আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
الجامع الصحيح للبخاري
৪৬- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩৭৩ টি
হাদীস নং: ২৯৩১
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৫২
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৫৯. নবী (ﷺ) ইসলামের প্রতি যাদের মন আকৃষ্ট করার প্রয়োজন তাদেরকে ও অন্যদেরকে খুমুস ইত্যাদি থেকে দান করতেন।
২৯৩১। আহমদ ইবনে মিকদাম (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদেরকে হিজায ভূখণ্ড থেকে নির্বাসিত করেন। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন খায়বার জয় করেন, তখন তিনিও ইয়াহুদীদের সেখান থেকে বের করে দিতে চেয়েছিলেন। আর সে জমীন বিজিত হওয়ার পর তা আল্লাহ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও মুসলিমগণের অধিকারে এসে গিয়েছিল। তখন ইয়াহুদীরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর নিকট আবেদন করল, যেন তিনি তাদের এখানে এ শর্তে থাকার অনুমতি দেন যে, তারা কৃষি কাজ করবে এবং তাদের জন্য অর্ধেক ফসল থাকবে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন, যতদিন আমরা চাই তোমাদের এ শর্তে থাকার অনুমতি দিচ্ছি। তারা এভাবে রয়ে গেল। অবশেষে উমর (রাযিঃ) তাঁর শাসনামলে তাদের তায়মা বা আরীহা নামক স্থানের দিকে নির্বাসিত করেন।
كتاب الجهاد والسير
بَابُ مَا كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعْطِي الْمُؤَلَّفَةَ قُلُوبُهُمْ وَغَيْرَهُمْ مِنَ الْخُمُسِ وَنَحْوِهِ
3152 - حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ المِقْدَامِ، حَدَّثَنَا الفُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، قَالَ: أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ عُمَرَ بْنَ الخَطَّابِ أَجْلَى اليَهُودَ، وَالنَّصَارَى مِنْ أَرْضِ الحِجَازِ، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا ظَهَرَ عَلَى أَهْلِ خَيْبَرَ، أَرَادَ أَنْ يُخْرِجَ اليَهُودَ مِنْهَا، وَكَانَتِ الأَرْضُ لَمَّا ظَهَرَ عَلَيْهَا لِلْيَهُودِ وَلِلرَّسُولِ وَلِلْمُسْلِمِينَ، فَسَأَلَ اليَهُودُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَتْرُكَهُمْ عَلَى أَنْ يَكْفُوا العَمَلَ وَلَهُمْ نِصْفُ الثَّمَرِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نُقِرُّكُمْ عَلَى ذَلِكَ مَا شِئْنَا» ، فَأُقِرُّوا حَتَّى أَجْلاَهُمْ عُمَرُ فِي إِمَارَتِهِ إِلَى تَيْمَاءَ، وَأَرِيحَا
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯৩২
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৫৩
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৬০. দারুল হরবে যে সব খাদ্য সামগ্রী পাওয়া যায়
২৯৩২। আবুল ওয়ালীদ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা খায়বারের দুর্গ অবরোধ করেছিলাম। কোন এক ব্যক্তি একটি থলে ফেলে দিল; তাতে ছিল চর্বি। আমি তা নেয়ার জন্য উদ্যত হলাম। হঠাৎ তাকিয়ে দেখি যে, নবী (ﷺ) দাঁড়িয়ে আছেন। তখন আমি তা নেয়ার ব্যাপারে লজ্জিত হয়ে পড়লাম।
كتاب الجهاد والسير
باب مَا يُصِيبُ مِنَ الطَّعَامِ فِي أَرْضِ الْحَرْبِ
3153 - حَدَّثَنَا أَبُو الوَلِيدِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلاَلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: «كُنَّا مُحَاصِرِينَ قَصْرَ خَيْبَرَ، فَرَمَى إِنْسَانٌ بِجِرَابٍ فِيهِ شَحْمٌ، فَنَزَوْتُ لِآخُذَهُ، فَالْتَفَتُّ، فَإِذَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَاسْتَحْيَيْتُ مِنْهُ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯৩৩
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৫৪
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৬০. দারুল হরবে যে সব খাদ্য সামগ্রী পাওয়া যায়
২৯৩৩। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধকালে মধু ও আঙ্গুর পেতাম। আমরা তা খেয়ে নিতাম এবং জমা রাখতাম না।
كتاب الجهاد والسير
باب مَا يُصِيبُ مِنَ الطَّعَامِ فِي أَرْضِ الْحَرْبِ
3154 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: «كُنَّا نُصِيبُ فِي مَغَازِينَا [ص:96] العَسَلَ وَالعِنَبَ، فَنَأْكُلُهُ وَلاَ نَرْفَعُهُ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯৩৪
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৫৫
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৬০. দারুল হরবে যে সব খাদ্য সামগ্রী পাওয়া যায়
২৯৩৪। মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... (আব্দুল্লাহ) ইবনে আবু আওফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খায়বারের যুদ্ধের সময় আমরা ক্ষুধায় কষ্ট পাচ্ছিলাম। খায়বার বিজয়ের দিন আমরা পালিত গাধার দিকে এগিয়ে গেলাম এবং তা যবেহ করলাম। যখন তা হাড়িতে বলক আসছিল তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর ঘোষণা দানকারী ঘোষণা দিলঃ তোমরা হাড়িগুলো উপুড় করে ফেল। গাধার গোশত থেকে তোমরা কিছুই খাবে না। আব্দুল্লাহ (ইবনে আবু আওফ) (রাযিঃ) বলেন, আমরা (কেউ কেউ) বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এজন্য নিষেধ করেছেন, যেহেতু তা থেকে খুমুস বের করা হয় নি। (রাবী বলেন) আর অন্যরা বললেন, বরং তিনি এটাকে নিশ্চিতভাবে হারাম করেছেন। (শায়বানী বলেন) আমি এ ব্যাপারে সাঈদ ইবনে জুবাইর (রাযিঃ)- কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, নিশ্চিতভাবে তিনি তা হারাম করেছেন।
كتاب الجهاد والسير
باب مَا يُصِيبُ مِنَ الطَّعَامِ فِي أَرْضِ الْحَرْبِ
3155 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَاحِدِ، حَدَّثَنَا الشَّيْبَانِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي أَوْفَى رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، يَقُولُ: أَصَابَتْنَا مَجَاعَةٌ لَيَالِيَ خَيْبَرَ، فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ خَيْبَرَ وَقَعْنَا فِي الحُمُرِ الأَهْلِيَّةِ، فَانْتَحَرْنَاهَا، فَلَمَّا غَلَتِ القُدُورُ نَادَى مُنَادِي رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَكْفِئُوا القُدُورَ، فَلاَ تَطْعَمُوا مِنْ لُحُومِ الحُمُرِ شَيْئًا» قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: فَقُلْنَا: «إِنَّمَا نَهَى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَنَّهَا لَمْ تُخَمَّسْ» قَالَ: وَقَالَ آخَرُونَ: «حَرَّمَهَا أَلْبَتَّةَ» وَسَأَلْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ فَقَالَ: «حَرَّمَهَا أَلْبَتَّةَ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯৩৫
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৫৬ - ৩১৫৭
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৬১. যিম্মীদের থেকে জিযিয়া গ্রহণ এবং হারবীদের সাথে যুদ্ধ বিরতি চুক্তি। আর আল্লাহ তাআলার বাণীঃ যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে না, এবং শেষ দিনের উপর বিশ্বাস করে না, আর আল্লাহ তাআলা ও তার রাসুল (ﷺ) যা হারাম করেছেন তা হারাম বলে মানে না, তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ কর .... আয়াতের শেষ পর্যন্ত। (৯ঃ ২৯) আয়াতে উল্লেখিত مسكين শব্দের মুল হচ্ছে مسكنة অর্থ হল অভাবগ্রস্ত اسكن من فلان এর অর্থ সে অমুক থেকে অধিক অভাবগ্রস্থ। এ শব্দটি سكون ধাতু থেকে নিশপন্ন নয়। صاغرون এর অর্থ লাঞ্চিত। ইয়াহুদি, খ্রিস্টান, অগ্নিপুজক ও আজমীদের থেকে জিযিয়া গ্রহণ। ইবনে উয়াইনা (রাহঃ) (আব্দুল্লাহ) ইবনে আবু নাজীহ (রাহঃ) থেকে বলেন, আমি মুজাহিদ (রাহঃ)- এর নিকট জিজ্ঞাসা করলাম, এর কারণ কি যে, সিরিয়া বাসীদের উপর চার দীনার এবং ইয়ামান বাসীদের উপর এক দীনার করে জিযিয়া গ্রহণ করা হয়। তিনি বললেন, তা স্বচ্ছলতার প্রেক্ষিতে ধার্য করা হয়েছে।
২৯৩৫। আলী ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) .... (আমর) ইবনে দীনার (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনে যায়দ ও আমর ইবনে আউস (রাহঃ) সহ যমযমের সিড়ির নিকট বসাছিলাম, হিজরী সত্তর সনে যে বছর মুসআব ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) বসরাবাসীদের নিয়ে হজ্জ আদায় করেছিলেন। তখন বাজালাহ তাদের উভয়কে এ হাদীস বর্ণনা করেন, আমি আহনাফের চাচা জাযই ইবনে মুআবিয়া (রাযিঃ)- এর লেখক ছিলাম। আমাদের নিকট উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ)- এর পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যুর এক বছর আগে একখানি পত্র আসে যে, যে সব মাজুসী১ মাহরামদের২ সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ তাদের বিচ্ছিন্ন করে দাও। আর উমর (রাযিঃ) মাজুসীদের কাছ থেকে জিযিয়া গ্রহণ করতেন না, যে পর্যন্ত না আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিঃ) এ মর্মে সাক্ষী দিলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাজার এলাকার মাজুসীদের কাছ থেকে তা গ্রহণ করেছেন।
১ পারসিক- অগ্নিপূজক সম্প্রদায়।
২ মাহরাম-যাদের বিবাহ করা শরীয়াতে স্থায়ীভাবে হারাম।
১ পারসিক- অগ্নিপূজক সম্প্রদায়।
২ মাহরাম-যাদের বিবাহ করা শরীয়াতে স্থায়ীভাবে হারাম।
كتاب الجهاد والسير
باب الْجِزْيَةِ وَالْمُوَادَعَةِ مَعَ أَهْلِ الْحَرْبِ وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {قَاتِلُوا الَّذِينَ لاَ يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلاَ بِالْيَوْمِ الآخِرِ وَلاَ يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَلاَ يَدِينُونَ دِينَ الْحَقِّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حَتَّى يُعْطُوا الْجِزْيَةَ عَنْ يَدٍ وَهُمْ صَاغِرُونَ} أَذِلاَّءُ. وَمَا جَاءَ فِي أَخْذِ الْجِزْيَةِ مِنَ الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى وَالْمَجُوسِ وَالْعَجَمِ. وَقَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ قُلْتُ لِمُجَاهِدٍ مَا شَأْنُ أَهْلِ الشَّأْمِ، عَلَيْهِمْ أَرْبَعَةُ دَنَانِيرَ وَأَهْلُ الْيَمَنِ عَلَيْهِمْ دِينَارٌ قَالَ جُعِلَ ذَلِكَ مِنْ قِبَلِ الْيَسَارِ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ سَمِعْتُ عَمْرًا، قَالَ كُنْتُ جَالِسًا مَعَ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ وَعَمْرِو بْنِ أَوْسٍ، فَحَدَّثَهُمَا بَجَالَةُ، سَنَةَ سَبْعِينَ ـ عَامَ حَجَّ مُصْعَبُ بْنُ الزُّبَيْرِ بِأَهْلِ الْبَصْرَةِ ـ عِنْدَ دَرَجِ زَمْزَمَ قَالَ كُنْتُ كَاتِبًا لِجَزْءِ بْنِ مُعَاوِيَةَ عَمِّ الأَحْنَفِ، فَأَتَانَا كِتَابُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَبْلَ مَوْتِهِ بِسَنَةٍ فَرِّقُوا بَيْنَ كُلِّ ذِي مَحْرَمٍ مِنَ الْمَجُوسِ. وَلَمْ يَكُنْ عُمَرُ أَخَذَ الْجِزْيَةَ مِنَ الْمَجُوسِ. حَتَّى شَهِدَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَخَذَهَا مِنْ مَجُوسِ هَجَرٍ.
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ২৯৩৬
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৫৮
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৬১. যিম্মীদের থেকে জিযিয়া গ্রহণ এবং হারবীদের সাথে যুদ্ধ বিরতি চুক্তি।
২৯৩৬। আবুল ইয়ামান (রাহঃ) .... মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমর ইবনে আউফ আনসারী (রাযিঃ) যিনি বনী আমির ইবনে লুয়াইয়ের মিত্র ছিলেন এবং বদর যুদ্ধে শরীক হয়েছিলেন, তিনি তাঁকে বলেছিলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু উবাইদা ইবনে জাররাহ (রাযিঃ)- কে বাহরাইনে জিযিয়া আদায় করার জন্য পাঠালেন। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বাহরাইনবাসীদের সঙ্গে সন্ধি করেছিলেন এবং আলা ইবনে হাযরামী (রাযিঃ)- কে তাদের আমির নিযুক্ত করেছিলেন। আবু উবাইদা (রাযিঃ) বাহরাইন থেকে অর্থ সম্পদ নিয়ে এলেন। আনসারগণ আবু উবাইদার আগমনের সংবাদ শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর সঙ্গে ফজরের নামাযে সবাই উপস্থিত হন।
যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের নিয়ে ফজরের নামায আদায় করে ফিরলেন, তখন তারা তাঁর সামনে উপস্থিত হলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁদের দেখে মুচকি হাসলেন এবং বললেন, আমার মনে হয় তোমরা শুনেছ, আবু উবাইদা (রাযিঃ) কিছু নিয়ে এসেছেন, তারা বলল, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সুসংবাদ গ্রহণ কর এবং যা তোমাদের খুশী করে তা আশা রাখ। আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের ব্যাপারে দারিদ্রের আশঙ্কা করি না। কিন্তু তোমাদের ব্যাপারে এ আশঙ্কা করি যে, তোমাদের উপর দুনিয়া এরূপ প্রসারিত হয়ে পড়বে যেরূপ তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর প্রসারিত হয়েছিল। আর তোমরাও দুনিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়বে, যেমন তারা আকৃষ্ট হয়েছিল। আর তা তোমাদের ধ্বংস করবে, যেমন তাদের ধ্বংস করেছে।’
যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের নিয়ে ফজরের নামায আদায় করে ফিরলেন, তখন তারা তাঁর সামনে উপস্থিত হলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁদের দেখে মুচকি হাসলেন এবং বললেন, আমার মনে হয় তোমরা শুনেছ, আবু উবাইদা (রাযিঃ) কিছু নিয়ে এসেছেন, তারা বলল, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সুসংবাদ গ্রহণ কর এবং যা তোমাদের খুশী করে তা আশা রাখ। আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের ব্যাপারে দারিদ্রের আশঙ্কা করি না। কিন্তু তোমাদের ব্যাপারে এ আশঙ্কা করি যে, তোমাদের উপর দুনিয়া এরূপ প্রসারিত হয়ে পড়বে যেরূপ তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর প্রসারিত হয়েছিল। আর তোমরাও দুনিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়বে, যেমন তারা আকৃষ্ট হয়েছিল। আর তা তোমাদের ধ্বংস করবে, যেমন তাদের ধ্বংস করেছে।’
كتاب الجهاد والسير
باب الْجِزْيَةِ وَالْمُوَادَعَةِ مَعَ أَهْلِ الْحَرْب
3158 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، عَنِ المِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ عَمْرَو بْنَ عَوْفٍ الأَنْصَارِيَّ وَهُوَ حَلِيفٌ لِبَنِي عَامِرِ بْنِ لُؤَيٍّ، وَكَانَ شَهِدَ بَدْرًا، أَخْبَرَهُ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ الجَرَّاحِ إِلَى البَحْرَيْنِ يَأْتِي بِجِزْيَتِهَا، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُوَ صَالَحَ أَهْلَ البَحْرَيْنِ، وَأَمَّرَ عَلَيْهِمُ العَلاَءَ بْنَ الحَضْرَمِيِّ، فَقَدِمَ أَبُو عُبَيْدَةَ بِمَالٍ مِنَ البَحْرَيْنِ، فَسَمِعَتِ الأَنْصَارُ بِقُدُومِ أَبِي عُبَيْدَةَ، فَوَافَتْ صَلاَةَ الصُّبْحِ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمَّا صَلَّى بِهِمُ الفَجْرَ انْصَرَفَ، فَتَعَرَّضُوا لَهُ، فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ رَآهُمْ، وَقَالَ: «أَظُنُّكُمْ قَدْ سَمِعْتُمْ أَنَّ أَبَا عُبَيْدَةَ قَدْ جَاءَ بِشَيْءٍ؟» ، قَالُوا: أَجَلْ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «فَأَبْشِرُوا [ص:97] وَأَمِّلُوا مَا يَسُرُّكُمْ، فَوَاللَّهِ لاَ الفَقْرَ أَخْشَى عَلَيْكُمْ، وَلَكِنْ أَخَشَى عَلَيْكُمْ أَنْ تُبْسَطَ عَلَيْكُمُ الدُّنْيَا كَمَا بُسِطَتْ عَلَى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ، فَتَنَافَسُوهَا كَمَا تَنَافَسُوهَا وَتُهْلِكَكُمْ كَمَا أَهْلَكَتْهُمْ»
হাদীস নং: ২৯৩৭
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৫৯ - ৩১৬০
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৬১. যিম্মীদের থেকে জিযিয়া গ্রহণ এবং হারবীদের সাথে যুদ্ধ বিরতি চুক্তি।
২৯৩৭। ফযল ইবনে ইয়াকুব (রাহঃ) .... জুবাইর ইবনে হাইয়া (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর (রাযিঃ) মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন বড় বড় শহরের দিকে সেনাদল পাঠালেন। সে সময় হুরমযান (মাদায়েনের শাসক) ইসলাম গ্রহণ করে। উমর (রাযিঃ) তাঁকে বললেন, আমি এ সব যুদ্ধের ব্যাপারে তোমার পরামর্শ গ্রহণ করতে চাই। তিনি বললেন, ঠিক আছে। এ সকল দেশ এবং দেশে মুসলিমদের দুশমন যেসব লোক বাস করছে, তাদের উদাহরণ একটি পাখির ন্যায়, যার একটি মাথা, দু’টি পা রয়েছে। যদি একটি ডানা ভেঙ্গে দেওয়া হয়, তবে সে পাখিটি দু’টি পা, একটি ডানা ও মাথার সাহায্যে উঠে দাঁড়াবে। যদি অপর ডানা ভেঙ্গে দেওয়া হয়, তবে সে পাখিটি দু’টি পা,ও মাথার সাহায্যে উঠে দাঁড়াবে। আর যদি মাথা ভেঙ্গে দেওয়া হয়, তবে উভয় পা, উভয় ডানা ও মাথা সবই অকেজো হয়ে যাবে। কিসরা শত্রুদের হল মাথা, কায়সার হল একটি ডানা, আর পারস্য হল অপর ডানা। কাজেই মুসলিমগণকে এ আদেশ করুন, তারা যেন কিসরার উপর আক্রমণ করে।
বকর ও যিয়াদ (রাহঃ) উভয়ে জুবাইর ইবনে হাইয়া (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তারপর উমর (রাযিঃ) আমাদের ডাকলেন আর আমাদের উপর নু‘মান ইবনে মুকাররিনকে আমির নিযুক্ত করেন। আমরা যখন শত্রু দেশে পৌঁছলাম, কিসরার এক সেনাপতি চল্লিশ হাজার সৈন্য নিয়ে আমাদের মুকাবিলায় আসল। তখন তার পক্ষ থেকে একজন দোভাষী দাঁড়িয়ে বলল, তোমাদের মধ্য থেকে একজন আমার সঙ্গে আলোচনা করুক। তখন মুগীরা (ইবনে শু‘বা) (রাযিঃ) বললেন, যা ইচ্ছা প্রশ্ন করতে পার। সে বলল, তোমরা কারা? তিনি বললেন,আমরা আরবের লোক। দীর্ঘ দিন আমরা অতিশয় দুর্ভাগ্য (কুফরীতে) এবং কঠিন বিপদে (দারিদ্রে) ছিলাম। ক্ষুধার তাড়নায় আমরা চামড়া ও খেজুর গুটি চুষতাম। চুল ও পশম পরিধান করতাম। বৃক্ষ ও পাথর পূজা করতাম। আমরা যখন এ অবস্থায় পতিত তখন আসমান ও জমীনের প্রতিপালক আমাদের মধ্য থেকে একজন নবী প্রেরণ করেন। তাঁর পিতা-মাতাকে আমরা চিনি। আমাদের নবী ও আমাদের রবের রাসূল (ﷺ), তিনি আমাদেরকে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আদেশ করেছেন, যে পর্যন্ত না তোমরা এক আল্লাহ তাআলার ইবাদত কর কিংবা জিযিয়া দাও।
আর আমাদের নবী (ﷺ) আমাদের রবের পক্ষ থেকে আমাদেরকে জানিয়েছেন যে, আমাদের মধ্য থেকে যে নিহত হবে, সে জান্নাতে এমন নিয়ামত লাভ করবে, যা কখনো দেখা যায়নি। আর আমাদের মধ্য থেকে যারা জীবিত থাকবে তারা তোমাদের গর্দানের মালিক হবে। নু‘মান (রাহঃ) (মুগীরাকে) বললেন, আপনাকে আল্লাহ তাআলা এরূপ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর সাথী করেছেন আর তিনি আপনাকে লজ্জিত ও লাঞ্চিত করেনি আর আমিও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর সাথে অনেক যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছি। তাঁর নিয়ম এ ছিল যে, যদি দিনের পূর্বাহ্নে যুদ্ধ শুরু না করতেন, তবে তিনি বাতাস প্রবাহিত হওয়া এবং নামায এর সময় হওয়া পর্যন্ত অপক্ষো করতেন।
বকর ও যিয়াদ (রাহঃ) উভয়ে জুবাইর ইবনে হাইয়া (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তারপর উমর (রাযিঃ) আমাদের ডাকলেন আর আমাদের উপর নু‘মান ইবনে মুকাররিনকে আমির নিযুক্ত করেন। আমরা যখন শত্রু দেশে পৌঁছলাম, কিসরার এক সেনাপতি চল্লিশ হাজার সৈন্য নিয়ে আমাদের মুকাবিলায় আসল। তখন তার পক্ষ থেকে একজন দোভাষী দাঁড়িয়ে বলল, তোমাদের মধ্য থেকে একজন আমার সঙ্গে আলোচনা করুক। তখন মুগীরা (ইবনে শু‘বা) (রাযিঃ) বললেন, যা ইচ্ছা প্রশ্ন করতে পার। সে বলল, তোমরা কারা? তিনি বললেন,আমরা আরবের লোক। দীর্ঘ দিন আমরা অতিশয় দুর্ভাগ্য (কুফরীতে) এবং কঠিন বিপদে (দারিদ্রে) ছিলাম। ক্ষুধার তাড়নায় আমরা চামড়া ও খেজুর গুটি চুষতাম। চুল ও পশম পরিধান করতাম। বৃক্ষ ও পাথর পূজা করতাম। আমরা যখন এ অবস্থায় পতিত তখন আসমান ও জমীনের প্রতিপালক আমাদের মধ্য থেকে একজন নবী প্রেরণ করেন। তাঁর পিতা-মাতাকে আমরা চিনি। আমাদের নবী ও আমাদের রবের রাসূল (ﷺ), তিনি আমাদেরকে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আদেশ করেছেন, যে পর্যন্ত না তোমরা এক আল্লাহ তাআলার ইবাদত কর কিংবা জিযিয়া দাও।
আর আমাদের নবী (ﷺ) আমাদের রবের পক্ষ থেকে আমাদেরকে জানিয়েছেন যে, আমাদের মধ্য থেকে যে নিহত হবে, সে জান্নাতে এমন নিয়ামত লাভ করবে, যা কখনো দেখা যায়নি। আর আমাদের মধ্য থেকে যারা জীবিত থাকবে তারা তোমাদের গর্দানের মালিক হবে। নু‘মান (রাহঃ) (মুগীরাকে) বললেন, আপনাকে আল্লাহ তাআলা এরূপ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর সাথী করেছেন আর তিনি আপনাকে লজ্জিত ও লাঞ্চিত করেনি আর আমিও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর সাথে অনেক যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছি। তাঁর নিয়ম এ ছিল যে, যদি দিনের পূর্বাহ্নে যুদ্ধ শুরু না করতেন, তবে তিনি বাতাস প্রবাহিত হওয়া এবং নামায এর সময় হওয়া পর্যন্ত অপক্ষো করতেন।
كتاب الجهاد والسير
باب الْجِزْيَةِ وَالْمُوَادَعَةِ مَعَ أَهْلِ الْحَرْب
حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيُّ، وَزِيَادُ بْنُ جُبَيْرٍ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ حَيَّةَ، قَالَ بَعَثَ عُمَرُ النَّاسَ فِي أَفْنَاءِ الأَمْصَارِ يُقَاتِلُونَ الْمُشْرِكِينَ، فَأَسْلَمَ الْهُرْمُزَانُ فَقَالَ إِنِّي مُسْتَشِيرُكَ فِي مَغَازِيَّ هَذِهِ. قَالَ نَعَمْ، مَثَلُهَا وَمَثَلُ مَنْ فِيهَا مِنَ النَّاسِ مِنْ عَدُوِّ الْمُسْلِمِينَ مَثَلُ طَائِرٍ لَهُ رَأْسٌ وَلَهُ جَنَاحَانِ وَلَهُ رِجْلاَنِ، فَإِنْ كُسِرَ أَحَدُ الْجَنَاحَيْنِ نَهَضَتِ الرِّجْلاَنِ بِجَنَاحٍ وَالرَّأْسُ، فَإِنْ كُسِرَ الْجَنَاحُ الآخَرُ نَهَضَتِ الرِّجْلاَنِ وَالرَّأْسُ، وَإِنْ شُدِخَ الرَّأْسُ ذَهَبَتِ الرِّجْلاَنِ وَالْجَنَاحَانِ وَالرَّأْسُ، فَالرَّأْسُ كِسْرَى، وَالْجَنَاحُ قَيْصَرُ، وَالْجَنَاحُ الآخَرُ فَارِسُ، فَمُرِ الْمُسْلِمِينَ فَلْيَنْفِرُوا إِلَى كِسْرَى. وَقَالَ بَكْرٌ وَزِيَادٌ جَمِيعًا عَنْ جُبَيْرِ بْنِ حَيَّةَ قَالَ فَنَدَبَنَا عُمَرُ وَاسْتَعْمَلَ عَلَيْنَا النُّعْمَانَ بْنَ مُقَرِّنٍ، حَتَّى إِذَا كُنَّا بِأَرْضِ الْعَدُوِّ، وَخَرَجَ عَلَيْنَا عَامِلُ كِسْرَى فِي أَرْبَعِينَ أَلْفًا، فَقَامَ تُرْجُمَانٌ فَقَالَ لِيُكَلِّمْنِي رَجُلٌ مِنْكُمْ. فَقَالَ الْمُغِيرَةُ سَلْ عَمَّا شِئْتَ. قَالَ مَا أَنْتُمْ قَالَ نَحْنُ أُنَاسٌ مِنَ الْعَرَبِ كُنَّا فِي شَقَاءٍ شَدِيدٍ وَبَلاَءٍ شَدِيدٍ، نَمَصُّ الْجِلْدَ وَالنَّوَى مِنَ الْجُوعِ، وَنَلْبَسُ الْوَبَرَ وَالشَّعَرَ، وَنَعْبُدُ الشَّجَرَ وَالْحَجَرَ، فَبَيْنَا نَحْنُ كَذَلِكَ، إِذْ بَعَثَ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَرَبُّ الأَرَضِينَ تَعَالَى ذِكْرُهُ وَجَلَّتْ عَظَمَتُهُ إِلَيْنَا نَبِيًّا مِنْ أَنْفُسِنَا، نَعْرِفُ أَبَاهُ وَأُمَّهُ، فَأَمَرَنَا نَبِيُّنَا رَسُولُ رَبِّنَا صلى الله عليه وسلم أَنْ نَقَاتِلَكُمْ حَتَّى تَعْبُدُوا اللَّهَ وَحْدَهُ أَوْ تُؤَدُّوا الْجِزْيَةَ، وَأَخْبَرَنَا نَبِيُّنَا صلى الله عليه وسلم عَنْ رِسَالَةِ رَبِّنَا أَنَّهُ مَنْ قُتِلَ مِنَّا صَارَ إِلَى الْجَنَّةِ فِي نَعِيمٍ لَمْ يَرَ مِثْلَهَا قَطُّ، وَمَنْ بَقِيَ مِنَّا مَلَكَ رِقَابَكُمْ. فَقَالَ النُّعْمَانُ رُبَّمَا أَشْهَدَكَ اللَّهُ مِثْلَهَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يُنَدِّمْكَ وَلَمْ يُخْزِكَ، وَلَكِنِّي شَهِدْتُ الْقِتَالَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا لَمْ يُقَاتِلْ فِي أَوَّلِ النَّهَارِ انْتَظَرَ حَتَّى تَهُبَّ الأَرْوَاحُ وَتَحْضُرَ الصَّلَوَاتُ.
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯৩৮
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৬১
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৬২. ইমাম (মুসলিম রাষ্ট্র প্রধান) যদি কোন জনপদের প্রশাসকের সাথে সন্ধি করে, তবে কি তা অবশিষ্ট লোকদের বেলায়ও প্রযোজ্য হবে?
২৯৩৮। সাহল ইবনে বাক্কার (রাহঃ) .... আবু হুমাইদ সাঈদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর সঙ্গে তাবুক যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছি। তখন আয়লার অধিপতি নবী (ﷺ)- এর জন্য একটি সাদা খচ্চর হাদীয়া দিল আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে চাঁদর দান করলেন এবং এলাকা তারই জন্য লিখে দিলেন।
كتاب الجهاد والسير
باب إِذَا وَادَعَ الإِمَامُ مَلِكَ الْقَرْيَةِ هَلْ يَكُونُ ذَلِكَ لِبَقِيَّتِهِمْ
3161 - حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ بَكَّارٍ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ عَبَّاسٍ السَّاعِدِيِّ، عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ، قَالَ: «غَزَوْنَا [ص:98] مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَبُوكَ وَأَهْدَى مَلِكُ أَيْلَةَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَغْلَةً بَيْضَاءَ، وَكَسَاهُ بُرْدًا، وَكَتَبَ لَهُ بِبَحْرِهِمْ»
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ২৯৩৯
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৬২
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৬৩. রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর সাথে যাদের অঙ্গীকার রয়েছে তাদের সম্পর্কে অসীয়্যাত। ذِمَّةُ শব্দের অর্থ অঙ্গীকার-প্রতিশ্রুতি, আর الإِلُّ শব্দের অর্থ আত্মীয়তার সম্পর্ক
২৯৩৯। আদম ইবনে আবু ইয়াস (রাহঃ) ......... জুয়াইরিয়া ইবনে কুদামা তামীমী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ)- কে বললাম, ‘হে আমীরুল মু'মিনীন! আমাদের কিছু অসীয়্যাত করুন।’ তিনি বললেন, ‘আমি তোমাদের আল্লাহর অঙ্গীকার রক্ষার অসীয়্যাত করছি। কারণ এ হল তোমাদের নবীর অঙ্গীকার এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনের জীবিকা।’
كتاب الجهاد والسير
بَابُ الْوَصَايَا بِأَهْلِ ذِمَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالذِّمَّةُ الْعَهْدُ، وَالإِلُّ الْقَرَابَةُ
3162 - حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو جَمْرَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ جُوَيْرِيَةَ بْنَ قُدَامَةَ التَّمِيمِيَّ، قَالَ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قُلْنَا: أَوْصِنَا يَا أَمِيرَ المُؤْمِنِينَ، قَالَ: «أُوصِيكُمْ بِذِمَّةِ اللَّهِ، فَإِنَّهُ ذِمَّةُ نَبِيِّكُمْ، وَرِزْقُ عِيَالِكُمْ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯৪০
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৬৩
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৬৪. নবী (ﷺ) বাহরাইনের ভূমি থেকে যা বন্দোবস্ত দেন এবং বাহরাইনের সম্পদ ও জিযিয়া থেকে যা দেওয়ার ওয়াদা করেন। আর ফায় ও জিযিয়া কাদের মধ্যে বন্টিত হবে?
২৯৪০। আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বাহরাইনের ভূমি লিখে দেওয়ার জন্য আনসারদের ডাকলেন। তখন তারা বললেন, না, আল্লাহর কসম! আমরা সে পর্যন্ত গ্রহণ করব না, যে পর্যন্ত আপনি আমাদের ভাই কুরাইশদের জন্যও অনুরূপ লিখে না দেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এ সম্পদ তো তাদের জন্য যতক্ষণ আল্লাহ তাআলা চাইবেন। কিন্তু তারা সেই কথাই পুনরাবৃত্তি করতে থাকলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমার পরে দেখতে পাবে যে, অন্যকে তোমাদের উপর অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তখন তোমরা (হাউযে কাউসারে) আমার সঙ্গে মিলিত হওয়া পর্যন্ত সবর করবে।
كتاب الجهاد والسير
بَابُ مَا أَقْطَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْبَحْرَيْنِ، وَمَا وَعَدَ مِنْ مَالِ الْبَحْرَيْنِ وَالْجِزْيَةِ، وَلِمَنْ يُقْسَمُ الْفَيْءُ وَالْجِزْيَةُ؟
3163 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسًا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: دَعَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الأَنْصَارَ لِيَكْتُبَ لَهُمْ بِالْبَحْرَيْنِ، فَقَالُوا: لاَ وَاللَّهِ حَتَّى تَكْتُبَ لِإِخْوَانِنَا مِنْ قُرَيْشٍ بِمِثْلِهَا، فَقَالَ: «ذَاكَ لَهُمْ مَا شَاءَ اللَّهُ عَلَى ذَلِكَ» ، يَقُولُونَ لَهُ، قَالَ: «فَإِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ بَعْدِي أَثَرَةً، فَاصْبِرُوا حَتَّى تَلْقَوْنِي عَلَى الحَوْضِ»
হাদীস নং: ২৯৪১
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৬৪ - ৩১৬৫
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৬৪. নবী (ﷺ) বাহরাইনের ভূমি থেকে যা বন্দোবস্ত দেন এবং বাহরাইনের সম্পদ ও জিযিয়া থেকে যা দেওয়ার ওয়াদা করেন। আর ফায় ও জিযিয়া কাদের মধ্যে বন্টিত হবে?
২৯৪১। আলী ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেছিলেন, যদি আমার নিকট বাহরাইনের মাল আসে তবে আমি তোমাকে এ পরিমাণ, এ পরিমাণ, এ পরিমাণ দিব। পরে যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইন্তিকাল করেন আর বাহরাইনের মাল এসে যায় তখন আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর নিকট যে ব্যক্তির কোন প্রতিশ্রুতি থাকে, সে যেন আমার কাছে আসে। তখন আমি তাঁর নিকট গেলাম এবং বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেছিলেন, যদি আমার নিকট বাহরাইনের মাল আসে, তবে আমি তোমাকে এ পরিমাণ, এ পরিমাণ ও এ পরিমাণ দিব। আবু বকর (রাযিঃ) আমাকে বললেন, তুমি অঞ্জলি ভরে নাও। আমি এক অঞ্জলি উঠালাম। তিনি আমাকে বললেন, এগুলো গুণে দেখ। আমি গুণে দেখলাম যে, তাতে পাঁচশ রয়েছে। তখন তিনি আমাকে এক হাজার পাঁচশ দিলেন।
আর ইবরাহীম ইবনে তাহমান (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ)- এর নিকট বাহরাইনের মাল এল। তখন তিনি বললেন, তোমরা এগুলো মসজিদে ঢেলে দাও আর এ মাল এর আগে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর নিকট আগত মালের চাইতে অনেক বেশী ছিল। এ সময় আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে দান করুন। আমি আমার এবং আকিলের মুক্তিপণ দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আচ্ছা নাও। তিনি তার কাপড়ে অঞ্জলি ভরে নিতে লাগলেন। তারপর তা উঠাতে চাইলেন কিন্তু উঠাতে পারলেন না। তখন তিনি বললেন, কাউকে আমার উপর এ বোঝা উঠিয়ে দিতে বলুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, না। তখন তিনি বললেন, আচ্ছা আপনিই আমার উপর উঠিয়ে দিন।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, না। তিনি তা থেকে কিছু কমিয়ে ফেললেন এবং উঠাতে চেষ্টা করলেন, কিন্তু উঠাতে পারলেন না। তারপর বললেন, কাউকে আমার উপর বোঝাটি উঠিয়ে দিতে বলুন। তিনি বললেন, না। তখন আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, আপনিই একটু আমার উপর উঠিয়ে দিন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, না। তারপর তিনি আবার তা থেকে কমালেন, এরপর কাঁধের উপর উঠিয়ে রওয়ানা হলেন। তাঁর এ আগ্রহ দেখে বিস্ময়ের সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকিয়ে থাকলেন, ---যতক্ষণ না তিনি আমাদের দৃষ্টির আড়ালে গেলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সে স্থানে একটি দিরহাম থাকা পর্যন্ত সেখান থেকে উঠে দাঁড়াননি।
আর ইবরাহীম ইবনে তাহমান (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ)- এর নিকট বাহরাইনের মাল এল। তখন তিনি বললেন, তোমরা এগুলো মসজিদে ঢেলে দাও আর এ মাল এর আগে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর নিকট আগত মালের চাইতে অনেক বেশী ছিল। এ সময় আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে দান করুন। আমি আমার এবং আকিলের মুক্তিপণ দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আচ্ছা নাও। তিনি তার কাপড়ে অঞ্জলি ভরে নিতে লাগলেন। তারপর তা উঠাতে চাইলেন কিন্তু উঠাতে পারলেন না। তখন তিনি বললেন, কাউকে আমার উপর এ বোঝা উঠিয়ে দিতে বলুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, না। তখন তিনি বললেন, আচ্ছা আপনিই আমার উপর উঠিয়ে দিন।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, না। তিনি তা থেকে কিছু কমিয়ে ফেললেন এবং উঠাতে চেষ্টা করলেন, কিন্তু উঠাতে পারলেন না। তারপর বললেন, কাউকে আমার উপর বোঝাটি উঠিয়ে দিতে বলুন। তিনি বললেন, না। তখন আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, আপনিই একটু আমার উপর উঠিয়ে দিন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, না। তারপর তিনি আবার তা থেকে কমালেন, এরপর কাঁধের উপর উঠিয়ে রওয়ানা হলেন। তাঁর এ আগ্রহ দেখে বিস্ময়ের সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকিয়ে থাকলেন, ---যতক্ষণ না তিনি আমাদের দৃষ্টির আড়ালে গেলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সে স্থানে একটি দিরহাম থাকা পর্যন্ত সেখান থেকে উঠে দাঁড়াননি।
كتاب الجهاد والسير
بَابُ مَا أَقْطَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْبَحْرَيْنِ، وَمَا وَعَدَ مِنْ مَالِ الْبَحْرَيْنِ وَالْجِزْيَةِ، وَلِمَنْ يُقْسَمُ الْفَيْءُ وَالْجِزْيَةُ؟
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَخْبَرَنِي رَوْحُ بْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِي " لَوْ قَدْ جَاءَنَا مَالُ الْبَحْرَيْنِ قَدْ أَعْطَيْتُكَ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا ". فَلَمَّا قُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجَاءَ مَالُ الْبَحْرَيْنِ قَالَ أَبُو بَكْرٍ مَنْ كَانَتْ لَهُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِدَةٌ فَلْيَأْتِنِي. فَأَتَيْتُهُ فَقُلْتُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ كَانَ قَالَ لِي " لَوْ قَدْ جَاءَنَا مَالُ الْبَحْرَيْنِ لأَعْطَيْتُكَ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا ". فَقَالَ لِي احْثُهْ. فَحَثَوْتُ حَثْيَةً فَقَالَ لِي عُدَّهَا. فَعَدَدْتُهَا فَإِذَا هِيَ خَمْسُمِائَةٍ، فَأَعْطَانِي أَلْفًا وَخَمْسَمِائَةٍ. وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسٍ، أُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِمَالٍ مِنَ الْبَحْرَيْنِ فَقَالَ " انْثُرُوهُ فِي الْمَسْجِدِ " فَكَانَ أَكْثَرَ مَالٍ أُتِيَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ جَاءَهُ الْعَبَّاسُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَعْطِنِي إِنِّي فَادَيْتُ نَفْسِي وَفَادَيْتُ عَقِيلاً. قَالَ " خُذْ ". فَحَثَا فِي ثَوْبِهِ، ثُمَّ ذَهَبَ يُقِلُّهُ، فَلَمْ يَسْتَطِعْ. فَقَالَ أْمُرْ بَعْضَهُمْ يَرْفَعْهُ إِلَىَّ. قَالَ " لاَ ". قَالَ فَارْفَعْهُ أَنْتَ عَلَىَّ. قَالَ " لاَ ". فَنَثَرَ مِنْهُ، ثُمَّ ذَهَبَ يُقِلُّهُ فَلَمْ يَرْفَعْهُ. فَقَالَ أْمُرْ بَعْضَهُمْ يَرْفَعْهُ عَلَىَّ. قَالَ " لاَ ". قَالَ فَارْفَعْهُ أَنْتَ عَلَىَّ. قَالَ " لاَ ". فَنَثَرَ ثُمَّ احْتَمَلَهُ عَلَى كَاهِلِهِ ثُمَّ انْطَلَقَ، فَمَا زَالَ يُتْبِعُهُ بَصَرَهُ حَتَّى خَفِيَ عَلَيْنَا عَجَبًا مِنْ حِرْصِهِ، فَمَا قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَثَمَّ مِنْهَا دِرْهَمٌ.
হাদীস নং: ২৯৪২
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৬৬
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৬৫. বিনা অপরাধে জিম্মীকে যে হত্যা করে, তার পাপ
২৯৪২। কাইস ইবনে হাফস (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন জিম্মীকে হত্যা করে, সে জান্নাতের ঘ্রাণ পাবে না। আর জান্নাতের ঘ্রাণ চল্লিশ বছরের দুরত্ব থেকে পাওয়া যাবে।’
كتاب الجهاد والسير
باب إِثْمِ مَنْ قَتَلَ مُعَاهَدًا بِغَيْرِ جُرْمٍ
3166 - حَدَّثَنَا قَيْسُ بْنُ حَفْصٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَاحِدِ، حَدَّثَنَا الحَسَنُ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا مُجَاهِدٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ قَتَلَ مُعَاهَدًا لَمْ يَرِحْ رَائِحَةَ الجَنَّةِ، وَإِنَّ رِيحَهَا تُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ أَرْبَعِينَ عَامًا»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯৪৩
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৬৭
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৬৬. ইয়াহুদীদের আরব উপদ্বীপ থেকে বহিস্কার করা। উমর (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, যতদিন আল্লাহ তাআলা তোমাদের (ইয়াহুদীদের) এখানে রাখেন, ততদিন আমি তোমাদের এখানে রাখব
২৯৪৩। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমরা মসজিদে নববীতে বসা ছিলাম। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বের হলেন এবং বললেন, তোমরা ইয়াহুদীদের নিকট চল। আমরা চললাম এবং তাদের তাওরাত পাঠকেন্দ্রে পৌঁছলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের উদ্দেশ্যে বললেন, তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর, তাহলে নিরাপত্তা লাভ করবে আর জেনে রাখ, সমগ্র পৃথিবী আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূলের। আমি ইচ্ছা করেছি, আমি তোমাদের এ দেশ থেকে নির্বাসন করব। যদি তোমাদের কেউ তাদের মালের বিনিময়ে কিছু পায়, তবে সে যেন তা বিক্রি করে ফেলে। আর জেনে রাখ, সমগ্র পৃথিবী আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূলের।
كتاب الجهاد والسير
بَابُ إِخْرَاجِ اليَهُودِ مِنْ جَزِيرَةِ العَرَبِ وَقَالَ عُمَرُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أُقِرُّكُمْ مَا أَقَرَّكُمُ اللَّهُ بِهِ»
3167 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، قَالَ: حَدَّثَنِي 3280 سَعِيدٌ المَقْبُرِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ فِي المَسْجِدِ، خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «انْطَلِقُوا إِلَى يَهُودَ» ، فَخَرَجْنَا حَتَّى جِئْنَا بَيْتَ المِدْرَاسِ فَقَالَ: «أَسْلِمُوا تَسْلَمُوا، وَاعْلَمُوا أَنَّ الأَرْضَ لِلَّهِ وَرَسُولِهِ، وَإِنِّي أُرِيدُ أَنْ أُجْلِيَكُمْ مِنْ هَذِهِ الأَرْضِ، فَمَنْ يَجِدْ مِنْكُمْ بِمَالِهِ شَيْئًا فَلْيَبِعْهُ، وَإِلَّا فَاعْلَمُوا أَنَّ الأَرْضَ لِلَّهِ وَرَسُولِهِ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯৪৪
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৬৮
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৬৬. ইয়াহুদীদের আরব উপদ্বীপ থেকে বহিস্কার করা।
২৯৪৪। মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... সাঈদ ইবনে জুবাইর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)- কে বলতে শুনেছেনঃ বৃহস্পতিবার! তুমি জান কি বৃহস্পতিবার কেমন দিন? এ বলে তিনি এমনভাবে কাঁদলেন যে, তাঁর অশ্রুতে কংকর ভিজে গেল। (সাঈদ ইবনে যুবাইর (রাহঃ) বলেন) আমি বললাম, হে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)! বৃহস্পতিবার দিন কি হয়েছিল? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর রোগযন্ত্রণা বৃদ্ধি পেয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলছিলেন, আমার নিকট গর্দানের হাড় নিয়ে এস, আমি তোমাদের জন্য এমন একটি লিপি লিখে দিব এরপর তোমরা কখনো পখভ্রষ্ট হবে না। তখন উপস্থিত সাহাবীগণের বিতর্ক হল। অথচ নবী (ﷺ)- এর সামনে বিতর্ক করা শোভনীয় নয়।
সাহাবীগণ বললেন, নবী (ﷺ)- এর কি হয়েছে? তিনি কি অর্থহীন কথা বলছেন? আবার জিজ্ঞাসা করে দেখ। তখন তিনি বললেন, আমাকে ছেড়ে দাও। আমি যে অবস্থায় আছি, তা তোমরা আমাকে যার প্রতি ডাকছ তার চাইতে উত্তম। তারপর তিনি তাদের তিনটি বিষয়ে আদেশ দিলেন। (১) মুশরিকদের আরব উপদ্বীপ থেকে বের করে দিবে, (২) বহিরাগত প্রতিনিধিদের সেভাবে উপঢৌকন দিবে যেভাবে আমি তাদের দিতাম। (বর্ণনাকারী বলেন যে) তৃতীয়টি হয়ত তিনি বলেননি, নয়ত তিনি বলেছিলেন, আমি ভুলে গিয়েছি। সুফিয়ান (রাহঃ) বলেন, এই উক্তিটি বর্ণনাকারী সুলাইমান (রাহঃ)- এর।
সাহাবীগণ বললেন, নবী (ﷺ)- এর কি হয়েছে? তিনি কি অর্থহীন কথা বলছেন? আবার জিজ্ঞাসা করে দেখ। তখন তিনি বললেন, আমাকে ছেড়ে দাও। আমি যে অবস্থায় আছি, তা তোমরা আমাকে যার প্রতি ডাকছ তার চাইতে উত্তম। তারপর তিনি তাদের তিনটি বিষয়ে আদেশ দিলেন। (১) মুশরিকদের আরব উপদ্বীপ থেকে বের করে দিবে, (২) বহিরাগত প্রতিনিধিদের সেভাবে উপঢৌকন দিবে যেভাবে আমি তাদের দিতাম। (বর্ণনাকারী বলেন যে) তৃতীয়টি হয়ত তিনি বলেননি, নয়ত তিনি বলেছিলেন, আমি ভুলে গিয়েছি। সুফিয়ান (রাহঃ) বলেন, এই উক্তিটি বর্ণনাকারী সুলাইমান (রাহঃ)- এর।
كتاب الجهاد والسير
بَابُ إِخْرَاجِ اليَهُودِ مِنْ جَزِيرَةِ العَرَبِ
3168 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ أَبِي مُسْلِمٍ الأَحْوَلِ، سَمِعَ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ، سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، يَقُولُ: يَوْمُ الخَمِيسِ وَمَا يَوْمُ الخَمِيسِ، ثُمَّ بَكَى حَتَّى بَلَّ دَمْعُهُ الحَصَى، قُلْتُ يَا أَبَا عَبَّاسٍ: مَا يَوْمُ الخَمِيسِ؟ قَالَ: اشْتَدَّ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَعُهُ، فَقَالَ: «ائْتُونِي بِكَتِفٍ أَكْتُبْ لَكُمْ كِتَابًا لاَ تَضِلُّوا بَعْدَهُ أَبَدًا» ، فَتَنَازَعُوا، وَلاَ يَنْبَغِي عِنْدَ نَبِيٍّ تَنَازُعٌ، فَقَالُوا: مَا لَهُ أَهَجَرَ اسْتَفْهِمُوهُ؟ فَقَالَ: «ذَرُونِي، فَالَّذِي أَنَا فِيهِ خَيْرٌ مِمَّا تَدْعُونَنِي إِلَيْهِ» ، فَأَمَرَهُمْ بِثَلاَثٍ، قَالَ: «أَخْرِجُوا المُشْرِكِينَ مِنْ جَزِيرَةِ العَرَبِ، وَأَجِيزُوا الوَفْدَ بِنَحْوِ مَا كُنْتُ أُجِيزُهُمْ» وَالثَّالِثَةُ خَيْرٌ، إِمَّا أَنْ سَكَتَ عَنْهَا، وَإِمَّا أَنْ قَالَهَا فَنَسِيتُهَا، قَالَ سُفْيَانُ: هَذَا مِنْ قَوْلِ سُلَيْمَانَ
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯৪৫
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৬৯
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৬৭. মুসলিমদের সঙ্গে যদি মুশরিকরা বিশ্বাসঘাতকতা করে তবে তাদের কি তা ক্ষমা করা যায়?
২৯৪৫। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন খায়বার বিজিত হয়, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- কে একটি (ভুনা) বকরী হাদীয়া দেওয়া হয়; যাতে বিষ ছিল। নবী (ﷺ) আদেশ দিলেন যে, এখানে যত ইয়াহুদী আছে, সকলকে একত্রিত কর, তাদের সকলকে তাঁর সামনে একত্রিত করা হল। তখন তিনি বললেন, আমি তোমাদের একটি প্রশ্ন করব। তোমরা কি আমাকে তার সত্য উত্তর দিবে? তারা বলল, হ্যাঁ, সত্য উত্তর দিব, নবী (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোমাদের পিতা কে? তারা বলল, অমুক।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘তোমরা মিথ্যা বলেছ, বরং তোমাদের পিতা অমুক।’ তারা বলল, আপনিই সত্য বলেছেন।’ তখন তিনি বললেন, আমি যদি তোমাদের একটি প্রশ্ন করি, তোমরা কি তার সঠিক উত্তর দিবে? তারা বলল, হ্যাঁ, দিব, হে আবুল কাসিম! আর যদি আমরা মিথ্যা বলি, তবে আপনি আমাদের মিথ্যা ধরে ফেলবেন, যেমন আমাদের পিতা সম্পর্কে আমাদের মিথ্যা ধরে ফেলেছেন।’
তখন তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কারা দোযখবাসী?’ তারা বলল, আমরা তথায় অল্প কিছু দিন অবস্থান করব, তারপর আপনারা (মুসলিমরা) আমাদের পেছনে সেখানে থেকে যাবেন।’ নবী (ﷺ) বললেন, ‘দুর হও, তোমরাই তথায় থাকবে। আল্লাহর কসম। আমরা কখনো তাতে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত হব না।’ তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি যদি তোমাদের একটি প্রশ্ন করি, তোমরা কি তার সঠিক উত্তর দিবে? তারা বলল, হ্যাঁ, হে আবুল কাসিম!’ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কি এ বকরীটিতে বিষ মিশিয়েছ?’ তারা বলল, ‘হ্যাঁ। ’ তিনি বললেন, ‘কিসে তোমাদের এ কাজে উদ্বুদ্ধ করল?’ তারা বলল, আমরা চেয়েছি আপনি যদি মিথ্যাবাদী হন, তবে আমরা আপনার থেকে স্বস্তি লাভ করব আর আপনি যদি নবী হন তবে তা আপনার কোন ক্ষতি করবে না।’
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘তোমরা মিথ্যা বলেছ, বরং তোমাদের পিতা অমুক।’ তারা বলল, আপনিই সত্য বলেছেন।’ তখন তিনি বললেন, আমি যদি তোমাদের একটি প্রশ্ন করি, তোমরা কি তার সঠিক উত্তর দিবে? তারা বলল, হ্যাঁ, দিব, হে আবুল কাসিম! আর যদি আমরা মিথ্যা বলি, তবে আপনি আমাদের মিথ্যা ধরে ফেলবেন, যেমন আমাদের পিতা সম্পর্কে আমাদের মিথ্যা ধরে ফেলেছেন।’
তখন তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কারা দোযখবাসী?’ তারা বলল, আমরা তথায় অল্প কিছু দিন অবস্থান করব, তারপর আপনারা (মুসলিমরা) আমাদের পেছনে সেখানে থেকে যাবেন।’ নবী (ﷺ) বললেন, ‘দুর হও, তোমরাই তথায় থাকবে। আল্লাহর কসম। আমরা কখনো তাতে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত হব না।’ তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি যদি তোমাদের একটি প্রশ্ন করি, তোমরা কি তার সঠিক উত্তর দিবে? তারা বলল, হ্যাঁ, হে আবুল কাসিম!’ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কি এ বকরীটিতে বিষ মিশিয়েছ?’ তারা বলল, ‘হ্যাঁ। ’ তিনি বললেন, ‘কিসে তোমাদের এ কাজে উদ্বুদ্ধ করল?’ তারা বলল, আমরা চেয়েছি আপনি যদি মিথ্যাবাদী হন, তবে আমরা আপনার থেকে স্বস্তি লাভ করব আর আপনি যদি নবী হন তবে তা আপনার কোন ক্ষতি করবে না।’
كتاب الجهاد والسير
باب إِذَا غَدَرَ الْمُشْرِكُونَ بِالْمُسْلِمِينَ هَلْ يُعْفَى عَنْهُمْ
3169 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، قَالَ: حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ المَقْبُرِيُّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: لَمَّا فُتِحَتْ خَيْبَرُ أُهْدِيَتْ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَاةٌ فِيهَا سُمٌّ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اجْمَعُوا إِلَيَّ مَنْ كَانَ هَا هُنَا مِنْ يَهُودَ» فَجُمِعُوا لَهُ، فَقَالَ: «إِنِّي سَائِلُكُمْ عَنْ شَيْءٍ، فَهَلْ أَنْتُمْ صَادِقِيَّ عَنْهُ؟» ، فَقَالُوا: نَعَمْ، قَالَ لَهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَبُوكُمْ؟» ، قَالُوا: فُلاَنٌ، فَقَالَ: «كَذَبْتُمْ، بَلْ أَبُوكُمْ فُلاَنٌ» ، قَالُوا: صَدَقْتَ، قَالَ: «فَهَلْ أَنْتُمْ صَادِقِيَّ عَنْ شَيْءٍ إِنْ سَأَلْتُ عَنْهُ؟» ، فَقَالُوا: نَعَمْ يَا أَبَا القَاسِمِ، وَإِنْ كَذَبْنَا عَرَفْتَ كَذِبَنَا [ص:100] كَمَا عَرَفْتَهُ فِي أَبِينَا، فَقَالَ لَهُمْ: «مَنْ أَهْلُ النَّارِ؟» ، قَالُوا: نَكُونُ فِيهَا يَسِيرًا، ثُمَّ تَخْلُفُونَا فِيهَا، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اخْسَئُوا فِيهَا، وَاللَّهِ لاَ نَخْلُفُكُمْ فِيهَا أَبَدًا» ، ثُمَّ قَالَ: «هَلْ أَنْتُمْ صَادِقِيَّ عَنْ شَيْءٍ إِنْ سَأَلْتُكُمْ عَنْهُ؟» ، فَقَالُوا: نَعَمْ يَا أَبَا القَاسِمِ، قَالَ: «هَلْ جَعَلْتُمْ فِي هَذِهِ الشَّاةِ سُمًّا؟» ، قَالُوا: نَعَمْ، قَالَ: «مَا حَمَلَكُمْ عَلَى ذَلِكَ؟» ، قَالُوا: أَرَدْنَا إِنْ كُنْتَ كَاذِبًا نَسْتَرِيحُ، وَإِنْ كُنْتَ نَبِيًّا لَمْ يَضُرَّكَ
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯৪৬
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৭০
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৬৮. চুক্তি ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে ইমামের দু‘আ
২৯৪৬। আবু নু‘মান (রাহঃ) .... আসিম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস (রাযিঃ)- কে কুনুত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, রুকুর আগে। আমি বললাম, অমুক তো বলে যে, আপনি রুকুর পরে বলেছেন। তিনি বললেন, সে মিথ্যা বলেছে। তারপর তিনি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক মাস পর্যন্ত রুকুর পরে কুনূত পড়েন। তিনি বনু সুলাইম গোত্রসমূহের বিরুদ্ধে দু‘আ করেছিলেন। আনাস (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চল্লিশজন কিংবা সত্তরজন ক্বারী কয়েকজন মুশরিকের নিকট পাঠালেন। তখন বনু সুলাইমের লোকেরা তাদের আক্রমণ করে তাদের হত্যা করে। অথচ তাদের এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর মধ্যে সন্ধি ছিল। আনাস (রাযিঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- কে এ ক্বারীদের জন্য যতখানি ব্যথিত হতে দেখেছি আর কারো জন্য এতখানি ব্যথিত হতে দেখেনি।
كتاب الجهاد والسير
باب دُعَاءِ الإِمَامِ عَلَى مَنْ نَكَثَ عَهْدًا
3170 - حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا ثَابِتُ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ، قَالَ: سَأَلْتُ أَنَسًا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ القُنُوتِ، قَالَ: قَبْلَ الرُّكُوعِ، فَقُلْتُ: إِنَّ فُلاَنًا يَزْعُمُ أَنَّكَ قُلْتَ بَعْدَ الرُّكُوعِ؟ فَقَالَ: كَذَبَ، ثُمَّ حَدَّثَنَا، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَّهُ قَنَتَ شَهْرًا بَعْدَ الرُّكُوعِ، يَدْعُو عَلَى أَحْيَاءٍ مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ» ، قَالَ: «بَعَثَ أَرْبَعِينَ - أَوْ سَبْعِينَ يَشُكُّ فِيهِ - مِنَ القُرَّاءِ إِلَى أُنَاسٍ مِنَ المُشْرِكِينَ» ، فَعَرَضَ لَهُمْ هَؤُلاَءِ فَقَتَلُوهُمْ، وَكَانَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَهْدٌ، «فَمَا رَأَيْتُهُ وَجَدَ عَلَى أَحَدٍ مَا وَجَدَ عَلَيْهِمْ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯৪৭
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৭১
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৬৯. মহিলাদের পক্ষ থেকে কাউকে নিরাপত্তা ও আশ্রয় প্রদান
২৯৪৭। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) .... উম্মে হানী বিনতে আবু তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের বছর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর কাছে গেলাম। তখন তাঁকে এ অবস্থায় পেলাম যে, তিনি গোসল করছিলেন এবং তাঁর কন্যা ফাতিমা (রাযিঃ) তাঁকে পর্দা করছিলেন। আমি তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বললেন, ইনি কে? আমি বললাম, আমি উম্মে হানী বিনতে আবু তালিব। তখন তিনি বললেন, মারহাবা হে উম্মে হানী! যখন তিনি গোসল থেকে ফারেগ হলেন, একখানি কাপড় শরীরে জড়িয়ে আট রাক'আত নামায দাঁড়িয়ে আদায় করলেন। তারপর আমি বললাম, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার সহোদর ভাই আলী (রাযিঃ) হুবাইরার অমুক পুত্রকে হত্যা করার সংকল্পে করছে, আর আমি তাকে আশ্রয় দিয়েছি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে উম্মে হানী! তুমি যাকে আশ্রয় দিয়েছ, আমিও তাকে আশ্রয় দিয়েছি। উম্মে হানী (রাযিঃ) বলেন, তা চাশতের সময় ছিল।
كتاب الجهاد والسير
باب أَمَانِ النِّسَاءِ وَجِوَارِهِنَّ
3171 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، أَنَّ أَبَا مُرَّةَ، مَوْلَى أُمِّ هَانِئٍ بِنْتِ أَبِي طَالِبٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ أُمَّ هَانِئٍ بِنْتَ أَبِي طَالِبٍ، تَقُولُ: ذَهَبْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الفَتْحِ، فَوَجَدْتُهُ يَغْتَسِلُ وَفَاطِمَةُ ابْنَتُهُ تَسْتُرُهُ، فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ، فَقَالَ: «مَنْ هَذِهِ؟» ، فَقُلْتُ: أَنَا أُمُّ هَانِئٍ بِنْتُ أَبِي طَالِبٍ، فَقَالَ: «مَرْحَبًا بِأُمِّ هَانِئٍ» ، فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ غُسْلِهِ، قَامَ فَصَلَّى ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ مُلْتَحِفًا فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ زَعَمَ ابْنُ أُمِّي عَلِيٌّ أَنَّهُ قَاتِلٌ رَجُلًا قَدْ أَجَرْتُهُ فُلاَنُ بْنُ هُبَيْرَةَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قَدْ أَجَرْنَا مَنْ أَجَرْتِ يَا أُمَّ هَانِئٍ» ، قَالَتْ أُمُّ هَانِئٍ: وَذَلِكَ ضُحًى
হাদীস নং: ২৯৪৮
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৭২
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৭০. মুসলিমদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও আশ্রয় প্রদান একই পর্যায়ের। কোন সাধারণ মুসলিম নিরাপত্তা দিলে সকলকে তা রক্ষা করতে হবে
২৯৪৮। মুহাম্মাদ ইবনে সালাম (রাহঃ) .... ইবরাহীম তাইমী (রাহঃ)-এর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী (রাযিঃ) আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন এবং বললেন, আমাদের কাছে আল্লাহর কিতাব ও এই সাহীফায় যা আছে, তা ছাড়া অন্য কোন কিতাব নেই, যা আমরা পাঠ করে থাকি। তিনি বলেন, এ সহীফায় রয়েছে, যখমসমূহের দণ্ড বিধান, উটের বয়সের বিবরণ, এবং আইর পর্বত থেকে সওর পর্যন্ত মদীনা হারাম হওয়ার বিধান। যে ব্যক্তি এর মধ্যে (সুন্নত বিরোধী) বিদআত উদ্ভাবন করে কিংবা বিদআতীকে আশ্রয় দেয়, তার উপর আল্লাহ, ফিরিশতা ও সকল মানুষের লানত। আল্লাহ তাঁর কোন নফল ও ফরয ইবাদত কবুল করেন না। আর যে নিজ মাওলা (প্রভু) ব্যতীত অন্যকে (প্রভু) মাওলা রূপে গ্রহণ করে, তার উপর অনুরূপ লানত। আর নিরাপত্তা দানে সর্বস্তরের মুসলিমগণ একই স্তরের এবং যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের চুক্তি ভঙ্গ করে তার উপরও অনুরূপ লানত।
كتاب الجهاد والسير
باب ذِمَّةُ الْمُسْلِمِينَ وَجِوَارُهُمْ وَاحِدَةٌ يَسْعَى بِهَا أَدْنَاهُمْ
3172 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: خَطَبَنَا عَلِيٌّ فَقَالَ: مَا عِنْدَنَا كِتَابٌ نَقْرَؤُهُ إِلَّا كِتَابَ اللَّهِ تَعَالَى، وَمَا فِي هَذِهِ الصَّحِيفَةِ، فَقَالَ: فِيهَا الجِرَاحَاتُ وَأَسْنَانُ الإِبِلِ: «وَالمَدِينَةُ حَرَمٌ مَا بَيْنَ عَيْرٍ إِلَى كَذَا، فَمَنْ أَحْدَثَ فِيهَا حَدَثًا أَوْ آوَى فِيهَا مُحْدِثًا، فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لاَ يُقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ وَلاَ عَدْلٌ، وَمَنْ تَوَلَّى غَيْرَ مَوَالِيهِ فَعَلَيْهِ مِثْلُ ذَلِكَ، وَذِمَّةُ المُسْلِمِينَ وَاحِدَةٌ، فَمَنْ أَخْفَرَ مُسْلِمًا فَعَلَيْهِ مِثْلُ ذَلِكَ»
তাহকীক:
হাদীস নং: ২৯৪৯
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৭৩
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৭১. যদি কাফিররা যুদ্ধকালে ভালরূপে “আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি” বলতে না পারে এবং “আমরা দ্বীন পরিবর্তন করেছি” বলে। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন, খালিদ ইবনে ওয়ালীদ (রাযিঃ) সে সব লোকদের কতল করলেন। (এ সংবাদ পৌছার পর) নবী (ﷺ) বললেন, আয় আল্লাহ! খালিদের একাজে আমি সম্পর্কহীন প্রকাশ করছি। উমর (রাযিঃ) বলেন, কেউ যদি বলে مَترَسْ (মাতারস) ‘ভয় করো না, তবে সে তাকে নিরাপত্তা দান করল। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সকল ভাষা জানেন। উমর (রাযিঃ) (হারমুযান পারসীকে) বললেন, কথা বল, কোন অসুবিধা নেই। (এতে নিরাপত্তা দান করা হল)
২৯৪৯। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... সাহল ইবনে আবু হাসমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে সাহল ও মুহায়্যিসা ইবনে মাসউদ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) খায়বারের দিকে গেলেন। তখন খায়বারের ইয়াহুদীদের সাথে সন্ধি ছিল। পরে তারা উভয়ে পৃথক হয়ে গেলেন। তারপর মুহায়্যিসা আব্দুল্লাহ ইবনে সাহলের কাছে এসে দেখেন যে, তিনি মৃত্যুর যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। (তাঁর মৃত্যুর পর) তখন মুহায়্যিসা তাকে দাফন করলেন। তারপর মদীনায় এলেন। আব্দুর রহমান ইবনে সাহল ও মাসউদের দুই পুত্র মুহায়্যিসা ও হুওয়ায়্যিসাহ (রাযিঃ) নবী (ﷺ)- এর কাছে গেলেন। আব্দুর রহমান (রাযিঃ) কথা বলতে এগিয়ে এলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, বড়কে আগে বলতে দাও, বড়কে আগে বলতে দাও। আর আব্দুর রহমান ইবনে সাহল (রাযিঃ) ছিলেন সর্বকনিষ্ট। এতে তিনি চুপ রইলেন এবং মুহায়্যিসা ও হুওয়ায়্যিসা উভয়ে কথা বললেন।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা কি শপথ করে বলবে এবং তোমাদের হত্যাকারীর অথবা বলেছেন, তোমাদের সঙ্গীর রক্ত পানের অধিকারী হবে? তারা বললেন, আমরা কি রূপে শপথ করব? আমরা তো উপস্থিত ছিলাম না এবং স্বচক্ষে দেখিনি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তবে ইয়াহুদীরা পঞ্চাশটি শপথের মাধ্যমে তোমাদের থেকে অব্যাহতি লাভ করবে। তারা বললেন, তারা তো কাফির সম্প্রদায়। আমরা কি রূপে তাদের শপথ গ্রহণ করতে পারি? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের পক্ষ থেকে আব্দুর রহমানকে তার ভাইয়ের দীয়াত পরিশোধ করলেন।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা কি শপথ করে বলবে এবং তোমাদের হত্যাকারীর অথবা বলেছেন, তোমাদের সঙ্গীর রক্ত পানের অধিকারী হবে? তারা বললেন, আমরা কি রূপে শপথ করব? আমরা তো উপস্থিত ছিলাম না এবং স্বচক্ষে দেখিনি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তবে ইয়াহুদীরা পঞ্চাশটি শপথের মাধ্যমে তোমাদের থেকে অব্যাহতি লাভ করবে। তারা বললেন, তারা তো কাফির সম্প্রদায়। আমরা কি রূপে তাদের শপথ গ্রহণ করতে পারি? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের পক্ষ থেকে আব্দুর রহমানকে তার ভাইয়ের দীয়াত পরিশোধ করলেন।
كتاب الجهاد والسير
بَابُ إِذَا قَالُوا صَبَأْنَا وَلَمْ يُحْسِنُوا أَسْلَمْنَا وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ: فَجَعَلَ خَالِدٌ يَقْتُلُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَبْرَأُ إِلَيْكَ مِمَّا صَنَعَ خَالِدٌ» وَقَالَ عُمَرُ: إِذَا قَالَ مَتْرَسْ فَقَدْ آمَنَهُ، إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ الأَلْسِنَةَ كُلَّهَا، وَقَالَ: تَكَلَّمْ لاَ بَأْسَ
بَابُ المُوَادَعَةِ وَالمُصَالَحَةِ مَعَ المُشْرِكِينَ بِالْمَالِ وَغَيْرِهِ، وَإِثْمِ مَنْ لَمْ يَفِ بِالعَهْدِ وَقَوْلِهِ: {وَإِنْ جَنَحُوا لِلسَّلْمِ فَاجْنَحْ لَهَا وَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ العَلِيمُ} [الأنفال: 61] الآيَةَ
بَابُ المُوَادَعَةِ وَالمُصَالَحَةِ مَعَ المُشْرِكِينَ بِالْمَالِ وَغَيْرِهِ، وَإِثْمِ مَنْ لَمْ يَفِ بِالعَهْدِ وَقَوْلِهِ: {وَإِنْ جَنَحُوا لِلسَّلْمِ فَاجْنَحْ لَهَا وَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ العَلِيمُ} [الأنفال: 61] الآيَةَ
3173 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا بِشْرٌ هُوَ ابْنُ المُفَضَّلِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، قَالَ: انْطَلَقَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَهْلٍ، وَمُحَيِّصَةُ بْنُ مَسْعُودِ بْنِ زَيْدٍ، إِلَى خَيْبَرَ وَهِيَ يَوْمَئِذٍ صُلْحٌ، فَتَفَرَّقَا فَأَتَى مُحَيِّصَةُ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَهْلٍ وَهُوَ يَتَشَمَّطُ فِي دَمِهِ قَتِيلًا، فَدَفَنَهُ ثُمَّ قَدِمَ المَدِينَةَ، فَانْطَلَقَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ، وَمُحَيِّصَةُ، وَحُوَيِّصَةُ ابْنَا مَسْعُودٍ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَذَهَبَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ يَتَكَلَّمُ، فَقَالَ: «كَبِّرْ كَبِّرْ» وَهُوَ أَحْدَثُ القَوْمِ، فَسَكَتَ فَتَكَلَّمَا، فَقَالَ: «تَحْلِفُونَ وَتَسْتَحِقُّونَ قَاتِلَكُمْ، أَوْ صَاحِبَكُمْ» ، قَالُوا: وَكَيْفَ نَحْلِفُ وَلَمْ نَشْهَدْ وَلَمْ نَرَ؟ قَالَ: «فَتُبْرِيكُمْ يَهُودُ بِخَمْسِينَ» ، فَقَالُوا: كَيْفَ نَأْخُذُ أَيْمَانَ قَوْمٍ كُفَّارٍ، فَعَقَلَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ عِنْدِهِ
হাদীস নং: ২৯৫০
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৭৪
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৭৩. অঙ্গীকার পূর্ণ করার ফযীলত
২৯৫০। ইয়াহয়া ইবনে বুকাইর (রাহঃ) .... আবু সুফিয়ান ইবনে হারব ইবনে উমাইয়্যা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, (রোমান সম্রাট) হিরাকল (হিরাক্লিয়াস) তাঁকে ডেকে পাঠালেন, কুরাইশদের সেই কাফেলাসহ যারা সিরিয়ায় বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন। তা সে সময় যখন কুরাইশ কাফিরদের পরীক্ষায় আবু সুফিয়ানের সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সন্ধি চুক্তি করেছিলেন।
كتاب الجهاد والسير
باب فَضْلِ الْوَفَاءِ بِالْعَهْدِ
3174 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، أَخْبَرَهُ: أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا سُفْيَانَ بْنَ حَرْبِ بْنِ أُمَيَّةَ أَخْبَرَهُ: «أَنَّ هِرَقْلَ أَرْسَلَ إِلَيْهِ فِي رَكْبٍ مِنْ قُرَيْشٍ كَانُوا تِجَارًا بِالشَّأْمِ، فِي المُدَّةِ الَّتِي مَادَّ فِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَبَا سُفْيَانَ فِي كُفَّارِ قُرَيْشٍ»
তাহকীক: