রিয়াযুস সালিহীন-ইমাম নববী রহঃ

رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين

৮. সফরের আদব-বিধান - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ২২ টি

হাদীস নং: ৯৫৬
সফরের আদব-বিধান
পরিচ্ছেদঃ সফর মানবজীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। মানবসভ্যতার বিকাশ ও সমৃদ্ধিতে এর ভূমিকা বিশাল। আবহমানকাল থেকেই মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে সফর করে আসছে। সফর করার দ্বারা সে তার দীনী ও দুনিয়াবী নানা প্রয়োজন সমাধা করছে।

তার বহু প্রয়োজন এমন রয়েছে, যা কেবল সফর করার দ্বারাই পূরণ হতে পারে। তাই ইসলাম মানুষকে সফর করার অনুমতিও দিয়েছে। বরং ক্ষেত্রবিশেষে উৎসাহদান করেছে। জীবিকা অন্বেষণের জন্য জলে-স্থলে সফর করার অনুমতি দেওয়ার পাশাপাশি এর জন্য প্রাকৃতিক সুযোগ-সুবিধা ও ব্যবস্থা দান করাকে কুরআন মাজীদে আল্লাহ তা'আলার এক বিশেষ নি'আমত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন ইরশাদ হয়েছে-

ہُوَ الَّذِیۡ یُسَیِّرُکُمۡ فِی الۡبَرِّ وَالۡبَحۡرِ ؕ حَتّٰۤی اِذَا کُنۡتُمۡ فِی الۡفُلۡکِ ۚ وَجَرَیۡنَ بِہِمۡ بِرِیۡحٍ طَیِّبَۃ

'তিনি তো আল্লাহই, যিনি তোমাদেরকে স্থলেও ভ্রমণ করান এবং সাগরেও। এভাবে তোমরা যখন নৌকায় সওয়ার হও আর নৌকাগুলো মানুষকে নিয়ে অনুকূল বাতাসে পানির উপর বয়ে চলে। (সূরা ইউনুস, আয়াত ২২)

অপর এক আয়াতে ইরশাদ-

وَلَقَدۡ کَرَّمۡنَا بَنِیۡۤ اٰدَمَ وَحَمَلۡنٰہُمۡ فِی الۡبَرِّ وَالۡبَحۡرِ وَرَزَقۡنٰہُمۡ مِّنَ الطَّیِّبٰتِ

'বাস্তবিকপক্ষে আমি আদমসন্তানকে মর্যাদা দান করেছি এবং স্থলে ও জলে তাদের জন্য বাহনের ব্যবস্থা করেছি, তাদেরকে উত্তম রিযিক দান করেছি। ( সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত ৭০)

অন্যত্র ইরশাদ-

وَالۡاَنۡعَامَ خَلَقَہَا ۚ لَکُمۡ فِیۡہَا دِفۡءٌ وَّمَنَافِعُ وَمِنۡہَا تَاۡکُلُوۡنَ ۪ وَلَکُمۡ فِیۡہَا جَمَالٌ حِیۡنَ تُرِیۡحُوۡنَ وَحِیۡنَ تَسۡرَحُوۡنَ ۪ وَتَحۡمِلُ اَثۡقَالَکُمۡ اِلٰی بَلَدٍ لَّمۡ تَکُوۡنُوۡا بٰلِغِیۡہِ اِلَّا بِشِقِّ الۡاَنۡفُسِ

'তিনিই চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন, যার মধ্যে তোমাদের জন্য শীত থেকে বাঁচার উপকরণ এবং তাছাড়া আরও বহু উপকার রয়েছে এবং তা থেকেই তোমরা খেয়েও থাক। তোমরা সন্ধ্যাকালে যখন সেগুলোকে বাড়িতে ফিরিয়ে আন এবং ভোরবেলা যখন সেগুলোকে চারণভূমিতে নিয়ে যাও, তখন তার ভেতর তোমাদের জন্য দৃষ্টিনন্দন শোভাও রয়েছে। এবং তারা তোমাদের ভার বয়ে নিয়ে যায় এমন নগরে, যেখানে প্রাণান্তকর কষ্ট ছাড়া তোমরা পৌছতে পারতে না। ( সূরা নাহল, আয়াত ৫-৭)

আরও ইরশাদ-

وَاٰخَرُوۡنَ یَضۡرِبُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ یَبۡتَغُوۡنَ مِنۡ فَضۡلِ اللّٰہِ

'অপর কিছু লোক এমন থাকবে, যারা আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধানের জন্য পৃথিবীতে ভ্রমণ করবে। (সূরা মুযযাম্মিল, আয়াত ২০)

অন্য এক আয়াতে আছে-

ہُوَ الَّذِیۡ جَعَلَ لَکُمُ الۡاَرۡضَ ذَلُوۡلًا فَامۡشُوۡا فِیۡ مَنَاکِبِہَا وَکُلُوۡا مِنۡ رِّزۡقِہٖ

'তিনিই তোমাদের জন্য ভূমিকে বশ্য করে দিয়েছেন। সুতরাং তোমরা তার কাঁধে চলাফেরা করো ও তাঁর (দেওয়া) রিযিক খাও। (৫. সূরা মুলক, আয়াত ১৫)

এরকম আরও বহু আয়াত আছে, যাতে জলে-স্থলে ভ্রমণ করতে পারাকে আল্লাহ তা'আলা মানুষের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ বলে উল্লেখ করেছেন এবং সে অনুগ্রহকে কাজে লাগিয়ে তাদের দীনী ও দুনিয়াবী নানা প্রয়োজন সমাধার প্রতি উৎসাহদান করেছেন। মানুষের এক প্রয়োজন তো হলো জীবিকা নির্বাহ করা। জীবিকার সন্ধানে মানুষকে দেশ-বিদেশে সফরও করতে হয়। কুরআন নাযিলের কালে মক্কা মুকারামার অধিবাসীদের উপার্জনমাধ্যমই ছিল ব্যবসা-বাণিজ্য করা। তাই তাদেরকে গ্রীষ্মকালে শাম অঞ্চলে এবং শীতকালে ইয়েমেন এলাকায় বাণিজ্যিক সফর করতে হতো। সেদিকে ইঙ্গিত করে সূরা কুরায়শে ইরশাদ হয়েছে-

لِإِيلَافِ قُرَيْشٍ. إِيلَافِهِمْ رِحْلَةَ الشِّتَاءِ وَالصَّيْفِ. فَلْيَعْبُدُوا رَبَّ هَٰذَا الْبَيْتِ. الَّذِي أَطْعَمَهُم مِّن جُوعٍ وَآمَنَهُم مِّنْ خَوْفٍ

'যেহেতু কুরায়শের লোকেরা অভ্যস্ত অর্থাৎ তারা শীত ও গ্রীষ্মকালে (ইয়েমেন ও শামে) সফর করতে অভ্যস্ত, তাই তারা যেন এই ঘরের মালিকের ইবাদত করে, যিনি তাদেরকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় খাদ্য দিয়েছেন এবং ভয়-ভীতি হতে তাদেরকে নিরাপদ রেখেছেন। সুরা কু্রাইশ, আয়াত: ১-৪

বিশ্বায়নের এ যুগে বাণিজ্যিক সফর এক সাধারণ বাস্তবতা। সারা বিশ্বেই মানুষ ব্যবসায়িক প্রয়োজনে দেশ-দেশান্তর ভ্রমণ করছে। আজ বিশ্বঅর্থনীতির সচলতা অনেকাংশে বাণিজ্যিক সফরের উপর নির্ভরশীল। ব্যক্তিগত, সামষ্টিক ও রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য উপলক্ষ্যে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ হামেশা জলে-স্থলে পরিভ্রমণ করছে।

ভ্রমণের একটি বড় উপলক্ষ্য হলো বিদ্যার্জন। এ উপলক্ষ্যে অগণিত শিক্ষার্থী নিজ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গন ছাড়াও বহির্বিশ্বের হাজারও বিদ্যাপীঠে পাড়ি জমাচ্ছে। আধুনিক যানবাহনের সুব্যবস্থার কারণে অতি সহজেই শিক্ষার্থীগণ জ্ঞানপিপাসা নিবারণের উদ্দেশ্যে দূরদূরান্তে ছুটে যেতে পারছে। আগের দিনে বিষয়টা এমন সহজ ছিল না। কিন্তু তা সত্ত্বেও তখনকার দিনে উদ্যমী শিক্ষার্থীগণ উটের পিঠে করে, এমনকি পায়ে হেঁটেও শত শত মাইল নয়; বরং হাজারও মাইল দূরের সফর করত। কুরআন মাজীদে হযরত মূসা আলাইহিস সালামের শিক্ষাসফরের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তিনি এক মহান নবী। নবুওয়াতী জ্ঞান তো তিনি ওহীর মাধ্যমেই পেয়েছিলেন। আল্লাহ তা'আলা তাঁকে প্রাকৃতিক রহস্যের বিশেষ জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে সফর করার হুকুম দেন। সুতরাং তিনি খাদেম ইয়ুশা' আলাইহিস সালামকে সঙ্গে নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। কুরআন মাজীদ তার অলৌকিক বর্ণনাশৈলীতে বিস্তারিতভাবে সে ঘটনা বর্ণনা করেছে। তার শুরুতে আছে-

وَاِذۡ قَالَ مُوۡسٰی لِفَتٰىہُ لَاۤ اَبۡرَحُ حَتّٰۤی اَبۡلُغَ مَجۡمَعَ الۡبَحۡرَیۡنِ اَوۡ اَمۡضِیَ حُقُبًا

'এবং (সেই সময়ের বৃত্তান্ত শোনো) যখন মূসা তার যুবক (শিষ্য)-কে বলেছিল, আমি দুই সাগরের সঙ্গমস্থলে না পৌঁছা পর্যন্ত চলতেই থাকব অথবা আমি চলতে থাকব বছরের পর বছর। সূরা কাহফ, আয়াত ৬০

জ্ঞান আহরণের লক্ষ্যে বিপৎসংকুল সফরের দিক থেকে আমাদের ইসলামী জ্ঞানচর্চার ইতিহাস বড় বিস্ময়কর। হিজরী কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত মক্কা-মদীনা, কূফা-বসরা, দামেশক ও বাগদাদ যখন দীনী জ্ঞানবিদ্যার কেন্দ্ররূপে আলো ছড়াচ্ছিল, তখন হাদীছ, ফিকহ ইত্যাদি শাস্ত্রীয় জ্ঞান আহরণের লক্ষ্যে হাজারও শিক্ষার্থীর ভিড়ে এসব কেন্দ্র সদা সরগরম থাকত। তারা আসত আফ্রিকার দূর-দূরান্তের দেশ, পশ্চিম ইউরোপের স্পেন এবং মধ্য ও পূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে। এজন্য তাদেরকে দুর্গম কঠিন পথ পাড়ি দিতে হতো। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস সফর করতে হতো পায়ে হেঁটে কিংবা কোনও বাহনজম্ভর পিঠে চড়ে। ইসলামের সে এক রোমাঞ্চকর ইতিহাস। এক গৌরবজনক অধ্যায়।

বস্তুত জ্ঞান অর্জনের জন্য সফর করা অপরিহার্য। সফর করা ও সফরের কষ্ট-ক্লেশ সহ্য করা ছাড়া জ্ঞান অর্জন করা বিশেষত দীনী ইলম হাসিল করার সৌভাগ্য কদাচ ঘটে। তাই তো কুরআন মাজীদে দীনী ইলম হাসিল করার জন্য সফরের আদেশ করা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَمَا کَانَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ لِیَنۡفِرُوۡا کَآفَّۃً ؕ فَلَوۡلَا نَفَرَ مِنۡ کُلِّ فِرۡقَۃٍ مِّنۡہُمۡ طَآئِفَۃٌ لِّیَتَفَقَّہُوۡا فِی الدِّیۡنِ وَلِیُنۡذِرُوۡا قَوۡمَہُمۡ اِذَا رَجَعُوۡۤا اِلَیۡہِمۡ لَعَلَّہُمۡ یَحۡذَرُوۡنَ

'মুসলিমদের পক্ষে এটাও সমীচীন নয় যে, তারা সকলে একসঙ্গে বের হয়ে যাবে। সুতরাং তাদের প্রতিটি বড় দল থেকে একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দীনের উপলব্ধি অর্জনের চেষ্টা করে এবং সতর্ক করে তাদের কওমকে, যখন তারা তাদের কাছে ফিরে আসবে, ফলে তারা সতর্ক থাকবে।' (সূরা তাওবা, আয়াত ১২২)

আরেক আছে রাজা-বাদশাহদের রাজ্যবিস্তারের অভিযান। প্রাচীনকালে নৃপতিগণ যোদ্ধাদের নিয়ে বের হতে পড়ত। একের পর এক দেশ জয় করে সামনের দিকে চলতে থাকত। এভাবে কেটে যেত মাসের পর মাস, কখনও বছরের পর বছর। ইসলামের শুরুর কয়েক যুগ মুসলিম মুজাহিদগণ শাহাদাতের অদম্য উদ্দীপনায় মহান জিহাদের যে সফরসমূহ করেছেন, মানবসভ্যতার উৎকর্ষ সাধনে তার রয়েছে বিশাল ভূমিকা। সে ধারা অব্যাহত না থাকায় মানবজাতি অপূরণীয় ক্ষতির শিকার। আজ বিশ্বব্যাপী যে অস্থিরতা ও অশান্তির কবলে মানুষ ও মনুষ্যত্ব বিপর্যস্ত, তা ইসলামের ওই মহান জিহাদী সফর থেমে যাওয়ারই পরিণতি। কাজেই আজ প্রয়োজন প্রতিটি মুসলিম রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে থেমে যাওয়া সে গতিধারার নবসঞ্চালন। পবিত্র কুরআন আল্লাহ তা'আলার শাশ্বত নির্দেশ শোনায়-

اِنۡفِرُوۡا خِفَافًا وَّثِقَالًا وَّجَاہِدُوۡا بِاَمۡوَالِکُمۡ وَاَنۡفُسِکُمۡ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ؕ ذٰلِکُمۡ خَیۡرٌ لَّکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ

'(জিহাদের জন্য) বের হয়ে পড়ো, তোমরা হালকা অবস্থায় থাক বা ভারী অবস্থায় এবং নিজেদের জান-মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করো। তোমরা যদি বুঝ-সমঝ রাখ, তবে এটাই তোমাদের পক্ষে উত্তম। (সূরা তাওবা, আয়াত ৪১)

বিশ্বজগৎ জুড়ে আল্লাহ তা'আলার অসীম ক্ষমতা ও কুদরতের যে নিদর্শনাবলি বিরাজমান রয়েছে, তা চাক্ষুষ করে উপদেশগ্রহণ করার জন্যও দেশ-বিদেশে সফর করা দরকার। কোথাও আকাশচুম্বী পাহাড়, কোথাও দিগন্তবিস্তৃত মরুভূমি, কোথাও কূল-কিনারাহীন জলরাশি, দেশে দেশে বিচিত্র ভাষার মানুষ, হরেক রূপ ও বর্ণের জীবজন্তু, কী না আছে কুদরতের এ বিশাল ভান্ডারে? আছে ইতিহাসের সাক্ষী। হয়েছে কত জাতির উত্থান। কত জাতি হয়েছে ধ্বংস। ভূপৃষ্ঠ থেকে তাদের অনেকের শেষ চিহ্নটুকু মুছে গেলেও বহু জাতির ধ্বংসাবশেষ আজও পর্যন্ত কালের সাক্ষী হয়ে বিদ্যমান আছে। বুদ্ধিমান মানুষের উচিত পৃথিবী পরিভ্রমণ করে কুদরতের সেসব নিদর্শন দেখা। দরকার তা দেখে দেখে নিজ বুদ্ধি-বিবেক ও অন্তর্দৃষ্টি আলোকিত করা। আল্লাহ তা'আলা বলেন-

اَفَلَمۡ یَسِیۡرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ فَتَکُوۡنَ لَہُمۡ قُلُوۡبٌ یَّعۡقِلُوۡنَ بِہَاۤ اَوۡ اٰذَانٌ یَّسۡمَعُوۡنَ بِہَا ۚ فَاِنَّہَا لَا تَعۡمَی الۡاَبۡصَارُ وَلٰکِنۡ تَعۡمَی الۡقُلُوۡبُ الَّتِیۡ فِی الصُّدُوۡرِ

'তবে কি তারা ভূমিতে চলাফেরা করেনি, যা দ্বারা তাদের এমন অন্তঃকরণ লাভহতো, যা দ্বারা তারা (সত্য) উপলব্ধি করত কিংবা এমন কান লাভ হতো, যা দ্বারা তা শুনতে পেত। প্রকৃতপক্ষে চোখ অন্ধ হয় না; বরং অন্ধ হয় সেই হৃদয়, যা বক্ষদেশে বিরাজ করে। (সূরা হজ্জ, আয়াত ৪৬)

সবচে' বড় কথা ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ যে হজ্জ, তা আদায়ের জন্যও সফর করার প্রয়োজন হয়। আল্লাহ তা'আলার ডাকে সাড়া দেওয়ার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত সে সফর বড়ই মহিমান্বিত এক সচলতা। এ সম্পর্কে কুরআন মাজীদের হৃদয়স্পর্শী ভাষায় ইরশাদ-

وَاَذِّنۡ فِی النَّاسِ بِالۡحَجِّ یَاۡتُوۡکَ رِجَالًا وَّعَلٰی کُلِّ ضَامِرٍ یَّاۡتِیۡنَ مِنۡ کُلِّ فَجٍّ عَمِیۡقٍ ۙ لِّیَشۡہَدُوۡا مَنَافِعَ لَہُمۡ

'এবং মানুষের মধ্যে হজ্জের ঘোষণা দাও। তারা তোমার কাছে আসবে পদযোগে এবং দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রমকারী উটের পিঠে সওয়ার হয়ে যেগুলো (দীর্ঘ সফরের কারণে) রোগা হয়ে গেছে। যাতে তারা তাদের জন্য স্থাপিত কল্যাণসমূহ প্রত্যক্ষ করে। (সূরা হজ্জ, আয়াত ২৭, ২৮)

আসলে সফরের রয়েছে বহু উপকারিতা। এর দ্বারা জ্ঞান-প্রজ্ঞা সমৃদ্ধ হয়, অভিজ্ঞতা বাড়ে, বিবেক-বুদ্ধি শানিত হয়, মহান ব্যক্তিবর্গের সান্নিধ্য লাভ হয়, হিম্মত জাগ্রত হয়, অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত হয় ও মন নরম হয়, সতর্কতা, সহমর্মিতা, ধৈর্য-স্থৈর্য, কষ্টসহিষ্ণুতা ইত্যাদি সদগুণে পরিপক্বতা আসে। ইমাম শাফি'ঈ রহ. বলেন, উন্নতির সন্ধানে দেশ-বিদেশে সফর করো। সফরের বিশেষ পাঁচটি ফায়দা রয়েছে। এর দ্বারা দুঃখ-দুশ্চিন্তা লাঘব হয়, জীবিকা অর্জিত হয়, জ্ঞান অর্জন করা যায়, জীবনের বহুমুখী শিষ্টাচার শেখা যায় এবং মহান ব্যক্তিবর্গের সান্নিধ্য লাভ হয়।

সফরের একটি বিশেষ ফায়দা হলো দুআ কবুল হওয়া। সফর অবস্থায় যে দুআ করা হয়, আল্লাহ তা'আলা তা কবুল করেন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

ثَلَاثُ دَعَوَاتٍ مُسْتَجَابَاتٌ لَا شَكَّ فِيهِنَّ دَعْوَةُ الْمَظْلُومِ وَدَعْوَةُ الْمُسَافِرِ وَدَعْوَةُ الْوَالِدِ عَلَى وَلَدِهِ

'তিনটি দুআ কবুল হয়। তাতে কোনও সন্দেহ নেই। মজলুম ব্যক্তির দুআ, মুসাফিরের দুআ এবং সন্তানের জন্য পিতার দুআ।' (জামে' তিরমিযী: ১৯০৫; সুনানে আবু দাউদ: ১৫৩৬; সুনানে ইবন মাজাহ: ৩৮৬২; মুসনাদে আহমাদ: ৭৫০২; মুসনাদে আবু দাউদ তয়ালিসী: ২৬৩৯; সহীহ ইবন হিব্বান: ২৬৯৯; তাবারানী, আল মু'জামুল আওসাত: ২৪; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা: ৬৩৯২। শু'আবুল ঈমান। ৭০৫৯)

এতসব উপকার ও কল্যাণ যার মধ্যে নিহিত, সেই সফর তো আপন আপন সামর্থ্য অনুযায়ী করাই উচিত। তবে যেমন ইচ্ছা তেমনি সফর করলেই যে সেই কল্যাণ লাভ হবে এমন নয়। এর জন্য কিছু নীতি-নিয়ম রয়েছে। রয়েছে অনেক আদব। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন হাদীছে আমাদেরকে তা শিক্ষা দিয়েছেন। রিয়াযুস সালেহীনের এ ভাগটি সে সম্পর্কেই। সফরের বিভিন্ন নিয়ম ও আদব সংবলিত হাদীছসমূহ এ ভাগে উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা এসব হাদীছ মনোযোগ সহকারে পড়ব ও এ অনুযায়ী আমল করতে সচেষ্ট থাকব। আল্লাহ তা'আলা তাওফীক দান করুন।

বৃহস্পতিবারে বের হওয়া এবং দিনের শুরুভাগে বের হওয়া
৯৫৬. হযরত কা'ব ইবন মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুকের যুদ্ধে বের হন বৃহস্পতিবার। তিনি বৃহস্পতিবার (সফরে) বের হওয়া পছন্দ করতেন। -বুখারী ও মুসলিম। (সহীহ বুখারী: ২৯৫০; সুনানে আবু দাউদ: ২৬০৫; নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা: ৮৭৩৪; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক ৯২৭০; তাবারানী, আল মু'জামুল আওসাত: ১২৯১; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা: ১৪৮৫৫; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ২৬৭৩; মুসনাদে আহমাদ: ১৫৭৮১)

সহীহায়নের (অর্থাৎ বুখারী ও মুসলিমের) অপর এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃহস্পতিবার ছাড়া অন্যদিনে (সফরে) কমই বের হতেন।
كتاب آداب السفر
باب استحباب الخروج يوم الخميس، واستحبابه أول النهار
956 - عن كعب بن مالك - رضي الله عنه: أنَّ النبيَّ - صلى الله عليه وسلم - خَرَجَ في غَزْوَةِ تَبُوكَ يَوْمَ الخَمِيس، وَكَانَ يُحِبُّ أَنْ يَخْرُجَ يَوْمَ الْخَميسِ. متفقٌ عَلَيْهِ. (1)
وفي رواية في الصحيحين: لقَلَّمَا كَانَ رسولُ الله - صلى الله عليه وسلم - يَخْرُجُ إِلاَّ في يَوْمِ الخَمِيسِ.
হাদীস নং: ৯৫৭
সফরের আদব-বিধান
পরিচ্ছেদঃ বৃহস্পতিবারে বের হওয়া এবং দিনের শুরুভাগে বের হওয়া
৯৫৭. হযরত সাখ্‌র ইবন ওয়াদা'আ আল-গামিদী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাঁর এক দু'আয়) বলেন- اللَّهُمَّ بَارِكْ لِأُمَّتِي فِي بُكُورِها (হে আল্লাহ! আমার উম্মতের দিনের শুরুভাগে বরকত দিন)। তিনি যখন কোনও ছোট বা বড় সেনাদল পাঠাতেন, তাদেরকে পাঠাতেন দিনের শুরুভাগে। সা নিজে একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি তাঁর ব্যবসার মালামাল পাঠাতেন দিনের শুরুতে। ফলে তিনি ঐশ্বর্যশালী হয়ে যান এবং তাঁর সম্পদ বৃদ্ধি পায়। -আবু দাউদ ও তিরমিযী। (সুনানে আবু দাউদ: ২৬০৬; জামে' তিরমিযী: ১২১২; সুনানে ইবন মাজাহ: ২২৩৬; নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা: ৮৭৮২; মুসনাদে আবু দাউদ তয়ালিসী: ১৩৪২; মুসান্নাফে ইবন আবী শায়বা: ৩৩৬১৯; তাবারানী, আল মু'জামুল কাবীর ৭২৭৫; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা: ১৮৪৫৬)
كتاب آداب السفر
باب استحباب الخروج يوم الخميس، واستحبابه أول النهار
957 - وعن صخر بن وَداعَةَ الغامِدِيِّ الصحابيِّ - رضي الله عنه: أنَّ رسولَ الله - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «اللَّهُمَّ بَارِكْ لأُمَّتِي في بُكُورِهَا (1)» وَكَانَ إِذَا بَعَثَ سَرِيَّةً أَوْ جَيْشًا بَعَثَهُمْ مِنْ أوَّلِ النَّهَارِ. وَكَانَ صَخْرٌ تَاجِرًا، وَكَانَ يَبْعَثُ تِجَارَتَهُ أوَّلَ النَّهَار، فَأَثْرَى وَكَثُرَ مَالُهُ. رواه أَبُو داود والترمذي، (2) وقال: «حديث حسن».
হাদীস নং: ৯৫৮
সফরের আদব-বিধান
পরিচ্ছেদঃ সফরসঙ্গী সন্ধান করা এবং সকলে যার আনুগত্য করবে এমন একজনকে নিজেদের আমীর বানিয়ে নেওয়া: বিনা ওজরে একাকী সফর না করা
৯৫৮. হযরত আব্দুল্লাহ ইবন উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, একাকিত্বের ভেতর যে (ক্ষতি) রয়েছে তা যদি লোকে জানত, যেমনটা আমি জানি, তবে কোনও আরোহী রাতে একা সফর করত না। -বুখারী। (সহীহ বুখারী: ২৯৯৮; জামে' তিরমিযী: ১৬৭৩; মুসনাদে আহমাদ: ৪৭৭০; মুসান্নাফে ইবন আবী শায়বা: ৩৩৬৩৯; নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা: ৮৮০০; সহীহ ইবন হিব্বান: ২৭০৪; তাবারানী, আল মু'জামুল আওসাত: ৭৩৯৭; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা : ১০৩৪৮। বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ২৬৭৫)
كتاب آداب السفر
باب استحباب طلب الرفقة وتأميرهم عَلَى أنفسهم واحدًا يطيعونه
958 - عن ابن عمرَ رضي اللهُ عنهما، قَالَ: قَالَ رسولُ الله - صلى الله عليه وسلم: «لَوْ أنَّ النَّاسَ يَعْلَمُونَ مِنَ الوَحدَةِ مَا أَعْلَمُ، مَا سَارَ رَاكبٌ بِلَيْلٍ وَحْدَهُ!». رواه البخاري. (1)
হাদীস নং: ৯৫৯
সফরের আদব-বিধান
পরিচ্ছেদঃ সফরসঙ্গী সন্ধান করা এবং সকলে যার আনুগত্য করবে এমন একজনকে নিজেদের আমীর বানিয়ে নেওয়া:
সফরসঙ্গী অন্তত তিনজন হওয়া চাই
৯৫৯. হযরত আমর ইবন শু'আয়ব তাঁর পিতার সূত্রে দাদা (হযরত আব্দুল্লাহ ইবন আম্র রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, একজন আরোহী একটি শয়তান। দুজন আরোহী দুটি শয়তান। আর তিনজন আরোহী একটি যাত্রীদল। -আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ। (জামে' তিরমিযী: ১৬৭৪; সুনানে আবু দাউদ: ২৬০৪; মুসনাদে আহমাদ: ৬৭৪৯; নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা: ৮৭৯৮; হাকিম, আল মুসতাদরাক: ২৪৯৫; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা: ১০৩৪৭; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ২৬৭৫)
كتاب آداب السفر
167 - باب استحباب طلب الرفقة وتأميرهم عَلَى أنفسهم واحدًا يطيعونه
959 - وعن عمرِو بن شُعَيْبٍ، عن أبيه، عن جَدهِ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رسولُ الله - صلى الله عليه وسلم: «الرَّاكِبُ شَيْطَانٌ، وَالرَّاكِبَانِ شَيْطَانَانِ، وَالثَّلاَثَةُ رَكْبٌ». رواه أَبُو داود والترمذي والنسائي بأسانيد صحيحةٍ، وقال الترمذي: «حديث حسن» (1).
হাদীস নং: ৯৬০
সফরের আদব-বিধান
পরিচ্ছেদঃ সফরসঙ্গী সন্ধান করা এবং সকলে যার আনুগত্য করবে এমন একজনকে নিজেদের আমীর বানিয়ে নেওয়া:
সফরকালে একজনকে দলনেতা বানিয়ে নেওয়া
৯৬০. হযরত আবূ সা'ঈদ খুদরী রাযি. ও আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তিন ব্যক্তি যখন সফরে বের হবে, তখন যেন তারা তাদের একজনকে আমীর বানিয়ে নেয়। -আবু দাউদ। (সুনানে আবূ দাউদ: ২৬০৮; সহীহ ইবন খুযায়মা ২৫৪১; তহাবী, শারহু মুশকিলিল আছার: ৪৬১৯; তাবারানী, আল মু'জামুল আওসাত: ৮০৯৩; হাকিম, আল মুসতাদরাক: ১৬২৩; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা: ১০৩৪৯; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ২৬৭৭)
كتاب آداب السفر
باب استحباب طلب الرفقة وتأميرهم عَلَى أنفسهم واحدًا يطيعونه
960 - وعن أَبي سعيد وأبي هُريرة رضي اللهُ تَعَالَى عنهما، قالا: قَالَ رسولُ الله - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا خَرَجَ ثَلاَثَةٌ في سَفَرٍ فَليُؤَمِّرُوا أَحَدَهُمْ» حديث حسن، رواه أَبُو داود بإسنادٍ حسن. (1)
হাদীস নং: ৯৬১
সফরের আদব-বিধান
পরিচ্ছেদঃ সফরসঙ্গী সন্ধান করা এবং সকলে যার আনুগত্য করবে এমন একজনকে নিজেদের আমীর বানিয়ে নেওয়া:
সফরে কতজন সঙ্গী নেওয়া উত্তম এবং আরও কিছু নির্দেশনা
৯৬১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, উত্তম সঙ্গীদল চারজন। উত্তম সারিয়‍্যা (ছোট সেনাদল) চারশ' সদস্যের বাহিনী। উত্তম জায়শ (বড় সেনাদল) চার হাজার সদস্যের বাহিনী। বারো হাজার সদস্যের সেনাদল কখনও সংখ্যাস্বল্পতার কারণে পরাজিত হতে পারে না। -আবূ দাউদ ও তিরমিযী। (সুনানে আবু দাউদ ২৬১১; জামে তিরমিযী: ১৫৫৫: সুনানে ইবন মাজাহ: ২৮২৭; মুসনাদে আহমাদ: ২৬৮২; মুসনাদে আবু ইয়া'লা: ২৫৮৭; সহীহ ইবন খুযায়মা: ২৫৩৮; তহাবী, শারহু মুশকিলিল আছার ৫৭২; সহীহ ইবন হিব্বান ৪৭১৭; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা: ১৮৪৮১)
كتاب آداب السفر
باب استحباب طلب الرفقة وتأميرهم عَلَى أنفسهم واحدًا يطيعونه
961 - وعن ابن عبّاسٍ رضي الله عنهما، عن النبيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «خَيْرُ الصَّحَابَةِ (1) أرْبَعَةٌ، وَخَيْرُ السَّرَايَا (2) أرْبَعُمِائَةٍ، وَخَيْرُ الجُيُوشِ أرْبَعَةُ آلاَفٍ، وَلَنْ يُغْلَبَ اثْنَا عَشَرَ ألْفًا مِنْ قِلةٍ». رواه أَبُو داود والترمذي، (3) وقال: «حديث حسن».
হাদীস নং: ৯৬২
সফরের আদব-বিধান
পরিচ্ছেদঃ সফরকালে চলা, যাত্রাবিরতি দেওয়া, রাত্রি যাপন করা ও সফরে ঘুমানোর আদব; রাত্রিকালীন যাত্রার ইস্তিহবাব; (যাত্রীবাহী) পশুর প্রতি কোমলতা ও পশুর সুবিধাদির প্রতি লক্ষ রাখা; পশুর পক্ষে বহন করা সম্ভব হলে নিজের পেছনে কোনও সহযাত্রী নেওয়ার বৈধতা এবং পশুর প্রতি কর্তব্যপালনে অবহেলাকারীকে তার কর্তব্যপালনের হুকুম দেওয়া

সফরে রাত্রিযাপন ও পশুর যত্ন নেওয়া সম্পর্কে দিকনির্দেশনা
৯৬২. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা যখন উর্বর ভূমিতে সফর করবে, তখন উটকে ভূমি থেকে তার অংশ দেবে। আর যখন অনুর্বর ভূমিতে সফর করবে, তখন তার উপর দিয়ে চলার গতি বেগবান করবে এবং সেটি ক্লান্ত হয়ে পড়ার আগে আগে গন্তব্যস্থলে পৌঁছার চেষ্টা করবে। যখন রাতে বিশ্রাম করবে, তখন রাস্তা থেকে সরে যাবে। কেননা রাতে তা জীবজন্তুর চলাচলপথ ও কীটপতঙ্গের আবাস। -মুসলিম। (সহীহ মুসলিম: ১৯২৬; সুনানে আবূ দাউদ: ২৫৬৯; মুসনাদে আহমাদ: ৮৪২০; সুনানে তিরমিযী: ২৮৫৮; নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা ৮৮৭৬৩; সহীহ ইবন খুযায়মা ২৫৫০; তহাবী, শারহু মুশকিলিল আছার ১১৬; খারাইতী, মাকারিমুল আখলাক: ৮১৭; সহীহ ইবন হিব্বান: ২৭০৩)
كتاب آداب السفر
باب آداب السير والنزول والمبيت والنوم في السفر واستحباب السُّرَى والرفق بالدواب
ومراعاة مصلحتها وأمر من قصّر في حقها بالقيام بحقها وجواز الإرداف عَلَى الدابة إِذَا كانت تطيق ذلك
962 - عن أَبي هُريرةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رسولُ الله - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا سَافَرْتُمْ فِي الخِصْبِ، فَأعْطُوا الإبلَ حَظَّهَا مِنَ الأَرْضِ، وَإِذَا سَافَرْتُمْ في الجدْبِ، فَأسْرِعُوا عَلَيْهَا السَّيْرَ، وَبَادِرُوا بِهَا نِقْيَهَا، وَإِذَا عَرَّسْتُمْ، فَاجْتَنِبُوا الطَّرِيقَ؛ فَإنَّهَا طُرُقُ الدَّوَابِّ، وَمَأوَى الهَوَامِّ بِاللَّيْلِ». رواه مسلم. (1)
مَعنَى «أعْطُوا الإبِلَ حَظَّهَا مِنَ الأرْضِ» أيْ: ارْفُقُوا بِهَا في السَّيْرِ لِتَرْعَى في حَالِ سَيرِهَا، وَقوله: «نِقْيَهَا» هُوَ بكسر النون وإسكان القاف وبالياءِ المثناة من تَحْت وَهُوَ: [ص:289] المُخُّ، معناه: أسْرِعُوا بِهَا حَتَّى تَصِلُوا المَقصِدَ قَبْلَ أَنْ يَذْهَبَ مُخُّهَا مِنْ ضَنْك السَّيْرِ. وَ «التَّعْرِيسُ»: النُزولُ في اللَّيلِ.
হাদীস নং: ৯৬৩
সফরের আদব-বিধান
পরিচ্ছেদঃ সফরকালে চলা, যাত্রাবিরতি দেওয়া, রাত্রি যাপন করা ও সফরে ঘুমানোর আদব; রাত্রিকালীন যাত্রার ইস্তিহবাব; (যাত্রীবাহী) পশুর প্রতি কোমলতা ও পশুর সুবিধাদির প্রতি লক্ষ রাখা; পশুর পক্ষে বহন করা সম্ভব হলে নিজের পেছনে কোনও সহযাত্রী নেওয়ার বৈধতা এবং পশুর প্রতি কর্তব্যপালনে অবহেলাকারীকে তার কর্তব্যপালনের হুকুম দেওয়া

সফর অবস্থায় বিশ্রাম গ্রহণের আদব
৯৬৩. হযরত আবু কাতাদা রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফরে থাকতেন আর এ অবস্থায় রাতের বেলা বিশ্রাম করতেন, তখন ডান কাতে শুইতেন। আর যখন ভোরের আগে আগে বিশ্রাম করতেন, তখন বাহু খাড়া করে হাতের তালুর উপর মাথা রাখতেন। -মুসলিম। (সহীহ মুসলিম: ৬৮৩; সহীহ ইবন খুযায়মা ২৫৫৮: বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা। ১০৩৪৪: বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৩৩৫৯)

উলামায়ে কেরাম বলেন, বাহু খাড়া করে তার উপর মাথা রেখে শুইতেন এ কারণে, যাতে ঘুম গভীর না হয় আর তাতে ফজরের নামাযের ওয়াক্ত চলে যায় কিংবা আউওয়াল ওয়াক্ত ছুটে যায়।
كتاب آداب السفر
باب آداب السير والنزول والمبيت والنوم في السفر واستحباب السُّرَى والرفق بالدواب
ومراعاة مصلحتها وأمر من قصّر في حقها بالقيام بحقها وجواز الإرداف عَلَى الدابة إِذَا كانت تطيق ذلك
963 - وعن أَبي قتادة - رضي الله عنه - قَالَ: كَانَ رسولُ الله - صلى الله عليه وسلم - إِذَا كَانَ فِي سَفَرٍ، فَعَرَّسَ بِلَيْلٍ اضْطَجَعَ عَلَى يَمِينهِ، وَإِذَا عَرَّسَ قُبَيلَ الصُّبْحِ نَصَبَ ذِرَاعَهُ، وَوَضَعَ رَأسَهُ عَلَى كَفِّهِ. رواه مسلم. (1)
قَالَ العلماءُ: إنَّمَا نَصَبَ ذِرَاعَهُ لِئَلاَّ يَسْتَغْرِقَ في النَّومِ، فَتَفُوتَ صَلاَةُ الصُّبْحِ عَنْ وَقْتِهَا أَوْ عَنْ أوَّلِ وَقْتِهَا.
হাদীস নং: ৯৬৪
সফরের আদব-বিধান
পরিচ্ছেদঃ সফরকালে চলা, যাত্রাবিরতি দেওয়া, রাত্রি যাপন করা ও সফরে ঘুমানোর আদব; রাত্রিকালীন যাত্রার ইস্তিহবাব; (যাত্রীবাহী) পশুর প্রতি কোমলতা ও পশুর সুবিধাদির প্রতি লক্ষ রাখা; পশুর পক্ষে বহন করা সম্ভব হলে নিজের পেছনে কোনও সহযাত্রী নেওয়ার বৈধতা এবং পশুর প্রতি কর্তব্যপালনে অবহেলাকারীকে তার কর্তব্যপালনের হুকুম দেওয়া

রাতের বেলা সফর করার প্রতি উৎসাহদান
৯৬৪. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা অবশ্যই সফর করবে রাতে। কেননা রাতে যমীন গুটিয়ে নেওয়া হয়। -আবূ দাউদ। (সুনানে আবু দাউদ: ২৫৭১; নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা ১০৭২৫; সহীহ ইবন খুযায়মা: ২৫৫৫; হাকিম, আল মুসতাদরাক: ১৬৩০; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা ১০৩৪২; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ২৬৭৩; মুসনাদুল বাযযার ১৬৯৪; তহাবী, শারহু মুশকিলিল আছার: ১১৩)
كتاب آداب السفر
باب آداب السير والنزول والمبيت والنوم في السفر واستحباب السُّرَى والرفق بالدواب
ومراعاة مصلحتها وأمر من قصّر في حقها بالقيام بحقها وجواز الإرداف عَلَى الدابة إِذَا كانت تطيق ذلك
964 - وعن أنس - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رسول الله - صلى الله عليه وسلم: «عَلَيْكُمْ بِالدُّلْجَةِ، فَإنَّ الأرْضَ تُطْوَى بِاللَّيْلِ». رواه أَبُو داود بإسناد حسن. (1)
«الدُّلْجَةُ»: السَّيْرُ في اللَّيْلِ.
হাদীস নং: ৯৬৫
সফরের আদব-বিধান
পরিচ্ছেদঃ সফরকালে চলা, যাত্রাবিরতি দেওয়া, রাত্রি যাপন করা ও সফরে ঘুমানোর আদব; রাত্রিকালীন যাত্রার ইস্তিহবাব; (যাত্রীবাহী) পশুর প্রতি কোমলতা ও পশুর সুবিধাদির প্রতি লক্ষ রাখা; পশুর পক্ষে বহন করা সম্ভব হলে নিজের পেছনে কোনও সহযাত্রী নেওয়ার বৈধতা এবং পশুর প্রতি কর্তব্যপালনে অবহেলাকারীকে তার কর্তব্যপালনের হুকুম দেওয়া

যাত্রাবিরতির সময় যাত্রীদলের বিক্ষিপ্ত না হয়ে সংঘবদ্ধ থাকা
৯৬৫. হযরত আবু ছা'লাবা আল-খুশানী রাযি. বলেন, লোকেরা যখন (সফরকালে) কোনও মঞ্জিলে যাত্রাবিরতি দিত, তখন গিরিপথ ও উপত্যকাগুলোতে বিক্ষিপ্ত হয়ে যেত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, গিরিপথ ও উপত্যকাসমূহে তোমাদের বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়াটা শয়তানের পক্ষ থেকেই হয়। এরপর তারা কোনও মঞ্জিলে যাত্রাবিরতি দিলে পরস্পর মিলেমিশে থাকত। -আবু দাউদ। (সুনানে আবু দাউদ: ২৬২৮; নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা ৮৮০৫; তাবারানী, আল মু'জামুল কাবীর: ৫৮৬; হাকিম, আল মুসতাদরাক: ২৫৪০; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা: ১৮৪৫৭)
كتاب آداب السفر
باب آداب السير والنزول والمبيت والنوم في السفر واستحباب السُّرَى والرفق بالدواب
ومراعاة مصلحتها وأمر من قصّر في حقها بالقيام بحقها وجواز الإرداف عَلَى الدابة إِذَا كانت تطيق ذلك
965 - وعن أَبي ثَعْلَبَةَ الخُشَنِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: كَانَ النَّاسُ إِذَا نَزَلُوا مَنْزِلًا تَفَرَّقُوا في الشِّعَابِ وَالأوْدِيَةِ. فَقَالَ رسولُ الله - صلى الله عليه وسلم: «إنَّ تَفَرُّقكُمْ فِي هذِهِ الشِّعَابِ وَالأوْدِيَةِ إنَّمَا ذلِكُمْ مِنَ الشَّيْطَانِ!» فَلَمْ يَنْزِلُوا بَعْدَ ذَلِكَ مَنْزِلًا إِلاَّ انْضَمَّ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ. رواه أَبُو داود بإسناد حسن. (1)
হাদীস নং: ৯৬৬
সফরের আদব-বিধান
পরিচ্ছেদঃ সফরকালে চলা, যাত্রাবিরতি দেওয়া, রাত্রি যাপন করা ও সফরে ঘুমানোর আদব; রাত্রিকালীন যাত্রার ইস্তিহবাব; (যাত্রীবাহী) পশুর প্রতি কোমলতা ও পশুর সুবিধাদির প্রতি লক্ষ রাখা; পশুর পক্ষে বহন করা সম্ভব হলে নিজের পেছনে কোনও সহযাত্রী নেওয়ার বৈধতা এবং পশুর প্রতি কর্তব্যপালনে অবহেলাকারীকে তার কর্তব্যপালনের হুকুম দেওয়া

পশুতে সওয়ার হওয়া বা তা জবাই করার আগে যথাযথ যত্নের দ্বারা পরিপুষ্ট করে তোলা
৯৬৬. হযরত ইবনুল হানযালিয়্যাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, আর তিনি ছিলেন বায়'আতুর রিযওয়ানে অংশগ্রহণকারীদের একজন, তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি উটের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যেটির পিঠ পেটের সঙ্গে লেগে গিয়েছিল। তিনি বললেন, তোমরা এই অবলা পশুদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। তোমরা এতে সওয়ার হবে উপযুক্ত অবস্থায় এবং এগুলো খাবেও উপযুক্ত অবস্থায়। -আবু দাউদ। (সুনানে আবু দাউদ: ২৫৪৮; সহীহ ইবন খুযায়মা ২৫৪৫; সহীহ ইবন হিব্বান ৫৪৫; তাবারানী, আল মু'জামুল কাবীর ৫৬২০; মুসনাদে আহমাদ: ১৭৬২৫)
كتاب آداب السفر
باب آداب السير والنزول والمبيت والنوم في السفر واستحباب السُّرَى والرفق بالدواب
ومراعاة مصلحتها وأمر من قصّر في حقها بالقيام بحقها وجواز الإرداف عَلَى الدابة إِذَا كانت تطيق ذلك
966 - وعن سهل بن عمرو - وقيل: سهل بن الربيع بن عمرو الأنصاري المعروف بابن الحنظلِيَّة، وَهُوَ من أهل بيعة الرِّضْوَانِ - رضي الله عنه - قَالَ: مَرَّ رسولُ الله - صلى الله عليه وسلم - بِبَعِيرٍ قَدْ لَحِقَ ظَهْرُهُ بِبَطْنِهِ، فَقَالَ: «اتَّقُوا الله في هذِهِ البَهَائِمِ المُعجَمَةِ، فَارْكَبُوهَا صَالِحَةً، وَكُلُوهَا صَالِحَةً». رواه أَبُو داود بإسناد صحيح. (1)
হাদীস নং: ৯৬৭
সফরের আদব-বিধান
পরিচ্ছেদঃ সফরকালে চলা, যাত্রাবিরতি দেওয়া, রাত্রি যাপন করা ও সফরে ঘুমানোর আদব; রাত্রিকালীন যাত্রার ইস্তিহবাব; (যাত্রীবাহী) পশুর প্রতি কোমলতা ও পশুর সুবিধাদির প্রতি লক্ষ রাখা; পশুর পক্ষে বহন করা সম্ভব হলে নিজের পেছনে কোনও সহযাত্রী নেওয়ার বৈধতা এবং পশুর প্রতি কর্তব্যপালনে অবহেলাকারীকে তার কর্তব্যপালনের হুকুম দেওয়া

কেউ গৃহপালিত পশুর যত্ন নিতে অবহেলা করলে তাকে সতর্ক করা
৯৬৭. হযরত আব্দুল্লাহ ইবন জা'ফর রাযি. বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারিতে আমাকে তাঁর পেছনে বসালেন এবং চুপিসারে আমাকে একটি কথা বললেন। সে কথা আমি কোনও লোককে বলব না। নিজ হাজত সমাধাকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা দিয়ে নিজেকে আড়াল করা পছন্দ করতেন, তা হতো কোনও উঁচু বস্তু বা খেজুর বাগানের দেওয়াল।

ইমাম মুসলিম হাদীছটি এরূপ সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বারকানী অনুরূপ সনদে হাদীছটিতে 'খেজুর বাগানের দেওয়াল'-এর পর অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন- সুতরাং একদা তিনি জনৈক আনসারী ব্যক্তির বাগানে প্রবেশ করলেন। তিনি সেখানে একটি উট দেখতে পেলেন। উটটি যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখল, অমনি সেটি আওয়াজ করে উঠল এবং তার দু'চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটির কাছে এসে তার কুঁজ ও মাথার পেছনের অংশে হাত বুলিয়ে দিলেন। ফলে উটটি শান্ত হলো। তারপর তিনি বললেন, এই উটটির মালিক কে? কার এ উটটি? এক আনসারী যুবক এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এটি আমার। তিনি বললেন, তুমি কি এ পশুর ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর না যে, আল্লাহ তোমাকে এটির মালিক বানিয়েছেন? এটি তো আমার কাছে অভিযোগ করেছে যে, তুমি একে ক্ষুধার্ত রাখ এবং বেশি কাজ করিয়ে ক্লান্ত করে ফেল। -আবু দাউদ
كتاب آداب السفر
باب آداب السير والنزول والمبيت والنوم في السفر واستحباب السُّرَى والرفق بالدواب
ومراعاة مصلحتها وأمر من قصّر في حقها بالقيام بحقها وجواز الإرداف عَلَى الدابة إِذَا كانت تطيق ذلك
967 - وعن أَبي جعفر عبد الله بن جعفر رضي الله عنهما، قَالَ: أردفني رسولُ الله - صلى الله عليه وسلم - ذَاتَ يَوْمٍ خَلْفَهُ، وَأسَرَّ إليَّ حَدِيثًا لا أُحَدِّثُ بِهِ أحَدًا مِنَ النَّاسِ، وَكَانَ أحَبَّ مَا اسْتَتَرَ بِهِ رسولُ الله - صلى الله عليه وسلم - لِحاجَتِهِ هَدَفٌ أَوْ حَائِشُ نَخْلٍ. يَعنِي: حَائِطَ نَخْلٍ. رواه مسلم هكَذَا مُختصرًا. (1) [ص:290]
وزادَ فِيهِ البَرْقاني بإسناد مسلم - بعد قَوْله: حَائِشُ نَخْلٍ - فَدَخَلَ حَائِطًا لِرَجُلٍ مِنَ الأنْصَارِ، فَإذا فِيهِ جَمَلٌ، فَلَمَّا رَأى رَسولَ الله - صلى الله عليه وسلم - جَرْجَرَ وذَرَفَتْ عَيْنَاهُ، فَأتَاهُ النَّبيُّ - صلى الله عليه وسلم - فَمَسَحَ سَرَاتَهُ - أيْ: سِنَامَهُ - وَذِفْرَاهُ فَسَكَنَ، فَقَالَ: «مَنْ رَبُّ هَذَا الجَمَلِ؟ لِمَنْ هَذَا الجَمَلُ؟» فَجَاءَ فَتَىً مِنَ الأنْصَارِ، فَقَالَ: هَذَا لِي يَا رسولَ الله. قَالَ: «أفَلاَ تَتَّقِي اللهَ في هذِهِ البَهِيمَةِ الَّتي مَلَّكَكَ اللهُ إيَّاهَا؟ فَإنَّهُ يَشْكُو إلَيَّ أنَّكَ تُجِيعُهُ وتُدْئِبُهُ». رواه أَبُو داود كرواية البرقاني.
قَوْله «ذِفْرَاهُ»: هُوَ بكسر الذال المعجمة وإسكان الفاءِ، وَهُوَ لفظ مفرد مؤنث. قَالَ أهل اللغة: الذِّفْرى: الموضع الَّذِي يَعْرَقُ مِن البَعِيرِ خَلف الأُذُنِ، وَقوله: «تُدْئِبهُ» أيْ: تتعِبه.
হাদীস নং: ৯৬৮
সফরের আদব-বিধান
পরিচ্ছেদঃ সফরকালে চলা, যাত্রাবিরতি দেওয়া, রাত্রি যাপন করা ও সফরে ঘুমানোর আদব; রাত্রিকালীন যাত্রার ইস্তিহবাব; (যাত্রীবাহী) পশুর প্রতি কোমলতা ও পশুর সুবিধাদির প্রতি লক্ষ রাখা; পশুর পক্ষে বহন করা সম্ভব হলে নিজের পেছনে কোনও সহযাত্রী নেওয়ার বৈধতা এবং পশুর প্রতি কর্তব্যপালনে অবহেলাকারীকে তার কর্তব্যপালনের হুকুম দেওয়া

সফরে বাহনজন্তুর ভার লাঘবের প্রতি লক্ষ রাখা
৯৬৮. হযরত আনাস রাযি. বলেন, আমরা যখন কোনও মঞ্জিলে অবতরণ করতাম, তখন হাওদা না খোলা পর্যন্ত নফল নামায পড়তাম না। -আবু দাউদ
كتاب آداب السفر
باب آداب السير والنزول والمبيت والنوم في السفر واستحباب السُّرَى والرفق بالدواب
ومراعاة مصلحتها وأمر من قصّر في حقها بالقيام بحقها وجواز الإرداف عَلَى الدابة إِذَا كانت تطيق ذلك
968 - وعن أنس - رضي الله عنه - قَالَ: كُنَّا إِذَا نَزَلْنَا مَنْزِلًا، لاَ نُسَبِّحُ حَتَّى نَحُلَّ الرِّحَال. رواه أَبُو داود بإسناد عَلَى شرط مسلم. (1)
وَقَوْلُه: «لا نُسَبِّحُ»: أيْ لاَ نُصَلِّي النَّافِلَةَ، ومعناه: أنَّا - مَعَ حِرْصِنَا عَلَى الصَّلاَةِ - لا نُقَدِّمُهَا عَلَى حَطِّ الرِّحَالِ وَإرَاحَةِ الدَّوَابِّ.
হাদীস নং: ৯৬৯
সফরের আদব-বিধান
পরিচ্ছেদঃ সফরসঙ্গীর সাহায্য-সহযোগিতা করা: বাড়তি বাহন ও আসবাবপত্র সফরসঙ্গীকে দিয়ে দেওয়া

এ পরিচ্ছেদে বহু হাদীছ আছে, যা পেছনে গত হয়েছে। যেমন একটি হাদীছ হলো-'আল্লাহ তাঁর বান্দার সাহায্য করতে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে রত থাকে' (রিয়াযুস সালেহীন, চতুর্থ খণ্ড, হাদীছ নং ২৪৫)। আরেকটি হাদীছ হলো-'প্রতিটি সৎকর্মই একটি সদাকা' (রিয়াযুস সালেহীন, দ্বিতীয় খণ্ড, হাদীছ নং ১৩৪)। এরকম আরও আছে।
৯৬৯. হযরত আবু সা'ঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে কোনও এক সফরে ছিলাম। এ অবস্থায় উষ্ট্রারোহী এক ব্যক্তি হাজির হলো। সে ডানে-বামে তার দৃষ্টি ঘোরাতে থাকল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যার কাছে অতিরিক্ত বাহন আছে সে যেন তা যার বাহন নেই তাকে দিয়ে দেয়। যার অতিরিক্ত রসদ আছে সে যেন যার রসদ নেই তাকে তা দিয়ে দেয়। এভাবে তিনি বিভিন্ন প্রকার মালের কথা উল্লেখ করতে থাকেন। তাতে আমাদের মনে হলো আমাদের কারওই অতিরিক্ত মালে কোনও অধিকার নেই। -মুসলিম (সহীহ মসলিম: ১৭২৮; সুনানে আবু দাউদ: ১৬৬৩; মুসনাদে আহমাদ: ১১২৯৩; সহীহ ইবন হিব্বান: ৫৪১৯; শু'আবুল ঈমান: ৩১১৫; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ২৬৮৬)
كتاب آداب السفر
باب إعانة الرفيق في الباب أحاديث كثيرة تقدمت كحديث:
«وَاللهُ في عَوْنِ العَبْدِ مَا كَانَ العَبْدُ في عَوْنِ أخِيهِ» (1). وحديث: «كُلُّ مَعْرُوفٍ صَدَقَة» (2) وَأشْبَاهِهِما.
969 - وعن أَبي سعيد الخدري - رضي الله عنه - قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ في سَفَرٍ إذْ جَاءَ رَجُلٌ عَلَى رَاحِلَةٍ لَهُ، فَجَعَلَ يَصْرِفُ بَصَرَهُ يَمِينًا وَشِمَالًا، فَقَالَ رسولُ الله - صلى الله عليه وسلم: «مَنْ كَانَ مَعَهُ فَضْلُ ظَهْرٍ فَلْيَعُدْ بِهِ عَلَى مَنْ لاَ ظَهْرَ لَهُ، وَمَنْ كَانَ لَهُ فَضْلُ زَادٍ فَلْيَعُدْ بِهِ عَلَى مَنْ لاَ زَادَ لَهُ»، فَذَكَرَ مِنْ أصْنَافِ المَالِ مَا ذَكَرَهُ، حَتَّى رَأيْنَا، أنَّهُ لاَ حَقَّ لأَحَدٍ مِنَّا فِي فَضْلٍ. رواه مسلم. (1)
হাদীস নং: ৯৭০
সফরের আদব-বিধান
পরিচ্ছেদঃ সফরসঙ্গীর সাহায্য-সহযোগিতা করা: সচ্ছল ব্যক্তি কর্তৃক সফরের প্রয়োজনীয় সামগ্রী অসচ্ছল সঙ্গীর সাথে ভাগাভাগি করে নেওয়া
৯৭০. হযরত জাবির রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার কোনও এক যুদ্ধে যখন যাওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন বললেন, হে মুহাজির ও আনসার সম্প্রদায়। তোমাদের ভাইদের মধ্যে এমন অনেক লোক আছে, যাদের না আছে কোনও সম্পদ আর না আছে কোনও জ্ঞাতি-স্বজন। কাজেই তোমাদের একেকজন যেন দুই-তিনজন করে লোক নিজের সঙ্গে নিয়ে নেয়। ফলে আমাদের একেকজনের (অর্থাৎ একেকজন সচ্ছল ব্যক্তির) তার সঙ্গে নেওয়া সওয়ারিতে থাকল কেবল এতটুকু পালা (অর্থাৎ পালাক্রমে সওয়ার হওয়া), যেমনটা পালা থাকল তাদের একেকজনের (অর্থাৎ ওই দরিদ্রদের)। আমি আমার সঙ্গে দুই বা তিনজনকে নিয়ে নিলাম। আমারও আমার উটটিতে কেবল ওইরকম পালাই থাকল, যেমনটা পালা থাকল তাদের একেকজনের। -আবূ দাউদ
كتاب آداب السفر
باب إعانة الرفيق
970 - وعن جابر - رضي الله عنه - عن رسول الله - صلى الله عليه وسلم: أنَّهُ أرَادَ أَنْ يَغْزُوَ، فَقَالَ: «يَا مَعْشَرَ المُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارِ، إنَّ مِنْ إخْوَانِكُمْ قَوْمًا لَيْسَ لَهُمْ مَالٌ، وَلاَ عَشِيرةٌ، فَلْيَضُمَّ أحَدُكُمْ إِلَيْهِ الرَّجُلَيْنِ أَو الثَّلاَثَةَ، فَمَا لأَحَدِنَا مِنْ ظَهْرٍ يَحْمِلُهُ إِلاَّ عُقْبةٌ كَعُقْبَةٍ» يَعْني أحَدهِمْ، قَالَ: فَضَمَمْتُ إلَيَّ اثْنَيْنِ أَوْ ثَلاَثَةً مَا لِي إِلاَّ عُقْبَةٌ كَعقبة أحَدِهِمْ مِنْ جَمَلِي. رواه أَبُو داود. (1)
হাদীস নং: ৯৭১
সফরের আদব-বিধান
পরিচ্ছেদঃ সফরসঙ্গীর সাহায্য-সহযোগিতা করা: সফরকালীন আমীরের দায়িত্ব-কর্তব্য
৯৭১. হযরত জাবির রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পথ চলাকালে পেছনে থাকতেন এবং দুর্বলকে হাঁকিয়ে নিতেন, (কাউকে) নিজ বাহনে পেছনে তুলে নিতেন আর তার জন্য দুআ করতেন। -আবু দাউদ
كتاب آداب السفر
باب إعانة الرفيق
971 - وعنه، قَالَ: كَانَ رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يَتَخَلَّفُ في المَسير، فَيُزْجِي (1) الضَّعِيف، وَيُرْدِفُ وَيَدْعُو لَهُ. رواه أَبُو داود بإسناد حسن. (2)
হাদীস নং: ৯৭২
সফরের আদব-বিধান
পরিচ্ছেদঃ সফরে যাওয়া ও ফেরার সময় যানবাহনে উঠে পড়ার দুআ

সম্পর্কিত একটি আয়াত

وَجَعَلَ لَكُم مِّنَ الْفُلْكِ وَالْأَنْعَامِ مَا تَرْكَبُونَ لِتَسْتَوُوا عَلَىٰ ظُهُورِهِ ثُمَّ تَذْكُرُوا نِعْمَةَ رَبِّكُمْ إِذَا اسْتَوَيْتُمْ عَلَيْهِ وَتَقُولُوا سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَٰذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَىٰ رَبِّنَا لَمُنقَلِبُونَ

অর্থ: এবং তোমাদের জন্য জাহাজ ও চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা আরোহণ করে থাক। যাতে তোমরা তার পিঠে চড়তে পার, তারপর যখন তোমরা তাতে চড়ে বস, তখন তোমাদের প্রতিপালকের নি'আমত স্মরণ কর এবং বল, পবিত্র সেই সত্তা, যিনি এই বাহনকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। অন্যথায় একে বশীভূত করার ক্ষমতা আমাদের ছিল না। নিশ্চয়ই আমাদেরকে আমাদের প্রতিপালকের কাছে ফিরে যেতে হবে। (সূরা যুখরুফ, আয়াত ১২-১৪)

আয়াতের ব্যাখ্যা
এ আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বান্দার প্রতি তাঁর বিশেষ কিছু নি'আমতের বর্ণনা দিয়েছেন এবং এর ভেতর দিয়ে তাঁর কুদরতের নিদর্শন তুলে ধরেছেন। সেইসঙ্গে এসব নি'আমতের কারণে তাঁর শোকর আদায়ের পদ্ধতি বাতলে দিয়েছেন। পরোক্ষভাবে আখিরাতের প্রতি বিশ্বাসের কথাটিও উঠে এসেছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন-

وَجَعَلَ لَكُم مِّنَ الْفُلْكِ وَالْأَنْعَامِ مَا تَرْكَبُونَ (এবং তোমাদের জন্য জাহাজ ও চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা আরোহণ করে থাক)। জাহাজ বলতে সেকালের লোক তো কেবল পানির জাহাজই বুঝত। বর্তমানে উড়োজাহাজও এর অন্তর্ভুক্ত হবে। উভয় জাহাজই মানুষের প্রতি আল্লাহ তা'আলার বিশেষ নি'আমত। এর দ্বারা মানুষ সহজে দেশ-দেশান্তরে ভ্রমণ করতে পারে এবং পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে নিজেদের নানা প্রয়োজন সমাধা করতে পারে।

চতুষ্পদ জন্তু দ্বারা এখানে কেবল উট, গাধা, ঘোড়া ও খচ্চর বোঝানো উদ্দেশ্য।

সাধারণত মানুষ এর পিঠেই চড়ে থাকে। গরু ও মহিষ পরোক্ষভাবে এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। কেননা মানুষ সরাসরি এর পিঠে চড়ে না; বরং গরু-মহিষের টানা গাড়িতে নিজেরা চড়ে ও মালামাল পরিবহন করে। এদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে চাষাবাদের কাজ নেওয়ার জন্য। এক হাদীছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

بَيْنَا رَجُلٌ يَسُوقُ بَقَرَةً إِذْ رَكِبَهَا فَضَرَبَهَا، فَقَالَتْ: إِنَّا لَمْ نُخْلَقْ لِهَذَا، إِنَّمَا خُلِقْنَا لِلْحَرْثِ " فَقَالَ النَّاسُ: سُبْحَانَ اللَّهِ بَقَرَةٌ تَكَلَّمُ، فَقَالَ: " فَإِنِّي أُومِنُ بِهَذَا، أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ، وَعُمَر

'এক ব্যক্তি একটি গরু হাঁকিয়ে নিচ্ছিল। হঠাৎ সে গরুটির উপর সওয়ার হয় এবং সেটিকে প্রহার করে। তখন গরুটি বলে ওঠে, আমাদেরকে এজন্য সৃষ্টি করা হয়নি; আমাদেরকে তো সৃষ্টি করা হয়েছে চাষাবাদের কাজের জন্য। এ কথা শুনে উপস্থিত লোকজন বলে উঠল, সুবহানাল্লাহ! গরুতে কথা বলে? নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি কিন্তু এর উপর বিশ্বাস রাখি এবং আবু বকর ও উমরও। (সহীহ বুখারী: ৩৪৭১; সহীহ মুসলিম: ২৩৮৮; নাসাঈ, আস সুনানুল কুবরা: ৮০৬০: মুসনাদুল হুমায়দী: ১০৮৫; মুসনাদে আহমাদ: ৭৩৪৫; তাবারানী, আল মু'জামুল আওসাত: ৬৭৮৫; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ৩৮৮৯; জামে' মা'মার ইবন রাশিদ: ২০৪০৩)

لِتَسْتَوُوا عَلَىٰ ظُهُورِهِ (যাতে তোমরা তার পিঠে চড়তে পার)। অর্থাৎ তোমাদের প্রতি এটা আল্লাহ তা'আলার এক অনুগ্রহ যে, তিনি তোমাদের সওয়ার হওয়ার জন্য জাহাজ ও চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহ না হলে তোমরা তাতে চড়তে পারতে না। উট তোমাদের চেয়ে অনেক বড় প্রাণী। তোমাদের চেয়ে তার শারীরিক শক্তিও অনেক বেশি। তা সত্ত্বেও তোমরা তার পিঠে চড়ে যাতায়াত করতে পারছ এবং এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় মালামাল বহন করতে পারছ।

এমনিভাবে তিনি পানি এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং এমনভাবে জাহাজ তৈরির কলাকৌশল তোমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, তোমরা পানির উপর দিয়ে বড় বড় জাহাজ চালিয়ে দাও আর স্থলভাগের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা কর। আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহ না হলে তোমরা সমুদ্রের অথই জলরাশির উপর দিয়ে জাহাজ চালাতে পারতে না আর এ পন্থায় নিজেদের নানাবিধ কল্যাণ সাধনেও সক্ষম হতে না। এমনিভাবে তিনি বাতাসকেও উড়োজাহাজ চলাচলের অনুকূল করে সৃষ্টি করেছেন। তোমাদেরকে এমন প্রযুক্তিবিদ্যা শিক্ষা দিয়েছেন, যার সাহায্যে বড় বড় ও ভারী ভারী উড়োজাহাজ দিয়ে নিজেরাও আকাশপথে চলাচল করছ এবং বয়ে নিতে পারছ ব্যাবহারিক ও বাণিজ্যিক মালামাল।

লক্ষণীয়, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন لِتَسْتَوُوا عَلَىٰ ظُهُورِهِ (যাতে তোমরা তার পিঠে চড়তে পার)। تَسْتَوُوا ক্রিয়াপদটির উৎপত্তি اَلاِسْتِوَاءُ থেকে। এর অর্থ সোজা হয়ে বসা, আসন গ্রহণ করা, সমাসীন হওয়া। অর্থাৎ রাজা-বাদশাহগণ যেমন সিংহাসনে সমাসীন হয়, জাহাজে ও উটের পিঠে তোমাদের আসন গ্রহণ করাটাও যেন ঠিক সে রকমই। এভাবে আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে তাঁর অন্যান্য সৃষ্টির উপর রাজকীয় মর্যাদা দান করেছেন। এর দ্বারা আল্লাহ তা'আলা মানুষকে তার আপন মর্যাদা সম্পর্কেও সচেতন করেছেন, যাতে সে তার যাবতীয় কাজকর্মে সেই মর্যাদা রক্ষায় যত্নবান থাকে।

ثُمَّ تَذْكُرُوا نِعْمَةَ رَبِّكُمْ إِذَا اسْتَوَيْتُمْ عَلَيْهِ (তারপর যখন তোমরা তাতে চড়ে বস, তখন তোমাদের প্রতিপালকের নি'আমত স্মরণ কর)। অর্থাৎ এসব বাহনের উপর সওয়ার হয়ে চলাচল করা ও এর মাধ্যমে মালামাল বয়ে নেওয়াটা তোমাদের জন্য আল্লাহ তা'আলার অনেক বড় নি'আমত। কাজেই এতে আরোহণকালে তোমরা আল্লাহ তা'আলার এ নি'আমত স্মরণ করবে ও তাঁর শোকর আদায় করবে। এর দ্বারা বান্দাকে সতর্ক করা হয়েছে যে, যখনই তোমরা আল্লাহ তা'আলার কোনও নি'আমত ভোগ করবে, তখন অবশ্যই সে নি'আমতের আসল দাতা আল্লাহ তা'আলাকে স্মরণে রাখবে। তোমরা নি'আমতের ভোগে নিমগ্ন হয়ে আসল দাতাকে যেন ভুলে না যাও। জাহাজ তোমাদের জলীয় নি'আমত। আর উট স্থলের নি'আমত। জলে-স্থলে এরকম অসংখ্য নি'আমত তোমাদের জন্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তার প্রতিটি আল্লাহ তা'আলারই দান। তাই প্রতিটি নি'আমত ভোগ করার সময় তোমাদের কর্তব্য আল্লাহ তা'আলাকে স্মরণ করা ও তাঁর শোকর আদায় করা।

বান্দা আল্লাহ তা'আলার নি'আমতের শোকর কীভাবে আদায় করবে, তার ভাষাও আল্লাহ তা'আলা তাকে শিখিয়ে দিয়েছেন। আর তা হলো তোমরা বলবে-

سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَٰذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَىٰ رَبِّنَا لَمُنقَلِبُونَ (পবিত্র সেই সত্তা, যিনি এই বাহনকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। অন্যথায় একে বশীভূত করার ক্ষমতা আমাদের ছিল না। নিশ্চয়ই আমাদেরকে আমাদের প্রতিপালকের কাছে ফিরে যেতে হবে)। এটা যানবাহনে চড়ার দুআ। এর মর্মকথা হলো, আল্লাহ তা'আলা এসব জন্তু ও জাহাজ আমাদেরই জন্য সৃষ্টি করেছেন। তাঁর নিজের এসবের কোনও প্রয়োজন নেই। তিনি সর্বশক্তিমান। কোনওকিছুর প্রতি তাঁর কোনওরূপ মুখাপেক্ষিতা নেই। তিনি সকল দুর্বলতা ও সকল মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত ও পবিত্র। কাজেই তিনি নিজ প্রয়োজনে নয়; বরং আমাদেরই কল্যাণার্থে এসব বস্তু সৃষ্টি করেছেন এবং এসবকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। তিনি বশীভূত না করলে আমাদের পক্ষে এগুলোকে নিজেদের কাজে লাগানো ও এদেরকে দিয়ে নিজেদের প্রয়োজন পূরণ করা সম্ভব ছিল না। আমাদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী উটকে কীভাবে আমরা ব্যবহার করতে সক্ষম হতাম? কীভাবেই বা ভারী ভারী নৌযান পানিতে ভাসাতাম বা ভারী ভারী উড়োজাহাজ বায়ুমণ্ডলে পরিচালনা করতাম?

দু'আটির শেষে বলা হয়েছে- وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ (নিশ্চয়ই আমাদেরকে আমাদের প্রতিপালকের কাছে ফিরে যেতে হবে)। খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথা। এর দ্বারা আখিরাতের সফরের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ দুআটি পড়া হয় দুনিয়াবী সফরকালে। দুনিয়ার সফরও সফর বটে, কিন্তু সত্যিকারের সফর আখিরাতের সফরই। মানুষ সর্বক্ষণ সে সফরের মধ্যেই থাকে। দুনিয়াবী সফর কখনও করা হয়, কখনও করা হয় না। কিন্তু আখিরাতের সফর চলতেই থাকে। জন্মের পর থেকেই সে সফর শুরু হয়ে যায়। মৃত্যুতে শেষ হয়। দুনিয়াবী সফরে মানুষের ক্ষণস্থায়ী জীবনের কোনও ফায়দা হাসিল করা উদ্দেশ্য থাকে। কিন্তু যে সফরের সঙ্গে তার আখিরাতের অনন্ত জীবনের লাভ-লোকসান যুক্ত, সে সফর জারি থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ মানুষ গাফিলতির ঘুমে রয়েছে। তার যে সময় বয়ে যাচ্ছে, সে আখিরাতের দিকে এগিয়ে চলছে, অথচ সে জীবনের জন্য কোনও প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে না। এভাবেই চরম উদাসীনতার ভেতর তার জীবন কাটে। অথচ ওই জীবনের সফলতা অর্জনের জন্যই তাকে এ ক্ষণস্থায়ী জীবন দেওয়া হয়েছে। ক্ষণস্থায়ী জীবন নিয়েই সে ব্যস্ত আর আসল জীবন সম্পর্কে গাফেল। এ দুআর ভেতর দিয়ে বান্দার মুখ দিয়ে বলিয়ে নেওয়া হচ্ছে, ক্ষণস্থায়ী জীবনে এই যে সফর করছি, এর পাশাপাশি আমাদের আখিরাতের সফরও অব্যাহত রয়েছে। সেই সফরের শেষ গন্তব্য আমাদের প্রতিপালকের দরবার। একদিন আমরা তাঁর কাছে ফিরে যাব। আমাদেরকে সে বিষয়ে গাফেল হলে চলবে না। বরং সেখানকার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করাই হবে আমাদের আসল কাজ।

উল্লেখ্য, এ আয়াতে স্থলযানের মতো নৌযানে আরোহণকালেও পড়তে বলা হয়েছে- سُبْحْنَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَ مَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ। অপর এক আয়াতে নৌযানের জন্য বিশেষভাবে যে দুআ শিক্ষা দেওয়া হয়েছে তা হলো-
بِسْمِ اللَّهِ مُجْرِهَا وَمُرْسَهَا إِنَّ رَبِّي لَغَفُورٌ رَحِيمٌ

'এর চলাও আল্লাহর নামে এবং নোঙর করাও। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (৩৬. সূরা হুদ, আয়াত ৪১)

আয়াতটি থেকে শিক্ষণীয়ঃ

ক. আল্লাহ তা'আলা সর্বপ্রকার ত্রুটি, কমতি ও মুখাপেক্ষিতা থেকে মুক্ত ও পবিত্র।

খ. মানুষ আল্লাহ তা'আলার অতি মর্যাদাপূর্ণ মাখলুক।

গ. সবরকম যানবাহন মানুষের জন্য আল্লাহ তা'আলার অনেক বড় নি'আমত।

ঘ. জল-স্থল ও আকাশপথের কোনও বাহনেরই ব্যবহার কেবল মানুষের নিজ কৃতিত্বের ফল নয়; বরং আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছা ও তাঁর কুদরতের সক্রিয়তাই আসল।

ঙ. প্রতিটি যানবাহন ব্যবহারের সময় তার আসল দাতা আল্লাহ তা'আলাকে স্মরণ করতে হবে।

চ. কোনও নি'আমতের ভোগ-উপভোগকালে তার মধ্যে এমনভাবে মগ্ন হয়ে যেতে নেই যে, নিজ সৃষ্টিকর্তা ও নিজ জীবনের লক্ষ্যবস্তু স্মরণ থাকবে না।

ছ. মানুষ এক দুর্বল সৃষ্টি। আল্লাহ তা'আলা সাহায্য না করলে তার পক্ষে এক অবোধ পশুকেও নিজ কাজে লাগানো সম্ভব নয়।

জ. যানবাহনে আরোহণকালে আয়াতে বর্ণিত দুআটি পড়া উচিত।

ঝ. মানুষ সর্বক্ষণ আখিরাতের সফরের মধ্যে রয়েছে। সে সফরের কথা কখনও ভুলতে নেই।

ঞ. মানুষের শেষ গন্তব্য মহান আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ। সেজন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করাই তার আসল কাজ।
৯৭২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবন উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনও সফরে বের হওয়ার সময় যখন উটের পিঠে সোজা হয়ে বসতেন, তিনবার তাকবীর বলতেন। তারপর বলতেন-

سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هُذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ، وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ اللهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ فِي سَفَرِنَا هَذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَى، وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى، اللهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هَذَا، وَاطْوِ عَنَّا بُعْدَهُ، اللهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ، وَالْخَلِيفَةُ فِي الْأَهْلِ، اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ، وَكَآبَةِ الْمَنْظَرِ، وَسُوءِ الْمُنْقَلَبِ فِي الْمَالِ وَالْأَهْلِ وَالْوَلَدِ.

(পবিত্র সেই সত্তা, যিনি এই বাহনকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। অন্যথায় একে বশীভূত করার ক্ষমতা আমাদের ছিল না। নিশ্চয়ই আমাদেরকে আমাদের প্রতিপালকের কাছে ফিরে যেতে হবে। হে আল্লাহ। আমরা আমাদের এ সফরে আপনার কাছে চাই পুণ্য ও তাকওয়া এবং এমন আমল, যা আপনি পছন্দ করেন। হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আমাদের এ সফরকে সহজ করে দিন, এর দূরত্বকে আমাদের জন্য গুটিয়ে দিন। হে আল্লাহ! সফরে আপনি আমাদের সঙ্গী এবং পরিবারবর্গে আমাদের প্রতিনিধি। হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি সফরের কষ্ট-ক্লেশ থেকে, কষ্টদায়ক দৃশ্য থেকে এবং অর্থসম্পদ, পরিবারবর্গ ও সন্তান-সন্ততির মধ্যে মন্দ প্রত্যাবর্তন থেকে)। তিনি যখন ফিরে আসতেন, তখনও এ কথাগুলো বলতেন এবং তাতে আরও বলতেন- آیِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ، لِرَبِّنَا حَامِدُونَ (আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, আমরা তাওবাকারী, আমরা আমাদের প্রতিপালকের ইবাদতকারী ও প্রশংসাকারী)-মুসলিম
كتاب آداب السفر
باب مَا يقول إذا ركب دَابَّة للسفر قَالَ الله تَعَالَى: {وَجَعَلَ لَكُمْ مِنَ الفُلْكِ وَالأنْعَامِ مَا تَرْكَبُونَ لِتَسْتَوُوا عَلَى ظُهُورِهِ ثُمَّ تَذْكُرُوا نِعْمَةَ رَبِّكُمْ إِذَا اسْتَوَيْتُمْ عَلَيْهِ وَتَقُولُوا سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ} [الزخرف: 12 - 13].
972 - وعن ابن عمر رضي الله عنهما: أنَّ رسول الله - صلى الله عليه وسلم - كَانَ إِذَا اسْتَوَى عَلَى بَعِيرِهِ خَارِجًا إِلَى سَفَرٍ، كَبَّرَ ثَلاثًا، ثُمَّ قَالَ: «سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ. اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ فِي سَفَرِنَا هَذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَى، وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى، اللَّهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هَذَا وَاطْوِ عَنَّا بُعْدَهُ. اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ، وَالْخَلِيفَةُ فِي الأَهْلِ. اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَكَآبَةِ الْمَنْظَرِ وَسُوءِ الْمُنْقَلَبِ فِي الْمَالِ وَالأَهْلِ وَالوَلَدِ». وَإِذَا رَجَعَ قَالَهُنَّ. وَزَادَ فِيهِنَّ «آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُونَ». رواه مسلم. (1)
مَعْنَى «مُقْرِنِينَ»: مُطِيقِينَ. وَ «الوَعْثَاءُ» بفتحِ الواوِ وَإسكان العين المهملة وبالثاء المثلثة وبالمد وَهِيَ: الشِّدَّةُ. وَ «الكَآبَةُ» بِالمَدِّ، وَهِيَ: تَغَيُّرُ النَّفْسِ مِنْ حُزْنٍ وَنَحْوهِ. وَ «المُنْقَلَبُ»: المَرْجِعُ.
হাদীস নং: ৯৭৩
সফরের আদব-বিধান
পরিচ্ছেদঃ সফরে যেসব বিষয় থেকে আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করা উচিত
৯৭৩. হযরত আব্দুল্লাহ ইবন সারজিস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফর করতেন, তখন আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করতেন সফরের কষ্ট-ক্লেশ, মন্দ প্রত্যাবর্তন, অর্জনের পর বিসর্জন, মজলুমের বদদুআ এবং পরিবারবর্গ ও অর্থ-সম্পদে মন্দ দৃশ্য থেকে। -মুসলিম
كتاب آداب السفر
باب مَا يقول إذا ركب دَابَّة للسفر
973 - وعن عبد الله بن سَرجِسَ - رضي الله عنه - قَالَ: كَانَ رسول الله - صلى الله عليه وسلم - إِذَا سَافَرَ يَتَعَوَّذُ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ، وَكَآبَةِ المُنْقَلَبِ، وَالْحَوْرِ بَعْدَ الكَوْنِ، وَدَعْوَةِ المَظْلُومِ، وَسُوءِ المَنْظَرِ في الأَهْلِ وَالمَالِ. رواه مسلم. (1)
هكذا هُوَ في صحيح مسلم: «الحَوْر بَعْدَ الكَوْنِ» بالنون، وكذا رواه الترمذي والنسائي، قَالَ الترمذي: وَيُرْوَى «الكوْرُ» بالراءِ، وَكِلاهما لَهُ وجه.
قَالَ العلماءُ: ومعناه بالنون والراءِ جَميعًا: الرُّجُوعُ مِنَ الاسْتِقَامَةِ أَوِ الزِّيَادَةِ إِلَى النَّقْصِ. قالوا: ورِوايةُ الرَّاءِ مَأخُوذَةٌ مِنْ تَكْوِيرِ العِمَامَة وَهُوَ لَفُّهَا وَجَمْعُهَا. ورواية النون، مِنَ الكَوْنِ، مَصْدَرُ كَانَ يَكُونُ كَونًا: إِذَا وُجِدَ وَاسْتَقَرَّ.
হাদীস নং: ৯৭৪
সফরের আদব-বিধান
পরিচ্ছেদঃ যানবাহনে আরোহণের আরও কিছু দুআ
৯৭৪. আলী ইবন রাবী'আ বলেন, আমি আলী ইবন আবী তালিবের নিকট উপস্থিত ছিলাম। এ অবস্থায় তাঁর আরোহণের জন্য একটি পশু আনা হলো। তিনি بسم الله বলে রেকাবে পা রাখলেন। তারপর যখন সেটির পিঠে সোজা হয়ে বসলেন, তখন বললেন- سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ، وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ (পবিত্র সেই সত্তা, যিনি এই বাহনকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। অন্যথায় একে বশীভূত করার ক্ষমতা আমাদের ছিল না। নিশ্চয়ই আমাদেরকে আমাদের প্রতিপালকের কাছে ফিরে যেতে হবে)। তারপর তিনবার الْحَمْدُ للهِ বললেন। তারপর তিনবার বললেন اللَّهُ أكبرُ। তারপর বললেন - سُبْحَانَكَ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ (হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র ও মহান। আমি নিজের প্রতি জুলুম করেছি। আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া আর কেউ পাপ ক্ষমা করতে পারে না)। তারপর তিনি হেসে দিলেন। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আমীরুল মুমিনীন! আপনি হাসলেন কেন? বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে করতে দেখেছি, যেমনটা আমি করলাম। তারপর তিনি হেসেছিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি হাসলেন কেন? তিনি বললেন, তোমার পবিত্র ও মহান প্রতিপালক নিজ বান্দার প্রতি খুশি হন, যখন সে বলে- হে আল্লাহ! আমার পাপরাশি ক্ষমা করুন। (আল্লাহ বলেন,) সে জানে আমি ছাড়া তার পাপরাশি আর কেউ ক্ষমা করতে পারে না। আবূ দাউদ ও তিরমিযী
كتاب آداب السفر
باب مَا يقول إذا ركب دَابَّة للسفر
974 - وعن عَلِي بن ربيعة، قَالَ: شهدت عليَّ بن أَبي طالب - رضي الله عنه - أُتِيَ بِدَابَّةٍ لِيَرْكَبَهَا، فَلَمَّا وَضَعَ رِجْلَهُ في الرِّكَابِ، قَالَ: بِسْمِ اللهِ، فَلَمَّا اسْتَوَى عَلَى ظَهْرِهَا، قَالَ: الحَمْدُ للهِ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنينَ، وَإنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ، ثُمَّ قَالَ: الحمْدُ للهِ، ثَلاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ قَالَ: اللهُ أكْبَرُ، ثَلاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ قَالَ: سُبْحَانَكَ إنّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي إنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أنْتَ، ثُمَّ ضَحِكَ، فَقيلَ: يَا أمِيرَ المُؤمِنِينَ، مِنْ أيِّ شَيْءٍ ضَحِكْتَ؟ قَالَ: رَأيتُ النبيَّ - صلى الله عليه وسلم - فَعَلَ كَمَا فَعَلْتُ ثُمَّ ضَحِكَ، فقُلْتُ: يَا رسول اللهِ، مِنْ أيِّ شَيْءٍ ضَحِكْتَ؟ قَالَ: «إنَّ رَبَّكَ تَعَالَى يَعْجَبُ مِنْ عَبدِهِ إِذَا قَالَ: اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي، يَعْلَمُ أنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ غَيْرِي». رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: «حديث حسن»، وفي بعض النسخ: «حسن صحيح». وهذا لفظ أَبي داود. (1)
হাদীস নং: ৯৭৫
সফরের আদব-বিধান
পরিচ্ছেদঃ মুসাফির যখন টিলা বা অনুরূপ কোনও উঁচু স্থানে চড়ে, তখন তার আল্লাহু আকবার বলা; যখন উপত্যকা বা অনুরূপ কোনও নিচু স্থানে নামে, তখন সুবহানাল্লাহ বলা এবং তাকবীর ও তাসবীহতে আওয়াজ বেশি উঁচু না করা

উপরে ওঠার বেলায় তাকবীর বলা ও নিচে নামতে তাসবীহ পড়া
৯৭৫. হযরত জাবির রাযি. বলেন, আমরা যখন উঁচুতে চড়তাম, আল্লাহু আকবার বলতাম। যখন নিচে নামতাম, সুবহানাল্লাহ বলতাম। -বুখারী
كتاب آداب السفر
باب تكبير المسافر إِذَا صعد الثنايا وشبهها، وتسبيحه إِذَا هبط الأودية ونحوها، والنهي عن المبالغة برفع الصوتِ بالتكبير ونحوه
975 - عن جابر - رضي الله عنه - قَالَ: كُنَّا إِذَا صَعِدْنَا كَبَّرْنَا، وَإِذَا نَزَلْنَا سَبَّحْنَا. رواه البخاري. (1)