আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

موطأ الإمام مالك برواية الإمام محمد بن الحسن الشيباني

৮- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৭৬ টি

হাদীস নং: ৫৫৪
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুন্নত তালাকের বর্ণনা।
৫৫৪। আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার (রাহঃ) বলেন, আমি ইবনে উমার (রাযিঃ)-কে পাঠ করতে শুনেছিঃ “হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা স্ত্রীদের তালাক দাও, তখন তাদেরকে তাদের ইদ্দাত সামনে রেখে কিছু পূর্বে তালাক দাও।”**
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, সুন্নত পন্থার তালাক এই যে, ইদ্দাতকে সামনে রেখে তালাক দিবে। অর্থাৎ হায়েয হওয়ার পর এবং সংগমের পূর্বে তুহর (পাক) অবস্থায় এক তালাক দিবে। অতঃপর আর সংগম করবে না। অতঃপর দ্বিতীয় তুহরে দ্বিতীয় তালাক দিবে এবং তৃতীয় তুহরে তৃতীয় তালাক দিবে। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এবং আমাদের সকল ফিকহবিদের এটাই সাধারণ মত।
كتاب الطلاق
بَابُ: طَلاقِ السُّنَّةِ
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، يَقْرَأُ: «يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِقُبُلِ عِدَّتِهِنَّ» ، قَالَ مُحَمَّدٌ: طَلاقُ السُّنَّةِ أَنْ يُطَلِّقَهَا لِقُبُلِ عِدَّتِهَا طَاهِرًا مِنْ غَيْرِ جِمَاعٍ حِينَ تَطْهُرُ مِنْ حَيْضِهَا قَبْلَ أَنْ يُجَامِعَهَا، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا
হাদীস নং: ৫৫৫
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুন্নত তালাকের বর্ণনা।
৫৫৫। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর যুগে নিজ স্ত্রীকে হায়েয চলাকালে এক তালাক দেন। উমার (রাযিঃ) এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর কাছে মাসআলা জিজ্ঞেস করেন। তিনি বলেনঃ “তুমি তাকে নির্দেশ দাও, সে যেন তার স্ত্রীকে ফেরত নেয় এবং হায়েয থেকে পাক হওয়া পর্যন্ত তাকে রেখে দেয়। অতঃপর পুনরায় হায়েয আসার পর তা থেকে পাক হবে। অতঃপর সে ইচ্ছা করলে তাকে স্ত্রী হিসাবে রাখবে অথবা সঙ্গম করার পূর্বে তালাক দিবে। এভাবে ইদ্দাত পালনের সুযোগ রেখে আল্লাহ তাআলা স্ত্রীদের তালাক দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।**
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এ হাদীস অনুযায়ী আমল করি ।
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا نَافِعٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَسَأَلَ عُمَرُ عَنْ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا، ثُمَّ يُمْسِكْهَا حَتَّى تَطْهُرَ ثُمَّ تَحِيضَ، ثُمَّ تَطْهُرَ، ثُمَّ إنْ شَاءَ أَمْسَكَهَا بَعْدُ، وَإِنْ شَاءَ طَلَّقَهَا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا فَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ أَنْ تُطَلَّقَ لَهَا النِّسَاءُ» ، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ
হাদীস নং: ৫৫৬
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ক্রীতদাসের আযাদ স্ত্রীর তালাক ।
৫৫৬ । সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। উম্মে সালামা (রাযিঃ)-র মুকাতাব গোলাম নুফাই-এর বিবাহাধীনে আযাদ স্ত্রীলোক ছিলো। সে তাকে দুই তালাক দিলো । অতঃপর সে উছমান ইবনে আফ্ফান (রাযিঃ)-র কাছে এসম্পর্কে মাসআলা জিজ্ঞেস করলো। তিনি বলেন, সে তোমার জন্য হারাম হয়ে গেছে।
كتاب الطلاق
بَابُ: طَلاقِ الْحُرَّةِ تَحْتَ الْعَبْدِ
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، أَنَّ نُفَيْعًا مُكَاتِبَ أُمِّ سَلَمَةَ كَانَتْ تَحْتَهُ امْرَأَةٌ حُرَّةٌ، فَطَلَّقَهَا تَطْلِيقَتَيْنِ، فَاسْتَفْتَى عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ: فَقَالَ: «حَرُمَتْ عَلَيْكَ»
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৫৭
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ক্রীতদাসের আযাদ স্ত্রীর তালাক।
৫৫৭। সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। নুফাই নামে উম্মে সালামা (রাযিঃ)-র একটি ক্রীতদাস অথবা চুক্তিবদ্ধ দাস ছিলো। তার বিবাহাধীনে ছিলো একটি স্বাধীন স্ত্রীলোক । সে তাকে দুই তালাক দিলো। অতঃপর সে তাকে পুনরায় ফেরত নিতে চাইলো। নবী -এর কোন স্ত্রী তাকে এ সম্পর্কে হযরত উছমান (রাযিঃ)-র কাছে গিয়ে মাসআলা জিজ্ঞেস করার নির্দেশ দিলেন । সে দারাজ নামক স্থানে গিয়ে তার সাথে সাক্ষাত করলো। তিনি তখন যায়েদ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ)-র হাত ধরা অবস্থায় ছিলেন। সে তাদের উভয়ের কাছে মাসআলা জিজ্ঞেস করলো। তারা উভয়ে তার দিকে মুখ করে সাথে সাথে জওয়াব দিলেন, সে তোমার জন্য হারাম হয়ে গেছে, হারাম হয়ে গেছে।
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ نُفَيْعًا كَانَ عَبْدًا لأُمِّ سَلَمَةَ، أَوْ مُكَاتِبًا، وَكَانَتْ تَحْتَهُ امْرَأَةٌ حُرَّةٌ، فَطَلَّقَهَا تَطْلِيقَتَيْنِ، فَأَمَرَهُ أَزْوَاجُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَأْتِيَ عُثْمَانَ فَيَسْأَلَهُ عَنْ ذَلِكَ، فَلَقِيَهُ عِنْدَ الدَّرَجِ وَهُوَ آخِذٌ بِيَدِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، فَسَأَلَهُ فَابْتَدَرَاهُ جَمِيعًا، فَقَالا: «حَرُمَتْ عَلَيْكَ، حَرُمَتْ عَلَيْكَ»
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৫৮
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ক্রীতদাসের আযাদ স্ত্রীর তালাক।
৫৫৮। নাফে (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। ইবনে উমার (রাযিঃ) বলেন, কোন ক্রীতদাস তার স্ত্রীকে দুই তালাক দিলে সে তার জন্য হারাম হয়ে যায়, স্বাধীন স্ত্রীই হোক অথবা ক্রীতদাসী। অন্য লোকের সাথে বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত সে তার জন্য হালাল হবে না। স্বাধীন স্ত্রীর ইদ্দাত তিনটি মাসিক ঋতুচক্র এবং ক্রীতদাসীর ইদ্দাত দুইটি মাসিক ঋতুচক্র।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, বিশেষজ্ঞ আলেমগণ এ মাসআলাটি নিয়ে মতবিরোধ করেছেন। আমাদের ফিকহবিদদের মতে তালাক এবং ইদ্দাতের ব্যাপারে স্ত্রীলোকদের প্রতি লক্ষ্য করতে হবে। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ “তাদেরকে তাদের ইদ্দাতের জন্য তালাক দাও।” তালাক ইদ্দাতের জন্য। তাই স্বামী যদি গোলাম হয় এবং স্ত্রী যদি আযাদ হয় তবে তার ইদ্দাতও হবে তিনটি মাসিক ঋতুচক্র এবং ইদ্দাতের জন্য তালাকের সংখ্যাও হবে তিনটি, যেমন আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন। আর স্বামী আযাদ হলে এবং স্ত্রী বাঁদী হলে তার ইদ্দাত হবে দুই হায়েযকাল এবং ইদ্দাতের জন্য তালাকের সংখ্যাও হবে দু'টি। যেমন আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন।
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: «إِذَا طَلَّقَ الْعَبْدُ امْرَأَتَهُ اثْنَتَيْنِ فَقَدْ حَرُمَتْ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ، حُرَّةً كَانَتْ، أَوْ أَمَةً، وَعِدَّةُ الْحُرَّةِ ثَلاثَةُ قُرُوءٍ وَعِدَّةُ الأَمَةِ حَيْضَتَانِ» ، قَالَ مُحَمَّدٌ: قَدِ اخْتَلَفَ النَّاسُ فِي هَذَا، فَأَمَّا مَا عَلَيْهِ فُقَهَاؤُنَا فَإِنَّهُمْ يَقُولُونَ: الطَّلاقُ بِالنِّسَاءِ وَالْعِدَّةُ بِهِنَّ لأَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ: {فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ} [الطلاق: 1] ، فَإِنَّمَا الطَّلاقُ لِلْعِدَّةِ فَإِذَا كَانَتِ الْحُرَّةَ وَزَوْجُهَا عَبْدٌ فَعِدَّتُهَا ثَلاثَةُ قُرُوءٍ وَطَلاقُهَا ثَلاثَةُ تَطْلِيقَاتٍ لِلْعِدَّةِ كَمَا قَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى، وَإِذَا كَانَ الْحُرُّ تَحْتَهُ الأَمَةُ فَعِدَّتُهَا حَيْضَتَانِ، وَطَلاقُهَا لِلْعِدَّةِ تَطْلِيقَتَانِ، كَمَا قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৫৯
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ক্রীতদাসের আযাদ স্ত্রীর তালাক।
৫৫৯। আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) বলেন, তালাক ও ইদ্দাত নারীদের সাথে সম্পৃক্ত (তাদের গণনাই নির্ভরযোগ্য)।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ), আবু হানীফা (রাহঃ) এবং আমাদের সকল ফিকহবিদের এই মত।
كتاب الطلاق
قَالَ مُحَمَّدٌ: أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَزِيدَ الْمَكِّيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ عَطَاءَ بْنَ أَبِي رَبَاحٍ، يَقُولُ: قَالَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ: " الطَّلاقُ بِالنِّسَاءِ وَالْعِدَّةُ بِهِنَّ، وَهُوَ قَوْلُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، وَأَبِي حَنِيفَةَ، وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬০
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তালাকপ্রাপ্তা ও বিধবা স্ত্রীলোকের অন্যের বাড়ীতে অবস্থান করে ইদ্দাত পালন করা মাকরূহ।
৫৬০। নাফে (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। ইবনে উমার (রাযিঃ) বলতেন, যে নারীর স্বামী মারা গেছে অথবা যাকে চূড়ান্ত তালাক দেয়া হয়েছে, তাকে স্বামীর বাড়ীতেই ইদ্দাত পালন করতে হবে।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এই মত গ্রহণ করেছি। যে স্ত্রীলোকের স্বামী মারা গেছে ইদ্দাত চলাকালে সে দিনের বেলা প্রয়োজন বশত বাড়ির বাইরে যেতে পারবে। কিন্তু তাকে স্বামীর বাড়িতেই রাত কাটাতে হবে। আর তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী, তা দাম্পত্য সম্পর্ক ছিন্নকারী তালাকই হোক অথবা প্রত্যাহারযোগ্য তালাক হোক, উভয় অবস্থায় ইদ্দাত চলাকালে দিনের বেলা অথবা রাতের বেলা বাড়ির বাইরে যেতে পারবে না। ইমাম আবু হানীফা এবং আমাদের সকল ফিকহবিদের এই মত।
كتاب الطلاق
بَابُ: مَا يُكْرَهُ لِلْمُطَلَّقَةِ الْمَبْتُوتَةِ وَالْمُتَوَفَّى عَنْهَا مِنَ الْمَبِيتِ فِي غَيْرِ بَيْتِهَا
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، حَدَّثَنَا نَافِعٌ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، كَانَ يَقُولُ: «لا تَبِيتُ الْمَبْتُوتَةُ، وَلا الْمُتَوَفَّى عَنْهَا إِلا فِي بَيْتِ زَوْجِهَا» ، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، أَمَّا الْمُتَوَفَّى عَنْهَا فَإِنَّهَا تَخْرُجُ بِالنَّهَارِ فِي حَوَائِجِهَا، وَلا تَبِيتُ إِلا فِي بَيْتِهَا، وَأَمَّا الْمُطَلَّقَةُ مَبْتُوتَةً كَانَتْ، أَوْ غَيْرَ مَبْتُوتَةٍ، فَلا تَخْرُجُ لَيْلا، وَلا نَهَارًا مَا دَامَتْ فِي عِدَّتِهَا، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬১
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ গোলামকে বিবাহ করার অনুমতি দেয়ার কারণে তালাক দেয়ার অধিকারও কি মনিবের হাতে থাকবে?
৫৬১। ইবনে উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলতেন, কোন ব্যক্তি তার গোলামকে বিবাহ করার অনুমতি দেয়ার অধিকারে তার স্ত্রীকে তালাক দেয়ারও অধিকারী হয় না। তালাকের অধিকার গোলামেরই থাকে। তবে মনিব যদি গোলামের বাঁদীকে অথবা বাঁদীর বাদীকে নিয়ে নেয় তাহলে কোন দোষ নেই। (এ কথাটুকু বলে গোলামের স্ত্রী এবং তার বাঁদীর মধ্যকার আইনগত পার্থক্যের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে)।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এই মত গ্রহণ করেছি। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এবং আমাদের সকল ফিকহবিদের এই মত।
كتاب الطلاق
بَابُ: الرَّجُلِ يَأْذَنُ لِعَبْدِهِ فِي التَّزْوِيجِ هَلْ يَجُوزُ طَلاقُ الْمَوْلَى عَلَيْهِ؟
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: «مَنْ أَذِنَ لِعَبْدِهِ فِي أَنْ يَنْكِحَ فَإِنَّهُ لا يَجُوزُ لامْرَأَتِهِ طَلاقٌ إِلا أَنْ يُطَلِّقَهَا الْعَبْدُ، فَأَمَّا أَنْ يَأْخُذَ الرَّجُلُ أَمَةَ غُلامِهِ، أَوْ أَمَةَ وَلِيدَتِهِ، فَلا جُنَاحَ عَلَيْهِ» ، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬২
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ গোলামকে বিবাহ করার অনুমতি দেয়ার কারণে তালাক দেয়ার অধিকারও কি মনিবের হাতে থাকবে?
৫৬২। ইবনে উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। ছাকীফ গোত্রের একটি ক্রীতদাস উমার (রাযিঃ)-র কাছে এসে বললো, আমার মনিব তার অমুক ক্রীতদাসীকে আমার সাথে বিবাহ দিয়েছে। কিন্তু সে এখনো তার সাথে সহবাস করে। উমার (রাযিঃ) দাসীটিকে চিনতেন। তিনি তার মনিবকে ডেকে পাঠালেন। সে উপস্থিত হলে তিনি বলেন, তোমার ক্রীতদাসীটি কি করে? সে বললো, সে আমার কাছে আছে। তিনি জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি তার সাথে সহবাস করো? উমার (রাযিঃ)-র নিকট উপস্থিত কতিপয় লোক তাকে ইশারা করলে সে বললো, না। উমার (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! তুমি যদি স্বীকারোক্তি করতে তবে আমি অবশ্যই তোমাকে শাস্তি দিতাম।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এই মত গ্রহণ করেছি। কোন ব্যক্তি তার বাঁদীকে নিজের গোলামের সাথে বিবাহ দেয়ার পর তার সাথে সহবাস করা তার উচিত নয়। কেননা মালিক বিবাহ দেয়ার পর তালাক ও বিচ্ছেদের অধিকার গোলামের হাতে চলে গেছে। তালাক দেয়ার অধিকার মালিকের নেই। সে যদি তার সাথে সহবাস করে তবে প্রথমবারের মতো তাকে সতর্ক করে শাসিয়ে দিতে হবে। এরপরও সে যদি তার সাথে সহবাস করে তবে বিচারক তাকে যতো দিন কারাদণ্ড এবং বেত্রাঘাত প্রদান উপযুক্ত মনে করবেন, তাই শাস্তি দিবেন। কিন্তু বেত্রাঘাতের সংখ্যা চল্লিশের বেশী হবে না।
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ عَبْدًا لِبَعْضِ ثَقِيفٍ جَاءَ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، فَقَالَ: أَنَّ سَيِّدِي أَنْكَحَنِي جَارِيَتَهُ، فُلانَةً، وَكَانَ عُمَرُ يَعْرِفُ الْجَارِيَةَ، وَهُوَ يَطَؤُهَا فَأَرْسَلَ عُمَرُ إِلَى الرَّجُلِ، فَقَالَ: مَا فَعَلَتْ جَارِيَتُكَ؟ قَالَ: هِيَ عِنْدِي، قَالَ: هَلْ تَطَؤُهَا؟ فَأَشَارَ إِلَى بَعْضِ مَنْ كَانَ عِنْدَهُ، فَقَالَ: لا، فَقَالَ عُمَرُ: أَمَا وَاللَّهِ لَوِ اعْتَرَفَتْ لَجَعَلْتُكَ نَكَالا "، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، لا يَنْبَغِي إِذَا زَوَّجَ الرَّجُلُ جَارِيَتَهُ عَبْدَهُ أَنْ يَطَأَهَا لأَنَّ الطَّلاقَ وَالْفُرْقَةَ بِيَدِ الْعَبْدِ إِذَا زَوَّجَهُ مَوْلاهُ، وَلَيْسَ لِمَوْلاهُ أَنْ يُفَرِّقَ بَيْنَهُمَا بَعْدَ أَنْ زَوَّجَهَا فَإِنْ وَطِئَهَا يُنْدَمُ إِلَيْهِ فِي ذَلِكَ، فَإِنْ عَادَ أَدَّبَهُ الإِمَامُ عَلَى قَدْرِ مَا يَرَى مِنَ الْحَبْسِ وَالضَّرْبِ، وَلا يَبْلُغَ بِذَلِكَ أَرْبَعِينَ سَوْطًا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬৩
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ প্রদত্ত মুহরের কম বা বেশী প্রদানের ভিত্তিতে খোলা করা।
৫৬৩। নাফে (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। আবু উবাইদের কন্যা সাফিয়্যার ক্রীতদাসী নিজের মালিকানাধীন সমস্ত মালের বিনিময়ে স্বামীর সাথে খোলা করেছিলো। কিন্তু ইবনে উমার (রাযিঃ) এটাকে খারাপ মনে করেননি।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, কোন স্ত্রীলোক যে কোন জিনিসের বিনিময়ে নিজের স্বামীর সাথে খোলা করলে, তা আইনত জায়েয হবে। কিন্তু স্বামী যে পরিমাণ মুহর তার স্ত্রীকে দিয়েছে, খোলার বিনিময়ে তার অধিক মাল গ্রহণ আমরা পছন্দ করি না, বিবাদ স্ত্রীর দিক থেকেই সৃষ্টি হোক না কেন। আর বিবাদের সৃষ্টি যদি স্বামীর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে, তবে আমরা খোলার বিনিময়ে স্ত্রীর কাছ থেকে কিছু গ্রহণ করাই পছন্দ করি না, তা পরিমাণে কম অথবা বেশীই হোক না কেন। কিন্তু স্বামী কিছু গ্রহণ করলে তা আইনত জায়েয হবে। তবে তার এবং তার প্রতিপালকের মধ্যকার সম্পর্কের দিক থেকে অর্থাৎ সততা, সুবিবেচনা ও ন্যায়-ইনসাফের দিক থেকে তা জায়েয নয়। ইমাম আবু হানীফারও এই মত।
كتاب الطلاق
بَابُ: الْمَرْأَةِ تَخْتَلِعُ مِنْ زَوْجِهَا بِأَكْثَرَ مِمَّا أَعْطَاهَا أَوْ أَقَلَّ
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا نَافِعٌ، «أَنَّ مَوْلاةً لِصَفِيَّةَ اخْتَلَعَتْ مِنْ زَوْجِهَا بِكُلِّ شَيْءٍ لَهَا، فَلَمْ يُنْكِرْهُ ابْنُ عُمَرَ» ، قَالَ مُحَمَّدٌ: مَا اخْتَلَعَتْ بِهِ امْرَأَةٌ مِنْ زَوْجِهَا فَهُوَ جَائِزٌ فِي الْقَضَاءِ، وَمَا نُحِبُّ لَهُ أَنْ يَأْخُذَ أَكْثَرَ مِمَّا أَعْطَاهَا، وَإِنْ جَاءَ النُّشُوزُ مِنْ قِبَلِهَا، فَأَمَّا إِذَا جَاءَ النُّشُوزُ مِنْ قِبَلِهِ لَمْ نُحِبَّ لَهُ أَنْ يَأْخُذَ مِنْهَا قَلِيلا وَلا كَثِيرًا، وَإِنْ أَخَذَ فَهُوَ جَائِزٌ فِي الْقَضَاءِ، وَهُوَ مَكْرُوهٌ لَهُ فِيمَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ اللَّهِ تَعَالَى، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ رَحِمَهُ اللَّهُ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬৪
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ খোলার মাধ্যমে কতো তালাক হয়?
৫৬৪। আসলাম গোত্রের উম্মে বা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তার স্বামী আব্দুল্লাহ ইবনে উসাইদ (রাযিঃ)-র সাথে খোলা করেন। আব্দুল্লাহ ইবনে উসাইদ (রাযিঃ) বলেন যে, অতঃপর তারা উভয়ে এ সম্পর্কিত মাসআলা জানার জন্য উছমান ইবনে আফফান (রাযিঃ)-র কাছে আসেন। তিনি বলেন, তা এক তালাক। কিন্তু খোলাকারিণী সংখ্যা উল্লেখ করলে ততো সংখ্যক তালাক হবে।**
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এই মত গ্রহণ করেছি। খোলা হচ্ছে এক বায়েন তালাক । তবে তিন তালাকের সংখ্যা বললে বা নিয়াত করলে তিন তালাকই হবে।
كتاب الطلاق
بَابُ: الْخُلْعِ كَمْ يَكُونُ مِنَ الطَّلاقِ
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جُمْهَانَ مَوْلَى الأَسْلَمِيِّينَ، عَنْ أُمِّ بَكْرٍ الأَسْلَمِيَّةِ، أَنَّهَا اخْتَلَعَتْ مِنْ زَوْجِهَا عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَسِيدٍ، ثُمَّ أَتَيَا عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ فِي ذَلِكَ، فَقَالَ: «هِيَ تَطْلِيقَةٌ إِلا أَنْ تَكُونَ سَمَّتْ شَيْئًا فَهُوَ عَلَى مَا سَمَّتْ» ، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، الْخُلْعُ تَطْلِيقَةٌ بَائِنَةٌ إِلا أَنْ يَكُونَ سَمَّى ثَلاثًا، أَوْ نَوَاهَا فَيَكُونُ ثَلاثًا
হাদীস নং: ৫৬৫
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি বলে, আমি যখন অমুক মহিলাকে বিবাহ করবো তখন সে তালাক হয়ে যাবে।
৫৬৫। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলতেন, যদি কোন ব্যক্তি বলে, আমি যখন অমুক মহিলাকে বিবাহ করবো, তখন সে তালাক হয়ে যাবে, তাহলে বিবাহ করার সাথে সাথে তার বক্তব্য অনুযায়ী তালাক অবতীর্ণ হবে। অর্থাৎ সে যদি এক অথবা দুই অথবা তিন তালাকের নিয়াত করে তবে তাই হবে।**
كتاب الطلاق
بَابُ: الرَّجُلِ يَقُولُ إِذَا نَكَحْتُ فُلانَةً فَهِيَ طَالِقٌ
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا مُجَبِّرٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: " إِذَا قَالَ الرَّجُلُ: إِذَا نَكَحْتُ، فُلانَةً فَهِيَ طَالِقٌ، فَهِيَ طَالِقٌ، فَهِيَ كَذَلِكَ إِذَا نَكَحَهَا، وَإِذَا كَانَ طَلَّقَهَا وَاحِدَةً، أَوِ اثْنَتَيْنِ، أَوْ ثَلاثًا فَهُوَ كَمَا قَالَ "، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ رَحِمَهُ اللَّهُ
হাদীস নং: ৫৬৬
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি বলে, আমি যখন অমুক মহিলাকে বিবাহ করবো তখন সে তালাক হয়ে যাবে।
৫৬৬ ৷ কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞেস করলো, নিশ্চয় আমি বলেছি, আমি অমুক স্ত্রীলোককে বিবাহ করলে সে আমার কাছে আমার মায়ের পিঠের সমান (তাহলে এর ফল কি দাঁড়াবে)? তিনি বলেন, তুমি যদি তাকে বিবাহ করো তবে কাফফারা না দেয়া পর্যন্ত তার কাছে যাবে না।**
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এই মত গ্রহণ করেছি। ইমাম আবু হানীফারও এই মত। অর্থাৎ সে যখন ঐ নির্দিষ্ট মহিলাকে বিবাহ করবে – তখন সে তার সাথে যিহারকারী সাব্যস্ত হবে। অতএব যিহারের কাফ্ফারা আদায় না করা পর্যন্ত সে তার কাছে যেতে পারবে না।
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، أَنَّ رَجُلا سَأَلَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، فَقَالَ: ": إِنِّي قُلْتُ: إِنْ تَزَوَّجْتُ فُلانَةً فَهِيَ عَلَيَّ كَظَهْرِ أُمِّي، قَالَ: إِنْ تَزَوَّجْتَهَا فَلا تَقْرَبْهَا حَتَّى تُكَفِّرَ "، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ يَكُونُ مُظَاهِرًا مِنْهَا إِذَا تَزَوَّجَهَا فَلا يَقْرَبْهَا حَتَّى يُكَفِّرَ
হাদীস নং: ৫৬৭
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কোন মহিলাকে তার স্বামী এক অথবা দুই তালাক দিলো, অতঃপর সে অন্য ব্যক্তিকে বিবাহ করলো, অতঃপর তাকে পূর্বের স্বামী বিবাহ করলো।
৫৬৭। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উমার (রাযিঃ)-র কাছে মাসআলা জিজ্ঞেস করলেন, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে এক অথবা দুই তালাক দিলো। সে ইদ্দাত অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত তাকে ত্যাগ করলো। অতঃপর সে অন্য পুরুষকে বিবাহ করলো। অতঃপর দ্বিতীয় স্বামী মারা গেলো অথবা তাকে তালাক দিলো। অতঃপর (ইদ্দাত শেষ হওয়ার পর) প্রথম স্বামী তাকে পুনরায় বিবাহ করলো। এখন সে কতো তালাকের অধিকারী হবে? তিনি বলেন, সে অবশিষ্ট এক অথবা দুই তালাকের অধিকারী হবে।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এই মত গ্রহণ করেছি। কিন্তু ইমাম আবু হানীফা বলেন, স্ত্রীলোকটির সাথে দ্বিতীয় স্বামী সহবাস করে থাকলে প্রথম স্বামী আবার নতুন করে তিন তালাকের অধিকারী হবে। ইবনে সাওয়াফের 'আল-আসল' গ্রন্থে আছে যে, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এবং ইবনে উমার (রাযিঃ)-রও এই মত।
كتاب الطلاق
بَابُ: الْمَرْأَةِ يُطَلِّقُهَا زَوْجُهَا تَطْلِيقَةً أَوْ تَطْلِيقَتَيْنِ فَتَتَزَوَّجُ زَوْجًا ثُمَّ يَتَزَوَّجُهَا الأَوَّلُ
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، وَسَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ اسْتَفْتَى عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فِي رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ تَطْلِيقَةً أَوْ تَطْلِيقَتَيْنِ، وَتَرَكَهَا حَتَّى تَحِلَّ، ثُمَّ تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ، فَيَمُوتَ أَوْ يُطَلَّقَا فَيَتَزَوَّجُهَا زَوْجُهَا الأَوَّلُ عَلَى كَمْ هِيَ؟ قَالَ عُمَرُ: هِيَ عَلَى مَا بَقِيَ مِنْ طَلاقِهَا ".
قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، فَأَمَّا أَبُو حَنِيفَةَ، فَقَالَ: إِذَا عَادَتْ إِلَى الأَوَّلِ بَعْدَ مَا دَخَلَ بِهَا الآخَرُ عَادَتْ عَلَى طَلاقٍ جَدِيدٍ ثَلاثِ تَطْلِيقَاتٍ مُسْتَقْبِلاتٍ، وَفِي أَصْلِ ابْنِ الصَّوَّافِ، وَهُوَ قَوْلُ ابْنِ عَبَّاسٍ وَابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ
হাদীস নং: ৫৬৮
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী অথবা অপর কারো হাতে তালাকের অধিকার অর্পণ করা।
৫৬৮ ৷ যায়েদ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তার পুত্র খারিজা (রাহঃ) তার কাছে বসা ছিলেন। এমন সময় আতীক গোত্রের এক ব্যক্তি কাঁদতে কাঁদতে তার কাছে এলো। যায়েদ (রাযিঃ) জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি হয়েছে, তুমি কাঁদছো কেন? সে বললো, আমি আমার স্ত্রীর হাতে তালাকদানের এখতিয়ার অর্পণ করেছিলাম। সে আমার থেকে পৃথক হয়ে গেছে। যায়েদ (রাযিঃ) বলেন, কোন জিনিস তোমাকে একাজ করতে উদ্বুদ্ধ করলো? সে জবাব দিলো, তাকদীর । তিনি বলেন, তুমি চাইলে তাকে ফেরত নিতে পারো। কেননা এটা এক তালাক এবং তুমি তাকে রুজু করার অধিকারী।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমাদের মতে ব্যাপারটি স্বামীর নিয়াতের উপর নির্ভরশীল। যদি সে এক তালাকের নিয়াত করে থাকে, তাহলে এক বায়েন তালাক হবে এবং সে পুনর্বিবাহের প্রস্তাবকারী হিসাবে গণ্য হবে। আর সে যদি তিন তালাকের নিয়াত করে থাকে, তাহলে তিন তালাকই হবে। ইমাম আবু হানীফা এবং আমাদের অধিকাংশ ফিকহবিদের এই মত। কিন্তু উছমান ইবনে আফ্ফান (রাযিঃ) ও আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) বলেন, তালাকের নিয়াত করবে তদনুযায়ী ফয়সালা হবে (অর্থাৎ স্ত্রী প্রত্যাহারযোগ্য অথবা প্রত্যাহার অযোগ্য এক অথবা একাধিক তালাকের নিয়াত করলে ফয়সালাও তদনুযায়ী হবে)।
كتاب الطلاق
بَابُ: الرَّجُلِ يَجْعَلُ أَمْرَ امْرَأَتِهِ بِيَدِهَا أَوْ غَيْرِهَا
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ خَارِجَةَ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّهُ كَانَ جَالِسًا عِنْدَهُ، فَأَتَاهُ بَعْضُ بَنِي أَبِي عَتِيقٍ وَعَيْنَاهُ تَدْمَعَانِ، فَقَالَ لَهُ: «مَا شَأْنُكَ؟» ، فَقَالَ: مَلَّكْتُ امْرَأَتِي أَمْرَهَا بِيَدِهَا فَفَارقَتْنِي، فَقَالَ لَهُ: «مَا حَمَلَكَ عَلَى ذَلِكَ؟» ، قَالَ: الْقَدَرُ، قَالَ لَهُ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ: «ارْتَجِعْهَا إِنْ شِئْتَ، فَإِنَّمَا هِيَ وَاحِدَةٌ وَأَنْتَ أَمْلَكُ بِهَا» ، قَالَ مُحَمَّدٌ: هَذَا عِنْدَنَا عَلَى مَا نَوَى الزَّوْجُ فَإِنْ نَوَى وَاحِدَةً فَوَاحِدَةٌ بَائِنَةٌ، وَهُوَ خَاطِبٌ مِنَ الْخُطَّابِ، وَإِنْ نَوَى ثَلاثًا فَثَلاثٌ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا , وَقَالَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ، وَعَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: الْقَضَاءُ مَا قَضَتْ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৬৯
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী অথবা অপর কারো হাতে তালাকের অধিকার অর্পণ করা।
৫৬৯। আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তার ভাই আব্দুর রহমানের জন্য আবু উমাইয়্যার কন্যা কারীবার কাছে বিবাহের প্রস্তাব দেন। অতএব তাকে আব্দুর রহমানের সাথে বিবাহ দেয়া হলো। পরে কোন কারণে কারীবার পরিবারের লোকজন আব্দুর রহমানের উপর অসন্তুষ্ট হয়। অতএব তারা বলে, আমরা তাকে আব্দুর রহমানের কাছে বিবাহ দেইনি, বরং আয়েশা (রাযিঃ) দিয়েছেন। আয়েশা (রাযিঃ) বিষয়টি আব্দুর রহমানকে জানালেন। আব্দুর রহমান নিজের স্ত্রীকে (তার কাছে থাকার অথবা তাকে তালাক দিয়ে চলে যাবার) এখতিয়ার দিলেন। কারীবা স্বামীর সাথে বসবাস করাই বেছে নিলেন এবং বললেন, আমি আপনাকে ছাড়া আর কাউকে পছন্দ করতে পারি না। অতএব এই মহিলা তার অধীনে থেকে গেলেন এবং এটা তালাক হিসাবে গণ্য হয়নি।
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُا، " أَنَّهَا خَطَبَتْ عَلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قُرَيْبَةَ بِنْتِ أَبِي أُمَيَّةَ، فَزَوَّجَتْهُ ثُمَّ إِنَّهُمْ عَتَبُوا عَلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، وَقَالُوا: مَا زَوَّجْنَا إِلا عَائِشَةَ، فَأَرْسَلَتْ إِلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَذَكَرَتْ لَهُ ذَلِكَ، فَجَعَلَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ أَمْرَ قُرَيْبَةَ بِيَدِهَا، فَاخْتَارَتْهُ، وَقَالَتْ: مَا كُنْتُ لِأَخْتَارَ عَلَيْكَ أَحَدًا، فَقَرَّتْ تَحْتَهُ، فَلَمْ يَكُنْ ذَلِكَ طَلاقًا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৭০
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী অথবা অপর কারো হাতে তালাকের অধিকার অর্পণ করা।
৫৭০। আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তার ভাই আব্দুর রহমানের কন্যা হাফসাকে যুবায়ের (রাযিঃ)-র পুত্র মুনযিরের সাথে বিবাহ দিলেন। আব্দুর রহমান তখন সিরিয়ায় ছিলেন। তিনি ফিরে এসে বলেন যে, তার সাথে এরূপ ব্যবহার করা হলো এবং তার কন্যার ব্যাপারে তার মতামত নেয়া হলো না! আয়েশা (রাযিঃ) বিষয়টি মুনযিরকে জানালেন। মুনযির বলেন, (বিবাহের ব্যাপারটি ঠিক রাখা বা না রাখার এখতিয়ার) আব্দুর রহমানের উপর ন্যস্ত করা হলো। আব্দুর রহমান বলেন, মুনযিরের প্রতি আমার কোন অনিহা নেই। বরং আমার কথা হলো, আমার কন্যার ব্যাপারে আমার মতামত গ্রহণ করা হয়নি। তুমি (আয়েশা) যে বিবাহ দিয়েছো তা আমি প্রত্যাখ্যান করছি না। এই এখতিয়ার তালাক হিসাবে গণ্য হয়নি।
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، " أَنَّهَا زَوَّجَتْ حَفْصَةَ بِنْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الْمُنْذِرِ بْنِ الزُّبَيْرِ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ غَائِبٌ بِالشَّامِ، فَلَمَّا قَدِمَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ، قَالَ: وَمِثْلِي يُصْنَعُ بِهِ هَذَا، وَيُفْتَاتُ عَلَيْهِ بِبَنَاتِهِ؟ فَكَلَّمَتْ عَائِشَةُ الْمُنْذِرَ بْنَ الزُّبَيْرِ، فَقَالَ: فَإِنَّ ذَلِكَ فِي يَدِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، فَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ: مَا لِي رَغْبَةٌ عَنْهُ وَلَكِنَّ مِثْلِي لَيْسَ يُفْتَاتُ عَلَيْهِ بِبَنَاتِهِ، وَمَا كُنْتُ لأَرُدَّ أَمْرًا قَضَيْتِهِ، فَقَرَّتِ امْرَأَتُهُ تَحْتَهُ وَلَمْ يَكُنْ ذَلِكَ طَلاقًا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৭১
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী অথবা অপর কারো হাতে তালাকের অধিকার অর্পণ করা।
৫৭১ । ইবনে উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলতেন, কোন ব্যক্তি যখন তার স্ত্রীর হাতে তালাকের এখতিয়ার ন্যস্ত করে তখন স্ত্রীর ইচ্ছার উপর বিষয়টি নির্ভর করবে। কিন্তু স্বামী যদি (তার দেয়া তালাক) অস্বীকার করে বলে যে, সে তাকে কেবল এক তালাকের (এখতিয়ার দেয়ার) নিয়াত করেছে, তবে তাকে একথা শপথ করেও বলতে হবে (যে, সে এক তালাকেরই নিয়াত করেছিল)। এক্ষেত্রে স্বামী তাকে ইদ্দাত চলাকালে রুজু করার অধিকারী থাকবে।
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: " إِذَا مَلَّكَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ أَمْرَهَا فَالْقَضَاءُ مَا قَضَتْ إِلا أَنْ يُنْكِرَ عَلَيْهَا، فَيَقُولُ: لَمْ أُرِدْ إِلا تَطْلِيقَةً وَاحِدَةً فَيُحَلَّفُ عَلَى ذَلِكَ، وَيَكُونُ أَمْلَكَ بِهَا فِي عِدَّتِهَا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৭২
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী অথবা অপর কারো হাতে তালাকের অধিকার অর্পণ করা।
৫৭২। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাহঃ) বলেন, কোন ব্যক্তি যদি নিজের তালাকের এখতিয়ার স্ত্রীর উপর ন্যস্ত করে এবং সে যদি তার সাথে থেকে যায় এবং নিজকে তালাক না দেয়, তবে তালাক হবে না।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এই মত গ্রহণ করেছি। স্ত্রী স্বামীর সাথে থেকে যাওয়াকে অগ্রাধিকার দিলে তালাক হবে না। আর সে যদি নিজকে বেছে নেয় (স্বামী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়), তাহলে ব্যাপারটি স্বামীর নিয়াতের উপর নির্ভর করবে। স্বামী যদি স্ত্রীকে এই এখতিয়ার দেয়ার সময় এক তালাকের নিয়াত করে থাকে তবে এক বায়েন তালাক হবে। আর সে যদি তিন তালাকের নিয়াত করে তাহলে তিন তালাক হবে। ইমাম আবু হানীফা এবং আমাদের অধিকাংশ ফিকহবিদের এটাই সাধারণ মত।**
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، أَنَّهُ قَالَ: إِذَا مَلَّكَ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ أَمْرَهَا فَلَمْ تُفَارِقْهُ وَقَرَّتْ عِنْدَهُ فَلَيْسَ ذَلِكَ بِطَلاقٍ، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، إِذَا اخْتَارَتْ زَوْجَهَا فَلَيْسَ ذَلِكَ بِطَلاقٍ وَإِنِ اخْتَارَتْ نَفْسَهَا فَهُوَ عَلَى مَا نَوَى الزَّوْجُ، فَإِنْ نَوَى وَاحِدَةً فَهِيَ وَاحِدَةٌ بَائِنَةٌ، وَإِنْ نَوَى ثَلاثًا فَثَلاثٌ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا
হাদীস নং: ৫৭৩
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী অথবা অপর কারো হাতে তালাকের অধিকার অর্পণ করা।
৫৭৩ । যায়েদ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তার কাছে জিজ্ঞেস করা হলো, এক ব্যক্তির বিবাহাধীনে একটি বাঁদী রয়েছে। সে তাকে চূড়ান্তভাবে তালাক দিলো, অতঃপর তাকে খরিদ করলো। সে কি তার সাথে সঙ্গম করতে পারবে? তিনি জবাবে বলেন, অন্য স্বামী গ্রহণ না করা পর্যন্ত সে তার সাথে সহবাস করতে পারবে না।
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমাদেরও এই মত। ইমাম আবু হানীফা এবং আমাদের সকল ফিকহবিদের এই মত।
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ رَجُلٍ كَانَتْ تَحْتَهُ وَلِيدَةٌ، فَأَبَتْ طَلاقَهَا، ثُمَّ اشْتَرَاهَا، أَيَحِلُّ أَنْ يَمَسَّهَا؟ فَقَالَ: «لا يَحِلُّ لَهُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ» ، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ، وَالْعَامَّةِ مِنْ فُقَهَائِنَا
tahqiq

তাহকীক: