মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩৪৪ টি
হাদীস নং: ১৪২
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: শরীরে কোন অংশ কাটা, যখম করা এবং অন্য কোন ক্ষতি করার রক্তপণ।
১৪২। আবূ মূসা আশআরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আঙ্গুলসমূহ সম্পর্কে ফয়সালা দেন যে, তার প্রত্যেকটির রক্তপণ দশটি উট।
(আবূ দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ, ইবন হিব্বান। আহমদ আব্দুর রমান বান্না বলেছেন, হাদীসটির সনদ উত্তম।)
(আবূ দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ, ইবন হিব্বান। আহমদ আব্দুর রমান বান্না বলেছেন, হাদীসটির সনদ উত্তম।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب جامع لدية مادون النفس من الأعضاء والجراح وغير ذلك
عن أبى موسى الأشعرى (2) حدث أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قضى فى الأصابع عشراً عشراً من الإبل
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৩
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: শরীরে কোন অংশ কাটা, যখম করা এবং অন্য কোন ক্ষতি করার রক্তপণ।
১৪৩। আমর তাঁর পিতা শুআয়ব থেকে, শুআয়ব তাঁর দাদা আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মস্তিষ্কের মজ্জার আঘাতে এক তৃতীয়াংশ রক্তপণ অর্থাৎ তেত্রিশটি উট বা তার সমমূল্য পরিমাণ স্বর্ণ বা রৌপ্যমুদ্রা বা গরু বা ছাগল। আর পেটের ভিতরের আঘাতে এক তৃতীয়াংশ রক্তপণ। আর যে আঘাত হাড়ের আবরণ পর্যন্ত পৌঁছে তার রক্তপণ পনেরটি উট। আর যে আঘাতে হাড় প্রকাশ পায় তার রক্তপণ পাঁচটি উট। আর প্রত্যেক দাঁতে দিয়াতও পাঁচটি উট।
(১২৬ নম্বর হাদীসে হাদীসটির সূত্র বর্ণিত হয়েছে।)
(১২৬ নম্বর হাদীসে হাদীসটির সূত্র বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب جامع لدية مادون النفس من الأعضاء والجراح وغير ذلك
عن عمرو بن شعيب (3) عن أبيه عن جده أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فى المأمومة ثلث العقل ثلاث وثلاثون من الإبل أو قيمتها من الذهب أو الورق أو البقر أو الشاة، والجائفة ثلث العقل، والمنقلة خمس عشرة من الإبل، والموضحة خمس من الإبل والأسنان خمس من الإبل
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৪
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : অমুসলিম যিম্মীদের এবং মুকাতাবের (অর্থাৎ যে ক্রীতদাস তার মনিবের সাথে চুক্তি করেছে যে, নির্দিষ্ট অর্থ আদায় করলে সে মুক্তি পাবে তার) দিয়াত।
১৪৪। আমর তার পিতা শুআয়ব থেকে, শুআয়ব তাঁর দাদা আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (সা) ফয়সালা দিয়েছেন, ইহুদী এবং খ্রীস্টানদের রক্তপণ মুসলমানদের রক্তপণের অর্ধেক।
(আবূ দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ। আর ইবনুল জারুদ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)
(আবূ দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ। আর ইবনুল জারুদ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب دية أهل الذمة والمكاتب
عن عمرو بن شعيب (4) عن أبيه عن جده أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قضى أن عقل أهل الكتابين (5) نصف عقل المسلمين وهم اليهود والنصارى
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৫
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : অমুসলিম যিম্মীদের এবং মুকাতাবের (অর্থাৎ যে ক্রীতদাস তার মনিবের সাথে চুক্তি করেছে যে, নির্দিষ্ট অর্থ আদায় করলে সে মুক্তি পাবে তার) দিয়াত।
১৪৫। আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন মক্কায় প্রবেশ করেন তখন মানুষদের মাঝে দাঁড়িয়ে নসিহত করলেন। তিনি দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেন যাতে ছিল, কাফিরের রক্তপণ মুসলিমের রক্তপণের অর্ধেক।
(হাদীসটি একটি দীর্ঘ হাদীসের অংশ যা যুদ্ধের পর্বে 'মক্কায় যুদ্ধ করা হারাম' শীর্ষক পরিচ্ছেদে বর্ণিত হবে এবং তিরমিযী হাদীসটিকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান।)
(হাদীসটি একটি দীর্ঘ হাদীসের অংশ যা যুদ্ধের পর্বে 'মক্কায় যুদ্ধ করা হারাম' শীর্ষক পরিচ্ছেদে বর্ণিত হবে এবং তিরমিযী হাদীসটিকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب دية أهل الذمة والمكاتب
عن عبد الله بن عمرو (6) قال لما دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم مكة عام الفتح قام فى الناس خطيباً (نذكر حديثاً طويلاً فيه) دية الكافر نصف دية المسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৬
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : অমুসলিম যিম্মীদের এবং মুকাতাবের (অর্থাৎ যে ক্রীতদাস তার মনিবের সাথে চুক্তি করেছে যে, নির্দিষ্ট অর্থ আদায় করলে সে মুক্তি পাবে তার) দিয়াত।
১৪৬। ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিহত মুকাতাব সম্পর্কে ফয়সালা দেন যে, সে চুক্তির অর্থ যে পরিমাণ পরিশোধ করেছে তার হত্যাকারী ঐ পরিমাণ আযাদ ব্যক্তির রক্তপণ দিবে। আর যা অবশিষ্ট আছে, তাতে গোলামের রক্তপণ দিবে।
(আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটি নাসাঈতে, মুসনাদ এবং মুরসাল উভয় রূপে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আহমদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
আর তাঁর থেকে দ্বিতীয় এক বর্ণনা সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, মুকাতাব তার চুক্তির অর্থের যে অংশ পরিশোধ করেছে তাতে স্বাধীন ব্যক্তির দিয়াত হবে আর যে অংশ অবশিষ্ট আছে তাতে গোলামের রক্তপণ দিবে।
তাঁর থেকে তৃতীয় এক বর্ণনা সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মুকাতাব চুক্তির অর্থ যে পরিমাণ আদায় করেছে তাতে স্বাধীন ব্যক্তির দিয়াত হবে। আর যে পরিমানে গোলামী অবশিষ্ট আছে তাতে গোলামের রক্তপণ হবে।
(আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটি নাসাঈতে, মুসনাদ এবং মুরসাল উভয় রূপে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আহমদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
আর তাঁর থেকে দ্বিতীয় এক বর্ণনা সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, মুকাতাব তার চুক্তির অর্থের যে অংশ পরিশোধ করেছে তাতে স্বাধীন ব্যক্তির দিয়াত হবে আর যে অংশ অবশিষ্ট আছে তাতে গোলামের রক্তপণ দিবে।
তাঁর থেকে তৃতীয় এক বর্ণনা সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মুকাতাব চুক্তির অর্থ যে পরিমাণ আদায় করেছে তাতে স্বাধীন ব্যক্তির দিয়াত হবে। আর যে পরিমানে গোলামী অবশিষ্ট আছে তাতে গোলামের রক্তপণ হবে।
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب دية أهل الذمة والمكاتب
عن ابن عباس (7) قال قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم فى المكاتب (8) يقتل يودى (9) لما أدى من مكاتبته دية الحر وما بقى دية العبد (وعنه من طريق ثان) (10) عن النبى صلى الله عليه وسلم قال يودى المكاتب بحصة ما أدى دية الحر وما بقي دية عبد (وعنه من طريق ثالث) (1) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يودى المكاتب بقدر ما أدى دية الحر وبقدر مارق دية العبد
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৭
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : অমুসলিম যিম্মীদের এবং মুকাতাবের (অর্থাৎ যে ক্রীতদাস তার মনিবের সাথে চুক্তি করেছে যে, নির্দিষ্ট অর্থ আদায় করলে সে মুক্তি পাবে তার) দিয়াত।
১৪৭। আলী (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) অর্থ আদায় করেছে সেই অনুপাতে দেওয়া হবে। বলেছেন, মুকাতাবের রক্তপণ সে যে পরিমাণ চুক্তির অর্থ আদায় করেছে সেই অনুপাতে দেওয়া হবে।
(বায়হাকী একাধিক বর্ণনা সূত্রে হাদীসটিকে বর্ণনা করেছেন। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, ইমাম আহমদের সনদ উত্তম। ইবন হাযম "মুহাল্লায়" হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)
(বায়হাকী একাধিক বর্ণনা সূত্রে হাদীসটিকে বর্ণনা করেছেন। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, ইমাম আহমদের সনদ উত্তম। ইবন হাযম "মুহাল্লায়" হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب دية أهل الذمة والمكاتب
عن على رضى الله عنه (2) عن النبى صلى الله عليه وسلم قال يودى المكاتب بقدر ما أدى
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৮
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদে : গর্ভস্থ সন্তানের রক্তপণ সম্পর্কে যা বর্ণিত আছে।
১৪৮। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, হুযায়ল গোত্রের দু'জন স্ত্রী লোকের একজন অন্য জনকে তাবুর খুঁটি দিয়ে আঘাত করল, যদ্দরুণ তার গর্ভপাত ঘটাল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার (গর্ভস্থ সন্তানের) ব্যাপারে ফয়সালা দেন, তার দিয়াত হবে একজন ক্রীতদাস বা একজন ক্রীতদাসী।
(বুখারী, মুসলিম, মালিক, শাফিয়ী, আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ)
তাঁর থেকে দ্বিতীয় এক বর্ণনা সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গর্ভস্থ সন্তানের ব্যাপারে ফয়সালা দেন যে, তার দিয়াত একজন ক্রীতদাস বা ক্রীতদাসী। যার উপর ঐ রক্তপণ আরোপ করা হয়েছে সে বলল, ঐ শিমুর কি রক্তপণ দেয়া হবে যে খায়নি, পান করেনি ও চিৎকার করেনি? এ রকম শিশুর রক্তের বিচার নেই। তখন রাসূল বললেন, নিশ্চয়ই এ কথা কবির কথার মত (ছান্দনিক)। অবশ্যই এতে একজন ক্রীতদাস বা একজন ক্রীতদাসী দিতে হবে।
(বুখারী, মুসলিম, মালিক, শাফিয়ী, আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ)
তাঁর থেকে দ্বিতীয় এক বর্ণনা সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গর্ভস্থ সন্তানের ব্যাপারে ফয়সালা দেন যে, তার দিয়াত একজন ক্রীতদাস বা ক্রীতদাসী। যার উপর ঐ রক্তপণ আরোপ করা হয়েছে সে বলল, ঐ শিমুর কি রক্তপণ দেয়া হবে যে খায়নি, পান করেনি ও চিৎকার করেনি? এ রকম শিশুর রক্তের বিচার নেই। তখন রাসূল বললেন, নিশ্চয়ই এ কথা কবির কথার মত (ছান্দনিক)। অবশ্যই এতে একজন ক্রীতদাস বা একজন ক্রীতদাসী দিতে হবে।
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء فى دية الجنين
عن أبى هريرة (3) أن امرأتين من بنى هذيل (4) رمت إحداهما الأخرى فألقت جنينا (5) فقضى فيها رسول الله صلى الله عليه وسلم بغرة (6) عبد أو أمة (وعنه من طريق ثان) (7) قال قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم فى الجنين بغرة عبد أو أمة (8) فقال أن هذا عليه (9) أيعقل من لا أكل ولا شرب ولا صاح ولا استهل (10) فمثل ذلك بطل (11) فقال أن هذا القول لقول الشاعر (12) فيه غرة عبد أو أمة
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪৯
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদে : গর্ভস্থ সন্তানের রক্তপণ সম্পর্কে যা বর্ণিত আছে।
১৪৯। 'উবাদা ইবন সামিত (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হামল ইবন মালিক হুযালী (রা)- এর পক্ষে তাঁর স্ত্রীর মীরাছ পাওয়ার ফয়সালা দেন, যাকে তাঁর অন্য স্ত্রী হত্যা করেছিল। আর তিনি গর্ভস্থ সন্তানের হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে ফয়সালা দেন যে, তার দিয়াত একজন ক্রীতদাস বা একজন ক্রীতদাসী। তিনি বলেন, আর তার ওয়ারিস হল তার স্বামী এবং সন্তানেরা। তিনি বলেন, হামল (রা)-এর উভয় স্ত্রী থেকে সন্তানাদি ছিল। তিনি বলেন, হত্যাকারিনীর পিতা, যার উপর রক্তপণ আরোপিত হয়েছিল সে বলল, কিভাবে ঐ শিশুর রক্তপণ আদায় করব যে চিৎকার দেয়নি, জন্মের সময় আওয়াজ করেনি, পান করেনি এবং খায়নি। এরূপ শিশুর রক্তের কোন বিচার হয় না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এ ব্যক্তি অতীন্দ্রিয়বাদী।
(হাদীসটির সূত্র এ কিতাবের ফারায়িজ পর্বে 'নিহতের রক্তপণ তার উত্তরাধিকারদের জন্য শীর্ষক পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে)
(হাদীসটির সূত্র এ কিতাবের ফারায়িজ পর্বে 'নিহতের রক্তপণ তার উত্তরাধিকারদের জন্য শীর্ষক পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء فى دية الجنين
عن عبادة بن الصامت (13) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قضى لحمل بن مالك الهذلى بميراثه عن امرأته التى قتلتها الأخرى، وقضى فى الجنين المقتول بغرة عبد أو أمة قال فورثها بعلها وبنوها، قال وكان له من امرأتيه كلتيهما ولد، قال فقال أبو القاتلة المقضى عليه يا رسول الله كيف أغرم من لا صاح ولا استهل ولا شرب ولا أكل فمثل ذلك بطل فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم هذا من الكهان
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫০
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদে : গর্ভস্থ সন্তানের রক্তপণ সম্পর্কে যা বর্ণিত আছে।
১৫০। আমর তাঁর পিতা, শুআয়ব থেকে, শুআয়ব তাঁর দাদা আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফয়সালা দেন যে, কারও আঘাতে যদি গর্ভ সন্তান তার মায়ের পেটে মারা যায়, তার রক্তপণ একজন ক্রীতদাস বা ক্রীতদাসী। আর তিনি হামল ইবন মালিক ইবন নাবেগা হুযালী (রা)-এর স্ত্রীর ক্ষেত্রে এরূপ ফয়সালা দেন। আর নবী (ﷺ) বললে ইসলামে শিগার (অর্থাৎ মোহর থাকবে না এই শর্তে পরস্পরের কাছে নিজ নিজ মেয়ে বা বোন বিল দেয়া) জায়েয নেই।
(আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন (র) আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রা)-এর হাদীসের উল্লেখ করেননি।)
(আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন (র) আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রা)-এর হাদীসের উল্লেখ করেননি।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء فى دية الجنين
عن عمرو بن شعيب (2) عن أبيه عن جده قال قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم فى عقل الجنين إذا كان فى بطن أمه (3) بغرة عبد أو أمة فقضى بذلك فى امرأة حمل بن مالك بن النابغة الهذلى وأن النبى صلى الله عليه وسلم قال لا شغار (4) فى الإسلام
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫১
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদে : গর্ভস্থ সন্তানের রক্তপণ সম্পর্কে যা বর্ণিত আছে।
১৫১। উরওয়া ইবন যুবায়র (র) থেকে বর্ণিত, তিনি মুগীরা ইবন শু'বা (রা) থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, উমর (রা) তাঁদের কাছে কোন মহিলার গর্ভপাত ঘটানো সম্পর্কে পরামর্শ চাইলেন। মুগীরা (রা) তাকে বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ ক্ষেত্রে ফয়সালা দিয়েছেন যে, তার দিয়াত ক্রীতদাস বা ক্রীতদাসী। উমর (রা) তাঁকে বললেন, যদি আপনি সত্যবাদী হয়ে থাকেন তাহলে এরূপ কাউকে নিয়ে আসুন যে তা জানে। মুহাম্মদ ইবন মাসালামা (রা) সাক্ষ্য দিলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ ফয়সালা দিয়েছেন।
(বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ ইবন মাজাহ)
(বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ ইবন মাজাহ)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء فى دية الجنين
عن عروة ابن الزبير(5) أنه حدث عن المغيرة بن شعبة عن عمر أنه استشارهم فى أملاص (6) المرأة فقال له المغيرة قضى فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم بالغرة، فقال له عمر إن كنت صادقاً فأت بأحد يعلم ذلك (7) فشهد محمد بن مسلمة (8) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قضى به.
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫২
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : কারো পিতাকে ভুলবশত হত্যা করা হয়, আর সে তার রক্তপণ মুসলিমের প্রতি সদাকা করে (ক্ষমা করে)।
১৫২। মাহমুদ ইবন লাবীদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুসলিমগণ উহুদের দিন হুযায়ফা (রা)- এর পিতা ইয়ামান (রা)-কে চিনতে না পেরে তার উপর তরবারি চালান এবং তাকে হত্যা করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর রক্তপণ দিতে চাইলেন। হুযায়ফা (রা) তাঁর রক্তপণ মুসলিমদের প্রতি সদাকা (ক্ষমা) করলেন।
(শাফিয়ী। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটি সহীহ।)
বুখারী উরওয়ার বর্ণনা সূত্রে আয়েশা (রা) থেকে এর সাক্ষ্য হাদীস বর্ণনা করেছেন: "আয়েশা (রা) বললেন, যখন উহুদের যুদ্ধে মুশরিকরা পরাজিত হল তখন অভিশপ্ত ইবলীস চিৎকার করে বলল, হে আল্লাহর বান্দারা তোমাদের পশ্চাদে যারা আছে তাদের থেকে সতর্ক হও। অতঃপর অগ্রবর্তীরা পশ্চাদবর্তীদের দিকে ফিরল এবং তারা পরস্পরে তলোয়ার চালাল। হুযায়ফা (রা) তাকায়ে দেখলেন, তাঁরা তাঁর পিতাকে আক্রমণ করেছেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর বান্দারা আমার পিতা, আমার পিতা। উরওয়া (র) বললেন, আয়েশা (রা) বলেছেন, আল্লাহর শপথ, তাঁরা তাঁকে হত্যা না করা পর্যন্ত থামল না। হুযায়ফা (রা) বললেন, আল্লাহ আপনাদেরকে ক্ষমা করুন। উরওয়া (র) বলেন, আল্লাহর শপথ, হুযায়ফা (রা)-এর মধ্যে আমরণ কল্যাণ অবশিষ্ট ছিল।
(শাফিয়ী। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটি সহীহ।)
বুখারী উরওয়ার বর্ণনা সূত্রে আয়েশা (রা) থেকে এর সাক্ষ্য হাদীস বর্ণনা করেছেন: "আয়েশা (রা) বললেন, যখন উহুদের যুদ্ধে মুশরিকরা পরাজিত হল তখন অভিশপ্ত ইবলীস চিৎকার করে বলল, হে আল্লাহর বান্দারা তোমাদের পশ্চাদে যারা আছে তাদের থেকে সতর্ক হও। অতঃপর অগ্রবর্তীরা পশ্চাদবর্তীদের দিকে ফিরল এবং তারা পরস্পরে তলোয়ার চালাল। হুযায়ফা (রা) তাকায়ে দেখলেন, তাঁরা তাঁর পিতাকে আক্রমণ করেছেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর বান্দারা আমার পিতা, আমার পিতা। উরওয়া (র) বললেন, আয়েশা (রা) বলেছেন, আল্লাহর শপথ, তাঁরা তাঁকে হত্যা না করা পর্যন্ত থামল না। হুযায়ফা (রা) বললেন, আল্লাহ আপনাদেরকে ক্ষমা করুন। উরওয়া (র) বলেন, আল্লাহর শপথ, হুযায়ফা (রা)-এর মধ্যে আমরণ কল্যাণ অবশিষ্ট ছিল।
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب من قتل والده خطأ فتصدق بديته على المسلمين
عن محمود بن لبيد (9) قال اختلفت سيوف المسلمين على اليمان (10) أبي حذيفة يوم أحد ولا يعرفونه فقتلوه، فأراد رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يديه فتصدق حذيفة بديته على المسلمين
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৩
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কারও কোন কাজ অন্যের প্রাণনাশের কারন হলে রক্তপণ ওয়াজিব হওয়া এবং সিংহ শিকারের জন্য গর্ত খননকারীদের ঘটনা।
১৫৩। আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)র আমাকে ইয়ামানের দিকে পাঠালেন। আমরা একদল লোকের নিকট পৌঁছলাম, যারা সিংহ শিকারের জন্য গর্ত খনন করেছিল। (তা দেখার জন্য সেখানে ভীড় হয়ে গেলে) তাদের মাঝে ঠেলাঠেলি শুরু হয়ে গেল, হঠাৎ এক ব্যক্তি (তাতে) পড়ে গেল। তখন সে অন্য একজনকে আকড়ে সে আবার আরেকজনকে এভাবে এক-এক করে তাতে চারজন লোক পড়ে গেল। (গর্তস্থ) সিংহটি তাদের জখম করল। এক ব্যক্তি সিংহটিকে বর্শা দিয়ে আঘাত করল এবং এভাবে সেটিকে হত্যা করল। আর আহতরা সকলে যখমের কারণে মারা গেল। তারপর প্রথম ব্যক্তির অভিভাবকরা দ্বিতীয় ব্যক্তির অভিভাবকদের নিকট আসল (এবং রক্তপণ দাবি করল। এতে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিল। এক পর্যায়ে) তারা লড়াই করার জন্য অস্ত্র বের করল। আলী (রা) সে সময় তাদের নিকট এসে বললেন, তোমরা কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জীবিত থাকা কালীন পরস্পরে যুদ্ধ করতে চাচ্ছ? আমি তোমাদের মাঝে ফয়সালা করব। যদি তোমরা তাতে সন্তুষ্ট হও ভাল কথা। নচেৎ তোমাদেরকে লড়াই করা থেকে বিরত রাখা হবে যতক্ষণ না তোমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হও। তিনি তোমাদের মাঝে ফয়সালা করে দেবেন। যদি কেউ তার পরে সীমালঙ্ঘন করে তার জন্য কোন হক থাকবে না। যে সকল গোত্রের লোক কূপে ভীড় করেছিল তাদের থেকে তোমরা এক চতুর্থাংশ রক্তপণ, দু' তৃতীয়াংশ রক্তপণ, অর্ধেক রক্তপণ এবং পূর্ণ রক্তপণ সংগ্রহ করবে। তা থেকে প্রথম ব্যক্তি পাবে এক চতুর্থাংশ রক্তপণ কেননা সে তার উপরের জনকে ধ্বংস করেছে। আর দ্বিতীয় ব্যক্তি এক তৃতীয়াংশ রক্তপণ পাবে। আর তৃতীয় ব্যক্তি অর্ধেক রক্তপণ পাবে। তারা এ বিচার মানতে অস্বীকার করল। অতঃপর তারা নবী (ﷺ) -এর নিকট আসল, তখন তিনি মাকামে ইবরাহীমের নিকট ছিলেন। তারা তাঁকে ঘটনাটি জানাল। তিনি বললেন, আমি তোমাদের মাঝে ফয়সালা করে দিচ্ছি। এই বলে পেটের সাথে উরু মিলিয়ে বসলেন এবং দু'হাত দ্বারা দু'পায়ের গোড়া জড়িয়ে ধরলেন। এ সময় তাদের একজন বলল, আলী (রা) আমাদের মাঝে ফয়সালা করেছেন। আর তারা তাঁকে ফয়সালার ঘটনা বর্ণনা করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেটাই কার্যকর করলেন।
(বায়হাকী। হাদীসটির সনদ উত্তম।)
(বায়হাকী। হাদীসটির সনদ উত্তম।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب وجوب الدية بالسبب وقصة أصحاب الزبية
عن حنش عن على رضى الله عنه (1) قال بعثنى رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى اليمن فانتهينا إلى قوم قد بنوا زبية (2) للأسد فبينما هم كذلك يتدافعون إذ سقط رجل فتعلق بآخر حتى صاروا فيها أربعة فجرحهم الأسد فانتدب له رجل بحربة فقتله وماتوا من جراحتهم كلهم، فقام أولياء الأول إلى أولياء الآخر فأخرجوا السلاح ليقتلوا فأتاهم على رضى الله عنه على تفئة (3) ذلك فقال تريدون أن تقاتلوا ورسول الله صلى الله عليه وسلم حي إنى أقضى بينكم قضاء إن رضيتم فهو القضاء وإلا حجز بعضكم عن بعض حتى تأتوا النبى صلى الله عليه وسلم فيكون هو الذى يقضى بينكم، فمن عدا بعد ذلك فلاحق له، اجمعوا من قبائل الذين حضروا البر ربع الدية وثلثا الدية ونصف الدية والدية كاملة، فللأول الربع لأنه هلك من فوقه، وللثانى ثلث الدية، وللثالث نصف الدية (4)، فأبوا أن يرضوا، فأتوا النبى صلى الله عليه وسلم وهو عند مقام إبراهيم فقصوا عليه القصة، فقال أنا أقضى بينكم واحتبى (5) فقال رجل من القوم أن عليا قضا فينا فقصوا علي القصة فأجازه رسول الله صلى الله عليه وسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৪
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : 'আকিলা (যাদের প্রতি দিয়াত আরোপিত হয়) এবং দিয়াত আদায়ের দায়বহন সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
১৫৪। জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) প্রত্যেক শাখা গোত্রের উপর রক্তপণ ওয়াজিব করেন। অতঃপর তিনি বিধান দান করেন যে, মুক্তিপ্রাপ্ত গোলামের পক্ষে তার মুক্তিদাতা ছাড়া অন্য কাউকে মনিব বানানো বৈধ নয়।
(মুসলিম, নাসাঈ, ইবন মাজাহ)
(মুসলিম, নাসাঈ, ইবন মাজাহ)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء العاقلة وما تحمله
عن جابر بن عبد الله (2) قال كتب النبي صلى الله عليه وسلم على كل بطن (3) عقولة ثم انه كتب انه لا يحل أن يتوالى وقال روح (4) يتولى مولى رجل مسلم بغير إذنه
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৫
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : 'আকিলা (যাদের প্রতি দিয়াত আরোপিত হয়) এবং দিয়াত আদায়ের দায়বহন সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
১৫৫। আমর তাঁর পিতা শুআয়ব থেকে, শুআয়ব তাঁর দাদা আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফয়সালা দেন যে, কোন মহিলা কাউকে হত্যা করলে তার পিতৃকুলীয় আত্মীয়রা নিহতের রক্তপণ আদায় করবে।
(হাদীসটি ১২৬ নম্বরে আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রা) থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদীসের এক অংশ।)
(হাদীসটি ১২৬ নম্বরে আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রা) থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদীসের এক অংশ।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء العاقلة وما تحمله
عن عمرو بن شعيب (6) عن أبيه عن جده أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قضى أن يعقل عن المرأة عصبتها من كانوا
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৬
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : 'আকিলা (যাদের প্রতি দিয়াত আরোপিত হয়) এবং দিয়াত আদায়ের দায়বহন সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
১৫৬। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুযায়ল গোত্রের দু'জন মহিলা মারামারি করল। তাদের একজন অন্য জনকে পাথর নিক্ষেপ করল, যা তার পেটে লাগল। তাতে তার মৃত্যু ঘটল এবং তার ভ্রুন পড়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফয়সালা দেন যে, তার দিয়াত আদায় করবে হত্যাকারীনীর পিতৃকূলীয় আত্মীয়গণ। আর ভ্রুন সম্পর্কে ফয়সালা দেন যে, তার বিপরীতে একটি গোলাম আদায় করতে হবে। জনৈক বক্তা বলল কিরূপে ঐ শিশুর রক্তপণ দেয়া হবে যে খায়নি, পান করেনি, কথা বলেনি এবং জন্মের সময় কোন আওয়াজ করেনি। এরকম বাচ্চার রক্তপণ তো বাতিল হওয়া উচিৎ। নবী (ﷺ) বললেন, এ ব্যক্তি অতীন্দ্রিয়বাদীদের ভাই।
(বুখারী, মুসলিম এবং অন্যরা)
(বুখারী, মুসলিম এবং অন্যরা)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء العاقلة وما تحمله
عن أبى سلمة عن أبى هريرة (7) قال اقتتلت امرأتان من هذيل (8) فرمت إحداهما الأخرى بحجر (9) فأصابت بطنها فقتلتها وألقت جنيناً فقضى رسول الله صلى الله عليه وسلم بديتهما على العاقلة (10) وفي جنينها غرة عبد أو أمة فقال قائل (1) كيف يعقل من لا أكل ولا شرب ولا نطق ولا استهل فمثل بطل، فقال النبى صلى الله عليه وسلم كما زعم أبو هريرة هذا من إخوان الكهان
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৭
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : 'আকিলা (যাদের প্রতি দিয়াত আরোপিত হয়) এবং দিয়াত আদায়ের দায়বহন সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
১৫৭। মুগীরা ইবন শু'বা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, দু' সতীনের একজন অন্য জনকে তাবুর খুঁটি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হত্যাকারীনীর পিতৃকূলীয় আত্মীয়দের বিপক্ষে ফয়সালা দেন যে তারা নিহত মহিলার রক্তপণ আদায় করবে, আর গর্ভস্থ সন্তানের রক্তপণ হবে একটি গোলাম। জনৈক বেদুঈন বলল, আপনি কি আমার জন্য ঐ শিশুর রক্তপণ আদায় অপরিহার্য করেছেন, যে খায়নি, পান করেনি, চিৎকার দেয়নি এবং জন্মের সময় কোন আওয়াজ করেনি? এরূপ বাচ্চার রক্তপণ তো বাতিল হওয়া উচিৎ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি কি বেদুঈনদের ছন্দের মত ছন্দ বলছ। তার পেটে যে সন্তান মারা গেছে তার রক্তপণ একটি গোলাম।
(মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী এবং অন্যরা)
(মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী এবং অন্যরা)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء العاقلة وما تحمله
عن المغيرة بن شعبة (2) أن ضرتين (3) ضربت إحداهما بعمود فسطاط (4) فقتلتها فقضى رسول الله صلى الله عليه وسلم بالدية على عصب القاتلة (5) وفيما فى بطنها غرة فقال الأعرابي أتغرمنى من لا أكل ولا شرب ولا صاح فاستهل فمثل ذلك بطل، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم أسجع كسجع الأعراب ولما في بطنها غرة
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৮
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : 'আকিলা (যাদের প্রতি দিয়াত আরোপিত হয়) এবং দিয়াত আদায়ের দায়বহন সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
১৫৮। ইমরান ইবন হুসায়ন (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কতিপয় গরীবের একটি গোলাম কতক ধনীর এক গোলামের কান কাটল। তার মালিকরা নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর নবী (ﷺ)! আমরা গরীব মানুষ। সুতরাং তিনি তার উপর কোন রক্তপণ আরোপ করলেন না।
(আবূ দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ। হাফিয ইবন হাজার হাদীসটির সনদকে সহীহ বলেছেন।)
(আবূ দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ। হাফিয ইবন হাজার হাদীসটির সনদকে সহীহ বলেছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء العاقلة وما تحمله
عن عمران ابن حصين (6) أن غلاماً لأناس فقراء قطع أذن غلام لأناس أغنياء، فأتى أهله النبى صلى الله عليه وسلم فقالوا يا نبى الله إنا أناس فقراء فلم يجعل عليه شيئاً
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫৯
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: একের অপরাধে অন্যকে শাস্তি দেয়া হবে না যদিও অপরাধী তার ঘনিষ্ঠতম ব্যক্তি হয়।
১৫৯। আবূ রিমছা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট আসলাম। তখন তিনি তার ভাষণে বলছিলেন, দাতার হাত মর্যাদাপূর্ণ, তুমি তোমার মা, পিতা, বোন, ভাই এবং অনুরূপ নিকটাত্মীয়কে দান করবে। তিনি বলেন, ছা'লাবা ইবন ইয়ারবু' গোত্রের একদল লোক মসজিদে প্রবেশ করল। জনৈক আনসারী (রা) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ইয়ারবু' গোত্রের এ লোকেরা অমুককে হত্যা করেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সাবধান কেউ কারো প্রতি কোন অপরাধ করবে না। তিনি এটা দু'বার বললেন।
(নাসাঈ। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটির বর্ণনাকারীগণ সহীহর বর্ণনাকারী।)
(নাসাঈ। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটির বর্ণনাকারীগণ সহীহর বর্ণনাকারী।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب لا يؤخذ المرء بجناية غيره ولو من اقرب الناس إليه
عن ابى رمثة (8) قال أتيت النبى صلى الله عليه وسلم وهو يخطب ويقول يد المعطى العليا (9) أمك وأباك وأختك وأخاك وأدناك فأدناك (10) قال فدخل نفر من بنى ثعلبة بن يربوع فقال رجب من الأنصار يا رسول الله هؤلاء النفر اليربوعيون الذين قتلوا فلاناً (11) فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ألا لا تجنى نفس على أخرى مرتين
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৬০
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: একের অপরাধে অন্যকে শাস্তি দেয়া হবে না যদিও অপরাধী তার ঘনিষ্ঠতম ব্যক্তি হয়।
১৬০। হযরত আবূ রিমছা (রা) থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ও আমার পিতা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উদ্দেশ্যে চললাম। যখন আমি তাঁকে দেখলাম আমার পিতা বললেন, তুমি কি জান ইনি কে? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, ইনি আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ। তিনি এটা বলতেই আমি থরথর করে কেঁপে উঠলাম। আমি ধারনা করতাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন কিছু হবেন, যা মানুষের মত নয়। অথচ আমি দেখলাম যে, তিনি একজন মানুষ, তাঁর চুল কান পর্যন্ত লম্বা। তাতে মেহেদীর রং লাগানো আছে, আর তিনি দু'টি সবুজ রঙের ডোরা-কাটা কাপড় পরিহিত ছিলেন। আমার পিতা তাঁকে সালাম দিলেন। অতঃপর আমরা বসে কিছুক্ষণ কথা বললাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার পিতাকে বললেন, এ কি তোমার ছেলে? তিনি বললেন, হাঁ, কা'বার প্রভুর শপথ। তিনি বললেন, সত্যি। তিনি বললেন, আমি তার সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার সাথে আমার পিতার সাদৃশ্য বর্তমান থাকা এবং আমার সম্পর্কে আমার পিতার এরূপ শপথ করার কারণে মুচকি হাসলেন। অতঃপর তিনি বললেন, তার অপরাধ তোমার প্রতি এবং তোমার অপরাধ তার প্রতি বর্তাবে না। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাঠ করলেন : "وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرُى" "আর বইবে না কেউ অন্যের বোঝা”। (সূরা আনআম : ১৬৪)
(আবূ দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ। ইবন খুযাইমা, ইবনুল জারুদ এবং হাকীম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)
(আবূ দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ। ইবন খুযাইমা, ইবনুল জারুদ এবং হাকীম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب لا يؤخذ المرء بجناية غيره ولو من اقرب الناس إليه
وعنه أيضاً (1) قال انطلقت مع أبى نحو رسول الله صلى الله عليه وسلم فلما رأيته قال أبى هل تدرى من هذا؟ قلت لا، قال هذا محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم قال فأقشعررت (2) حين قال ذلك، وكنت أظن أن رسول الله صلى الله عليه وسلم شيئاً لا يشبه الناس فإذا بشر (3) ذو وفرة وبها ردع (4) من حناء وعليه بردان (5) أخضر أن فسلم عليه أبى ثم جلسنا فتحدثنا ساعة ثم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لأبى ابنك هذا؟ قال إى ورب الكعبة، قال حقاً قال لأشهد به، فتبسم رسول الله صلى الله عليه وسلم ضاحكاً (6) فى تثيت شبهى بأبى ومن حلف أبى على، ثم قال أما إنه لا يجنى عليك ولا تجنى عليه (7) وقرأ رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا تزر وازرة وزر أخرى (8) الحديث
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৬১
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: একের অপরাধে অন্যকে শাস্তি দেয়া হবে না যদিও অপরাধী তার ঘনিষ্ঠতম ব্যক্তি হয়।
১৬১। খাশখাশ আনবারী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পুত্রকে সাথে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আসলাম। তিনি বলেন, তিনি বললেন, এ তোমার পুত্র? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেন, সে অপরাধ করলে তুমি দায়ী হবে না এবং তুমি অপরাধ করলে সে দায়ী হবে না।
(ইবন মাজাহ। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন। হাদীসটি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ থেকে বহু বর্ণনা সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। তাবারানী এর সমার্থক মুরসাল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁর হাদীসের বর্ণনা কারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
(ইবন মাজাহ। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন। হাদীসটি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ থেকে বহু বর্ণনা সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। তাবারানী এর সমার্থক মুরসাল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁর হাদীসের বর্ণনা কারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب لا يؤخذ المرء بجناية غيره ولو من اقرب الناس إليه
عن الخشخاش العنبرى (9) قال أتيت النبى صلى الله عليه وسلم ومعى ابن، قال فقال ابنك هذا؟ قال قلت نعم، قال لا يجنى عليك ولا تجنى عليه
তাহকীক: