আল মুওয়াত্তা-ইমাম মুহাম্মাদ রহঃ

৮- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৬৪
- তালাক ও আনুষঙ্গিক অধ্যায়
খোলার মাধ্যমে কতো তালাক হয়?
৫৬৪। আসলাম গোত্রের উম্মে বা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তার স্বামী আব্দুল্লাহ ইবনে উসাইদ (রাযিঃ)-র সাথে খোলা করেন। আব্দুল্লাহ ইবনে উসাইদ (রাযিঃ) বলেন যে, অতঃপর তারা উভয়ে এ সম্পর্কিত মাসআলা জানার জন্য উছমান ইবনে আফফান (রাযিঃ)-র কাছে আসেন। তিনি বলেন, তা এক তালাক। কিন্তু খোলাকারিণী সংখ্যা উল্লেখ করলে ততো সংখ্যক তালাক হবে।**
ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা এই মত গ্রহণ করেছি। খোলা হচ্ছে এক বায়েন তালাক । তবে তিন তালাকের সংখ্যা বললে বা নিয়াত করলে তিন তালাকই হবে।
كتاب الطلاق
بَابُ: الْخُلْعِ كَمْ يَكُونُ مِنَ الطَّلاقِ
أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جُمْهَانَ مَوْلَى الأَسْلَمِيِّينَ، عَنْ أُمِّ بَكْرٍ الأَسْلَمِيَّةِ، أَنَّهَا اخْتَلَعَتْ مِنْ زَوْجِهَا عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَسِيدٍ، ثُمَّ أَتَيَا عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ فِي ذَلِكَ، فَقَالَ: «هِيَ تَطْلِيقَةٌ إِلا أَنْ تَكُونَ سَمَّتْ شَيْئًا فَهُوَ عَلَى مَا سَمَّتْ» ، قَالَ مُحَمَّدٌ: وَبِهَذَا نَأْخُذُ، الْخُلْعُ تَطْلِيقَةٌ بَائِنَةٌ إِلا أَنْ يَكُونَ سَمَّى ثَلاثًا، أَوْ نَوَاهَا فَيَكُونُ ثَلاثًا

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

** খোলা (خلع) শব্দের অর্থ খসিয়ে নেয়া, টেনে নেয়া। এর পারিভাষিক অর্থ স্বামীকে মাল দিয়ে 'খোলা' শব্দের মাধ্যমে নিজকে তার বিবাহ বন্ধন থেকে খসিয়ে নেয়া, মুক্ত করে নেয়া। ইসলামী শরীআত পুরুষকে যেভাবে অধিকার দিয়েছে যে, সে যে স্ত্রীকে পছন্দ করে না অথবা যার সাথে কোন রকমেই দাম্পত্য জীবন নির্বাহ করা সম্ভব নয়, তাকে তালাক দিতে পারে। অনুরূপভাবে স্ত্রীকেও এ অধিকার দেয়া হয়েছে যে, সে যে স্বামীকে পছন্দ করে না অথবা যার সাথে তার ঘরসংসার করা কোনক্রমেই সম্ভব নয়—তার কাছ থেকে নিজকে খোলা করে নিতে পারে (সূরা বাকারাঃ ২২৯ আয়াত দ্র.)। এ পর্যায়ে শরীআতের বিধানের দু'টি দিক রয়েছে। এর নৈতিক দিক এই যে, স্বামী অথবা স্ত্রী তালাক অথবা খোলার ক্ষমতা কেবল অনন্যোপায় অবস্থায় প্রয়োগ বা ব্যবহার করবে। শুধু মানসিক তৃপ্তির জন্য তালাক অথবা খোলাকে যেন তামাশার বস্তুতে পরিণত না করা হয়। এর আইনগত দিকের কাজ হচ্ছে, ব্যক্তির অধিকার নির্ধারণ ও তা সংরক্ষণ করা। তা পুরুষকে যেমন তালাকের অধিকার দেয়, নারীকেও তেমন খোলার অধিকার দেয়, যেন প্রয়োজনবোধে উভয়ের জন্য বিবাহ বন্ধন থেকে নিষ্কৃতি লাভ করা সম্ভব হয় ।
ইমাম আবু হানীফা (র) ও মালেক (র)-র মতে খোলা আসলে তালাক। খোলা করার সাথে সাথে বিবাহ বন্ধন ছিন্ন হয়ে যায়। প্রথমবার অথবা দ্বিতীয়বার খোলা করার পর স্বামী-স্ত্রী পারস্পরিক সম্মতি ও সমঝোতার ভিত্তিতে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে। কিন্তু তৃতীয়বার খোলা করার পর আর এ সুযোগ থাকে না। তিন তালাক দেয়া স্ত্রীকে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে ফিরিয়ে আনা যেরূপ জটিল, এ ক্ষেত্রেও সেই একই জটিলতার সৃষ্টি হয়। পক্ষান্তরে ইমাম আহমাদের মতে, খোলা কোন তালাক (বিচ্ছেদ) নয়; বরং ফাসখ (রদকরণ)। অতএব যতোবারই খোলা করা হোক, স্ত্রী নতুন স্বামী গ্রহণ ছাড়াই প্রথম স্বামীর সাথে পুনর্বিবাহে আবদ্ধ হতে পারবে (অনুবাদক)।
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান