মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩৫৪ টি

হাদীস নং: ১৮১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২য় পর্ব: সীরাতুন-নবী (ﷺ)

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হিজরত থেকে সর্বোত্তম বন্ধু আল্লাহ্ তা'আলার সাথে মিলিত হওয়া পর্যন্ত ঘটনাবলীর বিবরণ

১ম হিজরী সনে সংঘটিত ঘটনাবলীর অনুচ্ছেদসমূহ

পরিচ্ছেদ : হিজরী সন গণনার সূচনা-এ বিষয়ে সাহাবীগণের (রা) সাথে হযরত উমার (রা)-এর পরামর্শ-
১৮১. হযরত ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রতি কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে কিংবা তিনি নবুওয়াতপ্রাপ্ত হয়েছেন চল্লিশ বৎসর বয়সে। এরপর তিনি তের বৎসর মক্কায় অবস্থান করেছিলেন, দশ বৎসর মদীনায় অবস্থান করেছিলেন এবং ৬৩ বৎসর বয়সে ইনতিকাল করেছেন।
হযরত ইবন আব্বাস (রা) থেকে অন্য সনদে বর্ণিত। তিনি বলেছেন ৪৩ বৎসর বয়সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি ওহী নাযিল হয়েছে। এরপর তিনি মক্কায় দশ বৎসর এবং মদীনাতে দশ বৎসর অবস্থান করেছেন। এরপর তেষট্টি বৎসর বয়সে তাঁকে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
القسم الثاني من السيرة النبوية في حوادث ما بعد الهجرة الي ان لحق - صلى الله عليه وسلم - بالرفيق الأعلي

أبواب حوادث السنه الأولي من الهجرة

باب مبديء التاريخ واستشارة عمر رضي الله تبارك وتعالي عنه الصحابة في ذلك
عن ابن عباس (1) قال بعث رسول الله - صلى الله عليه وسلم - أو أنزل عليه القرآن (2) وهو ابن أربعين سنة، فمكث بمكة ثلاث عشرة سنة، وبالمدينة عشر سنين، قال فمات رسول الله - صلى الله عليه وسلم - وهو ابن ثلاث وستين سنة (وعنه من طريق ثان) (3) قال أنزل علي النبي - صلى الله عليه وسلم - وهو ابن ثلاث وأربعين (4) فمكث بمكة عشر أو بالمدينة عشرا وقبض وهو ابن ثلاث وستين
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: হযরত আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রা)-এর ইসলাম গ্রহণ
১৮২. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত আবূ বকর (রা) কে সাথে নিয়ে মদীনায় এসে হাররা বা বালুকাময় স্থানে অবতরণ করেছিলেন। এরপর আনসারদের নিকট তাঁর আগমন সংবাদ পাঠালেন। তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে এল। তারা তাঁদের দুজনকে সালাম দিল এবং বলল আপনারা প্রশান্ত চিত্তে-নির্ভয়ে বাহনে আরোহণ করুন। তাঁরা দুজনে বাহনে আরোহণ করলেন। তারা সশস্ত্র অবস্থায় তাঁদেরকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। আল্লাহ্ নবী (ﷺ) মদীনায় এসেছেন এ সংবাদ মদীনায় ছড়িয়ে পড়ল। নবী এসেছেন-নবী এসেছেন বলে বলে মদীনাবাসী তাঁকে দেখার জন্য রাস্তায় বেরিয়ে এল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সম্মুখে এগিয়ে যেতে লাগলেন। হযরত আবূ আইয়ুব আনসারী (রা) বাসস্থানের নিকট পৌছার পর লোকজন বলল যে, তিনি নিশ্চয় এই গৃহকর্মীর সাথে কথা বলবেন। এসময়ে আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন সালাম খেজুর বাগানে খেজুর সংগ্রহ করছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আগমন সংবাদ শুনলেন। দ্রুত সংগৃহীত খেজুর পাত্রে ভরে সেটি সহ তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হলেন। তিনি তাঁর মুখনিঃসৃত বাণী ও বক্তব্য শুনলেন। এরপর আপন পরিবারের নিকট ফিরে গেলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন যে, এখান থেকে আমাদের কার বাসস্থান নিকটতম? আবু আইয়ূব (রা) বললেন, হে আল্লাহর নবী (ﷺ)! এই যে, এটি আমার বাড়ী এবং এটি আমার দরজা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে তুমি যাও এবং আমাদের দুপুর-নিদ্রার ব্যবস্থা কর। আবূ আইয়ূব (রা) গিয়ে তাঁদের দুজনের দুপুর নিদ্রার ব্যবস্থা করে এসে বললেন, হে আল্লাহর নবী (ﷺ)! আপনাদের নিদ্রার ব্যবস্থা করেছি, আল্লাহর বরকত নিয়ে আপনারা উঠুন এবং বিশ্রাম করুন।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে গমন করার পর আবদুল্লাহ্ ইবন সালাম সেখানে এলেন এবং বললেন আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি সত্য-সত্যই আল্লাহর রাসূল, আপনি সত্য নিয়েই এসেছেন, ইয়াহুদীগণ ভাল করেই জানে যে, আমি তাদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী এবং সর্বাধিক জ্ঞানীর পুত্র, আমি তাদের নেতা এবং নেতার পুত্র। আপনি ওদেরকে ডাকুন এবং প্রশ্ন করুন। ইয়াহুদীগণ এল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে ইয়াহূদী সম্প্রদায়! দুর্ভোগ তোমাদের জন্যে, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, সেই আল্লাহর কসম যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই। তোমরা তো ভাল করেই জান যে, আমি সত্যিই আল্লাহর রাসূল এবং আমি সত্য নিয়েই তোমাদের নিকট এসেছি। তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর। তারা বলল না, আমরা তো তা জানিনা।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في اسلام عبد الله بن سلام
عن أنس بن مالك قال (1) نزل رسول - صلى الله عليه وسلم - جانب الحرة (يعني حين قدم المدينة هو وأبو بكر) ثم بعث الي الأنصارفجاءوا نبي الله - صلى الله عليه وسلم - فسلموا عليهما وقالوا اركبا آمنين مطمئنين، قال فركب نبي الله - صلى الله عليه وسلم - وأبو بكر وحفوا حولهما بالسلاح، قال فقيل بالمدينة جاء نبي الله - صلى الله عليه وسلم - فاستشرفوا نبي الله - صلى الله عليه وسلم - ينظرون اليه ويقولون جاء نبي الله - صلى الله عليه وسلم - فأقبل يسير حتي جاء الي جانب دار أبي أيوب قالوا فانه ليحدث أهلها (1) إذ سمع عبد الله بن سلام (2) وهو في نخل لأهله يخترف (3) لهم منه فعجل ان يضع الذي يخترف فيها فجاء وهي معه فسمع من نبي الله - صلى الله عليه وسلم - (4) فرجع الي أهله فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - أي بيوت أهلنا أقرب؟ قال فقال أبو أيوب يا نبي الله هذه داري وهذا بابي، قال فانطلق فهيئ لنا مقيلا، قال فذهب فهيئ لهما مقيلا، ثم جاء فقال يا نبي الله قد هيأت لكما مقيلا فقوما علي بركة الله فقيلا، فلما جاء نبي الله - صلى الله عليه وسلم - جاءه عبد الله بن سلام فقال أشهد انك رسول الله حقا وأنك جئت بحق، ولقد علمت اليهود اني سيدهم وابن سيدهم وأعلمهم وابن أعلمهم فادعهم فاسألهم فدخلوا عليه فقال لهم نبي الله - صلى الله عليه وسلم - يا معشر اليهود ويلكم اتقوا الله فو الله الذي لا إله إلا هو انكم لتعلمون أني رسول الله حقا وأني جئتكم بحق أسلموا، فقالوا ما نعلمه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অনুচ্ছেদ: মদীনায় নবী (ﷺ)-এর মসজিদ নির্মাণ
১৮৩. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় এসে সেখানকার উঁচু অঞ্চলে বানু আমর ইব্‌ন আওফ গোত্রে অবতরণ করেছিলেন। চৌদ্দ রাত তিনি সেখানে অবস্থান করেছিলেন। এরপর তিনি বানু নাজ্জার গোত্রের লোকদেরকে ডেকে পাঠালেন। তারা গলায় তরবারি ঝুলিয়ে তাঁর নিকট উপস্থিত হয়। বর্ণনাকারী বলেন আমি যেন এখনো দেখতে পাচ্ছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর বাহনে উপবিষ্ট, আবু বকর (রা) তাঁর পেছনে এবং বানু নাজ্জারের নেতৃবর্গ তাঁর চারপাশে প্রহরা দিয়ে তাঁকে নিয়ে যাচ্ছে। আবূ আইয়ুব (রা)-এর বাসস্থানের পাশে তিনি অবতরণ করলেন। যেখানে নামাযের সময় হতো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানেই নামায আদায় করে নিতেন। তিনি বকরী-শালায়ও নামায আদায় করতেন। এরপর তিনি মসজিদ তৈরির নির্দেশ দিলেন। বানু নাজ্জার গেত্রের লোকদেরকে তিনি ডেকে বললেন, তোমাদের এই বাগানটির মূল্য কত তা আমাকে জানাও। তারা বলল, আল্লাহর কসম আমরা এটির মূল্য একমাত্র আল্লাহর নিকটই চাইব।
বর্ণনাকারী বলেন আমি তোমাদেরকে যেমনটি বলছি যে, সেখানে মুশরিক লোকদের কবর ছিল এবং সেখানে শস্যক্ষেত ও খেজুর গাছ ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নির্দেশে কবরগুলো উপড়ে ফেলা হল, ক্ষেতগুলো সমান করে দেয়া হল এবং খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলা হল। এরপর খেজুর গাছগুলোকে মসজিদের কিবলার দিকে স্থান করা হল এবং দুপাশের দেয়াল তৈরী করল পাথর দিয়ে। তারা পাথরগুলো বহন করছিল আর সুর করে নিম্নের পংক্তি উচ্চারণ করছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও ওদের সাথে সাথে ছন্দাকারে বলছিলেন-
হে আল্লাহ্! পরকালীন কল্যাণ ছাড়া প্রকৃত কল্যাণ নেই, মুহাজির এবং আনসারগণকে আপনি সাহায্য করুন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ماجاء في بناء مسجد النبي - صلى الله عليه وسلم - بالمدينة
عن أنس بن مالك (6) قال لما قدم رسول الله - صلى الله عليه وسلم - نزل في علو (7) المدينة في حي يقال لهم بنو عمرو بن عوف فأقام فيهم أربع عشرة ليلة ثم أنه أرسل الي ملأ (8) من بني النجار (9) قال فجاءوا متقلدين سيوفهم (10) قل فكأني أنظر الي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - على راحلته وأبو بكر ردفه وملأ بني النجار حوله حتي القي بفناء (1) أبي أيوب قال فكان يصلي حيث أدركته الصلاة ويصلي في مرابض (2) الغنم ثم امر بالمسجد فأرسل الي ملأ من بني النجار فجاءوا فقال يابني النجار ثامنوني (3) حائطكم هذا، فقالوا والله لانطلب ثمنه إلا الي الله (4) قال وكان فيه ما أقول لكم كانت فيه قبور المشركين وكان فيه حرث (5) وكان فيه نخل فأمر رسول الله - صلى الله عليه وسلم - بقبور المشركين فنبشت وبالحرث فسويت وبالنخل فقطع، قال فصفوا النخل الي قبلة المسجد (6) وجعلوا عضاد تيه حجارة قال وجعلوا ينقلون ذلك الصخر وهم يرتجزون (7) ورسول الله - صلى الله عليه وسلم - معهم يقول {اللهم لاخير إلا خير الآخرة * فأنصر الأنصار (8) والمهاجرة}
হাদীস নং: ১৮৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মুহাজির এবং আনসারগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন ও চুক্তি সম্পাদন
১৮৪. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আবদুর রহমান ইব্‌ন আওফ (রা) মদীনায় আসার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর মধ্যে এবং সা'দ ইবন রাবী' এর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে দিলেন। তখন সা'দ ইবন রাবী' আবদুর রহমান ইব্‌ন আওফ (রা) কে বললেন আমার সম্পদাদি দু'ভাগ করে এক ভাগ আমি আপনাকে দিয়ে দিব এবং আমার দুজন স্ত্রী রয়েছে তাদের একজনকে আমি তালাক দিয়ে দিব, তার ইদ্দত পূর্ণ হলে আপনি তাকে বিয়ে করবেন। আবদুর রহমান (রা) বললেন, মহান আল্লাহ্ আপনার পরিবারে ও সম্পদে বরকত দিন। আপনারা আমাকে বরং একটি বাজারের সন্ধান দিন। তাঁরা তাঁকে একটি বাজার দেখিয়ে দিলেন। তিনি বাজারে গেলেন এবং ব্যবসা করে মুনাফারূপে কিছু পনীর ও ঘি নিয়ে ফিরে এলেন। এর কিছুদিন পর তাঁর সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাক্ষাত ঘটে। তখন তাঁর মুখে যাফরান প্রসাধনীর কিছু চিহ্ন ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আনন্দিত স্বরে বললেন, ব্যাপার কী? তিনি উত্তরে বললেন, জনৈকা আনসারী মহিলাকে বিয়ে করেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জানতে চাইলেন যে, কী পরিমাণ দেনমোহর দেয়া হয়েছে? তিনি বললেন শস্য পরিমাণ স্বর্ণ, হুমায়দ-এর বর্ণনায় এসেছে যে, শস্যের ওজনমত স্বর্ণ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন অন্তত একটি বকরী দিয়ে হলেও ওয়ালীমার আয়োজন কর।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب جاء في المؤاخاة والمحالفة بين المهاجرين والأنصار
عن أنس بن مالك (1) قال لما قدم عبد الرحمن بن عوف المدينة آخي النبي - صلى الله عليه وسلم - بينه وبين سعد بن الربيع فقال اقاسمك مالي نصفين ولي امرأتان فأطلق إحداهما فاذا انقضت عدتها فتزوجها، فقال بارك الله لك في أهلك ومالك، دلوني علي السوق، فدلوه فانطلق فما رجع الا ومعه شئ (2) من افط وسمن قد استفضله فرآه رسول الله - صلى الله عليه وسلم - بعد ذلك وعليه وضر من صفرة (3) فقال مهيم؟ قال تزوجت امرأة من الانصار، قال ما اصدقتها؟ قال نواة من ذهب قال حميد أو وزن نواة من ذهب، فقال أولم ولو بشاة
হাদীস নং: ১৮৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মুহাজির এবং আনসারগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন ও চুক্তি সম্পাদন
১৮৫. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার মদীনার গৃহে বসে কুরায়শদের মাঝে এবং আমাদের মাঝে মৈত্রী বন্ধন স্থাপন করেছেন।
হযরত আনাস (রা) থেকে অন্য সনদে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন আমাদের বাসগৃহের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুহাজির এবং আনসারদের মাঝে মৈত্রী বন্ধন স্থাপন করেছেন। জনৈক বর্ণনাকারী সুফিয়ান (রহ.) বলেছেন যে, এই বক্তব্য দ্বারা হযরত আনাস (রা) সম্ভবত ভ্রাতৃত্ব বন্ধন স্থাপনের কথা বুঝিয়েছেন। আসিম আল আহওয়াল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন আমি হযরত আনাস (রা) কে শুনেছি কেউ একজন তাঁকে বলেছিল যে, আপনার কাছে এমন হাদীছ পৌছেছে কিনা যেখানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন لَا حِلْفَ فِي الْإِسْلَامِ ইসলামে মৈত্রী চুক্তি নেই (অন্যায় সংঘটনে)। এতে হযরত আনাস (রা) রেগে ওঠেন এবং বলেন হাঁ হাঁ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁরই গৃহে কুরায়শ ও আনসারদের মধ্যে মৈত্রী চুক্তি সম্পাদন করেছেন।
আসিম আল আহওয়াল অন্য সনদে হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আনাস (রা)-এর গৃহে মুহাজির ও আনসারদের মাঝে মৈত্রী চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب جاء في المؤاخاة والمحالفة بين المهاجرين والأنصار
وعنه أيضا (4) قال حالف رسول الله - صلى الله عليه وسلم - بين قريش والأنصار في دار ي التي بالمدينة (5) (وعنه من طريق ثان) (6) قال حالف رسول الله - صلى الله عليه وسلم - بين المهاجرين والانصار في دارنا قال سفيان (أحد الرواة) كأنه يقول آخي (7) {عن عاصم الأحول} (8) قال سمعت أنسا قال له قائل بلغك أن رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قال لاحلف في الاسلام (1) قال فغضب ثم قال بلي بلي، قد حالف رسول الله - صلى الله عليه وسلم - بين قريش والأنصار في داره (2) (وعنه من طريق ثان) (3) عن أنس أيضا قال حالف رسول الله - صلى الله عليه وسلم - بين المهاجرين والانصار في دار أنس بن مالك
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মুহাজির এবং আনসারগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন ও চুক্তি সম্পাদন
১৮৬. জুবায়র ইবন মুত'ইম (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, ইসলামে মৈত্রী চুক্তি নেই। (অন্যায় কাজে)। জহেলী যুগে যে মৈত্রী ছিল (কল্যাণমূলক কাজে) ইসলাম সেটিকে আরো সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করেছে।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب جاء في المؤاخاة والمحالفة بين المهاجرين والأنصار
عن جبير بن مطعم (4) قال قال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - لاحلف في الاسلام وأيما حلف كان في الجاهلية (5) لم يزده الاسلام الا شدة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মুহাজির এবং আনসারগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন ও চুক্তি সম্পাদন
১৮৭. কায়স ইব্‌ন আসিম (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি মৈত্রী চুক্তি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট জানতে চেয়েছিলেন। উত্তরে তিনি বলেছিলেন, জাহেলী যুগে যা সম্পাদিত হয়েছে তা তোমরা অটুট রাখবে। ইসলামে কোন মৈত্রী চুক্তি নেই।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب جاء في المؤاخاة والمحالفة بين المهاجرين والأنصار
عن قيس بن عاصم (6) أنه سأل النبي - صلى الله عليه وسلم - عن الحلف، فقال ما كان من حلف في الجاهلية (1) فنمسكوا به ولا حلف في الاسلام
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মুহাজির এবং আনসারগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন ও চুক্তি সম্পাদন
১৮৮. হযরত আবদুর রহমান ইব্‌ন আওফ (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমি আমার চাচাদের সাথে নেতৃস্থানীয় উত্তম আরবদের মৈত্রী চুক্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম। আমি তখন ছিলাম অল্পবয়সী বালক। ওই চুক্তি ভঙ্গের বিনিময়ে লাল লাল উষ্ট্রপাল গ্রহণে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করব না। যুহরী (রহ.) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন ইসলামে প্রাপ্ত পূর্ব সম্পাদিত মৈত্রী চুক্তিকে ইসলাম শক্তিশালী ও সুদৃঢ় করেছে, ইসলামে মৈত্রী চুক্তি নেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরায়শ ও আনসারদের মধ্যে বন্ধুত্ব স্থাপন করে দিয়েছেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب جاء في المؤاخاة والمحالفة بين المهاجرين والأنصار
عن عبد الرحمن بن عوف (2) عن النبي - صلى الله عليه وسلم - قال شهدت حلف المطيبين (3) مع عمومتي (4) وأنا غلام فما أحب ان لي حمر النعم وأني أنكئه (5) قال الزهري قال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - لم يصب الاسلام حلفا إلا زاده شدة، ولا حلف في الاسلام وقد ألف رسول الله - صلى الله عليه وسلم - بين قريش والأنصار
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মুহাজির এবং আনসারগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন ও চুক্তি সম্পাদন
১৮৯. ইকরিমা বর্ণনা করেছেন ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে। তিনি বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন জাহেলী যুগে সম্পাদিত চুক্তিকে ইসলাম সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করেছে।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب جاء في المؤاخاة والمحالفة بين المهاجرين والأنصار
عن عكرمة عن أبن عباس (6) رفعه إلى النبي - صلى الله عليه وسلم - قال كل حلف كان في الجاهلية لم يزده الاسلام إلا شدة أو حدة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯০
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মুহাজির এবং আনসারগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন ও চুক্তি সম্পাদন
১৯০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, মুহাজিরগণ বলেছিল ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! প্রাচুর্যে এত অধিক দানশীল এবং দারিদ্র্যে এত অধিক সমবেদনা জ্ঞাপনকারী কোন সম্প্রদায় তো আমরা দেখিনি। (যেমনটি দেখতে পাচ্ছি আনসারগণকে)। তারা আমাদেরকে শ্রমসাধ্য কাজগুলো থেকে অব্যাহতি দিচ্ছেন আর আনন্দঘন উৎসবে অংশীদার করছেন। আমরা আশংকা করছি যে, তাঁরা সবটুকু ছাওয়াব নিয়ে যাবেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, না, তা নয় তোমরা ওদের যে প্রশংসা ও সুনাম করছ আর তাদের জন্যে আল্লাহ্ তা'আলার নিকট দু'আ করছ তাতে তোমরা ছাওয়াব পাবে।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب جاء في المؤاخاة والمحالفة بين المهاجرين والأنصار
عن أنس بن مالك (1) قال قالت المهاجرون يا رسول الله ما رأينا مثل قوم قدمنا عليهم أحسن بذلا من كثير ولا أحسن مواساة في قليل، قد كفونا المؤنة وأشركونا في المهنأ (2) فقد خشينا أن يذهبوا بالأجر كله (3)، قال فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - كلاما ما اثبتم عليهم به (4) ودعوتم الله عز وجل لهم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯১
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মুহাজির এবং আনসারগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন ও চুক্তি সম্পাদন
১৯১. আমর ইব্‌ন শুআয়ব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুহাজির এবং আনসারদের মাঝে এই মর্মে চুক্তি সম্পাদন করে দিয়েছিলেন যে, তারা পরস্পর দিয়াত বা রক্তপণ পরিশোধে সহযোগিতা করবে, বন্দী মুক্তিতে সহায়তা করবে এবং মুসলমানদের মাঝে শান্তি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب جاء في المؤاخاة والمحالفة بين المهاجرين والأنصار
عن عمرو بن شعيب (5) عن أبيه عن جده أن النبي - صلى الله عليه وسلم - كتب كتابا بين المهاجرين والانصار ان يعقلوا معاقلهم (6) وان يفدوا عانيهم (7) بالمعروف والاصلاح بين المسلمين
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯২
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মদীনার মহিলাদের শপথ গ্রহণ
১৯২. ইসমাঈল ইব্‌ন আবদুর রহমান ইবন আতিয়্যাহ আনসারী থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর দাদী উম্মে আতিয়্যাহ্ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মদীনায় এলেন তখন আনসারী মহিলাদেরকে তিনি একটি গৃহে সমবেত করেছিলেন। তারপর উমার ইবন খাত্তাব (রা)-কে ওদের নিকট পাঠিয়েছিলেন। তিনি ওই গৃহের দরজায় দাঁড়িয়ে মহিলাদেরকে সালাম দিলেন। তাঁরা সালামের জবাব দিলেন। তিনি বললেন আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দূত হিসেবে তোমাদের নিকট এসেছি। আমরা বললাম সুস্বাগতম ও সাদর সম্ভাষণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রতি এবং তাঁর দূতের প্রতি। হযরত উমার (রা) বললেন তোমরা কি এই বিষয়ে বায়'আত করবে-অঙ্গীকারাবদ্ধ হবে যে, তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কিছুকে শরীক করবে না, যিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হবে না, নিজেদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না, সজ্ঞানে মিথ্যা রচনা করে তা রটাবে না এবং সৎকার্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে অমান্য করবে না? আমরা বললাম, হাঁ, এসব বিষয়ে আমরা বায়আত করব। অতঃপর গৃহের ভেতর থেকে আমরা হাত বাড়িয়ে দিলাম আর গৃহের বাহিরে তিনি তাঁর হাত বাড়িয়ে দিলেন। এরপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ্ আপনি সাক্ষী থাকুন। এরপর তিনি আমাদের ঋতুবতী ও যুবতীদেরকে দু' ঈদের জামাতে হাজির হবার নির্দেশ দিলেন আর জানাযায় উপস্থিত হতে নিষেধ কলেন। আর বললেন যে, আমাদের জন্যে জুমু'আ ওয়াজিব নয়। وَلَا يَعْصِيْنَكَ فِي مَعْرُوفٍ (সৎকার্যে তারা আপনাকে অমান্য করবে না) আয়াতের ব্যাখ্যা সম্পর্কে তাঁকে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বললেন যে, এই আলোকে আমাদেরকে কারো মৃত্যুতে সশব্দ ক্রন্দন ও মাতম প্রকাশে নিষেধ করা হয়েছে।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في بيعة نساء أهل المدينة
حدثنا اسماعيل بن عبد الرحمن (1) بن عطية الأنصاري عن جدته أم عطية قالت لما قدم رسول الله - صلى الله عليه وسلم - المدينة جمع نساء الأنصار في بيت ثم بعث اليهن عمر بن الخطاب فقام علي الباب فسلم فرددن عليه السلام، فقال أنا رسول رسول الله - صلى الله عليه وسلم - اليكن، قلنا مرحبا برسول الله وبرسول رسول الله. وقال تبايعن علي أن لا تشركن بالله شيئا ولا تزنين ولا تقتلن أولادكن ولا تأتين ببهتان تفترينه بين أيديكن وأرجلكن ولا تعصينه في معروف؟ قلنا نعم (1) فممدنا أيدينا من داخل البيت ومديده من خارج البيت ثم قال اللهم أشهد وامرنا بالعيدين ان تخرج العتق (2) والحيض ونهي عن اتباع الجنائز ولا جمعة علينا (3) وسألتها عن قوله ولا يعصينك في معروف قالت نهينا عن النياحة
হাদীস নং: ১৯৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মদীনার মহিলাদের শপথ গ্রহণ
১৯৩. উমায়মা বিনত রুকাইকাহ থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন, অন্য কতক মহিলার সাথে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরবারে গিয়েছিলাম বায়'আত হওয়ার জন্যে। অতঃপর কুরআন মাজীদের يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَى أَنْ لَّا يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا আয়াতে বর্ণিত বিষয়াদিতে তিনি আমাদের অঙ্গীকার নিলেন। এরপর তিনি বললেন এসব পালনে তোমাদের সামর্থ্য বিবেচনা করা হবে। আমরা বললাম আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল আমাদের প্রতি আমাদের নিজেদের চেয়ে অধিক দয়াময়। আমরা বললাম ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! আপনি আমাদের হাতে হাত মেলাবেন না? তিনি বললেন, আমি মহিলাদের সাথে মুসাফাহা করি না-হাত মিলাই না। বস্তুত একজন মহিলার উদ্দেশ্যে আমার বক্তব্য শত মহিলার উদ্দেশ্যে আমার বক্তব্যের ন্যায়।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في بيعة نساء أهل المدينة
وعن أميمة بنت رقيقة (4) قالت أتيت - صلى الله عليه وسلم - في نساء نبايعه فأخذ علينا ما في القرآن ان لا نشرك بالله شيئا الآية قال فيما استطتعن واطعتن، قلنا الله ورسوله ارحم بنا من أنفسنا، قلنا يا رسول الله ألا تصافحنا قال اني لا أصافح النساء، انما قولي لامرأة واحدة كقولي لمائة امرأة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মদীনার মহিলাদের শপথ গ্রহণ
১৯৪. আমর ইবনে শুআয়ব বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা থেকে তিনি তাঁর দাদা থেকে। তিনি বলেছেন, উমায়মা বিনত রুকাইকাহ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরবারে এসেছিল। তাঁর নিকট ইসলামের বায়'আত হওয়ার জন্যে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন আমি তোমাকে বায়'আত নিচ্ছি-তোমার অঙ্গীকার নিচ্ছি এ মর্মে যে, তুমি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, যিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হবে না, তোমার সন্তানকে হত্যা করবে না, জেনে-শুনে মিথ্যা রচনা করে তা রটাবে না, কারো মৃত্যুতে চিৎকার করে কাঁদবে না এবং অতীত জাহেলী যুগের ন্যায় নিজেকে দর্শনীয় করে প্রকাশ করবে না।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في بيعة نساء أهل المدينة
عن عمرو بن شعيب (5) عن أبيه عن جده قال جاءت أميمة بنت رقيقة الي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - تبايعه علي الاسلام فقال أبايعك علي أن لا تشركي بالله شيئا ولا تسرقي ولا تزني ولا تقتلي ولدك ولا تأتي ببهتان تفترينه بين يديك ورجليك ولا تنوحي ولا تبرجي تبرج الجاهلية الأولي
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৫
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মুহাজিরগণের মদীনাতে জ্বর-ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়া
১৯৫. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মদীনায় আগমন করেছিলেন তখন মদীনা ছিল আল্লাহর দুনিয়াতে সবচেয়ে বেশী মহামারী পীড়িত জনপদ। এখানে হযরত আবূ বকর (রা) রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লেন। আয়েশা (রা) বলেন যে, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু'আ করে বললেন
اللَّهُمَّ حَببْ إِلَيْنَا الْمَدِينَةً كحْبنَا مَكَّةَ أَوْ أَشَدَّ وَصَحَحْهَا وَبَارِك لَنَا فِي مُدهَا وَصَاعِهَا وَانْقُلْ حُماهَا فَاجْعَلْهَا فِي الْجُحْفَةِ
হে আল্লাহ্। মদীনাকে আমাদের জন্যে প্রিয় করে দিন যেমন প্রিয় ছিল মক্কা নগরী কিংবা তার চেয়েও বেশী প্রিয় করে দিন, এটিকে স্বাস্থ্যকর করে দিন, এটির দ্রব্যসামগ্রীতে বরকত দিন এবং এটির জ্বর-ব্যাধিকে জুহফাতে সরিয়ে দিন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ذكر ما أصاب المهاجرين من حمي المدينة
عن عائشة رضي الله عنها (6) قالت قدم رسول الله - صلى الله عليه وسلم - المدينة وهي أوبا (7) أرض الله عز وجل فأشتكي أبو بكر، قالت فقال رسول الله - صلى الله عليه وسلم - اللهم حبب الينا المدينة كحبنا مكة أو أشد، وصححها وبارك لنا في مدها (1) وصاعها وانقل حماها فاجعلها في الجحفة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৬
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মুহাজিরগণের মদীনাতে জ্বর-ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়া
১৯৬. উরওয়া সূত্রে হযরত আয়েশা (রা) থেকে এরূপ বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মদীনায় এলেন তখন তাঁর সাহাবীগণ রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লেন। হযরত আবু বকর (রা), তদীয় ক্রীতদাস আমির ইব্‌ন ফুহায়রা এবং হযরত বিলালও রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েন। হযরত আয়েশা (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট অসুস্থদের দেখতে যাওয়ার অনুমতি চাইলেন। তিনি অনুমতি দিলেন। আয়েশা (রা) আবু বকর (রা) কে জিজ্ঞেস করে বললেন, আপনার কেমন লাগছে? আবু বকর (রা) বললেন-
كُلُّ امْرِي مُصَبَّحْ فِي أَهْلِهِ ... وَالْمَوْتُ أَدْنَى مِنْ شِرَاكِ نَعْلِهِ.
প্রত্যেক ব্যক্তি তার পরিজনের মধ্যে সকালে শয্যাত্যাগ করে আর মৃত্যু তো তার জুতার ফিতার চেয়েও অধিক নিকটবর্তী।
আমি আমিরের নিকট তার অবস্থা জানতে চেয়েছিলাম। সে বলেছিল
إِنِّي وَجَدْتُ الْمَوْتَ قَبْلَ ذَوْقِهِ ... إِنَّ الْجَبَانَ حَتْفُهُ مِنْ فَوْقِهِ .
মৃত্যু হবার আগে আমি মৃত্যুযন্ত্রণা অনুভব করছি। ভীরুর মৃত্যু তো উপর থেকে দম বন্ধ হয়ে কার্যকর হয়।
আমি বিলাল (রা) কে তাঁর অবস্থা জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বললেন-
يَا لَيْتَ شَعْرِي هَلْ أَبِيْتَنَّ لَيْلَةٌ ... بِفَجٍ وَحَوْلِي إِذْخِرٌ وَجَلِيلٌ .
হায়! আমি যদি জানতে পারতাম যে, আমি মক্কার উপত্যকায় রাত্রিযাপন করতে পারব, সেখানে আমার চারিদিকে থাকবে ইযখীর ও জালীল ঘাসের সমারোহ।
এসব দেখে হযরত আয়েশা (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এলেন এবং তাঁদের অভিব্যক্তি ও অবস্থা তাঁকে অবগত করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আকাশের দিকে তাকালেন এবং বললেন-
হে আল্লাহ্ মদীনাকে আমাদের জন্যে প্রিয় করে দিন, যেমন প্রিয় করে দিয়েছেন মক্কাকে কিংবা তার চেয়েও বেশি প্রিয় (করে দিন), হে আল্লাহ্ মদীনার দ্রব্য-সামগ্রীতে আমাদের জন্য বরকত দান করুন এবং এখানকার মহামারীকে মাহয়াআহ্ অঞ্চলে সরিয়ে দিন।
ভাষ্যকারদের মতে মাহয়াআহ হলো জুহফাহ্ অঞ্চল।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ذكر ما أصاب المهاجرين من حمي المدينة
وعن عروة عنها أيضا (3) قالت لما قدم النبي - صلى الله عليه وسلم - المدينة اشتكي اصحابه واشتكي أبو بكر وعامر بن فهيرة مولي أبي بكر وبلال فاستأذنت عائشة النبي - صلى الله عليه وسلم - في عيادتهم فاذن لها، فقالت لأبي بكر كيف نجدك (4)؟ فقال
كل امرأي ومصبح في أهله ... والموت أدني من شراك نعله
وسألت عامر افقال ... أني وجدت الموت قبل ذوقه (5) ... ان الجبان (6) حتفه من ... فوق
وسألت بلالا فقال ... ياليت شعري هل ابيتن ... ليلة ... بفج (7) وحولي إدخر وجليل
فاتت النبي - صلى الله عليه وسلم - فاخبرته بقولهم، فنظر الي السماء فقال اللهم حبب الينا المدينة كما حببت الينا مكة أو أشد واللهم بارك لنا في صاعها وفي مدها وانقل وباءها الي مهيعة (8) وهي الجحفة كما زعموا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৭
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মুহাজিরগণের মদীনাতে জ্বর-ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়া
১৯৭. হিশাম ইব্‌ন উরওয়া তার পিতা থেকে এবং তিনি হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মদীনায় এলেন তখন সেটি ছিল মহামারী অধ্যুষিত জনপদ। সেখানে ছিল জ্বরের প্রকোপ। একপর্যায়ে হযরত আবু বকর (রা) রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লেন। জ্বরের প্রকোপ যখন বৃদ্ধি পেল তখন তিনি বিষাদভরে বলতেন-

كُلُّ امْرِي مُصَبَّحٌ فِي أَهْلِهِ ... وَالْمَوْتُ أَدْنَى مِنْ شِرَاكِ نَعْلِهِ.
প্রত্যেকের এখানে ভোর হয় তার পরিবারের মধ্যে। এ অবস্থায় যে, তার মৃত্যু তার জুতার ফিতার চেয়ে অধিক নিকটে।
হযরত বিলাল (রা) যখন জ্বরে ভুগতেন তখন তিনি বলতেন-
أَلَّا لَيْتَ شَعْرِي هَلْ أَبِيْتَنَ لَيْلَةٌ بِوَادٍ وَحَوْلِي إِذْخِرٌ وَجَلِينَ.
হায় যদি আমি জানতে পারতাম যে, আমি সেই উপত্যকায় রাত যাপন করতে পারব যেখানে আমার চারিদিকে থাকবে ইযখির ও জলীল ঘাস।
وَهَلْ أَرْدِنُ يَوْمًا مِيَاهَ مِجَنَّةٍ وَهَلْ يَبْدُونَ لِي شَامَةٌ وَطَفِينَ .
এও যদি জানতে পারতাম কোন একদিন আমি মাজিন্না মরুদ্যানে যেতে পারব আর শামা এবং তাফীল পর্বতদ্বয় আমার দৃষ্টিগোচর হবে।
اللَّهُمَّ الْعَنْ عُتْبَةَ بْنَ رَبِيعَةَ وَشَيْبَةَ بْنَ رَبِيعَةَ وَأُمَيَّةَ بْنَ خَلْفٍ كَمَا أَخْرَجُوْنَا مِنْ مَكَّةَ
হে আল্লাহ্ উতবাহ ইবন রাবীআহ, শায়বাহ ইবন রাবীআহ এবং উমাইয়া ইবন্ খাল্‌ল্ফকে আপনি লা'নত দিন, যেমনটি তারা আমাদেরকে মক্কা থেকে বহিষ্কার করেছে।
সাহাবা-ই-কিরামের এ অবস্থা দেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন
اللَّهُمَّ حَبِبْ إِلَيْنَا الْمَدِينَةَ كَحُبِّنَا مَكَةَ أَوْ أَشَدَّ اللهُمَّ صَحِحُهَا وَبَارِكْ لَنَا فِي صَاعِهَا وَمُدهَا وَانْقُلْ حُماهَا إِلَى الْجُحْفَةِ
হে আল্লাহ্। মদীনাকে আমাদের জন্যে প্রিয় করে দিন যেমন প্রিয় ছিল মক্কা কিংবা তার চেয়েও বেশি প্রিয়। হে আল্লাহ্! এটিকে স্বাস্থ্যকর ও বিশুদ্ধ করে দিন আর সেটির দ্রব্যসামগ্রীতে বরকত দিন, সেটির জ্বর-ব্যাধিকে জুহফাতে সরিয়ে দিন।
বর্ণনাকারী বলে এর পর থেকে জুহফা অঞ্চলে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তি সাবালক হবার পূর্বেই জ্বর-ব্যাধির আক্রমণে পর্যুদস্ত হয়ে যেত।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ذكر ما أصاب المهاجرين من حمي المدينة
عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة (1) قالت قدم رسول الله - صلى الله عليه وسلم - المدينة وهي وبيئة ذكر أن الحمي صرعتهم فمرض أبو بكر وكان اذا أخذته الحمي يقول:
كل امرئ مصبح في أهله ... والموت أدني من شراك نعله
قالت وكان بلال اذا أخذته الحمي يقول:
ألاليت شعري هل أبيتن ليلة ... بواد وحولي إذخر ... وجليل
وهل أردن (2) يوما مياه مرجنة (3) وهل يبدون (4) لي شامة وطفيل
اللهم العن عتبة بن ربيعة وشيبة بن ربيعة ومية بن خلف كما أخرجونا من مكة: فلما رأي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - مالقوا قال اللهم حبب الينا المدينة كحبنا مكة أو أشد، اللهم صححها وبارك لنا في صاعها ومدها وأنقل حماها الي الجحفة، قال فكان المولود يولد بالجحفة فما يبلغ الحلم حتي يقرعه الحمي
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৮
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র (রা)-এর জন্ম এবং হযরত আয়েশা (রা)-এর সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাসর রাত্রি উদযাপন
১৯৮. হযরত আসমা বিনতে আবূ বকর (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, মক্কা থাকাকালীন সময়ে আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন যুবায়র (রা) তাঁর গর্ভে আসে। তিনি বলেন, আমি যখন হিজরতের উদ্দেশ্যে মক্কা ত্যাগ করি তখন গর্ভকালীন মেয়াদ ছিল শেষ পর্যায়ে। অতঃপর আমি মদীনায় এসে কুবাতে অবতরণ করি। সেখানে আমার গর্ভে আবদুল্লাহ্ জন্মগ্রহণ করে। এরপর আমি তাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসি এবং তাঁর কোলে তুলে দেই। তিনি একটি খেজুর আনিয়ে সেটি চিবিয়ে নেন এবং আবদুল্লাহ-এর মুখে এটা থুথুসহ তুলে দেন। সে প্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর থুথুই সর্বপ্রথম আবদুল্লাহ্-এর পেটে যায়। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবদুল্লাহর মুখের ভেতর খেজুরটি ঢুকিয়ে দেন এবং তার জন্য বরকত ও কল্যাণের দুআ করেন। আবদুল্লাহ্ হল ইসলামী যুগে সর্বপ্রথম জন্মগ্রহণকৃত সন্তান (মদীনাতে)।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ماجاء في ميلاد عبد الله بن الزبير وبنائه - صلى الله عليه وسلم - بعائشة رضي الله عنهم
عن أسماء بنت أبي بكر رضي الله عنهما (5) أنها حملت بعبد الله بن الزبير بمكة قالت فخرجت (6) وأنا متم فأتيت المدينة فنزلت بقباء (7) فولدته بقباء ثم أتيت به النبي - صلى الله عليه وسلم - فوضعته في حجره ثم دعا بتمرة فمضغها ثم تفل (8) في فيه فكان أول ما دخل في جوفه ريق رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قالت ثم حنكه (9) بتمرة ثم دعا له وبرك (10) عليه، وكان أول مولود ولد في الاسلام (11)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৯৯
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র (রা)-এর জন্ম এবং হযরত আয়েশা (রা)-এর সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাসর রাত্রি উদযাপন
১৯৯. উরওয়া বর্ণনা করেছেন হযরত আয়েশা (রা) থেকে। তিনি বলেছেন শাওয়াল মাসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বিয়ে করেছিলেন এবং আমাকে নিয়ে বাসর করেছিলেন শাওয়াল মাসে। এরপর অন্য কোন্ স্ত্রী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আমার চেয়ে বেশি প্রিয়? এই প্রেক্ষাপটে হযরত আয়েশা (রা) এটা পছন্দ করতেন যে, মেয়েরা শাওয়াল মাসে স্বামীগৃহে গমন করুক।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ماجاء في ميلاد عبد الله بن الزبير وبنائه - صلى الله عليه وسلم - بعائشة رضي الله عنهم
عن عروة عن عائشة (1) رضي الله عنها قالت تزوجني رسول الله - صلى الله عليه وسلم - في شوال (2) وبني بي في شوال، فأي نساء رسول الله - صلى الله عليه وسلم - كان أحظي عنده مني، وكانت عائشة تستحب أن تدخل نساءها في شوال
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২০০
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন যুবায়র (রা)-এর জন্ম এবং হযরত আয়েশা (রা)-এর সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাসর রাত্রি উদযাপন
২০০. আসমা বিনতে উমায়স (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন হযরত আয়েশা (রা) কে সাজিয়ে- গুজিয়ে যারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট পাঠিয়েছিল আমি তাদের অন্যতম। আমার সাথে অন্যান্য মহিলাও ছিল। আমরা যখন তাঁর গৃহে যাই তখন মেহমান আপ্যায়নের জন্যে শুধু এক বাটি দুধ ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজে একটু দুধ পান করলেন। তারপর বাটিটি আয়েশা (রা) কে দিলেন। বালিকা আয়েশা (রা) তা গ্রহণে লজ্জাবোধ করছিলেন। আমরা বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাত ফিরিয়ে দিও না, তা গ্রহণ কর। তিনি লজ্জায় লাজুক হয়ে তা গ্রহণ করলেন এবং কিছু দুধ পান করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমার সখীদেরকে পান করতে দাও। আমরা বললাম আমার দুধ পানের আগ্রহ নেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ক্ষুধা এবং মিথ্যা দুটোকে একত্রিত করো না। আমি বললাম ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাদের কেউ যদি কোনো কিছু গ্রহণের আসক্তি রেখে বলে সেটির প্রতি আমার আসক্তি নেই, তাহলে তা কি মিথ্যারূপে গণ্য হবে? তিনি বললেন মিথ্যা তো মিথ্যা রূপেই লিপিবদ্ধ হবে এমনকি ছোট মিথ্যা ছোট মিথ্যা রূপে গণ্য হবে।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ماجاء في ميلاد عبد الله بن الزبير وبنائه - صلى الله عليه وسلم - بعائشة رضي الله عنهم
عن أسماء بنت عميس (3) قالت كنت صاحبة عائشة التي هيأتها وأدخلتها علي رسول الله - صلى الله عليه وسلم - ومعى نسوة قالت فو الله ما وجدنا عنده قرى (4) الا قدحاً من لبن قالت فشرب منه ثم ناوله عائشة فاستحيت الجارية، فقلنا لا تردى يد رسول الله - صلى الله عليه وسلم - خذى منه، فأخذته على حياء فشربت منه ثم قال ناولى صواحبك، فقلنا لا نشتهيه فقال لا تجمعن جوعا وكذبا، قالت فقلت يا رسول الله ان قالت إحدانا لشئ تشتهيه لا أشتهيه يعد ذلك كذبا، قال أن الكذب يكتب كذبا حتى تكتب الكذيبة كذيبة
tahqiq

তাহকীক: