মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩৫৪ টি
হাদীস নং: ২০১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র (রা)-এর জন্ম এবং হযরত আয়েশা (রা)-এর সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাসর রাত্রি উদযাপন
২০১. শাহর ইবন হাওশাব থেকে বর্ণিত। তিনি একদিন বানু আবদিল আশহাল গোত্রের মহিলা আসমা বিনত ইয়াযীদ ইবন সাকানের নিকট গেলেন। আসমা তাঁর জন্যে খাবার আনলেন। শাহর বললেন, আমার খাওয়ার আগ্রহ নেই। আসমা বললেন, আমি হযরত আয়েশা (রা) কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর গৃহে পাঠানোর জন্যে নববধূরূপে সাজিয়ে দিয়েছিলাম। এরপর আমি এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে ডেকে নিয়ে যাই আয়েশা (রা) কে দেখার জন্যে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এলেন এবং আয়েশা (রা)-এর পাশে বসলেন। সেখানে বড় একটি দুধের পাত্র আনা হল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা হতে দুধ পান করলেন। এরপর সেটি হযরত আয়েশা (রা) কে দিলেন। হযরত আয়েশা (রা) লজ্জাবোধ করছিলেন এবং মাথা নীচু করে রেখেছিলেন। আসমা বলেন আমি তাঁকে কড়া স্বরে বলি- রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাত থেকে এটি গ্রহণ করুন। তিনি তা নিলেন এবং কিছু দুধ পান করলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন এবার তোমার সখীকে (আসমাকে) দাও। আসমা বলেন আমি তখন বললাম ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বরং পাত্রটি আপনার হাতে নিন এবং আপনি কিছুটা পান করে আমাকে দিন। তিনি পাত্র নিলেন এবং কিছুটা দুধ পান করে আমাকে দিলেন। আমি বসে পড়লাম। পাত্রটি আমার হাঁটুর উপর রাখলাম এবং ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে আমার ঠোঁট লাগাতে শুরু করলাম যাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেখানে মুখ লাগিয়েছিলেন সেই বরকতময় স্থানে আমার ঠোঁট লাগে। এরপর উপস্থিত মহিলাদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বললেন, এবার ওদেরকে দাও। তারা বলল, আমাদের দুধ পানের আগ্রহ নেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন ক্ষুধা এবং মিথ্যাচার দুটোকে একত্রিত করো না। সুতরাং হে শাহর! তুমি "আমার আগ্রহ নেই" এর কথা বলা থেকে বিরত থাকবে তো? বর্ণনাকারী শাহর বলেন যে, আমি তখন বললাম হে আম্মাজান! আমি আর কখনো সে কথা বলব না।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ماجاء في ميلاد عبد الله بن الزبير وبنائه - صلى الله عليه وسلم - بعائشة رضي الله عنهم
عن شهر بن حوشب (6) أن أسماء بنت يزيد بن السكن أحدى نساء بنى عبد الأشهل دخل عليها يوما فقربت اليه طعاما فقال لا أشتهيه فقالت أني قينت (1) عائشة رضي الله عنها لرسول الله - صلى الله عليه وسلم - ثم جئته فدعوته لجلوتها (2) فجاء فجلس إلي جانبها فأتي بعس لبن (3) فشرب ثم ناولها النبي - صلى الله عليه وسلم - فخفضت رأسها وأستحيت: قالت أسماء فانتهزتها وقلت لها خذي من يد النبي - صلى الله عليه وسلم - قالت فاخذت فشربت شيئا، ثم قال لها النبي - صلى الله عليه وسلم - أعطي تربك (4) قالت أسماء فقلت يا رسول الله بل خذه فاشرب منه ثم ناولينه من يدك فاخذه فشرب منه ثم ناولنيه، قالت فجلست ثم وضعته علي ركبتي ثم طفقت أديره واتبعه بشفتي لاصيب منه مشرب (5) النبي - صلى الله عليه وسلم - ثم قال لنسوة عندي ناوليهن فقلن لا نشتهيه فقال النبي - صلى الله عليه وسلم - لاتجمعن جوعا وكذبا، فهل أنت منتهية أن تقولي لا اشتهيه (6) قلت أي أمه لا أعود أبدا.
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: শরীআতে আযানের প্রচলন এবং মুকীম বা স্থানীয় ব্যক্তির জন্যে নামাযে দু'রাকআত বর্ধিতকরণ
২০২. নাফি' থেকে বর্ণিত। ইবন উমার (রা) বলেন যে, মুসলমানগণ যখন মদীনায় আগমন করেন তখন তাঁরা নামাযের জন্যে একত্রিত হয়ে একটি সময়ে নামায আদায় করতেন। তখন কেউ নামাযের জন্যে আযান কিংবা ঘোষণা দিত না। একদিন তারা এ বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করলেন। কেউ বললেন এজন্যে খ্রিষ্টানদের ন্যায় ঘণ্টা বাজানোর ব্যবস্থা করুন। কেউ বললেন ইয়াহুদীদের ন্যায় শিংগাতে ফুঁ দেয়ার ব্যবস্থা করুন। হযরত উমর (রা) বললেন আপনারা কি একজন লোক পাঠাতে পারেন না যে নামাযে আসার আহ্বান জানাবে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে বেলাল, তুমি ওঠো এবং নামাযের জন্যে আহ্বান জানাও।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في مشروعية الأذان وزيادة ركعتين في صلاة الحضر الخ
عن نافع أن ابن عمر كان يقول كان المسلمون حين قدموا المدينة يجتمعون فيتحينون الصلاة وليس ينادي بها أحد فتكلموا يوما في ذلك، فقال بعضهم اتخذوا ناقوسا مثل ناقوس النصاري، وقال بعضهم بل قرنا مثل قرن اليهود، فقال عمر أولا تبعثون رجلا ينادي بالصلاة؟ فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يا بلال قم فناد بالصلاة
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: শরীআতে আযানের প্রচলন এবং মুকীম বা স্থানীয় ব্যক্তির জন্যে নামাযে দু'রাকআত বর্ধিতকরণ
২০৩. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন, মক্কাতে নামায ফরয হয়েছিল দু'রাকআত দু'রাকআত করে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মদীনায় এলেন তখন প্রতি দু'রাকআতের সাথে অতিরিক্ত দু'রাকআত করে যোগ হল। তবে মাগরিবের এবং ফজরের বিষয়টি ব্যতিক্রম। কারণ মাগরিব হল দিবাভাগের বেজোড় নামায আর ফজরে কিরআত দীর্ঘ পাঠ করা হয় বলে অতিরিক্ত যোগ হয়নি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সফরে যেতেন তখন প্রথম দিকে ফরয হওয়া নিয়মে নামায আদায় করতেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في مشروعية الأذان وزيادة ركعتين في صلاة الحضر الخ
عن عائشة رضي الله عنها (1) قالت فرضت الصلاة ركعتين ركعتين بمكة فلما قدم رسول الله - صلى الله عليه وسلم - المدينة زاد مع كل ركعتين ركعتين الا المغرب فأنها وتر النهار، وصلاة الفجر لطول قراءتها وكان اذا سافر صلي الصلاة الأولي
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিরুদ্ধে মদীনার ইয়াহুদী ও মুনাফিকদের শত্রুতার বিবরণ
২০৪. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন ইয়াহূদীগণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, হে আবুল কাসিম! আমরা আপনাকে পাঁচটি প্রশ্ন করব। আপনি যদি সেগুলোর সঠিক উত্তর দিতে পারেন তাহলে আমরা বুঝে নিব যে, আপনি সত্য নবী এবং আমরা তখন আপনার অনুসরণ করব। اللهُ عَلَى مَا نَقُولُ وَكِيلٌ (সূরা ইউসুফ: ৬৬) আয়াতে বর্ণিত পুত্রদের নিকট থেকে হযরত ইয়াকূব ওরফে ইসরাঈল (আ) এর গৃহীত অঙ্গীকারের ন্যায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের অঙ্গীকার নিলেন। এরপর তিনি বললেন, তোমাদের প্রশ্নগুলো উপস্থাপন কর। তারা বলল, নবীর চিহ্ন কি? তা আমাদেরকে বলুন। তিনি বললেন নবীর চক্ষুদ্বয় ঘুমায় অন্তর ঘুমায় না। তারা বলল, বাচ্চা কীভাবে পুরুষ কিংবা মহিলা হয়ে জন্ম নেয়? তিনি বলেন মায়ের জরায়ুতে স্বামী এবং স্ত্রীর বীর্য একত্রিত হয়। সেখানে স্বামীর বীর্যের উপর স্ত্রীর বীর্য প্রাধান্য ও শক্তিশালী হলে বাচ্চা মেয়ে হয় আর স্ত্রীর বীর্যের উপর স্বামীর বীর্য প্রাধান্য ও শক্তিশালী হলে বাচ্চাটি ছেলে হয়। তারা বলল, বলুন তো ইসরাঈল তথা ইয়াকূব নবী (ﷺ) কি কি দ্রব্য তাঁর নিজের জন্যে নিষিদ্ধ করেছিলেন? তিনি বললেন হযরত ইয়াকূব (আ) ইরকুন্নাসা বা সাইটিকা বাত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এসময়ে রুচিকর দ্রব্য বলতে একমাত্র উটের দুধই ছিল তাঁর পছন্দের ও প্রিয়ের। অপর বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি উটের গোশত হারাম ও নিষিদ্ধ করে নিয়েছিলেন তার নিজের জন্যে। তারা বলল, ঠিকই বলেছেন। এরপর তারা বলল, এই বজ্রপাতের রহস্য কী? তিনি বললেন, এটি হল ফিরিশতাগণের মধ্যে একজন ফিরিশতার বিষয়। মহান আল্লাহ্ তাকে বৃষ্টির দায়িত্ব দিয়েছেন। তার হাতে রয়েছে আগুনের হাতুড়ি। সেটি দিয়ে ভয় দেখিয়ে মেঘমালাকে আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী হাঁকিয়ে নিয়ে যায়। তারা বলল, যে শব্দ শোনা যায় সেটির কী অবস্থা? তিনি বললেন সেটি ওই ফিরিশতার শব্দ। তারা বলল, আপনি ঠিক বলেছেন। তবে আর একটি প্রশ্ন বাকী রয়েছে। সেটির সঠিক উত্তর দিতে পারলে আমরা আপনার অনুসরণ করব। সকল নবীর সাথে এক একজন বিশেষ ফিরিশতা থাকে, যে তাঁর নিকট পবিত্র বাণী নিয়ে আসে। এখন বলুন আপনার জন্যে নির্ধারিত ফিরিশতাটি কে? তিনি বললেন সে হল জিব্রাঈল। তারা বলল, হায় জিবরাঈল। সেতো যুদ্ধ বিগ্রহ এবং আযাব-গযব নিয়ে আসে, সে তো আমাদের দুশমন। আপনি যদি মীকাঈলের কথা বলতেন তাহলে তা সংগত হত। কারণ মীকাঈল রহমত, ফল-ফসল এবং বৃষ্টি নিয়ে আসে। তখন মহান আল্লাহ্ নাযিল করলেন-
قُلْ مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِجِبْرِيلَ فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَى قَلْبِكَ بِإِذْنِ اللهِ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدًى وَبُشْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ .
বলুন, যে কেউ জিবরাঈলের শত্রু এজন্যে যে, সে আল্লাহর নির্দেশে আপনার হৃদয়ে কুরআন পৌছিয়ে দিয়েছে, যা সেটির পূর্ববর্তী কিতাবের সমর্থক এবং মুমিনদের জন্য পথ প্রদর্শক ও শুভ সংবাদ (সূরা বাকারা: ৯৭)।
قُلْ مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِجِبْرِيلَ فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَى قَلْبِكَ بِإِذْنِ اللهِ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدًى وَبُشْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ .
বলুন, যে কেউ জিবরাঈলের শত্রু এজন্যে যে, সে আল্লাহর নির্দেশে আপনার হৃদয়ে কুরআন পৌছিয়ে দিয়েছে, যা সেটির পূর্ববর্তী কিতাবের সমর্থক এবং মুমিনদের জন্য পথ প্রদর্শক ও শুভ সংবাদ (সূরা বাকারা: ৯৭)।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في مناوأة اليهود ومنافقي المدينة للنبي - صلى الله عليه وسلم
عن ابن عباس (2) قال أقبلت يهود الي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فقالوا يا أبي القاسم انا نسألك عن خمسة أشياء فإن أنبأتنا بهن عرفنا انك نبي واتبعناك، فأخذ عليهم ما أخذ اسرائيل علي بنيه اذ قال (الله علي ما نقول وكيل) قال هاتوا، قالوا أخبرنا عن علامة النبي؟ قال تنام عيناه ولا ينام قلبه، قالوا أخبرنا كيف تؤنث المرأة وكيف تذكر؟ يلتقي الما آن فاذا علا ماء الرجل ماء المرأة أذكرت واذا علا ماء المرأة ماء الرجل آنثت، قالوا أخبرنا ما حرم اسرائيل علي نفسه؟ قال كان يشتكي عرق النسا فلم يجد شيئا يلائمه الا البان كذا، وكذا قال أبي قال بعضهم يعني الأبل فحرم لحومها، فقالوا صدقت، قالوا أخبرنا ما هذا الرعد؟ قال ملك من ملائكة الله عز وجل موكل بالسحاب بيديه أو في يده مخراق من ناريز جر به السحاب يسوقه حيث أمر الله، قالوا فما هذا الصوت الذي يسمع؟ قال صوته قالوا صدقت، انما بقيت واحدة وهي التي نبايعك إن أخبرتنا بها فأنه ليس من نبي الا له ملك يأتيه بالخبر، فأخبرنا من صاحبك؟ قال جبريل عليه السلام، قالوا جبريل ذاك الذي ينزل بالحرب والقتال والعذاب عدونا، ولو قلت ميكائيل الذي ينزل بالرحمة والنبات والقطر لكان: فأنزل الله عز وجل (من كان عدوا لجبريل) إلي آخر الآية
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিরুদ্ধে মদীনার ইয়াহুদী ও মুনাফিকদের শত্রুতার বিবরণ
২০৫. হযরত ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা বানর ও শুকর জাতি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, এগুলো ইয়াহূদীদের বংশজাত কিনা? ইয়াহুদীদের থেকে এগুলোর উৎপত্তি কিনা? নেতিবাচক উত্তর দিয়ে তিনি বললেন মহান আল্লাহ্ যখন কোন সম্প্রদায়কে লা'নত দিয়ে আকার ও আকৃতি বিকৃত করে দেন তখন তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়ে নির্বংশ করে দেন-তাদের কোন বংশধারা অবশিষ্ট রাখেন না। এই যে, বানর ও শুকর এগুলো আলাদা ও মৌলিক প্রজাতি। মহান আল্লাহ্ যখন ইয়াহূদীদের একটি নির্দিষ্ট অংশের প্রতি অসন্তুষ্ট হলেন, তখন তাদের আকার-আকৃতি পরিবর্তন করে তাদেরকে বানর ও শুকরের ন্যায় করে দিলেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في مناوأة اليهود ومنافقي المدينة للنبي - صلى الله عليه وسلم
عن ابن مسعود (2) قال سألنا رسول الله - صلى الله عليه وسلم - عن القردة والخنازير أهي من أصل اليهود؟ فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - ان الله لم يلعن قوما قط فمسخهم فكان لهم نسل حين يهلكهم، ولكن هذا خلق كان، فلما غضب الله علي اليهود (3) مسخهم فجعلهم مثلهم
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিরুদ্ধে মদীনার ইয়াহুদী ও মুনাফিকদের শত্রুতার বিবরণ
২০৬. বানু আবদিল আশহালের মিত্র মাহমূদ ইব্ন লাবীদ সালামা ইব্ন সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। ইনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবী ছিলেন। তিনি বলেন আমাদের বানু আবদিল আশহাল গোত্রে একজন ইয়াহূদী প্রতিবেশী ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আবির্ভাবের পূর্বে একদিন সে বানু আবদিল আশহাল গোত্রের এক সমাবেশে উপস্থিত হয়। সালমা বলেন আমি ছিলাম ওই সমাবেশে সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি। আমি একটি চাঁদর মুড়ি দিয়ে আমার পরিবারের লোকদের পাশে শোয়া ছিলাম। ইয়াহূদীটি তখন পুনর্জীবন, কিয়ামত, হিসাব-নিকাশ, নিক্তির আয়োজন এবং জান্নাত-জাহান্নাম সম্পর্কে সেখানে আলোচনা করল। ওখানে যারা ছিল তারা সকলে ছিল শিরকবাদী এবং মূর্তিপূজারী। মৃত্যু পরবর্তী পুনর্জীবনে তারা বিশ্বাস করত না। তারা বলল, ধুত্তুরী ওহে দুর্মুখ, এমনকি হবে যে, মানুষ তার মৃত্যুর পর পুনরুত্থিত হয়ে তার কর্ম অনুপাতে জান্নাতে-জাহান্নামে প্রতিফল পাবে? সে বলল, যার নামে কসম করা হয় তাঁর কসম করে বলছি হাঁ তা-ই হবে। তখন তারা কামনা করবে এবং আক্ষেপ করে বলবে হায়! সেখানকার সামান্য আগুনের পরিবর্তে দুনিয়াতে যদি তারা বিরাট চুলোর জ্বলন্ত আগুনে প্রবিষ্ট হয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়ে পুড়তে থাকত আর এই পোড়ানোর বিনিময়ে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি পেত, তাহলে অনেক ভালো হতো। ওরা বলল, দূর-ছাই! তার নিদর্শন কী? সে বলল, তার নিদর্শন হল ওই শহরগুলোর দিক থেকে একজন নবীর আবির্ভাব হবে। শহরগুলো বলে সে মক্কা ও ইয়ামানের দিকে ইঙ্গিত করেছিল। ওরা বলল, আমরা কখন ওই নবীকে দেখতে পাব? আমি তো বয়সে সবার ছোট ছিলাম, সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল এই বাচ্চাটি যদি তার স্বাভাবিক আয়ু প্রাপ্ত হয় তাহলে সে ওই নবীকে দেখতে পাবে। সালামা বলেন, সময় বয়ে যাচ্ছিল। একপর্যাযে মহান আল্লাহ্ তাঁর রাসূল মুহাম্মদ (ﷺ) কে প্রেরণ করলেন। ওই ইয়াহুদী তখনও জীবিত ছিল। আমাদের আশেপাশেই সে থাকত। আমরা রাসূলুল্লাহ এর প্রতি ঈমান আনলাম। কিন্তু হিংসা ও বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে ইয়াহূদীটি রাসূল (ﷺ) কে অস্বীকার করল। আমরা বললাম, দুর্ভোগ তোমার জন্যে। তুমি তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সম্পর্কে আমাদের এই এই বলেছিলে। সে বলল, হাঁ বলেছিলাম তবে এইজন-সেইজন নয়।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في مناوأة اليهود ومنافقي المدينة للنبي - صلى الله عليه وسلم
عن محمود بن لبيد (1) أخي بني عبد الأشهل عن سلمة بن سلامة وقش وكان من أصحاب بدر قال كان لنا جار من يهود في بني عبد الأشهل قال فخرج علينا يوما من بيته قبل مبعث النبي - صلى الله عليه وسلم - بيسير فوقف علي مجلس عبد الأشهل، قال سلمة وأنا يومئذ أحدث من فيه سنا: علي بردة مضطجعا فيها بفناء أهلي فذكر البعث والقيامة والحساب والميزان والجنة والنار، فقال ذلك لقوم أهل الشرك أصحاب أوثان لا يرون أن بعثا كائن بعد الموت، فقالوا ويحك يا فلان تري هذا كائنا أن الناس يبعثون بعد موتهم الي دار فيها جنة ونار يجزون فيها بأعمالهم؟ قال نعم والذي يحلف به لود أن له له بحظه من تلك النار أعظم تنور في الدنيا يحمونه ثم يدخلونه إياه فيطبق به عليه وأن ينجو من تلك النار غدا، قالوا له ويحك وما آية ذلك؟ قال نبي يبعث من نحو هذه البلاد وأشار بيده نحو مكة واليمن، قالوا ومتي نراه؟ قال فنظر الي وأنا من أحدثهم سنا فقال أن يستنفذ هذا الغلام عمره يدركه، قال سلمة فوالله ماذهب الليل والنهار حتي بعث الله تعالي رسوله - صلى الله عليه وسلم - وهو حيي بين أظهرنا فآمنا به وكفر به بغيا وحسدا، فقلنا ويلك يا فلان الست بالذي قلت لنا فيه ما قلت؟ قال بلي وليس به
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিরুদ্ধে মদীনার ইয়াহুদী ও মুনাফিকদের শত্রুতার বিবরণ
২০৭. মিসওয়ার ইব্ন মাখরামাহ যুহরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন এক ইয়াহূদী লোক আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। আমি তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উযূ করছিলেন। ইয়াহূদী আমাকে বলল তাঁর পিঠের কাপড়টি সরিয়ে দাও তো। মিসওয়ার বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পিঠের কাপড় সরাতে যাচ্ছিলাম কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বাধা দিলেন এবং আমার মুখমণ্ডলে পানি ছিটিয়ে দিলেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في مناوأة اليهود ومنافقي المدينة للنبي - صلى الله عليه وسلم
عن المسور بن مخرمة الزهري (3) قال مر بي يهودي وأنا قائم خلف النبي - صلى الله عليه وسلم - والنبي - صلى الله عليه وسلم - يتوضأ قال فقال ارفع أو اكشف ثوبه عن ظهره (4) قال فذهبت به ارفعه قال فنضح النبي - صلى الله عليه وسلم - في وجهي من الماء
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিরুদ্ধে মদীনার ইয়াহুদী ও মুনাফিকদের শত্রুতার বিবরণ
২০৮. জাবির ইব্ন সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন জুরমুক অধিবাসী এক লোক সাহাবীগণের নিকট এসে বলল নবী দাবীদার আপনাদের সাথীটি কোথায়? আমি যদি তাঁর সাথে কথা বলতে পারি এবং কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারি তাহলে আমি নিশ্চিত জানতে পারব তিনি নবী কি নবী নন। একপর্যায়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে এলেন। লোকটি বলল, আপনি কিছু আয়াত পাঠ করুন কিংবা কিছু ঘটনা বর্ণনা করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরআন মজীদ থেকে কয়েকটি আয়াত তিলাওয়াত করলেন। জুরমুকী আগন্তুক বলল, আল্লাহর কসম এটি তা-ই যা মূসা (আ) এনেছেন।
(আবদুল্লাহ্ ইব্ন আহমদ বলেন এটি মুনকার (অগ্রহণযোগ্য) হাদীস।)
(আবদুল্লাহ্ ইব্ন আহমদ বলেন এটি মুনকার (অগ্রহণযোগ্য) হাদীস।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في مناوأة اليهود ومنافقي المدينة للنبي - صلى الله عليه وسلم
عن جابر بن سمرة (1) قال جاء جرمقاني (2) الي أصحاب محمد - صلى الله عليه وسلم - فقال ابن صاحبكم الذي يزعم انه نبي؟ لئن سألته لأعلمن انه نبي أو غير نبي قال فجاء النبي - صلى الله عليه وسلم - فقال الجرمقاني اقرأ علي أو قص علي فتلا عليه آيات من كتاب الله تبارك وتعالي، فقال الجرمقاني هذا والله الذي جاء به موسي عليه السلام: قال عبد الله بن أحمد هذا الحديث منكر
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিরুদ্ধে মদীনার ইয়াহুদী ও মুনাফিকদের শত্রুতার বিবরণ
২০৯. উরওয়া ইব্ন যুবায়র (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে, একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গাধার পৃষ্ঠে আরোহণ করে হযরত সা'দ ইবন উবাদাহ্ (রা) কে দেখতে যাচ্ছিলেন। গাধার পিঠে বসার জন্যে একটি পাতলা কাপড় এবং তার নীচে একটি ফাদাকে তৈরী মোটা চাঁদর ছিল। হযরত সা'দ অসুস্থ অবস্থায় বানু হারিছ ইব্ন খাযরাজ গোত্রে অবস্থান করছিলেন। এটি ছিল বদর যুদ্ধের পূর্বের ঘটনা। পথে তিনি একটি জনসমাবেশ দেখতে পেলেন। সেখানে মুসলমান, মূর্তি পূজারী, মুশরিক এবং ইয়াহূদীগণ ছিল। আবদুল্লাহ্ ইবন উবায় এবং আবদুল্লাহ্ ইব্ন রাওয়াহা (রা)ও সেখানে ছিলেন। সওয়ারীর পদধূলি সমাবেশে ছড়িয়ে যাবার পর মুনাফিক নেতা আবদুল্লাহ ইবন উবায় চাঁদরে তার নাক ঢেকে বলল আমাদের সমাবেশে ধূলি উড়াবেন না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে দাঁড়িয়ে সমবেত লোকজনকে সালাম দিলেন এবং কুরআন মাজীদের আয়াত তিলাওয়াত করে ওদেরকে আল্লাহর দিকে আসার দাওয়াত দিলেন। আবদুল্লাহ্ ইবন উবায় বলল, ওহে মানুষট্, আপনি কি এর চেয়ে ভাল কিছু জানেন না? আপনি যা বলছেন তা যদি সত্য ও সঠিক হয় তাহলে এখানে আমাদেরকে কষ্ট না দিয়ে আপনি আপনার সওয়ারীর নিকট ফিরে যান এবং যে ব্যক্তি আপনার নিকট যাবে তাকে এইসব কথা বলেন। আবদুল্লাহ্ ইব্ন রাওয়াহা বললেন, হে আবদুল্লাহ্ ইবন উবায়, তুমি তাঁকে আমাদের মধ্যে থাকতে দাও আমরা তাঁর বক্তব্য পছন্দ করছি। তখন মুসলমান, মুশরিক ও ইয়াহূদীগণ পরপর তর্কবিতর্ক ও গাল-মন্দ শুরু করে দিল। তাদের মধ্যে হাতাহাতি হবার উপক্রম হল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অনবরত তাদেরকে শান্ত করছিলেন। এরপর তিনি সওয়ারীতে উঠে সা'দ ইব্ন উবাদার (রা) নিকট গেলেন এবং তাঁকে বললেন দেখেন তো আবূ হুবাব অর্থাৎ আবদুল্লাহ্ ইবন উবায় কী কাণ্ডটা ঘটাল। সা'দ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ), আপনি ওকে ক্ষমা করে দিন। তার বিষয়টা ছেড়ে দিন, কারণ মহান আল্লাহ্ তো যা দেয়ার আপনাকেই দিয়েছেন। এই অঞ্চলের লোকেরা একটি চুক্তি করেছিল যে, ওরা আবদুল্লাহকে নেতা বানাবে। তার মাথায় নেতৃত্বের মুকুট পরাবে। কিন্তু মহান আল্লাহ্ আপনাকে সত্য ও সঠিক বিষয় দান করে ওই চুক্তি রদ করে দিলেন এবং তাতে সে রাগে-ক্ষোভে জ্বলে ফুঁসে উঠেছে এবং আপনার সাথে এই আচরণ করেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ক্ষমা করে দিলেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في مناوأة اليهود ومنافقي المدينة للنبي - صلى الله عليه وسلم
عن عروة بن الزبير (3) ان أسامة بن زيد أخبره أن النبي - صلى الله عليه وسلم - ركب حمارا عليه إكاف (4) تحته قطيفة فدكية واردف وراءه أسامة بن زيد (5) وهو يعود سعد بن عبادة في بني الحرث بن الخزرج وذلك قبل وقعة بدر حتي مر بمجلس فيه اخلاط من المسلمين والمشركين عبدة الأوثان واليهود فيهم عبد الله بن أبي، وفي المجلس عبد الله بن رواحة فلما غشيت المجلس عجاجة الدابة (6) خمر عبد الله بن أبي انفه بردائه ثم قال لا تغيروا علينا: فسلم عليهم النبي - صلى الله عليه وسلم - (7) ثم وقف فنزل فدعاهم الي الله وقرأ عليهم القرآن، فقال له عبد الله بن أبي أيها المرء لا أحسن من هذا؟ (8) ان كان ما تقول حقا فلا تؤذينا في مجالسنا وارجع الي رحلك فمن جاءك منا فاقصص عليه، قال عبد الله بن رواحة اغشنا في مجالسنا (9) فانا نحب ذلك، قال فاستب المسلمون والمشركون واليهود حتي هموا ان يتواثبوا (10) فلم يزل النبي - صلى الله عليه وسلم - يخفضهم (11) ثم ركب دابته حتي نزل علي سعد بن عبادة، فقال أي سعد ألم تسمع ما قال أبو حباب؟ يريد عبد الله بن أبي قال كذا وكذا، فقال اعف عنه يا رسول الله واصفح، فوالله لقد أعطاك الله الذى أعطاك ولقد اصطلح أهل هذه البحيرة (1) (وفي رواية البحيرة) أن يتوجوه فيعصبونه بالعصابة (2) فلما رد الله ذلك بالحق الذي اعظاك شرق (3) بذلك فذاك فعل به ما رأيت فعفا عنه النبي صلي الله عليه وسلم (4)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১০
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২য় হিজরী সনে সংঘটিত ঘটনাবলীর পরিচ্ছেদসমূহ
পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুদ্ধের সংখ্যা এবং সমরনীতি
পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুদ্ধের সংখ্যা এবং সমরনীতি
২১০. বারা ইব্ন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ১৫টি যুদ্ধ করেছেন। অন্য বর্ণনায় ইসরাঈল বর্ণনা করেছেন আবূ ইসহাক থেকে তিনি বারা ইব্ন আযিব (রা) থেকে, তিনি বলেছেন যে, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ১৫টি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। আমি এবং আবদুল্লাহ্ ইবন উমার সমবয়সী ছিলাম।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
أبواب حوادث السنة الثانية من الهجرة
باب ما جاء في عدد غزواته - صلى الله عليه وسلم - وشئ من أداب الغزو
باب ما جاء في عدد غزواته - صلى الله عليه وسلم - وشئ من أداب الغزو
عن البراء بن عازب (2) قال غزا رسول الله - صلى الله عليه وسلم - خمس عشرة غزوة (3) (ومن طريق ثان) (4) ثنا إسرائيل عن أبي اسحق عن البراء ابن عازب رضي الله تبارك وتعالي عنه غزونا مع رسول الله - صلى الله عليه وسلم - خمس عشرة غزوة وأنا وعبدالله بن عمر لدة
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২য় হিজরী সনে সংঘটিত ঘটনাবলীর পরিচ্ছেদসমূহ
পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুদ্ধের সংখ্যা এবং সমরনীতি
পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুদ্ধের সংখ্যা এবং সমরনীতি
২১১. আবু ইসহাক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি যায়েদ ইব্ন্ আরকাম (রা) কে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কয়টি যুদ্ধ করেছেন। তিনি বললেন ১৯টি, এবং আমি তাঁর সাথী হয়ে ১৭টি যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। আমার পূর্বে তিনি দুটো যুদ্ধ করেছেন।
ইবন বুরায়দাহ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথী হয়ে ১৬টি যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন।
ইবন বুরায়দাহ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথী হয়ে ১৬টি যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
أبواب حوادث السنة الثانية من الهجرة
باب ما جاء في عدد غزواته - صلى الله عليه وسلم - وشئ من أداب الغزو
باب ما جاء في عدد غزواته - صلى الله عليه وسلم - وشئ من أداب الغزو
عن أبي اسحق (5) قال سألت زيد بن أرقم رضي الله عنه كم غزا النبي صلي الله عليه وسلم قال تسع غزوة وغزوت، معه سبع عشرة وسبقني بغزاتين (6)
عن ابن بريدة عن أبيه (1) قال غزا مع رسول الله - صلى الله عليه وسلم - ست عشرة غزوة
عن ابن بريدة عن أبيه (1) قال غزا مع رسول الله - صلى الله عليه وسلم - ست عشرة غزوة
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২য় হিজরী সনে সংঘটিত ঘটনাবলীর পরিচ্ছেদসমূহ
পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুদ্ধের সংখ্যা এবং সমরনীতি
পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুদ্ধের সংখ্যা এবং সমরনীতি
২১২. জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষিদ্ধ মাসে যুদ্ধ করতেন না, যদি না তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হত। পূর্ব থেকে যুদ্ধ চলতে থাকলে যখন নিষিদ্ধ মাস আসত তখন তিনি যুদ্ধ বিরতি দিতেন। নিষিদ্ধ মাস অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ বিরতি অব্যাহত থাকত।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
أبواب حوادث السنة الثانية من الهجرة
باب ما جاء في عدد غزواته - صلى الله عليه وسلم - وشئ من أداب الغزو
باب ما جاء في عدد غزواته - صلى الله عليه وسلم - وشئ من أداب الغزو
عن جابر (3) قال لم يكن رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يغزو في الشهر الحرام إلا أن يغزي (4) أو يغزوا، فاذا حضر ذلك أقام حتي ينسلخ
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২য় হিজরী সনে সংঘটিত ঘটনাবলীর পরিচ্ছেদসমূহ
পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুদ্ধের সংখ্যা এবং সমরনীতি
পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুদ্ধের সংখ্যা এবং সমরনীতি
২১৩. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, যুদ্ধ করার সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এই দুআ পাঠ করতেন
اَللَّهُمَّ أَنْتَ عَضُدِى وَأَنْتَ نَصِيْرِي وَبِكَ أُقَاتِلُ
হে আল্লাহ আপনি আমার শক্তি। আপনি আমার সাহায্যকারী। আপনার প্রতি নির্ভরশীল হয়ে আমি যুদ্ধ করছি।
اَللَّهُمَّ أَنْتَ عَضُدِى وَأَنْتَ نَصِيْرِي وَبِكَ أُقَاتِلُ
হে আল্লাহ আপনি আমার শক্তি। আপনি আমার সাহায্যকারী। আপনার প্রতি নির্ভরশীল হয়ে আমি যুদ্ধ করছি।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
أبواب حوادث السنة الثانية من الهجرة
باب ما جاء في عدد غزواته - صلى الله عليه وسلم - وشئ من أداب الغزو
باب ما جاء في عدد غزواته - صلى الله عليه وسلم - وشئ من أداب الغزو
عن أنس (5) قال كان النبي - صلى الله عليه وسلم - اذا غزا قال اللهم أنت عضدي (6) وأنت نصيري وبك أقاتل
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: উশায়রার যুদ্ধ
২১৪. আম্মার ইবন ইয়াসির (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উশায়রার যুদ্ধে আমি এবং আলী (রা) সহযোদ্ধা ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সেখানে গিয়ে তাঁবু স্থাপন করে অবস্থান করছিলেন তখন আমরা বানু মুদলিজ গোত্রের কতক লোককে তাদের বাগানের কূপে কাজ করতে দেখলাম। হযরত আলী (রা) আমাকে ডেকে বললেন, হে আবূ ইয়াকযান, আপনি কি সম্মত হবেন যে, আমরা ওই লোকগুলোর নিকট যাব এবং তারা কীভাবে কাজ করে তা দেখব? বস্তুতঃ আমরা সেখানে গেলাম এবং কিছুক্ষণ তাদের কাজ দেখলাম। এরপর আমাদের চোখ জুড়ে ঘুম এল। আমি এবং আলী (রা) গিয়ে খেজুর বাগানের মধ্যে একটি মাটির কূপের নিকট ঘুমিয়ে পড়লাম। আমরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লাম। একপর্যায়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পায়ের নাড়া অনুভব করলাম। আমরা তখন মাটিমাখা অবস্থায়। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত আলীর (রা) দেহে মাটি দেখে তাঁকে বললেন, হে আবা তুরাব (মাটিমাখা মানুষ), আমি কি তোমাদের দুজনকে সর্বাধিক দুর্ভাগা দুজন লোকের পরিচয় বলে দিব? আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)। হাঁ, তা বলুন। তিনি বললেন, একজন হল ছামূদ গোত্রের সেই লাল বর্ণ লোক যে হযরত সালিহ (আ) এর উষ্ট্রীকে হত্যা করেছিল। আর দ্বিতীয়জন হলো হে আলী যে ব্যক্তি তোমার এই স্থানে অর্থাৎ কপালে আঘাত করবে। যে আঘাতের ফলে চোয়াল পর্যন্ত রক্ত গড়িয়ে পড়বে।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ماجاء في غزوة العشيرة
عن عمار بن ياسر (2) قال كنت أنا وعلى (رضى الله عنه) رفيقين في غزوة ذات العشيرة فلما نزلها - صلى الله عليه وسلم - وأقام بها رأينا ناسا من بنى مدلج يعملون؟ في عين لهم في نخل، فقال لى على يا أبا اليقظان هل لك أن نأتى هولاء فننظر كيف يعملون فجئناهم فنظرنا إلى عملهم ساعة ثم غشينا النوم: فإنطلقت أنا وعلى فاضطجعنا في صور من النخل في دقعاء (3) من التراب فنمنا فو الله ما أهبنا (4) إلا رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يحركنا برجله وقد تتربنا من تلك الدقعاء فيومئذ قال رسول - صلى الله عليه وسلم - لعلى يا أبا تراب لما يرى عليه من التراب قال ألا أحدثكما بأشقى الناس رجلين؟ قلنا بلى يارسول الله، قال أحيمر (1) ثمود الذى عقر الناقة والذى يضربك ياعلى (2) على هذه يعنى قرنه (3) حتى تبل منه هذه يعنى لحيته
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আবদুল্লাহ ইব্ন জাহাশের নেতৃত্বে সেনা-অভিযান, তিনি ইসলামী যুগের প্রথম সেনাপতি
২১৫. সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মদীনায় আগমন করেন তখন জুহায়না গোত্রের লোকেরা তার নিকট এসে বলল, আপনি তো আমাদের কাছাকাছি এসে অবস্থান নিয়েছেন, এখন আপনি আমাদের থেকে অঙ্গীকার নিন এবং আমাদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা প্রাপ্ত হোন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের অঙ্গীকার নিলেন এবং তারা ইসলাম গ্রহণ করল। তিনি বলেন এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে রজব মাসে একটি অভিযানে পাঠালেন। আমরা ছিলাম একশ জনের কম। তিনি আমাদেরকে জুহায়নাহ গোত্রের পার্শ্ববর্তী বানী কিনানাহ-এর একটি গোত্রের উপর আক্রমণ করার নির্দেশ দিলেন। ওরা সংখ্যায় অধিক ছিল। আমরা পিছু হটে জুহায়নাহ গোত্রে আশ্রয় নিলাম। তারা আমাদেরকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করল। তারা আমাদেরকে বলল, যুদ্ধ নিষিদ্ধ রজব মাসে যুদ্ধ করছ কেন? আমরা বললাম আমরা সেই সব লোকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি যারা আমাদেরকে যুদ্ধ নিষিদ্ধ মাসে যুদ্ধ নিষিদ্ধ শহর থেকে বহিষ্কার করেছে। এরপর আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করলাম। পরবর্তী কর্ম নির্ধারণ সম্পর্কে। আমাদেরকে কেউ কেউ বলল যে, আমরা এখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট ফিরে গিয়ে তাঁকে ঘটনা জানাব। কেউ কেউ বলল যে, আমরা এখানেই অবস্থান করব। কয়েকজন সাথী নিয়ে আমি বললাম যে, এখন আমি এগিয়ে গিয়ে কুরায়শী বাণিজ্য দলকে আক্রমণ করব এবং তাদের মালামাল ছিনিয়ে নিব। আমরা বাণিজ্য দলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। সে সময়ে নিয়ম ছিল যে, যে শত্রুপক্ষ থেকে যা ছিনিয়ে নিবে তা তারই। আমরা বাণিজ্য দলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম আর আমাদের অপর দল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গেল এবং তাকে ঘটনা জানাল। তিনি রাগে ফেটে পড়লেন, তাঁর চোখ মুখ রক্তিম বর্ণ ধারণ করল। তিনি বললেন, তোমরা আমার নিকট থেকে গিয়েছিলে দলবদ্ধ হয়ে এখন বিচ্ছিন্ন হয়ে এলে কেন? দলছুট ও বিচ্ছিন্ন হবার কারণে তোমাদের পূর্ববর্তী লোকগণ ধ্বংস হয়েছে। এবার আমি এমন এক ব্যক্তিকে তোমাদের নেতারূপে পাঠাব যে তোমাদেরকে কোন ইখতিয়ার ও সুযোগ দিবে না যে, ক্ষুধাতৃষ্ণায় শ্রেষ্ঠ ধৈর্যশীল। অতঃপর তিনি আবদুল্লাহ্ ইবন জাহাশ আসাদীকে আমাদের নেতারূপে পাঠালেন। বস্তুতঃ তিনিই হলেন ইসলামের প্রথম সেনাপতি।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في سر ية عبدالله بن جحش وهو أول أمير أمر في الأسلام
عن سعد بن ابى وقاص (4) قال لما قدم رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم المدينة جاءته جهينه فقالوا إنك قد نزلت بين أظهرنا فأوثق لنا حتى نأتيك وتؤمنا، فأوثق لهم فاسلموا، قال فبعثنا رسول الله - صلى الله عليه وسلم - في رجب ولا نكون مائة وأمرنا أن نغير على حي من بنى كنانة إلى جنب جهينة فأغرنا عليهم وكانوا كثيرا فلجأنا إلى جهينة فمنعونا (5) وقالوا لم تقاتلون في الشهر الحرام؟ فقلنا إنما نقاتل من أخرجنا من البلد الحرام في الشهر الحرام، فقال بعضنا لبعض ما ترون؟ فقال بعضنا نأتى نبى الله - صلى الله عليه وسلم - فخبره، وقال قوم لا بل نقيم ههنا، وقلت أنا في أناس معى لا بل نأتى عير قريش فنقتطعها، فانطلقنا الى العير وكان الفيئ إذ ذاك من أخذ شيئا فهو له، فانطلقنا الي العير وانطلق أصحابنا الي النبي - صلى الله عليه وسلم - فأخبروه الخبر فقام غضبانا (1) محمر الوجه فقال ذهبتم من عندي جميعا وجئتم متفرقين؟ انما اهلك من كان قبلكم الفرقة، لأبعثن عليكم رجلا ليس بخيركم أصبركم علي الجوع والعطش فبعث علينا عبد الله بن جحش الأسدي، فكان أول أمير أمر في الاسلام (2)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ২য় হিজরীতে কা'বাগৃহের প্রতি কিবলা পরিবর্তন
২১৬. হযরত বারা ইব্ন্ন আযিব (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় এসে প্রথমে আনসারীদের মধ্যে তাঁর মাতুল গোত্রে অবস্থান করেন। এ সময়ে তিনি ১৬ কিংবা ১৭ মাস বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে নামায পড়েন। কিন্তু তাঁর কিবলা কা'বাগৃহে হোক তিনি সেটা কামনা করতেন। অবশেষে কিবলা পরিবর্তনের নির্দেশ এল। পরিবর্তিত কিবলায় তিনি প্রথম যে নামাযটি আদায় করেন সেটি ছিল আসরের নামায। এসময়ে তাঁর সাথে একদল সাহাবী নামায আদায় করেন। তাঁর সাথে নামায আদায়কারী একজন মুসল্লী বেরিয়ে গিয়ে অন্য একটি মসজিদে উপস্থিত হলেন। তখন তাঁরা রুকুতে ছিলেন। তিনি চিৎকার দিয়ে বললেন আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিয়ে বলছি আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে মক্কার দিকে মুখ করে নামায আদায় করে এসেছি। তখন মুসল্লীগণ যেমনটি ছিলেন তেমনভাবে নামাযের মধ্যে কা'বাগৃহের দিকে মুখ করে নিল। বস্তুতঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কামনা করতেন যে, কা'বাগৃহই তাঁর কিবলা হোক। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন বায়তুল মুকাদ্দাসের প্রতি মুখ করে নামায আদায় করতেন তখন ইয়াহুদী ও কিতাবীগণ তাঁকে সমর্থন করত। আর যখন কিবলা পরিবর্তন করে কা'বাগৃহকে কিবলাহ নির্ধারণ করা হল তখন তারা তাঁর বিরোধিতা করল।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في تحويل القبلة الي الكعبة في السنة الثانية من الهجرة
عن البراء بن عازب (1) أن رسول الله - صلى الله عليه وسلم - كان أول ما قدم المدينة نزل علي أجداده أو أخواله من الأنصار وأنه صلي قبل بيت المقدس ستة عشر أو سبعة عشر شهرا، وكان يعجبه أن تكون قبلته قبل البيت وأنه صلي أول صلاة صلاها صلاة العصر وصلي معه قوم، فخرج رجل ممن صلي معه فمر علي أهل مسجد وهم راكعون فقال أشهد بالله لقد صليت مع رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قبل مكة قال فدارو اكماهم قبل البيت وكان يعجبه أن يحول قبل البيت، وكان اليهود قد أعجبهم إذ كان يصلي قبل المقدس وأهل الكتاب، فلما ولي وجهه قبل البيت انكروا ذلك
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ২য় হিজরীতে কা'বাগৃহের প্রতি কিবলা পরিবর্তন
২১৭. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বলেছিলেন যে, ইয়াহুদীগণ যে দুটো বিষয়ে আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে অন্য বিষয়গুলোতে তেমন নয়। তারা জুমু'আর দিবস বিষয়ে আমাদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করে। মহান আল্লাহ আমাদেরকে ওই দিবস সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনা দিয়েছেন, আর তাদেরকে তা থেকে পথচ্যুত করেছেন। আর তারা কঠোর বিদ্বেষ পোষণ করে কিবলা বিষয়ে। মহান আল্লাহ্ এ বিষয়ে আমাদেরকে সঠিক নির্দেশনা দিয়েছেন। আর তাদেরকে করেছেন পথভ্রষ্ট। আমরা যে নামাযের মধ্যে ইমামের পেছনে আমীন বলি তাতেও তারা আমাদেরকে হিংসা করে।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في تحويل القبلة الي الكعبة في السنة الثانية من الهجرة
عن عائشة رضي الله عنها (2) أن النبي - صلى الله عليه وسلم - قال لها إنهم (يعني اليهود) لا يحسدونا علي شئ كما يحسدونا علي يوم الجمعة التي هدانا الله بها وضلوا عنها وعلي القبلة التي هدانا الله بها وضلوا عنها، وعلي قولنا خلف الامام آمين
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: দ্বিতীয় হিজরীতে বদর যুদ্ধের পূর্বে রমাদানের রোযা ফরয হয়
২১৮. মু'আয ইবন জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নামায বিধিবদ্ধ হয়েছে তিন পর্যায়ে এবং রোযা বিধিবদ্ধ হয়েছে তিন পর্যায়ে। (এরপর তিনি নামায বিধিবদ্ধ হবার পর্যায়গুলো বর্ণনা করলেন) আর বললেন রোযার বিধিবদ্ধ হবার পর্যায় এই যে, রাসূলুল্লাহ মদীনায় এসে প্রতি মাসে তিনদিন করে রোযা রাখতে শুরু করেন। এক বর্ণনায় আছে যে, তিনি রবিউল আউয়াল থেকে রজব পর্যন্ত ১৭ মাস এভাবে রোযা রেখেছেন। তিনি আশুরার রোযাও রেখেছিলেন। এরপর মহান আল্লাহ্ তাঁর জন্যে রোযা ফরয করে দিলেন। মহান আল্লাহ্ বললেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِمْ لعلكم تتقون
হে মু'মিনগণ তোমাদের জন্যে রোযার বিধান দেয়া হল যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে দেয়া হয়েছিল যাতে তোমরা সাবধান হয়ে চলতে পার (সূরা বাকারা : ১৮৩)
وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِيْنٍ –
এটি যাদেরকে অতিশয় কষ্ট দেয় তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদয়া- একজন অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দান করা (সূরা বাকারা: ১৮৪)।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِمْ لعلكم تتقون
হে মু'মিনগণ তোমাদের জন্যে রোযার বিধান দেয়া হল যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে দেয়া হয়েছিল যাতে তোমরা সাবধান হয়ে চলতে পার (সূরা বাকারা : ১৮৩)
وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِيْنٍ –
এটি যাদেরকে অতিশয় কষ্ট দেয় তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদয়া- একজন অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দান করা (সূরা বাকারা: ১৮৪)।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في فريضة صوم رمضان في الثانية أيضا قبل وقعة بدر
عن معاذ بن جبل (3) قال أحيلت الصلاة ثلاثة أحوال وأحيل الصيام ثلاثة أحوال (فذكر أحوال الصلاة) قال وأما أحوال الصيام فان رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قدم المدينة فجعل يصوم من كل شهر ثلاثة أيام (وفي رواية) فصام سبعة عشر شهرا من ربيع الأول إلي رمضان، من كل شهر ثلاثة أيام، وصام يوم عاشوراء ثم ان الله عز وجل فرض عليه الصيام فأنزل الله عز وجل (يا أيها الذين آمنوا كتب عليكم الصيام كما كتب علي الذين من قبلكم - الي هذه الآية) وعلي الذين يطيقونه فدية طعام مسكين)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রামাদান মাসে বৃহৎ বদর যুদ্ধ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদসমূহ
পরিচ্ছেদ: বদর যুদ্ধ বিষয়ে সাহাবীগণের (রা) সাথে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর পরামর্শ
পরিচ্ছেদ: বদর যুদ্ধ বিষয়ে সাহাবীগণের (রা) সাথে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর পরামর্শ
২১৯. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন- রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন বদরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন তখন তাঁবু থেকে বেরিয়ে এসে তিনি জনগণের পরামর্শ আহ্বান করলেন। হযরত আবু বকর (রা) তাঁর পরামর্শ পেশ করলেন। আবার পরামর্শ চাইলেন। এবার হযরত উমার (রা) তাঁর পরামর্শ পেশ করলেন। এরপর তিনি নীরব রইলেন, অতঃপর জনৈক আনসারী সাহাবী বললেন ওহে আনসারগণ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাদের পরামর্শ চাচ্ছেন। এবার আনসারীগণ বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমরা মুসা (আ) এর সম্প্রদায়ের মত হব না। তাঁর সম্প্রদায় তো তাঁকে বলেছিল
اذهب أنت وربُّك قائِلًا إِنَّا هَاهُنَا قَاعِدُونَ
আপনি আর আপনার প্রতিপালক যান এবং যুদ্ধ করুন আমরা এখানে বসে থাকব। (সূরা মায়িদা : ২৪)।
ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমরা বরং এমন থাকব যে আপনি যদি উটের মৃত্যু ঘটিয়ে সুদূর বারকাল গামাদ নামক স্থানেও যান আমরা আপনার সাথে থাকব।
اذهب أنت وربُّك قائِلًا إِنَّا هَاهُنَا قَاعِدُونَ
আপনি আর আপনার প্রতিপালক যান এবং যুদ্ধ করুন আমরা এখানে বসে থাকব। (সূরা মায়িদা : ২৪)।
ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমরা বরং এমন থাকব যে আপনি যদি উটের মৃত্যু ঘটিয়ে সুদূর বারকাল গামাদ নামক স্থানেও যান আমরা আপনার সাথে থাকব।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
ابواب ما جاء في غزوة بدر الكبري في رمضان
باب ماجاء في استشارة النبي - صلى الله عليه وسلم - أصحابه بشأنها
باب ماجاء في استشارة النبي - صلى الله عليه وسلم - أصحابه بشأنها
عن أنس بن مالك (2) قال لما سار رسول الله - صلى الله عليه وسلم - إلي بدر خرج فاستشار الناس فأشار عليه أبو بكر رضي الله عنه ثم استشارهم فأشار عليه عمر رضي الله عنه فسكت، فقال رجل من الأنصار إنما يريدكم فقالوا يا رسول الله والله لانكون كما قالت بنو اسرائيل لموسي عليه السلام أذهب أنت وربك فقاتلا إنا هاهنا قاعدون، ولكن والله لو ضربت أكباد الأبل حتي تبلغ برك الغماد لكنا معك
তাহকীক:
হাদীস নং: ২২০
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: আবু সুফইয়ানের বাণিজ্য দলের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কর্তৃক বাসবাসাহ (রা)-কে গোয়েন্দারূপে প্রেরণ এবং যুদ্ধের অনুমতি প্রদান
২২০. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বাসবাসাহ (রা) কে গোয়েন্দারূপে পাঠালেন আবু সুফিয়ানের বাণিজ্য দলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার জন্যে। তিনি ফিরে এলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট, তখন গৃহে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং আমি ছাড়া কেউ ছিল না। বাসবাসাহ (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে যা বলার বললেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘর থেকে বের হয়ে একটি বক্তৃতা দিলেন। তিনি বললেন অবিলম্বে আমাদের একদল সৈন্য দরকার। যাদের বাহন মজুদ আছে, যারা এখনই আমাদের সাথে যাত্রা করবে। যাদের বাহন মদীনার উর্ধ্বাঞ্চলে তারা তা যাবার অনুমতি চাচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, না- তা হবে না বরং যাদের বাহন উপস্থিত আছে তারা যাবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর সাথীগণ যাত্রা করলেন। তাঁরা মুশরিকদলের পূর্বে বদর প্রান্তরে গিয়ে পৌছলেন। এরপর মুশরিক পক্ষ সেখানে এল। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাথীগণকে বললেন, আমি অনুমতি না দেয়া পর্যন্ত কেউই সম্মুখে অগ্রসর হবে না। মুশরিকগণ কাছাকাছি এসে পৌছল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুজাহিদগণের উদ্দেশ্যে বললেন, তোমরা জান্নাতের দিকে অগ্রসর হও, যার বিস্তৃতি আসমান ও যমীনের ন্যায়। উমায়র ইবন হুমাম আনসারী (রা) বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ্, সেই জান্নাত যার বিস্তৃতি আসমান ও যমীনের ন্যায়? তিনি বললেন হাঁ, তাই। উমায়র বললেন, বাহ্। বাহ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, কিসে তোমায় বাহ বাহ বলতে আগ্রহী করে তুলল? উমায়র (রা) বললেন, এই প্রত্যাশা যে, আমি ওই জান্নাতের অধিবাসী হব। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, নিশ্চয়ই তুমি ওই জান্নাতের অধিবাসী। বর্ণনাকারী বলেন এরপর উমায়র তাঁর থলি থেকে কয়েকটি খেজুর বের করে খেতে শুরু করলেন এবং বললেন, এই খেজুরগুলো খেয়ে শেষ করা পর্যন্ত যদি আমি জীবিত থাকি তাহলে তা আমার জন্যে অনেক দীর্ঘ জীবন বলে গণ্য হবে। এরপর তিনি অবশিষ্ট খেজুরগুলো ফেলে দিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হলেন। শেষে তিনি শাহাদাত বরণ করলেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في إرساله - صلى الله عليه وسلم - بسبسة عينا ينظر ما فعلت عير أبي سفيان ثم الإذن بالقتال
عن ثابت عن أنس (1) قال بعث رسول الله - صلى الله عليه وسلم - بسبسة عينا (2) ينظر ما فعلت عير أبي سفيان فجاء وما في البيت أحد غيري وغير رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قال لا أدري ما استثني بعض نسائه فحدثه الحديث، قال فخرج رسول الله - صلى الله عليه وسلم - فتكلم فقال ان لنا طلبة فمن كان ظهره حاضرا فليركب معنا، فجعل رجال يستأذنونه في ظهر لهم في علو المدينة قال لا إلا من كان ظهره حاضرا، فانطلق رسول الله - صلى الله عليه وسلم - وأصحابه حتي سبقوا المشركين الي بدر (3) وجاء المشركون فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - لا يتقدمن أحد منكم حتي أكون أنا أوذنه، فدنا المشركون فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قدموا إلي جنة عرضها السموات والأرض؟ قال نعم فقال بخ بخ (4) فقال رسول الله صلي الله عليه وعلي آله وصحبه وسلم ما يحملك علي قولك بخ بخ قال لا والله يا رسول الله إلا رجاء ان اكون من أهلها، قال فانك من أهلها، قال فاخرج تمرات من قرنه فجعل يأكل منهن ثم قال لئن أنا حييت حتي آكل تمراتي هذه إنها لحياة طويلة، قال ثم رمي بما كان معه من التمر ثم قاتلهم حتى قتل
তাহকীক: