আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

৮- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৬৬
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
যে ব্যক্তি বলে, আমি যখন অমুক মহিলাকে বিবাহ করবো তখন সে তালাক হয়ে যাবে।
৫৬৬ ৷ কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞেস করলো, নিশ্চয় আমি বলেছি, আমি অমুক স্ত্রীলোককে বিবাহ করলে সে আমার কাছে আমার মায়ের পিঠের সমান (তাহলে এর ফল কি দাঁড়াবে)? তিনি বলেন, তুমি যদি তাকে বিবাহ করো তবে কাফফারা না দেয়া পর্যন্ত তার কাছে যাবে না।**
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এই মত গ্রহণ করেছি। ইমাম আবু হানীফারও এই মত। অর্থাৎ সে যখন ঐ নির্দিষ্ট মহিলাকে বিবাহ করবে – তখন সে তার সাথে যিহারকারী সাব্যস্ত হবে। অতএব যিহারের কাফ্ফারা আদায় না করা পর্যন্ত সে তার কাছে যেতে পারবে না।
كتاب الطلاق
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، أَنَّ رَجُلا سَأَلَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، فَقَالَ: ": إِنِّي قُلْتُ: إِنْ تَزَوَّجْتُ فُلانَةً فَهِيَ عَلَيَّ كَظَهْرِ أُمِّي، قَالَ: إِنْ تَزَوَّجْتَهَا فَلا تَقْرَبْهَا حَتَّى تُكَفِّرَ "، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ يَكُونُ مُظَاهِرًا مِنْهَا إِذَا تَزَوَّجَهَا فَلا يَقْرَبْهَا حَتَّى يُكَفِّرَ

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

** 'যিহার' (ظهار) শব্দটি যাহর (ظهر) শব্দ থেকে নির্গত। এর আভিধানিক অর্থ সওয়ারী-যার উপর সওয়ার হওয়া যায়। জন্তুযানকে আরবী ভাষায় যাহর বলা হয়। কেননা এর পিঠের উপর সওয়ার হওয়া যায়, আরোহণ করা হয়। আইনের পরিভাষায় কোন মাহরাম স্ত্রীলোকের বা তার দেহের বিশেষ অংশের সাথে নিজের স্ত্রীকে তুলনা করাকে যিহার বলে। যেমন, 'তুমি আমার মায়ের মতো' বা ‘কন্যার মতো' বা 'তুমি আমার জন্য এমন-যেমন আমার মায়ের পিঠ' ইত্যাদি। এর অর্থ হচ্ছে, তোমার সাথে সহবাস করা আমার জন্য হারাম। যিহার করা সুস্পষ্টভাবে কবীরা গুনাহ।
যিহারের আইনগত অবস্থা এই যে, যিহার করার সাথে সাথেই বিবাহবন্ধন ছিন্ন হয় না। স্ত্রী পূর্বের মতো স্ত্রীই থাকে, তবে সাময়িকভাবে স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যায়। যতোক্ষণ পর্যন্ত যিহারের কাফ্ফারা আদায় না করা হবে, ততোক্ষণ সে তার জন্য হারাম থাকবে এবং সে তার সাথে সহবাস করতে পারবে না। যিহারের কাফ্ফারা হিসাবে একটি দাস মুক্ত করতে হবে। এই সামর্থ্য না থাকলে বা দাস না পাওয়া গেলে একাধারে দুই মাস রোযা রাখতে হবে। এই সামর্থ্যও না থাকলে ষাটজন মিসকীনকে (দুই বেলা) আহার করাতে হবে (সূরা মুজাদালাঃ ৩ ও ৪; আবু দাঊদ, মুসনাদে আহমাদ, ইবনে জারীর, ইবনে আবু হাতিম) (অনুবাদক)।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান