মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩৪৪ টি

হাদীস নং: ১০২
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : মুসলমানকে কাফিরের পরিবর্তে হত্যা করার নিষেধাজ্ঞা এবং আযাদকে ক্রীতদাসের পরিবর্তে হত্যা করা প্রসঙ্গ।
১০২। আমর ইবন শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফয়সালা করেছেন যে, মুসলমানকে কাফিরের পরিবর্তে হত্যা করা যাবে না। অন্য এক বর্ণনায় অতিরিক্ত আছে যে, কাফেরের রক্তপণ মুসলিমের রক্তপণের অর্ধেক।
(আবূ দাউদ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ এবং অন্যরা। তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি হাসান।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب لا يقتل مسلم بكافر، وما جاء في قتل الحر بالعبد
عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قضى أن لا يقتل مسلم بكافر (زاد في رواية) ودية الكافر نصف دية المسلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১০৩
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : মুসলমানকে কাফিরের পরিবর্তে হত্যা করার নিষেধাজ্ঞা এবং আযাদকে ক্রীতদাসের পরিবর্তে হত্যা করা প্রসঙ্গ।
১০৩। হাসান (র) সামুরা ইবন জুনদুব (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, যদি কোন ব্যক্তি তার ক্রীতদাসকে হত্যা করে, আমরা তাকে হত্যা করব, আর যদি কোন ব্যক্তি তার নাক ইত্যাদি কর্তন করে, আমরা তার নাক কর্তন করব।
ইয়াহইয়া (র) বলেন, হাসান (র) পরবর্তীতে তাঁর বর্ণিত এ হাদীস ভুলে যান এবং বলেন, তাকে হত্যা করা যাবে না।
প্রথম বর্ণনা সূত্রের উৎস: আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ, দারিমী।
দ্বিতীয় এক বর্ণনা সূত্রে হাসান (র) সামুরা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যদি কোন ব্যক্তি তার ক্রীতদাসকে খাসি (মুষ্ক ছেদন) করে তাহলে আমরা তাকে খাসি করব।
দ্বিতীয় বর্ণনা সূত্রের উৎস: আবূ দাউদ, নাসাঈ। আর আবূ দাউদ তায়ালিসী মুসনাদে হাদীসটিকে উভয় বর্ণনা সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান গরীব বলেছেন। আর হাকিম দ্বিতীয় বর্ণনা সূত্রকে সহীহ বলেছেন।
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب لا يقتل مسلم بكافر، وما جاء في قتل الحر بالعبد
عن قتادة عن الحسن عن سمرة بن جندب عن النبى صلى الله عليه وسلم قال من قتل عبده قتلناه ومن جدعه جدعناه قال يحيي ثم نسي الحسن بعد فقال لا يقتل به (ومن طريق ثان) عن الحصن عن سمرة أيضا قال ومن أخصى عبده أخصيناه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১০৪
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: পুরুষকে মহিলার পরিবর্তে আর মহিলাকে তার অনুরূপের পরিবর্তে হত্যা করা আর ভারী বস্তু দিয়ে হত্যা করা এবং হত্যাকারীর থেকে অনুরূপ কিসাস গ্রহণ করা যেরূপে সে কাউকে হত্যা করেছে।
১০৪। আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, জনৈক ইয়াহুদী এক আনসারী মেয়ের অলঙ্কার ছিনিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করল। অতঃপর তাকে একটি কূপে নিক্ষেপ করল এবং তার মাথা পাথর দ্বারা গুঁড়িয়ে দিল। তাকে পাকড়াও করে নবী (ﷺ)-এর নিকট নিয়ে আসা হল। তিনি তাকে পাথর মেরে হত্যা করতে নির্দেশ দিলেন। সে মতে তাকে পাথর মেরে হত্যা করা হল।
(বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ এবং অন্যরা)
তাঁর থেকে দ্বিতীয় এক বর্ণনা সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, একটি মেয়ে রূপার অলঙ্কার পরে বের হল। জনৈক ইয়াহুদী তাকে ধরে তার মাথা গুঁড়িয়ে দিল এবং তার অলঙ্কার ছিনিয়ে নিল। তাকে মুমূর্ষ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট নিয়ে আসা হল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তোমাকে কি অমুক হত্যা করেছে? সে তার মাথা দিয়ে ইশারা করল, না। তিনি বললেন, অমুক? সে তার মাথা দিয়ে ইশারা করল, না। তিনি বললেন, অমুক ইয়াহুদী? সে তার মাথা দিয়ে ইশারা করল, হ্যাঁ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে পাকড়াও করলেন, আর তার মাথা দু'টি পাথরের মাঝে রেখে গুঁড়িয়ে দিলেন।
তৃতীয় এক বর্ণনা সূত্রে কাতাদাহ (র) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আনাস (রা) নবী (ﷺ) থেকে দ্বিতীয় বর্ণনার ন্যায় হাদীস বর্ণনা করেন। তবে কাতাদা (র) তাঁর হাদীসে বলেন, আর ইয়াহুদীটি তা স্বীকার করল।
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب قتل الرجل بالمرأة والمرأة بمثلها والقتل بالمثقل والقصاص من القاتل بالصفة التي قتل بها
عن أنس بن مالك أن رجلا من اليهود قتل جارية من الأنصار على حلى لها ثم ألقاها في قليب ورضخ رأسها بالحجارة فأخذ فأتي به النبى صلى الله عليه وسلم فأمر به أن يرجم حتى يموت فرجم حتى مات (وعنه من طريق ثان) أن جارية خرجت عليها أرضاخ فأخذها يهودى فرضخ رأسها وأخذ ما عليها فأتى بها رسول الله صلى الله عليه وسلم وبها رمق فقال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم من قتلك فلان؟ فقالت برأسها لا، فقال فلان. فقالت برأسها لا، قال ففلان اليهودى؟ فقالت برأسها نعم، فأخذه رسول الله صلى الله عليه وسلم فرضخ رأسه بين حجرين (من طريق ثالث) عن قتادة عن أنس عن النبى صلى الله عليه وسلم بمثل الطريق الثانية إلا أن قتادة قال في حديثه فاعترف اليهودي.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১০৫
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: পুরুষকে মহিলার পরিবর্তে আর মহিলাকে তার অনুরূপের পরিবর্তে হত্যা করা আর ভারী বস্তু দিয়ে হত্যা করা এবং হত্যাকারীর থেকে অনুরূপ কিসাস গ্রহণ করা যেরূপে সে কাউকে হত্যা করেছে।
১০৫। হামাল ইবন নাবিগাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার দু'স্ত্রীর দু'ঘরের মাঝখানে ছিলাম। তাদের একজন অপর জনকে তাঁবুর খুঁটি দিয়ে প্রহার করল, আর তাকে এবং তার গর্ভস্থ সন্তানকে হত্যা করল। নবী (ﷺ) গর্ভস্থ সন্তানের রক্তপণ হিসেবে একটি গোলাম আদায়ের এবং তাকে হত্যার পরিবর্তে হত্যা করার ফয়সালা করলেন।
(আবূ দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ, ইবন হিব্বান, হাকিম। ইবন হিব্বান ও হাকিম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب قتل الرجل بالمرأة والمرأة بمثلها والقتل بالمثقل والقصاص من القاتل بالصفة التي قتل بها
عن حمل بن النبى قال كنت بين بيتي امرأتيَّ فربت إحداهما الأخرى بمسطح فقتلتها وجنينها فقضى النبى صلى الله عليه وسلم في جنينها بغرة وأن تقتل بها
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১০৬
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : পিতাকে সন্তানের পরিবর্তে হত্যা না করা এবং দু'জনকে একজনের পরিবর্তে হত্যা করা সম্পর্কে বর্ণিত হাদীস।
১০৬। মুজাহিদ (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি তার তরবারি দ্বারা তার ছেলেকে আঘাত করল এবং তাকে হত্যা করল। এ হত্যাকাণ্ডের ফয়সালার জন্য তাকে উমর (রা)-এর দরবারে পেশ করা হল। তিনি বললেন, যদি আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ-কে বলতে না শুনতাম যে, পিতার থেকে ছেলের কিসাস গ্রহণ করা যাবে না, তাহলে নিশ্চয়ই আমি তোমাকে তোমার এ স্থান ত্যাগ করার পূর্বে হত্যা করতাম।
(তিরমিযী, ইবন মাজাহ। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, মুসনাদ আহমদের হাদীসের সনদ উত্তম।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب لا يقتل والد بولده: وما جاء في قتل الاثنين بالواحد
عن مجاهد قال حذف رجل ابنا له بسيفه فقتله فرفع إلى عمر فقال لولا أني سمعت رسول الله عليه وسلم يقول لا يقاد الوالد من ولده لقتلتك قبل أن تبرح.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১০৭
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : পিতাকে সন্তানের পরিবর্তে হত্যা না করা এবং দু'জনকে একজনের পরিবর্তে হত্যা করা সম্পর্কে বর্ণিত হাদীস।
১০৭। আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর ইবন খাত্তাব (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, পিতার থেকে ছেলের কিসাস গ্রহণ করা যাবে না।
(তিরমিযী, ইবন মাজাহ, বায়হাকী, দারাকুতনী। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটি হাসান।) বায়হাকী হাদীসটিকে অনেক বর্ণনা সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এর একটিতে উমর ইবন খাত্তাব (রা) থেকে এ ঘটনায় বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন, “যদি আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে না শুনতাম : পিতা তার পুত্রকে হত্যা করলে তাকে হত্যা করা যাবে না তাহলে তোমাকে হত্যা করতাম। তুমি তার রক্তপণ নিয়ে আস। সে তার রক্তপণ তাঁর কাছে নিয়ে আসল। তিনি তা তার উত্তরাধিকারদেরকে দিলেন, আর তার পিতাকে ছেড়ে দিলেন”।
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب لا يقتل والد بولده: وما جاء في قتل الاثنين بالواحد
عن عبد الله بن عمرو بن العاص قال قال عمر بن الخطاب سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول لا يقاد لولد من والده.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১০৮
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : পিতাকে সন্তানের পরিবর্তে হত্যা না করা এবং দু'জনকে একজনের পরিবর্তে হত্যা করা সম্পর্কে বর্ণিত হাদীস।
১০৮। উম্মু ওয়ারাকা বিনতে আব্দুল্লাহ ইবন হারিস (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) প্রত্যেক জুমআর দিন তাঁর যিয়ারত করতেন। তিনি বদরের যুদ্ধের দিন বললেন, হে আল্লাহর নবী (ﷺ), আপনি কি আমাকে আপনার সাথে বের হওয়ার অনুমতি দিবেন? আমি আপনাদের অসুস্থদেরকে সেবা শুশ্রুষা করব এবং আপনাদের আহতদের চিকিৎসা করব, সম্ভবত আল্লাহ আমাকে শাহাদাত দান করবেন। তিনি বললেন, তুমি তোমার ঘরে অবস্থান করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা তোমাকে শাহাদাত দান করবেন। তিনি তাঁর একজন ক্রীতদাস এবং একজন ক্রীতদাসীকে অবহিত করেন যে, তারা তাঁর মৃত্যুর পর আযাদ। তাঁর জীবন দীর্ঘায়িত হওয়ায় তাদের আযাদ হওয়া বিলম্বিত হল তাই তারা তাঁকে একটি চাদরে আবৃত করে শাসরুদ্ধ করে হত্যা করল এবং পালাল। উমর (রা)-কে অবহিত করা হল, উম্মু ওয়ারাকা (রা)-কে তাঁর ক্রীতদাস এবং ক্রীতদাসী হত্যা করে পালিয়েছে। উমর (রা) লোকজনের মধ্যে দাঁড়িয়ে বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উম্মু ওয়ারাকা (রা)-এর সাক্ষাতে যেতেন আর বলতেন, তোমরা শহীদিনীর সাক্ষাতে চল। সেই উম্মু ওয়ারাকাকে তাঁর অমুক ক্রীতদাস এবং ক্রীতদাসী চাদরে আবৃত করে শাসরুদ্ধ করে হত্যা করেছে। অতঃপর তারা পালিয়েছে। সাবধান কেউ তাদেরকে আশ্রয় দিবে না, আর যদি কোন ব্যক্তি তাদেরকে পায় সে যেন তাদেরকে নিয়ে আসে। তাদেরকে নিয়ে আসা হল। আর তাদেরকে শূলবিদ্ধ করা হল । ইসলামে সর্বপ্রথম তাদেরকেই শূলবিদ্ধ করা হয়েছে।
(হাফিয ইবন হাজার "আল ইসাবায়" হাদীসটিকে উল্লেখ করে বলেছেন, আবু দাউদ, আবু নাঈম, ইবন সাকান এবং ইবন মানদাহ হাদীসটিকে বর্ণনা করেছেন। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটির সনদ হাসান।)
আর আবূ দাউদ তায়ালিসী এবং শাফিয়ী, সাঈদ ইবন মুসায়্যিব (র) থেকে বর্ণনা করেছেন, "উমর ইবন খাত্তাব (রা) এক ব্যক্তিকে বিশ্বাসঘাতকতা করে হত্যা করার বদলে পাঁচজন বা সাত জনকে হত্যা করেন। আর বলেন, "যদি সনআ'বাসীরা সম্মিলিতভাবে তাকে হত্যা করত তাহলে আমি তাদের সকলকে হত্যা করতাম।"
(আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, আবু দাউদ তায়ালিসী এবং শাফিয়ী হাদীসটিকে উমর (রা)-এর মওকূফ হাদীসরূপে উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب لا يقتل والد بولده: وما جاء في قتل الاثنين بالواحد
عن أم ورقة بنت عبد الله بن الحارث أن نبي الله صلى الله عليه وسلم كان يزورها كل جمعة وأنا قالت يا نبي الله يوم بدر أتأذن فاخرج معك أمرِّض مرضاكم وأداوى جرحاكم لعل الله يهدى لى شهادة؟ قال قِرىّ فان الله عز وجل يهدى لك شهادة، وكانت أعتقت جارية لها وغلاما وعن دُبُر منها فطال عليهما فغماها في القطيفة حتى ماتت وهربا، فأتى عمر فقيل له إن أم ورقة قد قتلها غلامها وجاريتها وهربا، فقام عمر في الناس فقال إن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يزور أن ورقة يقول انطلقوا نزور الشهيدة وأن فلانة جاريتها وفلانا غلامها غماها قم هربا فلا يؤويهما أحد، ومن وجدهما فليأ بهما فأتى بهما فصلبا فكانا أول مصلوبين
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১০৯
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : শাসকদের দায়িত্ব কিসাসের ব্যবস্থা করা, তবে হকদার ব্যক্তি হত্যাকারীর সাথে সমঝোতা করলে বা তাকে ক্ষমা করলে ভিন্ন কথা।
১০৯। আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মধ্যে একটি জিনিস বণ্টন করছিলেন। এ সময় জনৈক ব্যক্তি বণ্টনকৃত মাল থেকে কিছু দ্রুত নেয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- তাঁর কাছে যে খেজুর কাঁদির দন্ড ছিল তা দিয়ে তাকে খোঁচা দিলেন, তাতে তার চেহারা জখম হল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি এসে আমার থেকে কিসাস গ্রহণ কর। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে ক্ষমা করেছি।
(আবূ দাউদ, নাসাঈ। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটির বর্ণনাকারীগণ সহীহর বর্ণনাকারী।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب القصاص من ولاة الأمور إلا إذا اصطلح المستحق أو عفا
عن أبي سعيد الخدرى قال بينا رسول الله صلى الله عليه وسلم يقسم شيئا أقبل رجل فألبَّ عليه فطعنه رسول الله صلى الله عليه وسلم بعرجون كان معه فجرح بوجهه، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم تعال فاستقد، قال قد عفوت يا رسول الله
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১০
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : শাসকদের দায়িত্ব কিসাসের ব্যবস্থা করা, তবে হকদার ব্যক্তি হত্যাকারীর সাথে সমঝোতা করলে বা তাকে ক্ষমা করলে ভিন্ন কথা।
১১০। আবূ ফারাস (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর ইবন খাত্তাব (রা) জনগণকে উপদেশ দিলেন (তিনি একটি দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করলেন, তাতে ছিল): আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই আমি আমার কর্মচারীদেরকে তোমাদের নিকট তোমাদেরকে মারার জন্য এবং তোমাদের মাল ছিনিয়ে আনার জন্য পাঠাই না। বরং আমি তাদেরকে তোমাদের নিকট পাঠাই তোমাদেরকে তোমাদের ধর্ম এবং সুন্নাত শিক্ষা দেয়ার জন্য। অতএব যদি কেউ কারও সাথে তা ছাড়া অন্য কোন আচরণ করে তাহলে সে তাকে ফয়সালার জন্য আমার নিকট পেশ করবে। ঐ সত্তার শপথ! যার হাতে আমার জীবন, আমি নিশ্চয়ই তার থেকে তার কিসাস গ্রহণ করব। আমর ইবন আস (রা) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনি আমাকে অবহিত করুন, যদি প্রজাসাধারনের বিচারের দায়িত্ব প্রাপ্ত কোন মুসলিম ব্যক্তি তার কোন প্রজাকে শিষ্টাচারিতা শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে পেটায় তাহলেও কি আপনি তার থেকে কিসাস গ্রহণ করবেন? তিনি বললেন, হাঁ, ঐ সত্তার শপথ! যাঁর হাতে উমরের জীবন, তাহলেও আমি তার থেকে কিসাস গ্রহণ করব। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর থেকে প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগ দিতেন।
(আবু দাউদ, নাসাঈ। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটির বর্ণনাকারীগণ সহীহর বর্ণনাকারী।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب القصاص من ولاة الأمور إلا إذا اصطلح المستحق أو عفا
عن أبى فراس قال خطب عمر بن الخطاب (فذكر حديثا طويلا فيه) ألا انى والله ما أرسل عمالى إليكم لضربوا أبشاركم ولا يأخذوا أموالكم، ولكن أرسلهم إليكم لعلموكم دينكم وسنتكم فمن فُعل به شيء سوى ذلك فليرفعه إلىَّ، فوالذى نفسى بيده إذا لأقصَّنه منه، فوثب عمرو بن العاص فقال يا أمير المؤمنين أورأيت إن كان رجل من المسلمين على رعة فأدب بعض رعيته أئتك لمقتصه منه؟ قال أى والذى نفس عمر بيده إذا لأقتصنه منه وقد رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يٌقِص من نفسه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১১
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : শাসকদের দায়িত্ব কিসাসের ব্যবস্থা করা, তবে হকদার ব্যক্তি হত্যাকারীর সাথে সমঝোতা করলে বা তাকে ক্ষমা করলে ভিন্ন কথা।
১১১। আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) আবূ জাহাম (রা)-কে সদকা উসূলকারী করে পাঠালেন। জনৈক ব্যক্তি তাঁর সাথে ঝগড়া করল। আবু জাহাম (রা) তাকে মারলেন। তাতে তার মাথা আহত হল। তার আত্মীয় স্বজনরা নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সীমা লঙ্ঘনকারী আবূ জাহামের কিসাস চাই। তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে (রক্তপণ হিসেবে) এত-এত পরিমাণ মাল দেব। তাতে তারা সন্তুষ্ট হল না। তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে (রক্তপণ হিসেবে) এত পরিমাণ মাল দেব। তারা তাতেও সন্তুষ্ট হল না। তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে (রক্তপণ হিসেবে) এত পরিমাণ মাল দেব। এবার তারা সন্তুষ্ট হল। নবী (ﷺ) বললেন, আমি লোকদের সাথে কথা বলব এবং তাদেরকে তোমাদের সন্তুষ্টির কথা জানাব। তারা বলল, হাঁ। নবী (ﷺ) লোকদরকে সম্বোধন করে বললেন, লাইছ বংশের লোকেরা আমার নিকট সীমালঙ্ঘনকারীর কিসাস গ্রহণের জন্য এসেছে। আমি তাদের জন্য এরূপ এবং এরূপ মালের রক্তপণ পেশ করেছি। তারা তাতে সন্তুষ্ট হয়েছে। তোমরা কি সন্তুষ্ট হয়েছ? তারা বলল, না। মুহাজিরগণ তাদেরকে এরূপ অসৎ আচরণের জন্য ধমক দিলেন। নবী (ﷺ) তাঁদেরকে তা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিলেন। তাঁরা বিরত থাকলেন। অতঃপর তিনি তাদেরকে ডেকে আরো বেশি মাল দিয়ে বললেন, তোমরা কি তাতে সন্তুষ্ট হয়েছ? তারা বলল, হাঁ। তিনি বললেন, আমি লোকদের সাথে কথা বলব এবং তাদেরকে তোমাদের সন্তুষ্টির কথা জানাব। নবী (ﷺ) লোকদেরকে সম্বোধন করে বললেন, তোমরা কি তাতে সন্তুষ্ট হয়েছ? তারা বলল, হাঁ।
(আবূ দাউদ, নাসাঈ। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটির বর্ণনাকারীগণ সহীহর বর্ণনাকারী।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب القصاص من ولاة الأمور إلا إذا اصطلح المستحق أو عفا
عن عائشة رضى الله عنها أن النبى صلى الله عليه وسلم بعث أبا جهم مصدقا فلاجَّه رجل في صدقته فضربه أبو جهم فشجه فأتوا النبى صلى الله عليه وسلم فقالوا القود يا رسول الله، فقال النبى صلى الله عليه وسلم لكم كذا وكذا فلم يرضوا، قال فلكم كذا وكذا فلم يرضوا، قال فلكم كذا وكذا فرضوا، فقال النبى صلى الله عليه وسلم إنى خاطب على الناس ومخبرهم برضاكم قالوا نهم، فخطب النبى صلى الله عليه وسلم فقال ان هؤلاء الليثيين أتوني يريدون القود فعرضت عليهم كذا وكذا فرضوا، أرضيتم. قالوا لا، فهم المهاجرون بهم فأمر النبي صلى الله عليه وسلم أن يكفوا ثم دعاهم فزادهم وقال أرضيتم؟ قالوا نعم، قال فانى خاطب على الناس ومخبرهم برضاكم فخطب النبى صلى الله عليه وسلم ثم قال أرضيتم؟ قالوا نعم.
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১২
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কিসাসের হকদার হওয়া সত্ত্বেও যে ব্যক্তি অপরাধীকে ক্ষমা করে দেয়, তার ফযীলত।
১১২। আবূ সাফার (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক কুরায়শী ব্যক্তি জনৈক আনসারী ব্যক্তির দাঁত ভাঙল। কুরায়শী ব্যক্তি আনসারী ব্যক্তির সাথে সমঝোতা করার জন্য মুআবিয়া (রা)-এর নিকট সাহায্য চাইলেন। আনসারী বলল, এ ব্যক্তি আমার দাঁত ভেঙেছে। মুআবিয়া (রা) বললেন, আমরা কিছুতেই তোমার উপর জুলুম করব না। আমরা তোমাকে রক্তপণ দিয়ে সন্তুষ্ট করব। তিনি বলেন, যখন আনসারী নাছোরবান্দা হয়ে কিসাস গ্রহণ করতে চাইল তখন মুআবিয়া (রা) বললেন, তুমি তোমার সাথীর থেকে কিসাস গ্রহণ কর। আবু দারদা (রা) সেই মজলিসে বসা ছিলেন। তিনি বললেন, আমি রাসূলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, যদি কোন মুসলিমের অঙ্গ আঘাতপ্রাপ্ত হয়। অতঃপর সে আঘাতকারীকে মাফ করে দেয়। তাহলে আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন এবং তার অন্যায়কে মাফ করে দিবেন। তখন আনসারী বললেন, আপনি কি এ কথা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হাঁ। আমার দু' কান তা শুনেছে এবং আমার হৃদয় তা স্মরণ রেখেছে। তখন সে তাকে ক্ষমা করল।
(তিরমিযী, ইবন মাজাহ। তিরমিযী বলেছেন, হাদীসটি গরীব। আমরা আবূ সাফারের বর্ণনা 'সূত্র ছাড়া অন্য কোন বর্ণনা সূত্রে হাদীসটি অবগত নই। আর আবূ দারদা (রা) থেকে তার হাদীস শোনা প্রমাণিত হয়নি।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب فضل من استحق القصاص وعفا
عن أبى السَّفرقال كسر رجل من قريش سن رجل من الأنصار فاستعدى عليه معاوية، فقال الأنصارى أن هذا دق سنى، قال معاوية كلا إنا سنرضيك قال فلما ألح ليه الأنصارى قال معاوية شأنك بصاحبك وأبو الدرداء جالس: فقال أبو الدرداء سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ما من مسلم يصاب بشيء في جسده يتصدق به إلا رفعه الله به درجة وحط عنه به خطيئة، قال فقال الأنصارى أأنت سمعت هذا من رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال نعم سمعته أذناى ووعاه قلبى يعنى فعفا عنه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৩
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কিসাসের হকদার হওয়া সত্ত্বেও যে ব্যক্তি অপরাধীকে ক্ষমা করে দেয়, তার ফযীলত।
১১৩। উবাদা ইবন সামিত (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যদি কারো শরীরের কোন অঙ্গ আহত হয় আর সে তার আঘাতকারীকে ক্ষমা করে দেয় আল্লাহ তার থেকে অনুরূপ অপরাধ মোচন করেন যেরূপ অপরাধ সে ক্ষমা করেছে।
(যিয়ামাকদিসী। হাফিয সুয়ূতী হাদীসটি সহীহ বলেছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب فضل من استحق القصاص وعفا
عن عبادة بن الصامت قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ما من رجل يجرح في جسده جراحة فيتصدق بها إلا كفر الله عنه مثل ما تصدق به
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৪
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কিসাসের হকদার হওয়া সত্ত্বেও যে ব্যক্তি অপরাধীকে ক্ষমা করে দেয়, তার ফযীলত।
১১৪। আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যদি নবী (ﷺ)-এর নিকট কিসাসের কোন ফয়সালা পেশ করা হত, তাহলে তিনি তা ক্ষমা করে দেয়ার জন্য উৎসাহ দিতেন।
(আবূ দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটি শরয়ী দলীল হওয়ার উপযুক্ত।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب فضل من استحق القصاص وعفا
عن أنس بن مالك قال ما رفع إلى النبى صلى الله عليه وسلم أمر فيه القصاص إلا أمر فيه بالعفو
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৫
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: দাঁত ভাঙার কিসাস।
১১৫। আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত, তাঁর ফুফু রুবায়্যি' বিনতে নাযর (রা) একটি মেয়ের মুখের অগ্রভাগের কোন এক দাঁত ভেঙে ফেলেছিলেন। তাঁর আত্মীয়-স্বজনরা মেয়েটির আত্মীয়-স্বজনকে রক্তপণ দিতে চাইল। আর তারা তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করল। তারা ক্ষমা চাইল। তারা তাও অস্বীকার করল। শেষে তারা নবী (ﷺ) -এর নিকট আসল। তিনি কিসাস গ্রহণ করতে নির্দেশ দিলেন। তাঁর ভাই আনাস ইবন মালিক (রা)-এর চাচা আনাস ইবন নাযর (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! রুবায়্যি'-এর মুখের অগ্রভাগের একটি দাঁত ভাঙা হবে? না, ঐ সত্ত্বার শপথ! যিনি আপনাকে সত্য দিয়ে পাঠিয়েছেন তার দাঁত ভাঙা হবে না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আনাস! কিসাস আল্লাহর কিতাবের হুকুম। তিনি বলেন, পরিশেষে তারা তাঁকে ক্ষমা করলেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর এরূপ অনেক বান্দা আছে যদি সে আল্লাহর শপথ করে তিনি তার শপথ পূর্ণ করেন।
(বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب القصاص في كسر السن
عن حميد الطويل عن أنس بن مالك ان الربيع بنت النضر عمة أنس بن مالك كسرت ثنية جارية فعرضوا عليهم الأرش فأبوا، وطلبوا العفو فأبوا، فأتوا النبى صلى الله عليه وسلم فأمر بالقصاص، فجاء أخوها أنس بن النضر عم أنس ابن مالك فقال يا رسول الله اتكسر ثنية الربيِّع؟ لا والذى بعثك بالحق لا تكسر ثنيتها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم يا أنس كتاب الله القصاص، فقال فعفا القوم، قال فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن من عباد الله من لو أقسم على الله لأبرَّه (ومن طريق ثان) عن ثابت عن أنس ابن مالك أن أخت الربيع أم حارثة جرحت إنسانا فاختصموا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم وعلى آله وصحبه وسلم القصاص القصاص فقالت أم الربيع يا رسول الله أيقتص من فلانة لا والله لا يقتص منها أبدا، قال النبى صلى الله عليه وسلم سبحان الله يا أم ربيع، كتاب الله، قالت لا والله لا يمنها أبدا، قال فما زالت حتى قبلوا منها الدية فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم أن من عباد الله من لو أقسم على الله لأبره
হাদীস নং: ১১৬
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কানের কিছু অংশ কাটার কিসাস।
১১৬। মাজিদাহ (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মক্কার জনৈক বালকের সাথে মারামারি করলাম। সে আমার কানে কামড় দিয়ে কিছু অংশ কেটে ফেলল বা কামড় দিয়ে তার কানের কিছু অংশ কাটলাম। যখন আবু বকর (রা) মক্কায় হজ্জ আদায়ের জন্য আসলেন তখন ফয়সালার জন্য তাঁর নিকট মামলা পেশ করা হল। তিনি বললেন, তোমরা উমর ইবন খাত্তাব (রা)-এর নিকট যাও। যদি আহতকারী কিসাস গ্রহণের বয়সে উপনীত হয় তাহলে করা হবে। তিনি বলেন, যখন আমাদেরকে উমর (রা) এর নিকট পৌঁছান হল তখন তিনি আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, হাঁ, সে কিসাস গ্রহণের বয়সে উপনীত হয়েছে। তোমরা আমার জন্য একজন রক্তমোক্ষকাকে ডাক। তিনি যখন রক্তমোক্ষকের কথা উল্লেখ করলেন তখন বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, আমি আমার খালাকে একটি ক্রীতদাস দান করলাম আর আশা করলাম, আল্লাহ তাকে তার মাধ্যমে বরকত দিবেন। আমি তাকে নিষেধ করলাম। তিনি যেন তাকে রক্তমোক্ষক, কসাই, বা স্বর্ণকার না বানান।
(আবূ দাউদ। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটির সনদে একজন অজ্ঞাত বর্ণনাকারী থাকায় হাদীসটি দুর্বল।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب القصاص في قطع شئ من الإذن
عن العلاء بن عبد الرحمن بن يعقوب عن رجل من قريش من بنى سهم عن رجل منهم يقال له ماجدة قال عارمت غلاما بمكة فعض أذنى فقطع منها أو عضضت أنه فقطعت منها، فلما قدم إلينا أبو بكر رضى الله عنه حاجا رُفعنا إليه فقال انطلقوا إلى عمر بن الخطاب بان كان الجارح بلغ أن يقتص منه فليقتص قال فلما انتهى بنا إلى عمر نظر إلينا فقال نعم قد بلغ ذا أن يقتص منه أدعو لى حجاما، فلما ذكر الحجام قال إما أنى قد سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول قد أعطيت خالتى غلاما وأنا أرجو أن يبارك الله لها فيه وقد نهيتها أن تجعله حجاما أو قصابا (1) أو صائغا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৭
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: যদি কেউ দাঁত দিয়ে কারো হাত কামড়ায়, আর সে তা তার মুখ থেকে টেনে বের করে, আর তার মুখের সম্মুখ ভাগের দাঁত পড়ে যায় তাহলে তার শরয়ী বিধান প্রসঙ্গ।
১১৭। ইয়া'লা ইবন উমাইয়্যা (রা) এবং সালামা ইবন উমাইয়্যা (রা) থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে তাবুকের যুদ্ধে বের হলাম। আমরা আমাদের জন্য একজন সেবক সাথে নিলাম। সে এবং জনৈক মুসলিম ব্যক্তি মারামারি করল, ঐ ব্যক্তিটি তার হাত কামড়ে ধরল। আর সে তার হাত তার মুখ থেকে টেনে বের করল। তাতে তার একটি দাঁত পড়ে গেল। ঐ লোকটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট যেয়ে তার রক্তপণ চাইল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমাদের কেউ তার ভাইকে উটের ন্যায় কামড়াবে, অতঃপর রক্তপণ চাইবে? তোমার জন্য কোন রক্তপণ নেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা বাতিল করে দিলেন।
(বুখারী, মুসলিম, শাফিয়ী, আবূ দউদ, নাসাঈ, ইবন হিব্বান এবং অন্যরা)
ইয়া'লা ইবন উমাইয়‍্যা (রা) থেকে দ্বিতীয় এক বর্ণনা সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে তাবুকের যুদ্ধে লড়াই করলাম এবং তা আমার ধারণায় আমার আমল সমূহের মধ্যে অধিকতর সুদৃঢ় আমল। আর আমার একজন সেবক ছিল সে এবং অন্য এক ব্যক্তি মারামারি করল, তাদের একজন তার সাথীর আঙ্গুল কামড়ে ধরল। আর সে তার আঙ্গুল তার মুখ থেকে টেনে বের করল। তাতে তার দাঁত পড়ে গেল। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট রক্তপণ চাইলে তিনি বললেন, সে তার হাত তোমার মুখে রেখে দিবে আর তুমি তার হাত উটের ন্যায় কামড়াবে?
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء فيمن عض يد رجل فانتزعها فسقطت ثنيته
عن يعلى بن أمية (2) وسلمة بن أمية قالا خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فى غزوة تبوك معنا صاحب لنا (3) فاقتتل هو ورجل من المسلمين (4) فعض ذلك الرجل بذراعه (5) فاجتبذ يده من فيه (6) فطرح ثنيته فذهب الرجل إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم يسأله العقل (7) فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ينطلق أحدكم إلى أخيه يعضه عضيض الفحل (8) ثم يأتى يلتمس العقل لا دية لك فأطلها (9) رسول الله صلى الله عليه وسلم يعنى فأبطلها (ومن طريق ثان) (10) عن صفوان بن يعلى عن يعلى بن أمية قال غزوت مع النبي صلى الله عليه وسلم جيش العسرة (11) وكان من اوثق أعمالي فى نفسى (12) وكان لى أجير فقاتل إنساناً فعض أحدهما صاحبه (13) فانتزع أصبعه (14) فأندر وقال أفيدع يده في فيك تقضمها (1) قال أحسبه قال كما يقضم الفحل
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৮
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: যদি কেউ দাঁত দিয়ে কারো হাত কামড়ায়, আর সে তা তার মুখ থেকে টেনে বের করে, আর তার মুখের সম্মুখ ভাগের দাঁত পড়ে যায় তাহলে তার শরয়ী বিধান প্রসঙ্গ।
১১৮। ইমরান ইবন হুসাইন (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইয়া'লা ইবন মুনয়া বা ইবন উমাইয়্যা (রা) জনৈক ব্যক্তির সাথে মারামারি করলে তাদের একজন তার সাথীর হাত কামড়ে ধরল। আর সে তার হাত তার মুখ থেকে টেনে বের করল। তাতে তার একটি দাঁত পড়ে গেল। হাদীসের এক বর্ণনাকারী হাজ্জাজ বলেন, তার দু'টি দাঁত পড়ে গেল। তারা নবী (ﷺ)-এর নিকট অভিযোগ করলে তিনি বললেন, তোমাদের একজন তার অপর ভাইকে উটের ন্যায় কামড়াবে? তার জন্য কোন রক্তপণ নেই। অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি তা বাতিল করলেন এবং বললেন, তুমি তোমার ভাইয়ের গোশত উটের মত কামড়াতে চেয়েছ।
(বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء فيمن عض يد رجل فانتزعها فسقطت ثنيته
عن عمران بن حصين (2) قال قاتل يعلى بن منية (3) أو ابن أمية. رجلاً فعض أحدهما يد صاحبه فانتزع يده من فيه فانتزع ثنيته (4) وقال حجاج ثنيتيه فاختصما إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يعض أحدكما أخاه كما يعض الفحل لا دية له (وفى لفظ) فأبطلها وقال أردت أن تقضم لحم أخيك كما يقضم الفحل
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১১৯
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: জখম ভাল হওয়ার আগে অঙ্গের কিসাস গ্রহণ করার নিষিদ্ধতা।
১১৯। আমর ইবন শুআইব তার পিতা থেকে এবং শুআইব তাঁর দাদা আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও জনৈক ব্যক্তির কিসাসের ফয়সালা করেন যে, এক ব্যক্তির পায়ে শিং দ্বারা আঘাত করেছিল। সে বলেছিল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার আঘাতকারীর থেকে কিসাস গ্রহণ করুন। রাসুলুল্লাহ তাকে বললেন, তুমি তোমার ক্ষত স্থান ভাল না হওয়া পর্যন্ত কিসাস গ্রহণে তাড়াহুড়া করবে না। তিনি বলেন, লোকটি বিলম্বে কিসাস গ্রহণ করতে অস্বীকার করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আঘাতকারীর থেকে তার কিসাস গ্রহণ করলেন। তিনি বলেন, পরে কিসাস গ্রহণকারী খোঁড়া হয়ে গেল এবং যার থেকে কিসাস নেওয়া হল সে সুস্থ হয়ে গেল। কিসাস গ্রহণকারী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি খোঁড়া হয়ে গেছি। আর আমার আঘাতকারী সুস্থ হয়ে গেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, আমি কি তোমাকে নির্দেশ দেইনি যে, তুমি তোমার ক্ষতস্থান ভাল হওয়ার পূর্বে কিসাস গ্রহণ করবে না? তুমি আমার নির্দেশ মাননি। তাই আল্লাহ তোমাকে সুস্থতা থেকে দূরে রেখেছেন, আর তোমার ক্ষতস্থানের রক্তপণ বাতিল করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ ব্যক্তির খোঁড়া হওয়ার পর নির্দেশ দেন যে, যদি কেউ কারো দ্বারা আহত হয় তাহলে সে তার ক্ষতস্থান ভাল না হওয়া পর্যন্ত তার আহতকারীর থেকে কিসাস গ্রহণ করবে না। যখন তার ক্ষত ভাল হবে তখন কিসাস গ্রহণ করবে।
(দারাকুতনী, বায়হাকী, শাফিয়ী। হায়ছামী মাজমাউয যাওয়াইদে হাদীসটিকে উল্লেখ করে বলেছেন, আহমদ হাদীসটিকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب النهى عن الاقتضاض فى الطرف قبل الاندمال
عن عمرو بن شعيب (5) عن أبيه عن جده قال قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم فى رجل طعن رجلاً بقرن فى رجله (6) فقال يا رسول الله أقدنى (7) فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تعجل حتى يبرأ جرحك (8) قال فأبى الرجل إلا أن يستقيد فأقاده رسول الله صلى الله عليه وسلم منه قال فعرج المستقيد وبرأ المستقاد منه، فأتى المستقيد إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله عرجت وبرأ صاحبى، فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم ألم آمرك أن لا تستقيد حتى يبرأ جرحك فعصيتني فأبعدك الله (1) وبطل جرحك، ثم أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد الرجل الذى عرج (2) من كان به جرح أن لا يستقيد حتى تبرأ جراحته: فإذا برئت جراحته استقاد
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২০
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কিসাস এবং হদ্দ মক্কার হারামে এবং মসজিদে গ্রহণ করা যাবে কি না?
১২০। হাকীম ইবন হিযাম (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মসজিদে হদ্দ জারি করা যাবে না এবং তাতে হত্যাকারীর এবং তার মত অপরাধীর থেকে কিসাস গ্রহণ করা যাবে না।
(হাদীসটির উৎস এ কিতাবের মসজিদ পর্বে 'মসজিদকে যে সকল বস্তু থেকে রক্ষা করতে হবে' শীর্ষক পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب هل يستوفى القصاص والحدود فى الرحم والمساجد أم لا؟
عن حكيم بن حزام (3) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تقام الحدود فى المساجد ولا يستقاد (4) فيها
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১২১
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: কিসাস এবং হদ্দ মক্কার হারামে এবং মসজিদে গ্রহণ করা যাবে কি না?
১২১। আমর ইবন শুআইব তাঁর পিতা থেকে, শুআইব তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ তা'আলার হক সমূহের ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি অধিকতর সীমালঙ্ঘন কারী যে ব্যক্তি মক্কার হারামে কাউকে হত্যা করে বা তার হত্যাকারী ছাড়া অন্য কাউকে হত্যা করে বা জাহেলিয়াতের প্রতিশোধে কাউকে হত্যা করে।
(ইবন হিব্বান, 'আস-সাহীহ'। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটির সনদ উত্তম। ইমাম আহমদ আবূ শুরাইহ খুযায়ী (রা) থেকে এর সমর্থক হাদীস বর্ণনা করেছেন, এ কিতাবের যুদ্ধের পর্বে 'মক্কা বিজয়ের বৎসরের পর মক্কায় যুদ্ধ করা' শীর্ষক পরিচ্ছেদে তা উদ্ধৃত হবে।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب هل يستوفى القصاص والحدود فى الرحم والمساجد أم لا؟
عن عمرو بن شعيب (5) عن أبيه عن جده قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أن أعدى (6) الناس على الله من قتل فى الحرم (7) أو قتل غير قاتله أو قتل بذحول (8) الجاهلية
tahqiq

তাহকীক: