মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩৪৪ টি
হাদীস নং: ২০১
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : কোন মহিলার প্রতি অনিচ্ছাকৃত দৃষ্টি পড়ার অপরাধ ক্ষমা হওয়া। আর দ্বিতীয়বার তার থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে রাখার সওয়াব এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)র-এর বাণী, যদি তোমাদের কেউ কোন মহিলাকে দেখে মুগ্ধ হয় তাহলে সে যেন তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে।
২০১। জাবির ইবন আব্দুল্লাহ আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুগ্ধ হলেন। তিনি যায়নাব (রা) এর নিকট আসলেন, যখন তিনি কাঁচা জনৈকা মহিলাকে দেখে চামড়া পাকা করার কাজ করছিলেন। তিনি তার সাথে সহবাস করলেন। আর তিনি বললেন, নারী শয়তানের আকৃতিতে সামনে আসে এবং শয়তানের আকৃতিতে চলে যায়। যদি তোমাদের কেউ কোন মহিলাকে দেখে মুগ্ধ হয় তাহলে সে যেন তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে। কেননা তা অন্তরের কামনাকে নিবৃত্ত করে।
(মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ)
(মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب العفو عن نظرة الفجأة وثواب الغض عن النظر بعدها وقوله صلى الله عليه وسلم إذا رأى أحدكم امرأة فأعجبته فليأت أهلها
عن جابر عبد الله الأنصارى (1) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم رأى امرأة فأعجبته (2) فأتى زينب وهى تمعس (3) منيئة فقضى منها حاجته، وقال إن المرأة تقبل في صورة شيطان (4) وتدبر في صورة شيطان فإذا رأى أحدكم امرأة فأعجبته فليأت أهله فإن ذاك يردّ ما في نفسه
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০২
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : কোন মহিলার প্রতি অনিচ্ছাকৃত দৃষ্টি পড়ার অপরাধ ক্ষমা হওয়া। আর দ্বিতীয়বার তার থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে রাখার সওয়াব এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)র-এর বাণী, যদি তোমাদের কেউ কোন মহিলাকে দেখে মুগ্ধ হয় তাহলে সে যেন তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে।
২০২। আবু কাবশা আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাহাবীগণ (রা)-এর মাঝে বসা ছিলেন। তিনি ঘরে প্রবেশ করলেন। অতঃপর তিনি গোসল করে বের হলেন। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কিছু ঘটেছে? তিনি বললেন, হাঁ। অমুক মহিলা অতিক্রম করেছে। আর আমার হৃদয়ে মহিলার কামনা সৃষ্টি হয়েছে। তাই আমি আমার কোন এক স্ত্রীর নিকট এসে তাঁর সাথে মেলামেশা করলাম। তোমরাও অনুরূপ করবে। কেননা তোমাদের সর্বোত্তম কাজ হল হালালভাবে যৌন কামনা পূরণ করা।
(আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, আমি ইমাম আহমদ ছাড়া অন্য কারোর নিকট হাদীসটি অবগত হইনি।)
(আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, আমি ইমাম আহমদ ছাড়া অন্য কারোর নিকট হাদীসটি অবগত হইনি।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب العفو عن نظرة الفجأة وثواب الغض عن النظر بعدها وقوله صلى الله عليه وسلم إذا رأى أحدكم امرأة فأعجبته فليأت أهلها
عن أبى كبشة الأنمارى (5) قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم جالساً في اصحابه فدخل ثم خرج وقد اغتسل فقلنا يا رسول الله قد كان شئ؟ قال أجل قد مرت بى فلانة فوقع في قلبى شهوة النساء فأتيت بعض أزواجى فأصبتها فكذلك فافعلوا، فإنه من أماثل أفعالكم إتيان الحلال
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৩
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : পুরুষের প্রতি নারীর দৃষ্টিপাত প্রসঙ্গ
২০৩। উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং মায়মুনা (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট ছিলাম। ইবন উম্মে মাকতুম (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হলেন। আর এটা আমরা পর্দার নির্দেশ প্রাপ্ত হওয়ার পরের কথা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা তার সাথে পর্দা কর। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে কি অন্ধ নয়? সে কি আমাদেরকে দেখতে ও চিনতে পারছেন? তিনি বললেন, তোমরাও কি অন্ধ? তোমরা কি তাকে দেখতে পাচ্ছ না।
(আবূ দাউদ, তিরমিযী। তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। ইমাম মালিক মুয়াত্তা গ্রন্থে আয়েশা (রা)-এর সূত্রে মহিলাদের অন্ধ পুরুষদের থেকে পর্দা করা সম্পর্কে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি জনৈক অন্ধ থেকে পর্দা করলেন। তাঁকে বলা হল সে আপনাকে দেখে না, তিনি বললেন, কিন্তু আমি তাকে দেখি।)
(আবূ দাউদ, তিরমিযী। তিনি বলেছেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। ইমাম মালিক মুয়াত্তা গ্রন্থে আয়েশা (রা)-এর সূত্রে মহিলাদের অন্ধ পুরুষদের থেকে পর্দা করা সম্পর্কে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি জনৈক অন্ধ থেকে পর্দা করলেন। তাঁকে বলা হল সে আপনাকে দেখে না, তিনি বললেন, কিন্তু আমি তাকে দেখি।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء في نظر المرأة إلى الرجل الأجنبى
عن أم سلمة رضى الله عنها (6) قالت كنت عند رسول الله صلى الله عليه وسلم وميمونة رضى الله عنها فأقبل ابن أم مكتوم (7) حتى دخل عليه وذلك بعد أن أمرنا بالحجاب، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم احتجبا منه، فقلنا أي رسول الله أليس أعمى لا يبصرنا ولا يعرفنا؟ قال أفعمياوان (1) أنتما؟ ألستما تبصرانه
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৪
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: পরনারীর সাথে নির্জন অবস্থান নিষিদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গ
২০৪। জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলছেন, যদি কেউ আল্লাহ এবং কিয়ামত দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন এরূপ কোন মহিলার সাথে একাকী না হয় যার সাথে কোন মাহরাম নেই। কেননা তখন শয়তান হয় তাদের তৃতীয় জন।
(হাদীসটি একটি দীর্ঘ হাদীসের অংশ যা খিলাফত এবং ইমারা, পর্বের 'বাই'আত ওয়াজিব হওয়া' শীর্ষক পরিচ্ছেদে বর্ণিত হবে।)
(হাদীসটি একটি দীর্ঘ হাদীসের অংশ যা খিলাফত এবং ইমারা, পর্বের 'বাই'আত ওয়াজিব হওয়া' শীর্ষক পরিচ্ছেদে বর্ণিত হবে।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب النهى عن الخلوة بالمرأة الأجنبية
عن جابر بن عبد الله 02) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من كان يؤمن بالله واليوم الآخر فلا يخلون (3) بامرأة ليس معها ذو محرم منها (4) فإن ثالثهما الشيطان
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৫
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: পরনারীর সাথে নির্জন অবস্থান নিষিদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গ
২০৫। আমির ইবন রাবী'আ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মাহরাম ছাড়া কোন ব্যক্তি যেন কোন মহিলার সাথে একা অবস্থান না করে। কেননা তখন শয়তান হয় তাদের তৃতীয়জন কেননা কোন মহিলা বিবাহ করা জায়েয এরূপ পুরুষের সাথে একাকী থাকলে শয়তান তার সাথে থাকে। আর যদি তার সাথে মাহরাম থাকে তাহলে শয়তান তার থেকে দূরে থাকে। যদি কাউকে তার মন্দ কাজ দুঃখিত করে, আর ভাল কাজ আনন্দিত করে, তবে সে মু'মিন।
(হায়ছামী হাদীসটিকে মাজমাউয যাওয়াইদে উল্লেখ করে বলেছেন, আহমদ, আবু ইয়ালা, বাযযার এবং তাবারানী আল মু'জামুল কাবীরে হাদীসটিকে বর্ণনা করেছেন। এর সনদে আছিম ইবন উবাইদ আছেন। তিনি দূর্বল বর্ণনাকারী।)
(হায়ছামী হাদীসটিকে মাজমাউয যাওয়াইদে উল্লেখ করে বলেছেন, আহমদ, আবু ইয়ালা, বাযযার এবং তাবারানী আল মু'জামুল কাবীরে হাদীসটিকে বর্ণনা করেছেন। এর সনদে আছিম ইবন উবাইদ আছেন। তিনি দূর্বল বর্ণনাকারী।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب النهى عن الخلوة بالمرأة الأجنبية
عن عامر بن ربيعة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ألا لا يخلون رجل بامرأة لا تحل له فإن ثالثهما الشيطان إلا محرم فإن الشيطان مع الواحد وهو من الاثنين أبعد (2) من ساءته سيئته (3) وسرته حسنته فهو مؤمن.
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৬
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: পরনারীর সাথে নির্জন অবস্থান নিষিদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গ
২০৬। উমর ইবন খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন কোন মহিলার সাথে একা না থাকে। কেননা তাহলে শয়তান তাদের সঙ্গে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে থাকে। যদি কাউকে তার মন্দ কাজ দুঃখিত করে, আর ভাল কাজ আনন্দিত করে তবে সে মু'মিন।
(নাসাঈ। হাফিয ইরাকী বলেছেন, হাদীসটি সহীহ।)
(নাসাঈ। হাফিয ইরাকী বলেছেন, হাদীসটি সহীহ।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب النهى عن الخلوة بالمرأة الأجنبية
عن عمر بن الخطاب (4) رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يخلون أحدكم بامرأة فإن الشيطان ثالثهما ومن سرته حسنته وساءته سيئته فهو مؤمن
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৭
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: পরনারীর সাথে নির্জন অবস্থান নিষিদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গ
২০৭। উকবা ইবন আমির (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কোন মহিলার নিকট উপস্থিত হওয়া থেকে বেঁচে থাকা উচিত। জনৈক আনসারী ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে কোন মহিলার নিকট তার স্বামী পক্ষের কোন পুরুষ আত্মীয়ের (দেবর-ভাসুরের) উপস্থিত হওয়া সম্পর্কে অবহতি করুন। তিনি বললেন, তা মৃত্যুর সমতুল্য।
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب النهى عن الخلوة بالمرأة الأجنبية
عن عقبة بن عارم (5) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال إياكم والدخول (6) على النساء، فقال رجل من الأنصار يا رسول الله أفرأيت الحمو (7) قال الحمو الموت
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৮
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: পুরুষের সাথে পুরুষের এবং মহিলার সাথে মহিলার কোন প্রতিবন্ধক ছাড়া একত্রে শোয়া হারাম।
১০৮। জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, কোন পুরুষ কোন পুরুষের সাথে এক কাপড়ে শুবে না।
(তাবারানী, আল মু'জামুল আউসাতে, হাকিম। তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তাঁর কথা সমর্থন করেছেন।)
(তাবারানী, আল মু'জামুল আউসাতে, হাকিম। তিনি হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তাঁর কথা সমর্থন করেছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب النهى عن مباشرة الرجل الرجل والمرأة المرأة بغير حائل
عن جابر بن عبد الله (9) قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول لا يباشر الرجل الرجل في الثوب الواحد.
তাহকীক:
হাদীস নং: ২০৯
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: পুরুষের সাথে পুরুষের এবং মহিলার সাথে মহিলার কোন প্রতিবন্ধক ছাড়া একত্রে শোয়া হারাম।
২০৯। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, এবং কোন মহিলা কোন মহিলার সাথে এক কাপড়ে শুবে না। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, সন্তান ও মা ছাড়া কোন পুরুষ কোন পুরুষের সাথে এবং কোন মহিলা কোন মহিলার সাথে কোন প্রতিবন্ধকতা ছাড়া শুবে না।
অন্য এক বর্ণনায় আছে, সন্তান বা পিতা ছাড়া কোন পুরুষ কোন পুরুষের সাথে এবং কোন মহিলা কোন মহিলার সাথে এরূপভাবে শুবে না যাতে একের শরীর অন্যের শরীরকে স্পর্শ করে।
(আবূ দাউদ, বায়হাকী, তাবারানী আল মু'জামুল আউসাতে। হাদীসটির সনদে তাফাবী আছেন। হাফিয ইবন হাজর "তাকরীবে” তাঁকে অজ্ঞাত বর্ণনাকারী বলেছেন। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, এ অধ্যায়ের অন্যান্য হাদীস এ হাদীসটিকে শক্তিশালী করে।)
অন্য এক বর্ণনায় আছে, সন্তান বা পিতা ছাড়া কোন পুরুষ কোন পুরুষের সাথে এবং কোন মহিলা কোন মহিলার সাথে এরূপভাবে শুবে না যাতে একের শরীর অন্যের শরীরকে স্পর্শ করে।
(আবূ দাউদ, বায়হাকী, তাবারানী আল মু'জামুল আউসাতে। হাদীসটির সনদে তাফাবী আছেন। হাফিয ইবন হাজর "তাকরীবে” তাঁকে অজ্ঞাত বর্ণনাকারী বলেছেন। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, এ অধ্যায়ের অন্যান্য হাদীস এ হাদীসটিকে শক্তিশালী করে।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب النهى عن مباشرة الرجل الرجل والمرأة المرأة بغير حائل
عن أبى هريرة ولا تباشر المرأة المرأة في الثوب الواحد قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يباشر الرجل الرجل ولا المرأة المرأة إلا الولد والوالدة (2) (وفى رواية) ألا لا يفضين (3) رجل إلى رجل ولا امرأة إلى امرأة إلا إلى ولد أو والد.
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১০
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: পুরুষের সাথে পুরুষের এবং মহিলার সাথে মহিলার কোন প্রতিবন্ধক ছাড়া একত্রে শোয়া হারাম।
২১০। আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কোন মহিলা কোন মহিলার সাথে এমনভাবে শুবে না, যাতে সে তার স্বামীর নিকট ঐ মহিলার এরূপ বিবরণ দিতে পারে যেন সে (স্বামী) তাকে দেখতে পাচ্ছে। (তিনি অন্য এক বর্ণনায় অতিরিক্ত বলেছেন, তাদের মাঝে কাপড় দিয়ে আড়াল করা ছাড়া।)
(বুখারী, আবূ দাউদ, তিরমিযী)
(বুখারী, আবূ দাউদ, তিরমিযী)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب النهى عن مباشرة الرجل الرجل والمرأة المرأة بغير حائل
عن عبد الله (4) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تباشر المرأة المرأة حتى تصفها لزوجها (5) كأنما ينظر إليها (زاد في رواية) إلا أن يكون بينهما ثوب
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১১
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: পুরুষের সাথে পুরুষের এবং মহিলার সাথে মহিলার কোন প্রতিবন্ধক ছাড়া একত্রে শোয়া হারাম।
২১১। ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কোন পুরুষ কোন পুরুষের সাথে আর কোন মহিলা কোন মহিলার সাথে শুবে না।
(বাযযার,তাবারানী আল-মু'জামুস সগীরে। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, ইমাম আহমদ এবং বাযযারের বর্ণনাকারীগণ সহীহর বর্ণনাকারী।)
(বাযযার,তাবারানী আল-মু'জামুস সগীরে। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, ইমাম আহমদ এবং বাযযারের বর্ণনাকারীগণ সহীহর বর্ণনাকারী।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب النهى عن مباشرة الرجل الرجل والمرأة المرأة بغير حائل
عن ابن عباس (7) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يباشر الرجل الرجل ولا المرأة المرأة
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১২
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: পুরুষের সাথে পুরুষের এবং মহিলার সাথে মহিলার কোন প্রতিবন্ধক ছাড়া একত্রে শোয়া হারাম।
২১২। আবু শাহম (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একজন বেকার লোক ছিলাম। একবার একটি মেয়ে মদীনার কোন এক রাস্তায় আমার কাছ দিয়ে যাচ্ছিল আমি তার কোমর ধরলাম। পরের দিন যখন লোকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে তাঁর বাইআত গ্রহণ করছিল, আমি তাঁর নিকট এসে বাইআত গ্রহণ করার জন্য হাত প্রসারিত করলাম। তিনি তাঁর হাত সরিয়ে নিয়ে বললেন, আমি ধারণা করছি গতকল্য যে ব্যক্তি একটি মেয়ের কোমর ধরছিল তুমি সেই ব্যক্তি। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার বাইআত গ্রহণ করুন। আল্লাহর শপথ! আমি আর কখনো এরূপ করব না। তিনি বললেন, হাঁ, তাহলে আমি তোমার বাইআত গ্রহণ করব।
(হাফিয ইবন হাজর আল ইসাবায় হাদীসটিকে উল্লেখ করে বলেছেন, নাসাঈ এবং বাগাবী হাদীসটিকে বর্ণনা করেছেন। এর সনদ শক্তিশালী। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, দাওলাবীও "আল কুনা গ্রন্থে” ইমাম আহমদের সনদ এবং শব্দে হাদীসটিকে বর্ণনা করেছেন।)
(হাফিয ইবন হাজর আল ইসাবায় হাদীসটিকে উল্লেখ করে বলেছেন, নাসাঈ এবং বাগাবী হাদীসটিকে বর্ণনা করেছেন। এর সনদ শক্তিশালী। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, দাওলাবীও "আল কুনা গ্রন্থে” ইমাম আহমদের সনদ এবং শব্দে হাদীসটিকে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب النهى عن مباشرة الرجل الرجل والمرأة المرأة بغير حائل
عن أبى شهم (8) قال كنت رجلاً بطالاً (9) قال فمرت بى جارية في بعض طرق المدينة إذ هويت إلى كشحها (10) (وفى لفظ أخذت بكشحها) فلما كان الغد قال فأتى الناس إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم يبايعونه فأتيته فبسطت يدى لأبايعه فقبض يده وقال (أحبك صاحب الجبيذة) (11) يعنى أما إنك صاحب الحبيذة أمس، قال قلت يا رسول الله بايعني فوالله لا أعود أبداً قال فنعم إذاً
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৩
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মহিলাদের নিকট হিজড়াদের প্রবেশ নিষিদ্ধ
২১৩। যাইনাব বিনতে আবূ সালামা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর নিকট উপস্থিত হলেন। তাঁর সাথে একজন হিজড়া এবং তাঁর ভাই আব্দুল্লাহ ইবন আবূ উমাইয়্যা (রা) ছিল। হিজড়া লোকটি আব্দুল্লাহ (রা)-কে বলল, হে আব্দুল্লাহ ইবন আবূ উমাইয়্যা! যদি আল্লাহ আপনাদেরকে আগামীকল্য তায়েফের যুদ্ধে বিজয়ী করেন তাহলে আপনার উচিৎ গাইলানের মেয়েকে পাওয়ার ইচ্ছা করা। কেননা যখন সে আগমন করে তখন তার পেটে চারটি ভাজ পড়ে, আর যখন প্রস্থান করে তাতে আটটি ভাজ পড়ে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা শুনে উম্মে সালামা (রা) কে বললেন, তোমার উচিত এ হিজড়াকে তোমার নিকট প্রবেশ করতে না দেয়া।
(বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ, আবু ইয়ালা এবং অন্যরা)
(বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ, আবু ইয়ালা এবং অন্যরা)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب نهى المخنثين عن الدخول على النساء
عن زينب بنت أبى سلمة (1) عن أم سلمة رضى الله عنها قالت دخل عليها رسول الله صلى الله عليه وسلم وعندها مخنث (2) وعندها أخوها عبد الله بن أبى أمية (3) والمخنث يقول لعبد الله يا عبد الله بن أبي أمية إن فتح الله عليكم الطائف غداً (1) فعليك بابنة غيلان (2) فإنها تقبل بأربع (3) وتدبر بثمان قالت فسمعه رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال لأم سلمة لا يدخلن (4) هذا عليك
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৪
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মহিলাদের নিকট হিজড়াদের প্রবেশ নিষিদ্ধ
২১৪। আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক হিজড়া ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর স্ত্রীদের নিকট উপস্থিত হত। তাঁরা ধারণা করতেন যে, এ হিজড়ার মহিলাদের প্রতি কোন আগ্রহ নেই। একদিন নবী (ﷺ) উপস্থিত হলেন। আর তাঁর কোন এক স্ত্রীর নিকট হিজড়াটি ছিল। সে একজন মহিলার বিবরণ দিয়ে বলল, যখন সে আগমন করে তখন তার পেটে চারটি ভাজ পড়ে, আর যখন প্রস্থান করে তাতে আটটি ভাজ পড়ে। নবী (ﷺ) বললেন, একে তো দেখছি মহিলাদের অবস্থা জানে! তোমাদের উচিৎ তাকে প্রবেশ করতে না দেয়া। অতঃপর তাঁরা তাকে প্রবেশ করতে বাঁধা দিলেন।
(মুসলিম, আবূ দাউদ এবং অন্যরা)
(মুসলিম, আবূ দাউদ এবং অন্যরা)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب نهى المخنثين عن الدخول على النساء
عن عائشة رضى الله عنها (5) قالت كان رجل يدخل على أزواج النبى صلى الله عليه وسلم مخنث وكانوا يعدونه من غير أولى الإربة (6) فدخل النبى صلى الله عليه وسلم يوماً عند بعض نسائه وهو ينعت امرأة فقال إنها إذا أقبلت أقبلت بأربع، وإذا أدبرت أدبرت بثمان، فقال النبى صلى الله عليه وسلم (7) ألا أرى هذا يعلم ما هاهنا (8) لا يدخل عليكن هذا فحجبوه
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৫
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মহিলাদের নিকট হিজড়াদের প্রবেশ নিষিদ্ধ
২১৫। ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নারীর অনুকরণকারী পুরুষ এবং পুরুষের অনুকরণকারী নারীদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন। তিনি বলেন, তোমরা তোমাদের ঘর থেকে নারীর অনুকরণকারী পুরুষদের বের করে দিবে। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অমুক এবং অমুককে ঘর থেকে বের করে দেন।
(বুখারী, আবু দাউদ, তিরমিযী)
(বুখারী, আবু দাউদ, তিরমিযী)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب نهى المخنثين عن الدخول على النساء
عن ابن عباس (1) قال لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم المخنثين من الرجال (2) والمترجلات من النساء (3) وقال أخرجوهم من بيوتكم (4) فأخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم فلاناً وأخرج فلاناً
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৬
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মহিলাদের নিকট হিজড়াদের প্রবেশ নিষিদ্ধ
২১৬। আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নারীর অনুকারণকারী পুরুষ, পুরুষের অনুকরণকারী নারী এবং জনশূণ্য প্রান্তরে একাকী ভ্রমণকারীকে অভিশাপ দিয়েছেন।
(আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, আমি ইমাম আহমদ ছাড়া অন্য কারো নিকট হাদীসটি অবগত হইনি। মুনযিরী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।)
(আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, আমি ইমাম আহমদ ছাড়া অন্য কারো নিকট হাদীসটি অবগত হইনি। মুনযিরী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب نهى المخنثين عن الدخول على النساء
عن أبى هريرة (5) قال لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم مخنثى الرجال الذين يتشبهون بالنساء: والمترجلات من النساء المتشبهات بالرجال وراكب الفلاة (6) وحده
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৭
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: মহিলাদের নিকট হিজড়াদের প্রবেশ নিষিদ্ধ
২১৭। ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মেয়েদের আচরণকারী পুরুষ এবং পুরুষদের আচরণকারী মহিলাদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন।
(হায়ছামী মাজমাউয যাওয়াইদে হাদীসটিকে উল্লেখ করে বলেছেন, আহমদ, বাযযার, তাবারানী আল মু'জামুল কাবীরে হাদীসটিকে বর্ণনা করেছেন। এর সনদে সুয়াইব ইবন ফাখিতাহ আছেন। তিনি বর্জিত বর্ণনাকারী। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, এ অধ্যায়ের হাদীস সমূহ হাদীসটিকে শক্তিশালী করে।)
(হায়ছামী মাজমাউয যাওয়াইদে হাদীসটিকে উল্লেখ করে বলেছেন, আহমদ, বাযযার, তাবারানী আল মু'জামুল কাবীরে হাদীসটিকে বর্ণনা করেছেন। এর সনদে সুয়াইব ইবন ফাখিতাহ আছেন। তিনি বর্জিত বর্ণনাকারী। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, এ অধ্যায়ের হাদীস সমূহ হাদীসটিকে শক্তিশালী করে।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب نهى المخنثين عن الدخول على النساء
عن ابن عمر (7) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لعن المخنثين من الرجال والمترجلات من النساء
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৮
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ বিবাহিত যিনাকারীকে পাথর মেরে হত্যা করা আর অবিবাহিত যিনাকারীকে চাবুক মারা এবং তাকে নির্বাসন করা প্রসঙ্গ
পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তা'আলার কিতাব থেকে বিবাহিত যিনাকারীকে পাথর মেরে হত্যা করার দলীল।
পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তা'আলার কিতাব থেকে বিবাহিত যিনাকারীকে পাথর মেরে হত্যা করার দলীল।
২১৮। ইবন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর (রা) বলেছেন, আল্লাহ মুহাম্মদ-কে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর উপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। তাতে যিনাকারী কে পাথর মেরে হত্যা করার আয়াত অবতীর্ণ করা হয়েছে। আমরা তা পড়েছি বুঝেছি এবং স্মরণ রেখেছি, আমি আশঙ্কা করছি যে, মানুষ দীর্ঘ দিন পর বলবে, আমরা যিনাকারীকে পাথর মেরে হত্যা করার আয়াত পাই না। আর আল্লাহ তা'আলার অবতীর্ণ নির্ধারিত বিধান ছেড়ে দেয়া হবে। যিনা কারীকে পাথর মেরে হত্যা করা আল্লাহ তা'আলার কিতাবের বিধান; যদি যিনাকারী বিবাহিত পুরুষ বা নারী হয় আর যদি যিনা প্রমাণিত হয় বা যিনাকারীনী গর্ভবতী হয়, বা যিনাকারী পুরুষ বা মহিলা তার স্বীকারোক্তি করে।
*টীকা, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আল্লাহ তা'আলার ইরশাদ أَوْ يَجْعَلُ اللهُ لَهُنَّ سَبِيلًا কিংবা করে দেন আল্লাহ তাদের জন্য কোন পথ। (সূরা নিসা : ১৫) এর ব্যাখ্যা করেছেন, বিবাহিত যিনাকারী পুরুষ এবং মহিলাকে পাথর মেরে হত্যা করা। আর অবিবাহিত যিনাকারী পুরুষ এবং মহিলাকে একশত চাবুক মারা।
তাঁর থেকে দ্বিতীয় এক বর্ণনা সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন, উমর ইবন খাত্তাব (রা) আমাদেরকে নসিহত করলেন। তিনি আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করলেন এবং যিনাকারীকে পাথর মেরে হত্যা করার কথা আলোচনা করে বললেন, তোমরা ধোঁকা খেয়ে যিনাকারীকে পাথর মেরে হত্যা করা থেকে বিরত থাকবে না। কেননা তা আল্লাহ তা'আলার অন্যতম হদ্দ (শরীয়ত নির্ধারিত শাস্তি)। তোমরা জেনে রেখো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যিনাকারীকে পাথর মেরে হত্যা করেছেন। তাঁর পরে আমরা যিনাকারীকে পাথর মেরে হত্যা করেছি। যদি মানুষ না বলত উমর (রা) আল্লাহ তা'আলার কিতাবে এমন কথা সংযোজন করেছে যা তাতে নেই তাহলে আমি কুরআনের এক প্রান্তে লিখতাম, উমর ইবন খাত্তাব (রা) আব্দুর রহমান ইবন আউফ (রা) অমুক এবং অমুক সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রজম করেছেন। আর আমরা তাঁর পরে রজম করেছি। তোমাদের পরে একদল লোক হবে যারা রজম, দাজ্জাল, শাফায়াত, কবরের আযাবকে অস্বীকার করবে এবং দোযখের আগুনে দগ্ধ হওয়ার পর একদল লোককে তা থেকে বের করাকে অস্বীকার করবে।
(বুখারী, মুসলিম, মালিক, শাফিয়ী, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ দাজ্জাল এবং তার পরবর্তী হাদীসের অংশের উল্লেখ ছাড়া)।
*টীকা, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আল্লাহ তা'আলার ইরশাদ أَوْ يَجْعَلُ اللهُ لَهُنَّ سَبِيلًا কিংবা করে দেন আল্লাহ তাদের জন্য কোন পথ। (সূরা নিসা : ১৫) এর ব্যাখ্যা করেছেন, বিবাহিত যিনাকারী পুরুষ এবং মহিলাকে পাথর মেরে হত্যা করা। আর অবিবাহিত যিনাকারী পুরুষ এবং মহিলাকে একশত চাবুক মারা।
তাঁর থেকে দ্বিতীয় এক বর্ণনা সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন, উমর ইবন খাত্তাব (রা) আমাদেরকে নসিহত করলেন। তিনি আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করলেন এবং যিনাকারীকে পাথর মেরে হত্যা করার কথা আলোচনা করে বললেন, তোমরা ধোঁকা খেয়ে যিনাকারীকে পাথর মেরে হত্যা করা থেকে বিরত থাকবে না। কেননা তা আল্লাহ তা'আলার অন্যতম হদ্দ (শরীয়ত নির্ধারিত শাস্তি)। তোমরা জেনে রেখো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যিনাকারীকে পাথর মেরে হত্যা করেছেন। তাঁর পরে আমরা যিনাকারীকে পাথর মেরে হত্যা করেছি। যদি মানুষ না বলত উমর (রা) আল্লাহ তা'আলার কিতাবে এমন কথা সংযোজন করেছে যা তাতে নেই তাহলে আমি কুরআনের এক প্রান্তে লিখতাম, উমর ইবন খাত্তাব (রা) আব্দুর রহমান ইবন আউফ (রা) অমুক এবং অমুক সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রজম করেছেন। আর আমরা তাঁর পরে রজম করেছি। তোমাদের পরে একদল লোক হবে যারা রজম, দাজ্জাল, শাফায়াত, কবরের আযাবকে অস্বীকার করবে এবং দোযখের আগুনে দগ্ধ হওয়ার পর একদল লোককে তা থেকে বের করাকে অস্বীকার করবে।
(বুখারী, মুসলিম, মালিক, শাফিয়ী, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবন মাজাহ দাজ্জাল এবং তার পরবর্তী হাদীসের অংশের উল্লেখ ছাড়া)।
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
أبواب رجم الزانى المحصن وجلد البكر وتغريبه
باب دليل رجم الزانى المحصن من كتاب الله عز وجل
باب دليل رجم الزانى المحصن من كتاب الله عز وجل
عن ابن عباس (8) قال قال عمر رضى الله عنه إن الله تعالى بعث محمداً صلى الله عليه وسلم وأنزل عليه الكتاب فكان فيما أنزل عليه آية الرجم (9) فقرأنا بها وعقلناها ووعيناها فأخشى أن يطول بالناس عهد فيقولوا إنا لا نجد آية الرجم فتترك فريضة أنزلها الله تعالى (1) وأن الرجم في كتاب الله تعالى حق (2) على من زنا إذا أحصن (3) من الرجال والنساء إذا قامت البينة أو كان الحبل أو الاعتراف (4) (وعنه من طريق ثان) (5) قال خطب عمر بن الخطاب رضى الله عنه (وفى لفظ خطبنا) فحمد الله تعالى وأثنى عليه فذكر الرجم فقال لا نخدعن عنه (6) فإنه حد من حدود الله تعالى، ألا إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد رجم ورجمنا بعده (7) ولولا أن يقول قائلون زاد عمر في كتاب الله عز وجل ما ليس منه لكتبته في ناحية من المصحف (8) شهد عمر بن الخطاب وعبد الرحمن بن عوف وفلان وفلان أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد رجم ورجمنا من بعده، ألا وإنه سيكون من بعدكم قوم يكذبون بالرجم وبالدجال وبالشفاعة وبعذاب القبر، وبقوم يخرجون من النار بعد ما امتحشوا
তাহকীক:
হাদীস নং: ২১৯
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ বিবাহিত যিনাকারীকে পাথর মেরে হত্যা করা আর অবিবাহিত যিনাকারীকে চাবুক মারা এবং তাকে নির্বাসন করা প্রসঙ্গ
পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তা'আলার কিতাব থেকে বিবাহিত যিনাকারীকে পাথর মেরে হত্যা করার দলীল।
পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তা'আলার কিতাব থেকে বিবাহিত যিনাকারীকে পাথর মেরে হত্যা করার দলীল।
২১৯। আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রজম রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অন্যতম সুন্নাত। আর রজমের আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। যারা তা এবং কুরআনের অন্য আয়াত সমূহ পাঠ করতেন তাদের একদল ইয়ামামার যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন।
(আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, বুখারী, নাসাঈ, দারাকুতনী হাদীসটির মূল বক্তব্য বর্ণনা করেছেন। আমি ইমাম আহমদ ছাড়া অন্য কারোর নিকট আলী (রা)-এর কথা রজম (পাথর মেরে হত্যা করা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাত অবগত হইনি।)
(আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, বুখারী, নাসাঈ, দারাকুতনী হাদীসটির মূল বক্তব্য বর্ণনা করেছেন। আমি ইমাম আহমদ ছাড়া অন্য কারোর নিকট আলী (রা)-এর কথা রজম (পাথর মেরে হত্যা করা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাত অবগত হইনি।)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
أبواب رجم الزانى المحصن وجلد البكر وتغريبه
باب دليل رجم الزانى المحصن من كتاب الله عز وجل
باب دليل رجم الزانى المحصن من كتاب الله عز وجل
عن على رضى الله عنه (10) قال إن الرجم سنة من سنن رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد كانت نزلت آية الرجم فهلك من كان يقرؤها وآياً من القرآن باليمامة
তাহকীক:
হাদীস নং: ২২০
হত্যা, অপরাধ ও রক্তপাতের বিধান
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: বিবাহিত যিনাকারীকে পাথর মেরে হত্যা করা এবং অবিবাহিত যিনাকারীকে একশত চাবুক মারা এবং এক বছর নির্বাসন দেয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।
২২০। আবু হুরায়রা (রা), যায়েদ ইবন খালিদ জুহানী (রা), এবং শিবল (রা) থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট ছিলাম। জনৈক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ করে বলছি, আপনি আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব দিয়ে ফয়সালা করুন। তার প্রতিপক্ষ (যে তার চেয়ে অধিক বুঝমান ছিল) দাঁড়িয়ে বলল, সে সত্য বলেছে। আপনি আমাদের মাঝে আল্লাহ তা'আলার কিতাব দিয়ে ফয়সালা করুন। আর আমাকে কথা বলার অনুমতি দিন। তিনি বললেন, তুমি বল, সে বলল, আমার ছেলে এ ব্যক্তির শ্রমিক ছিল। সে তার স্ত্রীর সাথে যিনা করেছে। আমি তার রক্তপণ একশত বকরী এবং একটি খাদেম দিয়েছি। অতঃপর আমি আলেমগণের নিকট সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। তারা আমাকে অবহিত করেছেন যে, আমার ছেলেকে একশত চাবুক মারতে হবে এবং এক বছর নির্বাসন দিতে হবে, আর এ ব্যক্তির স্ত্রীকে পাথর মেরে হত্যা করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যে সত্তার হাতে আমার জীবন তাঁর শপথ! আমি তোমাদের মাঝে আল্লাহ তা'আলার কিতাব দিয়ে ফয়সালা করছি, তুমি একশত বকরী এবং খাদেম ফেরত পাবে। আর তোমার ছেলেকে একশত চাবুক মারতে হবে এবং এক বছর নির্বাসন দিতে হবে। আর তিনি আসলাম বংশের উনাইস নামক একজন সাহাবী (রা)-কে বললেন, হে উনাইস! তুমি আগামীকল্য এ ব্যক্তির স্ত্রীর নিকট যাবে। যদি সে যিনা করার কথা স্বীকার করে তাকে পাথর মেরে হত্যা করবে। তিনি পরের দিন লোকটির স্ত্রীর নিকট গেলেন। সে যিনা করার কথা স্বীকার করলে তিনি তাকে পাথর মেরে হত্যা করলেন।
(বুখারী, মুসলিম, মালিক, শাফিয়ী, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ এবং অন্যরা)
(বুখারী, মুসলিম, মালিক, শাফিয়ী, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবন মাজাহ এবং অন্যরা)
كتاب القتل والجنايات وأحكام الدماء
باب ما جاء في رجم الزانى المحصن وجلد البكر وتغريبه عاماً
حدّثنا سفيان عن الزهرى قال أخبرنى عبيد الله بن عبد الله (2) أنه سمع أبا هريرة وزيد بن خالد الجهنى وشبلا (3) قال سفيان قال بعض الناس ابن معبد (4) والذى حفظت شبلاً قالوا كنا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فقام رجل فقال أنشدك الله (5) إلا قضيت بيننا بكتاب الله (6) فقام خصمه وكان أفقه منه (7) فقال صدق، اقض بيننا بكتاب الله عز وجل وائذن لى فأتكلم: قال قل، قال إن ابنى كان عسيفاً (1) على هذا وإنه زنى بامرأته فافتديت منه بمائة شاة وخادم، ثم سألت رجالاً من أهل العلم (2) فأخبرونى أن على ابنى جلد مائة وتغريب عام، وعلى امرأة هذا الرجم، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم والذى نفسى بيده لأقضين بينكما بكتاب الله عز وجل، المائة شاة والخادم ردّ عليك (3)، وعلى ابنك جلد مائة وتغريب عام (4) واغد يا أنيس رجل من أسلم على امرأة هذا فإن اعترفت فارجمها فغدا عليها فاعترفت فرجمها
তাহকীক: