মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩৪৪ টি

হাদীস নং: ১৬২
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: একের অপরাধে অন্যকে শাস্তি দেয়া হবে না যদিও অপরাধী তার ঘনিষ্ঠতম ব্যক্তি হয়।
১৬২। আবু নাযর থেকে বর্ণিত, তিনি তামীম গোত্রের জনৈক প্রবীণ ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, উসমান (রা)-এর জামানায় জনৈক ব্যক্তি তার পিতা থেকে হাদীস বর্ণনা করতেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার জন্য ফরমান লিখে দিন যে, আমাকে যেন অন্যের অপরাধে শাস্তি দেয়া না হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, এটা তোমার এবং প্রত্যেক মুসলিমের জন্য।
(হায়ছামী মাজমাউয যাওয়াইদে হাদীসটিকে উল্লেখ করে বলেছেন, আহমদ হাদীসটিকে বর্ণনা করেছেন। এর সনদে একজন বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। এবং অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ সহীহ বুখারী এবং সহীহ মুসলিমের বর্ণনাকারী।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب لا يؤخذ المرء بجناية غيره ولو من اقرب الناس إليه
عن موسى بن عقبة (10) قال حدثنى أبو النضر عن رجل كان قديماً من بنى تميم قال كان فى عهد عثمان رجل يخبر عن أبيه أنه لقى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله أكتب لى كتاباً أن لا أؤاخذ بجريرة غيرى، فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم إن ذلك لك ولكل مسلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৩
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ অধ্যায় : হুদুদ (শরীয়ত নির্ধারিত শাস্তিসমূহ)

পরিচ্ছেদ: শরীয়ত-নির্ধারিত শাস্তি প্রতিষ্ঠা করার প্রতি উৎসাহ দান এবং যদি তা শাসকের নিকট পেশ করা হয় তাতে সুপারিশ না করা প্রসঙ্গ।
১৬৩। আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, পৃথিবীতে একটি হদ্দ (শরীয়ত নির্ধারিত শাস্তি) প্রতিষ্ঠিত হওয়া পৃথিবাসীর পক্ষে ত্রিশদিন অন্য (অন্য এক বর্ণনায় চল্লিশ দিন) বৃষ্টিপাত হওয়া অপেক্ষা শ্রেয়।
(নাসাঈ, ইবন মাজাহ, ইবন হিব্বান। হাফিয ইবন হাজর "তাকরীবে” এ হাদীসের একজন বর্ণনাকারী জারীর ইবন ইয়াযীদ ইবন আব্দুল্লাহ আল বাজালীকে দুর্বল বর্ণনাকারী বলেছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
كتاب الحدود

باب الحث على إقامة الحد والنهى عن الشفاعة فيه إذا بلغ الإمام
عن أبى هريرة (1) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم حد يعمل (وفى لفظ يقام) فى الأرض خير لأهل الأرض (2) من أن يمطروا ثلاثين (وفى لفظ أو أربعين صباحاً
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৪
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ অধ্যায় : হুদুদ (শরীয়ত নির্ধারিত শাস্তিসমূহ)

পরিচ্ছেদ: শরীয়ত-নির্ধারিত শাস্তি প্রতিষ্ঠা করার প্রতি উৎসাহ দান এবং যদি তা শাসকের নিকট পেশ করা হয় তাতে সুপারিশ না করা প্রসঙ্গ।
১৬৪। ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যদি কেউ আল্লাহ তা'আলার কোন হদ্দ (শরীয়ত নির্ধারিত শাস্তি)-এর প্রতিষ্ঠায় অন্তরায় সৃষ্টি করে, তবে সে আল্লাহর আদেশের বিরোধিতা করল।
(হাদীসটি একটি দীর্ঘ হাদীসের অংশ যা ভীতি প্রদর্শন সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ সমূহের চতুর্থ পরিচ্ছেদে উদ্ধৃত হবে। আবূ দাউদ এবং হাকিম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। ইবন আবু শায়বা হাদীসটিকে অন্য এক সহীহ বর্ণনা সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রা) থেকে তাঁর মওকুফ হাদীসরূপে বর্ণনা করেছেন। আর তাবারানী আল মু'জামুল আউসাতে হাদীসটিকে আবূ হুরায়রা (রা) থেকে মারফু' হাদীসরূপে বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাতে বলেছেন, فَقَدْ ضَادَّ اللَّهَ مُلْكَهُ তাহলে সে আল্লাহর রাজত্বে তাঁর বিরোধিতা করল।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
كتاب الحدود

باب الحث على إقامة الحد والنهى عن الشفاعة فيه إذا بلغ الإمام
عن ابن عمر (3) قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من حالت شفاعته دون حد من حدود الله عز وجل فقد ضاد الله فى أمره
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৫
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ অধ্যায় : হুদুদ (শরীয়ত নির্ধারিত শাস্তিসমূহ)

পরিচ্ছেদ: শরীয়ত-নির্ধারিত শাস্তি প্রতিষ্ঠা করার প্রতি উৎসাহ দান এবং যদি তা শাসকের নিকট পেশ করা হয় তাতে সুপারিশ না করা প্রসঙ্গ।
১৬৫। আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুরায়শের মাখযুম পরিবারের জনৈকা মহিলা আসবাব পত্র কর্জ নিত এবং তা অস্বীকার করত। নবী (ﷺ) তার হাত কেটে দিতে নির্দেশ দিলেন। তার পরিবারের লোকেরা উসামা (রা)-এর সাথে এ বিষয়ে কথা বলল। উসামা (রা) নবী (ﷺ)-এর সাথে (তাকে ক্ষমা করে দেয়ার জন্য) কথা বললেন। নবী (ﷺ) তাঁকে বললেন, হে উসামা, আমি তোমাকে এরূপে দেখতে চাই না যে, তুমি আমার সাথে আল্লাহ তা'আলার কোন হদ্দ মওকুফ করা সম্পর্কে কথা বলবে। অতঃপর নবী (ﷺ) লোকদেরকে নসিহত করার জন্য দাঁড়িয়ে বললেন, তোমাদের পূর্ববর্তীগণ তো এ কারণেই ধ্বংস হয়েছে যে, তাদের অভিজাত ব্যক্তি চুরি করলে তারা তার বিচার করত না। আর যদি তাদের দুর্বল ব্যক্তি চুরি করত, তবে তারা তার হাত কাটত। ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার জীবন, যদি মুহাম্মাদ -এর মেয়ে ফাতিমা (রা) ও এরূপ করত তবে আমি তারও হাত কেটে দিতাম। অতঃপর কুরায়শের মাখযুম পরিবারের মহিলার হাত কাটা হল।
(বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ এবং অন্যরা)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
كتاب الحدود

باب الحث على إقامة الحد والنهى عن الشفاعة فيه إذا بلغ الإمام
عن عروة عن عائشة رضى الله عنها (4) قالت كانت امرأة مخزومية تستعير المتاع وتجحده فأمر النبي صلى الله عليه وسلم بقطع يدها (5) فأتى أهلها أسامة بن زيد فكلموه فكلم أسامة النبي صلى الله عليه وسلم فيها فقال له النبى صلى الله عليه وسلم يا أسامة ألا أراك تكلمنى فى حد من حدود الله عز وجل (6) ثم قام النبى صلى الله عليه وسلم خطيباً فقال إنما هلك من كلن قبلكم بأنه إذا سرق فيهم الشريف تركوه وإذا سرق فيهم الضعيف قطعوه والذى نفسى بيده لا كانت فاطمة بنت محمد (7) لقطعت يدها، فقطع يد المخزومية
হাদীস নং: ১৬৬
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ অধ্যায় : হুদুদ (শরীয়ত নির্ধারিত শাস্তিসমূহ)

পরিচ্ছেদ: শরীয়ত-নির্ধারিত শাস্তি প্রতিষ্ঠা করার প্রতি উৎসাহ দান এবং যদি তা শাসকের নিকট পেশ করা হয় তাতে সুপারিশ না করা প্রসঙ্গ।
১৬৬। ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুরায়শের মাখযুম পরিবারের জনৈকা মহিলা আসবাব পত্র কর্জ নিত এবং তা নেয়ার কথা অস্বীকার করত। নবী (ﷺ) তার হাত কেটে দিতে নির্দেশ দিলেন।
(আবূ দাউদ, নাসাঈ। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটির বর্ণনাকারীগণ সহীহর বর্ণনাকারী। নাসাঈ অন্য এক বর্ণনা সূত্রে নাফি' থেকে এর সমার্থক মুরসাল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে আছে, فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِتَتُبْ هَذِهِ الْمَرْأَةُ وَتُؤَدِّي مَا عِنْدَهَا مِرَارًا فَلَمْ تَفْعَلْ فَأَمَرَ بِهَا فَقُطِعَتْ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একাধিকবার বললেন, এ মহিলা যেন তওবা করে এবং তার নিকট মানুষের যে সকল বস্তু আছে তা ফেরত দেয়। সে তাঁর কথা মানল না। তাই তিনি তার হাত কাটার আদেশ করলেন। আর তার হাত কাটা হল।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
كتاب الحدود

باب الحث على إقامة الحد والنهى عن الشفاعة فيه إذا بلغ الإمام
عن ابن عمر (8) قالت كانت مخزومية تستعير المتاع وتجحده فأمر النبي صلى الله عليه وسلم بقطع يدها
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৭
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ অধ্যায় : হুদুদ (শরীয়ত নির্ধারিত শাস্তিসমূহ)

পরিচ্ছেদ: শরীয়ত-নির্ধারিত শাস্তি প্রতিষ্ঠা করার প্রতি উৎসাহ দান এবং যদি তা শাসকের নিকট পেশ করা হয় তাতে সুপারিশ না করা প্রসঙ্গ।
১৬৭। জাবির (রা) থেকে বর্ণিত, কুরায়শের মাখযুম পরিবারের জনৈকা মহিলা চুরি করল এবং সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রিয় পাত্র উসামা ইবন যায়িদ (রা)-এর আশ্রয় নিল। তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট নিয়ে আসা হল। তিনি বললেন, যদি ফাতিমা (রা)ও চুরি করত তবে আমি তারও হাত কেটে দিতাম। সুতরাং তার হাত কাটা হল।
(নাসাঈ। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না আহমদের হাদীসটিকে হাসান এবং নাসাঈর হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
كتاب الحدود

باب الحث على إقامة الحد والنهى عن الشفاعة فيه إذا بلغ الإمام
عن جابر (1) أن امرأة من بنى مخزوم سرقت فعاذت بأسامة بن زيد (2) حب رسول الله صلى الله عليه وسلم فأتى بها رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال لو كانت فاطمة لقطعت يدها فقطعها
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৮
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ অধ্যায় : হুদুদ (শরীয়ত নির্ধারিত শাস্তিসমূহ)

পরিচ্ছেদ: শরীয়ত-নির্ধারিত শাস্তি প্রতিষ্ঠা করার প্রতি উৎসাহ দান এবং যদি তা শাসকের নিকট পেশ করা হয় তাতে সুপারিশ না করা প্রসঙ্গ।
১৬৮। আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) -এর নিকট জনৈক চোরকে উপস্থিত করা হল। তিনি তার হাত কেটে দিতে নির্দেশ দেন। আর তার হাত কাটা হল। উপস্থিত সাহাবীগণ (রা) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা ধারণা করতে পারিনি যে, এরূপ সামান্য চুরির অপরাধে তার হাত কাটা হবে। তিনি বললেন, যদি ফাতিমা (রা)-ও চুরি করত, আমি তারও হাত কাটতাম। এ হাদীস বর্ণনা করার পর এ হাদীসের এক বর্ণনাকারী সুফিয়ান বলেন, আমি জানি না যে, ঐ চুরিকৃত বস্তুটি কিরূপ ছিল।
(নাসাঈ হাদীসটিকে ইমাম আহমদের সনদে বর্ণনা করেছেন। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটির সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
كتاب الحدود

باب الحث على إقامة الحد والنهى عن الشفاعة فيه إذا بلغ الإمام
عن عائشة رضى الله عنها (3) أن النبى صلى الله عليه وسلم أتى بسارق فأمر به فقطع، قالوا يا رسول الله ما كنا ونرى (4) أن يبلغ منه هذا، قال لو كانت فاطمة لقطعتها ثم قال سفيان (5) لا أدرى كيف هو
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৯
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ অধ্যায় : হুদুদ (শরীয়ত নির্ধারিত শাস্তিসমূহ)

পরিচ্ছেদ: শরীয়ত-নির্ধারিত শাস্তি প্রতিষ্ঠা করার প্রতি উৎসাহ দান এবং যদি তা শাসকের নিকট পেশ করা হয় তাতে সুপারিশ না করা প্রসঙ্গ।
১৬৯। সাফওয়ান ইবন উমাইয়্যা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যখন ঘুমিয়ে ছিলাম তখন জনৈক চোর এসে আমার মাথার নিচ থেকে আমার কাপড় নিল। আমি তাকে পাকড়াও করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট এসে বললাম, এ ব্যক্তি আমার কাপড় চুরি করেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার হাত কেটে দিতে নির্দেশ দিলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। আমি তার হাত কাটার ইচ্ছা করিনি। আমি তাকে তা দান করলাম। তিনি বললেন, তুমি তা আমার কাছে আসার পূর্বে কেন করনি?
(হাকিম, মালিক, শাফিয়ী, আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ। হাকিম এবং ইবনুল জারূদ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)
তাঁর থেকে দ্বিতীয় এক বর্ণনা সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন, আমি মসজিদে আমার কালো রংয়ের একটা চৌকা চাদরের উপর ঘুমিয়ে ছিলাম। তা চুরি হল। আমরা চোরটিকে ধরে নবী (ﷺ)-এর নিকট ফয়সালার জন্য পেশ করলাম। তিনি তার হাত কেটে দিতে নির্দেশ দিলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কালো রংয়ের একটা চৌকা কাপড়ের জন্য তার হাত কাটা হবে। যার মূল্য মাত্র ত্রিশ দিরহাম? আমি তাকে তা দান করব বা তার জন্য তা বিক্রয় করব। তিনি বললেন, তুমি তা আমার কাছে আসার পূর্বে কেন করনি?
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
كتاب الحدود

باب الحث على إقامة الحد والنهى عن الشفاعة فيه إذا بلغ الإمام
عن صفوان بن أمية (6) قال بينما أنا راقد غذ جاء السارق فأخذ ثوبى من تحت رأسى فأدركته فأتيت به النبى صلى الله عليه وسلم فقلت إن هذا سرق ثوبى فأمر به صلى الله عليه وسلم أن يقطع، قال قلت يا رسول الله ليس هذا أردت، هو عليه صدقة (7) قال فهلا قبل أن تأتينى به (وعنه من طريق ثان) (8) قال كنت نائماً فى المسجد على خميصة لى فسرقت فأخذنا السارق فرفعناه إلى النبى صلى الله عليه وسلم فأمر بقطعه، فقلت يا رسول الله أفى خميصة (9) ثمنها ثلاثون درهماُ، أنا أهبها له أو أبيعها له قال فهلا قبل أن تأتينى به
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭০
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ অধ্যায় : হুদুদ (শরীয়ত নির্ধারিত শাস্তিসমূহ)

পরিচ্ছেদ: শরীয়ত-নির্ধারিত শাস্তি প্রতিষ্ঠা করার প্রতি উৎসাহ দান এবং যদি তা শাসকের নিকট পেশ করা হয় তাতে সুপারিশ না করা প্রসঙ্গ।
১৭০। আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা চালচলনে ভাল লোকদের ছোট-খাট অপরাধ উপেক্ষা করবে, তবে হুদুদের কথা ভিন্ন।
(শাফিয়ী, আবূ দাউদ, নাসাঈ, বায়হাকী, ইবন আদী। হাদীসটি হাসান।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
كتاب الحدود

باب الحث على إقامة الحد والنهى عن الشفاعة فيه إذا بلغ الإمام
عن عائشة رضى الله عنها (10) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال أقيلوا (11) ذوى الهيئات عثراتهم إلا الحدود (12)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭১
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: হদ্দের বিপরীতে মুক্তিপণ গ্রহণ না করা। আর হদ্দ দ্বারা পাপের প্রায়শ্চিত্ত হওয়া।
১৭১। মুহাম্মদ ইবন তালহা ইবন ইয়াযীদ ইবন রুকানা থেকে বর্ণিত, তাঁর খালা মাসউদ ইবন "আজমা”-এর বোন তার কাছে বর্ণনা করেন যে, তাঁর পিতা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কুরায়শের মাখযুম বংশের যে মহিলা চাদর চুরি করেছিল তাকে হদ্দের পরিবর্তে রক্তপণ স্বরূপ চল্লিশ আউন্স স্বর্ণ বা রৌপ্য মুদ্রা দিতে চাইলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তার জন্য হদ্দ গ্রহণ করে পবিত্র হয়ে যাওয়াই শ্রেয় তিনি তার হাত কাটার নির্দেশ দিলেন। সুতরাং তার হাত কাটা হল। মহিলা ছিল আব্দুল আসাদ পরিবারের লোক।
(ইবন মাজাহ। হাকিম হাদীসটিকে সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন। আর বলেছেন, হাদীসটির সনদ সহীহ। বুখারী এবং মুসলিম হাদীসটিকে এ প্রাসঙ্গিকতায় বর্ণনা করেননি। যাহাবী তাঁর কথা সমর্থন করেছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب عدم قبول الفدية فى الحدو أنه مكفر للذنب
عن محمد بن طلحة (1) بن يزيد بن ركانة أن خالته أخت مسعود بن العجماء حدثته أن أباها قال لرسول الله صلى الله عليه وسلم فى المخزومية التى سرقت قطيفة (2) يفديها يعنى بأربعين أوقية فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لأن تطهر (3) خير لها، فأمر بها فقطعت يدها وهى من بنى عبد الأسد
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭২
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: হদ্দের বিপরীতে মুক্তিপণ গ্রহণ না করা। আর হদ্দ দ্বারা পাপের প্রায়শ্চিত্ত হওয়া।
১৭২। আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর জামানায় জনৈকা মহিলা চুরি করল। সে যাদের মাল চুরি করেছিল তারা তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট নিয়ে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এ মহিলা আমাদের মাল চুরি করেছে। তার গোত্রের লোকেরা বলল, আমরা তার হদ্দের বিপরীতে রক্তপণ স্বরূপ পাঁচশত দীনার দেব। তিনি বললেন, তোমরা তার হাত কাট। তিনি বলেন, তার ডান হাত কাটা হল। মহিলাটি বলল, আমার জন্য তওবার সুযোগ রয়েছে কি হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, হাঁ, তুমি আজ ঐ দিনের মত পাপ থেকে মুক্ত হয়ে গেলে যে দিন তোমার মা তোমাকে প্রসব করেছিল। আল্লাহ তা'আলা সূরা মায়িদাহ অবতীর্ণ করলেন,
فَمَنْ تَابَ مِنْ بَعْدِ ظُلْمِهِ وَأَصْلَحَ فَإِنَّ اللهَ يَتُوبُ عَلَيْهِ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحَيْمٌ
"আর যে তওবা করল স্বীয় অপরাধের পর এবং সংশোধন করে নিল, আল্লাহ তো তওবা কবুল করেন তার। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা মায়িদা : ৩৯)
(ইবন জুরাইজ হাদীসটিকে বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম আহমদের বর্ণনা পূর্ণতর। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটি হাসান।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب عدم قبول الفدية فى الحدو أنه مكفر للذنب
عن عبد الله بن عمرو (5) أن امرأة سرقت على عهد رسول صلى الله عليه وسلم (6) فجاء بها الذين سرقتهم فقالوا يا رسول أن هذه المرأة سرقتنا، قال قومها فنحن نفديها بخمسمائة دينار. قال اقطعوا يدها قال فقطعت يدها اليمنى، فقالت المرأة هل لى من توبة يا رسول الله؟ قال نعم أنت اليوم من خطيئتك كيوم ولدتك أمك (7) فأنزل الله عز وجل فى سورة المائدة {فمن تاب بعد ظله وأصلح (8) فأن الله يتوب عليه الخ الآية}
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৩
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: হদ্দের বিপরীতে মুক্তিপণ গ্রহণ না করা। আর হদ্দ দ্বারা পাপের প্রায়শ্চিত্ত হওয়া।
১৭৩। (ক) ইবন খুযায়মা ইবন সাবিত তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) যদি কারও উপর হদ্দ (শরীয়ত নির্ধারিত শাস্তি) ওয়াজিব হয়, এরূপ পাপ করে। আর তার উপর হদ্দ জারি হয়। তাহলে তা তার জন্য কাফফারা হয়ে যায়।
(তাবারানী আল মু'জামুল কাবীরে। হাফিয ইবন হাজর হাদীসটির সনদকে হাসান বলেছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب عدم قبول الفدية فى الحدو أنه مكفر للذنب
عن ابن خزيمة بن ثابت (1) عن أبيه عن النبى صلى الله عليه وسلم قال من أصاب ذنباً (2) أقيم عليه حد ذلك الذنب فهو كفارته
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৩
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: হদ্দের বিপরীতে মুক্তিপণ গ্রহণ না করা। আর হদ্দ দ্বারা পাপের প্রায়শ্চিত্ত হওয়া।
১৭৩। (খ) আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলাইহি বলেছেন, যদি কেউ দুনিয়ার কোন পাপ করে এবং তাকে এর শরয়ী শাস্তি দেয়া হয় তাহলে আল্লাহ আখেরাতে তাকে ঐ পাপের শাস্তি দেয়া থেকে অধিকতর ন্যায়পরায়ণ। আর যদি দুনিয়ায় কোন পাপ করে এবং আল্লাহ তা গোপন রাখেন এবং তাকে ক্ষমা করে দেন তাহলে তিনি আখেরাতে তাকে ঐ পাপের শাস্তি দেয়া থেকে অধিকতর দয়ালু।
(তিরমিযী, ইবন মাজাহ, হাকিম। তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তাঁর কথা সমর্থন করেছেন। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, ইমাম আহমদ হাদীসটিকে উবাদা ইবন সামিত (রা) থেকেও বর্ণনা করেছেন। খেলাফত ও ইমারা, অধ্যায়ে 'বাইয়াত' শীর্ষক পরিচ্ছেদে সম্পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করা হবে।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب عدم قبول الفدية فى الحدو أنه مكفر للذنب
عن على رضى الله عنه (4) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من أذنب فى الدنيا ذنباً فعوقب به (5) فالله أعدل من أن يثنى عقوبته على عبده، ومن أذنب ذنباً فى الدنيا فستر الله عليه (6) وعفا عنه فالله أكرم من أن يعود فى شئ قد عفا عنه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৪
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: যার উপর হদ্দ ওয়াজিব নয় এবং সন্দেহের কারণে হদ্দ বাতিল হওয়া প্রসঙ্গ
১৭৪। আবূ জাবয়ান জান্নী (র) থেকে বর্ণিত, উমর ইবন খাত্তাব (রা)-এর নিকট জনৈকা মহিলাকে নিয়ে আসা হল, যে যিনা করেছে। তিনি তাকে রজম করতে নির্দেশ দিলেন। লোকেরা তাকে রজম করার জন্য নিয়ে গেল। আলী (রা) তাদের সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন, এ মহিলা কি অপরাধ করেছে? তারা বলল, সে যিনা করেছে। উমর (রা) তাকে রজম করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আলী (রা) তাকে তাদের নিকট থেকে নিয়ে গেলেন। এবং তাদেরকে ফিরিয়ে দিলেন। আর তারা উমর (রা)-এর নিকট ফিরে আসল। তিনি বললেন, তোমাদেরকে কি জিনিস ফিরিয়ে দিয়েছে? তারা বলল, আমাদেরকে আলী (রা) ফিরিয়ে দিয়েছেন। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই তিনি কোন কিছু জেনেছেন তাই এরূপ করেছেন। তিনি আলী (রা)-এর কাছে লোক পাঠালেন। তিনি আসলেন, যেন তিনি রাগান্বিত। ওমর (রা) বললেন, আপনি কেন তাদেরকে ফিরিয়ে দিয়েছেন? তিনি বললেন, আপনি কি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেননি। তিন ব্যক্তি থেকে শরীয়তের বিধি-বিধান রহিত করা হয়েছে। (১) ঘুমন্ত ব্যক্তি থেকে, যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়। (২) শিশু থেকে যতক্ষণ না সে বয়প্রাপ্ত হয়, এবং (৩) পাগল থেকে, যতক্ষণ না সে ভাল মন্দের বিচার করার জ্ঞান লাভ করে? তিনি বললেন, হাঁ। আলী (রা) বললেন, এ অমুক গোত্রের পাগলী মহিলা। সম্ভবত তার পাগল অবস্থায় তার সাথে যিনা করা হয়েছে। উমর (রা) বললেন, আমি তা জানি না। আলী (রা) বললেন, আমিও জানি না। (ঠিক কোন অবস্থায় সে যিনা করেছে), সুতরাং তিনি তাকে রজম করলেন না।
(আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী। তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান গরীব। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাকিম এবং আবূ দাউদ আবু যবইয়ানের বর্ণনাসূত্রে ইবন আব্বাস (রা) থেকে হাদীসটির সমর্থক হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাকিম সে হাদীসকে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তাঁর কথা সমর্থন করেছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب لا يجب عليه الحد وما جاء فى درء الحدود بالشبهات
عن أبى ظبيان الجنبى (7) أن عمر ابن الخطاب أتى بامرأة قد زنت فأمر برجمها فذهبوا بها ليرجموها فلقيهم على رضى الله عنه فقال ما هذه؟ قالوا زنت فأمر عمر برجمها (8) فأنزعها على من أيديهم وردهم، فرجعوا إلى عمر رضى الله عنه فقال ما ردكم؟ فقالوا ردنا على فقال ما فعل هذا على إلا لشئ قد علمه، فأرسل إلى على فجاء وهو شبه المغضب فقال مالك رددت هؤلاء؟ قال أما سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول، رفع القلم عن ثلاثة عن النائم حتى يستيقظ، وعن الصبى حتى يكبر، وعن المبتلى حتى يعقل؟ قال بلى، قال علىّ رضى الله عنه فإن هذه مبتلاه نبى فلان فلعله أتاها (2) وهو بها، فقال عمر رضى الله عنه لا أدرى قال وأنا لا أدرى فلم يرجمها
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৫
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: যার উপর হদ্দ ওয়াজিব নয় এবং সন্দেহের কারণে হদ্দ বাতিল হওয়া প্রসঙ্গ
১৭৫। আলকামা তাঁর পিতা ওয়ায়েল ইবন হাজর (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন, জনৈকা মহিলা নামায পড়তে বের হল। জনৈক ব্যক্তি তার সাথে সাক্ষাৎ করল। সে তার কাপড় দিয়ে তাকে ঢেকে ফেলল। তার সাথে যিনা করল। এবং চলে গেল। তার নিকট জনৈক ব্যক্তি আসল। মহিলাটি তাকে বলল, জনৈক ব্যক্তি তার সাথে এরূপ করেছে। লোকটি যিনাকারীর সন্ধানে গেল। পরে লোকেরা সেই সন্ধানকারীকেই যিনাকারী মনে করে ধরে নিয়ে আসল। তারা তাকে নবী (ﷺ)-এর নিকট নিয়ে গিয়ে বলল, এ ব্যক্তি অমুক মহিলার সাথে যিনা করেছে। নবী (ﷺ) যখন তাকে রজম করতে নির্দেশ দিলেন তখন প্রকৃত যিনাকারী এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আমিই সেই (যিনাকারী ব্যক্তি)। তিনি মহিলাটিকে বললেন, তুমি চলে যাও। আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। আর তিনি পাকড়াওকৃত নিরপরাধ লোকটির প্রশংসা করলেন। তাঁকে বলা হল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি তাকে রজম করবেন না? তিনি বললেন, সে এমন তওবা করেছে, যা সকল মদীনাবাসী করলে তাদের ক্ষমা করা হত।
(আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী। তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান গরীব সহীহ। আর আলকামা ইবন ওয়ায়িল ইবন হাজর (র) তাঁর পিতা থেকে হাদীস শুনেছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب لا يجب عليه الحد وما جاء فى درء الحدود بالشبهات
عن علقمة بن وائل بن حجر (4) عن أبيه قال خرجت امرأة إلى الصلاة فلقيها رجل فتجللها بثيابه (5) فقضى حاجته منها وذهب، وانتهى إليها رجل فقالت له إن الرجل فعل بى كذا وكذا، فذهب الرجل في طلبه فجاءوا بالرجل الذي ذهب في طلب الرجل الذي وقع عليها فذهبوا به إلى النبى صلى الله عليه وسلم فقالت هو هذا (6) فلما أمر النبى برجمه (7) قال الذي وقع عليها يا رسول الله أنا هو (8) فقال للمرأة اذهبى فقد غفر الله لك (9) وقال للرجل قولاً حسناً، فقيل له يا رسول الله ألا ترجمه؟ (10) فقال لقد تاب توبة لو تابها أهل المدينة لقبل منهم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৬
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: যার উপর হদ্দ ওয়াজিব নয় এবং সন্দেহের কারণে হদ্দ বাতিল হওয়া প্রসঙ্গ
১৭৬। আব্দুল জাব্বার তাঁর পিতা ওয়ায়েল ইবন হাজর (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে জনৈকা মহিলাকে যিনাতে বাধ্য করা হল। তিনি তাকে যিনার শাস্তি দিলেন না। আর যে তার সাথে যিনা করেছে তাকে তিনি যিনার শাস্তি দিলেন। এ হাদীসের বর্ণনাকারী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কর্তৃক মহিলার জন্য মহর নির্ধারণ করার কথা উল্লেখ করেননি।
(ইবন মাজাহ, তিরমিযী। আব্দুল জাব্বার ইবন ওয়ায়িল তাঁর পিতা থেকে হাদীস শুনেননি। তাই হাদীসটি দূর্বল। ১৭৪ নম্বরের হাদীস এ হাদীসটিকে শক্তিশালী করে।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب لا يجب عليه الحد وما جاء فى درء الحدود بالشبهات
عن عبد الجبار عن أبيه (12) قال استكرهت (13) امرأة على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فدرأ عنها الحد (14) وأقامه على الذي أصابها ولم يذكر (15) أنه جعل لها مهراً
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৭
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : যদি কেউ হদ্দযোগ্য কোন অপরাধ করে তাহলে তা রাষ্ট্র প্রধানকে অবহিত না করে গোপন করা মুস্তাহাব
১৭৭। আবু মাজিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি তার ভাতিজাকে নিয়ে আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা)-এর নিকট এসে বলল, এ আমার ভাতিজা। সে মদ পান করেছে। আব্দুল্লাহ (রা) বললেন, আমি ইসলামের প্রথম হদ্দ সম্পর্কে অবগত। জনৈকা মহিলা চুরি করলে তার হাত কাটা হল। সে কারণে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চেহারায় দারুন পরিবর্তন দেখা দিল। অতঃপর তিনি বললেন,
وَلْيَعْفُوا وَلْيَصْفَحُوا أَلَا تُحَبّونَ أَنْ يَغْفِرَ اللَّهَ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ
বরং তারা যেন মাফ করে দেয় এবং তাদের ভুলে যায় তাদের দোষ-ত্রুটি। তোমরা কি ভালবাস না যে, আল্লাহ মাফ করেন তোমাদের? আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা নূর: ২২)।
তাঁর থেকে আরো বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা)-এর সাথে বসা ছিলাম। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রথম যে ব্যক্তির হাত কাটার নির্দেশ দিয়েছিলেন, আমি তার ঘটনা বর্ণনা করছি, এক চোরকে নিয়ে আসা হল। তিনি তার হাত কাটার নির্দেশ দিলেন। আর তাঁর চেহারা যেন ছাই বর্ণ হল। তিনি বলেন, তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, মনে হয় যেন আপনি তার হাত কাটা কে অপছন্দ করেছেন? তিনি বললেন, কোন বস্তু আমাকে তা থেকে বিরত রাখবে। তোমরা তোমাদের ভাইয়ের বিরুদ্ধে শয়তানের সাহায্যকারী হবে না। ইমামের কর্তব্য তার নিকট হদ্দযোগ্য অপরাধের নালিশ পৌছলে তা প্রতিষ্ঠিত করা। আল্লাহ তা'আলা ক্ষমাশীল। তিনি ক্ষমাকে পছন্দ করেন:
وَلْيَعْفُوا وَلْيَصْفَحُوا اَلَا تُحَبُّونَ أَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ
তাঁর থেকে দ্বিতীয় এক বর্ণনা সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। তিনি উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেন। আর অতিরিক্ত বর্ণনা করেন যে, মনে হয় যেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চেহারায় ছাই ছিটিয়ে দেয়া হয়েছে।
(হাদীসটির প্রথম বর্ণনা সূত্রের উৎস: হায়ছামী মাজমাউয যাওয়াইদে হাদীসটিকে উল্লেখ করে বলেছেন, আহমদ হাদীসটিকে পূর্ণ এবং আবূ ইয়ালা সংক্ষিপ্ত বর্ণনা করেছেন। এর এক বর্ণনাকারী আবু মাজিদ হানাফী দুর্বল। এর দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বর্ণনা সূত্রের উৎস, আবু ইয়ালা, হাকিম। এ সনদ দু'টিতেও বর্ণনাকারী আবূ মাজিদ হানাফী আছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب استحباب التستر على من ارتكب ما يوجب الحد قبل تبليغه الإمام
عن أبى ماجد (1) قال أتى رجل ابن مسعود بابن أخ له فقال إن هذا ابن أخى وقد شرب، فقال عبد الله لقد علمت أول حد كان في الإسلام، امرأة سرقت فقطعت يدها فتغير لذلك وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم تغيراً شديداً (2) ثم قال (وليعفوا وليصفحوا ألا تحبون أن يغفر الله لكم والله غفور رحيم (وعنه أيضاً) (3) قال كنت قاعداً مع عبد الله قال إنى لأذكر أول رجل قطعه (4) أتى بسارق فأمر بقطعه وكأنما أسفَّ (5) وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال قالوا يا رسول الله كأنك كرهت قطعه؟ قال وما يمنعنى، لا تكونوا عوناً للشيطان على أخيكم، إنه ينبغى للإمام إذا انتهى إليه حد أن يقيمه؛ إن الله عز وجل عفوّ يحب العفو (وليعفوا وليصفحوا ألا تحبون أن يغفر الله لكم والله غفور رحيم) (وعنه من طريق ثان) (6) فذكر معناه وقال كأنما أسف وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ذر عليه رماد
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৮
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : যদি কেউ হদ্দযোগ্য কোন অপরাধ করে তাহলে তা রাষ্ট্র প্রধানকে অবহিত না করে গোপন করা মুস্তাহাব
১৭৮। উকবা ইবন আমির (রা)-এর লিপিকর দুখায়ন (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উকবা (রা)-কে বললাম, আমাদের প্রতিবেশীরা মদ পান করে। আমি তাদেরকে পাকড়াও করার জন্য পুলিশ ডাকি যেন তারা তাদেরকে ধরে নিয়ে যায়। তিনি বললেন, তুমি এরূপ করবে না। বরং তাদেরকে উপদেশ দিবে এবং ভীত প্রদর্শন করবে। তিনি বলেন, অথচ তারা তা থেকে বিরত হল না। শেষে দুখায়ন (র) তাঁর নিকট এসে বললেন, আমি তাদেরকে নিষেধ করেছি। অথচ তারা তা থেকে বিরত হয়নি। তাই আমি তাদেরকে পাকড়াও করার জন্য পুলিশ ডাকব। উকবা (রা) বললেন, তোমার জন্য আফসোস! তুমি তা করবে না। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যদি কেউ কোন মু'মিনের দোষ গোপন রাখে তাহলে সে যেন জীবন্ত পুঁতে ফেলা কোন শিশুকে তার কবর থেকে জীবিত করল।
(মুনযিরী "আত-তারগীব আত-তারহীবে" হাদীসটির সমর্থক হাদীস উল্লেখ করে বলেছেন, আবু দাউদ এবং নাসাঈ হাদীসটিকে ঘটনার উল্লেখসহ এবং উল্লেখবিহীন উভয়রূপে বর্ণনা করেছেন। ইবন হিব্বান এবং হাকিম সহীহতে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, হাদীসটির সনদ সহীহ। যাহাবী তাঁর কথা সমর্থন করেছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب استحباب التستر على من ارتكب ما يوجب الحد قبل تبليغه الإمام
عن دخين كاتب عقبة بن عامر (7) قال قلت لعقبة إن لنا جيراناً يشربون الخمر وأنا داع لهم الشُّروط (1) فيأخذوهم، فقال لا تفعل ولكن عظهم وتهددهم قال ففعل فلم ينتهوا، قال فجاءه دخين فقال إنى نهيتهم فلم ينتهوا وأنا داع لهم اشلرط، فقال عقبة ويحك لا تفعل فإنى سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من ستر عورة مؤمن (2) فكأنما استحيا موءودة من قبرها (وفى لفظ) كان كمن أحيا موءودة من قبرها
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৭৯
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইসলাম ত্যাগকারীর হদ্দ, দীনের অপব্যাখ্যাকারী প্রসঙ্গ
১৭৯। আবূ বুরদা (রা) থেকে বর্ণিত, তিন বলেন, মু'আয ইবন জাবাল (রা) ইয়ামেনে আবূ মূসা আশআরী (রা)-এর নিকট আসলেন। তিনি তাঁর নিকট এক ব্যক্তিকে বাঁধা দেখে বললেন, এ ব্যক্তিকে কেন বাঁধা হয়েছে? উপস্থিত মানুষেরা বলল, এ ব্যক্তি ইহুদী ছিল। সে ইসলাম গ্রহণ করেছে তারপর আবার ইহুদী হয়ে গেছে। আমরা তাকে দু'মাস পর্যন্ত ইসলামে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি বসব না যতক্ষণ না তোমরা তার গর্দান কর্তন করবে। তার গর্দান কর্তন করা হল। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফয়সালা দিয়েছেন যে, যদি কেউ দীন ত্যাগ করে তোমরা তাকে হত্যা করবে।
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, শাফিয়ী এবং অন্যরা)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب حد من ارتد عن الإسلام وما جاء في الزنادقة
عن أبى بردة (3) قال قدم على أبى موسى الأشعرى معاذ بن جبل باليمن فإذا رجل عنده (4) قال ما هذا؟ قالوا رجل كان يهودياً فأسلم ثم تهوّد ونحن نريده على الإسلام منذ قال أحسبه (5) شهرين، فقال والله لا أقعد حتى تضربوا عنقه (6) فضربت عنقه، فقال قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن من رجع عن دينه فاقتلوه أو قال من بدل دينه فاقتلوه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৮০
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: ইসলাম ত্যাগকারীর হদ্দ, দীনের অপব্যাখ্যাকারী প্রসঙ্গ
১৮০। ইকরামা (র) থেকে বর্ণিত, আলী (রা)-এর নিকট একদল যিনদীক (প্রকাশ্যে নিজেকে মুমিন বললেও অন্তরে কুফরী আকীদা বিশ্বাস পোষণ করে ও সেই অনুযায়ী দীনের ব্যাখ্যা দেয় এমন লোক) আনা হল, তাদের সাথে কিতাব ছিল। তিনি আগুন প্রজ্জ্বলিত করতে নিদের্শ দিলেন। আগুন প্রজ্জ্বলিত করা হল। অতঃপর তিনি তাদেরকে তাদের কিতাবসহ অগ্নিদগ্ধ করলেন। ইকরামা (র) বলেন। ইবন আব্বাস (রা)-এর নিকট এ খবর পৌঁছলে তিনি বললেন, আমি হলে তাদেরকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)র-এ নিষেধাজ্ঞার কারণে আগুনে না জ্বালিয়ে হত্যা করতাম। যদি কেউ তার ধর্মকে পরিবর্তন করে তাহলে তোমরা তাকে হত্যা করবে। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা কাউকে আল্লাহর শাস্তিতে শাস্তি দিবে না।
তাঁর থেকে দ্বিতীয় এক বর্ণনা সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, আলী (রা) ইসলাম থেকে মুরতাদ হয়ে যাওয়া। মানুষদেরকে আগুনে জ্বালালেন। সে খবর ইবন আব্বাস (রা)-এর নিকট পৌঁছলে, তিনি বললেন, আমি তাদেরকে আগুনে জ্বালাতাম না। কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা কাউকে আল্লাহর শাস্তিতে শাস্তি দিবে না। আমি তাদেরকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ উক্তি অনুযায়ী হত্যা করতাম যে, "যদি কেউ তার ধর্মকে পরিবর্তন করে তাহলে তোমরা তাকে হত্যা করবে।" সে খবর আলী (রা)-এর নিকট পৌঁছল। তিনি বললেন, ইবন আব্বাস (রা)-এর জন্য সাধুবাদ।
(বুখারী, শাফিয়ী, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب حد من ارتد عن الإسلام وما جاء في الزنادقة
عن عكرمة (8) أن علياً رضى الله عنه أتى بقوم من هؤلاء الزنادقة (9) ومعهم كتب فأمر بنار فأججت ثم أحرقهم وكتبهم (ض 0) قال عكرمة فبلغ ذلك ابن عباس فقال لو كنت أنا لم أحرقهم لنهي رسول الله صلى الله عليه وسلم ولقتلهم لقول رسول الله صلى الله عليه وسلم من بدل دينه فاقتلوه (1)، وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تعذبوا بعذاب الله (وعنه من طريق ثان) (2) أن علياً رضى الله عنه حرّق ناساً ارتدوا عن الإسلام فبلغ ذلك ابن عباس فقال لم أكن لأحرّقهم بالنار وأن رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم قال لا تعذبوا بعذاب الله وكنت قاتلهم لقول رسول الله صلى الله عليه وسلم من بدل دينه فاقتلوه فبلغ ذلك علياً كرم الله وجهه فقال ويح (3) ابن أم عباس
tahqiq

তাহকীক: