আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ
৮- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
হাদীস নং: ৫৬৫
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
যে ব্যক্তি বলে, আমি যখন অমুক মহিলাকে বিবাহ করবো তখন সে তালাক হয়ে যাবে।
৫৬৫। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলতেন, যদি কোন ব্যক্তি বলে, আমি যখন অমুক মহিলাকে বিবাহ করবো, তখন সে তালাক হয়ে যাবে, তাহলে বিবাহ করার সাথে সাথে তার বক্তব্য অনুযায়ী তালাক অবতীর্ণ হবে। অর্থাৎ সে যদি এক অথবা দুই অথবা তিন তালাকের নিয়াত করে তবে তাই হবে।**
كتاب الطلاق
بَابُ: الرَّجُلِ يَقُولُ إِذَا نَكَحْتُ فُلانَةً فَهِيَ طَالِقٌ
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا مُجَبِّرٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: " إِذَا قَالَ الرَّجُلُ: إِذَا نَكَحْتُ، فُلانَةً فَهِيَ طَالِقٌ، فَهِيَ طَالِقٌ، فَهِيَ كَذَلِكَ إِذَا نَكَحَهَا، وَإِذَا كَانَ طَلَّقَهَا وَاحِدَةً، أَوِ اثْنَتَيْنِ، أَوْ ثَلاثًا فَهُوَ كَمَا قَالَ "، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ رَحِمَهُ اللَّهُ
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
** ইমাম আবু হানীফা ও মালেকের মতে বিবাহের পূর্বে তালাক দিয়ে রাখলে বিবাহ করার সাথে সাথে তালাক হয়ে যায়। প্রাচীনপন্থী আলেমদের একদলেরও এই মত। সালিম ইবনে আবদুল্লাহ, কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ, উমার ইবনে আবদুল আযীয, আমের আশ-শাবী, ইবরাহীম নাখঈ, আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ, আবু বাকু ইবনে আবদুর রহমান, আবু বাকু ইবনে আমর ইবনে হাযম, যুহরী, মাকহুল শামী প্রমুখ বলেছেন, “কোন ব্যক্তি যদি বলে, “আমি অমুক স্ত্রীলোকটিকে বিবাহ করলে সে তালাক” অথবা “যেদিন আমি তাকে বিবাহ করবো, সে তালাক” অথবা “যে স্ত্রীলোককেই আমি বিবাহ করবো সে তালাক", তাহলে সে যেরূপ বলেছে তদ্রূপই হবে। অর্থাৎ বিবাহ করার সাথে সাথে স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে।
কিন্তু ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইবনে আব্বাস (রা), 'সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব, হাসান বসরী, আলী ইবনুল হুসাইন, যয়নুল আবেদীন এবং জমহূরের মতে, বিবাহের পূর্বে তালাক দেয়া অর্থহীন। অতএব যদি কেউ বলে, “আমি অমুক স্ত্রীলোককে বা অমুক বংশের অমুক ঘরের কোন মহিলাকে বা যে কোন মহিলাকে বিবাহ করলে সে তালাক হয়ে যাবে", তবে এটা একটা অর্থহীন কথা। এতে কারো উপর তালাক হবে না। কেননা নবী ﷺ বলেছেনঃ “আদম সন্তান যার মালিক নয় সে বিষয়ে তালাক দেয়ার অধিকারও তার নেই” (আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজা, নং ২০৪৮, মুসনাদে আহমাদ)। তিনি আরো বলেছেনঃ “বিবাহের পূর্বে কোন তালাক নেই" (ইবনে মাজা, নং ২০৪৮)।
ভিন্নমত পোষণকারীগণ এই হাদীস দু'টির জবাবে বলেছেন, এই হাদীসের নির্দেশ কেবল তখনই প্রযোজ্য হবে যখন কোন ব্যক্তি তার স্ত্রী নয় এমন কোন মহিলাকে বলে, 'তোমাকে তালাক' অথবা 'আমি তোমাকে তালাক দিলাম'। এরূপ ক্ষেত্রে এ ধরনের কথা অবশ্যই অর্থহীন হবে এবং এর কোন আইনগত কার্যকারিতা নাই। কিন্তু কেউ যদি বলে, 'আমি যদি তোমাকে বিবাহ করি তবে তুমি তালাক হয়ে যাবে’-এটা বিবাহের পূর্বে তালাক দেয়া নয়, বরং সেই নারী যখন তার বিবাহিতা স্ত্রী হবে তখন তার উপর তালাক হওয়ার কথা এতে ঘোষিত হয়েছে বলে মনে করতে হবে। কাজেই এ ধরনের কথা অর্থহীন নয়। যখনই সে ঐ নারীকে বিবাহ করবে তখনই সে তালাক হয়ে যাবে।
তবে দারু কুতনীর দু'টি হাদীস ইমাম শাফিঈ ও আহমাদের মত সুস্পষ্টভাবে সমর্থন করে। ইবনে উমার (রা) বলেন, “রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর কাছে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, সে বলেছে, “আমি যেদিন অমুক মহিলাকে বিবাহ করবো সে তিন তালাক হয়ে যাবে”। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেনঃ “যে বিষয়ে মালিকানা নেই তাতে তালাকও নেই।” দ্বিতীয় হাদীসটি এই যে, আবু সালাবা আল-খুশানী (রা) বলেন, আমার এক চাচা আমাকে বললেন, আমাকে একটা কাজ করে দাও, তাহলে আমার কন্যাকে তোমার সাথে বিবাহ দিবো। আমি জবাবে বললাম, আমি যদি তাকে বিবাহ করি তাহলে সে তালাক। ঘটনাচক্রে সেই মেয়ের সাথে আমার বিবাহের কথা ঠিক হলো। আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ -কে ব্যাপারটি জানালে তিনি বলেনঃ “তুমি তাকে বিবাহ করো, কেননা বিবাহের পরই তালাক দেয়া যেতে পারে" (লা তালাকা ইল্লা বাদান-নিকাহ)।
এ সম্পর্কে প্রতিপক্ষের জবাব হচ্ছে, যদি হাদীস দু'টি সহীহ হতো তাহলে কোন কথাই ছিলো না এবং মহানবী ﷺ -এর নির্দেশের উপর কারো নির্দেশ চলতে পারে না। কিন্তু হাদীস দু'টি সহীহ নয়। প্রথম হাদীসটির একজন রাবী হচ্ছেন আবু খালিদ ওয়াসিতী উমার ইবনে খালিদ। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইয়াহ্ইয়া ইবনে মুঈন এবং দারু কুতনী বলেছেন, সে চরম মিথ্যাবাদী (كذاب)। ইসহাক ইবনে রাওয়ায়হ ও আবু যুরআ বলেছেন, সে মিথ্যা হাদীস প্রণয়নকারী। দ্বিতীয় হাদীসটির একজন রাবী হচ্ছেন আলী ইবনে কারীন। ইয়াহ্ইয়া ইবনে মুঈন প্রমুখ তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেছেন। ইমাম যায়লাঈ তার 'তাখরীজ আহাদীসিল হিদায়া' গ্রন্থে এবং কাসিম ইবনে কুতলুবুগা তার ফাতোয়ায় এই অলোচনা করেছেন। অতএব হাদীস দু'টি দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয় (অনুবাদক)।
কিন্তু ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইবনে আব্বাস (রা), 'সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব, হাসান বসরী, আলী ইবনুল হুসাইন, যয়নুল আবেদীন এবং জমহূরের মতে, বিবাহের পূর্বে তালাক দেয়া অর্থহীন। অতএব যদি কেউ বলে, “আমি অমুক স্ত্রীলোককে বা অমুক বংশের অমুক ঘরের কোন মহিলাকে বা যে কোন মহিলাকে বিবাহ করলে সে তালাক হয়ে যাবে", তবে এটা একটা অর্থহীন কথা। এতে কারো উপর তালাক হবে না। কেননা নবী ﷺ বলেছেনঃ “আদম সন্তান যার মালিক নয় সে বিষয়ে তালাক দেয়ার অধিকারও তার নেই” (আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজা, নং ২০৪৮, মুসনাদে আহমাদ)। তিনি আরো বলেছেনঃ “বিবাহের পূর্বে কোন তালাক নেই" (ইবনে মাজা, নং ২০৪৮)।
ভিন্নমত পোষণকারীগণ এই হাদীস দু'টির জবাবে বলেছেন, এই হাদীসের নির্দেশ কেবল তখনই প্রযোজ্য হবে যখন কোন ব্যক্তি তার স্ত্রী নয় এমন কোন মহিলাকে বলে, 'তোমাকে তালাক' অথবা 'আমি তোমাকে তালাক দিলাম'। এরূপ ক্ষেত্রে এ ধরনের কথা অবশ্যই অর্থহীন হবে এবং এর কোন আইনগত কার্যকারিতা নাই। কিন্তু কেউ যদি বলে, 'আমি যদি তোমাকে বিবাহ করি তবে তুমি তালাক হয়ে যাবে’-এটা বিবাহের পূর্বে তালাক দেয়া নয়, বরং সেই নারী যখন তার বিবাহিতা স্ত্রী হবে তখন তার উপর তালাক হওয়ার কথা এতে ঘোষিত হয়েছে বলে মনে করতে হবে। কাজেই এ ধরনের কথা অর্থহীন নয়। যখনই সে ঐ নারীকে বিবাহ করবে তখনই সে তালাক হয়ে যাবে।
তবে দারু কুতনীর দু'টি হাদীস ইমাম শাফিঈ ও আহমাদের মত সুস্পষ্টভাবে সমর্থন করে। ইবনে উমার (রা) বলেন, “রাসূলুল্লাহ ﷺ -এর কাছে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, সে বলেছে, “আমি যেদিন অমুক মহিলাকে বিবাহ করবো সে তিন তালাক হয়ে যাবে”। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেনঃ “যে বিষয়ে মালিকানা নেই তাতে তালাকও নেই।” দ্বিতীয় হাদীসটি এই যে, আবু সালাবা আল-খুশানী (রা) বলেন, আমার এক চাচা আমাকে বললেন, আমাকে একটা কাজ করে দাও, তাহলে আমার কন্যাকে তোমার সাথে বিবাহ দিবো। আমি জবাবে বললাম, আমি যদি তাকে বিবাহ করি তাহলে সে তালাক। ঘটনাচক্রে সেই মেয়ের সাথে আমার বিবাহের কথা ঠিক হলো। আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ -কে ব্যাপারটি জানালে তিনি বলেনঃ “তুমি তাকে বিবাহ করো, কেননা বিবাহের পরই তালাক দেয়া যেতে পারে" (লা তালাকা ইল্লা বাদান-নিকাহ)।
এ সম্পর্কে প্রতিপক্ষের জবাব হচ্ছে, যদি হাদীস দু'টি সহীহ হতো তাহলে কোন কথাই ছিলো না এবং মহানবী ﷺ -এর নির্দেশের উপর কারো নির্দেশ চলতে পারে না। কিন্তু হাদীস দু'টি সহীহ নয়। প্রথম হাদীসটির একজন রাবী হচ্ছেন আবু খালিদ ওয়াসিতী উমার ইবনে খালিদ। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইয়াহ্ইয়া ইবনে মুঈন এবং দারু কুতনী বলেছেন, সে চরম মিথ্যাবাদী (كذاب)। ইসহাক ইবনে রাওয়ায়হ ও আবু যুরআ বলেছেন, সে মিথ্যা হাদীস প্রণয়নকারী। দ্বিতীয় হাদীসটির একজন রাবী হচ্ছেন আলী ইবনে কারীন। ইয়াহ্ইয়া ইবনে মুঈন প্রমুখ তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেছেন। ইমাম যায়লাঈ তার 'তাখরীজ আহাদীসিল হিদায়া' গ্রন্থে এবং কাসিম ইবনে কুতলুবুগা তার ফাতোয়ায় এই অলোচনা করেছেন। অতএব হাদীস দু'টি দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয় (অনুবাদক)।