রিয়াযুস সালিহীন-ইমাম নববী রহঃ
رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين
৯. ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ২৬ টি
হাদীস নং: ১০৩৬
ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ আযানের ফযীলত: আযানের আওয়াজে শয়তানের পলায়ন
১০৩৬. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যখন নামাযের জন্য আযান দেওয়া হয়, তখন শয়তান সশব্দে বায়ু ত্যাগ করতে করতে পালায়, যাতে আযানের আওয়াজ শুনতে না পায়। তারপর যখন আযান শেষ হয়ে যায়, ফিরে আসে। তারপর যখন নামাযের জন্য ইকামত দেওয়া হয়, তখনও পালায়। যখন ইকামত শেষ হয়ে যায়, আবার ফিরে আসে এবং মানুষের মনে ওয়াসওয়াসা সৃষ্টি করতে থাকে আর যা তার মনে থাকে না সে সম্পর্কে বলে, অমুক বিষয়টা মনে করো, অমুক বিষয়টা মনে করো। ফলে লোকটার এমন অবস্থা হয়ে যায় যে, সে কত রাকাত পড়েছে বলতে পারে না। -বুখারী ও মুসলিম। (সহীহ বুখারী: ৬০৮; সহীহ মুসলিম: ৩৮৯। সুনানে আবু দাউদ। ৫১৬: সুনানে নাসাঈ। ৬৭০; মুসান্নাফে ইবন আবী শায়বা: ২৩৭৪; মুসনাদে আহমাদ ৮১২১; সহীহ ইবন খুযায়মা: ৩৯২; তহাবী, শারহু মা'আনিল আছার: ২৫০৭; সুনানে দারা কুতনী: ১৪০৪)
كتاب الفضائل
باب فضل الأذان
1036 - وعن أَبي هريرة - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رسول الله - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا نُودِيَ بالصَّلاَةِ، أدْبَرَ الشَّيْطَانُ، وَلَهُ ضُرَاطٌ حَتَّى لاَ يَسْمَعَ التَّأذِينَ، فَإذَا قُضِيَ النِّدَاءُ أقْبَلَ، حَتَّى إِذَا ثُوِّبَ للصَّلاةِ أدْبَرَ، حَتَّى إِذَا قُضِيَ التَّثْوِيبُ أقْبَلَ، حَتَّى يَخْطِرَ بَيْنَ المَرْءِ وَنَفْسِهِ، يَقُولُ: اذْكُرْ كَذَا واذكر كَذَا - لِمَا لَمْ يَذْكُر مِنْ قَبْلُ - حَتَّى يَظَلَّ الرَّجُلُ مَا يَدْرِي كَمْ صَلَّى». متفقٌ عَلَيْهِ. (1)
«التَّثْوِيبُ»: الإقَامَةُ.
«التَّثْوِيبُ»: الإقَامَةُ.
হাদীস নং: ১০৩৭
ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ আযানের ফযীলত: আযানের জবাবে যা বলবে
১০৩৭. হযরত আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস রাযি. থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, তোমরা যখন আযান শোন, তখন মুআযযিন যা বলে অনুরূপ বলো। তারপর আমার প্রতি দরূদ পড়ো। কেননা যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরূদ পড়ে, আল্লাহ তার প্রতি তার বদলে দশবার রহমত নাযিল করেন। তারপর আমার জন্য আল্লাহর কাছে অসিলা প্রার্থনা করো। অসিলা হলো জান্নাতে এমন একটি স্থান, যা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল এক বান্দার জন্যই উপযোগী। আমি আশা করি সে আমিই। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার জন্য অসিলা প্রার্থনা করবে, তার জন্য শাফা'আত অবধারিত হয়ে যাবে। -মুসলিম। (সহীহ মুসলিম: ৩৮৩: সুনানে আবু দাউদ: ৫২৩; সুনানে নাসাঈ ৬৭৮; সহীহ ইবন খুযায়মা: ৪১৮; তহাবী, শারহু মা'আনিল আছার ৮৭৮; মুসনাদে আহমাদ: ৬৫৬৯; সহীহ ইবন হিব্বান: ১৬৯২; তাবারানী, আল মু'জামুল আওসাত: ৯৩৩৫; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা: ১৯৩১)
كتاب الفضائل
باب فضل الأذان
1037 - وعن عبدِ الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما: أنّه سمع رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يقول: «إِذَا سَمِعْتُمُ النداء فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ، ثُمَّ صَلُّوا عَلَيَّ؛ فَإنَّه مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلاَةً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا، ثُمَّ سَلُوا اللهَ لِيَ الوَسِيلَةَ؛ فَإنَّهَا مَنْزِلَةٌ في الجَنَّةِ لاَ تَنْبَغِي إِلاَّ لِعَبْدٍ مِنْ عِبَادِ اللهِ وَأرْجُو أَنْ أكونَ أنَا هُوَ، فَمَنْ سَألَ لِيَ الوَسِيلَةَ حَلَّتْ لَهُ الشَّفَاعَةُ». رواه مسلم. (1)
হাদীস নং: ১০৩৮
ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ আযানের ফযীলত: আযানের জবাবে যা বলবে
১০৩৮. হযরত আবূ সা'ঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা যখন আযান শোন, তখন মুআযযিন যা বলে অনুরূপ বলো। -বুখারী ও মুসলিম। (সহীহ বুখারী: ৬১১; সহীহ মুসলিম: ৩৮৩; সুনানে ইবন মাজাহ: ৭২০; মুসনাদুল বাযযার: ৬৬৭৮; মুসান্নাফে ইবন আবী শায়বা: ২৩৫৭; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক: ১৮৪২)
كتاب الفضائل
باب فضل الأذان
1038 - وعن أَبي سعيد الخدري - رضي الله عنه: أنَّ رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «إِذَا سَمِعْتُمُ النِّدَاءَ، فَقُولُوا كَمَا يَقُولُ المُؤذِّنُ». متفقٌ عَلَيْهِ. (1)
হাদীস নং: ১০৩৯
ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ আযানের ফযীলত: আযানের দু'আ
১০৩৯. হযরত জাবির রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আযান শুনে বলবে- اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ (হে আল্লাহ! এই পূর্ণাঙ্গ আহ্বান ও আসন্ন নামাযের প্রতিপালক! আপনি মুহাম্মাদকে দান করুন অসিলা ও শ্রেষ্ঠত্ব। এবং তাঁকে পৌঁছে দিন সেই প্রশংসিত স্থানে, যার ওয়াদা আপনি করেছেন), কিয়ামতের দিন তার জন্য আমার শাফাআত ওয়াজিব হয়ে যাবে। -বুখারী। (সহীহ বুখারী: ৬১৪; সুনানে আবু দাউদ: ৫২৯; সুনানে নাসাঈ ৬৮০; জামে তিরমিযী: ২১১: সুনানে ইবন মাজাহ ৭২০; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক: ১৯১১; মুসান্নাফে ইবন আবী শায়বা: ২৩৬৫; সহীহ ইবন খুযায়মা: ৪২০; তহাবী, শারহু মা'আনিল আছার ৮৯৫; সহীহ ইবন হিব্বান: ১৬৮৯)
كتاب الفضائل
باب فضل الأذان
1039 - وعن جابر - رضي الله عنه: أنَّ رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «مَنْ قَالَ حِيْنَ يَسْمَعُ النِّدَاءَ: اللَّهُمَّ رَبَّ هذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ، وَالصَّلاَةِ القَائِمَةِ، آتِ مُحَمَّدًا الوَسِيلَةَ، وَالفَضِيلَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ، حَلَّتْ لَهُ شَفَاعَتي يَوْمَ القِيَامَةِ». رواه البخاري. (1)
হাদীস নং: ১০৪০
ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ আযানের ফযীলত: আযানের আরেকটি দুআ
১০৪০. হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি মুআযযিনের আযান শুনে বলবে-
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ، رَضِيتُ بِاللهِ رَبًّا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا ، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا
(আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোনও মাবুদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনও শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আমি এতে সন্তুষ্ট যে, আল্লাহ রব্ব, মুহাম্মাদ আমার রাসূল এবং ইসলাম আমার দীন), তার পাপরাশি ক্ষমা করে দেওয়া হবে। -মুসলিম। (সহীহ মুসলিম: ৩৮৬; সুনানে আবু দাউদ: ৫২৫; সুনানে নাসাঈ ৬৭৯; জামে তিরমিযী: ২১০; সুনানে ইবন মাজাহ ৭২০; মুসনাদে আহমাদ: ১৫৬৫; মুসনাদুল বাযযার: ১১৩০: মুসনাদে আবু ইয়া'লা ৭২২; সহীহ ইবন খুযায়মা ৪২১; তহাবী, শারহু মা'আনিল আছার: ৮৯১)
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ، رَضِيتُ بِاللهِ رَبًّا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا ، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا
(আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোনও মাবুদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনও শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আমি এতে সন্তুষ্ট যে, আল্লাহ রব্ব, মুহাম্মাদ আমার রাসূল এবং ইসলাম আমার দীন), তার পাপরাশি ক্ষমা করে দেওয়া হবে। -মুসলিম। (সহীহ মুসলিম: ৩৮৬; সুনানে আবু দাউদ: ৫২৫; সুনানে নাসাঈ ৬৭৯; জামে তিরমিযী: ২১০; সুনানে ইবন মাজাহ ৭২০; মুসনাদে আহমাদ: ১৫৬৫; মুসনাদুল বাযযার: ১১৩০: মুসনাদে আবু ইয়া'লা ৭২২; সহীহ ইবন খুযায়মা ৪২১; তহাবী, শারহু মা'আনিল আছার: ৮৯১)
كتاب الفضائل
باب فضل الأذان
1040 - وعن سعدِ بن أَبي وقَّاصٍ - رضي الله عنه - عن النبي - صلى الله عليه وسلم - أنَّه قَالَ: «مَنْ قَالَ حِيْنَ يَسْمَعُ المُؤَذِّنَ: أشْهَدُ أَنْ لاَ إلَه إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، وَأنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، رَضِيتُ بِاللهِ رَبًّا، وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولًا، وَبِالإسْلامِ دِينًا، غُفِرَ لَهُ ذَنْبُهُ». رواه مسلم. (1)
হাদীস নং: ১০৪১
ফাযাঈলে আ'মালের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ আযানের ফযীলত: আযান ও ইকামতের মাঝখানে দুআ কবুল হওয়া
১০৪১. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আযান ও ইকামতের মাঝখানের দুআ প্রত্যাখ্যান করা হয় না। -আবু দাউদ ও তিরমিযী। (সুনানে আবু দাউদ: ৫২১; জামে তিরমিযী: ২১২; নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা: ৯৮১২; মুসনাদে আবু দাউদ তয়ালিসী: ২২২০; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক: ১৯০৯; মুসান্নাফে ইবন আবী শায়বী: ৮৪৬৫; মুসনাদুল বাযযার ৬৫১১; মুসনাদে আবু ইয়া'লা: ৩৬৭৯; সহীহ ইবন খুযায়মা: ৬২৫)
كتاب الفضائل
باب فضل الأذان
1041 - وعن أنس - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رسول الله - صلى الله عليه وسلم: «الدُّعَاءُ لاَ يُرَدُّ بَيْنَ الأَذَانِ وَالإقَامَةِ». رواه أَبُو داود والترمذي، (1) وقال: «حديث حسن».