك بابن أخي؟ قال بلغني أنه سب رسول الله صلي الله عليه وسلم والذي نفسي بيده لو رأيته لم يفارق سوادي سواده (2) حتي يموت الأعجل منا، قال فغمزني الآخر فقال لي بمثلها فتعجبت لذلك، قال فلم أنشب (3) أن نظرت الي أبي جهل يجول في الناس فقلت لهما الا تريان؟ هذا صاحبكما الذي تسألان عنه، فابتدراه فاستقبلهما فضرباه حتي قتلاه ثم انصرفا الي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فأخبراه فقال ايكما قتله؟ فقال كل واحد منهما أنا قتلته قال هل مسحتما سيفيكما؟ قالا لا، فنظر رسول الله - صلى الله عليه وسلم - في السيفين فقال كلا كما قتله (4) وقضي بسلبه لمعاذ بن عمرو بن الجموح (5) وهما معاذ بن عمر ابن الجموح ومعاذ بن عفراء
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৩০
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: এই উম্মতের ফিরআওন অভিশপ্ত আবু জাহেলের নিহত হওয়া এবং তাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আনন্দিত হওয়া
২৩০. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বদর দিবসে বলেছিলেন কে আছ যে, আবু জাহলের পরিণতি দেখে আসবে? তখন হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) এগিয়ে গেলেন। তিনি দেখতে পেলেন যে, আফরা-এর দু'পুত্র তাকে আঘাতে আঘাতে ঠাণ্ডা ও নিস্তেজ করে ফেলেছে। এক বর্ণনায় এসেছে যে, সে উপুড় হয়ে পড়ে রয়েছে। তিনি তার দাঁড়ি চেপে ধরলেন এবং বললেন তুমি-ই আবূ জাহল! সে বলল, তোমরা যাকে হত্যা করেছ কিংবা নিজের সম্প্রদায় যাকে হত্যা করেছে তার চেয়ে সম্মানী মানুষ কেউ আছে কি?
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في مقتل اللعين أبي جهل فرعون هذه الأمة وفرح النبي - صلى الله عليه وسلم - بذلك
عن أنس (6) قال قال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يوم بدر من ينظر ما فعل أبو جهل؟ فانطلق ابن مسعود فوجد ابني عفراء قد ضرباه حتي برد (7) (وفي رواية حتي برك) فأخذ بلحيته فقال أنت أبو جهل! فقال وهل فوق رجل قتلتموه او قتله أهله
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৩১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: এই উম্মতের ফিরআওন অভিশপ্ত আবু জাহেলের নিহত হওয়া এবং তাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আনন্দিত হওয়া
২৩১. আবু ইসহাক বর্ণনা করেছেন আবু উবায়দাহ থেকে। তিনি বলেছেন যে, আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন মাসউদ (রা) বলেছিলেন, বদর দিবসে আমি আবু জাহলের নিকট গমন করি। সে তখন মাটিতে পড়া ছিল। তার পায়ে ছিল চরম জখম। তরবারি উঁচিয়ে সে লোকজনকে সরাচ্ছিল। আমি বললাম, সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ্, হে আল্লাহর দুশমন। যিনি তোমাকে লাঞ্ছিত করেছেন। সে বলল, আমি তো সেই ব্যক্তি যাকে তার নিজের সম্প্রদায় হত্যা করেছে। ইবন মাসউদ (রা) বলেন, আমি আমার একটি ছোট্ট তরবারি দিয়ে তার হাতে আঘাত করতে থাকি। তার তরবারিটি হাত থেকে খসে পড়ে। আমি সেটি তুলে নিই। এরপর সেই তরবারি দিয়ে আমি তাকে আঘাত করি এবং তাকে হত্যা করি। এরপর আমি সেখান থেকে বের হয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসি। আমার পা যেন মাটি স্পর্শ করেনি। আমি তাঁকে সংবাদটি জানাই। তিনি বললেন সেই আল্লাহর কসম করে বলছ কি যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই? আমি বললাম, হাঁ সেই আল্লাহর কসম করে বলছি যিনি ব্যতিত কোন ইলাহ্ নেই। এরপর তিনি আমার সাথে পায়ে হেঁটে আবু জাহলের নিকট এলেন এবং বললেন সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর। হে আল্লাহ্ শত্রু যিনি তোমাকে লাঞ্ছিত করেছেন, এই ব্যক্তি ছিল এই উম্মতের ফিরআউন।
ইমাম আহমদ (র)-এর পুত্র বলেছেন যে, আমার বাবা ইমাম আহমদ (র) এটুকু সংযুক্ত করেছেন, আবু ইসহাক সূত্রে আবূ উবায়দাহ্ থেকে তিনি বলেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) বলেছেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবূ জাহলের তরবারিটি আমাকে দিয়ে দিলেন।

তাঁর থেকে অন্য এক বর্ণনা এসেছে আবু উবায়দাহ সূত্রে, আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) থেকে তিনি বলেছেন। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বললাম ইয়া রাসূলাল্লাহ্। মহান আল্লাহ্ আবূ জাহলকে হত্যা করেছেন তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي نَصَرَ عَبْدَهُ وَأَعَزَّ دِينَهُ
সকল প্রশংসা আল্লাহর যিনি তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তাঁর দীনকে শক্তিশালী করেছেন।
অপর বর্ণনায় তিনি বলেছেন
صَدَقَ عَبْدَهُ وَأَعَرَّ دِيْنَهُ
তাঁর বান্দাকে দেয়া প্রতিশ্রুতি সত্য করেছেন এবং তাঁর দীনকে শক্তিশালী করেছেন।
অপর বর্ণনায় তিনি বলেছেন,
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي صَدَقَ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَرَّمَ الْأَحْزَابُ وَحْدَهُ
সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর যিনি তাঁর ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই শত্রুদলকে পরাজিত করেছেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في مقتل اللعين أبي جهل فرعون هذه الأمة وفرح النبي - صلى الله عليه وسلم - بذلك
عن أبى سحاق عن أبى عبيدة (1) قال قال عبدالله (يعنى ابن مسعود رضى الله عنه) انتهيت الى أبى جهل يوم بدر وقد ضربت رجله وهو صريع وهو يذب الناس عنه بسيف له، فقلت الحمد لله الذى اخزاك ياعدو الله، فقال هل هو الا رجل قتله قومه؟ قال فجعلت أتناوله بسيف لى غير طائل فأصبت يده فندر (2) سيفه فاخذته فضربته به حتى قتلته، قال ثم خرجت (3) حتى أتيت النبى - صلى الله عليه وسلم - كانما أقل من الارض (4) فأخبرته، فقال الله الذى لا اله الا هو؟ قال فرددها ثلاثا (5) قال قلت الله الذى لا اله الا هو، قال فخرج يمشى معى حتى قام عليه فقال الحمد لله الذى أخزاك ياعدو الله، هذا كان فرعون هذه الأمة قال وزاد فيه أبى (6) عن أبى اسحاق عن أبى عبيدة قال قال عبد الله فنفلنى سيفه (وعنه من طريق ثان) (7) عن أبى عبيدة عن عبدالله (8) قال أتيت رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فقلت يارسول الله ان الله قد قتل أباجهل، فقال الحمد الله الذى نصر عبده وأعز دينه وقال مرة يعنى أمية (9) صدق عبده وأعز دينه (وفي لفظ آخر) الحمد الله الذى صدق وعده ونصر عبده وهزم الاحزاب وحده
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৩২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কুরায়শ নেতাদের মৃত্যুর পূর্বেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কর্তৃক তাদের মৃত্যুস্থল জানিয়ে দেয়া, তাদের মরদেহ কূপে ফেলে দেয়া এবং ধমক ও তিরস্কারের সাথে তাদের সাথে কথা বলা
২৩২. হযরত উমার (রা) থকে বর্ণিত, তিনি বদর যুদ্ধে অংশ নেয়া যোদ্ধাদের বিষয়ে আলাপ করছিলেন। তিনি বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) পূর্ববর্তী দিবসে আমাদেরকে কুরায়শ নেতৃবৃন্দের মৃত্যুস্থল দেখাচ্ছিলেন। তিনি বলছিলেন, আগামীকাল এখানে অমুকের মৃত্যু হবে ইনশাআল্লাহ্ এবং ওখানে অমুকের মৃত্যু হবে ইনশাআল্লাহ্। পরের দিন যুদ্ধকালে দেখা গেল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নির্দেশিত স্থানে ওরা মরে পড়ে আছে। আমি তখন বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! যিনি আপনাকে সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন তাঁর কসম করে বলছি ওরা তো আপনার দেখানো স্থান থেকে একটুও এদিক ওদিক যায়নি। তারা বরং ঠিক ঠিক ওই স্থানগুলোতেই পড়ে থাকছে। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নির্দেশে ওদের মরদেহগুলোকে কূপে ফেলে দেয়া হয়। এরপর তিনি ওদের মরদেহগুলোর নিকট গেলেন এবং বললেন ওহে অমুক! ওহে অমুক, মহান আল্লাহ্ তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা কি তোমরা সত্য পেয়েছ? আমি তো নিশ্চয়ই আমাকে দেয়া আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য পেয়েছি। উমার (রা) বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ), মরে লাশ হয়ে যাওয়া লোকগুলোর সাথে আপনি কথা বলছেন? রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেন আমি যা বলছি তা ওদের চেয়ে তোমরা বেশি শুনছ না, তবে ওরা জবাব দিতে পারছে না।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب إخبار النبى - صلى الله عليه وسلم - بمصارع صناديد قريش قبل موتهم ورمى جثثهم في بئر ثم ندائه اياهم بالتقريع والتوبيخ
عن عمر رضى الله عنه (1) وكان يحدث عن أهل بدر قال إن كان رسول الله - صلى الله عليه وسلم - ليرينا مصارعهم بالأمس يقول هذا مصرع فلان غدا ان شاء الله تعال: وهذا مصرع فلان غدا ان شاء الله تعال، قال فجعلوا يصرعون عليها: قال قلت والذى بعثك بالحق ما أخطأ وا تيك (2) كانوا يصرعون عليها ثم أمر بهم فطرحوا في بئر، فانطلق اليهم فقال يافلان يافلان هل وجدتم ما وعدكم الله حقا فأنى وجدت ما وعدنى الله حقا: قال عمر يا رسول الله أتكلم قوما قد جيفوا (3) قال ما أنتم بأسمع لما أقول منهم ولكن لا يستطعون أن يجيبوا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৩৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কুরায়শ নেতাদের মৃত্যুর পূর্বেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কর্তৃক তাদের মৃত্যুস্থল জানিয়ে দেয়া, তাদের মরদেহ কূপে ফেলে দেয়া এবং ধমক ও তিরস্কারের সাথে তাদের সাথে কথা বলা
২৩৩. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে, মুসলমানগণ শুনতে পেল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বদর কূপের তীরে দাঁড়িয়ে ডেকে ডেকে বলেছেন, ওহে আবু জাহল ইব্‌ন হিশাম, ওহে উতবা ইব্‌ন রাবিআহ, ওহে শায়বা ইব্‌ন রাবিআহ্, ওহে উমাইয়া ইব্‌ন খলফ তোমাদের প্রভু তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা কি তোমরা সত্য পেয়েছ? মুসলমানগণ বলল ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি তো এমন কতক লোকের সাথে কথা বলছেন যারা মরে লাশ হয়ে আছে। তিনি বললেন, আমি যা বলছি তা ওদের চেয়ে তোমরা বেশি শুনছ না, তবে ওরা জবাব দিতে পারছে না।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب إخبار النبى - صلى الله عليه وسلم - بمصارع صناديد قريش قبل موتهم ورمى جثثهم في بئر ثم ندائه اياهم بالتقريع والتوبيخ
عن أنس (4) قال سمع المسلمون النبى - صلى الله عليه وسلم - وهو ينادى على قليب (5) بدر يا أبا جهل بن هشام ياعتبة بن ربيعة يا شيبة بن ربية يا أمية بن خلف خلف هل وجدتم ما وعد ربكم حقا؟ قالوا يا رسول الله تنادي قوما قد جيفوا قال ما أنتم باسمع لما أقول منهم ولكنهم لا يستطيعون ان يجيبوا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৩৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কুরায়শ নেতাদের মৃত্যুর পূর্বেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কর্তৃক তাদের মৃত্যুস্থল জানিয়ে দেয়া, তাদের মরদেহ কূপে ফেলে দেয়া এবং ধমক ও তিরস্কারের সাথে তাদের সাথে কথা বলা
২৩৪. ইবন উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বদর দিবসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কূপের তীরে দাঁড়ালেন এবং বললেন ওহে অমুক, ওহে অমুক তোমাদের প্রভু তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা কি তোমরা সত্য পেয়েছ? তিনি বললেন আল্লাহর কসম ওরা এখন আমার কথা শুনতে পাচ্ছে। বর্ণনাকারী
ইয়াহয়া বলেন যে, এ প্রসঙ্গে হযরত আয়েশা (রা) বলেছেন যে, মহান আল্লাহ্ আবু আবদুর রহমানকে ক্ষমা করুন, তিনি কিছুটা ত্রুটি করেছেন। মূলতঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বলেছিলেন যে, আল্লাহর কসম ওরা এখন জানতে পারছে যে, আমি তাদেরকে যা বলতাম তা-ই সঠিক। কারণ মহান আল্লাহ্ বলেছেন-
إِنَّكَ لَا تُسْمِعُ الْمَوْتَى وَمَا أَنْتَ بِمُسْمِعٍ مَنْ فِي الْقُبُورِ
আপনি মৃতদেরকে শোনাতে পারবেন না এবং যারা কবরে রয়েছে তাদেরকেও নয়। (সূরা-নামল: ৮০, সূরা ফাতির: ২২)।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب إخبار النبى - صلى الله عليه وسلم - بمصارع صناديد قريش قبل موتهم ورمى جثثهم في بئر ثم ندائه اياهم بالتقريع والتوبيخ
عن ابن عمر (1) قال وقف رسول الله - صلى الله عليه وسلم - علي القليب يوم بدر فقال يا فلان يا فلان هل وجدتم ما وعدكم بكم حقا؟ أما والله إنهم الآن ليسمعون كلامي، قال يحي فقالت عائشة غفر الله لابي عبد الرحمن انه وهل إنما، قال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - والله إنهم ليعلمون الآن ان الذي كنت أقول لهم حقا، وان الله تعالي يقول (انك لاتسمع الموتي: وما أنت بمسمع من في القبور)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৩৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কুরায়শ নেতাদের মৃত্যুর পূর্বেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কর্তৃক তাদের মৃত্যুস্থল জানিয়ে দেয়া, তাদের মরদেহ কূপে ফেলে দেয়া এবং ধমক ও তিরস্কারের সাথে তাদের সাথে কথা বলা
২৩৫. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিশ এর অধিক কুরাইশ নেতৃবৃন্দের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁর নির্দেশ মুতাবিক ওদেরকে বদর প্রান্তরের একটি আবর্জনাপূর্ণ নোংরা কূপে নিক্ষেপ করা হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন কোন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হতেন তখন সেখানে তিন রাত অবস্থান করতেন। যখন বদর যুদ্ধে জয়ী হলেন তখন সেখানে তিন রাত অবস্থান করলেন। তৃতীয় দিনে তাঁর নির্দেশে তাঁর বাহন প্রস্তুত করা হয়। তিনি পদব্রজে যাত্রা শুরু করেন। সাহাবীগণ তাঁর অনুসরণে যাত্রা শুরু করে। সাহাবীগণ বললেন যে, আমরা মনে করেছিলাম তিনি শৌচকার্যে যাচ্ছেন। তিনি এসে বদরস্থিত কূপের তীরে দাঁড়ালেন এবং নেতাদের নাম ও তাদের বাবার নাম উল্লেখ করে ওহে অমুকের পুত্র অমুক, অমুকের পুত্র অমুক বলে বলে ডাকতে শুরু করেন এবং বলতে থাকেন যে, আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের অনুসরণ করা কি তোমাদের জন্যে সুখকর হত না? তোমাদের প্রভু তোমাদেরকে যে ওয়াদা দিয়েছেন তা কি তোমরা সত্য পেয়েছে? হযরত উমার (রা) বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ), আপনি কি প্রাণহীন দেহের সাথে কথা বলছেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, মুহাম্মাদের প্রাণ যাঁর হাতে তাঁর কসম করে বলছি আমি যা বলছি তা ওদের চেয়ে তোমরা বেশী শুনছ না।
কাতাদাহ বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্যে মহান আল্লাহ্ ওদেরকে জীবিত করে দিয়েছিলেন, তারা তাঁর কথা শুনেছে। এটি ছিল তাদের প্রতি তিরস্কার অপমান ও প্রতিশোধমূলক।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب إخبار النبى - صلى الله عليه وسلم - بمصارع صناديد قريش قبل موتهم ورمى جثثهم في بئر ثم ندائه اياهم بالتقريع والتوبيخ
عن قتادة عن أنس (2) قال وحدث أنس بن مالك أن نبي الله - صلى الله عليه وسلم - أمر ببضعة وعشرين رجلا من صناديد قريش فألقوا في طوي (3) من أطواء بدر خبيث مخبث قال وكان اذا ظهر علي قوم أقام بالعرصة (4) ثلاث ليال، قال فلما ظهر علي بدر أقام ثلاث ليال حتي اذا كان الثالث أمر براحلته فشدت برحلها ثم مشي واتبعه أصحابه قالوا فما نراه ينطلق الا ليقضي حاجته قال حتي قام علي شفة الطوي فجعل يناديهم باسمائهم وأسماء آبائهم يا فلان بن فلان أسركم انكم اطعتم الله ورسوله هل وجدتم ما وعدكم ربكم حقا؟ قال عمر يا نبي الله ما تكلم من اجساد لا أرواح فيها؟ قال والذي نفس محمد بيده ما أنتم بأسمع لما أقول، منهم، قال قتادة أحياهم الله عز وجل له حتي سمعوا قوله توبيخا وتصغيرا ونقمة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৩৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কুরায়শ নেতাদের মৃত্যুর পূর্বেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কর্তৃক তাদের মৃত্যুস্থল জানিয়ে দেয়া, তাদের মরদেহ কূপে ফেলে দেয়া এবং ধমক ও তিরস্কারের সাথে তাদের সাথে কথা বলা
২৩৬. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বদর দিবসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কূপে নিক্ষিপ্ত কুরাইশ নেতা উতবা, আবু জাহল ও তাদের সঙ্গীদের নিকট যখন গেলেন তখন সেখানে দাঁড়িয়ে বললেন, মহান আল্লাহ্ তোমাদেরকে খুবই মন্দ প্রতিফল দিয়েছেন। তোমরা তো এমন এক নবীর সম্প্রদায় যারা নবীকে ভীষণভাবে প্রত্যাখ্যান ও দূরে সরিয়ে দিয়েছে। সাহাবা-ই-কিরাম বললেন ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ), আপনি তো এমন কতক লোকের সাথে কথা বলছেন যারা মরে লাশ হয়ে আছে। তিনি বললেন, তোমরা আমার কথা ওদের চেয়ে বেশি উপলব্ধি করছ না।
উরওয়া (রা) হতে বর্ণিত যে, হযরত আয়েশা (রা) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নির্দেশ দিয়েছিলেন, বদর যুদ্ধে নিহত কাফিরদের মরদেহ কূপের মধ্যে ফেলে দেয়ার জন্যে। ওদেরকে কূপে ফেলে দেয়া হয়েছিল। তবে উমাইয়া ইব্‌ন খালফের লাশ কূপে নেয়া যায়নি। তার লৌহবর্মের মধ্যে লাশ পঁচে ফুলে উঠেছিল। টেনে নিয়ে যাবার সময় দেহ ছিঁড়ে ছিঁড়ে যাচ্ছিল। ফলে মৃত্যুস্থলেই পাথর ও মাটি দিয়ে তার লাশ ঢেকে দেয়া হয়েছিল। ওদেরকে কূপে নিক্ষেপ করার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ওদের নিকট এসে দাঁড়ালেন এবং বললেন ওহে কূপ-অধিবাসীগণ। তোমাদের প্রভূ তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা কি তোমরা সত্য পেয়েছ? আমি তো আমাকে দেয়া আমার প্রভূর প্রতিশ্রুতি সত্য পেয়েছি। সাহাবিগণ বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)। আপনি কি মরে লাশ হওয়া লোকদের সাথে কথা বলছেন? উত্তরে তিনি বললেন, ওরা নিশ্চয়ই জেনেছে যে, আমি ওদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা সত্য। হযরত আয়েশা (রা) বলেন যে, লোকজন বলাবলি করছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন "আমি ওদেরকে যা বলছি তা ওরা শুনেছে" মূলত তিনি বলেছেন, "আমি ওদেরকে যা বলেছি তা তারা জেনেছে"।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب إخبار النبى - صلى الله عليه وسلم - بمصارع صناديد قريش قبل موتهم ورمى جثثهم في بئر ثم ندائه اياهم بالتقريع والتوبيخ
عن عائشة رضي الله عنها (5) انها قالت لما مر النبي - صلى الله عليه وسلم - يوم بدر باولئك الرهط فألقوا في الطوي عتبة وأبو جهل وأصحابه وقف عليهم فقال جزاكم الله شرا من قوم نبي ما كان أسوأ الطرد وأشد التكذيب (6) قالوا يا رسول الله تكلم قوما جيفو فقال ما أنتم بأفهم لقولى منهم أو (1) لهم أفهم لقولى منكم
وعن عروة عنها أيضا) (2) قالت أمر رسول الله - صلى الله عليه وسلم - بالقتلى أن يطرحوا فى القليب (3) فطرحوا فيه الا ما كان من أمية ابن خلف فانه انتفخ فى درعه فملأها فذهبوا يحركوه فتزايل (4) فأقروه والقوا عليه ما غيبه فى التراب والحجارة فلما ألقاهم فى القليب وقف عليهم رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فقال يا أهل القليب هل وجدتم ما وعد ربكم حقا؟ فانى وجدت ما وعدنى ربى حقا، قال فقال اصحابه يارسول الله أتكلم قوما موتى؟ قال فقال لهم لقد علموا أن ما وعدتهم حق، قالت عائشة والناس يقولون لقد سمعوا ما قلت لهم وانما قال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - لقد علموا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৩৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: বদর যুদ্ধে উমাইয়ার নিহত হওয়া সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর পূর্ব ঘোষণা এবং তা ঘটবার পূর্বে উমাইয়া কর্তৃক তা প্রচার করা
২৩৭. আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন হযরত সা'দ ইবন মু'আয (রা) উমরা আদায়ের জন্যে মক্কা শরীফ গমন করেছিলেন। এ সময়ে তিনি সাফওয়ান ইবন উমাইয়ার বাড়ীতে ওঠেন। উমাইয়া সিরিয়া যাবার পথে মদীনায় সা'দের বাড়ীতে যাত্রা বিরতি করত। এ যাত্রায় সা'দ (রা) উমাইয়ার বাড়ীতে উঠার পর উমাইয়া তাঁকে বলল হে সা'দ আপনি একটু অপেক্ষা করুন। দুপুর হলে পরে স্থানীয় জনগণ কা'বা গৃহ থেকে সরে যাবে তখন আমি আপনাকে নিয়ে সেখানে যাব এবং তাওয়াফ করব। সময়মত হযরত সা'দ তাওয়াফ করছিলেন। তখন আবু জাহল সেখানে এসে বলল, এই লোক কে, যে নিরাপদে কা'বাগৃহের তাওয়াফ করছে? হযরত সা'দ (রা) বললেন, আমি সা'দ। আবু জাহল বলল, তুমি এখানে নিরাপদে তাওয়াফ করে যাচ্ছ অথচ তোমরা মুহাম্মাদকে আশ্রয় দিয়েছ। উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হল। উমাইয়া বলল, ওহে সা'দ, আবু হাকামের সাথে চড়া স্বরে কথা বলো না, তিনি কিন্তু এই জনপদের নেতা। হযরত সা'দ বললেন আমাকে তাওয়াফে বাধা দিলে আমি তোমার সিরিয়া যাবার পথ বন্ধ করে দেব। উমাইয়া বলেই যাচ্ছিল যে, আবু হাকামের সাথে চড়া স্বরে কথা বলবে না তিনি এ অঞ্চলের নেতা এবং তাকে থামানোর চেষ্টা করছিল। এক পর্যায়ে সা'দ রেগে গেলেন এবং বললেন তুমি আমার নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নিতে পার আমি মুহাম্মদ (ﷺ) কে শুনেছি যে, তিনি বলছিলেন তিনি তোমাকে হত্যা করবেন। উমাইয়া বলল, আমাকেই হত্যা করবে? সা'দ বললেন, হাঁ, তোমাকে। উমাইয়া বলল মুহাম্মদ (ﷺ) তো কখনো মিথ্যা বলে না। কা'বা প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে উমাইয়া তার স্ত্রীর নিকট গিয়ে বলল ইয়াছরিবী ভাই সা'দ কি বলেছে, তা কি শুনেছ? এই বলে সে হযরত সা'দের মন্তব্য তাকে শোনাল। বদর যুদ্ধ উপলক্ষে কুরায়শ নেতৃবন্দের পক্ষ থেকে যখন যুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান এল এবং সকলে যুদ্ধে উদ্দেশ্যে বের হল তখন উমাইয়ার স্ত্রী তাকে বলল তোমার ইয়াছরিবী ভাই তোমাকে কি বলেছে তা কি তোমার স্মরণ নেই? একপর্যায়ে উমাইয়া যুদ্ধে না যাবার ইচ্ছা করেছিল। কিন্তু আবু জাহল তাকে বলল, আপনি এ সকলের অন্যতম নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি। আপনি বরং আমাদের সাথে বের হয়ে এক-দুইদিন অগ্রসর হোন্ শেষ পর্যন্ত উমাইয়া তাদের সাথে বের হল এবং বদর প্রান্তরে মহান আল্লাহ্ তাকে হত্যা করলেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب إخبار النبى - صلى الله عليه وسلم - بمصرع أمية بن خلف فى وقعة بدر وتبليغه ذلك قبل حصوله ولذلك قصة
عن عبدالله (6) قال أنطلق سعد بن معاذ معتمرا فنزل على صفوان ابن أمية بن خلف وكان أمية اذا انطلق الى الشام فمر بالمدينه نزل على سعد، فقال امية لسعد انتظر حتى اذا انتصف النهار وغفل الناس انطلقت فطفت، فبينما سعد يطوف اذ أتاه ابو جهل فقال من هذا يطوف بالكعبة آمنا؟ قال سعد أنا سعد، فقال أبو جهل تطوف آمنا وقد آويتم محمدا فتلاحيا (7) فقال أمية لسعد لا ترفعن صوتك على ابى الحكم فانه سيد أهل الوادى، فقال له سعد والله أن منعتنى أن أطوف بالبيت لآقطعن اليك متجرك الى الشام فجعل أمية يقول لا ترفعن صوتك على أبى الحكم وجعل يمسكه، فغضب سعد فقال دعنا منك فانى سمعت محمدا - صلى الله عليه وسلم - يزعم انه قاتلك، قال اياى؟ قال نعم قال والله ما يكذب محمد، فلما خرجوا رجع إلى امرأته فقال أما علمت ما قال اليثربى؟ فأخبرها به، فلما جاء الصريخ (1) وخرجوا الى بدر قالت امرأته أما تذكر ما قال أخوك اليثربى؟ فأراد أن لا يخرج فقال له أبو جهل انك من اشراف الوادى فسر معنا يوما او يومين، فسار معهم فقتله الله عزوجل
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৩৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: বদর যুদ্ধের তারিখ, মুহাজির ও আনসার যোদ্ধাদের সংখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়
২৩৮. হযরত ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুসলমানদের সংখ্যা ছিল ৩১৩। মুহাজির ৭৬ এবং অবশিষ্টগণ আনসার। রামাদান মাসের ১৭ তারিখ জুমুআবার মুশরিকদের পরাজয় ঘটে।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى تاريخ غزوة بدر وعدد رجالها من المهاجرين والأنصار رضى الله عنهم وأمور متفرقة تتعلق بها
عن ابن عباس (2) انه قال ان أهل بدر كانوا ثلاثمائة وثلاثة عشر رجلا. وكان المهاجرون ستة وسبعين، وكان هزيمة أهل بدر لسبع عشرة * يوم الجمعة فى شهر رمضان
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৩৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: বদর যুদ্ধের তারিখ, মুহাজির ও আনসার যোদ্ধাদের সংখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়
২৩৯. হযরত ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে আরো বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বদর যুদ্ধ শেষ করার পর তাঁকে বলা হয়েছিল যে, এবার আবূ সুফয়ানের বাণিজ্যিক কাফেলা আক্রমণ করুন। ওদেরকে রক্ষা করার এখন কেউ নেই। তখন বন্দী অবস্থায় হযরত আব্বাস (রা) ডেকে বললেন, না- আপনার জন্য তেমনটি করা সমীচীন হবে না। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, কেন সমীচিন হবে না? হযরত আব্বাস (রা) বললেন এজন্য যে, মহান আল্লাহ্ আপনাকে দু' কাফেলার একটিতে বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং একটিতে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করে দিয়েছেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى تاريخ غزوة بدر وعدد رجالها من المهاجرين والأنصار رضى الله عنهم وأمور متفرقة تتعلق بها
وعنه أيضا (3) قال قيل للنبى - صلى الله عليه وسلم - حين فرغ من بدر عليك العير (4) ليس دونها شئ (5) قال فناداه العباس (6) وهو أسير فى وثاقه لا يصلح (وفى رواية إنه لا يصلح لك) (7) قال فقال له النبى صلى الله عليه وعلى آله وسلم لم؟ قال لأن الله عز وجل وعدك (وفى روايه انما وعدك) احدى الطائفتين (8) وقد أعطاك ما وعدك
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৪০
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: বদর যুদ্ধের তারিখ, মুহাজির ও আনসার যোদ্ধাদের সংখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়
২৪০. আব্বাস ইবন সাহল থেকে অথবা হামযা ইব্‌ন আবু উসায়দ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, বদর দিবসে আমরা এবং শত্রুপক্ষ যখন মুখোমুখি দাঁড়ালাম তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে বললেন, যখন ওরা তোমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে তখন তোমরা তাদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করবে। আমার মনে হয় তিনি এটাও বলেছিলেন যে, তোমরা তোমাদের বর্শা ও তীরগুলো যথাসম্ভব কম ব্যয় করবে।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء فى تاريخ غزوة بدر وعدد رجالها من المهاجرين والأنصار رضى الله عنهم وأمور متفرقة تتعلق بها
عن عباس بن سهل (10) وحمزة بن أبى أسيد عن أبيه قال لما التقينا نحن والقوم يوم بدر قال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - ... يومئذ لنا اذا اكثبوكم (11) يعنى غشوكم فارموهم بالنبل، وأراه قال واستبقوا نبلكم
tahqiq

তাহকীক: