রিয়াযুস সালিহীন-ইমাম নববী রহঃ
৮. সফরের আদব-বিধান
হাদীস নং: ৯৭০
সফরের আদব-বিধান
সফরসঙ্গীর সাহায্য-সহযোগিতা করা: সচ্ছল ব্যক্তি কর্তৃক সফরের প্রয়োজনীয় সামগ্রী অসচ্ছল সঙ্গীর সাথে ভাগাভাগি করে নেওয়া
৯৭০. হযরত জাবির রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার কোনও এক যুদ্ধে যখন যাওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন বললেন, হে মুহাজির ও আনসার সম্প্রদায়। তোমাদের ভাইদের মধ্যে এমন অনেক লোক আছে, যাদের না আছে কোনও সম্পদ আর না আছে কোনও জ্ঞাতি-স্বজন। কাজেই তোমাদের একেকজন যেন দুই-তিনজন করে লোক নিজের সঙ্গে নিয়ে নেয়। ফলে আমাদের একেকজনের (অর্থাৎ একেকজন সচ্ছল ব্যক্তির) তার সঙ্গে নেওয়া সওয়ারিতে থাকল কেবল এতটুকু পালা (অর্থাৎ পালাক্রমে সওয়ার হওয়া), যেমনটা পালা থাকল তাদের একেকজনের (অর্থাৎ ওই দরিদ্রদের)। আমি আমার সঙ্গে দুই বা তিনজনকে নিয়ে নিলাম। আমারও আমার উটটিতে কেবল ওইরকম পালাই থাকল, যেমনটা পালা থাকল তাদের একেকজনের। -আবূ দাউদ
كتاب آداب السفر
باب إعانة الرفيق
970 - وعن جابر - رضي الله عنه - عن رسول الله - صلى الله عليه وسلم: أنَّهُ أرَادَ أَنْ يَغْزُوَ، فَقَالَ: «يَا مَعْشَرَ المُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارِ، إنَّ مِنْ إخْوَانِكُمْ قَوْمًا لَيْسَ لَهُمْ مَالٌ، وَلاَ عَشِيرةٌ، فَلْيَضُمَّ أحَدُكُمْ إِلَيْهِ الرَّجُلَيْنِ أَو الثَّلاَثَةَ، فَمَا لأَحَدِنَا مِنْ ظَهْرٍ يَحْمِلُهُ إِلاَّ عُقْبةٌ كَعُقْبَةٍ» يَعْني أحَدهِمْ، قَالَ: فَضَمَمْتُ إلَيَّ اثْنَيْنِ أَوْ ثَلاَثَةً مَا لِي إِلاَّ عُقْبَةٌ كَعقبة أحَدِهِمْ مِنْ جَمَلِي. رواه أَبُو داود. (1)
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
__________
(1) أخرجه: أبو داود (2534).
হাদীসের ব্যাখ্যা:
সাহাবায়ে কেরামের অধিকাংশ নিতান্তই গরিব ছিলেন। আনসার ও মুহাজির কোনও শ্রেণির মধ্যেই ধনী লোকের সংখ্যা বেশি ছিল না। তা যতই গরিব হন না কেন, জিহাদে অংশগ্রহণের ইচ্ছায় তাদের কারও কোনও কমতি ছিল না। যুদ্ধে যেতে হলে বাহনের দরকার পড়ে, রসদ লাগে এবং তাছাড়া প্রয়োজনীয় বিভিন্ন আসবাবপত্রও সঙ্গে নিতে হয়। তবে বাহনের প্রয়োজনই ছিল সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। দূর-দূরান্তের অভিযান পায়ে হেঁটে করা সম্ভব ছিল না। একদিকে তাদের ছিল জিহাদে অংশগ্রহণের প্রবল ইচ্ছা, অন্যদিকে যুদ্ধের সৈন্যসংখ্যা বেশি হওয়াটাও ছিল জরুরি।
কিন্তু বাহনস্বল্পতার কারণে এর কোনওটাই সহজ ছিল না। তাই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামের অন্তরে ত্যাগের মানসিকতা জাগ্রত করতে চাইলেন এবং সামান্য যে বাহন আছে তাই সকলকে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে উৎসাহ দিলেন। তিনি বললেন-
يَا مَعْشَرَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ إِنَّ مِنْ إِخْوَانِكُمْ قَوْمًا لَيْسَ لَهُمْ مَالٌ وَلَا عَشِيرَةٌ (হে মুহাজির ও আনসার সম্প্রদায়! তোমাদের ভাইদের মধ্যে এমন অনেক লোক আছে, যাদের না আছে কোনও সম্পদ আর না আছে কোনও জ্ঞাতি-স্বজন)।
عَشِيرَةٌ শব্দটির উৎপত্তি عِشْرَةٌ থেকে, যার অর্থ সঙ্গ, সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, আচার-ব্যবহার ইত্যাদি। عشيرة বলা হয় এমন লোকসমষ্টিকে, যারা ভাষা, ধর্ম, পেশা, রক্ত ইত্যাদি সূত্রে পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত। গোত্র ও গোষ্ঠী অর্থে শব্দটির ব্যবহার বেশি। আরবীতে قبيلة (গোত্র) অপেক্ষা عشيرة এর পরিসর ছোট হয়ে থাকে। সাধারণত তিন পুরুষে যারা পরস্পর সম্পৃক্ত, অর্থাৎ যাদের পরদাদা এক, তাদেরকে عَشِيرة বলা হয়। কয়েক عشيرة মিলে হয় قبيلة। যারা এক عَشِيرَةُ-এর অন্তর্ভুক্ত, অন্যদের তুলনায় তারা রক্ত সম্পর্কে কাছাকাছি হওয়ায় অন্যদের তুলনায় তাদের পারস্পরিক অধিকারও বেশি হয়ে থাকে। ফিকহের বিভিন্ন মাসআলা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। যা হোক, হাদীছটিতে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসার ও মুহাজিরদেরকে লক্ষ্য করে বলছেন যে, তোমাদের মধ্যে এমন অনেক লোক রয়েছে, যাদের অর্থসম্পদও নেই এবং জ্ঞাতিগোষ্ঠীও নেই। অর্থসম্পদ থাকলে তারা নিজেরাই নিজেদের সফরের আসবাবপত্র সংগ্রহ করতে পারত। জ্ঞাতিগোষ্ঠী থাকলে তাদের সহযোগিতায় এর ব্যবস্থা করতে পারত। তার কিছুই যখন নেই, তখন তোমাদের যার যেমন সামর্থ্য, সে অনুযায়ী তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করা উচিত। তিনি ইরশাদ করেন-
فَلْيَضُمَّ أَحَدُكُمْ إِلَيْهِ الرَّجُلَيْنِ أَوْ الثَّلَاثَةَ (কাজেই তোমাদের একেকজন যেন দুই-তিনজন করে লোক নিজের সঙ্গে নিয়ে নেয়)। অর্থাৎ যার যেমন সামর্থ্য আছে আর সে অনুযায়ী যার যতটা বাহন আছে, সে অনুপাতে যেন বাহনবিহীন লোকদেরকে নিজের সঙ্গে নিয়ে নেয়। যে দু'জনকে নিতে পারবে সে দু'জনকে নেবে, আর যে তিনজনকে পারবে সে তিনজনকে।
তারা তো ছিলেন সাহাবী। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশ পাওয়া মাত্রই তা পালন করতে প্রস্তুত হয়ে যেতেন। যত কষ্টই হোক না কেন, আদেশ পালনে তারা কখনও দ্বিধাবোধ করতেন না। সুতরাং তারা এ আদেশ অনুযায়ী যুদ্ধযাত্রায় নিজেদের সঙ্গে একাধিক সঙ্গী নিয়ে নিতেন এবং একই উটে তারা পালাক্রমে সওয়ার হতেন। হযরত জাবির রাযি. বলেন-
فَمَا لِأَحَدِنَا مِنْ ظَهْرٍ يَحْمِلُهُ إِلَّا عُقْبَةَ أَحَدِهِمْ 'ফলে আমাদের একেকজনের (অর্থাৎ একেকজন সচ্ছল ব্যক্তির) তার সঙ্গে নেওয়া সওয়ারিতে থাকল কেবল এতটুকু পালা (অর্থাৎ পালাক্রমে সওয়ার হওয়া), যেমনটা পালা থাকল তাদের একেকজনের (অর্থাৎ ওই দরিদ্রদের)'। অর্থাৎ যে সচ্ছল ব্যক্তির যাত্রীবাহী উট থাকত, সে যদি তার সঙ্গে দু'জন অসচ্ছল সঙ্গী নিয়ে নিত, তবে তারা তিনজনে মিলে পালাক্রমে সেই উট ব্যবহার করত। কিছুক্ষণ একজন তাতে সওয়ার হতো, তারপর সমপরিমাণ সময় আরেকজন সওয়ার হতো আর তখন প্রথম ব্যক্তি পায়ে হেঁটে চলত। তারপর তৃতীয়জন সওয়ার হতো আর প্রথম দু'জন পায়ে হেঁটে চলত। এভাবেই পালাক্রমে তারা সারাটা পথ অতিক্রম করত। হযরত জাবির রাযি. নিজের সম্পর্কে বলেন-
فَضَمَمْتُ إِلَىَّ اثْنَيْنِ أَوْ ثَلاَثَةً، قَالَ : مَا لِي إِلاَّ عُقْبَةٌ كَعُقْبَةِ أَحَدِهِمْ مِنْ جَمَلِي (আমি আমার সঙ্গে দুই বা তিনজনকে নিয়ে নিলাম। আমারও আমার উটটিতে কেবল ওইরকম পালাই থাকল, যেমনটা পালা থাকল তাদের একেকজনের)। আল্লাহু আকবার! কী আত্মত্যাগ! কী পরহিতৈষণা। আমরাও সফর করি। তখন হয়তো অন্যের সাহায্য-সহযোগিতাও করি। কিন্তু নিজের মতো সমান সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তা করি ক'জন? আমরা নিজের সুবিধা ষোলো আনা রক্ষা করে তারপর অন্যের জন্য যতটুকু করা যায় তা করে থাকি। কোথায় নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা, কোথায় সাহাবায়ে কেরামের আদর্শ, আর কোথায় আমরা!
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. সফরে সচ্ছল ব্যক্তিদের উচিত অসচ্ছল সঙ্গীদের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেওয়া।
খ. সফরসঙ্গীকে দেওয়ার মতো বাড়তি কিছু নিজের সঙ্গে না থাকলে যা থাকে তাই পরস্পর ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা উচিত।
গ. সাহাবায়ে কেরাম হাজার কষ্টের ভেতরও নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশ পালনে প্রস্তুত থাকতেন।
ঘ. সচ্ছল সাহাবীগণ অসচ্ছল সাহাবীদের প্রতি অকুণ্ঠ সহমর্মিতা প্রকাশ করতেন এবং নিজ স্বার্থ ত্যাগ করে তাদের কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করতেন।
কিন্তু বাহনস্বল্পতার কারণে এর কোনওটাই সহজ ছিল না। তাই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামের অন্তরে ত্যাগের মানসিকতা জাগ্রত করতে চাইলেন এবং সামান্য যে বাহন আছে তাই সকলকে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে উৎসাহ দিলেন। তিনি বললেন-
يَا مَعْشَرَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ إِنَّ مِنْ إِخْوَانِكُمْ قَوْمًا لَيْسَ لَهُمْ مَالٌ وَلَا عَشِيرَةٌ (হে মুহাজির ও আনসার সম্প্রদায়! তোমাদের ভাইদের মধ্যে এমন অনেক লোক আছে, যাদের না আছে কোনও সম্পদ আর না আছে কোনও জ্ঞাতি-স্বজন)।
عَشِيرَةٌ শব্দটির উৎপত্তি عِشْرَةٌ থেকে, যার অর্থ সঙ্গ, সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, আচার-ব্যবহার ইত্যাদি। عشيرة বলা হয় এমন লোকসমষ্টিকে, যারা ভাষা, ধর্ম, পেশা, রক্ত ইত্যাদি সূত্রে পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত। গোত্র ও গোষ্ঠী অর্থে শব্দটির ব্যবহার বেশি। আরবীতে قبيلة (গোত্র) অপেক্ষা عشيرة এর পরিসর ছোট হয়ে থাকে। সাধারণত তিন পুরুষে যারা পরস্পর সম্পৃক্ত, অর্থাৎ যাদের পরদাদা এক, তাদেরকে عَشِيرة বলা হয়। কয়েক عشيرة মিলে হয় قبيلة। যারা এক عَشِيرَةُ-এর অন্তর্ভুক্ত, অন্যদের তুলনায় তারা রক্ত সম্পর্কে কাছাকাছি হওয়ায় অন্যদের তুলনায় তাদের পারস্পরিক অধিকারও বেশি হয়ে থাকে। ফিকহের বিভিন্ন মাসআলা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। যা হোক, হাদীছটিতে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসার ও মুহাজিরদেরকে লক্ষ্য করে বলছেন যে, তোমাদের মধ্যে এমন অনেক লোক রয়েছে, যাদের অর্থসম্পদও নেই এবং জ্ঞাতিগোষ্ঠীও নেই। অর্থসম্পদ থাকলে তারা নিজেরাই নিজেদের সফরের আসবাবপত্র সংগ্রহ করতে পারত। জ্ঞাতিগোষ্ঠী থাকলে তাদের সহযোগিতায় এর ব্যবস্থা করতে পারত। তার কিছুই যখন নেই, তখন তোমাদের যার যেমন সামর্থ্য, সে অনুযায়ী তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করা উচিত। তিনি ইরশাদ করেন-
فَلْيَضُمَّ أَحَدُكُمْ إِلَيْهِ الرَّجُلَيْنِ أَوْ الثَّلَاثَةَ (কাজেই তোমাদের একেকজন যেন দুই-তিনজন করে লোক নিজের সঙ্গে নিয়ে নেয়)। অর্থাৎ যার যেমন সামর্থ্য আছে আর সে অনুযায়ী যার যতটা বাহন আছে, সে অনুপাতে যেন বাহনবিহীন লোকদেরকে নিজের সঙ্গে নিয়ে নেয়। যে দু'জনকে নিতে পারবে সে দু'জনকে নেবে, আর যে তিনজনকে পারবে সে তিনজনকে।
তারা তো ছিলেন সাহাবী। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশ পাওয়া মাত্রই তা পালন করতে প্রস্তুত হয়ে যেতেন। যত কষ্টই হোক না কেন, আদেশ পালনে তারা কখনও দ্বিধাবোধ করতেন না। সুতরাং তারা এ আদেশ অনুযায়ী যুদ্ধযাত্রায় নিজেদের সঙ্গে একাধিক সঙ্গী নিয়ে নিতেন এবং একই উটে তারা পালাক্রমে সওয়ার হতেন। হযরত জাবির রাযি. বলেন-
فَمَا لِأَحَدِنَا مِنْ ظَهْرٍ يَحْمِلُهُ إِلَّا عُقْبَةَ أَحَدِهِمْ 'ফলে আমাদের একেকজনের (অর্থাৎ একেকজন সচ্ছল ব্যক্তির) তার সঙ্গে নেওয়া সওয়ারিতে থাকল কেবল এতটুকু পালা (অর্থাৎ পালাক্রমে সওয়ার হওয়া), যেমনটা পালা থাকল তাদের একেকজনের (অর্থাৎ ওই দরিদ্রদের)'। অর্থাৎ যে সচ্ছল ব্যক্তির যাত্রীবাহী উট থাকত, সে যদি তার সঙ্গে দু'জন অসচ্ছল সঙ্গী নিয়ে নিত, তবে তারা তিনজনে মিলে পালাক্রমে সেই উট ব্যবহার করত। কিছুক্ষণ একজন তাতে সওয়ার হতো, তারপর সমপরিমাণ সময় আরেকজন সওয়ার হতো আর তখন প্রথম ব্যক্তি পায়ে হেঁটে চলত। তারপর তৃতীয়জন সওয়ার হতো আর প্রথম দু'জন পায়ে হেঁটে চলত। এভাবেই পালাক্রমে তারা সারাটা পথ অতিক্রম করত। হযরত জাবির রাযি. নিজের সম্পর্কে বলেন-
فَضَمَمْتُ إِلَىَّ اثْنَيْنِ أَوْ ثَلاَثَةً، قَالَ : مَا لِي إِلاَّ عُقْبَةٌ كَعُقْبَةِ أَحَدِهِمْ مِنْ جَمَلِي (আমি আমার সঙ্গে দুই বা তিনজনকে নিয়ে নিলাম। আমারও আমার উটটিতে কেবল ওইরকম পালাই থাকল, যেমনটা পালা থাকল তাদের একেকজনের)। আল্লাহু আকবার! কী আত্মত্যাগ! কী পরহিতৈষণা। আমরাও সফর করি। তখন হয়তো অন্যের সাহায্য-সহযোগিতাও করি। কিন্তু নিজের মতো সমান সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তা করি ক'জন? আমরা নিজের সুবিধা ষোলো আনা রক্ষা করে তারপর অন্যের জন্য যতটুকু করা যায় তা করে থাকি। কোথায় নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা, কোথায় সাহাবায়ে কেরামের আদর্শ, আর কোথায় আমরা!
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. সফরে সচ্ছল ব্যক্তিদের উচিত অসচ্ছল সঙ্গীদের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেওয়া।
খ. সফরসঙ্গীকে দেওয়ার মতো বাড়তি কিছু নিজের সঙ্গে না থাকলে যা থাকে তাই পরস্পর ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা উচিত।
গ. সাহাবায়ে কেরাম হাজার কষ্টের ভেতরও নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশ পালনে প্রস্তুত থাকতেন।
ঘ. সচ্ছল সাহাবীগণ অসচ্ছল সাহাবীদের প্রতি অকুণ্ঠ সহমর্মিতা প্রকাশ করতেন এবং নিজ স্বার্থ ত্যাগ করে তাদের কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করতেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)