আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

الجامع الصحيح للبخاري

৪৬- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩৭৩ টি

হাদীস নং: ২৯৫১
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৭৫
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৭৪. যদি কোন যিম্মী যাদু করে, তবে কি তাকে ক্ষমা করা হবে? ইবনে ওয়াহাব (রাহঃ) .... ইবনে শিহাব (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল,কোন যিম্মী যদি যাদু করে, তবে কি তাকে হত্যা করা হবে? তিনি বলেন, আমার নিকট এ হাদীস পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- কে যাদু করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি যাদুকরকে হত্যা করেন নি। সে আহলে কিতাব ছিল।
২৯৫১। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ)- কে যাদু করা হয়েছিল। ফলে তাঁর ধারণা হতো যে, তিনি এ কাজ করেছেন অথচ তিনি এ কাজ করেননি।
كتاب الجهاد والسير
باب هَلْ يُعْفَى عَنِ الذِّمِّيِّ إِذَا سَحَرَ وَقَالَ ابْنُ وَهْبٍ أَخْبَرَنِي يُونُسُ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ سُئِلَ أَعَلَى مَنْ سَحَرَ مِنْ أَهْلِ الْعَهْدِ قَتْلٌ قَالَ بَلَغَنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ صُنِعَ لَهُ ذَلِكَ، فَلَمْ يَقْتُلْ مَنْ صَنَعَهُ، وَكَانَ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ
3175 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ المُثَنَّى، حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ عَائِشَةَ: «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُحِرَ، حَتَّى كَانَ يُخَيَّلُ إِلَيْهِ أَنَّهُ صَنَعَ شَيْئًا وَلَمْ يَصْنَعْهُ»
হাদীস নং: ২৯৫২
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৭৬
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৭৫. বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে সতর্কবাণী। আল্লাহ তাআলার বাণীঃ যদি তারা আপনাকে প্রতারিত করতে চায়, তবে আপনার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি আপনাকে স্বীয় সাহায্য ও মুসলিমদের দ্বারা শক্তিশালী করেছেন .... (আয়াতের শেষ পর্যন্ত) (৮ঃ ৬২)
২৯৫২। হুমাইদী (রাহঃ) .... আউফ ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি তাবুক যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর নিকট এলাম। তিনি তখন একটি চর্ম নির্মিত তাবুতে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, কিয়ামতের পূর্বের ছয়টি আলামত গণনা করে রাখো। আমার মৃত্যু, তারপর বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়, তারপরও তোমাদের মাঝে ঘটবে মহামারী, বকরীর পালের মহামারীর মত, সম্পদের প্রাচুর্য, এমনকি এক ব্যক্তিকে একশ’ দীনার দেওয়া সত্ত্বেও সে অসন্তুষ্ট থাকবে। তারপর এমন এক ফিতনা আসবে যা আরবের প্রতি ঘরে প্রবেশ করবে। তারপর যুদ্ধ বিরতির চুক্তি-যা তোমাদের ও রোমকদের (খৃষ্টানদের) মধ্যে সম্পাদিত হবে। এরপর তারা বিশ্বাসঘাতকতা করবে এবং আশিটি পতাকা উত্তোলন করে তোমাদের মোকাবিলায় আসবে; প্রত্যেক পতাকা তলে বার হাজার সৈন্য থাকবে।
كتاب الجهاد والسير
بَابُ مَا يُحْذَرُ مِنَ الْغَدْرِ وَقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَإِنْ يُرِيدُوا أَنْ يَخْدَعُوكَ فَإِنَّ حَسْبَكَ اللَّهُ هُوَ الَّذِي أَيَّدَكَ بِنَصْرِهِ وَبِالْمُؤْمِنِينَ وَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ} الآيَةَ
3176 - حَدَّثَنَا الحُمَيْدِيُّ، حَدَّثَنَا الوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ العَلاَءِ بْنِ زَبْرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ بُسْرَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا إِدْرِيسَ، قَالَ: سَمِعْتُ عَوْفَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ وَهُوَ فِي قُبَّةٍ مِنْ أَدَمٍ، فَقَالَ: " [ص:102] اعْدُدْ سِتًّا بَيْنَ يَدَيِ السَّاعَةِ: مَوْتِي، ثُمَّ فَتْحُ بَيْتِ المَقْدِسِ، ثُمَّ مُوْتَانٌ يَأْخُذُ فِيكُمْ كَقُعَاصِ الغَنَمِ، ثُمَّ اسْتِفَاضَةُ المَالِ حَتَّى يُعْطَى الرَّجُلُ مِائَةَ دِينَارٍ فَيَظَلُّ سَاخِطًا، ثُمَّ فِتْنَةٌ لاَ يَبْقَى بَيْتٌ مِنَ العَرَبِ إِلَّا دَخَلَتْهُ، ثُمَّ هُدْنَةٌ تَكُونُ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ بَنِي الأَصْفَرِ، فَيَغْدِرُونَ فَيَأْتُونَكُمْ تَحْتَ ثَمَانِينَ غَايَةً، تَحْتَ كُلِّ غَايَةٍ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا "
হাদীস নং: ২৯৫৩
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৭৭
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৭৬. চুক্তিবদ্ধ সম্প্রদায়ের চুক্তি কিভাবে বাতিল করা হবে? আল্লাহ তাআলার বাণীঃ যদি আপনি কোন সম্প্রদায়ের বিশ্বাস ভঙ্গের আশঙ্কা করেন, তবে আপনার চুক্তিও যথাযথ বাতিল করবেন। (৮ঃ ৫৮)
২৯৫৩। আবুল ইয়ামান (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু বকর (রাযিঃ) আমাকে সে সকল লোকের সঙ্গে পাঠান যারা মিনায় কুরবানীর দিন এ ঘোষণা দিবেনঃ এ বছরের পর কোন মুশরিক হজ্জ করতে পারবে না আর বায়তুল্লাহ শরীফে কোন উলঙ্গ ব্যক্তি তাওয়াফ করতে পারবে না আর কুরবানীর দিনই হল হজ্জে আকবারের দিন। একে আকবার এ জন্য বলা হয় যে, লোকেরা (উমরাহকে) হজ্জে আসগার (ছোট) বলেন। আবু বকর (রাযিঃ) সে বছর মুশরিকদের চুক্তি রহিত করে দেন। কাজেই হজ্জাতুল বিদার বছর যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হজ্জ করেন, তখন কোন মুশরিক হজ্জ করেনি।
كتاب الجهاد والسير
بَابُ كَيْفَ يُنْبَذُ إِلَى أَهْلِ الْعَهْدِ وَقَوْلُهُ: {وَإِمَّا تَخَافَنَّ مِنْ قَوْمٍ خِيَانَةً فَانْبِذْ إِلَيْهِمْ عَلَى سَوَاءٍ} الآيَةَ
3177 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ: بَعَثَنِي أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، فِيمَنْ يُؤَذِّنُ يَوْمَ النَّحْرِ بِمِنًى: «لاَ يَحُجُّ بَعْدَ العَامِ مُشْرِكٌ، وَلاَ يَطُوفُ بِالْبَيْتِ عُرْيَانٌ، وَيَوْمُ الحَجِّ الأَكْبَرِ يَوْمُ النَّحْرِ» ، وَإِنَّمَا قِيلَ الأَكْبَرُ مِنْ أَجْلِ قَوْلِ النَّاسِ: الحَجُّ الأَصْغَرُ، فَنَبَذَ أَبُو بَكْرٍ إِلَى النَّاسِ فِي ذَلِكَ العَامِ، فَلَمْ يَحُجَّ عَامَ حَجَّةِ الوَدَاعِ الَّذِي حَجَّ فِيهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُشْرِكٌ
হাদীস নং: ২৯৫৪
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৭৮
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৭৭. যারা অঙ্গীকার করে তা ভঙ্গ করে তাদের গুনাহ এবং আল্লাহ তাআলার বাণীঃ আপনি যাদের সঙ্গে অঙ্গীকার করেছেন, তারপর তারা প্রতিবার তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করে .... (শেষ পর্যন্ত) (সূরা আনফালঃ ৫৬)
২৯৫৪। কুতাইবা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, চারটি স্বভাব যার মধ্যে পাওয়া যাবে, সে খালিস মুনাফিক গণ্য হবে। যে ব্যক্তি কথা বলার সময় মিথ্যা বলে, আর যখন অঙ্গীকার করে ভঙ্গ করে, প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করে, যখন ঝগড়া করে গালমন্দ করে। যার মধ্যে এগুলোর কোন একটি স্বভাব পাওয়া যাবে, তার মধ্যে নিফাকের একটি স্বভাব পাওয়া গেল, যে পর্যন্ত না সে তা পরিত্যাগ করে।
كتاب الجهاد والسير
بَابُ إِثْمِ مَنْ عَاهَدَ ثُمَّ غَدَرَ وَقَوْلِهِ: {الَّذِينَ عَاهَدْتَ مِنْهُمْ ثُمَّ يَنْقُضُونَ عَهْدَهُمْ فِي كُلِّ مَرَّةٍ وَهُمْ لاَ يَتَّقُونَ
3178 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أَرْبَعُ خِلاَلٍ مَنْ كُنَّ فِيهِ كَانَ مُنَافِقًا خَالِصًا: مَنْ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ، وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ، وَمَنْ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنْهُنَّ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنَ النِّفَاقِ حَتَّى يَدَعَهَا "
হাদীস নং: ২৯৫৫
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৭৯ - ৩১৮০
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৭৭. যারা অঙ্গীকার করে তা ভঙ্গ করে তাদের গুনাহ
২৯৫৫। মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর (রাহঃ) .... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে কুরআন এবং এ কাগজে যা লিখা আছে তা ছাড়া কোন কিছু লিপিবদ্ধ করিনি। (উক্ত লিপিতে রয়েছে) নবী (ﷺ) বলেছেন, আয়ির পর্বত থেকে এ পর্যন্ত মদীনার হারাম এলাকা। যে কেউ দ্বীনের ব্যাপারে বিদআত উদ্ভাবন করে কিংবা কোন বিদআতীকে আশ্রয় দিবে তার উপর আল্লাহ তা‘আলা ফিরিশতা ও সকল মানুষের লা‘নত। তার কোন ফরয কিংবা নফল ইবাদত কবুল হবে না। আর সকল মুসলমানের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা একই পর্যায়ের। সাধারণ মুসলিম নিরাপত্তা দিলে সকলকে তা রক্ষা করতে হবে। যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দেওয়া নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে তার উপর আল্লাহ তাআলার লা‘নত এবং ফিরিশতাগণ ও সকল মানুষের। তার কোন নফল কিংবা ফরয ইবাদত কবুল হবে না। আর যে স্বীয় মনীবের অনুমতি ব্যতীত অন্যদের সাথে বন্ধুত্বের চুক্তি করে, তার উপর আল্লাহ তা‘আলার লা‘নত এবং ফিরিশতাগণ ও সকল মানুষের। তার কোন নফল কিংবা ফরয ইবাদত কবুল হবে না।
আবু মুসা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, অমুসলিমদের কাছ থেকে (জিযিয়া স্বরূপ) একটি দীনার বা দিরহামও তোমরা পাবে না, তখন তোমাদের কি অবস্থা হবে? তাকে বলা হল, হে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) আপনি কিভাবে মনে করেন যে, এমন অবস্থা দেখা দিবে, তিনি বললেন, হ্যাঁ, কসম সে মহান সত্তার যাঁর হাতে আবু হুরায়রার প্রাণ, যিনি সত্যবাদী ও সত্যবাদী বলে স্বীকৃত (অর্থাৎ মুহাম্মাদ ﷺ)- এর উক্তি থেকে আমি বলছি। লোকেরা বলল, কি কারণে এমন হবে? তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল (ﷺ)- এর প্রদত্ত নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করা হবে। ফলে আল্লাহ তাআলা জিম্মীদের অন্তরকে কঠোর করে দিবেন; তারা তাদের হাতে সম্পদ দিবে না।
كتاب الجهاد والسير
بَابُ إِثْمِ مَنْ عَاهَدَ ثُمَّ غَدَرَ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيٍّ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ مَا كَتَبْنَا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ الْقُرْآنَ، وَمَا فِي هَذِهِ الصَّحِيفَةِ، قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " الْمَدِينَةُ حَرَامٌ مَا بَيْنَ عَائِرٍ إِلَى كَذَا، فَمَنْ أَحْدَثَ حَدَثًا، أَوْ آوَى مُحْدِثًا، فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لاَ يُقْبَلُ مِنْهُ عَدْلٌ وَلاَ صَرْفٌ، وَذِمَّةُ الْمُسْلِمِينَ وَاحِدَةٌ يَسْعَى بِهَا أَدْنَاهُمْ. فَمَنْ أَخْفَرَ مُسْلِمًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لاَ يُقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ وَلاَ عَدْلٌ، وَمَنْ وَالَى قَوْمًا بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهِ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لاَ يُقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ وَلاَ عَدْلٌ ".
قَالَ أَبُو مُوسَى حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا لَمْ تَجْتَبُوا دِينَارًا وَلاَ دِرْهَمًا فَقِيلَ لَهُ وَكَيْفَ تَرَى ذَلِكَ كَائِنًا يَا أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ إِيْ وَالَّذِي نَفْسُ أَبِي هُرَيْرَةَ بِيَدِهِ عَنْ قَوْلِ الصَّادِقِ الْمَصْدُوقِ. قَالُوا عَمَّ ذَاكَ قَالَ تُنْتَهَكُ ذِمَّةُ اللَّهِ وَذِمَّةُ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم، فَيَشُدُّ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ قُلُوبَ أَهْلِ الذِّمَّةِ، فَيَمْنَعُونَ مَا فِي أَيْدِيهِمْ.
হাদীস নং: ২৯৫৬
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৮১
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৭৮. শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ
২৯৫৬। আবদান (রাহঃ) .... আ‘মাশ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু ওয়াইল (রাযিঃ)- কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি সিফ্ফী‌নের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি সাহল ইবনে হুনাইফ (রাযিঃ)- কে বলতে শুনেছি, তোমরা নিজ মতামতকে নির্ভুল মনে করো না। আমি নিজেকে আবু জান্দালের দিন (হুদায়বিয়ার দিন) দেখেছি। আমি যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর আদেশ প্রত্যাখান করতে পারতাম, তবে তা নিশ্চয়ই প্রত্যাখান করতাম। বস্তুত আমরা যখনই কোন ভয়াবহ অবস্থায় আমাদের কাঁধে তলোয়ার তুলে নিয়েছি, তখন তা আমাদের জন্য সহজ করে দিয়েছে এমনভাবে যা আমরা উপলব্ধি করেছি। কিন্তু বর্তমান অবস্থা তার ব্যতিক্রম।
كتاب الجهاد والسير
(بَابٌ (خال عن الترجمة
3181 - حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، أَخْبَرَنَا أَبُو حَمْزَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ الأَعْمَشَ، قَالَ: سَأَلْتُ أَبَا وَائِلٍ - شَهِدْتَ صِفِّينَ؟ قَالَ: نَعَمْ - فَسَمِعْتُ سَهْلَ بْنَ حُنَيْفٍ، يَقُولُ: «اتَّهِمُوا رَأْيَكُمْ، رَأَيْتُنِي يَوْمَ أَبِي جَنْدَلٍ، وَلَوْ أَسْتَطِيعُ أَنْ أَرُدَّ أَمْرَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَرَدَدْتُهُ، وَمَا وَضَعْنَا أَسْيَافَنَا عَلَى عَوَاتِقِنَا لِأَمْرٍ يُفْظِعُنَا، إِلَّا أَسْهَلْنَ بِنَا إِلَى أَمْرٍ نَعْرِفُهُ غَيْرِ أَمْرِنَا هَذَا»
হাদীস নং: ২৯৫৭
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৮২
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৭৮. শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ
২৯৫৭। আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... আবু ওয়ায়েল (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমরা সিফফীন যুদ্ধে শরীক ছিলাম। সে সময় সাহল ইবনে হুনাইফ (রাযিঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে লোক সকল! তোমরা নিজ মতামতকে নির্ভুল মনে করো না। আমরা হুদায়বিয়ার দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর সঙ্গে ছিলাম। যদি আমরা যুদ্ধ করা যথোচিত মনে করতাম, তবে আমরা যুদ্ধ করতাম। পরে উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা কি হকের উপর নই এবং তারা (মুশরিকরা) বাতিলের উপর? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ। তারপর তিনি বললেন, আমাদের নিহত ব্যক্তিগণ কি জান্নাতী নন এবং তাদের নিহত ব্যক্তিরা কি জাহান্নামী নয়? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ, আমাদের নিহতগণ অবশ্যই জান্নাতী।
উমর (রাযিঃ) বললেন, তবে কি কারণে আমরা আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে হীনতা স্বীকার করব? আমরা কি ফিরে যাব? অথচ আল্লাহ তাআলা আমাদের ও তাদের মধ্যে কোন ফয়সালা করেননি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে ইবনে খাত্তাব! আমি নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুল, আল্লাহ আমাকে কখনো হেয় করবেন না। তারপর উমর (রাযিঃ) আবু বকর (রাযিঃ)- এর নিকট গেলেন এবং নবী (ﷺ)- এর কাছে যা বলেছিলেন, তা তার নিকট বললেন। তখন আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, তিনি আল্লাহর রাসুল, আল্লাহ তাআলা কখনও তাকে হেয় করবেন না। তারপর সূরা ফাতহ নাযিল হয়। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা শেষ পর্যন্ত উমর (রাযিঃ)- কে পাঠ করে শোনান। উমর (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এটা কি বিজয়? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ।
كتاب الجهاد والسير
(بَابٌ (خال عن الترجمة
3182 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ العَزِيزِ، عَنْ أَبِيهِ، حَدَّثَنَا حَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو وَائِلٍ، قَالَ: كُنَّا بِصِفِّينَ، فَقَامَ سَهْلُ بْنُ حُنَيْفٍ، فَقَالَ: أَيُّهَا النَّاسُ اتَّهِمُوا أَنْفُسَكُمْ، فَإِنَّا كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الحُدَيْبِيَةِ، وَلَوْ نَرَى قِتَالًا لَقَاتَلْنَا، فَجَاءَ عُمَرُ بْنُ الخَطَّابِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَلَسْنَا عَلَى الحَقِّ وَهُمْ عَلَى البَاطِلِ؟ فَقَالَ: «بَلَى» . فَقَالَ: أَلَيْسَ قَتْلاَنَا فِي الجَنَّةِ وَقَتْلاَهُمْ فِي النَّارِ؟ قَالَ: «بَلَى» ، قَالَ: فَعَلاَمَ نُعْطِي الدَّنِيَّةَ فِي دِينِنَا، أَنَرْجِعُ وَلَمَّا يَحْكُمِ اللَّهُ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمْ؟ فَقَالَ: «يَا ابْنَ الخَطَّابِ، إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ، وَلَنْ يُضَيِّعَنِي اللَّهُ أَبَدًا» ، فَانْطَلَقَ عُمَرُ إِلَى أَبِي بَكْرٍ فَقَالَ لَهُ مِثْلَ مَا قَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: إِنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ، وَلَنْ يُضَيِّعَهُ اللَّهُ أَبَدًا، فَنَزَلَتْ سُورَةُ الفَتْحِ فَقَرَأَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى عُمَرَ إِلَى آخِرِهَا، فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَوَفَتْحٌ هُوَ؟ قَالَ: «نَعَمْ»
হাদীস নং: ২৯৫৮
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৮৩
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৭৮. শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ
২৯৫৮। কুতাইবা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... আসমা বিনতে আবু বকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার মা যিনি মুশরিক ছিলেন, তাঁর পিতার সাথে আমার নিকট এলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর সঙ্গে কুরাইশরা চুক্তি করেছিলেন তখন আসমা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- কে এ বলে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মা আমার নিকট এসেছেন। তিনি ইসলামের প্রতি আগ্রহী নন। আমি কি তাঁর সঙ্গে সদ্ব্যবহার করব?’ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘হ্যাঁ, তাঁর সঙ্গে সদাচরণ কর।’
كتاب الجهاد والسير
(بَابٌ (خال عن الترجمة
3183 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَتْ: قَدِمَتْ عَلَيَّ أُمِّي وَهِيَ مُشْرِكَةٌ فِي عَهْدِ قُرَيْشٍ، إِذْ عَاهَدُوا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمُدَّتِهِمْ مَعَ أَبِيهَا، فَاسْتَفْتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّي قَدِمَتْ عَلَيَّ وَهِيَ رَاغِبَةٌ أَفَأَصِلُهَا؟ قَالَ: «نَعَمْ صِلِيهَا»
হাদীস নং: ২৯৫৯
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৮৪
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৭৯. তিন দিন কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সন্ধি করা
২৯৫৯। আহমদ ইবনে উসমান ইবনে হাকীম (রাহঃ) .... বারা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন উমরা করার ইচ্ছা করেন, তখন তিনি মক্কায় আসার অনুমতি চেয়ে মক্কার কাফিরদের নিকট দূত পাঠান। তারা শর্তারোপ করে যে, তিনি সেখানে তিন রাতের অধিক থাকবেন না এবং অস্ত্রকে কোষাবদ্ধ না করে প্রবেশ করবেন না। আর মক্কাবাসীদের কাউকে ইসলামের দাওয়াত দিবেন না। বারা (রাযিঃ) বলেন, এ সকল শর্ত আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) লেখা আরম্ভ করলেন এবং সন্ধিপত্রে লিখলেন, ‘‘এটা সে সন্ধিপত্র যার উপর আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ) ফায়সালা করেছেন।’’ তখন কাফিররা বলে উঠল, আমরা যদি এ কথা মেনে নিতাম যে, আপনি আল্লাহর রাসূল, তবে তো আমরা আপনাকে বাঁধাই দিতাম না এবং আপনার হাতে বায়আত করে নিতাম। কাজেই এরূপ লিখুন, এটি সেই সন্ধিপত্র যার উপর মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ফায়সালা করেছেন।’
তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহর কসম! আমি মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ এবং আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহর রাসূল। বারা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লিখতেন না। তাই তিনি আলী (রাযিঃ)- কে বললেন, রাসূলুল্লাহ (শব্দটি) মুছে ফেল। আলী (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি কখনো তা মুছব না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তবে আমাকে দেখিয়ে দাও। তখন আলী (রাযিঃ) তাঁকে সে স্থান দেখিয়ে দিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা নিজ হাতে তা মুছে ফেললেন। এরপর যখন তিনি মক্কায় প্রবেশ করলেন এবং সেই দিনগুলি অতিবাহিত হয়ে গেল, তখন তারা আলী (রাযিঃ)-এর নিকট এসে বলল, তোমার সঙ্গীকে বল, যেন তিনি চলে যান। আলী (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- কে তা বললেন। তিনি বললেন, ঠিক আছে। তারপর তিনি রওয়ানা হলেন।
كتاب الجهاد والسير
باب الْمُصَالَحَةِ عَلَى ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ، أَوْ وَقْتٍ مَعْلُومٍ
3184 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ حَكِيمٍ، حَدَّثَنَا شُرَيْحُ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ: حَدَّثَنِي البَرَاءُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا أَرَادَ أَنْ يَعْتَمِرَ أَرْسَلَ إِلَى أَهْلِ مَكَّةَ يَسْتَأْذِنُهُمْ لِيَدْخُلَ مَكَّةَ، فَاشْتَرَطُوا عَلَيْهِ أَنْ لاَ يُقِيمَ بِهَا إِلَّا ثَلاَثَ لَيَالٍ، وَلاَ يَدْخُلَهَا إِلَّا بِجُلُبَّانِ السِّلاَحِ، وَلاَ يَدْعُوَ مِنْهُمْ أَحَدًا، قَالَ: فَأَخَذَ يَكْتُبُ الشَّرْطَ [ص:104] بَيْنهُمْ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ فَكَتَبَ هَذَا مَا قَاضَى عَلَيْهِ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ، فَقَالُوا: لَوْ عَلِمْنَا أَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ لَمْ نَمْنَعْكَ وَلَبَايَعْنَاكَ، وَلكِنِ اكْتُبْ هَذَا مَا قَاضَى عَلَيْهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، فَقَالَ: «أَنَا وَاللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَأَنَا وَاللَّهِ رَسُولُ اللَّهِ» قَالَ: وَكَانَ لاَ يَكْتُبُ، قَالَ: فَقَالَ لِعَلِيٍّ: «امْحَ رَسُولَ اللَّهِ» فَقَالَ عَلِيٌّ: وَاللَّهِ لاَ أَمْحَاهُ أَبَدًا، قَالَ: «فَأَرِنِيهِ» ، قَالَ: فَأَرَاهُ إِيَّاهُ فَمَحَاهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ، فَلَمَّا دَخَلَ وَمَضَتِ الأَيَّامُ، أَتَوْا عَلِيًّا، فَقَالُوا: مُرْ صَاحِبَكَ فَلْيَرْتَحِلْ، فَذَكَرَ ذَلِكَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «نَعَمْ» ثُمَّ ارْتَحَلَ
হাদীস নং: ২৯৬০
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৮৫
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৮০. সময় নির্ধারণ না করে সন্ধি করা এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর বাণীঃ আমি তোমাদের ততদিন সেখানে থাকতে দিব, যতদিন আল্লাহ তাআলা তোমাদের রাখেন।
২৯৬০। আবদান ইবনে উসমান (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (কাবা শরীফে) সিজদারত ছিলেন, তার আশে-পাশে কুরাইশ মুশরিকদের কিছু লোক ছিল। এ সময় উকবা ইবনে আবু মুআইত উটনীর গর্ভ থলে এনে নবী (ﷺ)- এর পিঠে ফেলে দেয়। ফলে তিনি তার মাথা উঠালেন না। অবশেষে ফাতিমা (রাযিঃ) এসে তার পিঠ থেকে তা অপসারণ করেন আর যে ব্যক্তি এ কাজ করেছে তার বিরুদ্ধে বদদু'আ করেন।
তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ইয়া আল্লাহ! কুরাইশদের এ দলের বিচার আপনার উপর ন্যস্ত। ইয়া আল্লাহ! আপনি শাস্তি দিন আবু জাহল ইবনে হিশাম, উতবা ইবনে রাবীআ, উকবা ইবনে আবু মূআইত ও উমাইয়া ইবনে খালফ (অথবা রাবী বলেছেন), উবাই ইবনে খালফকে। (ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বলেন), আমি দেখেছি, তারা সবাই বদর যুদ্ধে নিহত হয়। তাদের সকলকে কূপে নিক্ষেপ করা হয়। উমাইয়া অথবা উবাই ব্যতিত। কেননা, সে ছিল স্থুলদেহী। যখন তার লাশ টেনে নেয়া হচ্ছিল, তখন কূপে ফেলার আগেই তার জোড়াগুলি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
كتاب الجهاد والسير
بَابُ المُوَادَعَةِ مِنْ غَيْرِ وَقْتٍ وَقَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أُقِرُّكُمْ عَلَى مَا أَقَرَّكُمُ اللَّهُ بِهِ»
بَابُ طَرْحِ جِيَفِ المُشْرِكِينَ فِي البِئْرِ، وَلاَ يُؤْخَذُ لَهمْ ثَمَنٌ
3185 - حَدَّثَنَا عَبْدَانُ بْنُ عُثْمَانَ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: بَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَاجِدٌ وَحَوْلَهُ نَاسٌ مِنْ قُرَيْشٍ مِنَ المُشْرِكِينَ، إِذْ جَاءَ عُقْبَةُ بْنُ أَبِي مُعَيْطٍ بِسَلَى جَزُورٍ، فَقَذَفَهُ عَلَى ظَهْرِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمْ يَرْفَعْ رَأْسَهُ حَتَّى جَاءَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلاَمُ، فَأَخَذَتْ مِنْ ظَهْرِهِ، وَدَعَتْ عَلَى مَنْ صَنَعَ ذَلِكَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اللَّهُمَّ عَلَيْكَ المَلاَ مِنْ قُرَيْشٍ، اللَّهُمَّ عَلَيْكَ أَبَا جَهْلِ بْنَ هِشَامٍ، وَعُتْبَةَ بْنَ رَبِيعَةَ، وَشَيْبَةَ بْنَ رَبِيعَةَ، وَعُقْبَةَ بْنَ أَبِي مُعَيْطٍ، وَأُمَيَّةَ بْنَ خَلَفٍ، أَوْ أُبَيَّ بْنَ خَلَفٍ» ، فَلَقَدْ رَأَيْتُهُمْ قُتِلُوا يَوْمَ بَدْرٍ، فَأُلْقُوا فِي بِئْرٍ غَيْرَ أُمَيَّةَ، أَوْ أُبَيٍّ، فَإِنَّهُ كَانَ رَجُلًا ضَخْمًا، فَلَمَّا جَرُّوهُ تَقَطَّعَتْ أَوْصَالُهُ قَبْلَ أَنْ يُلْقَى فِي البِئْرِ
হাদীস নং: ২৯৬১
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৮৬ - ৩১৮৭
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৮২. নেক বা বদ যে কোন লোকের সাথে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গকারীর পাপ
২৯৬১। আবুল ওয়ালীদ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) ও আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, প্রত্যেক অঙ্গীকার ভঙ্গকারীর জন্য কিয়ামতের দিন একটি পতাকা হবে। (আব্দুল্লাহ ও আনাস (রাযিঃ)-এর মধ্যে) একজন বলেছেন, পতাকাটি স্থাপিত হবে অপরজন বলেছেন, কিয়ামতের দিন প্রদর্শিত হবে এবং তা দিয়ে তাকে চেনানো হবে।
كتاب الجهاد والسير
باب إِثْمِ الْغَادِرِ لِلْبَرِّ وَالْفَاجِرِ
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سُلَيْمَانَ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ.وَعَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ـ قَالَ أَحَدُهُمَا يُنْصَبُ وَقَالَ الآخَرُ ـ يُرَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُعْرَفُ بِهِ ".
হাদীস নং: ২৯৬২
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৮৮
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৮২. নেক বা বদ যে কোন লোকের সাথে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গকারীর পাপ
২৯৬২। সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)- কে বলতে শুনেছি যে, (কিয়ামতের দিন) অঙ্গীকার ভঙ্গের নিদর্শন স্বরূপ প্রত্যেক অঙ্গীকার ভঙ্গকারীর জন্য (কিয়ামতের দিন) একটি পতাকা স্থাপন করা হবে।
كتاب الجهاد والسير
باب إِثْمِ الْغَادِرِ لِلْبَرِّ وَالْفَاجِرِ
3188 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ يُنْصَبُ بِغَدْرَتِهِ يَوْمَ القِيَامَةِ»
হাদীস নং: ২৯৬৩
আন্তর্জাতিক নং: ৩১৮৯
- জিহাদের বিধানাবলী অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯৮২. নেক বা বদ যে কোন লোকের সাথে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গকারীর পাপ
২৯৬৩। আলী ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন বললেন, (মক্কা থেকে এখন আর) হিজরত নেই, কিন্তু জিহাদ ও নিয়ত রয়েছে আর যখন তোমাদের জিহাদে যাওয়ার জন্য ডাক দেওয়া হয় তখন তোমরা বেরিয়ে পড়বে আর তিনি মক্কা বিজয়ের দিন এও বলেন, এ নগরীকে আল্লাহ তাআলা আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে সম্মানিত করেছেন। কাজেই তা আল্লাহ প্রদত্ত সম্মানের দ্বারা কিয়ামত পর্যন্ত সম্মানিত থাকবে। আমার আগে এখানে যুদ্ধ করা কারো জন্য হালাল ছিল না আর আমার জন্যও তা দিনের মাত্র কিছু সময়ের জন্য হালাল করা হয়েছিল। অতএব আল্লাহ তাআলা প্রদত্ত সম্মানের দ্বারা কিয়ামত পর্যন্ত তা সম্মাণিত থাকবে। এখানকার কাঁটা কর্তন করা যাবে না; শিকারকে উত্যক্ত করা যাবে না আর পথে পড়ে থাকা বস্তু কেউ উঠাবে না। তবে সে ব্যক্তি উঠাতে পারবে, যে তা ঘোষণা করবে। এখানকার ঘাস কাঁটা যাবে না।’ তখন আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইযখির ব্যতীত। কেননা, তা কর্মকারের ও ঘরের কাজে লাগে।’ তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘ইযখির ব্যতীত।’
كتاب الجهاد والسير
باب إِثْمِ الْغَادِرِ لِلْبَرِّ وَالْفَاجِرِ
3189 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ: «لاَ هِجْرَةَ، وَلَكِنْ جِهَادٌ وَنِيَّةٌ وَإِذَا اسْتُنْفِرْتُمْ، فَانْفِرُوا»
وَقَالَ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ: «إِنَّ هَذَا البَلَدَ حَرَّمَهُ اللَّهُ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ، فَهُوَ حَرَامٌ [ص:105] بِحُرْمَةِ اللَّهِ إِلَى يَوْمِ القِيَامَةِ، وَإِنَّهُ لَمْ يَحِلَّ القِتَالُ فِيهِ لِأَحَدٍ قَبْلِي، وَلَمْ يَحِلَّ لِي إِلَّا سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ، فَهُوَ حَرَامٌ بِحُرْمَةِ اللَّهِ إِلَى يَوْمِ القِيَامَةِ، لاَ يُعْضَدُ شَوْكُهُ، وَلاَ يُنَفَّرُ صَيْدُهُ، وَلاَ يَلْتَقِطُ لُقَطَتَهُ إِلَّا مَنْ عَرَّفَهَا، وَلاَ يُخْتَلَى خَلاَهُ» فَقَالَ العَبَّاسُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِلَّا الإِذْخِرَ فَإِنَّهُ لِقَيْنِهِمْ وَلِبُيُوتِهِمْ، قَالَ: «إِلَّا الإِذْخِرَ»