আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

موطأ الإمام مالك برواية الإمام محمد بن الحسن الشيباني

৮- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৭৬ টি

হাদীস নং: ৫৯৪
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মৃত্যুর অথবা তালাকের ইদ্দাত চলাকালে স্বামীর বাড়ির বাইরে স্ত্রীর যাওয়া সম্পর্কে।
৫৯৪। মালেক ইবনে সিনানের কন্যা এবং আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ)-র বোন ফুরাইআ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তার বাপের বাড়ী ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করার জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর কাছে এলেন। (তিনি বলেন), কেননা আমার স্বামী আমাদের পালিয়ে যাওয়া কয়েকটি গোলামের খোঁজে বাইরে গিয়েছিলেন। আল-কাদ্দূম নামক এলাকার কাছাকাছি তিনি যখন তাদের প্রায় ধরে ফেলছিলেন তখন তারা তাকে হত্যা করে। আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর কাছে আমার বাপের বাড়ী খুদরা গোত্রে ফিরে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করি। কেননা আমার স্বামী তার মালিকানায় আমার বসবাসের জন্য কোন ঘর এবং খোরপোষ রেখে যাননি। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেনঃ “হ্যাঁ, তুমি যেতে পারো”। অতএব আমি তাঁর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রওয়ানা হলাম। আমি কেবল হুজরা থেকে বের হয়েছি এমন সময় তিনি আমাকে ডাকলেন অথবা আমাকে ডাকার জন্য কাউকে নির্দেশ দিলেন। অতএব আমাকে ডাকা হলো। আমি তাঁর কাছে গেলে তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ “তুমি কি বলেছিলে? আমি তার সামনে পূর্বের ঘটনা পুনরায় ব্যক্ত করলাম। তিনি বলেনঃ “নিজ ঘরে অবস্থান করো ইদ্দাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত।" রাবী বলেন, অতএব আমি সেই ঘরে (স্বামীর ঘরে) চার মাস দশ দিন ইদ্দাত পালন করলাম।** রাবী আরো বলেন, উছমান (রাযিঃ) তার খিলাফতকালে আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং এই বিষয়ে আমার কাছে জিজ্ঞেস করলেন। আমি তাকে বিষয়টি আদ্যপান্ত অবহিত করি। তিনি এই বিষয়টির অনুসরণ করেন এবং তদনুযায়ী (এই জাতীয় ঘটনার) ফয়সালা দিতেন।
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا سَعْدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، عَنْ عَمَّتِهِ زَيْنَبَ ابْنَةِ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، أَنَّ الْفُرَيْعَةَ بِنْتَ مَالِكِ بْنِ سِنَانٍ وَهِيَ أُخْتُ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَخْبَرَتْهُ، أَنَّهَا أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَسْأَلُهُ أَنْ تَرْجِعَ إِلَى أَهْلِهَا فِي بَنِي خُدْرَةٍ، فَإِنَّ زَوْجِي خَرَجَ فِي طَلَبِ أَعْبُدٍ لَهُ أَبَقُوا حَتَّى إِذَا كَانَ بِطَرَفِ الْقَدُومِ أَدْرَكَهُمْ، فَقَتَلُوهُ، فَقَالَتْ: فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَأْذَنَ لِي أَنْ أَرْجِعَ إِلَى أَهْلِي فِي بَنِي خُدْرَةٍ فَإِنَّ زَوْجِي لَمْ يَتْرُكْنِي فِي مَسْكَنٍ يَمْلِكُهُ، وَلا نَفَقَةٍ، فَقَالَ: «نَعَمْ» ، فَخَرَجْتُ حَتَّى إِذَا كُنْتُ بِالْحُجْرَةِ دَعَانِي، أَوْ أَمَرَ مَنْ دَعَانِي، فَدُعِيتُ لَهُ، فَقَالَ: «كَيْفَ قُلْتِ؟» ، فَرَدَّدْتُ عَلَيْهِ الْقِصَّةَ الَّتِي ذَكَرْتُ لَهُ، فَقَالَ: «امْكُثِي فِي بَيْتِكَ حَتَّى يَبْلُغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ» ، قَالَتْ: فَاعْتَدَدْتُ فِيهِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا، قَالَتْ: فَلَمَّا كَانَ أَمْرُ عُثْمَانَ أَرْسَلَ إِلَيَّ فَسَأَلَنِي عَنْ ذَلِكَ فَأَخْبَرْتُهُ بِذَلِكَ فَاتَّبَعَهُ وَقَضَى بِهِ
হাদীস নং: ৫৯৫
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মৃত্যুর অথবা তালাকের ইদ্দাত চলাকালে স্বামীর বাড়ির বাইরে স্ত্রীর যাওয়া সম্পর্কে।
৫৯৫। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তার কাছে এক মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, তার স্বামী যখন তাকে তালাক দেয়, তখন সে ভাড়া বাড়িতে ছিল। এখন এ বাড়ির ভারা কে দিবে স্বামী না স্ত্রী? সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাহঃ) বলেন, স্বামীকে ভাড়ার খরচ বহন হতে হবে। কেরা বললো, ভাড়া পরিশোধ করার সামর্থ্য যদি স্বামীর না থাকে? তিনি বলেন, তাহলে স্ত্রী তা পরিশোধ করবে। তারা আবার বললো, সেও যদি অসমর্থ হয়? তিনি বলেন, তাহলে সরকারের স্থানীয় প্রতিনিধি ভাড়া পরিশোধ করবে।
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيِّبِ، أَنَّهُ سُئِلَ عَنِ الْمَرْأَةِ يُطَلِّقُهَا زَوْجُهَا وَهِيَ فِي بَيْتِ بِكِرَاءٍ، عَلَى مَنِ الْكِرَاءُ؟ قَالَ: عَلَى زَوْجِهَا، قَالُوا: فَإِنْ لَمْ يَكُنْ عِنْدَ زَوْجِهَا؟ قَالَ: فَعَلَيْهَا، قَالُوا: فَإِنْ لَمْ يَكُنْ عِنْدَهَا؟ قَالَ: فَعَلَى الْأَمِيرِ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৯৬
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মৃত্যুর অথবা তালাকের ইদ্দাত চলাকালে স্বামীর বাড়ির বাইরে স্ত্রীর যাওয়া সম্পর্কে।
৫৯৬। নাফে (রাহঃ) বলেন, ইবনে উমার (রাযিঃ) তার স্ত্রীকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর স্ত্রী হাফসা (রাযিঃ)-র ঘরে তালাক দেন। তার ঘরের মধ্য দিয়ে (ইবনে উমারের) মসজিদে যাওয়ার পথ ছিল। ইবনে উমার (রাযিঃ) ঐ ঘরের পিছন দিয়ে অন্য পথে মসজিদে যেতেন। কেননা তিনি স্ত্রীকে রুজু করার পূর্বে তার অবস্থানের ঘরের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করার অনুমতি চাওয়া পছন্দ করেননি।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এই মত গ্রহণ করেছি। স্বামী স্ত্রীকে যে বাড়িতে তালাক দিয়েছে ইদ্দাত চলাকালে সেখান থেকে তার বের হওয়া উচিৎ নয়-তা বায়েন তালাকই হোক অথবা রিজঈ তালাকই হোক অথবা স্বামী মারা গিয়েই থাকুক। ঐ বাড়ীতেই তাকে ইদ্দাত পূর্ণ করতে হবে। ইমাম আবু হানীফা এবং আমাদের মাযহাবের ফিকহবিদদের এটাই সাধারণ মত।
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا نَافِعٌ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ «طَلَّقَ امْرَأَتَهُ فِي مَسْكَنِ حَفْصَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَكَانَ طَرِيقُهُ فِي حُجْرَتِهَا، فَكَانَ يَسْلُكُ الطَّرِيقَ الأُخْرَى مِنْ أَدْبَارِ الْبُيُوتِ إِلَى الْمَسْجِدِ، كَرَاهَةَ أَنْ يَسْتَأْذِنَ عَلَيْهَا حَتَّى رَاجَعَهَا» ، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، لا يَنْبَغِي لِلْمَرْأَةِ أَنْ تَنْتَقِلَ مِنْ مَنْزِلِهَا الَّذِي طَلَّقَهَا فِيهِ زَوْجُهَا، إِنْ كَانَ الطَّلاقُ بَائِنًا، أَوْ غَيْرَ بَائِنٍ، أَوْ مَاتَ عَنْهَا فِيهِ حَتَّى تَنْقَضِيَ عِدَّتُهَا، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৯৭
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ উম্মে অলাদের ইদ্দাত। **
৫৯৭। ইবনে উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলতেন, উম্মে অলাদের মনিব মারা গেলে তাকে এক হায়েযকাল ইদ্দাত পালন করতে হবে।
كتاب الطلاق
بَابُ: عِدَّةِ أُمِّ الْوَلَدِ
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، حَدَّثَنَا نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: «عِدَّةُ أُمِّ الْوَلَدِ إِذَا تُوُفِّيَ عَنْهَا سَيِّدُهَا حَيْضَةٌ»
হাদীস নং: ৫৯৮
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ উম্মে অলাদের ইদ্দাত।
৫৯৮ ৷ আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মে অলাদের ইদ্দাত তিন হায়েযকাল।
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنِي الْحَسَنُ بْنُ عُمَارَةَ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُيَيْنَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ الْجَزَّارِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ كَرَّمَ اللَّهُ وَجْهَهُ، أَنَّهُ قَالَ: «عِدَّةُ أُمِّ الْوَلَدِ ثَلاثُ حِيَضٍ»
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৯৯
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ উম্মে অলাদের ইদ্দাত।
৫৯৯। আমর ইবনুল আস (রাযিঃ)-কে উম্মে অলাদের ইদ্দাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বলেন, তোমরা আমাকে আমার দ্বীনের ব্যাপারে সন্দেহ-সংশয়ের মধ্যে নিক্ষেপ করো না। যদিও সে বাঁদী, কিন্তু তার ইদ্দাতকাল স্বাধীন মহিলাদের ইদ্দাতকালের সমান।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এই মত গ্রহণ করেছি। উম্মে অলাদের ইদ্দাতকাল স্বাধীন মহিলাদের ইদ্দাতকালের সমান। ইমাম আবু হানীফা, ইবরাহীম নাখঈ এবং আমাদের অধিকাংশ ফিকহবিদের এই মত।
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، أَنَّ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ سُئِلَ عَنْ عِدَّةِ أُمِّ الْوَلَدِ؟ فَقَالَ: «لا تُلْبِسُوا عَلَيْنَا فِي دِينِنَا إِنْ تَكُ أَمَةً فَإِنَّ عِدَّتَهَا عِدَّةُ حُرَّةٍ» ، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ وَإِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬০০
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল-খালিয়্যাতু বা এই জাতীয় শব্দ প্রয়োগে তালাক দেয়া।
৬০০। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলতেন, আল-খালিয়্যাতু ও আল-বারিয়্যাতু শব্দদ্বয়ের প্রতিটির দ্বারা তিন তালাক অবতীর্ণ হয়।
كتاب الطلاق
بَابُ: الْخَلِيَّةِ وَالْبَرِيَّةِ وَمَا يُشْبِهُ الطَّلاقَ
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا نَافِعٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: «الْخَلِيَّةُ وَالْبَرِيَّةُ ثَلاثُ تَطْلِيقَاتٍ كُلُّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا»
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬০১
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল-খালিয়্যাতু বা এই জাতীয় শব্দ প্রয়োগে তালাক দেয়া।
৬০১। কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, এক ব্যক্তির বিবাহাধীনে একটি বাঁদী ছিল। সে বাঁদীর মালিক পরিবারকে বললো, তোমরা জানো, তোমাদের কাজ জানে। রাবী বলেন, লোকেরা এটাকে এক তালাক মনে করলো।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, কোন ব্যক্তি খালিয়্যা (খালি করে দেয়া), বারিয়্যা (মুক্ত করে দেয়া) ইত্যাদি শব্দ দ্বারা তিন তালাকের নিয়াত করলে তিন তালাকই হয়ে যাবে। কিন্তু এক অথবা দুই তালাকের নিয়াত করলে অথবা কিছু নিয়াত না করলে এক বায়েন তালাক হবে-স্ত্রীর সাথে সহবাস করুক বা না করুক। ইমাম আবু হানীফা এবং আমাদের অধিকাংশ ফিকহবিদের এই মত।
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، قَالَ: كَانَ رَجُلٌ تَحْتَهُ وَلِيدَةٌ فَقَالَ لأَهْلِهَا: شَأْنَكُمْ بِهَا؟ قَالَ الْقَاسِمُ: فَرَأَى النَّاسُ أَنَّهَا تَطْلِيقَةٌ، قَالَ مُحَمَّدٌ: إِذَا نَوَى الرَّجُلُ بِالْخَلِيَّةِ وَبِالْبَرِيَّةِ ثَلاثَ تَطْلِيقَاتٍ فَهِيَ ثَلاثُ تَطْلِيقَاتٍ وَإِذَا أَرَادَ بِهَا وَاحِدَةً فَهِيَ وَاحِدَةٌ بَائِنٌ، دَخَلَ بِامْرَأَتِهِ، أَوْ لَمْ يَدْخُلْ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬০২
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সন্তাত সম্পর্কে সন্দেহ হলে।
৬০২। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক গ্রাম্য বেদুইন রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর কাছে এসে বললো, আমার স্ত্রী কালো চেহারার একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ জিজ্ঞেস করলেনঃ “তোমার কি উট আছে? সে বললো, হ্যাঁ। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেনঃ “এগুলোর বর্ণ কি?” সে বললো, লাল। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেনঃ তার মধ্যে মেটে বর্ণের উটও আছে কি?” সে বললো, হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ “তা কেন?” সে বললো, কোন শিরা তা টেনে এনেছে হয়তো (উর্ধতন বংশের প্রভাব)। তিনি বলেনঃ “তোমার সন্তানকেও হয়তো শিরায় টেনেছে।”
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, এ জাতীয় সন্দেহ-সংশয়ের ভিত্তিতে সন্তান অস্বীকার করা যায় না।
كتاب الطلاق
بَابُ: الرَّجُلِ يُولَدُ لَهُ فَيَغْلِبُ عَلَيْهِ الشَّبَهُ
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا ابْنُ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلا مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: إِنَّ امْرَأَتِي وَلَدَتْ غُلامًا أَسْوَدَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَلْ لَكَ مِنْ إِبِلٍ؟» ، قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: «مَا أَلْوَانُهَا؟» ، قَالَ: حُمْرٌ، قَالَ: «فَهَلْ فِيهَا مِنْ أَوْرَاقٍ؟» ، قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: «فَبِمَا كَانَ ذَلِكَ؟» ، قَالَ: أُرَاهُ نَزَعَهُ عِرْقٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «فَلَعَلَّ ابْنَكَ نَزَعَهُ عِرْقٌ» ، قَالَ مُحَمَّدٌ: لا يَنْبَغِي لِلرَّجُلِ أَنْ يَنْتَفِيَ مِنْ وَلَدِهِ بِهَذَا وَنَحْوِهِ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬০৩
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ স্বামীর আগে স্ত্রী মুসলমান হলে।
৬০৩ । ইবনে শিহাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। হারিছ ইবনে হিশাম-কন্যা উম্মে হাকীম (রাযিঃ) আবু জাহলের পুত্র ইকরামার স্ত্রী ছিলেন। মক্কা বিজয়ের দিন তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। কিন্তু ইকরামা ইসলাম থেকে পলায়ন করে ইয়ামানে চলে যান। উম্মে হাকীম (রাযিঃ) ইয়ামান রওনা হলেন এবং তার কাছে গিয়ে পৌঁছলেন। তিনি স্বামীকে ইসলামের দিকে আহবান করলেন। তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন, অতঃপর নবী ﷺ -এর কাছে এসে উপস্থিত হলেন। নবী ﷺ তাকে দেখে আনন্দিত মনে তার দিকে দৌড়ে এলেন এবং তার উপর নিজের চাদর নিক্ষেপ করলেন, অতঃপর তাকে বাইআত করলেন।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, স্ত্রী ইসলাম গ্রহণ করলে এবং স্বামী কাফের অবস্থায় ইসলামী রাষ্ট্রে থেকে গেলে, তাদের মধ্যে বিবাহ-বিচ্ছেদ করবে না। বরং তার সামনে দীন ইসলামকে পেশ করতে হবে। যদি সে ইসলাম কবুল করে তাহলে সে তার স্ত্রী হিসাবেই থেকে যাবে। কিন্তু ইসলাম গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বিবাহ ভেঙ্গে দিতে হবে। আর এটা এক বায়েন তালাক গণ্য হবে। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এবং ইবরাহীম নাখঈর এই মত।
كتاب الطلاق
بابُ الْمَرْأَةِ تُسْلِمُ قَبْلَ زَوْجِهَا
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا ابْنُ شِهَابٍ، أَنَّ أُمَّ حَكِيمٍ بِنْتَ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ كَانَتْ تَحْتَ عِكْرِمَةَ بْنِ أَبِي جَهْلٍ فَأَسْلَمَتْ يَوْمَ الْفَتْحِ، وَخَرَجَ عِكْرِمَةُ هَارِبًا مِنَ الإِسْلامِ حَتَّى قَدِمَ الْيَمَنَ، فَارْتَحَلَتْ أُمُّ حَكِيمٍ حَتَّى قَدِمَتْ فَدَعَتْهُ إِلَى الإِسْلامِ فَأَسْلَمَ، فَقَدِمَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمَّا رَآهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَثَبَ إِلَيْهِ فَرَحًا وَمَا عَلَيْهِ رِدَاؤُهُ حَتَّى بَايَعَهُ "، قَالَ مُحَمَّدٌ: إِذَا أَسْلَمَتِ الْمَرْأَةُ وَزَوْجُهَا كَافِرٌ فِي دَارِ الإِسْلامِ لَمْ يُفَرَّقْ بَيْنَهُمَا حَتَّى يُعْرَضَ عَلَى الزَّوْجِ الْإِسْلامُ، فَإِنْ أَسْلَمَ فَهِيَ امْرَأَتُهُ وَإِنْ أَبَى أَنْ يُسْلِمَ فُرِّقَ بَيْنَهُمَا وَكَانَتْ فُرْقَتُهُمَا تَطْلِيقَةً بَائِنَةً، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ وَإِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬০৪
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ স্বামীর আগে স্ত্রী মুসলমান হলে।
৬০৪। আয়েশা (রাযিঃ) বলেন, আব্দুর রহমান কন্যা (ও মুনযিরের স্ত্রী) হাফসার যখন তৃতীয় হায়েয শুরু হলো, তখন সে ইদ্দাত পালন থেকে উঠে গেলো। আমি (যুহরী) আব্দুর রহমান-কন্যা আমরার কাছে ব্যাপারটি উল্লেখ করলাম। তিনি বলেন, উরওয়া ঠিকই বলেছেন (রিওয়ায়াত করেছেন)। লোকেরা আয়েশা (রাযিঃ)-র সাথে বিতর্কে লিপ্ত হলো এবং বললো, আল্লাহ তাআলা বলেনঃ 'তিন কুরূ পর্যন্ত বিরত রাখতে হবে'। আয়েশা (রাযিঃ) বলেন, তোমরা সত্যিই বলেছো । কিন্তু তোমরা জানো কুরূ কি? কুরূ বলতে তুহর (পবিত্র অবস্থা) বুঝায় ।
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا ابْنُ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: " انْتَقَلَتْ حَفْصَةُ بِنْتُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ حِينَ دَخَلَتْ فِي الدَّمِ مِنَ الْحَيْضَةِ الثَّالِثَةِ، فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِعَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، فَقَالَتْ: صَدَقَ عُرْوَةُ، وَقَدْ جَادَلَهَا فِيهِ نَاسٌ، وَقَالُوا، إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ: {ثَلاثَةَ قُرُوءٍ} ، فَقَالَتْ: صَدَقْتُمْ، وَتَدْرُونَ مَا الأَقْرَاءُ؟ إِنَّمَا الأَقْرَاءُ: الأَطْهَارُ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬০৫
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ স্বামীর আগে স্ত্রী মুসলমান হলে।
৬০৫। আবু বাকর ইবনে আব্দুর রহমান ইবনুল হারিছ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনিও এরূপ বলতেন (কুরূ অর্থ তুহর)।
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا ابْنُ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ مِثْلَ ذَلِكَ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬০৬
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ স্বামীর আগে স্ত্রী মুসলমান হলে।
৬০৬। সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। আল-আহওয়াস নামে সিরিয়ার এক ব্যক্তি নিজ স্ত্রীকে তালাক দেয়। তার তৃতীয় হায়েয শুরু হওয়ার পর লোকটি মারা গেলো। মহিলাটি তখন বললো, আমি তার ওয়ারিস। আল-আহওয়াসের ছেলেরা বললো, আপনি তার ওয়ারিস হতে পারেন না। তারা নিজেদের বিবাদ নিষ্পত্তির জন্য তা আমীর মুআবিয়া (রাযিঃ)-র দরবারে উত্থাপন করলো। মুআবিয়া (রাযিঃ) ফাদালা ইবনে উবাইদ (রাযিঃ)-র কাছে এবং সিরিয়ার কতিপয় লোকের কাছে এর সমাধান জিজ্ঞেস করলেন, কিন্তু এ সম্পর্কিত মাসআলার কোন সদুত্তর তাদের কাছে পাননি। অতঃপর তিনি বিষয়টি যায়েদ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ)-কে লিখে জানান । যায়েদ (রাযিঃ) উত্তরে লিখে পাঠান যে, তার যখন তৃতীয় হায়েয শুরু হয়ে গেছে তখন স্বামীর সাথেও তার কোন সম্পর্ক অবশিষ্ট থাকলো না এবং তার সাথে স্বামীরও কোন সম্পর্ক অবশিষ্ট থাকলো না। অতএব দু'জনের কেউই কারো ওয়ারিস হবে না।
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا نَافِعٌ، وَزَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ رَجُلا مِنْ أَهْلِ الشَّامِ يُقَالُ لَهُ: الأَحْوَصُ، طَلَّقَ امْرَأَتَهُ، ثُمَّ مَاتَ حِينَ دَخَلَتْ فِي الدَّمِ مِنَ الْحَيْضَةِ الثَّالِثَةِ، فَقَالَتْ: أَنَا وَارِثَتُهُ، وَقَالَ بَنُوهُ: لا تَرِثِينَهُ، فَاخْتَصَمُوا إِلَى مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، فَسَأَلَ مُعَاوِيَةُ فَضَالَةَ بْنَ عُبَيْدٍ وَنَاسًا مِنْ أَهْلِ الشَّامِ، فَلَمْ يَجِدْ عِنْدَهُمْ عِلْمًا فِيهِ، فَكَتَبَ إِلَى زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، فَكَتَبَ إِلَيْهِ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ: «أَنَّهَا إِذَا دَخَلَتْ فِي الدَّمِ مِنَ الْحَيْضَةِ الثَّالِثَةِ فَإِنَّهَا لا تَرِثُهُ، وَلا يَرِثُهَا، وَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ وَبَرِئَ مِنْهَا»
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬০৭
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ স্বামীর আগে স্ত্রী মুসলমান হলে।
৬০৭ । নাফে (রাহঃ) ও ইবনে উমার (রাযিঃ)-র সূত্রে অনুরূপ কথাই বর্ণনা করেছেন।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমাদের মতে তৃতীয় হায়েয থেকে পাক হয়ে যাওয়ার এবং গোসল করার পরই ইদ্দাতের মেয়াদ শেষ হয়।
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا نَافِعٌ مَوْلَى ابْنِ عُمَرَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، مِثْلَ ذَلِكَ، قَالَ مُحَمَّدٌ: انْقِضَاءُ الْعِدَّةِ عِنْدَنَا الطَّهَارَةُ مِنَ الدَّمِ مِنَ الْحَيْضَةِ الثَّالِثَةِ إِذَا اغْتَسَلَتْ مِنْهَا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬০৮
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ স্বামীর আগে স্ত্রী মুসলমান হলে।
৬০৮। ইবরাহীম নাখঈ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে প্রত্যাহারযোগ্য তালাক দিলো, অতঃপর তাকে এই অবস্থায় রেখে দিলো। এমনকি তার তৃতীয় হায়েযের রক্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সে গোসল করতে গেলো এবং তার পানির নিকটবর্তী হলো। এ সময় তার স্বামী এসে বললো, আমি তোমাকে ফিরিয়ে নিলাম। স্ত্রীলোকটি এ সম্পর্কে উমার (রাযিঃ)-র কাছে মাসআলা জিজ্ঞেস করলো। তখন তার কাছে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)-ও উপস্থিত ছিলেন। উমার (রাযিঃ) তাকে বলেন, তোমার রায় বলো। ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, হে আমীরুল মুমিনীন! তৃতীয় হায়েয শেষ হওয়ার পর গোসল করার পূর্ব পর্যন্ত সে তাকে রুজু করতে পারবে। উমার (রাযিঃ) বলেন, আমারও এই মত। অতঃপর উমার (রাযিঃ) ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)-কে বলেন, তুমি জ্ঞানে পরিপূর্ণ একটি ঘর।
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا أَبُو حَنِيفَةَ، عَنْ حَمَّادٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، " أَنَّ رَجُلا طَلَّقَ امْرَأَتَهُ تَطْلِيقَةً يَمْلِكُ الرَّجْعَةَ، ثُمَّ تَرَكَهَا حَتَّى انْقَطَعَ دَمُهَا مِنَ الْحَيْضَةِ الثَّالِثَةِ وَدَخَلَتْ مُغْتَسَلَهَا، وَأَدْنَتْ مَاءَهَا، فَأَتَاهَا فَقَالَ لَهَا: قَدْ رَاجَعْتُكِ، فَسَأَلَتْ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ عَنْ ذَلِكَ وَعِنْدَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ، فَقَالَ عُمَرُ: قُلْ فِيهَا بِرَأْيِكَ، فَقَالَ: أُرَاهُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَحَقَّ بِرَجْعَتِهَا مَا لَمْ تَغْتَسِلْ مِنْ حَيْضَتِهَا الثَّالِثَةِ، فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: وَأَنَا أَرَى ذَلِكَ "، ثُمَّ قَالَ عُمَرُ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ: «كُنَيْفٌ مُلِئَ عِلْمًا»
হাদীস নং: ৬০৯
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ স্বামীর আগে স্ত্রী মুসলমান হলে।
৬০৯। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাহঃ) বলেন, আলী (রাযিঃ) বলেছেন, তৃতীয় হায়েয শেষ হওয়ার পর গোসল করার পূর্ব পর্যন্ত স্বামী স্ত্রীকে ফেরত নেয়ার অধিকারী ।
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، قَالَ: قَالَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «هُوَ أَحَقُّ بِهَا حَتَّى تَغْتَسِلَ مِنْ حَيْضَتِهَا الثَّالِثَةِ»
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬১০
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ স্বামীর আগে স্ত্রী মুসলমান হলে।
৬১০। ইমাম শাবী (রাহঃ) রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর ১৩ জন সাহাবী সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, তারা সকলে বলেন, তৃতীয় হায়েয শেষ হওয়ার পর গোসল করার পূর্ব পর্যন্ত স্বামী স্ত্রীকে ফেরত নেয়ার অধিকারী । ঈসা ইবনে আবু ঈসা আল-খায়্যাত (রাহঃ) বলেন, আমি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাবকে বলতে শুনেছি, তৃতীয় হায়েয থেকে পাক হওয়ার পর গোসল করার পূর্ব পর্যন্ত স্বামী স্ত্রীকে রুজু করতে পারে।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এই মত গ্রহণ করেছি। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) ও আমাদের অধিকাংশ ফিকহবিদের এটাই সাধারণ মত ।**
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ أَبِي عِيسَى الْخَيَّاطُ الْمَدِينِيُّ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ ثَلاثَةَ عَشَرَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كُلُّهُمْ قَالُوا: " الرَّجُلُ أَحَقُّ بِامْرَأَتِهِ حَتَّى تَغْتَسِلَ مِنْ حَيْضَتِهَا الثَّالِثَةِ، قَالَ عِيسَى: وَسَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيِّبِ، يَقُولُ: الرَّجُلُ أَحَقُّ بِامْرَأَتِهِ حَتَّى تَغْتَسِلَ مِنْ حَيْضَتِهَا الثَّالِثَةِ، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا
হাদীস নং: ৬১১
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ এক রিজঈ তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর এক বা দুই হায়েয হওয়ার পর হায়েয বন্ধ হয়ে গেলে।
৬১১। মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহ্ইয়া ইবনে হাব্বান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তার দাদার অধীনে হাশিমী এবং আনসারী দু'জন মহিলা ছিলো। তিনি আনসারী স্ত্রীকে তালাক দিলেন। তখন তার কোলে দুগ্ধপোষ্য শিশু ছিলো। এ কারণে তার হায়েয হতো না। এভাবে এক বছর কেটে গেলো, কিন্তু তার হায়েয হলো না। এর মধ্যে তার স্বামী হাব্বান ইন্তেকাল করলো। মহিলাটি বললো, হায়েয না আসা পর্যন্ত আমি তার ওয়ারিস হবো। বিষয়টি উছমান ইবনে আফ্ফান (রাযিঃ)-র কাছে ফয়সালার জন্য পেশ করা হলো। তিনি তাকে স্বামীর ওয়ারিস সাব্যস্ত করলেন। এতে হাশিমী মহিলা উছমান (রাযিঃ)-কে তিরস্কার করলো। তিনি স্ত্রীলোকটিকে বলেন, এটা তোমার চাচা আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ)-র কর্মপন্থা। তিনিই এই মাসআলা বর্ণনা করেছেন।
كتاب الطلاق
بَابُ: الْمَرْأَةِ يُطَلِّقُهَا زَوْجُهَا طَلاقًا يَمْلِكُ الرَّجْعَةَ فَتَحِيضُ حَيْضَةً أَوْ حَيْضَتَيْنِ ثُمَّ تَرْتَفِعُ حَيْضَتُهَا
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حِبَّانَ، أَنَّهُ كَانَ عِنْدَ جَدِّهِ امْرَأَتَانِ هَاشِمِيَّةٌ، وَأَنْصَارِيَّةٌ، فَطَلَّقَ الأَنْصَارِيَّةَ وَهِيَ تُرْضِعُ، وَكَانَتْ لا تَحِيضُ وَهِيَ تُرْضِعُ فَمَرَّ بِهَا قَرِيبٌ مِنْ سَنَةٍ، ثُمَّ هَلِكَ زَوْجُهَا حِبَّانُ عِنْدَ رَأْسِ السَّنَةِ، أَوْ قَرِيبٌ مِنْ ذَلِكَ لَمْ تَحِضْ، فَقَالَتْ: أَنَا أَرِثُهُ مَا لَمْ أَحِضْ، فَاخْتَصَمُوا إِلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ «فَقَضَى لَهَا بِالْمِيرَاثِ» ، فَلامَتِ الْهَاشِمِيَّةُ عُثْمَانَ، فَقَالَ: «هَذَا عَمَلُ ابْنِ عَمِّكِ هُوَ أَشَارَ عَلَيْنَا بِذَلِكَ» ، يَعْنِي عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ كَرَّمَ اللَّهُ وَجْهَهُ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬১২
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ এক রিজঈ তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর এক বা দুই হায়েয হওয়ার পর হায়েয বন্ধ হয়ে গেলে।
৬১২। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বলেন, কোন স্ত্রীলোককে তালাক দেয়া হলো, অতঃপর এক অথবা দুই হায়েয হওয়ার পর তার রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে গেলো। সে নয় মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। যদি তার অন্তঃসত্তা প্রকাশ পায়, তবে তদনুযায়ী ফয়সালা হবে। অন্যথায় সে এই নয় মাস গত হওয়ার পর আরো তিন মাস ইদ্দাত পালন করবে, অতঃপর (পুনর্বিবাহের জন্য) হালাল হবে।
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُسَيْطٍ، وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، أَنَّهُ قَالَ: قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «أَيُّمَا امْرَأَةٍ طُلِّقَتْ فَحَاضَتْ حَيْضَةً، أَوْ حَيْضَتَيْنِ ثُمَّ رُفِعَتْ حَيْضَتُهَا فَإِنَّهَا تَنْتَظِرُ تِسْعَةَ أَشْهُرٍ فَإِنِ اسْتَبَانَ بِهَا حَمْلٌ فَذَلِكَ وَإِلا اعْتَدَّتْ بَعْدَ التِّسْعَةِ ثَلاثَةَ أَشْهُرٍ ثُمَّ حَلَّتْ»
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬১৩
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ এক রিজঈ তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর এক বা দুই হায়েয হওয়ার পর হায়েয বন্ধ হয়ে গেলে।
৬১৩। ইবরাহীম নাখঈ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। আলকামা ইবনে কায়েস (রাহঃ) তার স্ত্রীকে এক রিজঈ তালাক দিলেন। অতঃপর এক বা দুই হায়েয হওয়ার পর আঠার মাস পর্যন্ত তার হায়েয বন্ধ থাকে। অতঃপর সে মারা গেলো। আলকামা এ সম্পর্কে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)-র কাছে মাসআলা জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা এই মহিলার মাধ্যমে তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি তোমার জন্য ধরে রেখেছেন। অতএব তুমি তা খাও।
كتاب الطلاق
قَالَ مُحَمَّدٌ: أَخْبَرَنَا أَبُو حَنِيفَةَ، عَنْ حَمَّادٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، أَنَّ عَلْقَمَةَ بْنَ قَيْسٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ طَلاقًا يَمْلِكُ الرَّجْعَةَ فَحَاضَتْ حَيْضَةً، أَوْ حَيْضَتَيْنِ، ثُمَّ ارْتَفَعَ حَيْضُهَا عَنْهَا ثَمَانِيَةَ عَشَرَ شَهْرًا، ثُمَّ مَاتَتْ فَسَأَلَ عَلْقَمَةُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ عَنْ ذَلِكَ، فَقَالَ: «هَذِهِ امْرَأَةٌ حَبَسَ اللَّهُ عَلَيْكَ مِيرَاثُهَا فَكُلْهُ» ،